১০. চাঁদ হয়েছে চাঁদে উদয়
রাগিণী/ (Tune)/ ‘لحن’ (লুহানা)-
তাল/ (Rhythm)/ ‘إيقاع’ (ইক্বাউ)-
————————————————————-
“চাঁদ হয়েছে চাঁদে উদয়
চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ
চাঁদেই বিশ্ব জ্যোতির্ময়।
আপনগর্ভে রেখে পতি
অনূঢ়া হয় গর্ভবতী
জলের মাঝে জ্বলছে বাতি
আকাশে বসিয়া সাঁই।
পুরাণীরা কাশীধামে
কুরানীরা কয় মদিনে
চাঁদের উদয় হচ্ছে দিনে
রাতে সে চাঁদ গুপ্ত রয়।
ননী খেতে মদনচোরা
আপন বুকে মারল ছোরা
বলন কয় কেমন গোরা
ভেবে অন্ত নাহি পায়।”
সারমর্ম (Essence)/ ‘جوهر’ (জুহার)
বিশ্ববিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক, বাংলাভাষার যুগান্তকারী আত্মতাত্ত্বিক লেখক, শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক অঙ্গন উত্তরণের সার্থক রূপকার, বাংলাভাষার বিখ্যাত মরমীকবি বলন কাঁইজির নির্মিত বিখ্যাত গীতিকাব্য ‘বলন তত্ত্বাবলী’ হতে আলোচ্য বিখ্যাত এ বলনটি গ্রহণ করা হয়েছে।
কাঁইজি এখানে কৈশোর চাঁদের গায়ে যৌবন চাঁদ উদয় হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কৈশোরের গায়ে যৌবন চাঁদ উদয় হওয়াকে কাঁইজি চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ বলে অভিহিত করেছেন। কৈশোর চাঁদের ওপর যৌবন চাঁদ উদিত না হলে কিশোর কিশোরী সৌন্দর্যপ্রিয় ও জ্যোতির্ময় হয়ে উঠে না। কিশোর কিশোরীর দেহে যৌবন উদিত হওয়াকেই কাঁইজি বিশ্ব জ্যোতির্ময় হওয়া বলে অভিহিত করেছেন।
এছাড়া কাঁইজি অত্র কাব্যে আরো একটি চাঁদের কথা বলেছেন এবং এটিই অত্র কাব্যের প্রকৃত চাঁদ। কাঁইজির মতে এ চাঁদটি হলেন সাঁই। কাঁইজির মতে উপমেয় একটি দেশ আছে। সেদেশে অনূঢ়ার গর্ভে তার স্বামী জন্মগ্রহণ করেন কিন্তু আমাদের দেশে এরূপ হওয়া চিরনিষিদ্ধ। এদেশে জলের মধ্যে বাতি নিভে যায় কিন্তু কাঁইজির সেদেশে জলের মাঝে দিব্যি বাতি জ্বলে এবং বর্তমানেও তা জ্বলছে।
কাঁইজি সে চাঁদের অবস্থান সম্পর্কে বলেছেন পুরাণীরা বলেন কাশীধামে কিন্তু কুরানীরা বলেন মদিনায় সে চাঁদ উদিত হয়। কাঁইজি বলেছেন- শাস্ত্রীয় মতাবলম্বীরা সাঁইরূপ সে চাঁদের অবস্থান সম্পর্কে যে যা-ই বলুন না কেন, সে চাঁদ এদেশের চাঁদের মতো রাতে উদয় হয় না বরং সে চাঁদ দিবসে উদয় হয় এবং রাতের বেলায় গুপ্ত রয়।
সাঁইয়ের বস্তুগত নাম ‘ননি’। বিম্বল একজন প্রতীতি। পুরাণীরা যাকে মদনচোরা বলে থাকেন। এ বিম্বল প্রতীতি চাঁদরূপ সে ননি আহরণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। সাঁইয়ের অপর চারিত্রিক নাম ‘গোরা’। তাই কাঁইজি বলেছেন ‘গোরা’রূপ সে চাঁদ যে কেমন! অনন্তকাল ভাবলেও তার কোন অন্ত পাওয়া সম্ভব নয়।
রূপক পরিভাষা (Metaphorical Terminology)/
‘مصطلحات مجازي’ (মুস্তালাহাত মুজাঝিয়া)
অনূঢ়া, কাশী, কাশীধাম, কুরানী, গোরা, চন্দ্রগ্রহণ, চাঁদ, ছোরা, দিন, ননি, পুরাণী, মদনচোরা, মদিনা, রাত, সাঁই। অত্র গ্রন্থের শেষে ‘রূপক পরিভাষার অভিধা’ অনুচ্ছেদ দেখুন।
প্রশ্ন ও উত্তর (Questions & Answers)/
‘اسئلة واجابات’ (আসইলা ওয়া ইজাবাত)
১. চাঁদ চাঁদে উদয় হয় কিভাবে?
(How moon is rising to the moon?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে মানবসন্তানের কৈশোরকালকে চাঁদ এবং যৌবন উদয় হওয়াকে চাঁদ উদয় হওয়া বলা হয়। কৈশোরকালরূপ চাঁদের গায়ে যৌবনচাঁদ উদয় হয় বলে যৌবন উদয় হওয়াকে রূপকসাহিত্যে চাঁদের গায়ে চাঁদ উদয় হওয়া বলা হয়।
২. চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ হয় কিভাবে?
(How is the moon moon `Lunar eclipse’?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
চন্দ্রগ্রহণ অর্থ চন্দ্র সাময়িক অদৃশ্য হওয়া। রূপকসাহিত্যে কৈশোরকালকে ও যৌবনকালকে যেমন চাঁদ বলা হয়। তদ্রূপ যৌবন উদয় হওয়াকেও চাঁদ উদয় হওয়া বলা হয়। যৌবন চাঁদ উদয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কৈশোরচাঁদ চিরদিনের মতো অদৃশ্য হয়ে যায়। এ জন্য বলে যৌবনচাঁদ দ্বারা কৈশোর চাঁদের গ্রহণ হওয়া বলা হয়। এ সূত্র হতেই চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়। অর্থাৎ একচাঁদ এসে আরেক চাঁদ অদৃশ্য করাকেই চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়েছে।
৩. গর্ভে পতি রেখে অনূঢ়া গর্ভবতী হয় কিভাবে?
(How are pregnant celibate Keep husband in the womb?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে বিশ্বের সর্ব প্রকার বিচিকে অনূঢ়া এবং বিচির মধ্যে সুপ্তভাবে অবস্থিত ভ্রূণকে পতি/ সন্তান বলা হয়। যেমন- তেঁতুল বিচিকে অনূঢ়া এবং সে বিচির মধ্যে সুপ্ত তেঁতুল গাছের ভ্রূণকে তার পতি বা সন্তান বলা হয়। এ সূত্র হতে বলা হয়েছে “আপনগর্ভে রেখে পতি, অনূঢ়া হয় গর্ভবতী।” অর্থাৎ বিচিরূপ অনূঢ়ার ভ্রূণরূপ পতি ধারণ করা।
৪. জলের মাঝে বাতি জ্বলে কিভাবে?
(How to ignite the lamp in the water?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে দেহকে জল এবং জ্ঞানকে বাতি বলা হয়। দেহ জল দ্বারা নির্মিত বলেই দেহকে জলবৎ বলা হয়। বাতি যেমন আলো ছড়ায় জ্ঞানও তদ্রূপ আলো ছড়ায় বলে জ্ঞানকে আলো বা বাতির সাথে তুলনা করা হয়। জলময় দেহের মধ্যে দিব্যজ্ঞানের উদয় হওয়াকে জলের মধ্যে বাতি জ্বলা বলা হয়।
৫. কোন্ আকাশে সাঁই বাস করেন?
((What sky God live in?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে নাভিকে মধ্যমূল, নাভির নিচের অংশকে ভূমি এবং নাভির ওপরের অংশকে আকাশ ধরা হয়। এছাড়া বৈতরণীকে পাতাল ও বৈকুণ্ঠকে আকাশ ধরা হয়। বিশ্ববিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিকদের মতে বৈকুণ্ঠ-রূপ আকাশে সাঁই বাস করে থাকেন।
৬. কাশীধাম কী? (What is the Grassy?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
পুরাণী মুনীষীদের রূপক বর্ণনা মতে এটি বিখ্যাত একটি তীর্থস্থান এবং এটি বর্তমান ভারতের একটি নগরী বিশেষ। কাশ যেখানে উৎপন্ন হয় তাকে কাশী বলে। কাশবন হতে যেরূপ কাশতৃণ উদ্গমন হয় তদ্রূপ বৈকুণ্ঠ হতে সন্তান উদ্ভব হয় বলে রূপকসাহিত্যে বৈকুণ্ঠকে কাশী বা কাশীধাম বলা হয়। অর্থাৎ রূপকসাহিত্যে কাশী হলো বৈকুণ্ঠ।
৭. মদিনা কী? (What is the town?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
মদিনা (ﻤﺪﻴﻧﻪ) আরবি শব্দ। এর অর্থ- নগর, হাট, তীর্থ, বাণিজ্যকেন্দ্র, ব্যবসাকেন্দ্র, বিপণিচক্র, গন্তব্যস্থল, তীর্থস্থান, সুজলা-সুফলা ও শস্য-শ্যামলা ভূমি। এর পূর্বনাম ছিল ইয়াসরিব (আ.ﻴﺜﺮﺐ)। কুরানী মনীষীদের রূপক বর্ণনা মতে আরব দেশের অন্যতম প্রধান-নগর এবং কুরানীদের বিশ্ব তীর্থস্থান, কুরানোক্ত মুহাম্মদ জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে স্থানান্তরিত হয়ে এখানে আসেন এবং তাঁর সমাধিও এখানে অবস্থিত। বিশিষ্ট আত্মতাত্ত্বিক মনীষীদের মতে বৈকুণ্ঠই সবচেয়ে বড় বাণিজ্যকেন্দ্র। যেহেতু এ নগর হতে বিশ্বের সর্ব প্রকার উদ্ভিদ ও প্রাণীর উদ্ভব। রূপকসাহিত্যে একে ঢাকা, নিধুয়া, কাশী, মথুরা, বৈকুণ্ঠ ও স্বর্গ ইত্যাদি বলা হয়।
৮. দিনে চাঁদ উদয় হয় কিভাবে?
(How the moon is rising in the day?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে রজস্বলাদের পবিত্রতার ২৭ দিনকে দিন এবং সাঁইকে চাঁদ বলা হয়। পবিত্রতারূপ দিনে সাঁইরূপ চাঁদের উদয় হয় বলে রূপকসাহিত্যে দিনে চাঁদ উদয়ের কথা বলা হয়।
৯. মদনচোরা ননি খেতে গিয়ে আপনবুকে ছুরি মারেন কিভাবে?
(How to stabbed Cupid own-chest to eat cream?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে বিম্বলকে মদনচোরা, সাঁইকে ননি এবং শুক্রপাত করাকে আপনবুকে ছুরি মারা বলা হয়। সাঁই-সাধন বা সাঁইদর্শন করতে গিয়ে মদনবাবুর টলে যাওয়াকে তার আপনবুকে ছুরি মারা বলা হয়।
১০. অন্তহীন গোরা কে? (Who is unendingly Lord?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে পালনকর্তা ও কবন্ধকে গোরা বা গৌর বলা হয়। বিশ্বের অনেক মহাগ্রন্থে জীবের পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তাকে প্রায় একই সত্তারূপে ব্যবহার করা হয়। এখানে পালনকর্তা দ্বারা সৃষ্টিকর্তাকেই বুঝানো হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা সাকারে একরূপ হলেও আকারে অনন্তরূপ। এ জন্য রূপকসাহিত্যে সৃষ্টিকর্তাকে অন্তহীন গোরা বলা হয়।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
সূত্রতথ্যঃ
(প্রশ্নোত্তরে)
বলন তত্ত্বাবলী
লেখকঃ খোরশেদ আলম
রাগিণী/ (Tune)/ ‘لحن’ (লুহানা)-
তাল/ (Rhythm)/ ‘إيقاع’ (ইক্বাউ)-
————————————————————-
“চাঁদ হয়েছে চাঁদে উদয়
চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ
চাঁদেই বিশ্ব জ্যোতির্ময়।
আপনগর্ভে রেখে পতি
অনূঢ়া হয় গর্ভবতী
জলের মাঝে জ্বলছে বাতি
আকাশে বসিয়া সাঁই।
পুরাণীরা কাশীধামে
কুরানীরা কয় মদিনে
চাঁদের উদয় হচ্ছে দিনে
রাতে সে চাঁদ গুপ্ত রয়।
ননী খেতে মদনচোরা
আপন বুকে মারল ছোরা
বলন কয় কেমন গোরা
ভেবে অন্ত নাহি পায়।”
সারমর্ম (Essence)/ ‘جوهر’ (জুহার)
বিশ্ববিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক, বাংলাভাষার যুগান্তকারী আত্মতাত্ত্বিক লেখক, শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক অঙ্গন উত্তরণের সার্থক রূপকার, বাংলাভাষার বিখ্যাত মরমীকবি বলন কাঁইজির নির্মিত বিখ্যাত গীতিকাব্য ‘বলন তত্ত্বাবলী’ হতে আলোচ্য বিখ্যাত এ বলনটি গ্রহণ করা হয়েছে।
কাঁইজি এখানে কৈশোর চাঁদের গায়ে যৌবন চাঁদ উদয় হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কৈশোরের গায়ে যৌবন চাঁদ উদয় হওয়াকে কাঁইজি চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ বলে অভিহিত করেছেন। কৈশোর চাঁদের ওপর যৌবন চাঁদ উদিত না হলে কিশোর কিশোরী সৌন্দর্যপ্রিয় ও জ্যোতির্ময় হয়ে উঠে না। কিশোর কিশোরীর দেহে যৌবন উদিত হওয়াকেই কাঁইজি বিশ্ব জ্যোতির্ময় হওয়া বলে অভিহিত করেছেন।
এছাড়া কাঁইজি অত্র কাব্যে আরো একটি চাঁদের কথা বলেছেন এবং এটিই অত্র কাব্যের প্রকৃত চাঁদ। কাঁইজির মতে এ চাঁদটি হলেন সাঁই। কাঁইজির মতে উপমেয় একটি দেশ আছে। সেদেশে অনূঢ়ার গর্ভে তার স্বামী জন্মগ্রহণ করেন কিন্তু আমাদের দেশে এরূপ হওয়া চিরনিষিদ্ধ। এদেশে জলের মধ্যে বাতি নিভে যায় কিন্তু কাঁইজির সেদেশে জলের মাঝে দিব্যি বাতি জ্বলে এবং বর্তমানেও তা জ্বলছে।
কাঁইজি সে চাঁদের অবস্থান সম্পর্কে বলেছেন পুরাণীরা বলেন কাশীধামে কিন্তু কুরানীরা বলেন মদিনায় সে চাঁদ উদিত হয়। কাঁইজি বলেছেন- শাস্ত্রীয় মতাবলম্বীরা সাঁইরূপ সে চাঁদের অবস্থান সম্পর্কে যে যা-ই বলুন না কেন, সে চাঁদ এদেশের চাঁদের মতো রাতে উদয় হয় না বরং সে চাঁদ দিবসে উদয় হয় এবং রাতের বেলায় গুপ্ত রয়।
সাঁইয়ের বস্তুগত নাম ‘ননি’। বিম্বল একজন প্রতীতি। পুরাণীরা যাকে মদনচোরা বলে থাকেন। এ বিম্বল প্রতীতি চাঁদরূপ সে ননি আহরণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। সাঁইয়ের অপর চারিত্রিক নাম ‘গোরা’। তাই কাঁইজি বলেছেন ‘গোরা’রূপ সে চাঁদ যে কেমন! অনন্তকাল ভাবলেও তার কোন অন্ত পাওয়া সম্ভব নয়।
রূপক পরিভাষা (Metaphorical Terminology)/
‘مصطلحات مجازي’ (মুস্তালাহাত মুজাঝিয়া)
অনূঢ়া, কাশী, কাশীধাম, কুরানী, গোরা, চন্দ্রগ্রহণ, চাঁদ, ছোরা, দিন, ননি, পুরাণী, মদনচোরা, মদিনা, রাত, সাঁই। অত্র গ্রন্থের শেষে ‘রূপক পরিভাষার অভিধা’ অনুচ্ছেদ দেখুন।
প্রশ্ন ও উত্তর (Questions & Answers)/
‘اسئلة واجابات’ (আসইলা ওয়া ইজাবাত)
১. চাঁদ চাঁদে উদয় হয় কিভাবে?
(How moon is rising to the moon?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে মানবসন্তানের কৈশোরকালকে চাঁদ এবং যৌবন উদয় হওয়াকে চাঁদ উদয় হওয়া বলা হয়। কৈশোরকালরূপ চাঁদের গায়ে যৌবনচাঁদ উদয় হয় বলে যৌবন উদয় হওয়াকে রূপকসাহিত্যে চাঁদের গায়ে চাঁদ উদয় হওয়া বলা হয়।
২. চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ হয় কিভাবে?
(How is the moon moon `Lunar eclipse’?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
চন্দ্রগ্রহণ অর্থ চন্দ্র সাময়িক অদৃশ্য হওয়া। রূপকসাহিত্যে কৈশোরকালকে ও যৌবনকালকে যেমন চাঁদ বলা হয়। তদ্রূপ যৌবন উদয় হওয়াকেও চাঁদ উদয় হওয়া বলা হয়। যৌবন চাঁদ উদয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কৈশোরচাঁদ চিরদিনের মতো অদৃশ্য হয়ে যায়। এ জন্য বলে যৌবনচাঁদ দ্বারা কৈশোর চাঁদের গ্রহণ হওয়া বলা হয়। এ সূত্র হতেই চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়। অর্থাৎ একচাঁদ এসে আরেক চাঁদ অদৃশ্য করাকেই চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়েছে।
৩. গর্ভে পতি রেখে অনূঢ়া গর্ভবতী হয় কিভাবে?
(How are pregnant celibate Keep husband in the womb?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে বিশ্বের সর্ব প্রকার বিচিকে অনূঢ়া এবং বিচির মধ্যে সুপ্তভাবে অবস্থিত ভ্রূণকে পতি/ সন্তান বলা হয়। যেমন- তেঁতুল বিচিকে অনূঢ়া এবং সে বিচির মধ্যে সুপ্ত তেঁতুল গাছের ভ্রূণকে তার পতি বা সন্তান বলা হয়। এ সূত্র হতে বলা হয়েছে “আপনগর্ভে রেখে পতি, অনূঢ়া হয় গর্ভবতী।” অর্থাৎ বিচিরূপ অনূঢ়ার ভ্রূণরূপ পতি ধারণ করা।
৪. জলের মাঝে বাতি জ্বলে কিভাবে?
(How to ignite the lamp in the water?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে দেহকে জল এবং জ্ঞানকে বাতি বলা হয়। দেহ জল দ্বারা নির্মিত বলেই দেহকে জলবৎ বলা হয়। বাতি যেমন আলো ছড়ায় জ্ঞানও তদ্রূপ আলো ছড়ায় বলে জ্ঞানকে আলো বা বাতির সাথে তুলনা করা হয়। জলময় দেহের মধ্যে দিব্যজ্ঞানের উদয় হওয়াকে জলের মধ্যে বাতি জ্বলা বলা হয়।
৫. কোন্ আকাশে সাঁই বাস করেন?
((What sky God live in?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে নাভিকে মধ্যমূল, নাভির নিচের অংশকে ভূমি এবং নাভির ওপরের অংশকে আকাশ ধরা হয়। এছাড়া বৈতরণীকে পাতাল ও বৈকুণ্ঠকে আকাশ ধরা হয়। বিশ্ববিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিকদের মতে বৈকুণ্ঠ-রূপ আকাশে সাঁই বাস করে থাকেন।
৬. কাশীধাম কী? (What is the Grassy?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
পুরাণী মুনীষীদের রূপক বর্ণনা মতে এটি বিখ্যাত একটি তীর্থস্থান এবং এটি বর্তমান ভারতের একটি নগরী বিশেষ। কাশ যেখানে উৎপন্ন হয় তাকে কাশী বলে। কাশবন হতে যেরূপ কাশতৃণ উদ্গমন হয় তদ্রূপ বৈকুণ্ঠ হতে সন্তান উদ্ভব হয় বলে রূপকসাহিত্যে বৈকুণ্ঠকে কাশী বা কাশীধাম বলা হয়। অর্থাৎ রূপকসাহিত্যে কাশী হলো বৈকুণ্ঠ।
৭. মদিনা কী? (What is the town?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
মদিনা (ﻤﺪﻴﻧﻪ) আরবি শব্দ। এর অর্থ- নগর, হাট, তীর্থ, বাণিজ্যকেন্দ্র, ব্যবসাকেন্দ্র, বিপণিচক্র, গন্তব্যস্থল, তীর্থস্থান, সুজলা-সুফলা ও শস্য-শ্যামলা ভূমি। এর পূর্বনাম ছিল ইয়াসরিব (আ.ﻴﺜﺮﺐ)। কুরানী মনীষীদের রূপক বর্ণনা মতে আরব দেশের অন্যতম প্রধান-নগর এবং কুরানীদের বিশ্ব তীর্থস্থান, কুরানোক্ত মুহাম্মদ জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে স্থানান্তরিত হয়ে এখানে আসেন এবং তাঁর সমাধিও এখানে অবস্থিত। বিশিষ্ট আত্মতাত্ত্বিক মনীষীদের মতে বৈকুণ্ঠই সবচেয়ে বড় বাণিজ্যকেন্দ্র। যেহেতু এ নগর হতে বিশ্বের সর্ব প্রকার উদ্ভিদ ও প্রাণীর উদ্ভব। রূপকসাহিত্যে একে ঢাকা, নিধুয়া, কাশী, মথুরা, বৈকুণ্ঠ ও স্বর্গ ইত্যাদি বলা হয়।
৮. দিনে চাঁদ উদয় হয় কিভাবে?
(How the moon is rising in the day?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে রজস্বলাদের পবিত্রতার ২৭ দিনকে দিন এবং সাঁইকে চাঁদ বলা হয়। পবিত্রতারূপ দিনে সাঁইরূপ চাঁদের উদয় হয় বলে রূপকসাহিত্যে দিনে চাঁদ উদয়ের কথা বলা হয়।
৯. মদনচোরা ননি খেতে গিয়ে আপনবুকে ছুরি মারেন কিভাবে?
(How to stabbed Cupid own-chest to eat cream?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে বিম্বলকে মদনচোরা, সাঁইকে ননি এবং শুক্রপাত করাকে আপনবুকে ছুরি মারা বলা হয়। সাঁই-সাধন বা সাঁইদর্শন করতে গিয়ে মদনবাবুর টলে যাওয়াকে তার আপনবুকে ছুরি মারা বলা হয়।
১০. অন্তহীন গোরা কে? (Who is unendingly Lord?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপকসাহিত্যে পালনকর্তা ও কবন্ধকে গোরা বা গৌর বলা হয়। বিশ্বের অনেক মহাগ্রন্থে জীবের পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তাকে প্রায় একই সত্তারূপে ব্যবহার করা হয়। এখানে পালনকর্তা দ্বারা সৃষ্টিকর্তাকেই বুঝানো হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা সাকারে একরূপ হলেও আকারে অনন্তরূপ। এ জন্য রূপকসাহিত্যে সৃষ্টিকর্তাকে অন্তহীন গোরা বলা হয়।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
সূত্রতথ্যঃ
(প্রশ্নোত্তরে)
বলন তত্ত্বাবলী
লেখকঃ খোরশেদ আলম
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন