৪. কাঁই কাঁইরে (মজার)
রাগিণী/ (Tune)/ ‘لحن’ (লুহানা)-
তাল/ (Rhythm)/ ‘إيقاع’ (ইক্বাউ)-
——————————————————–
“কাঁই কাঁইরে (মজার)
খাল কেটেছে ভারি কৌশলে
একবিন্দু জল নাইরে খালে
কাপড় ভিজে ঝাঁপ দিলে।
আকাশে হয় ভাটা জোয়ার
কূল ভাঙ্গে পাতালে তার
ঢাকানগরের অবাক ব্যাপার
টার্মিনাল মহাখালে।
সাড়েনয় ক্রোশ গভীর খালে
আট আঙ্গুলি বৈঠা ফেলে
সুরসিক সব যায়রে কূলে
অরসিক ডুবে জলে।
দেখে খালের তর্জনগর্জন
কত সাধক হয় অচেতন
ভাবিয়া কয় কাঁইজি বলন
দৌড় মারে সকল ফেলে।”
সারমর্ম (Essence)/ ‘جوهر’ (জুহার)
বিশ্ববিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক, উপমহাদেশের বিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক লেখক, শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক অঙ্গনের সার্থক উত্তরণকারী, বিশিষ্ট সংস্কারক এবং বাংলা কাব্যাঙ্গনের যুগান্তকারী মরমীকবি বলন কাঁইজির নির্মিত বিখ্যাত গীতিকাব্য ‘বলন তত্ত্বাবলী’ হতে বিখ্যাত এ বলনটি গ্রহণ করা হয়েছে। কাঁইজি এখানে স্বর্গধামের উল্লঙ্ঘনীয় বৈতরণীর অত্যন্ত চমৎকার রূপক বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। কাঁইজি বলেছেন কাঁই অত্যন্ত চমৎকারভাবে স্বর্গীয়খাল বৈতরণী নির্মাণ করেছেন। এ নদীটি সাধারণত জলশূন্য থাকে। এ জন্য সাবধানে গাহন করলে জল স্পর্শও করে না এবং কাপড়ও ভিজে না কিন্তু তড়িঘড়ি বা তাড়াতাড়ি নামতে গেলে সবারই সলিলসমাধি সুনিশ্চিত। তাই কাঁইজি যথার্থই বলেছেন “সুরসিক সব যায়রে কুলে, অরসিক ডুবে জলে।” স্বর্গীয়ন দীটির রূপক বর্ণনা তুলে ধরতে গিয়ে কাঁইজি বলেছেন এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী নদী কারণ এর একপাড়ে জোয়ার হলে অপরপাড় প্লাবিত হয়ে থাকে। আরো স্মরণীয় যে সব নদীর পাড়ে থাম্বার থাকে কিন্তু এ নদীর মাঝখানে থাম্বার অবস্থিত।অতঃপর কাঁইজি বলেছেন এ নদীটির দৈর্ঘ্য সাড়ে নয়ক্রোশ এবং এর মানবযানের বৈঠা মাত্র আট আঙুলি। এর তর্জনগর্জন দেখে অনেক জ্ঞানীই অত্যন্ত ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। অনেকে আবার সংসার, সমাজ ও সম্পদাদি পরিত্যাগ করে বৈরাগীব্রতও গ্রহণ করে থাকেন। তবে কাঁইজি বলেছেন কেবল সুরসিকরাই এ নদীতে প্রাণভরে সন্তরণ করতে পারেন কিন্তু অরসিকরা সবাই ডুবে মরেন।
আত্মদর্শন (Theosophy) বা আত্মতত্ত্ব (Theology)
অত্রকাব্যে কাঁইজি বৈতরণীকে কাঁইয়ের সুকৌশলে কাটা অদ্ভূতখাল বলে অভিহিত করেছেন। এর দৈর্ঘ্য সাড়ে নয়ক্রোশ দ্বারা মানবদেহের সাড়ে নয়দ্বার বুঝানো হয়েছে। যেমন মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন- “নিচে ওপর সারি সারি, সাড়েনয় দরজা তারি, লালন কয় যেতে পারি, কোন্ দরজা খুলে ঘরে” (পবিত্র লালন- ৫৫৭/৪)। আট আঙুলি বৈঠা দ্বারা বিম্বলের দৈর্ঘ্যকে বুঝানো হয়েছে। এর তর্জন-গর্জন দ্বারা চন্দ্রচেতনার প্রবল উচ্ছ্বাস বুঝানো হয়েছে। কেবল ঊর্ধ্বরেতা সাধকরাই এ নদীর অপর তীরে উত্তীর্ণ হতে পারেন অপরদিকে টলরা নদীর ধারেই ডুবে মরেন। একজন পাকা সাধকের শরণাপন্ন হলে যে কেউই অনায়াসে নদী পার হতে পারেন। অন্যথায় বৈতরণী পার হওয়া বা অলোকধামে যাওয়ার কোন পথ নেই। তবে আশার আলো হচ্ছে একজন পাকা গোঁসাই-গুরুর শরণ গ্রহণ করলে এটি কিছুটা সহজ হয়।
রূপক পরিভাষা (Metaphorical Terminology)/
‘مصطلحات مجازي’ (মুস্তালাহাত মুজাঝিয়া)
অচেতন, অরসিক, আকাশ, কাঁই, খাল, জোয়ার, টার্মিনাল, ঢাকা, ঢাকা-নগর, পাতাল, বৈঠা, ভাটা, মহাখাল, সুরসিক। অত্র গ্রন্থের শেষে ‘রূপক পরিভাষার অভিধা’ অনুচ্ছেদ দেখুন।
প্রশ্ন ও উত্তর (Questions and Answers)/
‘اسئلة واجابات’ (আসইলা ওয়া ইজাবাত)
১. কাঁইয়ের সুকৌশলে কাটা খাল কোনটি?
(Which is the artistically excavated canal of the Lord?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
ভূপৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত খালাদি প্রকৃতিরূপ স্রষ্টার নির্মিত বা খননকৃত হলেও মানবদেহে অবস্থিত মহাখালটি কাঁইয়ের দ্বারা নির্মিত বা খননকৃত বলে রূপক সাহিত্যে প্রচলিত রয়েছে। ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট কামনদীকে কাঁইয়ের সুকৌশলে নির্মিত খাল বলা হয়।
২. জলহীন খালে নামলে কাপড় ভিজে কিভাবে?
(How clothes wet dismounted waterless canal?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে বৈতরণীকে জলহীন খাল এবং শুক্রপাত করা অথবা কামরস নিঃসৃত হওয়াকে কাপড় ভিজা বলা হয়। বড় অবাক হওয়ার ব্যাপার এ যে, এ স্বর্গীয়খালে কখনই কোন প্রকার জল থাকে না অথচ যমযজ্ঞে রতো হওয়ার পর বিভিন্ন প্রকার রসের প্রবল প্রবাহ আরম্ভ হয়ে থাকে। এ হতেই রূপক সাহিত্যে জলহীন খালে নামলে কাপড় ভিজার কথা বলা হয়।
৩. আকাশে সংঘটিত জোয়ার-ভাটা কী? (What tides occur in the sky?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে বৈকুণ্ঠকে আকাশ, বসিধার আগমনকে জোয়ার এবং বসিধার নিগমনকে ভাটা বলা হয়। বৈকুণ্ঠরূপ আকাশে বসিধের আগমন ও নিগমন সংঘটিত হয় বলে রূপক সাহিত্যে আকাশে জোয়ার ভাটা সংঘটিত হওয়া বলা হয়।
4. পাতালে পাড় ভাঙ্গে কিভাবে?
(How to break the shore in the Hades?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে রজ প্রবাহকে জোয়ার, বৈকুণ্ঠকে আকাশ বা সাগর এবং বৈতরণীকে পাতাল বা ডাঙ্গা বলা হয়। এ সূত্রানুযায়ী আকাশের জোয়ার পাতালে প্রবাহিত হয়ে থাকে। পাড়ভাঙ্গা রূপক সাহিত্যের অলংকার মাত্র। জোয়ারের জলস্রোত কখনো উভয় পাড় প্লাবিত করে আবার কখনো একুল ভাঙ্গে ওকুল গড়ে আবার কখনো ওকুল ভাঙ্গে এ কুল গড়ে কিন্তু রূপক সাহিত্যে এরূপ বর্ণনা প্রায় বিরল।
৫. ঢাকার মহাখালির টার্মিনাল কোনটি?
(What is the terminal at Mohakhali of Dhaka?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে বৈকুণ্ঠকে ঢাকা এবং বৈতরণীকে মহাখাল বা রূপকার্থে টার্মিনাল বলা হয়। বর্তমান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মহাখালিতে বাস টার্মিনাল গড়ে উঠেছে বলে রূপক সাহিত্যে বৈতরণীকে ঢাকার টার্মিনালের সাথে উপমা নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও বৈতরণী বা স্বর্গীয় গুপ্তখাল বা মহাখালটি চিরঢাকা বলে একে ঢাকার মহাখাল বলা হয়।
৬. সাড়ে নয় ক্রোশ গভীর খাল কোনটি?
(What is the nine and half krosa deep channels?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
মানবদেহের মধ্যে অবস্থিত সাড়েনয় দুয়ারবিশিষ্ট স্বর্গীয়নদী বৈতরণীকে রূপক সাহিত্যে সাড়েনয় ক্রোশ দীর্ঘখাল বলা হয়। কিন্তু বৈতরণী প্রকৃতপক্ষে সাড়েনয় ক্রোশ নয় বরং এটি অষ্টক্রোশ বলেই বিশ্বের বিভিন্ন রূপকসাহিত্যে বর্ণিত রয়েছে। তবে এখানে আলংকারিক অর্থে বৈতরণীকে সাড়েনয় ক্রোশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
৭. আট আঙুলী লম্বা বৈঠা কী? (What is the eight fingers long oar?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে বিম্বলকে বৈঠা বলা হয় এবং এটি আট আঙুলি বলে একে আট আঙুলি বৈঠা বলা হয়। এ বৈঠা দ্বারা বেয়ে দেহরূপ তরীকে বৈতরণী অতিক্রম করাতে হয় বলে রূপক সাহিত্যে একে বৈঠা বলা হয়।
৮. সুরসিকের পার হওয়া কী?
(What is the crossing of good-humorist?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে অটলতা অর্জনকারী ঊর্ধ্বরেতাদের সুরসিক বলা হয়। অটলতা বা পারমিতা অর্জনকারীরা অনায়াসে বৈতরণী অতিক্রম করতে পারেন। বৈতরণী অতিক্রমণ করাকে রূপক সাহিত্যে পার হওয়া বলা হয়।
৯. অরসিকের ডুবে মরা কী?
(What is the drowning death of non-humorist ?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
যমযজ্ঞে শুক্র নিয়ন্ত্রণ করতে অপারগদেরকে রূপক সাহিত্যে অরসিক এবং শুক্রপাত করাকে ডুবে মরা বলা হয়। অরসিকরা হাজার শ্বাস পর্যন্ত অটল থাকতে পারেন না। ফলে তারা বৈতরণী অতিক্রমণ করতেও পারেন না। টল হওয়ার কারণে অরসিকরা বৈতরণীর পাড়েই শুক্রপাতরূপ মরণ দ্বারা ডুবে যান।
১০. খালের তর্জনগর্জন দেখে অধিকাংশ লোক পালিয়ে যাওয়া কী?
(What the fleeing of most people to seeing bluster the canal?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে বৈতরণীকে প্রবল খরস্রোতা ও প্লবতাহীন নদ বা খাল বলা হয়। কেবল পাকাসাধক ভিন্ন এ স্বর্গীয় নদ বা খালটি সাধারণ লোক অতিক্রম করতে পারে না। অর্থাৎ অটলসাধক ভিন্ন সবাই এ খালটি অতিক্রম করতে ভয় করে। এ জন্যই এখানে খালের তর্জনগর্জন দেখে সবার পালিয়ে যাওয়া বলা হয়েছে।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
সূত্রতথ্যঃ
(প্রশ্নোত্তরে)
বলন তত্ত্বাবলী
লেখকঃ খোরশেদ আলম
রাগিণী/ (Tune)/ ‘لحن’ (লুহানা)-
তাল/ (Rhythm)/ ‘إيقاع’ (ইক্বাউ)-
——————————————————–
“কাঁই কাঁইরে (মজার)
খাল কেটেছে ভারি কৌশলে
একবিন্দু জল নাইরে খালে
কাপড় ভিজে ঝাঁপ দিলে।
আকাশে হয় ভাটা জোয়ার
কূল ভাঙ্গে পাতালে তার
ঢাকানগরের অবাক ব্যাপার
টার্মিনাল মহাখালে।
সাড়েনয় ক্রোশ গভীর খালে
আট আঙ্গুলি বৈঠা ফেলে
সুরসিক সব যায়রে কূলে
অরসিক ডুবে জলে।
দেখে খালের তর্জনগর্জন
কত সাধক হয় অচেতন
ভাবিয়া কয় কাঁইজি বলন
দৌড় মারে সকল ফেলে।”
সারমর্ম (Essence)/ ‘جوهر’ (জুহার)
বিশ্ববিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক, উপমহাদেশের বিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক লেখক, শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক অঙ্গনের সার্থক উত্তরণকারী, বিশিষ্ট সংস্কারক এবং বাংলা কাব্যাঙ্গনের যুগান্তকারী মরমীকবি বলন কাঁইজির নির্মিত বিখ্যাত গীতিকাব্য ‘বলন তত্ত্বাবলী’ হতে বিখ্যাত এ বলনটি গ্রহণ করা হয়েছে। কাঁইজি এখানে স্বর্গধামের উল্লঙ্ঘনীয় বৈতরণীর অত্যন্ত চমৎকার রূপক বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। কাঁইজি বলেছেন কাঁই অত্যন্ত চমৎকারভাবে স্বর্গীয়খাল বৈতরণী নির্মাণ করেছেন। এ নদীটি সাধারণত জলশূন্য থাকে। এ জন্য সাবধানে গাহন করলে জল স্পর্শও করে না এবং কাপড়ও ভিজে না কিন্তু তড়িঘড়ি বা তাড়াতাড়ি নামতে গেলে সবারই সলিলসমাধি সুনিশ্চিত। তাই কাঁইজি যথার্থই বলেছেন “সুরসিক সব যায়রে কুলে, অরসিক ডুবে জলে।” স্বর্গীয়ন দীটির রূপক বর্ণনা তুলে ধরতে গিয়ে কাঁইজি বলেছেন এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী নদী কারণ এর একপাড়ে জোয়ার হলে অপরপাড় প্লাবিত হয়ে থাকে। আরো স্মরণীয় যে সব নদীর পাড়ে থাম্বার থাকে কিন্তু এ নদীর মাঝখানে থাম্বার অবস্থিত।অতঃপর কাঁইজি বলেছেন এ নদীটির দৈর্ঘ্য সাড়ে নয়ক্রোশ এবং এর মানবযানের বৈঠা মাত্র আট আঙুলি। এর তর্জনগর্জন দেখে অনেক জ্ঞানীই অত্যন্ত ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। অনেকে আবার সংসার, সমাজ ও সম্পদাদি পরিত্যাগ করে বৈরাগীব্রতও গ্রহণ করে থাকেন। তবে কাঁইজি বলেছেন কেবল সুরসিকরাই এ নদীতে প্রাণভরে সন্তরণ করতে পারেন কিন্তু অরসিকরা সবাই ডুবে মরেন।
আত্মদর্শন (Theosophy) বা আত্মতত্ত্ব (Theology)
অত্রকাব্যে কাঁইজি বৈতরণীকে কাঁইয়ের সুকৌশলে কাটা অদ্ভূতখাল বলে অভিহিত করেছেন। এর দৈর্ঘ্য সাড়ে নয়ক্রোশ দ্বারা মানবদেহের সাড়ে নয়দ্বার বুঝানো হয়েছে। যেমন মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন- “নিচে ওপর সারি সারি, সাড়েনয় দরজা তারি, লালন কয় যেতে পারি, কোন্ দরজা খুলে ঘরে” (পবিত্র লালন- ৫৫৭/৪)। আট আঙুলি বৈঠা দ্বারা বিম্বলের দৈর্ঘ্যকে বুঝানো হয়েছে। এর তর্জন-গর্জন দ্বারা চন্দ্রচেতনার প্রবল উচ্ছ্বাস বুঝানো হয়েছে। কেবল ঊর্ধ্বরেতা সাধকরাই এ নদীর অপর তীরে উত্তীর্ণ হতে পারেন অপরদিকে টলরা নদীর ধারেই ডুবে মরেন। একজন পাকা সাধকের শরণাপন্ন হলে যে কেউই অনায়াসে নদী পার হতে পারেন। অন্যথায় বৈতরণী পার হওয়া বা অলোকধামে যাওয়ার কোন পথ নেই। তবে আশার আলো হচ্ছে একজন পাকা গোঁসাই-গুরুর শরণ গ্রহণ করলে এটি কিছুটা সহজ হয়।
রূপক পরিভাষা (Metaphorical Terminology)/
‘مصطلحات مجازي’ (মুস্তালাহাত মুজাঝিয়া)
অচেতন, অরসিক, আকাশ, কাঁই, খাল, জোয়ার, টার্মিনাল, ঢাকা, ঢাকা-নগর, পাতাল, বৈঠা, ভাটা, মহাখাল, সুরসিক। অত্র গ্রন্থের শেষে ‘রূপক পরিভাষার অভিধা’ অনুচ্ছেদ দেখুন।
প্রশ্ন ও উত্তর (Questions and Answers)/
‘اسئلة واجابات’ (আসইলা ওয়া ইজাবাত)
১. কাঁইয়ের সুকৌশলে কাটা খাল কোনটি?
(Which is the artistically excavated canal of the Lord?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
ভূপৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত খালাদি প্রকৃতিরূপ স্রষ্টার নির্মিত বা খননকৃত হলেও মানবদেহে অবস্থিত মহাখালটি কাঁইয়ের দ্বারা নির্মিত বা খননকৃত বলে রূপক সাহিত্যে প্রচলিত রয়েছে। ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট কামনদীকে কাঁইয়ের সুকৌশলে নির্মিত খাল বলা হয়।
২. জলহীন খালে নামলে কাপড় ভিজে কিভাবে?
(How clothes wet dismounted waterless canal?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে বৈতরণীকে জলহীন খাল এবং শুক্রপাত করা অথবা কামরস নিঃসৃত হওয়াকে কাপড় ভিজা বলা হয়। বড় অবাক হওয়ার ব্যাপার এ যে, এ স্বর্গীয়খালে কখনই কোন প্রকার জল থাকে না অথচ যমযজ্ঞে রতো হওয়ার পর বিভিন্ন প্রকার রসের প্রবল প্রবাহ আরম্ভ হয়ে থাকে। এ হতেই রূপক সাহিত্যে জলহীন খালে নামলে কাপড় ভিজার কথা বলা হয়।
৩. আকাশে সংঘটিত জোয়ার-ভাটা কী? (What tides occur in the sky?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে বৈকুণ্ঠকে আকাশ, বসিধার আগমনকে জোয়ার এবং বসিধার নিগমনকে ভাটা বলা হয়। বৈকুণ্ঠরূপ আকাশে বসিধের আগমন ও নিগমন সংঘটিত হয় বলে রূপক সাহিত্যে আকাশে জোয়ার ভাটা সংঘটিত হওয়া বলা হয়।
4. পাতালে পাড় ভাঙ্গে কিভাবে?
(How to break the shore in the Hades?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে রজ প্রবাহকে জোয়ার, বৈকুণ্ঠকে আকাশ বা সাগর এবং বৈতরণীকে পাতাল বা ডাঙ্গা বলা হয়। এ সূত্রানুযায়ী আকাশের জোয়ার পাতালে প্রবাহিত হয়ে থাকে। পাড়ভাঙ্গা রূপক সাহিত্যের অলংকার মাত্র। জোয়ারের জলস্রোত কখনো উভয় পাড় প্লাবিত করে আবার কখনো একুল ভাঙ্গে ওকুল গড়ে আবার কখনো ওকুল ভাঙ্গে এ কুল গড়ে কিন্তু রূপক সাহিত্যে এরূপ বর্ণনা প্রায় বিরল।
৫. ঢাকার মহাখালির টার্মিনাল কোনটি?
(What is the terminal at Mohakhali of Dhaka?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে বৈকুণ্ঠকে ঢাকা এবং বৈতরণীকে মহাখাল বা রূপকার্থে টার্মিনাল বলা হয়। বর্তমান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মহাখালিতে বাস টার্মিনাল গড়ে উঠেছে বলে রূপক সাহিত্যে বৈতরণীকে ঢাকার টার্মিনালের সাথে উপমা নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও বৈতরণী বা স্বর্গীয় গুপ্তখাল বা মহাখালটি চিরঢাকা বলে একে ঢাকার মহাখাল বলা হয়।
৬. সাড়ে নয় ক্রোশ গভীর খাল কোনটি?
(What is the nine and half krosa deep channels?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
মানবদেহের মধ্যে অবস্থিত সাড়েনয় দুয়ারবিশিষ্ট স্বর্গীয়নদী বৈতরণীকে রূপক সাহিত্যে সাড়েনয় ক্রোশ দীর্ঘখাল বলা হয়। কিন্তু বৈতরণী প্রকৃতপক্ষে সাড়েনয় ক্রোশ নয় বরং এটি অষ্টক্রোশ বলেই বিশ্বের বিভিন্ন রূপকসাহিত্যে বর্ণিত রয়েছে। তবে এখানে আলংকারিক অর্থে বৈতরণীকে সাড়েনয় ক্রোশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
৭. আট আঙুলী লম্বা বৈঠা কী? (What is the eight fingers long oar?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে বিম্বলকে বৈঠা বলা হয় এবং এটি আট আঙুলি বলে একে আট আঙুলি বৈঠা বলা হয়। এ বৈঠা দ্বারা বেয়ে দেহরূপ তরীকে বৈতরণী অতিক্রম করাতে হয় বলে রূপক সাহিত্যে একে বৈঠা বলা হয়।
৮. সুরসিকের পার হওয়া কী?
(What is the crossing of good-humorist?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে অটলতা অর্জনকারী ঊর্ধ্বরেতাদের সুরসিক বলা হয়। অটলতা বা পারমিতা অর্জনকারীরা অনায়াসে বৈতরণী অতিক্রম করতে পারেন। বৈতরণী অতিক্রমণ করাকে রূপক সাহিত্যে পার হওয়া বলা হয়।
৯. অরসিকের ডুবে মরা কী?
(What is the drowning death of non-humorist ?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
যমযজ্ঞে শুক্র নিয়ন্ত্রণ করতে অপারগদেরকে রূপক সাহিত্যে অরসিক এবং শুক্রপাত করাকে ডুবে মরা বলা হয়। অরসিকরা হাজার শ্বাস পর্যন্ত অটল থাকতে পারেন না। ফলে তারা বৈতরণী অতিক্রমণ করতেও পারেন না। টল হওয়ার কারণে অরসিকরা বৈতরণীর পাড়েই শুক্রপাতরূপ মরণ দ্বারা ডুবে যান।
১০. খালের তর্জনগর্জন দেখে অধিকাংশ লোক পালিয়ে যাওয়া কী?
(What the fleeing of most people to seeing bluster the canal?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে বৈতরণীকে প্রবল খরস্রোতা ও প্লবতাহীন নদ বা খাল বলা হয়। কেবল পাকাসাধক ভিন্ন এ স্বর্গীয় নদ বা খালটি সাধারণ লোক অতিক্রম করতে পারে না। অর্থাৎ অটলসাধক ভিন্ন সবাই এ খালটি অতিক্রম করতে ভয় করে। এ জন্যই এখানে খালের তর্জনগর্জন দেখে সবার পালিয়ে যাওয়া বলা হয়েছে।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
সূত্রতথ্যঃ
(প্রশ্নোত্তরে)
বলন তত্ত্বাবলী
লেখকঃ খোরশেদ আলম
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন