রবিবার, ২৯ মে, ২০১৬

কেন স্রষ্টাকে নিজের ভিতর খুজব?

কেন স্রষ্টাকে নিজের ভিতর খুজব?
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, কারণ মানুষেরই বিবেকবোধ ও আত্মজ্ঞান লাভের ক্ষমতা আছে। মানুষ ব্যতীত অন্য কোন জীব আত্মজ্ঞান লাভ করতে পারে না। আত্ম জ্ঞান হচ্ছে নিজেকে নিজের ভিতর জানার জ্ঞান । নিজেকে জানলে জগতের আর কিছুই জানার বাকি থাকে না।নিজেকে জানলে আপনা আপনি সব কিছু জানা হয়ে যাবে। নিজেকে জানার প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে-
মানুষ= মহা প্রাণ অষ্ট প্রকৃতি ( ক্ষিতি অপ তেজ মরুৎ ব্যোম মন বুদ্ধি অহংকার)
পঞ্চ জ্ঞান ইন্দ্রিয় ( চক্ষু কর্ণ নাসিকা জিহ্বা ত্বক)
পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের গুণ (শব্দ স্পর্শ রুপ রস গন্ধ)
পঞ্চকর্ম ইন্দ্রিয় (বাক পানি পদ লিঙ্গ উপাস্থ)
বায়ু ভেদে প্রকৃতিগত তিনগুণ (সত্ত্ব রজঃ তম)
ষড় রিপু (কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ মাৎসর্য) ২৫ টিদৈব সম্পদ বা নিবৃত্তিমুখি গুণ বা শক্তি ১০০ আসুরী বা মন্দ প্রবৃত্তি।
বর্ণিত বিষয় সমূহের সমষ্টি হচ্ছে মানুষ। বর্ণিত বিষয় সমূহ জানাকে আত্মজ্ঞান বলে। উপরে বর্ণিত বিষয় সমূহ সব কিছুই মানুষের মধ্যে বিদ্যমান। বিদ্যমান বিষয়সমূহ জানলে মানুষ তার প্রবৃত্তিকে চিনতে পারে, নিজের ভিতর একটি সরল পথ তৈরি করতে পারে। সে পথ নিবৃত্তির প্রথম সোপান। স্রষ্টা অবিনাশী ও নিরাকার সত্ত্বা। তার আকার প্রকার নির্ধারণ করা সাধারণ মানব মস্তিষ্কের পক্ষে নিতান্তই অসম্ভব। তার মানে কি স্রষ্টাকে আমরা উপলব্ধি করতে পারব না? অবশ্যই পারব। তিনি প্রাণরুপে প্রতি দেহ ঘটে বিরাজ করছেন। অসীম সমীম হলেন দেহ ঘটে বা ভান্ডে। সাংখ্য রুপে তিনি সসীম হলেন ২১৬০০ বার প্রাণরুপে স্পন্দিত হচ্ছেন এই দেহ ভান্ডে। দেহস্থ সব কিছু তাই বিকশিত হচ্ছে।
পিতার মস্তক হতে বিচ্যুতির পূর্বে আমরা সবাই শুন্যই ছিলাম বা মহাপ্রাণের সাথে যুক্ত ছিলাম। আদি পিতা আমাদের পিতার আজ্ঞাচক্রের সামান্য উপরে ব্রক্ষযোনি স্থানে নিক্ষেপ করলেন বাকিকাজ টা করলেন আমার বাবা ও মা। শুরু হলো প্রাণের অনন্ত পথের যাত্রা। এই যাত্রা পথে জন্ম –মৃত্যু, সুখ-দুঃখ ভোগ, কর্মফল ও ঋণদায় শোধের সমষ্টি। দেহস্থ পরম পুরুষ স্বাক্ষী স্বরুপ সব দেখে যান, তিনি শুধু থাকেন..কিছুই করেন না করান না। যেখান হতে বিচ্যুতি হয়ে এই ভবে এলাম ...সেখানে ঠিক সেই ভাবে ফিরে যেতে না পারলে জীবের মুক্তি নেই।
মুক্তি লাভের উপায় হচ্ছে দেহস্থ যে পরম পুরুষ আছেন তার স্মরণ করা। শুধু স্মরণ করলে কি হবে?
তিনি আবার ইন্দ্রিয়াতীত ও গুণাতীত...
ইন্দ্রিয়াতীত স্থানে ও গুণাতীত হয়ে তাকে স্মরণ করতে হবে। মানব দেহই ধর্ম ও কর্ম ভূমি। জগতের যা কিছু কল্যাণ ও অকল্যাণ মানুষই করেন। জগতের পরিবর্তন মানুষের কর্মের সমষ্টি। মানবদেহে তিনি প্রাণ রুপে থেকে জগতের হিত সাধন করছেন...আবার কাউকে সায়েস্তাকরার জন্য এই মানুষকেই ব্যবহার করছেন। মানব দেহস্থিত জীবাত্মা পরমাত্মার সাথে মিলনের স্থল বা মোহনা হচ্ছে মানব দেহ।
তাই মানব দেহেই সাধনার স্থল এবং এটাই বিশ্ব ব্রক্ষান্ড। এখানেই সব কিছু। এখানেই পাওয়া যায় অমুল্য নিধি।
লি‌খে‌ছেনঃ দুলাল মহন্ত দাদা ।