শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৫

৬. আপন দেশের মধুরবাণী (অষ্টম পর্ব)

৬. আপন দেশের মধুরবাণী
রাগিণী/ (Tune)/ ‘لحن’ (লুহানা)-
তাল/ (Rhythm)/ ‘إيقاع’ (ইক্বাউ)-
————————————————————-
“আপন দেশের মধুরবাণী
গুরু আমায় শোনাও না
দেশবাসী কয় উল্টাকথা
সোজা করে শোনায় না।
নিশিতে সূর্য উদয় কোন দেশে
দিনে চাঁদের আলো আসে (গো)
চাঁদ-সুরুজ এক অক্ষে ভাসে
তাকালে কেউ দেখে না।
কোথায় নারী বাইরে পুরুষ ঘরে
এক নারী বহু পতি ধরে (গো)
দ- হয় পুরুষের পরে
যাবজ্জীবন জেলখানা।
কোথায় বিচারক হয় আসামী
আপন বিচার করেন আপনি (গো)
বলন কাঁইজি ভেদ না জানি
শুধালে কেউ বলে না।”
সারমর্ম (Essence)/ ‘جوهر’ (জুহার)
বিশ্ববিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক ও বাংলা কাব্যাঙ্গনের যুগান্তকারী মরমীকবি বলন কাঁইজির নির্মিত বিখ্যাত গীতিকাব্য ‘বলন তত্ত্বাবলী’ হতে বিখ্যাত এ বলনটি গ্রহণ করা হয়েছে। কাঁইজি বলনটির মধ্যে বাংলাভাষায় আত্মতত্ত্ব ও আত্মদর্শনের শিক্ষাদীক্ষার চরম দৈন্যতার অনুপম চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে এখানে উপমান ও উপমিতপদের বিষয়টি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
বিশ্বের সব রূপক সাহিত্যে কেবল উপমান পদ ব্যবহার করা হয় পক্ষান্তরে প্রকৃতমূলক বা উপমেয় বা উপমিতপদ কোথাও ব্যবহার করা হয় না। এ বিষয়টি বিশ্বের অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষই জানেন না। এ জন্য রূপক সাহিত্য দ্বারা যুগেযুগে সর্বপ্রথম শিক্ষিতরাই বিভ্রান্ত হয়েছেন। তারপর সাধারণ লোক শিক্ষিত লোকদের অনুসরণ করতে গিয়ে মহাবিভ্রান্তির করালগ্রাসে পরিণত হতে বাধ্য হয়েছেন। উল্লেখ্য উপমিতপদাদিই হলো প্রকৃত এবং উপমানপদাদি হলো রূপক। রূপক সাহিত্য রূপক পরিভাষা ও ছদ্মনাম পরিভাষা ব্যবহার করে লেখা হয়। একে উপমানপদ বলা হয়। অপরদিকে মূলক চিরকালই ঢেকে রাখা হয়। কিন্তু আত্মতত্ত্বজ্ঞানহীন নব্য শিক্ষিত বা উচ্চশিক্ষিত জ্ঞানপাপীরা রূপক পরিভাষা বা ছদ্মনাম পরিভাষা বা উপমান পদের উপমিতরূপটি অন্বেষণ না করে বা রূপক পরিভাষার মূলক উদ্ঘাটন না করে কেবল মনগড়াভাবে রূপক সাহিত্যের অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও টীকা-টীপ্পনী নির্মাণ করে থাকেন। পরবর্তিকালে তা প্রাণঘাতি বা মরণঘাতি দর্শনের রূপ নেয়। মহাধীমান বলন কাঁইজি রূপক সাহিত্যে ব্যবহৃত কেবল উপমান পদের আলোচনা, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণাদিকেই দেশবাসীর উল্টা কথা বলে অভিহিত করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে ১.যে অর্থালংকারে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয় তাকে উপমা বলে (রতীরণ) ২.মানবদেহের বিষয়বস্তু, শক্তি ও অবস্থাকে প্রকৃতির বিষয়বস্তু, শক্তি ও অবস্থার সাথে তুলনামূলক বর্ণনাকে আধ্যাত্মিক উপমা বা লৌকিকা বলা হয়। মূল বিষয়টি হলো- আত্মতত্ত্বভিত্তিক রূপকথার শিক্ষামূলক ছোটছোট গল্পকাহিনীকে উপমা বলা হয়। পারস্যের সুবিখ্যাত রূপকাররা তাদের উপমান পদাদিকে কোথাও কোথাও শরিয়ত (ﺸﺭﻴﻌﺖ), মাজাযি (ﻤﺟﺎﺯﻯ), তাশবিহ (আ.ﺘﺸﺒﻴﻪ), মুতাশাবিয়া (ﻤﺘﺸﺒﻊ), মিসাল (আ.ﻤﺜﺎﻝ), ইসতেয়ারা (ﺍﺴﺘﻌﺎﺮﺓ), কিনায়া (ﻜﻨﺎﻴﻪ), ইশারাত (ﺍﺸﺎﺮﺓ), তাওরিয়া (ﺘﻭﺭﻴﺔ) এবং আপা (আ.ﺍﻔﻮﺍﻩ) বলে অভিহিত করে থাকেন এবং এ সত্তাদি দ্বারা সৃষ্ট ছোটছোট গল্পকাহিনীকে তারা মু’জিঝা (আ.ﻤﻌﺠﺯﺓ) বলে থাকেন।
পক্ষান্তরে তারা তাদের উপমেয় বা উপমিত পদাদিকে কোথাও কোথাও মিনহায (ﻤﻨﻬﺎﺝ), হাক্বিক্বি (ﺤﻗﻴﻗﻰ), সরিহ (ﺼﺮﻴﺢ), মুহকাম (ﻤﺤﻜﻢ), তাবির (ﺘﻌﺒﻴﺭ), তা’বিল (ﺗﻌﻭﻴﻞ) ও এরফান (ﻋﺮﻔﺎﻦ) ইত্যাদি বলে অভিহিত করেছেন এবং এ সত্তাদি দ্বারা কখনই রূপক সাহিত্য নির্মাণ করা যায় না। এ জন্য তারাও কখনো এসব সত্তা দ্বারা রূপক সাহিত্য নির্মাণ করেননি। অন্যদিকে ইংরেজি ভাষায় রূপক পরিভাষাদিকে মিথ (myth), এ্যালিগরি (allegory), মেটাফোর (metaphor), ফকলোর (folklore) ও মিস্টিক (mystic) ইত্যাদি বলা হয় এবং এসব রূপক পরিভাষা দ্বারা নির্মিত সাহিত্যকে ইংরেজি ভাষায় ‘mytholog’ (মিথোলজি) বলা হয়।
তদ্রূপ বাংলা ভাষায় উপমা, তুলনা, সাদৃশ্য, উদাহরণ, দৃষ্টান্ত, রূপক, ছদ্ম, কৃত্রিম ও অপ্রকৃত ইত্যাদিকে লৌকিকা, জনশ্রুতি, গুজব, রটনা, জনরব, কিংবদন্তি, চমৎকার, ছোটকি, প্রপক ও লৌকসত্তা বলে অভিহিত করা হয়। তবে এককথায় একে চমৎকার বলে অভিহিত করা হয়। এগুলো সঠিকভাবে বুঝতে না পারা হতেই আমাদের সমাজে সর্বাধিক জ্ঞানান্ধতা, শাস্ত্রীয় অন্ধবিশ্বাস, শাস্ত্রীয় অনুরাগ, আতংবাদ, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। অত্র কাব্যে কাঁইজি একেই দেশবাসীর উল্টা কথা বলে অভিহিত করেছেন। অতঃপর কাঁইজি বলেছেন রূপক বর্ণনার ধারা অনুযায়ী একটি অচেনা উপমেয় গোপন দেশ আছে। সেখানে নিশিতে সূর্য দৃশ্যমান হয় এবং দিবসে চন্দ্র দৃশ্যমান হয়ে থাকে। সেদেশে রবি ও শশী একটি অক্ষ দ্বারাই চলাফেরা করে। উপমানবাদীরা কেউই তা অনুধাবন করতে পারেন না।
কাঁইজির মতে সেদেশে নারীরা বাইরে এবং পুরুষরা ঘরে থাকেন। তারপরও পাপের দণ্ড পুরুষের ওপরই হয়ে থাকে। সেটাও হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। অত্র কাব্যে কাঁইজি আরো বলেছেন সেদেশে বিচারকই বিবাদী এবং যার বিচার তিনিই করে থাকেন। কাঁইজি এখানে উপমার চাদর দ্বারা উপমিত পদাদি ঢেকে রেখে পুরো বর্ণনাটি উপস্থাপন করেছেন। উপমান ও উপমিত পদের ব্যাপারে ভালোভাবে জ্ঞানার্জন করা ব্যতীত কেউই এরূপ রূপককাব্যের সঠিক মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারেন না। রূপক সাহিত্যাদি পাঠ করা ও প্রচার করার পূর্বে সব গবেষক, অনুবাদক, ব্যাখ্যাকার, টীকাকার ও টীপ্পনীকারদের অবশ্যই সাহিত্যের উপমান ও উপমিত পদ সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞানার্জন করা একান্ত প্রয়োজন।
রূপক পরিভাষা (Metaphorical Terminology)
/ ‘مصطلحات مجازي’ (মুস্তালাহাত মুজাঝিয়া)
আসামী১, আসামী২, কাঁই, কাঁইজি। অত্র গ্রন্থের শেষে ‘রূপক পরিভাষার অভিধা’ অনুচ্ছেদ দেখুন।
প্রশ্ন ও উত্তর (Questions & Answers)/
‘اسئلة واجابات’ (আসইলা ওয়া ইজাবাত)
১. আপনদেশ কী? (What is the native land?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সাধারণভাবে নিজের জন্মভূমিকেই আপনদেশ বলা হয় কিন্তু রূপক সাহিত্যে আত্মতত্ত্বজ্ঞানের স্তরকেই কেবল আপনদেশ বলা হয়। এ সূত্রানুযায়ী আত্মতত্ত্বজ্ঞানে জ্ঞানী ব্যক্তিকেই আপন দেশের মানুষ বলা হয়।
২. উল্টাকথা কী? (What is the reversed-saying?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সাধারণত যে কোন প্রকার তেড়া কথাকেই উল্টাকথা বলা হয় কিন্তু রূপক সাহিত্যে রূপকের আড়ালে মূলক লুকিয়ে রেখে আলোচনা করাকে উল্টাকথা বলা হয়।
৩. নিশি কী? নিশিতে সূর্যোদয় হয় কিভাবে?
(What is the nightlife? How to Sunrise in the nightlife?))
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সাধারণভাবে রাত্রিকেই নিশি বলা হয় কিন্তু রূপক সাহিত্যে রজস্বলা রমণীদের রজকালকে নিশি এবং পবিত্রকালকে দিবস বলা হয়। সাধারণত রাতকে নিশি এবং সৌরম-লের প্রধানতম জ্যোতিষ্ককে সূর্য বলা হয় কিন্তু রূপক সাহিত্যে রজকালকে নিশি এবং কাঁইকে সূর্য বলা হয়। দেহবিশ্বে ছয় প্রহরে একদিন এবং তিন প্রহরে একরাত হয়। রূপক সাহিত্যের কোন কোন সুমহান রূপকার দেহজগতের- ১.ঊষা ২.নিশা ৩.ঊর্ধ্বা ৪.শংকা ৫.বিপদ ৬.নীরব ৭.নিরাপদ ৮.অর্যমা ও ৯.স্রাবণ্য- এ নয়টি প্রহরের মধ্যে অর্যমা, স্রাবণ্য ও ঊষা- এ তিন প্রহরকে রাত বলে থাকেন। তাঁরা কাঁইকে সূর্যও বলে থাকেন। এ সূত্রানুযায়ী কাঁই রূপকার্থে রাতের অর্যমা প্রহরে মানবদেহে অবতরণ করে থাকেন। তাই তাঁরা কাঁইকে রাতে উদিত সূর্য বলে গণ্য করে থাকেন। রাতের অর্যমা প্রহরে সূর্যরূপ কাঁই অবতরণ করেন বলে রূপক সাহিত্যে রাতে সূর্য উদয়ের কথা বলা হয়।
৪. দিন কী? দিনে চাঁদ উদয় হয় কিভাবে?
(What is the day? How to the moon-rise in the day?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সাধারণভাবে সূর্যদৃশ্যমান হওয়ার পর হতে সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্তসময়কে দিন বলা হয় কিন্তু রূপক সাহিত্যে রজস্বলা রমণীদের পবিত্রকালকে দিন এবং রজকালকে নিশি বলা হয়। দেহবিশ্বে আট (৮) প্রহরে দিন এবং এক প্রহরে রাত হয়। এ সূত্রানুযায়ী দেহজগতের- ১.ঊষা ২.নিশা ৩.ঊর্ধ্বা ৪.শংকা ৫.বিপদ ৬.নীরব ৭.নিরাপদ ৮.অর্যমা ও ৯.স্রাবণ্য- এ নয়টি প্রহরের মধ্যে ১.ঊষা ২.নিশা ৩.ঊর্ধ্বা ৪.শংকা ৫.বিপদ ৬.নীরব ৭.নিরাপদ ও ৮.অর্যমা- এ ৮টি প্রহরকে দিন বলা হয়। আত্মতাত্ত্বিক মনীষীরা সাঁইকে চন্দ্রও বলে থাকেন। এ সূত্রানুযায়ী সাঁই দিনের ঊষা প্রহরে মানবদেহে অবতরণ করেন বলেই সাঁইকে দিনে উদিত চন্দ্র বলা হয়। দিনের ঊষা প্রহরে চন্দ্ররূপ সাঁই অবতরণ করেন বলে রূপক সাহিত্যে দিনে চন্দ্র উদয়ের কথা বলা হয়।
৫. চাঁদ সুরুজ এক অক্ষে ভাসে কিভাবে?
(How to sun-moon floating in an axis?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
আধ্যাত্মিকবিজ্ঞানের সূত্রানুসারে বৈতরণীকে ত্রিধারার এক অক্ষ বলা হয়। তার মধ্যে সাদা ধারাকে সাঁই ও কালো ধারাকে কাঁই বলা হয়। সাঁই ও কাঁই এ পথেই চলাচল করে বলে সাঁই ও কাঁইয়ের এক অক্ষ বলা হয়। অপরদিকে সৌরবিশ্বের চাঁদ ও সূর্য ভিন্নভিন্ন কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে। তাই রূপক সাহিত্যের সুমহান রূপকারগণ বলেন যে সৌর-জগতের চাঁদ ও সূর্য ভিন্নভিন্ন কক্ষপথে পরিভ্রমণ করলেও দেহবিশ্বের চাঁদ ও সূর্য একই কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে থাকে।
৬. নারী কী? নারী বাইরে থাকে কিভাবে?
(What is women? How to women stay outside?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সাধারণত ভগচিহ্নধারিণী প্রাণীকে নারী বলা হয় কিন্তু রূপক সাহিত্যে নরদেহের রতীকে নারী বলা হয়। বিশ্বের সব শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক রূপক সাহিত্যে কেবল রতী দ্বারাই নারীচরিত্রাদি সৃষ্টি করা হয়ে থাকে। যেমন- কমলা, লক্ষ্মী, দূর্গা এবং হাজিরা, কুলসুম ও ফাত্বিমা প্রমুখ। তবে কেবল আদিমানব বা আদিপিতা নির্মাণের ক্ষেত্রেই শুক্রকে পুরুষচরিত্র কল্পনা করা হয়ে থাকে। যেমন- পুরাণীদের আদিপিতা গোবিন্দ এবং কুরানীদের আদিপিতা আদম প্রমুখ। শুক্র সহজে পাওয়া যায়। এ জন্য রূপক সাহিত্যে শুক্রকে বাইরের সদস্য বলা হয়। অপরদিকে সাঁই ও কাঁই কঠোর সাধন করেও আহরণ করা কঠিন বলে সাঁই ও কাঁইকে অনেক গভীরের সম্পদ বা ঘরের ধন বলা হয়। আর এ সূত্র ধরেই রূপক সাহিত্যে রতীরূপ নারীকে বাইরের ও ঈশ্বররূপ উপাস্য-দ্বয়কে ঘরের সদস্য বলা হয়ে থাকে।
৭. পুরুষ কী? পুরুষ ঘরে থাকে কিভাবে?
(What is male? How to male stay at home?
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সাধারণভাবে শিশ্নচিহ্নধারী প্রাণীকে পুরুষ বলা হয় কিন্তু রূপক সাহিত্যে জ্ঞান, গুরুসুধা ও মধুকে পুরুষ বলা হয়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত অধিক শক্তিশালী কোন সত্তাকেও পুরুষ বলা হয়ে থাকে। সাঁই ও কাঁইকে কঠোর সাধন করেও আহরণ করা কঠিন বলে সাঁই ও কাঁইকে অনেক গভীরের সম্পদ বা ঘরের ধন বলা হয়। অপরদিকে শুক্র সহজে পাওয়া যায়। এ জন্য শুক্রকে বাইরের সদস্য বলা হয়। আর এ সূত্র ধরেই রূপক সাহিত্যে ঈশ্বররূপ উপাস্য দ্বয়কে ঘরের ও রতীরূপ নারীকে বাইরের সদস্য বলা হয়ে থাকে।
৮. একনারী বহুপতি ধরে কিভাবে?
(How to a woman took many husband?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সাধারণত ভগচিহ্নধারিণী প্রাণীকে নারী ও শিশ্নচিহ্নধারী প্রাণীকে পতি বলা হয় কিন্তু রূপক সাহিত্যে রতীকে নারী এবং সুধাকে পতি বলা হয়। এ সূত্র ধরেই একই রতী একাধিক ডিম্বাণু নিষিক্ত করে এবং একাধিক আত্মা সঞ্চারণ করে বলে রূপক সাহিত্যে একনারীর বহু পতি গ্রহণ করা বলা হয়ে থাকে।
৯. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কী? (What is the life imprisonment?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় বিচারালয় কর্তৃক ২৫ বছরের দ- প্রদান করাকেই যাবজ্জীবন কারাদ- বলা হয় কিন্তু রূপক সাহিত্যে জীবের দেহধারণ করাকেই কারাগারে বন্দী হওয়া বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ আত্মাকে যে কোন ধড়ে সঞ্চারণ করাকেই জীবের কারাগারে বন্দী হওয়া বলা হয়ে থাকে।
১০. বিচারক আসামী হয় কিভাবে? (How to judge the accused?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সাধারণভাবে লোকসমাজে দেখা যায় বিবাদীর কৃত অপরাধের বিচার করেন বিচারক অর্থাৎ একজনে অপরাধ করেন এবং আরেকজন বিচারকরূপে বিচারকার্য পরিচালনা করে থাকেন কিন্তু রূপক সাহিত্যে বলা হয় যিনি অপরাধী তিনিই তাঁর বিচার করেন। যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের বিচার নিজে করা না হয় ততক্ষণ সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয় না। কার্যতঃ আত্মতাত্ত্বিক মনীষীদের মুখে শোনা যায় সন্তানরূপে পুনর্জন্ম গ্রহণকারী মানুষ মাত্রই বিবাদী। আত্মতাত্ত্বিক মনীষীদের মতে সন্তান ও পিতা একই ব্যক্তি কেবল ধড়ান্তর মাত্র। এ সূত্র ধরেই আত্মতাত্ত্বিক মনীষীরা বলে থাকেন- “পিতা যখন পুত্রের বিচার করেন এবং পুত্র যখন পিতার বিচার করেন তখন বিচারকই বিবাদী এবং বিবাদীই বিচারক হন। অর্থাৎ পিতাই সন্তান এবং সন্তানই পিতা হন। এছাড়া কোথাও কোথাও জ্ঞানকে বিবাদী ও বিচারকও বলা হয়ে থাকে।
১১. আপন বিচার আপনি করেন কিভাবে?
(How does own Judgment manually?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
আপন বিচার করা বলতে কাঁইজি নিজের শুক্র নিজে নিয়ন্ত্রণ করা এবং আপন অমৃত আপনি আহরণ করাকে বুঝিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে বিচারক ও বিবাদী একজনই। কারণ শুক্রপাত করে যিনি অপরাধী, শুক্র নিয়ন্ত্রণ করে তিনিই বিচারক। এ জন্যই রূপক সাহিত্যে যিনি বিচারক তিনিই বিবাদী এরূপ বলা হয়। মূল বিষয় হলো মানুষের বিবেক হলো বিচারক এবং মন হলো বিবাদী এবং জ্ঞান হলো বাদী।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
সূত্রতথ্যঃ
(প্রশ্নোত্তরে)
বলন তত্ত্বাবলী
লেখকঃ খোরশেদ আলম

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন