বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে ধর্ম।গুরুজী।।হারানো ধন ফেরৎ পেতে করণীয়।পর্ব=১
প্রতিটি
মানুষই জন্ম সুত্রে ১২০
বৎসরের ইমান বা জীবণী
স্বত্বা,জ্ঞান স্বত্বা,কর্ম
স্বত্বা,শ্রবণ স্বত্বা,দর্শণ
স্বত্বা,বাক স্বত্বা ও
৬২৫৭ বার শুক্র ক্ষয়
করার মত মহা-স্বত্বা
জীবিকা হিসাবে প্রাপ্ত হয়েই
জন্ম নেওয়ার কথা।কিন্তু আামরা জন্ম
দেওয়া প্রণালী না জানার কারণে
সুস্থ সুন্দর সন্তান জন্ম
দিতে পারি না।সেই সুত্রানুসারে আমরা
প্রায় সকলেই জন্ম সুত্রে
প্রাপ্য জীবিকা নিয়ে জন্মাতে
পারি নাই।এবং
জন্মানোর পরে উপজীবিকা হিসাবে
আমরা যাহা গ্রহন করছি,তার গুণাগুণ ও
সঠিক হিসাব করে গ্রহন
করি না।তাই
আমরা অসুখ বি-সুখে
আক্রান্ত হই এবং অকালে
মারা যায়।যদিও,এ জন্মের লক্ষে
পৌছাতে আমাদের একটা নির্দিষ্ট
সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকা প্রয়োজন। কিন্তু
মাতৃ ও পিতৃ সুত্রে
আমরা তা পেয়ে আসি
নাই, অথবা পাইলেও ধরে
রাখতে পারি নাই।আবার আমরা জানিও
না কিভাবে জীবণ পরিচালনা
করলে ক্ষয় প্রাপ্ত ইমান
বা মহাস্বত্বা পূণরুদ্ধার করা যায়।তাই আসুন, আজ
আমরা জেনে নিই কিভাবে
এবং কি করলে হারানো
ধন ফেরৎ পাওয়া যায়।
সম্মানিত পাঠক,আমি পূর্বেও
বলেছি এখনও বলছি, এবাদৎ
বন্দেগী যায়ই বলেন তার
মূখ্য উদ্দেশ্য শান্তিতে থাকা।আপনি
জীবদ্দশায় শান্তি প্রাপ্ত হওয়ার
জন্য যাহা কিছু করবেন
সবই স্রষ্টার এবাদতের আওতায় পড়ে ,আর
আপনি জীবদ্দশায় যে সকল কাজের
কারণে অশান্তি প্রাপ্ত হচ্ছেন,তার সবই
শয়তানের এবাদৎ।তাই
আমাদের সকলেরই উচিৎ,শয়তানের
এবাদৎ পরিহার করে ,স্রষ্টার
এবাদৎ করা।তাই,সর্ব প্রথম আমাদের
জানা দরকার যে,জীবিকা
ও উপ-জীবিকা কি?
জীবিক
যে মহাস্বত্বা কোরানের ভাষায় ইমান ।আর তাসাউফের ভাষায়
জীবণ,জ্ঞান,কর্ম,যৌণ,শ্রবণ,দর্শণ ও
বাক শক্তিকে স্বচল রেখেছে,তার
নাম জীবিকা।যমিনের
কোন খাবারেই জীবিকা নাই।জীবিকা আছে মাতা
ও পিতার কাছে।জন্ম সুত্রে আমরা
তা নিয়ে এসেছি।পিতা দিয়েছেন একটি
ভান্ড।যার
নাম শুক্র।আর
মাতা সেই ভান্ড ভরে
দিয়েছেন জীবিকা দিয়ে।অর্থাৎ তাঁর স্তন
হতে,তাওরাত,যব্বুর,ইঞ্জিল
ও ফোরকান দিয়ে।যতদিন এই জীবিকা
কিতাব আমাতে থাকবে,দুর্ঘটনা
ব্যাতিত আমার সেফাত নষ্ট
হবে না।আর
সেফাত উৎপত্তি স্বত্বা বা জীবিকা শেষ
হয়ে গেলে পৃথিবীর কিছু
দিয়েই আর আমার সেফাতকে
টিকিয়ে রাখা যাবে না
উপ-জীবিকা-
জীবিকা স্বত্বাকে ক্ষয় করার জন্য
তাকে উত্তপ্ত করতে, আমরা যমিনে
উৎপাদিত যে সকল খাবার
গ্রহন করি,তার সবই
উপ-জীবিকা।উপ-জীবিকা ব্যাতীতও জীব
বেঁচে থাকতে পারে,কিন্তু
জীবিকা ব্যতীত জীব এক
মুহুর্তও বেঁচে থাকতে পারে
না।পানি
তাপ পেলে যেমন উড়ে
যায়,আবার বৃষ্টির মাধ্যমে
তা ফেরৎ দিয়ে যমিনকে
জীবিত করে তার মৃত্যুর
পরে।ঠিক
তেমন ভাবেই তাপের মাধ্যমে
আমার দেহ থেকে ইমান
ধন প্রতি নিয়ত উড়ে
যাচ্ছে।আবার
বৃষ্টির মাধ্যমে ফেরৎ আসছে জীবিকা
রুপে মৃত স্বত্বাকে পূরণ
করতে।তাই
আসুন আজ আমরা জীবিকা
নিয়ে জ্ঞান আহরণ করি।
সালাত বা সংশোধন ব্যাতীত
ইমান আনা বা রক্ষা
করা সম্ভব নয়।আর সালাত হলো,বর্তমানে মায়ের কাছ থেকে
পূনরায় ইমান ধন গ্রহন
করা। তাই
এখন আবার যদি আমরা
আমাদের হারানো ইমান ফেরৎ
পেতে চাই তাহলে মায়ের
ডান স্তন থেকে শিশুর
মত টেনে টেনে স্তন্য
দুগ্ধ পান করতে হবে।ভুলেও
যেন মায়ের বাম স্তনের
দুধ পান করবেন না।প্রতি
মাসে কম পক্ষে পাঁচ
দিনে পাঁচ বার।এবং তা অবশ্যয়
মাযের নারী চন্দ্রের ১০,১১,১২,২১,২৫ তারিখ হতে
হবে।অন্যথায়
মাসিকের ৬ দিন বাদ
দিয়ে যে কোন সময়
পান করা যাবে।তবে তাহা হবে
১০,১১,১২,২১,২৫ দিন অপেক্ষা
কমপক্ষে অর্ধেক ক্ষমতা সম্পন্ন।
তবে শবে কদরের একরাত্রির
এবাদৎ হাজার মাস বা
৮৩ বছর ৪ মাসের
এবাদতের সমান।অর্থাৎ
শবে কদরের এক রাতে
আপনি যদি মায়ের স্তন্যদুগ্ধ
গ্রহন করতে পারেন,তাহলে
আপনার শরির, জন্ম থেকে
৮৩ বৎসর ৪ মাসের
জন্য নতুন ভাবে রিচার্জ
হয়ে যাবে।
শবে কদর-
নারী,পুরুষ সন্তান জন্ম দিলে জানতে হবে এটা রমজানের চাঁদ উঠলো।এখানে যে সাধন হবে তার নাম, সিয়ম সাধন।আর নারীসন্তান জন্মদিলে,
জানতে হবে হজের চাঁদ উঠলো।এখানে যে সাধন হবে তার নাম।হজ্জসাধন।
রমজানের চাঁদ উদয়ের ২১
থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে
এমন একটি দিন আসবে।যে
দিন মায়ের স্তনের দুধ
বাচ্চা খাওয়ার পরও স্তন
থেকে ঝরে পড়ে যায়।সেই
দিনের নাম শবে কদর।এই
দিনের স্তন্যপান করলে।হাজার
মাসের ইমান ধন সঞ্চয়
হয়ে যাবে।
আমরা জানি ইমামের প্রথম
কাতারে সালাত আদায় করলে
বা দায়েমি সালাত পালন
করলে উটের সমান সওয়াব,দ্বিতীয় কাতারে গরুর সমান,তৃতীয় কাতারে দুম্বার
সমান,চতুর্থ কাতারে ছাগলের
সমান,পঞ্চম কাতারে ভেড়ার
সমান,ষষ্ঠ কাতারে মুরগির
সমান,সপ্তম কাতারে ডিমের
সমান সওয়াব হয়।এর মারফত হলো।যে
সন্তান জন্ম নিলো,সেই
ঐ সালাতের ইমান ধনের ইমাম।অতএব
মায়ের প্রথম সন্তান হলে
সেখান থেকে আপনি ধন
সঞ্চয় করলে উটের সমান
দ্বিতীয় সন্তান হলে গরুর
সমান সওয়াব পাবেন ।এভাবেই হিসাব করে
পূণ্য প্রাপ্ত হবেন।তবে
মৃত জীব হারাম বা
মা মৃত সন্তান জন্ম
দিলে তার স্তন্য দুগ্ধ
গ্রহন করা যাবে না।যদি
গ্রহনকারীর জন্ম বয়স ৩০
মাস পার হয়ে যায়।কেন
না ঈদের নামাজ ইমাম
ব্যাতীত আদায় হারাম
সন্তান জন্মের ২১ তারিখ
থেকে ৪০ তারিখ পর্যন্ত
আপনি দু স্তনের দুধই
পান করতে পারবেন।তবে ৪০ দিনের
পরে আর বাম স্তনের
দুধ পান করতে পারবেন
না।তবে
অবশ্যয়ই দুধ পানের সময়
আপনার তৃ-নয়ন দ্বারা
মনে মনে এমন একটি
চেহারা স্মরন করবেন, যাকে
দেখলে কাম জাগ্রত না
হয়।এবং
শ্বাষ ক্রীয়ায় শ্বাষ টানাতে আল্লাহ
এবং ফেলাতে হু বলে
মনে মনে জিকের করতে
হবে।যদি
আপনার দেহে কিঞ্চিৎ কামও
জাগে তাহলে মায়ের স্তন
থেকে দুধ নির্গত হবে
না।
এর পরে আপনি স্ত্রী
সহবাসে গেলেও আপনার তৃ-নয়ন দ্বারা এমন
একটি চেহারা স্মরন করবেন,যাকে দেখলে কাম
যাগে না, এবং শ্বাষ
টানাতে আল্লাহ এবং ফেলাতে
হু জিকের করবেন।যখন দেখবেন শুক্র
ক্ষরণ হতে যাচ্ছে তখন
দম টেনে কিছু সময়
সহবাস বন্ধ রাখুন।
কিছু সময় পরে আবার
সহবাস শুরু করুন।এভাবে প্রথম দিন
কমপক্ষে ৩০ মিনিট সহবাস
করবেন, এবং প্রতিবার সহবাস
সময়ে, সময় বাড়াতে থাকুন।এক
সময় দেখবেন আপনার শরির
থেকে আর চার জন
পাঁচ জন ও কাম
ক্ষুধা মেটাতে পারবে না।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে ধর্ম।গুরুজী।।লালনের ভাষায় কোরান দর্শণ।।
আজ
আমি লালন শাঁইজির গানে
ব্যাবহৃত চরণ ও তাঁর
দৃষ্টিতে কোরান নিয়ে আলোচনা
করবো।কেন
না লালন শাঁইজি তার
অনেক গানের মধ্যে কয়েক
প্রকার চরণের কথা উল্লেখ
করেছেন।যেমন-
সাধু চরণ,গুরু চরণ,শ্রী চরণ, রাঙ্গা চরণ, উভয় চরণ ও অভয় চরণ।
চরণ শব্দের অর্থ কি?
আপনারা জানেন চরণ মানে পা।তাই যখন লালনের গান-
১।কবে সাধুর চরণ ধুলি মোর লাগবে গায়।আমি বসে আছি আশা সিন্ধু কুলেতে সদায়।
তখন লালন পন্থিরা বলেন।চরণ মানে পা।আর গুরুর চরণ আশায় শিষ্য আশা সিন্ধু কুলে বসে থাকে।
আবার এই গানের ই শেষ লাইনে লেখা আছে,
আমি শুনেছি সাধুর করুণা,সাধু চরণ পরশিলে হয়গো সোনা।
তাহলে দেখা গেলো সাধু চরণ স্পর্শ হলে সোনা হয়ে যায়।কিন্তু চরণ মানে পা হলে ,এই পায়ের পরশে কিছুই সোনা হওয়া সম্ভব নয়।গুরুর মুখ নিসৃত বাণীতে হয়তো খারাপ ভালো হয়ে যেতে পারে, কিন্তু চরণ ধুলিতে নয়।
আবার লালন শাঁইজি তার গানের মধ্যে বলেছেন-
২।রাঙ্গা চরণ পাবো বলে,বাঞ্ছা সদায় হৃদ কমলে।
৩।সার করো মন গুরুর চরণ।পারে যাওয়ার থাকলে আশা।
৪।রেখো মোরে শ্রী চরণে,চরণ ছাড়া করো না।
৫।যুগলো চরণের ধুলি লাগবে কবে পাপির গায়।আশা সিন্ধু কুলে বসে আছি গো সদায়।
আবার বলেছেন-ধরো চরণ ছেড়ো না,নিতাই কাওরে ফেলে যাবে না।
তাই এই চরণের মাহাত্ম কি? কি বলতে চেয়েছেন লালন এই চরণকে।আসুন আজ আমরা জেনে নিই চরণ বলতে লালন কাকে বুঝিয়েছেন।এবং চরণের সাধনা কি।
চরণ শব্দের অর্থ পঠিত।অর্থাৎ যাহা পাঠ করা হয় তাহাকেই চরণ বলে।যেমন কোরান অর্থ পঠিত।এই কোরানকেই লালন তার ভাষায় চরণ বলেছেন।অর্থাৎ কোরান মানেও পঠিত, চরণ মানেও পঠিত।এখন কোরানের মধ্যে পাঁচটি কিতাব বর্তমান ঠিক তেমনি লালনও চরণকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন।যেমন-
১।শ্রী-চরণ-=যার অর্থ পুরুষ লিঙ্গ।আর শ্রী-চরণের ধুলি হলো শুক্রাণু।
২।রাঙ্গা-চরণ-=যার অর্থ স্ত্রী-লিঙ্গ।আর রাঙ্গা চরণের ধুলি ডিম্বাণু।
৩।সাধু-চরণ-=যার অর্থ নারীর ডান স্তন।সাধু চরণ ধুলি ডান স্তনের দুধ।
৪।গুরু-চরণ-=যার অর্থ নারীর বাম স্তন।আর গুরু চরণ ধুলি বাম স্তনের দুধ।
৫।যুগল-চরণ-=যার অর্থ নারীর ডান ও বাম স্তন।আর যুগল চরণ ধুলি ডান ও বাম স্তনের সম্মিলিত দুধ।এ্কে অভয় চরণ ও বলা হয়েছে।অর্থাৎ যে,গুরুর মুখ নিসৃত বাণীতে সাধু চরণ সাধতে সাধতে যুগল চরণে প্রবেশ করতে পেরেছে।সেই অভয় প্রাপ্ত হয়েছে।
তবে, বর্তমান কোরানের বাংলা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা অপেক্ষা,লালনের গান অনেক উচ্চে অবস্থান করছে।তাই যদি কেউ, সঠিক ভাবে লালনের গান বুঝে মানতে পারে ।তার আরবি কোরান মানার আর কোন প্রয়োজন পড়ে না।কেন না,বর্তমান কোরান অপেক্ষা লালনের গানই, বিশ্বশান্তির জন্য শ্রেষ্ঠ অবস্থানে আছে।
পারে কে যাবি নবির নৌকাতে আয়। রুপ কাঠের ই নৌকাখানি নাই ডুবার ভয়।।
১।
বে-শরার নেয়ে যারা, তুফানে যাবে মারা, একই ধাক্কায়।
কি করবে তার বদর গাঁজী থাকবে কোথায়।।
২।
নবি না মানে যারা, মোয়াহেদ কাফের তারা, এই দুনিয়ায়।
ভজনে তার নাই মজুরি সাফ লেখা রয়।।
৩।
যে মুর্ষিদ সেই তো রাসুল, ইহাতে নাই কোন ভুল, খোদাও সে হয়।
লালন কয় না এমন কথা কোরাণে কয়।
এবার আসুন- এই গানটির মূখোবন্ধ পারে কে যাবি নবির নৌকাতে আয়। রুপ কাঠের ই নৌকাখানি নাই ডুবার ভয়।। নিয়ে আলোকপাত করি-
আমরা যদি লালনের এই গানটির মূখোবন্ধের দিকে দৃষ্টি দেই, তাহলে পরিস্কার বুঝতে পারি যে- লালন এই গানে তার নিজস্ব দেওয়া বা নিজের গড়া ধর্মীয় নীতির প্রতি মানুষকে আহবান করে নাই। এখানে লালন সকল মানুষকে আহবান করেছেন নবীর নৌকা বা নবির দেওয়া আইনে আসার জন্য। তার মানে- লালন অনুসারি যারা বলেন লালন কোন কেতাবের আইন মানেন নাই, বরং লালন নিজেই আইন তৈরী করে গেছেন, ও তার অনুসারিদের সে আইন মানতে বলেছেন, তারা মূলতঃ মিথ্যা বলে। আসল সত্য হলো- লালন নিজে কোন আইন তৈরী করেন নি, তিনি নবির আইন মানতেই সকলকে আহবান করেছেন।
এবার এই গানটির প্রথম কলিতে কি বলেছে তা দেখেন- বে-শরার নেয়ে যারা, তুফানে যাবে মারা, একই ধাক্কায়। কি করবে তার বদর গাঁজী থাকবে কোথায়।।
এখানে লালন তার অনুসারিদের আরও পরিস্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে- যারা নবির দেওয়া শরা বা শরিয়াত পালন না করবে, তারা এক ধাক্কাতেই তুফাণে পড়ে মারা যাবে। তার মানে লালন সকলকে নবির দেওয়া শরা পালনের জন্য বলেছেন, নিজের গড়া কোন আইন মানতে বলে নাই। তার মানে এখানেও লালন পন্থী যারা বলেন লালন নিজেই আইন গড়ে তা মানতে বলেছেন, তারা মিথ্যা বলেন।
এবার আসুন- এই গানের দ্বিতীয় কলিতে কি বলেছে, তা দেখে নিই- নবি না মানে যারা, মোয়াহেদ কাফের তারা, এই দুনিয়ায়। ভজনে তার নাই মজুরি সাফ লেখা রয়।।
এখানে লালন তার অনুসারিদের আরও পরিস্কার ভাবে বলে দিয়েছেন যে- যারা নবিকে মানবে না তারা মোয়াহেদ বা নাস্তিক ও কাফের বলে এই দুনিয়াতে বিবেচিত হবে। আর এই নাস্তিক ও কাফেরদের কোন ভজন বা উপাসনাই কাজে দেবে না, কারণ এ সকল উপাসনার আদেশ স্রষ্টার না, তাই স্রষ্টা এ সকল উপাসনার জন্য কোন মজুরি দিবেন না।
এবার আসুন এই গানের শেষ কলিটি একবার দেখে নিই- যে মুর্ষিদ সেই তো রাসুল, ইহাতে নাই কোন ভুল, খোদাও সে হয়। লালন কয় না এমন কথা কোরাণে কয়।
এই শেষ কলির দিকে তাকালে দেখা যাবে, লালন অনেক বড় বাটপারি করেছে। যে মুর্ষিদ সেই তো রাসুল, ইহাতে নাই কোন ভুল, খোদাও সে হয়। লালন কয় না এমন কথা কোরাণে কয়।
উক্তিটি কিন্তু কোরাণের নয়। এই উক্তিটি লালনের নিজের উক্তি। এখানে দেখা যায়-মূর্ষিদ, রাসুল এগুলি কোরাণের কথা হলেও- মুর্ষিদ, রাসুল ও খোদা যে একই জন একথা কিন্তু কোরাণের কোথাও বলে নাই। অথচ লালন বলেছে-মুর্ষিদ, রাসুল ও খোদা একই জন। আর তার এই নিজের বলা উক্তিকে কোরাণের উক্তি বলে চালানোর অপচেষ্টা করেছেন। এটা লালন গুরুতর অন্যায় করেছে।
এখন আপনারা যারা দাবি করেন যে- আপনারা লালনের অনুসারি, তারা বলুন- লালন নিজে কোন কোন আইন তৈরী করেছেন, যাহা ধর্মীয় কোন কেতাবে নাই। আর নিজের উক্তি কোরাণের বলে চালানোটা লালনের ঠিক হয়েছে কি না? এ ক্ষেত্রে লালনকে আপনারা জ্ঞানী না বাটপার বলবেন?
===============================
বাউল মতে লালন ঘরাণার লোকেরা মনে করেন লালন কোরাণ, নবী রাসুল ও আল্লাহকে বাদ দিয়ে, আলাদা ধর্মীয় নীতি প্রচলন করে গেছেন। কিন্তু তাদের এ ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ লালন তার গানের মধ্যে বলেছেন-
পারে কে যাবি নবীর নৌকাতে আয়।
আবার আরেক যায়গায় বলেছেন-
রাসুল রাসুল বলে ডাকি। সে নাম নিলেই বড় সুখে থাকি।
এর থেকেই বুঝা যাই যে- লালন তার অনুসারিদের নতুন কোন মতবাদ দেয় নি। সে মূলত সকলকে নবি ও রাসুলের দ্বীণেই দাওয়াত দিয়েছেন।আবার আরেক যায়গায় লালন বলেছে-
মুখে পড়রে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আইন ভেজিলেন রাসুলাল্লাহ।
তার মানে লালন কোরাণের বাণী লাইলাহার প্রতিই সকলকে দাওয়াত দিয়েছেন। এতে ইহাই প্রমাণ হয় যে- লালন আল্লাহ, নবি রাসুল ও কোরান মানতেই সকলকে আহবান করেছেন। তিনি নতুন কোন মতবাদ প্রচার করেন নি।
লালন শাইজী কোরাণের অনেক বিষয় নিয়ে গান লিখেছেন। তবে তিনি কোরাণের সেই বাণী সমুহকে নিজের মত সাংকেতিক ভাষায় বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। আজ আমি লালন শাঁইজির গানে ব্যাবহৃত সাংকেতিক শব্দ চরণ ও চরণ ধুলি নিয়ে আলোচনা করবো। কেন না লালন শাঁইজি তার অনেক গানের মধ্যে কয়েক প্রকার চরণের কথা উল্লেখ করেছেন।যেমন-
সাধু চরণ, গুরু চরণ, শ্রী চরণ, রাঙ্গা চরণ,যুগল চরণ, শিতল চরণ, উভয় চরণ ও অভয় চরণ।
আসুন- প্রথমে আমরা জেনে নিই চরণ শব্দের অর্থ কি?
আপনারা জানেন চরণ মানে পা। তাই যখন লালনের গান-
১। কবে সাধুর চরণ ধুলি মোর লাগবে গায়। আমি বসে আছি আশা সিন্ধু কুলেতে সদায়।
তখন লালন পন্থিরা বলেন। চরণ মানে পা। আর গুরুর চরণ আশায় শিষ্য আশা সিন্ধু কুলে বসে থাকে। আবার এই গানের ই শেষ লাইনে লেখা আছে-
আমি শুনেছি সাধুর করুণা, সাধু চরণ পরশিলে লোহা হয়গো সোনা।
তাহলে দেখা গেলো সাধু চরণ স্পর্শ হলে লোহা সোনা হয়ে যায়। কিন্তু চরণ মানে পা হলে, এই পায়ের পরশে কিছুই সোনা হওয়া সম্ভব নয়। গুরুর মুখ নিসৃত বাণীতে হয়তো খারাপ ভালো হয়ে যেতে পারে। কিন্তু চরণ ধুলিতে নয়।
আবার লালন শাঁইজি তার গানের মধ্যে বলেছেন-
২। রাঙ্গা চরণ পাবো বলে, বাঞ্ছা সদায় হৃদ কমলে।
৩। সার করো মন গুরুর চরণ। পারে যাওয়ার থাকলে আশা।
৪। রেখো মোরে শ্রী চরণে, চরণ ছাড়া করো না।
৫। যুগলো চরণের ধুলি লাগবে কবে পাপির গায়। আশা সিন্ধু কুলে বসে আছি গো সদায়।
আবার বলেছেন-
ধরো চরণ ছেড়ো না, নিতাই কাওরে ফেলে যাবে না।
এই চরণের মাহাত্ম কি? কি বলতে চেয়েছেন লালন এই চরণকে। আসুন আজ আমরা জেনে নিই চরণ বলতে লালন কাকে বুঝিয়েছেন, এবং চরণের সাধনা কি।
মূলতঃ চরণ শব্দের অর্থ পঠিত। অর্থাৎ যাহা পাঠ করা হয় তাহাকেই চরণ বলে। যেমন কোরান অর্থ পঠিত। এই কোরানকেই লালন তার ভাষায় চরণ বলেছেন। অর্থাৎ কোরান মানেও পঠিত, চরণ মানেও পঠিত। এখন কোরানের মধ্যে পাঁচটি কিতাব বর্তমান, ঠিক তেমনি লালনও চরণকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন। যেমন-
১। শ্রী-চরণ, ২। রাঙ্গা-চরণ, ৩। শাধু-চরণ, একে শীতল চরণও বলা হয়, ৩। গুরু-চরণ, একে অভয় চরনও বলা হয়, ৫। যুগল-চরণ, একে উভয় চরণও বলা হয়।
এবার আসুন এই পাঁচ চরণের সাথে পরিচিত হই।
১। শ্রী-চরণ-= যার অর্থ পুরুষ লিঙ্গ। আর শ্রী-চরণের ধুলি হলো শুক্রাণু।
২। রাঙ্গা-চরণ-=যার অর্থ স্ত্রী-লিঙ্গ। আর রাঙ্গা চরণের ধুলি ডিম্বাণু ও রজঃ।
৩। সাধু-চরণ-=যার অর্থ নারীর ডান স্তন। সাধু চরণ ধুলি ডান স্তনের দুধ। একে শিতল চরণও বলা হয়েছে। কারণ এই চরণের ধুলি গ্রহন করলে জীব ধিরে ধিরে শান্ত ও শিতল হয়ে যায়।
৪। গুরু-চরণ-=যার অর্থ নারীর বাম স্তন। আর গুরু চরণ ধুলি বাম স্তনের দুধ। একে অভয় চরণও বলা হয়। কারণ এই চরণের ধুলি গ্রচন করলে জীব অভয় প্রাপ্ত হয়।
৫। যুগল-চরণ-=যার অর্থ নারীর ডান ও বাম স্তন। আর যুগল চরণ ধুলি ডান ও বাম স্তনের সম্মিলিত দুধ। একে উভয় চরণ ও বলা হয়েছে। কেন না, যুগল মানে উভয় বা জোড়া।
সার কথা- লালন তার নিজস্ব গবেষনার ফসল হিসাবে কোন মতবাদই প্রচার করেন নি। মূলতঃ তিনি যাহা প্রচার করেছেন, তাহা হলো- বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গ্রন্থের নীতি। তবে লালন তার নিজস্ব কিছু ভ্রান্ত মতবাদ, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্ম গ্রন্থের নামে চালিয়ে দিয়েছেন।
সাধু চরণ,গুরু চরণ,শ্রী চরণ, রাঙ্গা চরণ, উভয় চরণ ও অভয় চরণ।
চরণ শব্দের অর্থ কি?
আপনারা জানেন চরণ মানে পা।তাই যখন লালনের গান-
১।কবে সাধুর চরণ ধুলি মোর লাগবে গায়।আমি বসে আছি আশা সিন্ধু কুলেতে সদায়।
তখন লালন পন্থিরা বলেন।চরণ মানে পা।আর গুরুর চরণ আশায় শিষ্য আশা সিন্ধু কুলে বসে থাকে।
আবার এই গানের ই শেষ লাইনে লেখা আছে,
আমি শুনেছি সাধুর করুণা,সাধু চরণ পরশিলে হয়গো সোনা।
তাহলে দেখা গেলো সাধু চরণ স্পর্শ হলে সোনা হয়ে যায়।কিন্তু চরণ মানে পা হলে ,এই পায়ের পরশে কিছুই সোনা হওয়া সম্ভব নয়।গুরুর মুখ নিসৃত বাণীতে হয়তো খারাপ ভালো হয়ে যেতে পারে, কিন্তু চরণ ধুলিতে নয়।
আবার লালন শাঁইজি তার গানের মধ্যে বলেছেন-
২।রাঙ্গা চরণ পাবো বলে,বাঞ্ছা সদায় হৃদ কমলে।
৩।সার করো মন গুরুর চরণ।পারে যাওয়ার থাকলে আশা।
৪।রেখো মোরে শ্রী চরণে,চরণ ছাড়া করো না।
৫।যুগলো চরণের ধুলি লাগবে কবে পাপির গায়।আশা সিন্ধু কুলে বসে আছি গো সদায়।
আবার বলেছেন-ধরো চরণ ছেড়ো না,নিতাই কাওরে ফেলে যাবে না।
তাই এই চরণের মাহাত্ম কি? কি বলতে চেয়েছেন লালন এই চরণকে।আসুন আজ আমরা জেনে নিই চরণ বলতে লালন কাকে বুঝিয়েছেন।এবং চরণের সাধনা কি।
চরণ শব্দের অর্থ পঠিত।অর্থাৎ যাহা পাঠ করা হয় তাহাকেই চরণ বলে।যেমন কোরান অর্থ পঠিত।এই কোরানকেই লালন তার ভাষায় চরণ বলেছেন।অর্থাৎ কোরান মানেও পঠিত, চরণ মানেও পঠিত।এখন কোরানের মধ্যে পাঁচটি কিতাব বর্তমান ঠিক তেমনি লালনও চরণকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন।যেমন-
১।শ্রী-চরণ-=যার অর্থ পুরুষ লিঙ্গ।আর শ্রী-চরণের ধুলি হলো শুক্রাণু।
২।রাঙ্গা-চরণ-=যার অর্থ স্ত্রী-লিঙ্গ।আর রাঙ্গা চরণের ধুলি ডিম্বাণু।
৩।সাধু-চরণ-=যার অর্থ নারীর ডান স্তন।সাধু চরণ ধুলি ডান স্তনের দুধ।
৪।গুরু-চরণ-=যার অর্থ নারীর বাম স্তন।আর গুরু চরণ ধুলি বাম স্তনের দুধ।
৫।যুগল-চরণ-=যার অর্থ নারীর ডান ও বাম স্তন।আর যুগল চরণ ধুলি ডান ও বাম স্তনের সম্মিলিত দুধ।এ্কে অভয় চরণ ও বলা হয়েছে।অর্থাৎ যে,গুরুর মুখ নিসৃত বাণীতে সাধু চরণ সাধতে সাধতে যুগল চরণে প্রবেশ করতে পেরেছে।সেই অভয় প্রাপ্ত হয়েছে।
তবে, বর্তমান কোরানের বাংলা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা অপেক্ষা,লালনের গান অনেক উচ্চে অবস্থান করছে।তাই যদি কেউ, সঠিক ভাবে লালনের গান বুঝে মানতে পারে ।তার আরবি কোরান মানার আর কোন প্রয়োজন পড়ে না।কেন না,বর্তমান কোরান অপেক্ষা লালনের গানই, বিশ্বশান্তির জন্য শ্রেষ্ঠ অবস্থানে আছে।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে ধর্ম।গুরুজী।।হারানো ধন ফেরৎ পেতে করণীয়।পর্ব=২(১৮ প্লাস নারীদের জন্য)
সৃষ্টির
সকলেই চাই সে সবার
থেকে সু-শ্রী হোউক।কিন্তু
সৃষ্টি সুত্রে আমরা কেহ
সুন্দর চেহারা আবার কেহ
অসুন্দর চেহারা নিয়ে জন্মেছি।তাই
অ-সুন্দর চেহারা প্রাপ্তির
জন্য নিজেকে নিজের কাছেই
লজ্জিত হতে হয়।
তাই সকলেই রুপকে সুন্দর
করতে ও রুপ ধরে
রাখতে করে রুপ চর্চা।রুপ
চর্চার ক্ষেত্রে ছেলেদের অপেক্ষা মেয়েরা কয়েক ধাপ
এগিয়ে আছে । তাই
আজ আমি মেয়েদের শরির
ও রুপ কিভাবে ধরে
রাখতে পারেন, সে বিষয়ে
আলোচনা করবো।
জন্ম সুত্রে আপনি যে শারিরিক গঠন পেয়েছেন, এই শরিরটাকে ও চেহারাটাকে বর্তমান অপেক্ষা সুন্দর করতে ও মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত শরির ও চেহারা অটুট রাখতে হলে, আপনাকে যাহা করতে হবে তাহা হলো -
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠ করা।একমাত্র এই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠই পারে, আপনার শরির ও চেহারাকে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত অটুট ভাবে ধরে রাখতে।তাই আসুন, বিসমিল্লাহ কি ও তা কি ভাবে পাঠ করতে হবে, তাহা জেনে নিই।
আপনার শরির বা চেহারা যেমনই হোউক না কেন।তাতে যদি প্রয়োজন মত মাংস থাকে, এবং চক চক করে, তা হলে কালো হলেও আপনাকে দেখতে সুন্দর লাগবে।আর যদি শরিরে প্রয়োজন মত মাংস না থাকে, আপনি ফর্সা হলেও দেখতে অসুন্দর লাগবে।তাই চেহারা সুন্দর করতে হলে আগে শরিরে প্রয়োজন মত মাংসের দরকার।তাই আসুন বিসমিল্লাহর সাথে আগে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
যার বাংলা অর্থ,শুরু করিতেছি দাতা দয়ালু স্রষ্টার নামে।সকল কাজ শুরুর পূর্বে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলা মুসলমানদের রেওয়াজ।আজ আমি এলমে মারফতে বিসমিল্লাহ এর পরিচয় ব্যাক্ত করবো।আসুন, আমরা জেনে নিই বিসমিল্লাহ কি এবং ইহা আমাদের কি কাজে লাগে।
এই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমকে আবার ৭৮৬ ও বলা হয়।অর্থাৎ ৭৮৬ লিখলেই বুঝতে হবে উহা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।এটা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর আঙ্কিক মান।কেন না বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লিখতে মোট ১৯ টি আরবি অক্ষর লেগেছে।এই ১৯ টি অক্ষরের আঙ্কিক মান যোগ করলে হয় ৭৮৬।তাই অনেকেই লেখার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম না লিখে, লেখেন ৭৮৬।তো-
আসুন, এই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর কোন অক্ষরের কত মান তা জেনে নিই।
১।বা-যার মান=২ ২।সীন-যার মান=৬০ ৩।মীম-যার মান=৪০ ৪।আলিফ-যার মান=১ ৫।লাম-যার মান=৩০ ৬।লাম-যার মান=৩০ ৭।ছোট হে-যার মান=৫ ৮।আলিফ-যার মান=১ ৯।লাম-যার মান=৩০ ১০।রা-যার মান=২০০ ১১।বড় হে-যার মান=৮ ১২।মীম-যার মান=৪০ ১৩।নুন-যার মান=৫০ ১৪।আলিফ-যার মান=১ ১৫।লাম-যার মান=৩০ ১৬।রা-যার মান=২০০ ১৭।বড় হে-যার মান=৮ ১৮।ইয়া-যার মান=১০ ১৯।মীম-যার মান ৪০
সম্মানিত পাঠক,
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর ১৯ টি অক্ষরের মধ্যে কিন্তু মূল অক্ষর আছে ১০ টি।আর এই ১০ টি অক্ষরই মোট ১৯ বার ব্যাবহার হয়েছে।যেমন-
১।আলিফ-ব্যাবহার হয়েছে=৩ বার ২।মীম-ব্যাবহার হয়েছে=৩ বার ৩।বড় হে-ব্যাবহার হয়েছে=২ বার ৪।রা-ব্যাবহার হয়েছে=২ বার ৫।লাম-ব্যাবহার হয়েছে=৪ বার ৬।নুন-ব্যাবহার হয়েছে=১বার ৭।ছোট হে-ব্যাবহার হয়েছে=১ বার ৮।বা-ব্যাবহার হয়েছে=১ বার ৯।সীন-ব্যাবহার হয়েছে=১ বার ১০।ইয়া-ব্যাবহার হয়েছে= ১ বার।
এই দশ অক্ষর কে বিসমিল্লাহর প্রাণ অক্ষর বা বীজ অক্ষর বলা হয়।
এবার আসুন বিসমিল্লাহর স্বরুপ দর্শণ করি।
বিসমিল্লাহ একটি সাংকেতিক শব্দ।যাহা দিয়া শুক্রাণুকে বুঝানো হয়েছে।এই শুক্রাণুর মধ্যে ১০টি মহাস্বত্বা ১৯ ভাবে বিরাজিত।শুক্রাণুর এই ১০ অক্ষর দিয়ে মানুষের দেহের ১০টি মূল স্বত্বা সৃষ্টি হয়েছে।তাহা হলো-
১।কালেব ২।রুহু ৩।ছের ৪।খফি ৫।আখফা ৬।নফস ৭।আব ৮।আতশ ৯।খাক ১০।বাত।
তম্মধ্যে কালেব ও রুহু তিন তিন ভাবে অবস্থান করছে। ছের ও নফস দুই দুই ভাবে অবস্থান করছে । আখফা চার ভাবে অবস্থান করছে।ইহা ছাড়া খফি, আব , আতশ, খাক ও বাত এক এক ভাবে অবস্থান করছে।
বিসমিল্লাহ হলো সৃষ্টির বীজ বা প্রাণ।বিসমিল্লাহ ব্যাতীত কোন কিছুই সৃষ্টি হয়নি।আমাদের সকলেরই সৃষ্টি শুরু বিসমিল্লাহ দিয়েই হয়েছে।বিসমিল্লাহর মাধ্যমে পিতা,আমাকে মাতার গর্ভে দিলেন ৭+৭+৫=১৯ রুপে আমাতে জাহান্নাম করে।যার ১৯ জন দ্বার রক্ষিও দিয়ে দিলেন । মাতা তার জান্নাতি ধন ৭+৫=১২ দিয়ে তা পূরণ করে দিলেন।জন্মের পরে আমরা মায়ের দেওয়া জান্নাতি ধনই খরচ করছি।
এখন যে সকল মেয়েরা মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত সুস্থ স্বাস্থ,রুপ ও যৌবণকে ধেরে রাখতে চান, তাদেরকে বিসমিল্লাহ পাঠ করতে হবে, অর্থাৎ শুক্র খেয়ে নিতে হবে।যেদিন মাসিক আসবে সে দিনকে ১ তারিখ ধরে হিসাব মত ১০,১১,১২,২১ ও ২৫ তারিখ মোট পাঁচ দিন, পুরুষের শুক্র খেয়ে নিতে হবে।ইহা ছাড়াও যে কোন সময় শুক্র খেতে পারেন।এমন কি দিনে যতজন থেকে যত খুশি নিতে পারেন।তবে খেয়াল রাখবেন যার কাছ থেকে বিসমিল্লাহ পাঠ করবেন, তার বয়স যেন ২০ থেকে ৩০ বৎসরের মধ্যে থাকে।
যদি আপনি ফর্সা হতে চান, তাহলে ফর্সা ছেলের কাছ থেকে বিসমিল্লাহ পাঠ করুন।৪০ বার বিসমিল্লাহ পাঠের পরেই আপনি আশা নুরুপ ফল পাবেন।তবে খেয়াল রাখবেন যে,যেন বিসমিল্লাহ পাঠের সময় তাতে বাতাস না লাগে।অর্থাৎ মুখের মধ্যেই যেন স্খলণ করা হয়।এটা সহবাস শেষে শুক্র স্খলণ সময়ে মুখে স্খলণ করতে হবে।অথবা যে কোন উপায়ে স্খলণ পর্যন্ত এনে, তা মুখের মধ্যেই পতন ঘটাতে হবে।এবং খেয়ে নিতে হবে।এতে আপনি যে সত্বা অর্জন করবেন, যমিনে উৎপাদিত কোন উপজীবিকাতেই তাহা পাবেন না।আর আপনার দেহ থেকে প্রতিনিয়ত ক্ষয় হওয়া ইমান ধনকে পূরণ করে দেবে।
এই মহাস্বত্বা আপনার শরিরের ,কালেব রুহু ,ছের ,খফি, আখফা, নফস, আব, আতশ, খাক ও বাত কে পরিশুদ্ধ করে, আপনাকে শান্তির দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাবে। তাতে আপনার শরির সুস্থ থাকবে,মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত যৌবন অটুট থাকবে।ও চেহারা বর্তমান অপেক্ষা সুন্দর হবে।
মাদকাসক্তের কাছ থেকে এমন কি ধুমপায়ীর কাছ থেকেও,বিসমিল্লাহ পাঠ না করায় উত্তম।
সত্য সহায়।গুরুজী
জন্ম সুত্রে আপনি যে শারিরিক গঠন পেয়েছেন, এই শরিরটাকে ও চেহারাটাকে বর্তমান অপেক্ষা সুন্দর করতে ও মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত শরির ও চেহারা অটুট রাখতে হলে, আপনাকে যাহা করতে হবে তাহা হলো -
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠ করা।একমাত্র এই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠই পারে, আপনার শরির ও চেহারাকে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত অটুট ভাবে ধরে রাখতে।তাই আসুন, বিসমিল্লাহ কি ও তা কি ভাবে পাঠ করতে হবে, তাহা জেনে নিই।
আপনার শরির বা চেহারা যেমনই হোউক না কেন।তাতে যদি প্রয়োজন মত মাংস থাকে, এবং চক চক করে, তা হলে কালো হলেও আপনাকে দেখতে সুন্দর লাগবে।আর যদি শরিরে প্রয়োজন মত মাংস না থাকে, আপনি ফর্সা হলেও দেখতে অসুন্দর লাগবে।তাই চেহারা সুন্দর করতে হলে আগে শরিরে প্রয়োজন মত মাংসের দরকার।তাই আসুন বিসমিল্লাহর সাথে আগে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
যার বাংলা অর্থ,শুরু করিতেছি দাতা দয়ালু স্রষ্টার নামে।সকল কাজ শুরুর পূর্বে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলা মুসলমানদের রেওয়াজ।আজ আমি এলমে মারফতে বিসমিল্লাহ এর পরিচয় ব্যাক্ত করবো।আসুন, আমরা জেনে নিই বিসমিল্লাহ কি এবং ইহা আমাদের কি কাজে লাগে।
এই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমকে আবার ৭৮৬ ও বলা হয়।অর্থাৎ ৭৮৬ লিখলেই বুঝতে হবে উহা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।এটা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর আঙ্কিক মান।কেন না বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লিখতে মোট ১৯ টি আরবি অক্ষর লেগেছে।এই ১৯ টি অক্ষরের আঙ্কিক মান যোগ করলে হয় ৭৮৬।তাই অনেকেই লেখার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম না লিখে, লেখেন ৭৮৬।তো-
আসুন, এই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর কোন অক্ষরের কত মান তা জেনে নিই।
১।বা-যার মান=২ ২।সীন-যার মান=৬০ ৩।মীম-যার মান=৪০ ৪।আলিফ-যার মান=১ ৫।লাম-যার মান=৩০ ৬।লাম-যার মান=৩০ ৭।ছোট হে-যার মান=৫ ৮।আলিফ-যার মান=১ ৯।লাম-যার মান=৩০ ১০।রা-যার মান=২০০ ১১।বড় হে-যার মান=৮ ১২।মীম-যার মান=৪০ ১৩।নুন-যার মান=৫০ ১৪।আলিফ-যার মান=১ ১৫।লাম-যার মান=৩০ ১৬।রা-যার মান=২০০ ১৭।বড় হে-যার মান=৮ ১৮।ইয়া-যার মান=১০ ১৯।মীম-যার মান ৪০
সম্মানিত পাঠক,
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর ১৯ টি অক্ষরের মধ্যে কিন্তু মূল অক্ষর আছে ১০ টি।আর এই ১০ টি অক্ষরই মোট ১৯ বার ব্যাবহার হয়েছে।যেমন-
১।আলিফ-ব্যাবহার হয়েছে=৩ বার ২।মীম-ব্যাবহার হয়েছে=৩ বার ৩।বড় হে-ব্যাবহার হয়েছে=২ বার ৪।রা-ব্যাবহার হয়েছে=২ বার ৫।লাম-ব্যাবহার হয়েছে=৪ বার ৬।নুন-ব্যাবহার হয়েছে=১বার ৭।ছোট হে-ব্যাবহার হয়েছে=১ বার ৮।বা-ব্যাবহার হয়েছে=১ বার ৯।সীন-ব্যাবহার হয়েছে=১ বার ১০।ইয়া-ব্যাবহার হয়েছে= ১ বার।
এই দশ অক্ষর কে বিসমিল্লাহর প্রাণ অক্ষর বা বীজ অক্ষর বলা হয়।
এবার আসুন বিসমিল্লাহর স্বরুপ দর্শণ করি।
বিসমিল্লাহ একটি সাংকেতিক শব্দ।যাহা দিয়া শুক্রাণুকে বুঝানো হয়েছে।এই শুক্রাণুর মধ্যে ১০টি মহাস্বত্বা ১৯ ভাবে বিরাজিত।শুক্রাণুর এই ১০ অক্ষর দিয়ে মানুষের দেহের ১০টি মূল স্বত্বা সৃষ্টি হয়েছে।তাহা হলো-
১।কালেব ২।রুহু ৩।ছের ৪।খফি ৫।আখফা ৬।নফস ৭।আব ৮।আতশ ৯।খাক ১০।বাত।
তম্মধ্যে কালেব ও রুহু তিন তিন ভাবে অবস্থান করছে। ছের ও নফস দুই দুই ভাবে অবস্থান করছে । আখফা চার ভাবে অবস্থান করছে।ইহা ছাড়া খফি, আব , আতশ, খাক ও বাত এক এক ভাবে অবস্থান করছে।
বিসমিল্লাহ হলো সৃষ্টির বীজ বা প্রাণ।বিসমিল্লাহ ব্যাতীত কোন কিছুই সৃষ্টি হয়নি।আমাদের সকলেরই সৃষ্টি শুরু বিসমিল্লাহ দিয়েই হয়েছে।বিসমিল্লাহর মাধ্যমে পিতা,আমাকে মাতার গর্ভে দিলেন ৭+৭+৫=১৯ রুপে আমাতে জাহান্নাম করে।যার ১৯ জন দ্বার রক্ষিও দিয়ে দিলেন । মাতা তার জান্নাতি ধন ৭+৫=১২ দিয়ে তা পূরণ করে দিলেন।জন্মের পরে আমরা মায়ের দেওয়া জান্নাতি ধনই খরচ করছি।
এখন যে সকল মেয়েরা মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত সুস্থ স্বাস্থ,রুপ ও যৌবণকে ধেরে রাখতে চান, তাদেরকে বিসমিল্লাহ পাঠ করতে হবে, অর্থাৎ শুক্র খেয়ে নিতে হবে।যেদিন মাসিক আসবে সে দিনকে ১ তারিখ ধরে হিসাব মত ১০,১১,১২,২১ ও ২৫ তারিখ মোট পাঁচ দিন, পুরুষের শুক্র খেয়ে নিতে হবে।ইহা ছাড়াও যে কোন সময় শুক্র খেতে পারেন।এমন কি দিনে যতজন থেকে যত খুশি নিতে পারেন।তবে খেয়াল রাখবেন যার কাছ থেকে বিসমিল্লাহ পাঠ করবেন, তার বয়স যেন ২০ থেকে ৩০ বৎসরের মধ্যে থাকে।
যদি আপনি ফর্সা হতে চান, তাহলে ফর্সা ছেলের কাছ থেকে বিসমিল্লাহ পাঠ করুন।৪০ বার বিসমিল্লাহ পাঠের পরেই আপনি আশা নুরুপ ফল পাবেন।তবে খেয়াল রাখবেন যে,যেন বিসমিল্লাহ পাঠের সময় তাতে বাতাস না লাগে।অর্থাৎ মুখের মধ্যেই যেন স্খলণ করা হয়।এটা সহবাস শেষে শুক্র স্খলণ সময়ে মুখে স্খলণ করতে হবে।অথবা যে কোন উপায়ে স্খলণ পর্যন্ত এনে, তা মুখের মধ্যেই পতন ঘটাতে হবে।এবং খেয়ে নিতে হবে।এতে আপনি যে সত্বা অর্জন করবেন, যমিনে উৎপাদিত কোন উপজীবিকাতেই তাহা পাবেন না।আর আপনার দেহ থেকে প্রতিনিয়ত ক্ষয় হওয়া ইমান ধনকে পূরণ করে দেবে।
এই মহাস্বত্বা আপনার শরিরের ,কালেব রুহু ,ছের ,খফি, আখফা, নফস, আব, আতশ, খাক ও বাত কে পরিশুদ্ধ করে, আপনাকে শান্তির দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাবে। তাতে আপনার শরির সুস্থ থাকবে,মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত যৌবন অটুট থাকবে।ও চেহারা বর্তমান অপেক্ষা সুন্দর হবে।
মাদকাসক্তের কাছ থেকে এমন কি ধুমপায়ীর কাছ থেকেও,বিসমিল্লাহ পাঠ না করায় উত্তম।
সত্য সহায়।গুরুজী
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে ধর্ম।গুরুজী।।আল্লাহ হতে যাহা প্রচারের আদেশ পেয়েছি।।
সূরা
কাম=মদিনা অবতির্ণ
রুকু=৩৩ আয়াতঃ১০৪
রুকু=১
এক
পঞ্চ কামে ভরা জগৎ ময়।
অ-কাম,স্ব-কাম,কু-কাম,সু-কাম,নিষ্কাম নামে পরিচয়।।
দুই
অ-কামে কাম সবই বৃথা।
পন্ডশ্রম হয় যাহার ব্যাখ্যা।
ফল শূণ্য সে হয় অযথা।
একেথা জেনো নিশ্চয়।।
তিন
ইশ্বর আজ্ঞা কয় যাহারে।
অজুদে স্ব-কাম প্রচারে।
ঋপূর তাড়নার কামরে।
তাহারেই কু-কাম কয়।।
চার
শেষ ভালো যেই কামে থাকে।
সু-কাম বলিবে তাহাকে।
শুক্ল কৃষ্ণ উভয় পক্ষে।
সু-কামেরই হবে জয়।।
পাঁচ
আদ্য শক্তির অধিকারী।
জগতে নিষ্কাম প্রচারী।
সেরু পাগলা বিনয় করি।
কয় সব কাম এইখানেই রয়।।
রুকু=২
ছয়
আল্লাহর পরে কাম অবস্থান,ভেবে দেখো সর্ববায়।
যেই কামে মহাম্মদ সৃষ্টি,হলো প্রেমো নমুনায়।।
সাত
কামেতে ঝরে পছিনা।
পছিনা হয় নূরে নামা।
কাম ছাড়া প্রেম জমিতো না।
সৃষ্টি কি জন্মের বেলায়।।
আট
কাম নেই যাহার দেহেতে।
দাউজ নাম বলে ভবেতে।
নারী প্রেম তার নাই ভাগ্যেতে।
ঢুঁড়ে দেখো দুনিয়ায়।।
নয়
দেহেতে যার কাম রয়েছে।
প্রেম তাহার প্রয়োজন আছে।
কাম বিনে প্রেম হবে মিছে।
বলতেছে সেরু পাগলায়।।
নাযিল=০৮-০৭-১৯৯৮ ইং
সত্য সহায়।গুরুজী।।
রুকু=৩৩ আয়াতঃ১০৪
রুকু=১
এক
পঞ্চ কামে ভরা জগৎ ময়।
অ-কাম,স্ব-কাম,কু-কাম,সু-কাম,নিষ্কাম নামে পরিচয়।।
দুই
অ-কামে কাম সবই বৃথা।
পন্ডশ্রম হয় যাহার ব্যাখ্যা।
ফল শূণ্য সে হয় অযথা।
একেথা জেনো নিশ্চয়।।
তিন
ইশ্বর আজ্ঞা কয় যাহারে।
অজুদে স্ব-কাম প্রচারে।
ঋপূর তাড়নার কামরে।
তাহারেই কু-কাম কয়।।
চার
শেষ ভালো যেই কামে থাকে।
সু-কাম বলিবে তাহাকে।
শুক্ল কৃষ্ণ উভয় পক্ষে।
সু-কামেরই হবে জয়।।
পাঁচ
আদ্য শক্তির অধিকারী।
জগতে নিষ্কাম প্রচারী।
সেরু পাগলা বিনয় করি।
কয় সব কাম এইখানেই রয়।।
রুকু=২
ছয়
আল্লাহর পরে কাম অবস্থান,ভেবে দেখো সর্ববায়।
যেই কামে মহাম্মদ সৃষ্টি,হলো প্রেমো নমুনায়।।
সাত
কামেতে ঝরে পছিনা।
পছিনা হয় নূরে নামা।
কাম ছাড়া প্রেম জমিতো না।
সৃষ্টি কি জন্মের বেলায়।।
আট
কাম নেই যাহার দেহেতে।
দাউজ নাম বলে ভবেতে।
নারী প্রেম তার নাই ভাগ্যেতে।
ঢুঁড়ে দেখো দুনিয়ায়।।
নয়
দেহেতে যার কাম রয়েছে।
প্রেম তাহার প্রয়োজন আছে।
কাম বিনে প্রেম হবে মিছে।
বলতেছে সেরু পাগলায়।।
নাযিল=০৮-০৭-১৯৯৮ ইং
সত্য সহায়।গুরুজী।।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে ধর্ম।গুরুজী।।হারানো ধন ফেরৎ পেতে করণীয়।।পর্ব=৩
১।আর
আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও।তোমাদিগের
অমূল্য সম্পদের যাহা দিবে, ফেরৎ
পাবে আল্লাহর নিকট হতে আরও
উত্তম ভাবে। আর
পাবে বড় পরিশ্রমিক।সূরা মুজাম্মেল=আয়াতঃ২০
২।আর যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও তবে তিনি তাহা বৃদ্ধি করিয়া ফেরৎ দিবেন।যাহা তোমার গোনাহ মাফ করিবে।সূরা তাগাবুন=আয়াতঃ১৭
সম্মানীত পাঠক ,আপনারা লক্ষ করেন.এখানে দুটি আয়াতেই আল্লাহ বান্দার কাছে ঋণ চেয়েছেন।তাহলে কি আল্লাহ অভাবী ,যে, আল্লাহ বান্দার কাছে ঋণ নেবে?এবং বলেছে তোমরা যে ঋণ দেবে আল্লাহ তাহা বৃদ্ধি করে ফেরৎ দিবেন।তার মানে আল্লাহ বান্দাকে সুদ দেওয়ার অঙ্গিকার করেছেন।যে সুদকে হারাম করা হয়েছে।সেই সুদই তিনি বান্দাকে দিতে চেয়েছেন।
আসুন আজ আমরা জেনে নিই।আল্লাহকে কি কর্জ দিতে হবে এবং আল্লাহ তা বান্দাকে কিভাবে বৃদ্ধি করে ফেরৎ দিবেন।
শুক্রবার জুম্মা বার।অর্থাৎ শুক্র জমা দেওয়ার দিন।তার মানে শুক্র স্খলণ হলেই নারীকে জমা দিয়ে দিন।আর ইহাই আল্লাহকে কর্জে হাসানা বা উত্তম কর্জ দিয়ার নিয়ম।
সম্মানিত পাঠক,শুনলে অবাক হবেন যে-এক চাঁদে ৫ শুক্র জুম্মা ।অর্থাৎ নারীর মাসিকের ১০,১১,১২,২১ ও ২৫ তারিখ শুক্র জমা বাধ্যতা মূলক ।তাই ইসালামের দৃষ্টিতে,এক চাঁদে পাঁচ জুম্মা হেতু, প্রতি চাঁদে, শুধুমাত্র জুম্মার নামাজের জন্য পাঁটটি করে খুৎবা রয়েছে।সে অনুসারে ১২ চাঁদে শুধু মাত্র জুম্মার নামাজের জন্য খুৎবা রয়েছে ৬০ টি।কিন্তু চন্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিনে তাতে সপ্তাহ হয় ৫০ টি।আর ৫০ সপ্তাহে ৫০ টি জুম্মার নামাজ পড়া হয়।তাতে খুতবা পড়া হয় ১২ চাঁদে মোট ৫০ টি।বাঁকি ১০ টি খুৎবা শরিয়তে পড়ার কোন হিসাব তারা জানে না।
কারণ ওরা যে জুম্মার নামাজ পড়ে তাহা কোরান উল্লিখিত জুম্মার নামাজ নয়।আর আমি যাহা আলোচনা করছি তাহাই কোরান উল্লিখিত জুম্মা।তাই এক চাঁদে পাঁচ শুক্র জুম্মা হিসাবে,১২ চাঁদে মোট জুম্মা ৬০ টিই হয়।
আপনি যখন কোন নারীকে বিসমিল্লাহ পাঠ করাবেন,তাতে আপনার দেহ থেকে যে অণুপ্রাণ বিয়াগ হলো, তাহা কিন্তু নষ্ট হলো না।তাহা জমা হয়ে গেলো।যাদি আপনি এটা স্ত্রী-লিঙ্গে স্খলণ করেন তাহলে সেই শুক্রে যদি সন্তান না হয়, তাহলে আপনার অণুপ্রাণ পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেলো।মানে আপনি পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেলেন।যেহেতু আপনি পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেলেন, তখন পৃথিবীর প্রতি আপনার মায়া বাড়তে থাকবে। কেন না,আপনি পৃথিবীতেই থেকে গেছেন।তাই মরতে বা পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে আপনার মন চাইবে না।আর সে জন্যই আপনি বার বার এই পৃথিবীতে জন্ম নিবেন।
আর যদি আপনি আপনার শুক্র নারীকে খাওয়ান, তা হলে আপনার শুক্র পৃথিবীতে ছড়ালো না, এবং এই শুক্র নারীর শরীরে গিয়ে তার তো উপকার হবেই ,তাহা ছাড়াও সেই শুক্র বহু গুণে বৃদ্ধি হবে ।যাহা ইচ্ছা করলে আপনি তার কাছ থেকে ফেরৎ নিতে পারেন।অর্থাৎ আল্লাহকে ঋণ দিলে আল্লাহ তা বৃদ্ধি করে আপনাকে ফেরৎ দিবেন।তাই যে নারীকে আপনি বিসমিল্লাহ পাঠ করাবেন,তার সন্তান হলে স্তন থেকে তা বহু গুণে ফেরৎ পাবেন।আর সন্তান না হলে, তার অধর চাঁদ বা ঠোঁট থেকেও ফেরৎ নিতে পারবেন।
তাই লালন শাঁইজি বলেছেন-
হলেরে চাঁদের সাধন।
অধর চাঁদ পায় দরশণ,পাইরে।
চাঁদেতে চাঁদের আসন।
রেখেছে ঘিরে।
এই অধর চাঁদ মানেই ঠোঁট।অর্থাৎ যে নারীকে আপনি বিসমিল্লাহ পাঠ করাবেন তা তার ঠোট থেকেও আপনি আপনার অমূল্য সম্পদ বা আনফাস সঞ্চয় করতে পারবেন।
ইহা ছাড়াও লালন শাঁইজি বলেছেন।
গেলো দিন ছাড়ো বিষয় বাসনা।
মওলা বলে ডাক রসনা।
রসনা অর্থ জিহবা।আপনি নারীর জিহবা থেকেও সঞ্চয় করতে পারেন।তাতেও আপনার হারানো ধন পূরণ হবে।
প্রকাশ থাকে যে ,নারীর ঠোঁট ও জিহবা চুষে,আপনি আপনার জমাকৃত শুক্রাণু বহুগুনে ফেরৎ নিতে পারেন।আর নারী বিসমিল্লাহ পাঠ করলে তার নিজের প্রয়োজনীয় অমূল্য সম্পদ বৃদ্ধি হবে ।এবং শরীর স্বাস্থ ও মন সবই ভালো থাকবে।একে অপরের পরিপূরক হয়ে জীবণ পরিচালনা করুন।
সত্য সহায়।গুরুজী।।
২।আর যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও তবে তিনি তাহা বৃদ্ধি করিয়া ফেরৎ দিবেন।যাহা তোমার গোনাহ মাফ করিবে।সূরা তাগাবুন=আয়াতঃ১৭
সম্মানীত পাঠক ,আপনারা লক্ষ করেন.এখানে দুটি আয়াতেই আল্লাহ বান্দার কাছে ঋণ চেয়েছেন।তাহলে কি আল্লাহ অভাবী ,যে, আল্লাহ বান্দার কাছে ঋণ নেবে?এবং বলেছে তোমরা যে ঋণ দেবে আল্লাহ তাহা বৃদ্ধি করে ফেরৎ দিবেন।তার মানে আল্লাহ বান্দাকে সুদ দেওয়ার অঙ্গিকার করেছেন।যে সুদকে হারাম করা হয়েছে।সেই সুদই তিনি বান্দাকে দিতে চেয়েছেন।
আসুন আজ আমরা জেনে নিই।আল্লাহকে কি কর্জ দিতে হবে এবং আল্লাহ তা বান্দাকে কিভাবে বৃদ্ধি করে ফেরৎ দিবেন।
শুক্রবার জুম্মা বার।অর্থাৎ শুক্র জমা দেওয়ার দিন।তার মানে শুক্র স্খলণ হলেই নারীকে জমা দিয়ে দিন।আর ইহাই আল্লাহকে কর্জে হাসানা বা উত্তম কর্জ দিয়ার নিয়ম।
সম্মানিত পাঠক,শুনলে অবাক হবেন যে-এক চাঁদে ৫ শুক্র জুম্মা ।অর্থাৎ নারীর মাসিকের ১০,১১,১২,২১ ও ২৫ তারিখ শুক্র জমা বাধ্যতা মূলক ।তাই ইসালামের দৃষ্টিতে,এক চাঁদে পাঁচ জুম্মা হেতু, প্রতি চাঁদে, শুধুমাত্র জুম্মার নামাজের জন্য পাঁটটি করে খুৎবা রয়েছে।সে অনুসারে ১২ চাঁদে শুধু মাত্র জুম্মার নামাজের জন্য খুৎবা রয়েছে ৬০ টি।কিন্তু চন্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিনে তাতে সপ্তাহ হয় ৫০ টি।আর ৫০ সপ্তাহে ৫০ টি জুম্মার নামাজ পড়া হয়।তাতে খুতবা পড়া হয় ১২ চাঁদে মোট ৫০ টি।বাঁকি ১০ টি খুৎবা শরিয়তে পড়ার কোন হিসাব তারা জানে না।
কারণ ওরা যে জুম্মার নামাজ পড়ে তাহা কোরান উল্লিখিত জুম্মার নামাজ নয়।আর আমি যাহা আলোচনা করছি তাহাই কোরান উল্লিখিত জুম্মা।তাই এক চাঁদে পাঁচ শুক্র জুম্মা হিসাবে,১২ চাঁদে মোট জুম্মা ৬০ টিই হয়।
আপনি যখন কোন নারীকে বিসমিল্লাহ পাঠ করাবেন,তাতে আপনার দেহ থেকে যে অণুপ্রাণ বিয়াগ হলো, তাহা কিন্তু নষ্ট হলো না।তাহা জমা হয়ে গেলো।যাদি আপনি এটা স্ত্রী-লিঙ্গে স্খলণ করেন তাহলে সেই শুক্রে যদি সন্তান না হয়, তাহলে আপনার অণুপ্রাণ পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেলো।মানে আপনি পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেলেন।যেহেতু আপনি পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেলেন, তখন পৃথিবীর প্রতি আপনার মায়া বাড়তে থাকবে। কেন না,আপনি পৃথিবীতেই থেকে গেছেন।তাই মরতে বা পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে আপনার মন চাইবে না।আর সে জন্যই আপনি বার বার এই পৃথিবীতে জন্ম নিবেন।
আর যদি আপনি আপনার শুক্র নারীকে খাওয়ান, তা হলে আপনার শুক্র পৃথিবীতে ছড়ালো না, এবং এই শুক্র নারীর শরীরে গিয়ে তার তো উপকার হবেই ,তাহা ছাড়াও সেই শুক্র বহু গুণে বৃদ্ধি হবে ।যাহা ইচ্ছা করলে আপনি তার কাছ থেকে ফেরৎ নিতে পারেন।অর্থাৎ আল্লাহকে ঋণ দিলে আল্লাহ তা বৃদ্ধি করে আপনাকে ফেরৎ দিবেন।তাই যে নারীকে আপনি বিসমিল্লাহ পাঠ করাবেন,তার সন্তান হলে স্তন থেকে তা বহু গুণে ফেরৎ পাবেন।আর সন্তান না হলে, তার অধর চাঁদ বা ঠোঁট থেকেও ফেরৎ নিতে পারবেন।
তাই লালন শাঁইজি বলেছেন-
হলেরে চাঁদের সাধন।
অধর চাঁদ পায় দরশণ,পাইরে।
চাঁদেতে চাঁদের আসন।
রেখেছে ঘিরে।
এই অধর চাঁদ মানেই ঠোঁট।অর্থাৎ যে নারীকে আপনি বিসমিল্লাহ পাঠ করাবেন তা তার ঠোট থেকেও আপনি আপনার অমূল্য সম্পদ বা আনফাস সঞ্চয় করতে পারবেন।
ইহা ছাড়াও লালন শাঁইজি বলেছেন।
গেলো দিন ছাড়ো বিষয় বাসনা।
মওলা বলে ডাক রসনা।
রসনা অর্থ জিহবা।আপনি নারীর জিহবা থেকেও সঞ্চয় করতে পারেন।তাতেও আপনার হারানো ধন পূরণ হবে।
প্রকাশ থাকে যে ,নারীর ঠোঁট ও জিহবা চুষে,আপনি আপনার জমাকৃত শুক্রাণু বহুগুনে ফেরৎ নিতে পারেন।আর নারী বিসমিল্লাহ পাঠ করলে তার নিজের প্রয়োজনীয় অমূল্য সম্পদ বৃদ্ধি হবে ।এবং শরীর স্বাস্থ ও মন সবই ভালো থাকবে।একে অপরের পরিপূরক হয়ে জীবণ পরিচালনা করুন।
সত্য সহায়।গুরুজী।।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে ধর্ম।গুরুজী।।হারানো ধন ফেরৎ পেতে করণীয়।।।পর্ব=৪
এমনকি
আপনি ইমান ধন সঞ্চয়ের
মাধ্যমে ,আপনার হায়াত বৃদ্ধি
করে ২৫০ বৎসর পর্যন্ত
ও করতে পারেন, পৃথিবীকে
অনেক কিছু দিয়ে যাওয়ার
জন্য।আসুন,
আমরা কোরানের দৃষ্টিতে ইমান আনার চেষ্টা
করি।
পাগলা অনুবাদ-
সূরা বাকারা=আয়াতঃ২২৩
নারীগন তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র,সুতরাং ইচ্ছা মত ক্ষেতে আগমন করো।আর অগ্রসর হও তোমাদের অমূল্য সম্পদের জন্য।আর নিশ্চয়,জেনে কুড়িয়ে নাও স্রষ্টা, তোমাদিগের সাক্ষাতের সময়।আর এ সংবাদ দিন সমস্ত ইমানধন প্রাপ্তদের।
কু-সংস্কারবাদীদের অনুবাদ-
তোমাদের পত্নীগন তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র স্বরুপ,সুতরাং স্বীয় শস্য ক্ষেত্রে আগমন করো যেদিক দিয়ে ইচ্ছা।আর ভবিস্যতের উদ্দেশ্যে নিজের জন্য কিছু করিতে থাকো।আর আল্লাহকে ভয় করো।এবং দৃঢ় বিশ্বাস রাখিও যে নিশ্চয়,তোমাদিগকে আল্লাহর সমীপে উপস্থিত হইতে হইবে।আর এরুপ সংবাদ মুমিনদিগকে শুনাইয়া দিন।সূরা বাকারা=আয়াতঃ২২৩
সম্মানিত পাঠক আজ আমরা কোরানের সূরা বাকারার ২২৩ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করবো।আসুন আমরা জেনে নিই,এই আয়াতে আল্লাহ তার সৃষ্টিকে কি বলতে চেয়েছেন।
এই আয়াত লক্ষ করলে দেখবেন ,এর প্রথম কথা-
নারীগন তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র,
অথচ কু-সংস্কারবাদীরা বলেছে তোমাদের পত্নীগন তোমাদের শস্যক্ষেত্র।কিন্তু এই আয়াতে তা বলা হয়নি। আরবিতে পত্নী বলতে বলা হয়েছে জাওজা,কিন্তু এখানে বলা হয়েছে নিসা বা নারীগন।অর্থাৎ আপনি যে কোন নারী থেকে সঞ্চয় করতে পারেন ,যদি সে আপনাকে ইচ্ছা করে দেয়।তবে জোর পূর্বক নেওয়া হারাম।
এখানে নারীকে বলা হয়েছে শস্য ক্ষেত্র,অর্থাৎ ,যেখান আবাদ বা উপাষনা বা উৎপন্ন করা যায় তাহাই ক্ষেত বা যমিন।তার মানে আপনাকে এবাদৎ করতে হলে নারীর কাছে যেতেই হবে।তাহা ব্যাতীত আপনি এবাদৎ করিতে পারিবেন না।
সুতরাং ইচ্ছা মত ক্ষেতে আগমন করো।আর অগ্রসর হও তোমাদের অমূল্য সম্পদের জন্য।
পরের অংশ খেয়াল করলে দেখুন,এখানে বলা হয়েছে,আপনি ক্ষেতে আপনার ইচ্ছা মত যেতে পারবেন।তাতে কোন সমস্যা নেই।আর আপনার ইচ্ছামত হলো,কোন মৌসুমে কি শস্য উৎপন্ন করা যাবে, তাহা জেনেই কিন্তু আপনাকে ক্ষেত বা যমিনে যেতে হবে।এবং যে মৌসুমে যে ফসল উৎপন্ন করা যাবে ,আপনাকে সেই মৌসুমে সেই ফসল উৎপন্ন করতে হবে।তাহলে, একজন নারীর কাছে যাওয়ার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই আবাদ বা উপষনা বা উৎপন্ন প্রণালী জানতে হবে।অন্যথায় আপনি পশুর মত ক্ষেতে গিয়ে ফসল নষ্ট ব্যাতীত কিছুই করতে পারবেন না।
তাই যদি আপনি নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দিতে চান।তাহলে ক্ষেতের ফসল নষ্ট নয়,ফসল উৎপন্ন প্রক্রীয়া জানার চেষ্টা করুন।
আর গ্রসর হও আনফাস বা অমূল্য সম্পদের জন্য।এখন আপনার অমূল সম্পদ কি?আপনার অমূল্য সম্পদ হলো।আপনার সাত ছেফাতকে জীবিত রাখতে পারে যে মহাস্বত্বা বা ইমান ধন।অর্থাৎ সেখানে যেতে বলা হয়েছে অমূল্য সম্পদ উৎপন্ন করার জন্য।
আর জেনে নাও, নিশ্চয় তোমাদিগের সাক্ষাতের সময় কুড়িয়ে নাও স্রষ্টা,
অর্থাৎ যখন ক্ষেতে যাবে বা সাক্ষাত করবে নারীর সাথে তখন তুমি সেখান থেকে স্রষ্টা বা আল্লাহ কুড়িয়ে নাও।কেন না সেখানে আল্লাহ বা স্রষ্টা উৎপন্ন হচ্ছে।তুমি সেখান থেকে স্রষ্টা কুড়িয়ে নাও।তোমার ভবিস্যতের জন্য।
আর এ সংবাদ দিন সমস্ত ইমানধন প্রাপ্তদের।
সব শেষে বলেছে এ সংবাদ তাদের জন্য যারা ইমানদার বা ইমান ধন প্রাপ্ত।অর্থাৎ জন্ম সুত্রে আপনি যে সকল ইমান পেয়েছেন,এখন সঞ্চয় করলে আপনি সে সকল ইমান ধনই সঞ্চয় করতে পারবেন, অন্য ইমান ধন সঞ্চয় করতে পারবেন না।কেন না এ সংবাদ ইমান ধন প্রাপ্তদেরকে দিয়েছে।অন্য কাউকে নয়।
যেমন-আপনি জন্ম সুত্র বোবা হলে ইমান ধন সঞ্চয় করে আপনার বোবা ভালো করা যাবে না।আবার আপনি জন্ম সুত্রে অন্ধ,এখন ইমান ধন সঞ্চয় করে আপনার কোন লাভ হবে না।ইহা লাভ হবে তাদের জন্য,যারা জন্ম সুত্রে মুমিন বা ইমান ধন পেয়ে এসছে তাদের।তাই এই আদেশ দেওয়া হয়েছে মুমিন দিগকে।
আপনি যদি জন্ম সুত্রে ইমান প্রাপ্ত হয়ে থাকেন ,আর এখন আপনার তাহা থেকে যতটুকু নষ্ট হয়েছে, তাহা পূরণ করতে পারবেন।আর যদি জন্ম সুত্রে আপনার ইমান ধনভান্ড ছোট হয়ে থাকে।তাহলে তাতে ইমান ধন কম ধরেছে এবং আপনি ইমান ধন কম নিয়ে এসেছেন।তাহলে এখন আপনাকে আপনার ইমান ধন ভান্ড বড় করতে হবে ,এবং তা ইমান ধনে পূর্ণ করতে হবে।
এমনকি আপনি ইমান ধন সঞ্চয়ের মাধ্যমে ,আপনার হায়াত বৃদ্ধি করে ২৫০ বৎসর পর্যন্ত ও করতে পারেন, পৃথিবীকে অনেক কিছু দিয়ে যাওয়ার জন্য।
আসুন আমরা কোরানের দৃষ্টিতে ইমান আনার চেষ্টা করি।
সত্য সহায়।গুরুজী
পাগলা অনুবাদ-
সূরা বাকারা=আয়াতঃ২২৩
নারীগন তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র,সুতরাং ইচ্ছা মত ক্ষেতে আগমন করো।আর অগ্রসর হও তোমাদের অমূল্য সম্পদের জন্য।আর নিশ্চয়,জেনে কুড়িয়ে নাও স্রষ্টা, তোমাদিগের সাক্ষাতের সময়।আর এ সংবাদ দিন সমস্ত ইমানধন প্রাপ্তদের।
কু-সংস্কারবাদীদের অনুবাদ-
তোমাদের পত্নীগন তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র স্বরুপ,সুতরাং স্বীয় শস্য ক্ষেত্রে আগমন করো যেদিক দিয়ে ইচ্ছা।আর ভবিস্যতের উদ্দেশ্যে নিজের জন্য কিছু করিতে থাকো।আর আল্লাহকে ভয় করো।এবং দৃঢ় বিশ্বাস রাখিও যে নিশ্চয়,তোমাদিগকে আল্লাহর সমীপে উপস্থিত হইতে হইবে।আর এরুপ সংবাদ মুমিনদিগকে শুনাইয়া দিন।সূরা বাকারা=আয়াতঃ২২৩
সম্মানিত পাঠক আজ আমরা কোরানের সূরা বাকারার ২২৩ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করবো।আসুন আমরা জেনে নিই,এই আয়াতে আল্লাহ তার সৃষ্টিকে কি বলতে চেয়েছেন।
এই আয়াত লক্ষ করলে দেখবেন ,এর প্রথম কথা-
নারীগন তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র,
অথচ কু-সংস্কারবাদীরা বলেছে তোমাদের পত্নীগন তোমাদের শস্যক্ষেত্র।কিন্তু এই আয়াতে তা বলা হয়নি। আরবিতে পত্নী বলতে বলা হয়েছে জাওজা,কিন্তু এখানে বলা হয়েছে নিসা বা নারীগন।অর্থাৎ আপনি যে কোন নারী থেকে সঞ্চয় করতে পারেন ,যদি সে আপনাকে ইচ্ছা করে দেয়।তবে জোর পূর্বক নেওয়া হারাম।
এখানে নারীকে বলা হয়েছে শস্য ক্ষেত্র,অর্থাৎ ,যেখান আবাদ বা উপাষনা বা উৎপন্ন করা যায় তাহাই ক্ষেত বা যমিন।তার মানে আপনাকে এবাদৎ করতে হলে নারীর কাছে যেতেই হবে।তাহা ব্যাতীত আপনি এবাদৎ করিতে পারিবেন না।
সুতরাং ইচ্ছা মত ক্ষেতে আগমন করো।আর অগ্রসর হও তোমাদের অমূল্য সম্পদের জন্য।
পরের অংশ খেয়াল করলে দেখুন,এখানে বলা হয়েছে,আপনি ক্ষেতে আপনার ইচ্ছা মত যেতে পারবেন।তাতে কোন সমস্যা নেই।আর আপনার ইচ্ছামত হলো,কোন মৌসুমে কি শস্য উৎপন্ন করা যাবে, তাহা জেনেই কিন্তু আপনাকে ক্ষেত বা যমিনে যেতে হবে।এবং যে মৌসুমে যে ফসল উৎপন্ন করা যাবে ,আপনাকে সেই মৌসুমে সেই ফসল উৎপন্ন করতে হবে।তাহলে, একজন নারীর কাছে যাওয়ার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই আবাদ বা উপষনা বা উৎপন্ন প্রণালী জানতে হবে।অন্যথায় আপনি পশুর মত ক্ষেতে গিয়ে ফসল নষ্ট ব্যাতীত কিছুই করতে পারবেন না।
তাই যদি আপনি নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দিতে চান।তাহলে ক্ষেতের ফসল নষ্ট নয়,ফসল উৎপন্ন প্রক্রীয়া জানার চেষ্টা করুন।
আর গ্রসর হও আনফাস বা অমূল্য সম্পদের জন্য।এখন আপনার অমূল সম্পদ কি?আপনার অমূল্য সম্পদ হলো।আপনার সাত ছেফাতকে জীবিত রাখতে পারে যে মহাস্বত্বা বা ইমান ধন।অর্থাৎ সেখানে যেতে বলা হয়েছে অমূল্য সম্পদ উৎপন্ন করার জন্য।
আর জেনে নাও, নিশ্চয় তোমাদিগের সাক্ষাতের সময় কুড়িয়ে নাও স্রষ্টা,
অর্থাৎ যখন ক্ষেতে যাবে বা সাক্ষাত করবে নারীর সাথে তখন তুমি সেখান থেকে স্রষ্টা বা আল্লাহ কুড়িয়ে নাও।কেন না সেখানে আল্লাহ বা স্রষ্টা উৎপন্ন হচ্ছে।তুমি সেখান থেকে স্রষ্টা কুড়িয়ে নাও।তোমার ভবিস্যতের জন্য।
আর এ সংবাদ দিন সমস্ত ইমানধন প্রাপ্তদের।
সব শেষে বলেছে এ সংবাদ তাদের জন্য যারা ইমানদার বা ইমান ধন প্রাপ্ত।অর্থাৎ জন্ম সুত্রে আপনি যে সকল ইমান পেয়েছেন,এখন সঞ্চয় করলে আপনি সে সকল ইমান ধনই সঞ্চয় করতে পারবেন, অন্য ইমান ধন সঞ্চয় করতে পারবেন না।কেন না এ সংবাদ ইমান ধন প্রাপ্তদেরকে দিয়েছে।অন্য কাউকে নয়।
যেমন-আপনি জন্ম সুত্র বোবা হলে ইমান ধন সঞ্চয় করে আপনার বোবা ভালো করা যাবে না।আবার আপনি জন্ম সুত্রে অন্ধ,এখন ইমান ধন সঞ্চয় করে আপনার কোন লাভ হবে না।ইহা লাভ হবে তাদের জন্য,যারা জন্ম সুত্রে মুমিন বা ইমান ধন পেয়ে এসছে তাদের।তাই এই আদেশ দেওয়া হয়েছে মুমিন দিগকে।
আপনি যদি জন্ম সুত্রে ইমান প্রাপ্ত হয়ে থাকেন ,আর এখন আপনার তাহা থেকে যতটুকু নষ্ট হয়েছে, তাহা পূরণ করতে পারবেন।আর যদি জন্ম সুত্রে আপনার ইমান ধনভান্ড ছোট হয়ে থাকে।তাহলে তাতে ইমান ধন কম ধরেছে এবং আপনি ইমান ধন কম নিয়ে এসেছেন।তাহলে এখন আপনাকে আপনার ইমান ধন ভান্ড বড় করতে হবে ,এবং তা ইমান ধনে পূর্ণ করতে হবে।
এমনকি আপনি ইমান ধন সঞ্চয়ের মাধ্যমে ,আপনার হায়াত বৃদ্ধি করে ২৫০ বৎসর পর্যন্ত ও করতে পারেন, পৃথিবীকে অনেক কিছু দিয়ে যাওয়ার জন্য।
আসুন আমরা কোরানের দৃষ্টিতে ইমান আনার চেষ্টা করি।
সত্য সহায়।গুরুজী
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে ধর্ম।গুরুজী।।আল্লাহ হতে যাহা প্রচারের আদেশ পেয়েছি।।পর্ব=৩
সূরা
প্রেম=মক্কা অবতীর্ণ
রুকুঃ৯=আয়াতঃ৭৩
শুরু করিতেছি আমি আমিকে স্মরণ করে।
রুকুঃ১
আয়াতঃ১
নামাজ ছাড়া এই জীবেতে,নাই কাহারও শান্তি নাই।
কে মুসলমান কে ইমানদার,নামাজেতেই চিনা যায়।।
আয়াতঃ২
নামাজ ও তরকের পরে,কে কে অ-সন্তুষ্ট হয়রে।
হাদিসেতে এই কথাটি রাসুলেতে ফরমায়।
নামাজ ছাড়া এই ভবেতে,নাই কাহার ও মুক্তি নাই।।
আয়াতঃ৩
ফজর ও তরক করিলে,ইমান বেজার হয় গো দিলে।
জোহরে পয়গম্বর বেজার,আসর বেজার ফেরেস্তায়।
মাগরিবে কোরান হয় বেজার,আল্লাহ বেজার হয় এশায়।।
আয়াতঃ৪
সামসুদ্দীন কয় পাগলা সেরু,ভুলেও নামাজ নাহি ছেড়ো।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ো,দিবা রাত্রি মসজিদায়।
বে-নামাজীর আল্লাহর দরগায়,নাইরে তাহার যায়গা নাই।।
সত্য সহায়।গুরুজী।।
রুকুঃ৯=আয়াতঃ৭৩
শুরু করিতেছি আমি আমিকে স্মরণ করে।
রুকুঃ১
আয়াতঃ১
নামাজ ছাড়া এই জীবেতে,নাই কাহারও শান্তি নাই।
কে মুসলমান কে ইমানদার,নামাজেতেই চিনা যায়।।
আয়াতঃ২
নামাজ ও তরকের পরে,কে কে অ-সন্তুষ্ট হয়রে।
হাদিসেতে এই কথাটি রাসুলেতে ফরমায়।
নামাজ ছাড়া এই ভবেতে,নাই কাহার ও মুক্তি নাই।।
আয়াতঃ৩
ফজর ও তরক করিলে,ইমান বেজার হয় গো দিলে।
জোহরে পয়গম্বর বেজার,আসর বেজার ফেরেস্তায়।
মাগরিবে কোরান হয় বেজার,আল্লাহ বেজার হয় এশায়।।
আয়াতঃ৪
সামসুদ্দীন কয় পাগলা সেরু,ভুলেও নামাজ নাহি ছেড়ো।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ো,দিবা রাত্রি মসজিদায়।
বে-নামাজীর আল্লাহর দরগায়,নাইরে তাহার যায়গা নাই।।
সত্য সহায়।গুরুজী।।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে ধর্ম।গুরুজী।।আল্লাহ হতে যাহা প্রচারের আদেশ পেয়েছি।।পর্ব=৪
এক
মীমের দুয়ার খোলরে মন।
মীম ঘরে স্বরুপ নগরে,আছে বারি রুপে অমূল্য ধন।।
মীম দুয়ারের তালাটি লাম,আছে উহা বিধির ও বাম।
মোকামে কাম করে অকাম,ছড়াই সে শুধুই বদনাম।
দাম হারিয়ে করে বেদাম,লামেতে হয় জীবের মরন।।
আলিফ হয় লামের চাবি,তালাই যেই চাবি ঢুঁকাবি।
লামালিফ ইহাকেই জানবি,কিয়ামত ইহাকেই মানবি।
হেথায় জীবের মরার পরে,ফেরৎ পায় সে নব জনম।।
নব জনম ফেরৎ পেলে,কলেমার আবির্ভাব মিলে।
আরশের কলেমা দ্বাদশ দলে,ঝরে সদায় রুপ স্বজলে।
এই কলেমা গ্রহন করলে,সেরু পাগলার বাঁচে মরন।।
দুই
সকলই মীমের খেলা।
লাম বল আলিফ বল,সকলই হয় মীমের চেলা।।
ঐ মীম মীন হয়ে,লাম সাগর দেয় ভাসায়ে।
ঐ মীম আলিফে গিয়ে,করে গো ছলা কলা।।
ঐ মীম আদমের দম,ঐ মীম আদমের যম।
জাতেতে জাত পড়িলে কম,ছেফাতের ডুবে গো বেলা।।
মীম দম মীম দমের আহার,আরাফাতে স্বাদ পেয়েছো তাহার।
জীব সর্ব-স্ব তাহার,সে বিনে ডুবে যায় বেলা।।
করো মীম উপাষনা,মীমে করো আম্মারার ফানা।
সামসুদ্দীন কয় মীমের ব্যাণা,চিনে নেওরে সেরু পাগলা।।
সত্য সহায়।গুরুজী।।
মীমের দুয়ার খোলরে মন।
মীম ঘরে স্বরুপ নগরে,আছে বারি রুপে অমূল্য ধন।।
মীম দুয়ারের তালাটি লাম,আছে উহা বিধির ও বাম।
মোকামে কাম করে অকাম,ছড়াই সে শুধুই বদনাম।
দাম হারিয়ে করে বেদাম,লামেতে হয় জীবের মরন।।
আলিফ হয় লামের চাবি,তালাই যেই চাবি ঢুঁকাবি।
লামালিফ ইহাকেই জানবি,কিয়ামত ইহাকেই মানবি।
হেথায় জীবের মরার পরে,ফেরৎ পায় সে নব জনম।।
নব জনম ফেরৎ পেলে,কলেমার আবির্ভাব মিলে।
আরশের কলেমা দ্বাদশ দলে,ঝরে সদায় রুপ স্বজলে।
এই কলেমা গ্রহন করলে,সেরু পাগলার বাঁচে মরন।।
দুই
সকলই মীমের খেলা।
লাম বল আলিফ বল,সকলই হয় মীমের চেলা।।
ঐ মীম মীন হয়ে,লাম সাগর দেয় ভাসায়ে।
ঐ মীম আলিফে গিয়ে,করে গো ছলা কলা।।
ঐ মীম আদমের দম,ঐ মীম আদমের যম।
জাতেতে জাত পড়িলে কম,ছেফাতের ডুবে গো বেলা।।
মীম দম মীম দমের আহার,আরাফাতে স্বাদ পেয়েছো তাহার।
জীব সর্ব-স্ব তাহার,সে বিনে ডুবে যায় বেলা।।
করো মীম উপাষনা,মীমে করো আম্মারার ফানা।
সামসুদ্দীন কয় মীমের ব্যাণা,চিনে নেওরে সেরু পাগলা।।
সত্য সহায়।গুরুজী।।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে ধর্ম।গুরুজী।।আল্লাহ হতে যাহা প্রচারের আদেশ পেয়েছি।।পর্ব=৫
না
জেনে পাঞ্জাতন ব্যাণা,পড়ছো নামাজ
অ-কারণে।
পাঁচ অজুদে বিরাজিত,চিন মন সেই পঞ্চ জনে।।
খাক জাতে আরেফেল অজুদ।ছিল আদম সেই ধামে।
পড়িয়া ফজরের নামাজ,হয় জলি হুসাইনে।
জাতে আব অজুদ মোমতেনাল,
তাই ইব্রাহিম জোহরি হাল।
হাসান তথা রয় চিরকাল।কালবিতে সাধকে চিনে।।
জাত আতশ মোমকেনাল অজুদ,রুহী হাল তার আছরে।
পরিত্রাণ পর পড়ে ইউনুস,ফাতিমা রয় সেই ঘরে।
অহেদাল অজুদ বাত জাতে।
দেখা পাবে ঐ ছিররিতে।
পড়ে ইসা মগরিবেতে,আলি ধনি সেই ধনে।।
ছাফা হয় ওয়াজেবল অজুদ,খফি হয় তার নামাজ হাল।
পড়লো মুছা ইশার নামাজ,ছিন্ন করে মায়া জাল।
হেথা মহাম্মদ পৌঁছিলে।
পাঞ্জাতন হয় জাত মন্ডলে।
তাইতে কয় সেরু পাগলে,পড়িস না নামাজ ভেদ না জেনে।।
সত্য সহায়।গুরুজী।।
পাঁচ অজুদে বিরাজিত,চিন মন সেই পঞ্চ জনে।।
খাক জাতে আরেফেল অজুদ।ছিল আদম সেই ধামে।
পড়িয়া ফজরের নামাজ,হয় জলি হুসাইনে।
জাতে আব অজুদ মোমতেনাল,
তাই ইব্রাহিম জোহরি হাল।
হাসান তথা রয় চিরকাল।কালবিতে সাধকে চিনে।।
জাত আতশ মোমকেনাল অজুদ,রুহী হাল তার আছরে।
পরিত্রাণ পর পড়ে ইউনুস,ফাতিমা রয় সেই ঘরে।
অহেদাল অজুদ বাত জাতে।
দেখা পাবে ঐ ছিররিতে।
পড়ে ইসা মগরিবেতে,আলি ধনি সেই ধনে।।
ছাফা হয় ওয়াজেবল অজুদ,খফি হয় তার নামাজ হাল।
পড়লো মুছা ইশার নামাজ,ছিন্ন করে মায়া জাল।
হেথা মহাম্মদ পৌঁছিলে।
পাঞ্জাতন হয় জাত মন্ডলে।
তাইতে কয় সেরু পাগলে,পড়িস না নামাজ ভেদ না জেনে।।
সত্য সহায়।গুরুজী।।
লালন তার নিজের তৈরী কিছু ভুল মতবাদ কোরানের নামে চালানোর অপচেষ্টা করেছে
এবার আমি লালনের একটি গান নিয়ে আলোচনায় আসার চেষ্টা করি। আর দেখাতে চেষ্টা করি যে- লালন তার গানে মূলতঃ কি বলতে চেষ্টা করেছেন। লালনের গান-পারে কে যাবি নবির নৌকাতে আয়। রুপ কাঠের ই নৌকাখানি নাই ডুবার ভয়।।
১।
বে-শরার নেয়ে যারা, তুফানে যাবে মারা, একই ধাক্কায়।
কি করবে তার বদর গাঁজী থাকবে কোথায়।।
২।
নবি না মানে যারা, মোয়াহেদ কাফের তারা, এই দুনিয়ায়।
ভজনে তার নাই মজুরি সাফ লেখা রয়।।
৩।
যে মুর্ষিদ সেই তো রাসুল, ইহাতে নাই কোন ভুল, খোদাও সে হয়।
লালন কয় না এমন কথা কোরাণে কয়।
এবার আসুন- এই গানটির মূখোবন্ধ পারে কে যাবি নবির নৌকাতে আয়। রুপ কাঠের ই নৌকাখানি নাই ডুবার ভয়।। নিয়ে আলোকপাত করি-
আমরা যদি লালনের এই গানটির মূখোবন্ধের দিকে দৃষ্টি দেই, তাহলে পরিস্কার বুঝতে পারি যে- লালন এই গানে তার নিজস্ব দেওয়া বা নিজের গড়া ধর্মীয় নীতির প্রতি মানুষকে আহবান করে নাই। এখানে লালন সকল মানুষকে আহবান করেছেন নবীর নৌকা বা নবির দেওয়া আইনে আসার জন্য। তার মানে- লালন অনুসারি যারা বলেন লালন কোন কেতাবের আইন মানেন নাই, বরং লালন নিজেই আইন তৈরী করে গেছেন, ও তার অনুসারিদের সে আইন মানতে বলেছেন, তারা মূলতঃ মিথ্যা বলে। আসল সত্য হলো- লালন নিজে কোন আইন তৈরী করেন নি, তিনি নবির আইন মানতেই সকলকে আহবান করেছেন।
এবার এই গানটির প্রথম কলিতে কি বলেছে তা দেখেন- বে-শরার নেয়ে যারা, তুফানে যাবে মারা, একই ধাক্কায়। কি করবে তার বদর গাঁজী থাকবে কোথায়।।
এখানে লালন তার অনুসারিদের আরও পরিস্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে- যারা নবির দেওয়া শরা বা শরিয়াত পালন না করবে, তারা এক ধাক্কাতেই তুফাণে পড়ে মারা যাবে। তার মানে লালন সকলকে নবির দেওয়া শরা পালনের জন্য বলেছেন, নিজের গড়া কোন আইন মানতে বলে নাই। তার মানে এখানেও লালন পন্থী যারা বলেন লালন নিজেই আইন গড়ে তা মানতে বলেছেন, তারা মিথ্যা বলেন।
এবার আসুন- এই গানের দ্বিতীয় কলিতে কি বলেছে, তা দেখে নিই- নবি না মানে যারা, মোয়াহেদ কাফের তারা, এই দুনিয়ায়। ভজনে তার নাই মজুরি সাফ লেখা রয়।।
এখানে লালন তার অনুসারিদের আরও পরিস্কার ভাবে বলে দিয়েছেন যে- যারা নবিকে মানবে না তারা মোয়াহেদ বা নাস্তিক ও কাফের বলে এই দুনিয়াতে বিবেচিত হবে। আর এই নাস্তিক ও কাফেরদের কোন ভজন বা উপাসনাই কাজে দেবে না, কারণ এ সকল উপাসনার আদেশ স্রষ্টার না, তাই স্রষ্টা এ সকল উপাসনার জন্য কোন মজুরি দিবেন না।
এবার আসুন এই গানের শেষ কলিটি একবার দেখে নিই- যে মুর্ষিদ সেই তো রাসুল, ইহাতে নাই কোন ভুল, খোদাও সে হয়। লালন কয় না এমন কথা কোরাণে কয়।
এই শেষ কলির দিকে তাকালে দেখা যাবে, লালন অনেক বড় বাটপারি করেছে। যে মুর্ষিদ সেই তো রাসুল, ইহাতে নাই কোন ভুল, খোদাও সে হয়। লালন কয় না এমন কথা কোরাণে কয়।
উক্তিটি কিন্তু কোরাণের নয়। এই উক্তিটি লালনের নিজের উক্তি। এখানে দেখা যায়-মূর্ষিদ, রাসুল এগুলি কোরাণের কথা হলেও- মুর্ষিদ, রাসুল ও খোদা যে একই জন একথা কিন্তু কোরাণের কোথাও বলে নাই। অথচ লালন বলেছে-মুর্ষিদ, রাসুল ও খোদা একই জন। আর তার এই নিজের বলা উক্তিকে কোরাণের উক্তি বলে চালানোর অপচেষ্টা করেছেন। এটা লালন গুরুতর অন্যায় করেছে।
এখন আপনারা যারা দাবি করেন যে- আপনারা লালনের অনুসারি, তারা বলুন- লালন নিজে কোন কোন আইন তৈরী করেছেন, যাহা ধর্মীয় কোন কেতাবে নাই। আর নিজের উক্তি কোরাণের বলে চালানোটা লালনের ঠিক হয়েছে কি না? এ ক্ষেত্রে লালনকে আপনারা জ্ঞানী না বাটপার বলবেন?
===============================
বাউল মতে লালন ঘরাণার লোকেরা মনে করেন লালন কোরাণ, নবী রাসুল ও আল্লাহকে বাদ দিয়ে, আলাদা ধর্মীয় নীতি প্রচলন করে গেছেন। কিন্তু তাদের এ ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ লালন তার গানের মধ্যে বলেছেন-
পারে কে যাবি নবীর নৌকাতে আয়।
আবার আরেক যায়গায় বলেছেন-
রাসুল রাসুল বলে ডাকি। সে নাম নিলেই বড় সুখে থাকি।
এর থেকেই বুঝা যাই যে- লালন তার অনুসারিদের নতুন কোন মতবাদ দেয় নি। সে মূলত সকলকে নবি ও রাসুলের দ্বীণেই দাওয়াত দিয়েছেন।আবার আরেক যায়গায় লালন বলেছে-
মুখে পড়রে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আইন ভেজিলেন রাসুলাল্লাহ।
তার মানে লালন কোরাণের বাণী লাইলাহার প্রতিই সকলকে দাওয়াত দিয়েছেন। এতে ইহাই প্রমাণ হয় যে- লালন আল্লাহ, নবি রাসুল ও কোরান মানতেই সকলকে আহবান করেছেন। তিনি নতুন কোন মতবাদ প্রচার করেন নি।
লালন শাইজী কোরাণের অনেক বিষয় নিয়ে গান লিখেছেন। তবে তিনি কোরাণের সেই বাণী সমুহকে নিজের মত সাংকেতিক ভাষায় বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। আজ আমি লালন শাঁইজির গানে ব্যাবহৃত সাংকেতিক শব্দ চরণ ও চরণ ধুলি নিয়ে আলোচনা করবো। কেন না লালন শাঁইজি তার অনেক গানের মধ্যে কয়েক প্রকার চরণের কথা উল্লেখ করেছেন।যেমন-
সাধু চরণ, গুরু চরণ, শ্রী চরণ, রাঙ্গা চরণ,যুগল চরণ, শিতল চরণ, উভয় চরণ ও অভয় চরণ।
আসুন- প্রথমে আমরা জেনে নিই চরণ শব্দের অর্থ কি?
আপনারা জানেন চরণ মানে পা। তাই যখন লালনের গান-
১। কবে সাধুর চরণ ধুলি মোর লাগবে গায়। আমি বসে আছি আশা সিন্ধু কুলেতে সদায়।
তখন লালন পন্থিরা বলেন। চরণ মানে পা। আর গুরুর চরণ আশায় শিষ্য আশা সিন্ধু কুলে বসে থাকে। আবার এই গানের ই শেষ লাইনে লেখা আছে-
আমি শুনেছি সাধুর করুণা, সাধু চরণ পরশিলে লোহা হয়গো সোনা।
তাহলে দেখা গেলো সাধু চরণ স্পর্শ হলে লোহা সোনা হয়ে যায়। কিন্তু চরণ মানে পা হলে, এই পায়ের পরশে কিছুই সোনা হওয়া সম্ভব নয়। গুরুর মুখ নিসৃত বাণীতে হয়তো খারাপ ভালো হয়ে যেতে পারে। কিন্তু চরণ ধুলিতে নয়।
আবার লালন শাঁইজি তার গানের মধ্যে বলেছেন-
২। রাঙ্গা চরণ পাবো বলে, বাঞ্ছা সদায় হৃদ কমলে।
৩। সার করো মন গুরুর চরণ। পারে যাওয়ার থাকলে আশা।
৪। রেখো মোরে শ্রী চরণে, চরণ ছাড়া করো না।
৫। যুগলো চরণের ধুলি লাগবে কবে পাপির গায়। আশা সিন্ধু কুলে বসে আছি গো সদায়।
আবার বলেছেন-
ধরো চরণ ছেড়ো না, নিতাই কাওরে ফেলে যাবে না।
এই চরণের মাহাত্ম কি? কি বলতে চেয়েছেন লালন এই চরণকে। আসুন আজ আমরা জেনে নিই চরণ বলতে লালন কাকে বুঝিয়েছেন, এবং চরণের সাধনা কি।
মূলতঃ চরণ শব্দের অর্থ পঠিত। অর্থাৎ যাহা পাঠ করা হয় তাহাকেই চরণ বলে। যেমন কোরান অর্থ পঠিত। এই কোরানকেই লালন তার ভাষায় চরণ বলেছেন। অর্থাৎ কোরান মানেও পঠিত, চরণ মানেও পঠিত। এখন কোরানের মধ্যে পাঁচটি কিতাব বর্তমান, ঠিক তেমনি লালনও চরণকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন। যেমন-
১। শ্রী-চরণ, ২। রাঙ্গা-চরণ, ৩। শাধু-চরণ, একে শীতল চরণও বলা হয়, ৩। গুরু-চরণ, একে অভয় চরনও বলা হয়, ৫। যুগল-চরণ, একে উভয় চরণও বলা হয়।
এবার আসুন এই পাঁচ চরণের সাথে পরিচিত হই।
১। শ্রী-চরণ-= যার অর্থ পুরুষ লিঙ্গ। আর শ্রী-চরণের ধুলি হলো শুক্রাণু।
২। রাঙ্গা-চরণ-=যার অর্থ স্ত্রী-লিঙ্গ। আর রাঙ্গা চরণের ধুলি ডিম্বাণু ও রজঃ।
৩। সাধু-চরণ-=যার অর্থ নারীর ডান স্তন। সাধু চরণ ধুলি ডান স্তনের দুধ। একে শিতল চরণও বলা হয়েছে। কারণ এই চরণের ধুলি গ্রহন করলে জীব ধিরে ধিরে শান্ত ও শিতল হয়ে যায়।
৪। গুরু-চরণ-=যার অর্থ নারীর বাম স্তন। আর গুরু চরণ ধুলি বাম স্তনের দুধ। একে অভয় চরণও বলা হয়। কারণ এই চরণের ধুলি গ্রচন করলে জীব অভয় প্রাপ্ত হয়।
৫। যুগল-চরণ-=যার অর্থ নারীর ডান ও বাম স্তন। আর যুগল চরণ ধুলি ডান ও বাম স্তনের সম্মিলিত দুধ। একে উভয় চরণ ও বলা হয়েছে। কেন না, যুগল মানে উভয় বা জোড়া।
সার কথা- লালন তার নিজস্ব গবেষনার ফসল হিসাবে কোন মতবাদই প্রচার করেন নি। মূলতঃ তিনি যাহা প্রচার করেছেন, তাহা হলো- বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গ্রন্থের নীতি। তবে লালন তার নিজস্ব কিছু ভ্রান্ত মতবাদ, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্ম গ্রন্থের নামে চালিয়ে দিয়েছেন।
শাই শব্দটি লালনের নিজের গড়া মতবাদ নয়-পর্ব ২
আজ আমি আপনাদের সম্মূখে লালনের এমন একটি গান উপস্থাপন করবো, যে গান দ্বারা আপনারা পরিস্কার বুঝতে সক্ষম হবেন যে- লালন তার গানে সিরাজ এর সাথে যে শাই শব্দটি যোগ করে, সিরাজ শাই করলেন, এই শাই শব্দটি লালন কোথা থেকে নিয়েছে ও শাই শব্দের অর্থ কি, এবং এই গানটিতে লালন কিভাবে হিন্দুয়ানী ও মুসলমানী গ্রন্থকে ব্যবহার করে, কেমন গুরুচণ্ডালি করেছে। আসুন- প্রথমে আমরা দেখে নিই এই গানটিতে লালন কি বলেছেন।শাই আমার কখন খেলে কোন খেলা।
জীবের কি আর সাধ্য বলো, গুণে পড়ে তাই বলা।।
এক
অবতার অবতারী, সে ও সম্ভবো তার ই।
দেখ দেখি মন নেহার করি, এক চাঁদে হয় উজালা।।
শাই আমার কখন খেলে কোন খেলা।।
দুই
কখনো ধরে আকার, কখনো হয় নিরাকার।
কেউ বলে আকার স্বাকার, অপার ভেবেই হই ভোলা।।
শাই আমার কখন খেলে কোন খেলা।।
তিন
ভাণ্ড ব্রহ্মাণ্ড মাঝে, শাই বিনে কি খেল আছে।
লালন বলে নাম ধরেছে, কৃষ্ণ, করিম, কালা।।
শাই আমার কখন খেলে কোন খেলা।।
এবার আসুন, আমরা এই গানটিকে একটু পর্য্যালোচনা করে দেখি যে, এই গানে লালন মূলতঃ কি বলতে চেয়েছেন, বা লালনের এই গানটিতে কি বার্তা বহন করছে।
এই গানটির মুখোবন্ধে বলা হয়েছে-
শাই আমার কখন খেলে কোন খেলা। জীবের কি আর সাধ্য বলো, গুণে পড়ে তাই বলা।।
এই গানটির প্রথম শব্দটি হলো শাই। লালন ঘরাণার লোকেরা বলে থাকেন এই শাই শব্দটি লালনের নিজের তৈরী। আর এই শাই শব্দটি লালনের নিজের তৈরী জ্ঞানেই লালন ঘরাণার একেক জন, একেক রকম ভাবে এই শাই শব্দটির ব্যখ্যা দিয়ে চলেছেন। তাই আসুন, এখন আমরা জেনে নিই এই শাই শব্দটি মূলতঃ কোন ভাষা থেকে লালন সংগ্রহ করেছেন, ও এই শাই শব্দের বাংলা অর্থ কি।
শাই শব্দটি মূলতঃ আরবী শব্দ। শীন ইয়া ইইয়া, এই তিনটি শব্দের সমন্নয়ে সৃষ্টি হয়েছে শাই শব্দটি। যার বাংলা অর্থ- জিনিস, দ্রব্য ও বস্তু। অর্থাৎ মহাবিশ্বের সকল জিনিষ, সকল দ্রব্য ও সকল বস্তুকেই শাই বলা হয়। আর সে সূত্র ধরেই বলা যেতে পারে, শুকর, কুকুর, পিপিলীকা, মানুষ, মশা, গু, গোবর সবই শাই এর আওতা ভূক্ত। অর্থাৎ শুধু সিরাজ বা লালন নয়,মহা বিশ্বের সকল কিছুই শাই। আর এই শাই শব্দটি লালনের নিজের তৈরীকৃত শব্দ নয়, এটা প্রচলিত কোরাণ থেকে নেওয়া আরবী শব্দ। অতএব যারা বলছেন শাই শব্দটি লালনের নিজের তৈরীকৃত শব্দ তারা ভুল অথবা মিথ্যা বলছেন।
মূলতঃ জীবের দেহ মধ্যে অবস্থিত বস্তু সমুহকেই লালন বলেছেন শাই আমার। অর্থাৎ আমার দেহ মধ্যে অবস্থিত বস্তু সমুহ কখন কোন খেলা খেলে, জীবের কোনই সাধ্য নাই যে, তাহা গুণে পড়ে বলে দেওয়া। কিন্তু লালন কি এই কথাটি সঠিক বলেছেন? না, লালন এই উক্তিটি সঠিক বলেন নাই, বলেছেন অজ্ঞতা বশতঃ।
জীব দেহে অবস্থিত বস্তু সমুহ কখন কোন খেলা খেলেন তার সবই গুণে পড়ে বলে দেওয়া সম্ভব। আর এখন কিছু কিছু বলে দেওয়াও হচ্ছে। যেমন- চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে দেয় যে- এত দিনের মধ্যে এই রোগী মারা যাবে, ঠিক ডাক্তারের সেই বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই সেই রোগী মারা যায়। আর পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ গত হয়েছেন, যারা মৃত্যুর পূর্বে বলে গেছেন, কোন দিন কোন সময় তিনি কোথায় মরবেন। তার অনেক নজির আছে। অর্থাৎ লালন তার অজ্ঞতা হেতুই এরুপ কথা বলেছেন।
এবার আসুন- এই গানের প্রথম কলিতে কি বলা হয়েছে, তা দেখে নিই। এই গানের প্রথম কলিতে বলা হয়েছে-
অবতার অবতারী, সে ও সম্ভবো তার ই। দেখ দেখি মন নেহার করি, এক চাঁদে হয় উজালা।।
অযোণী সম্ভবা সকল সৃষ্টিকেই অবতার ও যোণী সম্ভবা সকল সৃষ্টিকেই অবতারী বলা হয়। এই অবতার ও অবতারী হলো হিন্দুদের ধর্ম গ্রন্থে ব্যবহৃত সংস্কৃত শব্দ। লালন এই গানের প্রথম শব্দ ব্যবহার করেছেন মুসলমানের ধর্ম গ্রন্থ কোরাণ থেকে নেওয়া আরবী শব্দ, আবার কলিতে এসে ব্যবহার করেছেন হিন্দুদের ধর্ম গ্রন্থ বেদ এর বৈদীক শব্দ । এটা রীতিমত গুরুচণ্ডালি। কারণ লালন যখন মুসলমানের ধর্ম গ্রন্থে ব্যবহৃত আরবী শব্দ দিয়ে গানটি শুরু করেছেন, সেখানে হিন্দুয়ানী শব্দ না ঢুঁকানোই উচিৎ ছিল।
এবার আসুন- লালন এই কলিতে ভুল কি লিখেছেন তাহা দেখার চেষ্টা করি। এই কলিতে লালন বলেছেন, অবতার অবতরী সব কিছু করাই তার দ্বারা সম্ভব। তোমরা নেহার বা লক্ষ করে দেখো এক চাঁদেই সব উজালা হয়, বা উদ্ধার হয় বা সৃষ্টি হয়। তার মানে লালন বলেছেন এক চাদেঁই সকল কিছু সৃষ্টি হয়েছে, ও এক চাঁদেই সকল কিছু উদ্ধারীত হবে।
কিন্তু মূলতঃ তা নয়। লালন এখানে ভুল তথ্য দিয়েছেন। অবতার ও অবতারী সৃষ্টি একই চাঁদে হয় না, হতে পারে না। মূলতঃ সাড়ে চব্বিশ চন্দ্রের সাহায্যেই অবতার ও অবতারী সৃষ্টি হয়, এক চাঁদে নয়। আর উদ্ধারের ব্যাপারেও এক চাঁদে নয়, সাড়ে চব্বিশ চন্দ্রের মাধ্যমেই উদ্ধার হওয়া সম্ভব, নচেৎ নয়।
এর পরের কলিতে লালন যাহা বলেছেন তাহা হলো-
কখনো ধরে আকার, কখনো হয় নিরাকার। কেউ বলে আকার স্বাকার, অপার ভেবেই হই ভোলা।।
এখানে তিনি যাহা বলেছেন তাহা সাধারণ কথা এখানের কথায় আমি কিছু বলতে চাই না। কেন না, শাই বা বস্তু সমুহের আকার, নিরাকার ও নিজ আকার সবই হওয়া সম্ভব। আর লালন এখানে তাই বলেছেন।
এবার আসুন এই গানের শেষ কলিতে লালন কি বলেছে তা দেখে নিই। এই গানের শেষ কলিতে বলেছে-
ভাণ্ড ব্রহ্মাণ্ড মাঝে, শাই বিনে কি খেল আছে। লালন বলে নাম ধরেছে, কৃষ্ণ, করিম, কালা।।
শেষ কলিতে লালন বলেছেন, দেহ ভাণ্ড ও বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সকল খেল বা ক্রীয়া ই এই শাই এর দ্বারাই সংঘটিত হয়। এই শাই বীনে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে কোন খেলই সম্ভব নয়। আর লালন বলেছেন এই শাই ই নাম ধরেছে কৃষ্ণ, করিম ও কালা।
কৃষ্ণ শব্দের অর্থ কালো, আর যিনি কালো কে ধারণ করেন তিনিই কালা। আর করিম অর্থ সম্মানী। তো- গানের এই কলিতে যখন তিনি কৃষ্ণ ও কালা শব্দ ব্যবহার করেছেন, সেখানে তিনি করিম শব্দ না ব্যবহার করে সম্মনীর হিন্দুয়ানী শব্দ ভগবান বা ইশ্বর ব্যবহার করতে পারতেন, অথবা করিম শব্দ যখন ব্যবহার করেছেন, সেখানে কৃষ্ণ ও কালা শব্দ ব্যবহার না করে, সেখানে করিমের বিপরীত একটি আরবি শব্দ ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে, হিন্দুয়ানী ও মুসলমানী শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে গুরুচণ্ডালি করেছেন।
লালনের গানে শাই পরিচয় ও গুরুচান্ডালী দোষ -৩ পর্ব
আমি পর্ব আট এ উপস্থাপন করেছিলাম যে, শাই শব্দটি মূলতঃ লালনের নিজের তৈরী কোন শব্দ নয়, এই শাই শব্দটি আরবী শব্দ, এবং এই শাই শব্দের বাংলা অর্থ- জিনিস, বস্তু ও দ্রব্য। অর্থাৎ স্রষ্টা হতে শুরু করে সৃষ্টির সকল কিছুই শাই এর অন্তর্ভূক্ত। আর সেই সাথে বলেছিলাম লালন তার গানে সাম্প্রদায়ীক ধর্ম গন্থেরে গুরুচণ্ডালি করেছেন। এবার আসুন লালন তার লেখা গানে শাই এর কি পরিচয় ব্যক্ত করেছেন, ও কি গুরুচণ্ডালি করেছেন তা দেখে নিই, লালনের এই গানটিতে-শাইর লীলা বুঝবি খ্যাপা কেমন করে।
লীলার যাহার নাই রে সীমা, কোন সময় কোন রুপ সে ধরে।।
এক
গঙ্গায় গেলে গঙ্গা জল হয়, গর্তে গেলে কূপ জলো হয়।
বেদ বিচারে।
তেমনি শাই এর অনন্ত রুপ, জানায় পাত্র অনুসারে।।
শাইর লীলা বুঝবি খ্যাপা কেমন করে।।
দুই
আপনি ঘর আর আপনি ঘোরী, আপনি করেন রসের চুরি।
ঘরে ঘরে।
আপনি করেন ম্যাজেস্ট্রারী, আপন হাতেই বেড়ি পরে।।
শাইর লীলা বুঝবি খ্যাপা কেমন করে।।
তিন
একটি নাম অনন্ত ধারা, তুমি আমি নাম বেওয়ারা।
ভবের পরে।
সিরাজ শাই কয় অবোধ লালন, জানলেই ধাঁধাঁ যেতো দুরে।।
শাইর লীলা বুঝবি খ্যাপা কেমন করে।।
এবার আসুন, এই গানটির একটু পর্য্যালোচনা করে দেখি যে, এই গানে লালন তার ঘরাণার লোকদের জন্য কি বার্তা রেখে গেছেন। আসুন দেখে নিই এই গানের মূখো বন্ধে লালন কি বলেছেন।
শাইর লীলা বুঝবি খ্যাপা কেমন করে। লীলার যাহার নাই রে সীমা, কোন সময় কোন রুপ সে ধরে।।
ব্যখ্যা- গানের এই মূখোবন্ধে লালন বলেছেন, শাই এর লীলা বা ক্রীয়া কেমন করে বুঝবি খ্যাপা বা পাগলের দল। অর্থাৎ বলেছে, ওরে পাগল, তোরা শাইর লীলা বা ক্রীয়া কিভাবে বুঝবি। যার লীলা বা ক্রীয়ার কোন সীমা নাই, সে কোন সময় কোন রুপ বা আকৃতী ধারণ করে, তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই।
এবার আসুন দেখে নিই, এই গানের প্রথম কলিতে লালন বি বলেছেন।
গঙ্গায় গেলে গঙ্গা জল হয়, গর্তে গেলে কূপ জলো হয়। বেদ বিচারে। তেমনি শাই এর অনন্ত রুপ, জানায় পাত্র অনুসারে।।
ব্যখ্যা- এই কলিতে লালন বলেছেন যে- জল গঙ্গা বা নদীতে গেলে তাকে গঙ্গা বা নদীর জল বলা হয়, আবার কূপ বা কূয়ায় গেলে সেই জলকেই কূপজল বলে, আর এটা বলে বেদের বিচারে।
একটু খেয়াল করুন। আরবী শাই শব্দকে পরিচয় করাতে এসে এখানে লালন কোরাণের বিচারে না বলে বলে দিলেন বেদ বিচারে। তার মানে এখানেও সে গুরুচণ্ডালির আশ্রয় নিয়েছেন। কারণ বেদের কোথাও শাই শব্দ ব্যবহার হয় নি। আমি বলবো, এটা লালনের অজ্ঞতা বৈ কিছু নয়।
এর পরে এই কলিতে লালন বলেছেন, তেমনি শাই এর অনন্ত রুপ জানায় পাত্র অনুসারে। তার মানে, শাই যে পাত্রে অবস্থান করেন, শাই সেই পাত্রের আকার ধারণ করেন ও সে পাত্রের নামের সাথে তার নাম যোগ করেই শাই এর নাম করণ করা হয়।
প্রকাশ থাকে যে, সকল সৃষ্টি ও স্রষ্টাই যখন শাই হয়, তখন জলও শাই, আবার যে পাত্র সমুহে জল রাখা হয়, বা জল যে পাত্র সমুহে অবস্থান করে, সে পাত্র সমুহও শাই এর অন্তর্ভূক্ত। অর্থাৎ স্রষ্টামৌলিক স্বত্বাটিই শাই, এবং সৃষ্টিতে স্রষ্টার অবস্থান পাত্রভেদে যত কিছু বস্তুই সৃষ্টি হয়েছে, তার সবই শাই। আর সৃষ্টি সূত্রে তাদের যে ভীন্ন ভীন্ন নাম করণ করা হয়েছে, তার প্রতিটা নামই স্রষ্টা ও পাত্র বা শাই ও শাই এর নামানুসারে নাম করণ করা হয়েছে।
এবার আসুন এই গানের দ্বিতীয় কলিতে লালন কি বলেছেন, তা দেখে নিই।
আপনি ঘর আর আপনি ঘোরী, আপনি করেন রসের চুরি। ঘরে ঘরে। আপনি করেন ম্যাজেস্ট্রারী, আপন হাতেই বেড়ি পরে।।
ব্যখ্যা- এই কলিতে বলা হয়েছে, শাই নিজেই ঘর, নিজেই ঘরের বাসকারী, আবার সে নিজেই সে ঘর সমুহের রস চুরি করেন, আবার নিজেই বিচারক হয়ে বিচার করেন, আবার নিজেই বিচারের প্রাপ্ত সাজা খাটেন। অর্থাৎ এর সব গুলিই শাই। এখানে শাই ভীন্ন অন্য কিছুই নাই।
এবার আসুন এই গানের শেষ কলিটা দেখে নিই।
একটি নাম অনন্ত ধারা, তুমি আমি নাম বেওয়ারা। ভবের পরে। সিরাজ শাই কয় অবোধ লালন, জানলেই ধাঁধাঁ যেতো দুরে।।
ব্যখ্যা- এই গানের শেষ কলিতে লালন বলেছেন, এই শাই এর একটি নাম হলেও, এর ধারা অনন্ত। যে ধারার কোনই সীমা পরিসীমা নাই। আর সে অনন্ত ধারার নিয়ম অনুসারে এই ভবে বা সৃষ্টিতে, তুমি আমির ভীন্নতা। আর সিরাজ শাই বলেছেন লালন, এই শাই বা বস্তু ও বস্তুর ভীন্ন ভীন্ন নাম করণ বিষয় জ্ঞান প্রাপ্ত হলেই, জীবের সকল ধাঁধাঁ কেটে যাবে।
সেজদা বিষয়ে লালনের ভ্রান্ত মতবাদ-পর্ব ৪
আজ আমি আপনাদের সম্মূখে লালনের যে গানটি উপস্থাপন করবো, সে গানটি হলো- লালনের লেখা নামাজ বিষয়ক একটি গান। যে গানে লালন তার নিজস্ব গড়া ভ্রান্ত মতবাদ কোরাণের নামে চালানোর চেষ্টা করেছেন। আসুন, দেখে নিই লালন তার এই গানটিতে মূলতঃ কি বলতে চেয়েছেন।আপন সূরাতে আদম গঠলেন দয়াময়।
নইলে কি আর ফেরেস্তারে সেজদা দিতে কয়।।
এক
আল্লাহ আদম না হইলে, পাপ হইতো সেজদা দিলে।
শেরেকি পাপ যারে বলে, এই দুনিয়ায়।।
আপন সূরাতে আদম গঠলেন দয়াময়।।
দুই
দুষে সে আদম সফি, আজাজিল হইলো পাপী।
মন তোমার লাফালাফি, তেমনি দেখায়।।
আপন সূরাতে আদম গঠলেন দয়াময়।।
তিন
আদমী সে চিনে আদম, পশু কি তার পায় মরম।
লালন কয় আদ্য ধরম, আদম চিনলেই হয়।।
আপন সূরাতে আদম গঠলেন দয়াময়।।
এবার আসুন, লালনের এই গানটি একটু পর্যালোচনা করে দেখি যে, মূলতঃ এই গানটিতে লালন কি বলতে চেষ্টা করেছেন, বা লালন তার ঘরাণার লোকদেরকে এই গানটির মাধ্যমে কি বার্তা রেখে গেছেন। আসুন দেখে নিই এই গানটির মুখবন্ধে লালন কি বলেছেন-
আপন সূরাতে আদম গঠলেন দয়াময়। নইলে কি আর ফেরেস্তারে সেজদা দিতে কয়।।
ব্যাখ্যা- গানের এই অংশে লালন বলেছেন, আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর নিজ চেহারায়, বা আল্লাহর চেহারায়, আর সে জন্যই আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে বলেছিলেন আদমকে সেজদা করতে।
এবার আসুন গানটির প্রথম কলিতে লালন কি বলেছে, তা দেখে নিই-
আল্লাহ আদম না হইলে, পাপ হইতো সেজদা দিলে। শেরেকি পাপ যারে বলে, এই দুনিয়ায়।।
ব্যাখ্যা- গানটির এই কলিতে লালন বলেছেন যে, আদম নিজেই আল্লাহ। আর আদম যদি আল্লাহ না হইতো, তাহলে, ফেরেস্তা কর্তৃক আদমকে সেজদা করা পাপ হইতো, যে টা শেরেকী পাপ। আদম নিজেই আল্লাহ, তাই ফেরেস্তা কর্তৃক আদমকে সেজদা করা মানেই, ফেরেস্তাদের আল্লাহকে সেজদা করা হযে যাবে। আর আল্লাহকে সেজদা করা কোন শেরেকী নয়।
মূলতঃ লালন এখানে অনেক বড় ভুল মতবাদ বা ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছেন। আর সেটা হলো- আদমকে আল্লাহ নির্ধারণ করা। কারণ, আদম আল্লাহ হতে সৃষ্ট, কোন অবস্থাতেই আদম আল্লাহ নয়। আর কোরাণের কোন স্থানেই মহাম্মদ আদমকে আল্লাহ বলেন নাই। আর, সেই কোরাণে উল্লিখিত আল্লাহ ও আদমকে, লালন তার নিজের গড়া ভ্রান্ত মতবাদের উপর নির্ভর করে বলেছেন যে, আদম নিজেই আল্লাহ, বা আল্লাহ ও আদমে কোনই পার্থক্য নাই। এটা লালন অনেক বড় অন্যায় করেছেন।
এবার আসুন এই গানের দ্বিতীয় কলিতে কি বলা হয়েছে, তা দেখে নিই।
দুষে সে আদম সফি, আজাজিল হইলো পাপী। মন তোমার লাফালাফি, তেমনি দেখায়।।
ব্যখ্যা- এখানে লালন বলেছেন, আজাজিল যেমন আদমকে সেজদা না করে, আল্লাহর কাছে পাপী বা অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছে, হে মানুষ তোমারও সে রকমই লাফালাফি, বা সে রকমই অবস্থা মনে হচ্ছে। তার মানে লালন বলতে চেয়েছেন, ফেরেস্তারা যেমন আদমকে সেজদা না করায়, পাপী হয়েছে, হে মানুষ সকল, তোমরাও মানুষ রুপী গুরুকে সেজদা না করলে, আজাজিলের মত পাপী হয়ে যাবে। অর্থাৎ, লালন মানুষ হয়ে মানুষকে সেজদা করতে বলেছেন। তার মানে, লালন শীষ্যদেরকে তার গুরুকে সেজদা করতে বলেছেন। আর এটা হলো লালনের নিজস্ব গড়া ভ্রান্ত মতবাদ, যা সে কোরাণের নামে চালানোর চেষ্টা করেছেন।
আমরা কোরাণ পড়লে দেখতে পায় যে, আল্লাহ ফেরেস্তাদের কে বলেছেন আদমকে সেজদা করতে। কিন্তু কোরাণের কোথাও বলে নাই যে, এক মানুষ হয়ে অন্য মানুষকে সেজদা করতে হবে। তবে প্রতিটি মানুষের মধ্যে অবস্থিত আদম নামক স্বত্বাটিকে ফেরেস্তা দ্বারা সেজদা করিয়ে নিতে হবে, বা স্রষ্টা ফেরেস্তাদেরকে আদমকে সেজদা করতে বলেছেন। তাই প্রতিটি মানুষেরই উচিৎ হবে যে, তার দেহ মধ্যে যে আদম অবস্থান করছে, সেই আদমকে, তার দেহ মধ্যে অবস্থিত ফেরেস্তা দ্বারা সেজদা করিয়ে নিতে। কিন্তু এক মানুষ হয়ে আরেক মানুষকে সেজদা করার কোন নির্দেশ নাই।
আর লালনের এই কথা যদি সত্যি হয় যে-আদমই আল্লাহ। তাহলে সৃষ্টির সকল মানুষই তো আল্লাহ হওয়ার কথা। তাহলে, এক আদম, বা আল্লা হয়ে, আরেক আদম বা আল্লাহকে সেজদা করতে পারে না। আর কোরাণে তো সে রকম কোন নির্দেশও দেওয়া হয় নাই। তাহলে লালন এই রকম গাঁজাখূরী তত্ব কোথায় পাইলেন? মূলতঃ লালন এই রকম কিছু তার নিজস্ব গড়া ভ্রান্ত মতবাদ কোরাণের নামে চালিয়ে দিয়েছেন। যা সাধারণ অনেক মুসলমানকেই বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করছে। যেটা অনেক বড় অন্যায়।
নিচের কলিটি নিয়ে কোন বিষয় আলোচনা করতে চাই না।
আদমী সে চিনে আদম, পশু কি তার পায় মরম। লালন কয় আদ্য ধরম, আদম চিনলেই হয়।।
তাহলে বুঝা গেল যে, লালন তার নিজস্ব গড়া ভ্রান্ত মতবাদ নিজের নামে না চালিয়ে, কোরাণের নামে চালাতে চেষ্টা করেছেন। লালন এটা অনেক বড় নিচু মানসিকতার কাজ করেছেন। আর লালন মূলতঃ এই রকম একজন নিচু মানসিকতার লোকই ছিলেন। শুধু লালন নয়, বাউল শিল্পী বলতেই এক নিচু মানসিকতার জীব। আর লালনও একজন সাধারণ বাউল শিল্পীই ছিলেন। আর সৃষ্ট জীবের মধ্যে সব থেকে নিকৃষ্ট কোন জীব থেকে থাকলে, সেটা হবে এই বাউল শিল্পী নামক প্রজাতির জীবটি। কারণ, এদের থেকে নিচু মনের, নিচু মানসিকতার ও নিচু চিন্তা চেতনার জীব, সৃষ্টিতে আর নাই। তাই সকলেরই উচিৎ, এই সকল পেশা জীবি বাউল শিল্পীদেরকে ঘৃণা করা।
লালন ফকির গাজা সেবনকারী ও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের টোকাই ছিলেন-পর্ব ৫
লালন ঘরাণার লোকেদের বিশ্বাস, লালন- বেদ, বাইবেল, ত্রি-পীটক বা পূর্ব থেকে চলে আসা সম্প্রদায় সমুহের ধর্ম গন্থের আইনের বাইরে, নতুন ধর্মীয় নীতিমালা দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তাদের ধারণাটি সঠিক নয়। সঠিক বিষয় হলো- লালন মূলতঃ সকল ধর্ম গ্রন্থে কি বলেছে, সে বিষয়গুলিকে সে সকল ধর্মীয় গ্রন্থের ভাষা বাদ দিয়ে, নিজের তৈরী কিছু সাংকেতিক শব্দের সমন্বয়ে সৃষ্ট ভাষাতে প্রচার করেছেন।তার মানে- লালন যাহা বলেছেন, তার সকল কথাই আমরা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মগ্রন্থ খুঁজলেই পাবো। লালন তার নামের শেষে যে ফকির শব্দটি যোগ করেছেন, এটা কিন্তু লালনের সৃষ্ট কোন শব্দ নয়। এই ফকির শব্দটি হলো আরবী শব্দ, প্রচলিত কোরাণে ব্যবহৃত শব্দ। প্রচলিত কোরাণের মধ্যে লিখিত ছিল যে- আল ফকরু ফাকরে ওয়াল ফাকরু মিন্নি।। মূলতঃ এটা প্রচলিত কোরাণের একটি আয়াত। যাহা মহাম্মদ রচনা করে গেছেন সেই ১৪০০ বছর আগেই। কিন্তু বর্তমানে যাহারা কোরাণের আয়াত কমিয়ে চলেছেন, তারা কোরাণ থেকে এই আয়াতটিও বাদ দিয়েছেন। এই আয়াতটির বাংলা অর্থ- আমা হতেই ফকির, আর সকল কিছুই ফকিরের ফকির। আর মহাম্মদের এই সূত্র ধরেই লালন বলেছেন আমি ফকির। অর্থাৎ লালন ফকির। তবে মহাম্মদ হতেই ফকির, কিন্তু লালন হতেই ফকির নয়। লালন মহাম্মদ হতে ফকিরের অংশ মাত্র।
লালন সকল সম্প্রদায় ও সকল ধর্মের আইনের বা নীতির টোকাই ছিলেন মাত্র। মানে- লালন সকল সম্প্রদায় ও সকল মূল ধর্ম প্রবর্তকদের গবেষণা টুকিয়ে বা কুড়িয়ে উপস্থাপন করেছেন মাত্র। তার সকল কথা ই এ ধর্ম ও ধর্ম বা এ সম্প্রদায় ও সম্প্রাদায় হতে হাওলাত করা বা ঋণ করা। তার একটি কথাও নিজের গবেষণা লদ্ধ বিষয় নয়। লালন যে সকল সাম্যের বাণী প্রচার করেছে, তা তার নিজের বাণী নয়, এটা কোরাণের বাণী, মহাম্মদের গবেষণার ফসল।
মহাম্মদ যখন মক্কা থেকে মদীনায হিজরত করেন, সে সময তার সাথে যে সকল মুহাজের ছিল, মহাম্মদের আইন বাস্তবায়ন হেতু মদীনার আনসারেরা তাদের সম্পদ মুহাজেরদের মাঝে সমান ভাবে ভাগ করে দেয়। তার মানে আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বেই মহাম্মদ সকলের সম অধিকার প্রতিষ্ঠার সূচনা করেছিলেন। আর সে কথাটিই লালন ২০০ বছর পূর্বে এসে পূণঃ উপস্থাপন করেছেন মাত্র।
লালন ছিলেন তোতা পাখির মত। মানে তোতা পাখিকে আপনি যাহা শিখাবেন তাহাই বলবে। যেমন- আসসালাসু আলাইকুম, আম্মু কুটুম এসেছে, সবাই বসেন, ইত্যাদি ইত্যাদি, সকল কথাই তোতা বলতে পারে। কিন্তু যখন বিড়াল তাকে আক্রমণ করে, তখন আর তার এই শেখানো বুলি মনে থাকে না। তখন সে শুরু করে দেয় তার মাতৃ বুলি কিচির মিচির। তাই লালন যতই ধর্ম গ্রন্থ থেকে শেখা বুলি প্রচার করুক না কেন, সে তার নিজ বুলি বা কর্ম গাঁজা খাওয়া ছাড়তে পারে নাই।অথচ লালন কোথাও বলে যায় নি যে- তোমরা গাঁজা খাও।
তার অর্থ দাঁড়ালো লালন যাহা করেছে, মানে গাঁজা খেয়েছে, সেটা কাউকেই করতে বা খাইতে বলেন নাই। আবার তোতা পাখির মত বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থের যে সকল কথা তিনি বলেছেন, তার একটি ও তিনি পালন করেন নাই। তার মানে লালন যাহা বলেছেন তাহা করেন নাই, এবং যাহা করেছেন তাহা বলেন নাই।
প্রচলিত কোরাণসহ সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গ্রন্থে যে সকল নীতিমালা উপস্থাপিত হয়েছে, একমাত্র সে নীতিমালা বাস্তবায়নই পারে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু যারা সাম্যে বিশ্বাসী নয়, যারা সব সময় সকলের থেকে বেশি ভোগ করতে চাই। একমাত্র তারাই ধর্মীয় গ্রন্থের আইন যেন বাস্তবায়ন না হয, সে উদ্দেশ্যেই ধর্মগ্রন্থের আইন বাদ দিয়ে, লালনের লেখা নিয়ে তোলপাড় করে চলেছে, এবং সে লেখা সমুহকে উত্তম বলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভুলেও তারা বলছেন না যে- লালনের আস্তানায় ও লালন পন্থিরা আনাচে কানাচে যে গাঁজা সেবন করে, এটা ঠিক নয়। এটা বন্ধ করা হউক।
না! তারা তা বলবে না। কারণ তারা নিশ্চিৎ ভাবেই জানে যে- লালনের এত ভক্ত হওয়ার মূল কারণই হলো এই গাঁজা, কোন ধর্মীয় আইন নয়। তাই গাঁজা সেবন নিষিদ্ধের কথা বললেই লালনের ভক্ত সমুহ ছুটে যাবে। তাই অসাম্যে বিশ্বাসীরা লালনের মত নষ্টাদের কথা প্রচার প্রচারণা চালাবে, কিন্তু গাঁজা সেবন বন্ধের কথা বলবে না। আর তারা কোন অবস্থাতেই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মূল নিয়ামক ধর্ম গ্রন্থের আইন প্রচার বা বাস্তবায়ন করবে না
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন