গুরু Preceptor (প্রিসিপ্টর)/ ‘معلم’ (মুয়াল্লিম)
————————————————————————
এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘জ্ঞান’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘রূপক পরিভাষা’। এর প্রকৃত-মূলক ‘জ্ঞান’, সহযোগী-মূলক ‘জ্ঞানেন্দ্রিয়’, উপমান পরিভাষা ‘আলো’, চারিত্রিক পরিভাষা ‘সম্বিত’ ও ছদ্মনাম পরিভাষা ‘মানুষগুরু’।
গুরু (রূপ)বি উপদেষ্টা, উপদেশক, শিক্ষক, দীক্ষক, দেশিক, দিশারী, শাস্ত্রীয় জীবনের উপদেষ্টা, সাধনপন্থা নির্দেশক, সম্মানে বা বয়সে জ্যেষ্ঠ, মাননীয় ব্যক্তি, Preceptor, ‘معلم’ (মুয়াল্লিম) বিণ ভারী, গুণসম্পন্ন, দুর্বহ, দায়িত্বপূর্ণ, কঠিন, মহান, দুরূহ, শ্রদ্ধেয়, মাননীয়, অতিশয়, অধিক (ব্যা) দীর্ঘ মাত্রাযুক্ত (আবি) জ্ঞান, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, knowledge, আক্বল (আ.ﻋﻘﻝ), ইলিম (আ.ﻋﻟﻢ) (আভা) বিচারক (আদৈ) মুর্শিদ (আ.ﻤﺭﺷﺪ), পির (ফা.ﭙﻴﺭ) (ইদৈ) master, teacher (দেপ্র) এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘জ্ঞান’ পরিবারের ‘রূপক পরিভাষা’ ও রূপক-সাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.যে মহান মনীষী মানুষকে নৈতিক শিক্ষাদীক্ষা প্রদান করেন তাকে গুরু বলা হয় ২.চিত্তপটে সঞ্চিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তথ্যাদিকে জ্ঞান বা রূপকার্থে গুরু বলা হয় (ছনা) মানুষগুরু (চাপ) সম্বিত (উপ) আলো (রূ) গুরু (দেত) জ্ঞান।
গুরুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Preceptor)
১. “আপনদেশের মধুরবাণী, গুরু আমায় শোনাও না, দেশবাসী কয় উল্টাকথা, সোজা করে শোনায় না” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫)।
২. “গুরু উপায় বলো না, জনমদুঃখী কপালপোড়া, গুরু আমি একজনা” (পবিত্র লালন- ৩৮৯/১)।
৩. “ভবে লাফালাফি কর না, ওরে আমার পাগল মনা, ভাঙ্গবে এই রঙ্গ খানারে, গুরু বিনে কেউ রবে না” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৩)।
গুরুর কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of Preceptor)
১. “গুরু উপায় কী আমার, কেমনে হব ত্রিবেণী পার” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯১)।
২. “গুরুকৃপা যার হলো, ফুলের মূল সে চিনল, লালন মহাফেরে পড়ল, ভবের ভক্তিঘটে” (পবিত্র লালন-৩৪৮/৪)।
৩. “ত্রিতাপ জ্বালায় পরাণ পুড়ে গুরু উপায় বলো না, প্রেমজ্বালায় অঙ্গ জ্বলে মদনজ্বালা সহে না” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৩)।
৪. “সুখের নীড় স্বর্গপুরী, মাসান্তে আসে হুরী, গুরু দিলে মিলে সবারি, গুরু বিনে মিলে না ছাই” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৮)।
গুরুর সংজ্ঞা (Definition of Preceptor)
যে মহান মনীষী মানুষকে নৈতিক শিক্ষাদীক্ষা প্রদান করেন তাঁকে গুরু বলে।
গুরুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Preceptor)
চিত্তপটে সঞ্চিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তথ্যাদিকে জ্ঞান বা গুরু বলে।
গুরুর প্রকারভেদ (Classification of Preceptor)
গুরু চার প্রকার। যথা- ১.মানুষগুরু ২.জগৎগুরু ৩.কামগুরু ও ৪.পরমগুরু।
১. মানুষগুরু/ Inductor (ইন্ডাক্টর)/ ‘مغو’ (মোগু)
মানুষগুরুর সংজ্ঞা (Definition of Inductor)
মানুষ আকারধারী যে মহান মনীষী সাধারণ মানুষকে জ্ঞান শিক্ষা প্রদান করেন তাকে মানুষগুরু বলে। যেমন বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
মানুষগুরুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Inductor)
রূপক-সাহিত্যে গুরুপদ প্রাপ্ত ব্যক্তির জ্ঞানকে গুরু বলে। যেমন সম্বিত।
মানুষগুরুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Inductor)
১. “গুরু চেনা সহজ নয়রে গুরু চেনা সহজ নয়, জগৎগুরু চিনতে গেলে মানুষগুরু ভজতে হয়” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)।
২. “হক্বের ওপর থাকবে যখন, লাহুত মুক্বাম চিনবে তখন, এ সত্য জেনে ও মন, মানুষগুরু ধরলে না” (পবিত্র লালন- ৭৪২/৩)।
৩. “গুরু যার থাকে সদয়, শমন বলে কিসের ভয়, লালন বলে মন তুই আমায়, করলি দুষি” (পবিত্র লালন- ১৪৩/৪)।
মানুষগুরুর প্রকারভেদ (Classification of Inductor)
মানুষগুরু দুই প্রকার। যথা- ১.আধ্যাত্মিক গুরু ও ২.জাগতিক গুরু।
১. আধ্যাত্মিক গুরু (Spiritual preceptor)
আত্মদর্শন বা পরাবিদ্যার শিক্ষাদীক্ষা প্রদানকারীকে আধ্যাত্মিক গুরু বলে। যেমন- আত্মতাত্ত্বিক গুরু।
২. জাগতিক গুরু (Mundane preceptor)
বৈষয়িকবিদ্যা শিক্ষাদানকারী পণ্ডিতকে জাগতিক গুরু বলে। যেমন- বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
মানুষগুরুর পরিচয় (Identity of Inductor)
যে মহান মনীষী মানুষকে নৈতিক শিক্ষাদীক্ষা প্রদান করেন তাকে মানুষগুরু বলা হয়। শুধু আকার ও আকৃতিধারী জ্ঞানীকে মানুষগুরু বলা হয় না। মানুষগুরুরূপ ব্যক্তির মধ্যে যে জ্ঞান রয়েছে প্রকৃতপক্ষে সে জ্ঞানকেই গুরু বলা হয়। কারণ জ্ঞান হলো নিত্য, অক্ষয়, অমর ও অনন্ত কিন্তু আকারধারী মানুষ অনিত্য ও ধ্বংসশীল। অর্থাৎ আকারধারী মানুষকে মানুষগুরু বলে সম্বোধন করলেও প্রকৃতপক্ষে মানুষগুরু হলো মানুষের ‘জ্ঞান’। গুরুদেবের জ্ঞানকে মানুষগুরু বলা হয়। অর্থাৎ মানুষগুরু হলো মানুষগুরুরূপ ব্যক্তির ‘জ্ঞান’।
পিতা-মাতা, বড়ভাই, বড়বোন, শ্বশুর-শাশুড়ী, দাদা-দাদী, মামা-মামী ও সর্বশ্রেণির শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সবাই প্রত্যেক মানুষের জন্য মানুষগুরু। যার নিকট হতে কোন জ্ঞানার্জন করা হয় তিনিই গুরু। আবার আধ্যাত্মিক দীক্ষকগণও মানুষগুরু। গুরুর কোন জাত নেই এবং গুরুর কোন শাস্ত্রীয় মতবাদ নেই। মানুষগুরু যে কোন শাস্ত্রীয় মতবাদ বা যে কোন গোত্রের হতে পারেন। যে কোন মতবাদের বা যে কোন গোত্রের লোক তাঁর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। গুরু ভক্তের উদ্ধারকারী বা ত্রাতা। মানুষগুরু প্রকৃতগুরু নয়। প্রকৃতগুরু হলেন সাঁই। এ জন্য প্রকৃতগুরুর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত একের পর এক মানুষগুরুর নিকট হতে জ্ঞানার্জন করে যাওয়ায় সব বুদ্ধিমানের কাজ। প্রকৃতগুরুর সন্ধানলাভ করার জন্য একাধিক গুরুর নিকট হতে জ্ঞানার্জন করা সর্বকালেই সিদ্ধ। প্রকৃতগুরুর সন্ধান পেয়ে গেলে মানুষগুরু আর পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
রক্তমাংসে নির্মিত মানুষকে গোঁসাই বা গুরু ভাবা, গোঁসাই বা গুরুর ছবি ধ্যান করা, গোঁসাই বা গুরুর মুখম-লের ধ্যান করা সর্বকালে সর্ব ঘরানাতেই নিষিদ্ধ ছিল, এখনো নিষিদ্ধ আছে এবং ভবিষ্যতেও নিষিদ্ধ থাকবে। যে সব গোঁসাই বা গুরু এরূপ করে তারা একান্ত গুরুতত্ত্ব না জেনে ও না বুঝেই করে। আবার যে সব গোঁসাই বা গুরু এরূপ ভাবে তারাও একান্ত গুরুতত্ত্ব না জেনে ও না বুঝেই ভাবে। এরূপ গোঁসাই গুরুর সঙ্গ পরিত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গেই আত্মতাত্ত্বিক সাধকগোঁসাই বা সাধকগুরুর নিকট পুনঃদীক্ষা গ্রহণ করা সবার একান্ত প্রয়োজন।
২. জগৎগুরু Inhaler (ইনহ্যালার)/ ‘مستنشق’ (মুস্তানাশাক্ব)
জগৎগুরুর সংজ্ঞা (Definition of Inhaler)
সারাবিশ্বে বিরাজিত বাতাসকে জগৎগুরু বলে।
জগৎগুরুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Inhaler)
রূপক-সাহিত্যে নাসিকার শ্বাসকে জগৎগুরু বলে।
জগৎগুরুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Inhaler)
১. “অখণ্ড মণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং সারাচরাচর, গুরু তুমি পতিতপাবন পরমঈশ্বর” (পবিত্র লালন- ৪২/১)।
২. “গুরু চেনা সহজ নয়রে গুরু চেনা সহজ নয়, জগৎগুরু চিনতে গেলে মানুষগুরু ভজতে হয়” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)।
৩. “রণে, বনে, জলে ও জঙ্গলে যেখানে আমাকে স্মরণ করবে সেখানেই আমাকে পাবে” (লোকনাথ)।”
জগৎগুরুর পরিচয় (Identity of Inhaler)
রূপক-সাহিত্যে বাতাস বলতে বায়ুম-লে চলমান বাতাস না বুঝিয়ে বরং নাসিকা যোগে চলাচলকারী শ্বাসকে বুঝানো হয়। নাসিকার শ্বাসরূপ জগৎগুরু ডান ও বাম গতি ধারণ করে সর্বসময় শিষ্য বা ভক্তকুলের সাথে সাথে অবস্থান করেন এবং প্রতিনিয়ত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শিষ্যগণকে জীবনের প্রতিটি কাজের শুভাশুভ সংবাদাদি প্রদান করে থাকেন। শ্বাসরূপ বাতাস বিশ্বব্যাপী বিরাজমান বলে রূপক-সাহিত্যে তাকে জগৎগুরু বলা হয়।
মানুষগুরু জগতের সর্বত্রই বিরাজ করতে পারে না কিন্তু জগৎগুরু জগতের সর্বত্রই বিরাজ করতে পারেন। উপরোক্ত উক্তিদ্বয় মানুষগুরুর ক্ষেত্রে কখনই প্রযোজ্য নয় বরং এসব উক্তি কেবল জগৎগুরু শ্বাস বা নাসিকার বাতাসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ আমাদের নাসিকার শ্বাসরূপ গুরু বিশ্বের সর্বত্র সবার নিকটই একই সময়ে সমানভাবে অবস্থান করতে পারেন কিন্তু রক্তমাংসে গড়া একজন মানুষগুরু বিশ্বের সর্বত্রই একই সময়ে সমানভাবে অবস্থান করতে পারেন না। শক্তি বিশ্বের সর্বত্রই সমানভাবে অবস্থান করতে পারে কিন্তু বস্তু বিশ্বের সর্বত্রই সমানভাবে অবস্থান করতে পারে না। কারণ শক্তি অসীম কিন্তু বস্তু সসীম। অথচ বস্তু ও শক্তির এসব সূত্রাদি না জানা এবং গুরুর প্রকারভেদ ও গুরুতত্ত্ব না জানা খুষ্কমূষ্ক পরম্পরা অনুরাগী ও খুষ্কমূষ্ক রূপক প-িতরা অযথায় যত্রতত্র তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। গভীরজ্ঞান বা আত্মতত্ত্বজ্ঞানের দৈন্যতাহেতু কুটতার্কিকদের তর্কবিতর্ক হতে অনেকক্ষেত্রে হাতাহাতি বা সমর-সংগ্রামেরও উৎপত্তি হতেও দেখা যায় মাঝে মাঝে।
৩. কামগুরু (Cupid)/ ‘صولجان’ (সাওলাজান)
কামগুরুর সংজ্ঞা (Definition of Cupid)
শাস্ত্রীয়দের মতে কামের প্রতীতি মদনকে কামগুরু বলে।
কামগুরুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Cupid)
রূপক-সাহিত্যে পুরুষ জীবের শিশ্নকে কামগগুরু বলে।
কামগুরুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Cupid)
১. “পরমগুরু প্রেম পিরিতি, কামগুরু হয় নিজপতি, কাম ছাড়া প্রেম পায় কী গতি, তাই ভাবে লালন” (পবিত্র লালন- ২৬৫/৪)।
২. “প্রেম প্রকৃতি স্বরূপসতী, কামগুরু হয় নিজপতি, ও মন অনুরাগী না হলে, ভজন সাধন হয় না” (পবিত্র লালন- ৬৪৯/২)।
৩. “প্রেমবাজারে কে যাবি, তোরা আয় গো আয়, প্রেমগুরু কল্পতরু, প্রেমরসে মেতে রয়” (পবিত্র লালন- ৬৫১/১)।
৪. “প্রেমের রাজা মদনমোহন, নির্হেতু প্রেম সাধনে শ্যাম, ধরে রাধার যুগলচরণ, প্রেমের সহচরী গোপীগণ, গোপীর দ্বারে বাঁধা রয়” (পবিত্র লালন- ৬৫১/২)।
কামগুরুর পরিচয় (Identity of Cupid)
পৃথিবীর সব রূপক-সাহিত্যে শিশ্নকে কামগুরু বা কামের দেবতা বলা হয়। কাম ব্যতীত যেমন জীবের প্রজন্ম টিকিয়ে রাখা যায় না তেমন কোন প্রজাতির জীব সাংসারিক, সামাজিক, দলবদ্ধ বা সঙ্ঘবদ্ধ হতেও পারে না। জীবের প্রজাতি টিকিয়ে রাখার জন্য কামশাস্ত্রে কামের গুরুত্ব যেমন অপরিসীম তেমন কামযজ্ঞ পরিচালনার জন্য শিশ্নের গুরুত্ব আরো অপরিসীম। কামযজ্ঞ পরিচালনা করার গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য করেই শিশ্নকে কামদেবতা বা কামপ্রতীতি বা কামগুরু বলা হয়। Indian mythology (ইন্ডিয়ান মিথোলজি) তে শিশ্নকে শিব, মহাদেব, মদন, রাবণ, লম্বোদর, গণেশ ও দেবরাজ বলা হয়। অর্থাৎ Indian mythologyতে শিশ্নকে personification (পার্সোনিফিকেশন) বা anthropomorphism (এ্যান্থ্রোপামোফিজম) করে বলা হয় দেবরাজ। Indian mythology (ইন্ডিয়ান মিথোলজি) এর দেবরাজকে বলা হয় Jove (জোব), Greek mythology (গ্রিক মিথোলজি) এর দেবরাজকে বলা হয় Zeus (জিউস) এবং Roman mythology (রোমান মিথোলজি) এর দেবরাজকে বলা হয় Jupiter (জুপিটার)।
Jove [জোব] বি ইন্দ্র, দেবরাজ, Indra, Zeus, Jupiter, ‘إندرا’ (ইন্দ্রা), ‘شركة إندرا’ (শারিকাত ইন্দ্রা), ‘جوبيتر إله الرومان’ (জুবিদার ইলহা আররুমান) (প্র) পুরাণী মুনীষিদের মতে ঋকবেদের প্রধান দেবতা {ই}
Zeus [জিউস] বি দেবাধিপতি, মহাদেব, Jove, Jupiter, ‘زيوس’ (ঝিউস), ‘زوس’ (ঝুস), ‘زيوس كبير الآلهة’ (ঝিউস কাবির আলয়ালিহা) (প্র) প্রাচীন গ্রিক দেবরাজ বা দেবাধিদেব, গ্রিক পুরাণোক্ত দেবরাজ {ই}
Jupiter [জুপিটার] বি বৃহস্পতি, সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ, Jove, Zeus, ‘جوبيتر’ (জুবিতার), ‘المشترى’ (আলমুশতারি), ‘كوكب المشتري’ (কাওকাব আলমুশতারি), ‘جوبيتر كبير آلهة اليوناني’ (জুবিতার কাবির আলিহাত আলইউনানি) (প্র) রোমানদের দেবরাজ {ই}
পরিশেষে বলা যায় ভারতীয়দের দেবরাজ, গ্রিকদের দেবরাজ এবং রোমানদের দেবরাজই হলো আমাদের আলোচ্য কামগুরু শিশ্ন।
৪. পরমগুরু Beverage (বেভ্যারিজ)/ ‘مشروبات’ (মাশরুবাত)
পরমগুরুর সংজ্ঞা (Definition of Beverage)
জীবের লালনপালনকর্তা সাঁইকে পরমগুরু বলে।
পরমগুরুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
(Theosophical definition of Beverage)
জীবজগতের পালনকর্তা সাঁইকে পরমগুরু বলে।
পরমগুরুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Beverage)
১. “অনুরাগের তরণী করো, ধারা চিনে উজানে ধরো, লালন কয় করতে পারো, পরমগুরুর ঠিকানা” (পবিত্র লালন- ৮২৭/৪)।
২. “আদিতত্ত্ব আত্মা ইন্দ্রিয় রাসুল বহন করে, মহাজ্ঞানীরা আপন আত্মা পায় দেখিবারে, তত্ত্বধারী হলে জ্ঞান- উপধর বলে জ্ঞানীগণ, বলন কয় পরমগুরু হলেন তিনি” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৩)।
৩. “পরমগুরু প্রেম পিরিতি, কামগুরু হয় নিজপতি, কাম ছাড়া প্রেম পায় কী গতি, তাই ভাবে লালন” (পবিত্র লালন- ২৬৫/৪)।
৪. “পরমগুরু বড়ই রঙ্গিলা আমার মনভোলা, কত নামে ধরাধামে করে আকারে লীলাখেলা” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১১)।
৫. “মানুষগুরুর প্রেমপণ্যারে- জগৎগুরু চলেফেরে, ধরতে গেলে যায়রে দূরে- পরমগুরু কাছে রয়, মানুষগুরু হইলে সদয়- জগৎগুরু দেয় পরিচয়, জানতে হয় তা নিরালায়- ভক্তিভজন রেখে ভয়” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)।
৬. “ত্রিবেণীর ত্রিধারে, মীনরূপে গুরু বিরাজ করে, কেমন করে ধরবি তারে, বলরে অবুঝ মন” (পবিত্র লালন- ১৫৩/৩)।
৭. “হলে অমাবতীর বার, মাটি রসে হয় সরোবর, সাধু গুরু বৈষ্টম তিনে, উদয় হয় সে যোগের দিনে” (পবিত্র লালন- ১৬২/২)।
পরমগুরুর পরিচয় (Identity of Beverage)
রূপক-সাহিত্যে সাঁইকে পরমগুরু বলা হয়। সাঁই হলেন তরলমানুষ- যে এখনো মূর্ত আকার ধারণ করেনি। মাতৃজঠরে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল। মাতৃজঠরে সর্ব জীবের ভ্রূণ লালনকারী অমৃতরসকে পালনকর্তা বা রূপকার্থে পরমগুরু বলা হয়। এ পরমগুরু ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন- “অনুরাগের তরণী করো, ধারা চিনে উজানে ধরো, লালন কয় করতে পারো, পরমগুরুর ঠিকানা” (পবিত্র লালন- ৮২৭/৪)।
গুরুর কয়েকটি ইংরেজি পরিভাষা (Thesaurus words for guru)
abecedarian, angel, authority, boss, bwana, chief, doctor, dominie, educationist, educator, elder, fellow, goodman, husband, illuminate, instructor, intellectual, liege, lord, master, mentor, overlord, paramount, paterfamilias, patriarch, patron, pedagogue, philosopher, preceptor, professor,sage, saint, sapient, savant, scholar, seer, teacher, thinker, yogi.
গুরু পরিভাষাটির উৎপত্তি প্রসঙ্গ
(Origin context of the Guru terminology)
শিখ শাস্ত্রীয় যাজক নানক (১৫ এপ্রিল ১৪৬৯- ২২ সেপ্টেম্বর ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দ) সর্ব প্রথম গুরু পরিভাষাটি আবিষ্কার করেন। তারপর হতে শাস্ত্রীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গ এ উপাধি ব্যবহার আরম্ভ করেন। তবে শাস্ত্রীয় শিখ পণ্ডিত ও বৈখ্যিকদের মতে গুরু মাত্র ১০জন। অবশিষ্ট সব অনুসারী। আর কেউ গুরু হতে বা গুরু উপাধি গ্রহণ করতে পারবে না। পরবর্তীকালে এ উপাধিটি ক্রমে ক্রমে ভারতবর্ষসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
Title of the first 10 leaders of Sikhism.
The first was Nanak, who before his death (1539) began the tradition that allowed the Guru to name his successor. He was followed by 2.Angad (1539–1552) 3.Amar Das 4.Ramdas (1574–1581) 5.Arjan 6.Hargobind 7.Hari Rai 8.Hari Krishen (1661–1664) 9.Tegh Bahadur (1664–1675) and 10.Gobind Singh. In time the Guru became as much a military as a spiritual leader. Gobind Singh discontinued the office in 1708 and vested its authority in the Sikh sacred scripture, the Adi Granth.
গুরু নানকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় (Short Introduction of Guru Nanak)
Guru Nanak is an Indian religious leader who founded Sikhism in dissent from the caste system of Hinduism; he taught that all men had a right to search for knowledge of God and that spiritual liberation could be attained by meditating on the name of God (1469-1539) [syn: {Nanak}]
গুরুতত্ত্ব (Preceptor mystery)
গোঁসাই বা গুরুতত্ত্ব অত্যন্ত কঠিন। এটি সাধক-গুরু বা সাধক-গোঁসাই ব্যতীত অন্য কেউ বুঝে না। ভারপ্রাপ্ত গোঁসাই-গুরু, ছেলেগুরু, নাতিগুরু, পুতিগুরু, ত্রোতিগুরু, গদিনশিনগুরু, জামাইগুরু, ভাইগুরু, ভগ্নীপতি-গুরু, মামাগুরু ও খালুগুরুর জানার তো প্রশ্নই আসে না। অথচ আমাদের দেশে কেবল এসব গুরুর আমদানী অধিক। বর্তমানে সাধকগুরু নেই বললেও ভুল হবে না। এ কারণেই বর্তমানে পরম্পরা শিক্ষার এরূপ করুণদশা। যেমন মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন-
১. “মুর্শিদতত্ত্ব অথৈ গভীরে, চাররসের মূল সে রস, রসিক হলে জানতে পারে” (পবিত্র লালন- ৭৯৭/১)।
২. “যার কালিমা দিন দুনিয়ায়, সে শিষ্য হয় কোন্ কালিমায়, লিহাজ করে দেখ মনোরায়, গুরুতত্ত্ব অথৈ গভীরে” (পবিত্র লালন- ৫৩০/২)।
গুরুর পরিচয় (Identity of Preceptor)
এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘জ্ঞান’ পরিবারের অধীন একটি ‘রূপক পরিভাষা’ বিশেষ। সাধারণত যে মহান মনীষী মানুষকে নৈতিক শিক্ষাদীক্ষা প্রদান করেন তাঁকেই গুরু বলা হয়। রূপক-সাহিত্যে গুরু মোট চার প্রকার। যথা- ১.মানুষগুরু, ২.জগৎগুরু, ৩.কামগুরু ও ৪.পরমগুরু। এখানে উল্লেখ করা একান্ত প্রয়োজন যে, দুই হতে চার ক্রম পর্যন্ত গুরুগুলো মানুষ নন তা পরিষ্কারভাবেই বুঝা যায়। কিন্তু এক ক্রম গুরুও কখনোই মানুষ নন। বরং প্রথম গুরুটি হলো মানুষগুরুর জ্ঞান। জগৎগুরু হলো বাতাস। আর বাতাস অর্থ নাসিকার শ্বাস। কামগুরু হলো মদন। আর মদন হলো শিশ্ন। পরমগুরু হলো সাঁই। আর সাঁই হলো সুধা। এবার বলা যায় চার প্রকার গুরু হলো- ১.জ্ঞান ২.শ্বাস ৩.শিশ্ন ও ৪.সুধা।
গুরুর গুরুর পরিচয় (Identity of preceptor of preceptor)
গুরুর গুরু হলো জ্ঞান। জ্ঞানের ঊর্ধ্বে আর কোন গুরু নেই। জ্ঞানই সব গুরুর শ্রেষ্ঠ গুরু। জ্ঞান এমনি এক সম্পদ যে এটি বহন করতে কোন প্রকার গাড়ি ঘোড়ার প্রয়োজন হয় না। মানুষগুরুর নিকট জ্ঞানরূপ শ্রেষ্ঠগুরু অবস্থান করে বলেই জ্ঞানী লোকগণকে গুরু বলে সম্বোধন করা হয়ে থাকে।
‘জয়গুরু’ বলার তাৎপর্য
(Significance to say ‘Guruwin’/ ‘Preceptorwin’
গুরু চার প্রকার। যথা- ১.মানুষগুরু ২.জগৎগুরু ৩.কামগুরু ও ৪.পরমগুরু। এ চার প্রকার গুরুর মধ্যে কেবল জগৎগুরুর শুভসংবাস গ্রহণের সময়ই শিষ্যদের ‘জয়গুরু’ বলা প্রয়োজন।
কোন শিষ্য প্রথমে মানুষগুরুর নিকট শিক্ষাগ্রহণ করে জগৎগুরু ও পরমগুরুর সন্ধানলাভ করে। জগৎগুরু ও পরমগুরুকে চেনা ও জানার পর শিষ্যরা সর্বসময় জগৎগুরু ও পরমগুরুকে নিজের কাছে দেখতে পায়। জগৎগুরু শ্বাস কোন সংবাদ নিয়ে যখন কোন শিষ্যের নিকট উপস্থিত হন এবং কোন শিষ্য যদি তা অনুভব করতে পারে তবে সঙ্গে সঙ্গে শিষ্য তাঁকে ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করে থাকে। এ হতেই মানুষগুরু ও জগৎগুরু উভয় ক্ষেত্রেই ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করার প্রথা উৎপত্তি হয়।
একজন পাকাগুরুই মানবজীবনের সর্বময় সুখ শান্তির মূল। এ জন্য গুরুর সুখই শিষ্যের সুখ। গুরুর শান্তিই শিষ্যের শান্তি। এ হতেই শিষ্যরা গুরু, দাদাগুরু, গুরুভাই, গুরুবোন ও গুরুমা সবার সম্বোধনেই ‘জয়গুরু’ বলে থাকে। ‘জয়গুরু’ অর্থ গুরুর জয় হোক। গুরু তো বিজয়ী। বিজয়ী না হলে তিনি তো গুরুই হতে পারতেন না। তবে বিজয়ীকে আবার জয়ী হওয়ার আশীর্বাদ করার কারণ কী? উত্তর হলো- এরূপ প্রশ্নের উত্তর হলো প্রত্যেক নর-নারীর নিকটই সর্বদা তিন-তিনজন করে গুরু অবস্থান করেন। এ জন্য শিষ্য-শিষ্যারা অন্য কাউকে আদৌ ‘জয়গুরু’ বলে কোন সম্বোধন করে না বরং প্রত্যেকে প্রত্যেকের নিজের গুরুত্রয়কেই ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করে থাকে। প্রত্যেকের নিকট তিনজন করে গুরু বিদ্যমান থাকার অর্থ হলো পুরুষের নিকট সর্বদা অবস্থান করে ১.জ্ঞান, ২.শ্বাস ও ৩.শিশ্ন এবং নারীর নিকট সর্বদা অবস্থান করেন ১.জ্ঞান, ২.শ্বাস ও ৩.সাঁই। প্রত্যেক মানবের চারজন গুরুর মধ্যে পুরুষের নিকট থাকে না ‘সাঁই’ এবং নারীর নিকট থাকে না ‘শিশ্ন’। অর্থাৎ পুরুষের নিকট কখনো ‘সাঁই‘ থাকেন না এবং নারীর নিকট কখনই ‘শিশ্ন’ থাকে না। এ জন্য বলা হয় বিশ্বের প্রতিটি মানুষের নিকট সর্বদা তিনজন গুরু বিদ্যমান থাকে। ‘সাঁই’ যেমন সারাজগতের পরমগুরু তদ্রƒপ ‘শিশ্ন’ সারাজগতের কামগুরু। এ জন্য প্রত্যেক মানুষের চারজন গুরুর কথা বলা হয়।
কামগুরুর কোন ভজন নেই। এ গুরুকে শাসন করাই ভক্তের কাজ। চারপ্রকার গুরুর মধ্যে কেবল কামগুরুকে শাসন করতে হয়। এ গুরু অটল না হওয়া পর্যন্ত একে ক্রমে ক্রমে শাসন করতেই হবে। এ ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন- ১.“পরমগুরু প্রেম পিরিতি, কামগুরু হয় নিজপতি, কাম ছাড়া প্রেম পায় কী গতি, তাই ভাবে লালন” (পবিত্র লালন- ২৬৫/৪) ২.“প্রেম প্রকৃতি স্বরূপসতী, কামগুরু হয় নিজপতি, ও মন অনুরাগী না হলে, ভজন সাধন হয় না (পবিত্র লালন- ৬৪৯/২) ৩.“প্রেমবাজারে কে যাবি, তোরা আয় গো আয়, প্রেমগুরু কল্পতরু, প্রেমরসে মেতে রয়” (পবিত্র লালন- ৬৫১/১) ৪.“প্রেমের রাজা মদনমোহন, নির্হেতু প্রেম সাধনে শ্যাম, ধরে রাধার যুগলচরণ, প্রেমের সহচরী গোপীগণ, গোপীর দ্বারে বাঁধা রয়” (পবিত্র লালন- ৬৫১/২)। পরমগুরুকে ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করার নিয়ম পরম্পরা মতবাদে নেই। কারণ এ গুরু সবার ভাগ্যে মিলেও না আর যদিওবা মিলে তবে কেবল একে অন্যকেই ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করা হয় কিন্তু পরমগুরুকে কখনই সম্বোধন করা হয় না। সারকথা হলো কেবল মানুষগুরু ও জগৎগুরুকেই ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করা প্রয়োজন পক্ষান্তরে পরমগুরু ও কামগুরুকে ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করার কোন প্রয়োজন নেই।
(সংক্ষিপ্ত)
তথ্যসূত্রঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (৪র্থ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
————————————————————————
এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘জ্ঞান’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘রূপক পরিভাষা’। এর প্রকৃত-মূলক ‘জ্ঞান’, সহযোগী-মূলক ‘জ্ঞানেন্দ্রিয়’, উপমান পরিভাষা ‘আলো’, চারিত্রিক পরিভাষা ‘সম্বিত’ ও ছদ্মনাম পরিভাষা ‘মানুষগুরু’।
গুরু (রূপ)বি উপদেষ্টা, উপদেশক, শিক্ষক, দীক্ষক, দেশিক, দিশারী, শাস্ত্রীয় জীবনের উপদেষ্টা, সাধনপন্থা নির্দেশক, সম্মানে বা বয়সে জ্যেষ্ঠ, মাননীয় ব্যক্তি, Preceptor, ‘معلم’ (মুয়াল্লিম) বিণ ভারী, গুণসম্পন্ন, দুর্বহ, দায়িত্বপূর্ণ, কঠিন, মহান, দুরূহ, শ্রদ্ধেয়, মাননীয়, অতিশয়, অধিক (ব্যা) দীর্ঘ মাত্রাযুক্ত (আবি) জ্ঞান, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, knowledge, আক্বল (আ.ﻋﻘﻝ), ইলিম (আ.ﻋﻟﻢ) (আভা) বিচারক (আদৈ) মুর্শিদ (আ.ﻤﺭﺷﺪ), পির (ফা.ﭙﻴﺭ) (ইদৈ) master, teacher (দেপ্র) এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘জ্ঞান’ পরিবারের ‘রূপক পরিভাষা’ ও রূপক-সাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.যে মহান মনীষী মানুষকে নৈতিক শিক্ষাদীক্ষা প্রদান করেন তাকে গুরু বলা হয় ২.চিত্তপটে সঞ্চিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তথ্যাদিকে জ্ঞান বা রূপকার্থে গুরু বলা হয় (ছনা) মানুষগুরু (চাপ) সম্বিত (উপ) আলো (রূ) গুরু (দেত) জ্ঞান।
গুরুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Preceptor)
১. “আপনদেশের মধুরবাণী, গুরু আমায় শোনাও না, দেশবাসী কয় উল্টাকথা, সোজা করে শোনায় না” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫)।
২. “গুরু উপায় বলো না, জনমদুঃখী কপালপোড়া, গুরু আমি একজনা” (পবিত্র লালন- ৩৮৯/১)।
৩. “ভবে লাফালাফি কর না, ওরে আমার পাগল মনা, ভাঙ্গবে এই রঙ্গ খানারে, গুরু বিনে কেউ রবে না” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৩)।
গুরুর কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of Preceptor)
১. “গুরু উপায় কী আমার, কেমনে হব ত্রিবেণী পার” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯১)।
২. “গুরুকৃপা যার হলো, ফুলের মূল সে চিনল, লালন মহাফেরে পড়ল, ভবের ভক্তিঘটে” (পবিত্র লালন-৩৪৮/৪)।
৩. “ত্রিতাপ জ্বালায় পরাণ পুড়ে গুরু উপায় বলো না, প্রেমজ্বালায় অঙ্গ জ্বলে মদনজ্বালা সহে না” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৩)।
৪. “সুখের নীড় স্বর্গপুরী, মাসান্তে আসে হুরী, গুরু দিলে মিলে সবারি, গুরু বিনে মিলে না ছাই” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৮)।
গুরুর সংজ্ঞা (Definition of Preceptor)
যে মহান মনীষী মানুষকে নৈতিক শিক্ষাদীক্ষা প্রদান করেন তাঁকে গুরু বলে।
গুরুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Preceptor)
চিত্তপটে সঞ্চিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তথ্যাদিকে জ্ঞান বা গুরু বলে।
গুরুর প্রকারভেদ (Classification of Preceptor)
গুরু চার প্রকার। যথা- ১.মানুষগুরু ২.জগৎগুরু ৩.কামগুরু ও ৪.পরমগুরু।
১. মানুষগুরু/ Inductor (ইন্ডাক্টর)/ ‘مغو’ (মোগু)
মানুষগুরুর সংজ্ঞা (Definition of Inductor)
মানুষ আকারধারী যে মহান মনীষী সাধারণ মানুষকে জ্ঞান শিক্ষা প্রদান করেন তাকে মানুষগুরু বলে। যেমন বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
মানুষগুরুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Inductor)
রূপক-সাহিত্যে গুরুপদ প্রাপ্ত ব্যক্তির জ্ঞানকে গুরু বলে। যেমন সম্বিত।
মানুষগুরুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Inductor)
১. “গুরু চেনা সহজ নয়রে গুরু চেনা সহজ নয়, জগৎগুরু চিনতে গেলে মানুষগুরু ভজতে হয়” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)।
২. “হক্বের ওপর থাকবে যখন, লাহুত মুক্বাম চিনবে তখন, এ সত্য জেনে ও মন, মানুষগুরু ধরলে না” (পবিত্র লালন- ৭৪২/৩)।
৩. “গুরু যার থাকে সদয়, শমন বলে কিসের ভয়, লালন বলে মন তুই আমায়, করলি দুষি” (পবিত্র লালন- ১৪৩/৪)।
মানুষগুরুর প্রকারভেদ (Classification of Inductor)
মানুষগুরু দুই প্রকার। যথা- ১.আধ্যাত্মিক গুরু ও ২.জাগতিক গুরু।
১. আধ্যাত্মিক গুরু (Spiritual preceptor)
আত্মদর্শন বা পরাবিদ্যার শিক্ষাদীক্ষা প্রদানকারীকে আধ্যাত্মিক গুরু বলে। যেমন- আত্মতাত্ত্বিক গুরু।
২. জাগতিক গুরু (Mundane preceptor)
বৈষয়িকবিদ্যা শিক্ষাদানকারী পণ্ডিতকে জাগতিক গুরু বলে। যেমন- বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
মানুষগুরুর পরিচয় (Identity of Inductor)
যে মহান মনীষী মানুষকে নৈতিক শিক্ষাদীক্ষা প্রদান করেন তাকে মানুষগুরু বলা হয়। শুধু আকার ও আকৃতিধারী জ্ঞানীকে মানুষগুরু বলা হয় না। মানুষগুরুরূপ ব্যক্তির মধ্যে যে জ্ঞান রয়েছে প্রকৃতপক্ষে সে জ্ঞানকেই গুরু বলা হয়। কারণ জ্ঞান হলো নিত্য, অক্ষয়, অমর ও অনন্ত কিন্তু আকারধারী মানুষ অনিত্য ও ধ্বংসশীল। অর্থাৎ আকারধারী মানুষকে মানুষগুরু বলে সম্বোধন করলেও প্রকৃতপক্ষে মানুষগুরু হলো মানুষের ‘জ্ঞান’। গুরুদেবের জ্ঞানকে মানুষগুরু বলা হয়। অর্থাৎ মানুষগুরু হলো মানুষগুরুরূপ ব্যক্তির ‘জ্ঞান’।
পিতা-মাতা, বড়ভাই, বড়বোন, শ্বশুর-শাশুড়ী, দাদা-দাদী, মামা-মামী ও সর্বশ্রেণির শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সবাই প্রত্যেক মানুষের জন্য মানুষগুরু। যার নিকট হতে কোন জ্ঞানার্জন করা হয় তিনিই গুরু। আবার আধ্যাত্মিক দীক্ষকগণও মানুষগুরু। গুরুর কোন জাত নেই এবং গুরুর কোন শাস্ত্রীয় মতবাদ নেই। মানুষগুরু যে কোন শাস্ত্রীয় মতবাদ বা যে কোন গোত্রের হতে পারেন। যে কোন মতবাদের বা যে কোন গোত্রের লোক তাঁর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। গুরু ভক্তের উদ্ধারকারী বা ত্রাতা। মানুষগুরু প্রকৃতগুরু নয়। প্রকৃতগুরু হলেন সাঁই। এ জন্য প্রকৃতগুরুর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত একের পর এক মানুষগুরুর নিকট হতে জ্ঞানার্জন করে যাওয়ায় সব বুদ্ধিমানের কাজ। প্রকৃতগুরুর সন্ধানলাভ করার জন্য একাধিক গুরুর নিকট হতে জ্ঞানার্জন করা সর্বকালেই সিদ্ধ। প্রকৃতগুরুর সন্ধান পেয়ে গেলে মানুষগুরু আর পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
রক্তমাংসে নির্মিত মানুষকে গোঁসাই বা গুরু ভাবা, গোঁসাই বা গুরুর ছবি ধ্যান করা, গোঁসাই বা গুরুর মুখম-লের ধ্যান করা সর্বকালে সর্ব ঘরানাতেই নিষিদ্ধ ছিল, এখনো নিষিদ্ধ আছে এবং ভবিষ্যতেও নিষিদ্ধ থাকবে। যে সব গোঁসাই বা গুরু এরূপ করে তারা একান্ত গুরুতত্ত্ব না জেনে ও না বুঝেই করে। আবার যে সব গোঁসাই বা গুরু এরূপ ভাবে তারাও একান্ত গুরুতত্ত্ব না জেনে ও না বুঝেই ভাবে। এরূপ গোঁসাই গুরুর সঙ্গ পরিত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গেই আত্মতাত্ত্বিক সাধকগোঁসাই বা সাধকগুরুর নিকট পুনঃদীক্ষা গ্রহণ করা সবার একান্ত প্রয়োজন।
২. জগৎগুরু Inhaler (ইনহ্যালার)/ ‘مستنشق’ (মুস্তানাশাক্ব)
জগৎগুরুর সংজ্ঞা (Definition of Inhaler)
সারাবিশ্বে বিরাজিত বাতাসকে জগৎগুরু বলে।
জগৎগুরুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Inhaler)
রূপক-সাহিত্যে নাসিকার শ্বাসকে জগৎগুরু বলে।
জগৎগুরুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Inhaler)
১. “অখণ্ড মণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং সারাচরাচর, গুরু তুমি পতিতপাবন পরমঈশ্বর” (পবিত্র লালন- ৪২/১)।
২. “গুরু চেনা সহজ নয়রে গুরু চেনা সহজ নয়, জগৎগুরু চিনতে গেলে মানুষগুরু ভজতে হয়” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)।
৩. “রণে, বনে, জলে ও জঙ্গলে যেখানে আমাকে স্মরণ করবে সেখানেই আমাকে পাবে” (লোকনাথ)।”
জগৎগুরুর পরিচয় (Identity of Inhaler)
রূপক-সাহিত্যে বাতাস বলতে বায়ুম-লে চলমান বাতাস না বুঝিয়ে বরং নাসিকা যোগে চলাচলকারী শ্বাসকে বুঝানো হয়। নাসিকার শ্বাসরূপ জগৎগুরু ডান ও বাম গতি ধারণ করে সর্বসময় শিষ্য বা ভক্তকুলের সাথে সাথে অবস্থান করেন এবং প্রতিনিয়ত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শিষ্যগণকে জীবনের প্রতিটি কাজের শুভাশুভ সংবাদাদি প্রদান করে থাকেন। শ্বাসরূপ বাতাস বিশ্বব্যাপী বিরাজমান বলে রূপক-সাহিত্যে তাকে জগৎগুরু বলা হয়।
মানুষগুরু জগতের সর্বত্রই বিরাজ করতে পারে না কিন্তু জগৎগুরু জগতের সর্বত্রই বিরাজ করতে পারেন। উপরোক্ত উক্তিদ্বয় মানুষগুরুর ক্ষেত্রে কখনই প্রযোজ্য নয় বরং এসব উক্তি কেবল জগৎগুরু শ্বাস বা নাসিকার বাতাসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ আমাদের নাসিকার শ্বাসরূপ গুরু বিশ্বের সর্বত্র সবার নিকটই একই সময়ে সমানভাবে অবস্থান করতে পারেন কিন্তু রক্তমাংসে গড়া একজন মানুষগুরু বিশ্বের সর্বত্রই একই সময়ে সমানভাবে অবস্থান করতে পারেন না। শক্তি বিশ্বের সর্বত্রই সমানভাবে অবস্থান করতে পারে কিন্তু বস্তু বিশ্বের সর্বত্রই সমানভাবে অবস্থান করতে পারে না। কারণ শক্তি অসীম কিন্তু বস্তু সসীম। অথচ বস্তু ও শক্তির এসব সূত্রাদি না জানা এবং গুরুর প্রকারভেদ ও গুরুতত্ত্ব না জানা খুষ্কমূষ্ক পরম্পরা অনুরাগী ও খুষ্কমূষ্ক রূপক প-িতরা অযথায় যত্রতত্র তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। গভীরজ্ঞান বা আত্মতত্ত্বজ্ঞানের দৈন্যতাহেতু কুটতার্কিকদের তর্কবিতর্ক হতে অনেকক্ষেত্রে হাতাহাতি বা সমর-সংগ্রামেরও উৎপত্তি হতেও দেখা যায় মাঝে মাঝে।
৩. কামগুরু (Cupid)/ ‘صولجان’ (সাওলাজান)
কামগুরুর সংজ্ঞা (Definition of Cupid)
শাস্ত্রীয়দের মতে কামের প্রতীতি মদনকে কামগুরু বলে।
কামগুরুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Cupid)
রূপক-সাহিত্যে পুরুষ জীবের শিশ্নকে কামগগুরু বলে।
কামগুরুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Cupid)
১. “পরমগুরু প্রেম পিরিতি, কামগুরু হয় নিজপতি, কাম ছাড়া প্রেম পায় কী গতি, তাই ভাবে লালন” (পবিত্র লালন- ২৬৫/৪)।
২. “প্রেম প্রকৃতি স্বরূপসতী, কামগুরু হয় নিজপতি, ও মন অনুরাগী না হলে, ভজন সাধন হয় না” (পবিত্র লালন- ৬৪৯/২)।
৩. “প্রেমবাজারে কে যাবি, তোরা আয় গো আয়, প্রেমগুরু কল্পতরু, প্রেমরসে মেতে রয়” (পবিত্র লালন- ৬৫১/১)।
৪. “প্রেমের রাজা মদনমোহন, নির্হেতু প্রেম সাধনে শ্যাম, ধরে রাধার যুগলচরণ, প্রেমের সহচরী গোপীগণ, গোপীর দ্বারে বাঁধা রয়” (পবিত্র লালন- ৬৫১/২)।
কামগুরুর পরিচয় (Identity of Cupid)
পৃথিবীর সব রূপক-সাহিত্যে শিশ্নকে কামগুরু বা কামের দেবতা বলা হয়। কাম ব্যতীত যেমন জীবের প্রজন্ম টিকিয়ে রাখা যায় না তেমন কোন প্রজাতির জীব সাংসারিক, সামাজিক, দলবদ্ধ বা সঙ্ঘবদ্ধ হতেও পারে না। জীবের প্রজাতি টিকিয়ে রাখার জন্য কামশাস্ত্রে কামের গুরুত্ব যেমন অপরিসীম তেমন কামযজ্ঞ পরিচালনার জন্য শিশ্নের গুরুত্ব আরো অপরিসীম। কামযজ্ঞ পরিচালনা করার গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য করেই শিশ্নকে কামদেবতা বা কামপ্রতীতি বা কামগুরু বলা হয়। Indian mythology (ইন্ডিয়ান মিথোলজি) তে শিশ্নকে শিব, মহাদেব, মদন, রাবণ, লম্বোদর, গণেশ ও দেবরাজ বলা হয়। অর্থাৎ Indian mythologyতে শিশ্নকে personification (পার্সোনিফিকেশন) বা anthropomorphism (এ্যান্থ্রোপামোফিজম) করে বলা হয় দেবরাজ। Indian mythology (ইন্ডিয়ান মিথোলজি) এর দেবরাজকে বলা হয় Jove (জোব), Greek mythology (গ্রিক মিথোলজি) এর দেবরাজকে বলা হয় Zeus (জিউস) এবং Roman mythology (রোমান মিথোলজি) এর দেবরাজকে বলা হয় Jupiter (জুপিটার)।
Jove [জোব] বি ইন্দ্র, দেবরাজ, Indra, Zeus, Jupiter, ‘إندرا’ (ইন্দ্রা), ‘شركة إندرا’ (শারিকাত ইন্দ্রা), ‘جوبيتر إله الرومان’ (জুবিদার ইলহা আররুমান) (প্র) পুরাণী মুনীষিদের মতে ঋকবেদের প্রধান দেবতা {ই}
Zeus [জিউস] বি দেবাধিপতি, মহাদেব, Jove, Jupiter, ‘زيوس’ (ঝিউস), ‘زوس’ (ঝুস), ‘زيوس كبير الآلهة’ (ঝিউস কাবির আলয়ালিহা) (প্র) প্রাচীন গ্রিক দেবরাজ বা দেবাধিদেব, গ্রিক পুরাণোক্ত দেবরাজ {ই}
Jupiter [জুপিটার] বি বৃহস্পতি, সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ, Jove, Zeus, ‘جوبيتر’ (জুবিতার), ‘المشترى’ (আলমুশতারি), ‘كوكب المشتري’ (কাওকাব আলমুশতারি), ‘جوبيتر كبير آلهة اليوناني’ (জুবিতার কাবির আলিহাত আলইউনানি) (প্র) রোমানদের দেবরাজ {ই}
পরিশেষে বলা যায় ভারতীয়দের দেবরাজ, গ্রিকদের দেবরাজ এবং রোমানদের দেবরাজই হলো আমাদের আলোচ্য কামগুরু শিশ্ন।
৪. পরমগুরু Beverage (বেভ্যারিজ)/ ‘مشروبات’ (মাশরুবাত)
পরমগুরুর সংজ্ঞা (Definition of Beverage)
জীবের লালনপালনকর্তা সাঁইকে পরমগুরু বলে।
পরমগুরুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
(Theosophical definition of Beverage)
জীবজগতের পালনকর্তা সাঁইকে পরমগুরু বলে।
পরমগুরুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Beverage)
১. “অনুরাগের তরণী করো, ধারা চিনে উজানে ধরো, লালন কয় করতে পারো, পরমগুরুর ঠিকানা” (পবিত্র লালন- ৮২৭/৪)।
২. “আদিতত্ত্ব আত্মা ইন্দ্রিয় রাসুল বহন করে, মহাজ্ঞানীরা আপন আত্মা পায় দেখিবারে, তত্ত্বধারী হলে জ্ঞান- উপধর বলে জ্ঞানীগণ, বলন কয় পরমগুরু হলেন তিনি” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৩)।
৩. “পরমগুরু প্রেম পিরিতি, কামগুরু হয় নিজপতি, কাম ছাড়া প্রেম পায় কী গতি, তাই ভাবে লালন” (পবিত্র লালন- ২৬৫/৪)।
৪. “পরমগুরু বড়ই রঙ্গিলা আমার মনভোলা, কত নামে ধরাধামে করে আকারে লীলাখেলা” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১১)।
৫. “মানুষগুরুর প্রেমপণ্যারে- জগৎগুরু চলেফেরে, ধরতে গেলে যায়রে দূরে- পরমগুরু কাছে রয়, মানুষগুরু হইলে সদয়- জগৎগুরু দেয় পরিচয়, জানতে হয় তা নিরালায়- ভক্তিভজন রেখে ভয়” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)।
৬. “ত্রিবেণীর ত্রিধারে, মীনরূপে গুরু বিরাজ করে, কেমন করে ধরবি তারে, বলরে অবুঝ মন” (পবিত্র লালন- ১৫৩/৩)।
৭. “হলে অমাবতীর বার, মাটি রসে হয় সরোবর, সাধু গুরু বৈষ্টম তিনে, উদয় হয় সে যোগের দিনে” (পবিত্র লালন- ১৬২/২)।
পরমগুরুর পরিচয় (Identity of Beverage)
রূপক-সাহিত্যে সাঁইকে পরমগুরু বলা হয়। সাঁই হলেন তরলমানুষ- যে এখনো মূর্ত আকার ধারণ করেনি। মাতৃজঠরে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল। মাতৃজঠরে সর্ব জীবের ভ্রূণ লালনকারী অমৃতরসকে পালনকর্তা বা রূপকার্থে পরমগুরু বলা হয়। এ পরমগুরু ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন- “অনুরাগের তরণী করো, ধারা চিনে উজানে ধরো, লালন কয় করতে পারো, পরমগুরুর ঠিকানা” (পবিত্র লালন- ৮২৭/৪)।
গুরুর কয়েকটি ইংরেজি পরিভাষা (Thesaurus words for guru)
abecedarian, angel, authority, boss, bwana, chief, doctor, dominie, educationist, educator, elder, fellow, goodman, husband, illuminate, instructor, intellectual, liege, lord, master, mentor, overlord, paramount, paterfamilias, patriarch, patron, pedagogue, philosopher, preceptor, professor,sage, saint, sapient, savant, scholar, seer, teacher, thinker, yogi.
গুরু পরিভাষাটির উৎপত্তি প্রসঙ্গ
(Origin context of the Guru terminology)
শিখ শাস্ত্রীয় যাজক নানক (১৫ এপ্রিল ১৪৬৯- ২২ সেপ্টেম্বর ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দ) সর্ব প্রথম গুরু পরিভাষাটি আবিষ্কার করেন। তারপর হতে শাস্ত্রীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গ এ উপাধি ব্যবহার আরম্ভ করেন। তবে শাস্ত্রীয় শিখ পণ্ডিত ও বৈখ্যিকদের মতে গুরু মাত্র ১০জন। অবশিষ্ট সব অনুসারী। আর কেউ গুরু হতে বা গুরু উপাধি গ্রহণ করতে পারবে না। পরবর্তীকালে এ উপাধিটি ক্রমে ক্রমে ভারতবর্ষসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
Title of the first 10 leaders of Sikhism.
The first was Nanak, who before his death (1539) began the tradition that allowed the Guru to name his successor. He was followed by 2.Angad (1539–1552) 3.Amar Das 4.Ramdas (1574–1581) 5.Arjan 6.Hargobind 7.Hari Rai 8.Hari Krishen (1661–1664) 9.Tegh Bahadur (1664–1675) and 10.Gobind Singh. In time the Guru became as much a military as a spiritual leader. Gobind Singh discontinued the office in 1708 and vested its authority in the Sikh sacred scripture, the Adi Granth.
গুরু নানকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় (Short Introduction of Guru Nanak)
Guru Nanak is an Indian religious leader who founded Sikhism in dissent from the caste system of Hinduism; he taught that all men had a right to search for knowledge of God and that spiritual liberation could be attained by meditating on the name of God (1469-1539) [syn: {Nanak}]
গুরুতত্ত্ব (Preceptor mystery)
গোঁসাই বা গুরুতত্ত্ব অত্যন্ত কঠিন। এটি সাধক-গুরু বা সাধক-গোঁসাই ব্যতীত অন্য কেউ বুঝে না। ভারপ্রাপ্ত গোঁসাই-গুরু, ছেলেগুরু, নাতিগুরু, পুতিগুরু, ত্রোতিগুরু, গদিনশিনগুরু, জামাইগুরু, ভাইগুরু, ভগ্নীপতি-গুরু, মামাগুরু ও খালুগুরুর জানার তো প্রশ্নই আসে না। অথচ আমাদের দেশে কেবল এসব গুরুর আমদানী অধিক। বর্তমানে সাধকগুরু নেই বললেও ভুল হবে না। এ কারণেই বর্তমানে পরম্পরা শিক্ষার এরূপ করুণদশা। যেমন মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন-
১. “মুর্শিদতত্ত্ব অথৈ গভীরে, চাররসের মূল সে রস, রসিক হলে জানতে পারে” (পবিত্র লালন- ৭৯৭/১)।
২. “যার কালিমা দিন দুনিয়ায়, সে শিষ্য হয় কোন্ কালিমায়, লিহাজ করে দেখ মনোরায়, গুরুতত্ত্ব অথৈ গভীরে” (পবিত্র লালন- ৫৩০/২)।
গুরুর পরিচয় (Identity of Preceptor)
এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘জ্ঞান’ পরিবারের অধীন একটি ‘রূপক পরিভাষা’ বিশেষ। সাধারণত যে মহান মনীষী মানুষকে নৈতিক শিক্ষাদীক্ষা প্রদান করেন তাঁকেই গুরু বলা হয়। রূপক-সাহিত্যে গুরু মোট চার প্রকার। যথা- ১.মানুষগুরু, ২.জগৎগুরু, ৩.কামগুরু ও ৪.পরমগুরু। এখানে উল্লেখ করা একান্ত প্রয়োজন যে, দুই হতে চার ক্রম পর্যন্ত গুরুগুলো মানুষ নন তা পরিষ্কারভাবেই বুঝা যায়। কিন্তু এক ক্রম গুরুও কখনোই মানুষ নন। বরং প্রথম গুরুটি হলো মানুষগুরুর জ্ঞান। জগৎগুরু হলো বাতাস। আর বাতাস অর্থ নাসিকার শ্বাস। কামগুরু হলো মদন। আর মদন হলো শিশ্ন। পরমগুরু হলো সাঁই। আর সাঁই হলো সুধা। এবার বলা যায় চার প্রকার গুরু হলো- ১.জ্ঞান ২.শ্বাস ৩.শিশ্ন ও ৪.সুধা।
গুরুর গুরুর পরিচয় (Identity of preceptor of preceptor)
গুরুর গুরু হলো জ্ঞান। জ্ঞানের ঊর্ধ্বে আর কোন গুরু নেই। জ্ঞানই সব গুরুর শ্রেষ্ঠ গুরু। জ্ঞান এমনি এক সম্পদ যে এটি বহন করতে কোন প্রকার গাড়ি ঘোড়ার প্রয়োজন হয় না। মানুষগুরুর নিকট জ্ঞানরূপ শ্রেষ্ঠগুরু অবস্থান করে বলেই জ্ঞানী লোকগণকে গুরু বলে সম্বোধন করা হয়ে থাকে।
‘জয়গুরু’ বলার তাৎপর্য
(Significance to say ‘Guruwin’/ ‘Preceptorwin’
গুরু চার প্রকার। যথা- ১.মানুষগুরু ২.জগৎগুরু ৩.কামগুরু ও ৪.পরমগুরু। এ চার প্রকার গুরুর মধ্যে কেবল জগৎগুরুর শুভসংবাস গ্রহণের সময়ই শিষ্যদের ‘জয়গুরু’ বলা প্রয়োজন।
কোন শিষ্য প্রথমে মানুষগুরুর নিকট শিক্ষাগ্রহণ করে জগৎগুরু ও পরমগুরুর সন্ধানলাভ করে। জগৎগুরু ও পরমগুরুকে চেনা ও জানার পর শিষ্যরা সর্বসময় জগৎগুরু ও পরমগুরুকে নিজের কাছে দেখতে পায়। জগৎগুরু শ্বাস কোন সংবাদ নিয়ে যখন কোন শিষ্যের নিকট উপস্থিত হন এবং কোন শিষ্য যদি তা অনুভব করতে পারে তবে সঙ্গে সঙ্গে শিষ্য তাঁকে ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করে থাকে। এ হতেই মানুষগুরু ও জগৎগুরু উভয় ক্ষেত্রেই ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করার প্রথা উৎপত্তি হয়।
একজন পাকাগুরুই মানবজীবনের সর্বময় সুখ শান্তির মূল। এ জন্য গুরুর সুখই শিষ্যের সুখ। গুরুর শান্তিই শিষ্যের শান্তি। এ হতেই শিষ্যরা গুরু, দাদাগুরু, গুরুভাই, গুরুবোন ও গুরুমা সবার সম্বোধনেই ‘জয়গুরু’ বলে থাকে। ‘জয়গুরু’ অর্থ গুরুর জয় হোক। গুরু তো বিজয়ী। বিজয়ী না হলে তিনি তো গুরুই হতে পারতেন না। তবে বিজয়ীকে আবার জয়ী হওয়ার আশীর্বাদ করার কারণ কী? উত্তর হলো- এরূপ প্রশ্নের উত্তর হলো প্রত্যেক নর-নারীর নিকটই সর্বদা তিন-তিনজন করে গুরু অবস্থান করেন। এ জন্য শিষ্য-শিষ্যারা অন্য কাউকে আদৌ ‘জয়গুরু’ বলে কোন সম্বোধন করে না বরং প্রত্যেকে প্রত্যেকের নিজের গুরুত্রয়কেই ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করে থাকে। প্রত্যেকের নিকট তিনজন করে গুরু বিদ্যমান থাকার অর্থ হলো পুরুষের নিকট সর্বদা অবস্থান করে ১.জ্ঞান, ২.শ্বাস ও ৩.শিশ্ন এবং নারীর নিকট সর্বদা অবস্থান করেন ১.জ্ঞান, ২.শ্বাস ও ৩.সাঁই। প্রত্যেক মানবের চারজন গুরুর মধ্যে পুরুষের নিকট থাকে না ‘সাঁই’ এবং নারীর নিকট থাকে না ‘শিশ্ন’। অর্থাৎ পুরুষের নিকট কখনো ‘সাঁই‘ থাকেন না এবং নারীর নিকট কখনই ‘শিশ্ন’ থাকে না। এ জন্য বলা হয় বিশ্বের প্রতিটি মানুষের নিকট সর্বদা তিনজন গুরু বিদ্যমান থাকে। ‘সাঁই’ যেমন সারাজগতের পরমগুরু তদ্রƒপ ‘শিশ্ন’ সারাজগতের কামগুরু। এ জন্য প্রত্যেক মানুষের চারজন গুরুর কথা বলা হয়।
কামগুরুর কোন ভজন নেই। এ গুরুকে শাসন করাই ভক্তের কাজ। চারপ্রকার গুরুর মধ্যে কেবল কামগুরুকে শাসন করতে হয়। এ গুরু অটল না হওয়া পর্যন্ত একে ক্রমে ক্রমে শাসন করতেই হবে। এ ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন- ১.“পরমগুরু প্রেম পিরিতি, কামগুরু হয় নিজপতি, কাম ছাড়া প্রেম পায় কী গতি, তাই ভাবে লালন” (পবিত্র লালন- ২৬৫/৪) ২.“প্রেম প্রকৃতি স্বরূপসতী, কামগুরু হয় নিজপতি, ও মন অনুরাগী না হলে, ভজন সাধন হয় না (পবিত্র লালন- ৬৪৯/২) ৩.“প্রেমবাজারে কে যাবি, তোরা আয় গো আয়, প্রেমগুরু কল্পতরু, প্রেমরসে মেতে রয়” (পবিত্র লালন- ৬৫১/১) ৪.“প্রেমের রাজা মদনমোহন, নির্হেতু প্রেম সাধনে শ্যাম, ধরে রাধার যুগলচরণ, প্রেমের সহচরী গোপীগণ, গোপীর দ্বারে বাঁধা রয়” (পবিত্র লালন- ৬৫১/২)। পরমগুরুকে ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করার নিয়ম পরম্পরা মতবাদে নেই। কারণ এ গুরু সবার ভাগ্যে মিলেও না আর যদিওবা মিলে তবে কেবল একে অন্যকেই ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করা হয় কিন্তু পরমগুরুকে কখনই সম্বোধন করা হয় না। সারকথা হলো কেবল মানুষগুরু ও জগৎগুরুকেই ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করা প্রয়োজন পক্ষান্তরে পরমগুরু ও কামগুরুকে ‘জয়গুরু’ বলে সম্বোধন করার কোন প্রয়োজন নেই।
(সংক্ষিপ্ত)
তথ্যসূত্রঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (৪র্থ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি