শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪

জ্ঞানেন্দ্রিয় (জ্ঞান- ২য় পর্ব)

৩০/০. জ্ঞানেন্দ্রিয়
Sense organ (সেন্স ওর্গান)/ ‘حاسة’ (হাসসাত) ‘خناس’ (খুন্নাস)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘জ্ঞান’ মূলকের অন্যতম একটি ‘সহযোগীমূলক’ সদস্য। এর প্রকৃতমূলক ‘জ্ঞান’, রূপক পরিভাষা ‘গুরু’, উপমান পরিভাষা ‘আলো’, চারিত্রিক পরিভাষা ‘সম্বিত’ এবং ছদ্মনাম পরিভাষা ‘মানুষগুরু’। এটি ‘জ্ঞান’ পরিবারের অধীনস্থ একটি সহযোগী মূলক
জ্ঞান (রূপ)বি বুদ্ধি, চেতনা, পাণ্ডিত্য, বিদ্যা, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, অনুভবশক্তি, বিদ্যাবত্তা, পরমতত্ত্ব, বুঝা বা বিচার করার ক্ষমতা (আবি) বিচারক, পণ্ডিত, গুরু, উপদেষ্টা, দীক্ষক, দেশিক, মতবাদজীবনের উপদেষ্টা (ছনা) মানুষগুরু (চাপ) সম্বিত (উপ) আলো (রূ) গুরু (দেত) জ্ঞান।
জ্ঞানেন্দ্রিয় (রূপ)বি মানবদেহের অনুভূতিসম্পন্ন ইন্দ্রিয়, পঞ্চপিতা, Sense organ,, ‘حاسة’ (হাসসাত), sensors, ‘مجسات’ (মুজাসাত) ‘خناس’ (খুন্নাস) (আবি) পাণ্ডব, শিক্ষক (আপ) খান্নাস (আ.ﺨﻨﺎﺲ) (ইপ) minster (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘জ্ঞান’ পরিবারের ‘সহযোগীমূলক’ সদস্য ও রূপক সাহিত্যের একটি প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) মানবদেহের জ্ঞানদাতা শক্তিকে জ্ঞানেন্দ্রিয় বলা হয় (ছনা) মানুষগুরু দিশারী (চাপ) বিজ্ঞানী (উপ) আলো (রূ) গুরু (দেত) জ্ঞান।
‘الْخَنَّاس’ [আলখান্নাস] বি কুমন্ত্রণাকারী, যে মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়, Whisperer {}
জ্ঞানেন্দ্রিয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Sense organ)
“الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ” “مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ” (মিন শাররি আলওয়াছওয়াছ আলখান্নাস) (আল্লাযি ইউওয়াসয়িসু ফি সুদুরি আন্নাস)(Min sharri alwaswasi alkhannas) (Allajee youwasisu fee sudoori annas). “সংবেদকদের কর্তব্যাকর্তব্য ক্ষতি হতে মুক্তি চাই।” “যারা মানুষের মনকে পরামর্শ প্রদান করে সদাই।” “From the scrupulosity evil of this sensors” “The psyche of mankind who whispers” (কুরান- সুরা নাছ-৪-৫)
জ্ঞানেন্দ্রিয়ের সংজ্ঞা (Definition of Sense organ)
জীবদেহের বোধসম্পন্ন সূক্ষ্ম ইন্দ্রিয়াদিকে জ্ঞানেন্দ্রিয় বলে। যেমন- চক্ষু ও কর্ণ।
জ্ঞানেন্দ্রিয়ের উপকার (Benefits of Sense organ)
জ্ঞানেন্দ্রিয়ের সাহায্যে জীবকুল জীবনযাপনের জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়।
জ্ঞানেন্দ্রিয়ের পরিচয় (Identity of Sense organ)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির একটি ‘সহযোগীমূলক’ সদস্য বিশেষ। কোন কিছুর জ্ঞানদানকারী ইন্দ্রিয়াদিকে জ্ঞানেন্দ্রিয় বলা হয়। জীবদেহের- ১.চক্ষু ২.কর্ণ ৩.নাসিকা ৪.জিহবা ও ৫.ত্বক- এ পঞ্চশক্তিকে রূপক সাহিত্যে একত্রে জ্ঞানেন্দ্রিয় বলা হয়। জ্ঞানেন্দ্রিই সারাবিশ্বের একমাত্র ঐশিশিক্ষক। জীবদেহের সূক্ষ্মশক্তিগুলোর সমষ্টিকেই পঞ্চজ্ঞানেন্দ্রিয় বলা হয়। এসব ইন্দ্রিয়ের কার্যক্রম ও শক্তি এতো ব্যাপক যে একেকটি জ্ঞানেন্দ্রিয়ের ওপর কয়েকটি গ্রন্থ লেখলেও শেষ হবে না। স্বর্গধামের যত প্রকার প্রতীতি মর্ত্যধামে কর্তব্যরত রয়েছেন তাদের মধ্যে এ পাঁচজনই অন্যতম। রূপক সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ এ পঞ্চ প্রতীতিকে শ্রেষ্ঠ পাঁচজনও বলা হয়। মানুষের পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় পঞ্চ-প্রকার জ্ঞান প্রদান করে থাকে। যেমন- চক্ষু দর্শন-জ্ঞান, কর্ণ শ্রবণ-জ্ঞান, নাসিকা ঘ্রাণ-জ্ঞান, জিহ্বা স্বাদ-জ্ঞান ও ত্বক মানুষকে শীত-গ্রীষ্ম জ্ঞান প্রদান করে থাকে। এছাড়া মানুষের চক্ষু ও নাসিকা আরো দু’টি অতিন্দ্রীয় আধ্যাত্মিক-জ্ঞান প্রদান করে থাকে। যেমন- চক্ষু দূরদর্শন ও অতীত-ভবিষ্যতের জ্ঞান প্রদান করে থাকে। নাসিকা মানুষকে শুভাশুভ বা কার্যাদির আগাম ভালোমন্দ জ্ঞান প্রদান করে থাকে।
মানষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এসব ইন্দ্রিয়ের কার্য ক্ষমতাও ক্রমে ক্রমে হ্রাস পায়। এ জন্য রূপক সাহিত্যে একে ক্রমে ক্রমে দূরে গমনকারী বলা হয়। আলোচ্য মূলকের রূপক ও ব্যাপক পরিভাষাদি নিচে আলোচনা করা হলো।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসূত্রঃ
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৫ম খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন