৫. চাঁদকে কেউ চাঁদ ডাকিলে
রাগিণী/ (Tune)/ ‘لحن’ (লুহানা)-
তাল/ (Rhythm)/ ‘إيقاع’ (ইক্বাউ)-
————————————————————
“চাঁদকে কেউ চাঁদ ডাকিল”
চাঁদে কী আর কথা কয়
দৃশ্যাদৃশ্য বিধির বিধান
মহাশূন্যে ভেঁসে রয়।
যেথার বস্তূ সেথা রলে
কী হবে ছাই নাম জপিলে
নামিরা নাম করে লীলে
তাতে কী আর বস্তূ পায়।
উপবীত কী জপমালা
হরে কৃষ্ণ জপ নিরালা
নেচে গেয়ে জপে ভালা
শেষকালে ফল একই হয়।
বলন কাঁইজি বসে ভনে
নামিরা রয় ডুবে নামে
বাঘে মারে দূর্বাবনে
শেষে করে হায়ঃ হায়ঃ।”
সারমর্ম (Essence)/ ‘جوهر’ (জুহার)
বিশ্ববিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক এবং বাংলাভাষার যুগান্তকারী মরমীকবি বলন কাঁইজির নির্মিত বিখ্যাত গীতিকাব্য ‘বলন তত্ত্বাবলী’ হতে বিখ্যাত এ বলনটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বলনটির মধ্যে কাঁইজি নামজপনারূপ পারম্পরিক সংস্কারটির স্বরূপ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন।
এখানে কাঁইজি বলেছেন সৌর-জগতের চাঁদকে শত ডাকাডাকি করলেও সে নামির সাথে কথা বলে না কারণ সে জড়পদার্থ। তবে প্রকৃতির নিয়মে চাঁদ কেবল দৃশ্য ও অদৃশ্য হয়ে থাকে মাত্র তদ্রুপ সাঁই ও কাঁইকে যতই ডাকাডাকি করা হোক না কেন তারাও নামির সাথে কথা বলেন না কারণ তারাও জড়পদার্থ। তবে কেবল অটলসাধনা দ্বারাই মানবের উপাস্যদ্বয়কে আহরণ করা সম্ভব।
অতঃপর কাঁইজি বলেছেন যে- জপনা করে যদি জপিত উপাস্যকে না পাওয়া যায় তবে জপনা করেই লাভ কী? যারা উপবীত বা জপমালা দ্বারা সর্বক্ষণ বা মাঝে মাঝে উপাস্যের নামজপনা করে থাকেন আর যারা করেন না উভয়েরই শেষফল শূন্য। নামী এবং অনামী উভয়ই শেষকালে হায়ঃ হায়ঃ করেন এবং বলেন- “আইলাম আর গেলাম, খাইলাম আর ছুইলাম, দেখলাম শুনলাম কিছুই বুঝলাম না।”
কাঁইজির উদাত্ত আহ্বান হলো- নামজপনা কেবল নামাশ্রয়ের কাজমাত্র। উল্লেখ্য মানবের আশ্রয় মোট ৬টি। যথা- ১.মন্ত্রাশ্রয় ২.নামাশ্রয় ৩.ভাবাশ্রয় ৪.প্রেমাশ্রয় ৫.রসাশ্রয় এবং ৬.রূপাশ্রয়। সেজন্য সাধককে কেবল জপনা নিয়ে বসে থাকলেই চলবে না বরং আগ্রহী ও কৌতুহলী সাধককে ক্রমে ক্রমে ভাবাশ্রয়, প্রেমাশ্রয় ও রসাশ্রয় অতিক্রম করে সিদ্ধি স্তর বা রূপাশ্রয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। এ জন্য কাঁইজি এখানে আগ্রহী সাধকদের ক্রমে ক্রমে সিদ্ধিস্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
রূপক পরিভাষা
(Metaphorical Terminology)/ ‘مصطلحات مجازي’ (মুস্তালাহাত মুজাঝিয়া)
উপবীত, কৃষ্ণ, চাঁদ, জপমালা, দুর্বাবন, নামী, বস্তু, বাঘ, মহাশূন্য, লীলে। অত্র গ্রন্থের শেষে ‘রূপক পরিভাষার অভিধা’ অনুচ্ছেদ দেখুন।
প্রশ্ন ও উত্তর
(Questions and Answers)/
‘اسئلة واجابات’ (আসইলা ওয়া ইজাবাত)
১. চাঁদ কী? (What is Moon?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সাধারণত বর্তমান বিজ্ঞানের আবিষ্কার সৌর জগতের পৃথিবী নামক গ্রহের একটি উপগ্রহকে চাঁদ বলা হয় কিন্তু রূপক সাহিত্যে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুকেই চাঁদ বলা হয় (যেমন গুরুচাঁদ)। তবে এখানে কাঁইজি পৃথিবীর উপগ্রহকেই চাঁদ বলে অভিহিত করেছেন।
২. বিধির বিধান কী? (What is the act of God?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
আমাদের এ পৃথিবীতে অনেক দর্শনের মানুষ বাস করেন। একেক দর্শনে একেক সত্তাকে বিধি বা নিয়ামক বলা হয়। যেমন- প্রকৃতিবাদীরা কেবল প্রকৃতিকেই বিধি বা নিয়ামক বলে থাকেন। তদ্রƒপ বিজ্ঞানীরা শক্তিকে, দার্শনিকরা জ্ঞানকে, মরমীরা শ্বাসকে, পুরাণীরা ব্রহ্মাকে, কুরানীরা আল্লাহকে এবং আত্মতাত্ত্বিকরা কেবল কাঁইকে বিধি বা নিয়ামক বলে থাকেন। এ সূত্র হতে প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়মকেই বিধির বিধান বলা হয়।
৩. মহাশূন্য কী? (What is the vesoljska?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সারা সৃষ্টিজগৎকেই মহাশূন্য বলা হয়। কারণ সৃষ্টিজগৎ পুরোটাই শূন্য। যেসব জ্যোতিষ্ক আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় তাও মহাশূন্যের মধ্যেই ভাসমান। অর্থাৎ সারাবিশ্বটাকেই মহাশূন্য বলা হয়।
৪. নামজপনা কী? (What is the Hymnody?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে মোট ৬টি আশ্রয় রয়েছে। যথা- ১.মন্ত্রাশ্রয়, ২.নামাশ্রয়, ৩.ভাবাশ্রয়, ৪.প্রেমাশ্রয়, ৫.রসাশ্রয় ও ৬.রূপাশ্রয়। এর মধ্যে নামাশ্রয়ের মূল কার্যক্রম হলো কেবল উপাস্যের নামজপনা করা। রূপক সাহিত্যে বর্ণিত উপাস্যদের সুন্দর সুন্দর নামাদি পুনঃপুন উচ্চারণ করাকে নামজপনা বলা হয়। অর্থাৎ কোন উপাস্যের নাম পুনঃপুন উচ্চারণ করাকেই নামজপনা বলা হয়।
৫. নামী কাকে বলে? (What is called the hymnodist?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
নামাশ্রয়ের আউল সাধকদেরকেই নামী বলা হয়। নামিরা নামজপনার ঊর্ধ্বে অন্য কোন সাধন করতে চান না এবং তারা রূপক সাহিত্যাদির মন্ত্রাদির তত্ত্বাদিও উদ্ঘাটন করতে চান না। উপাস্যের নামজপনাকারীকেই নামী বলা হয়।
৬. উপবীত কী? (What is the paternoster?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
নামজপনার ছড়াকেই উপবীত বা জপমালা বলা হয়। কাঠ বা ধাতু দ্বারা নির্মিত ছোটছোট গুঁটি মাল্যবৎ একত্রে গ্রন্থন করে উপাস্যের নামজপনার জন্য যে ছড়া নির্মাণ করা হয় তাকেই উপবীত বা জপমালা বলা হয়। তবে বর্তমান বৈজ্ঞানিক যুগে যান্ত্রিক (ডিজিটাল. Digital)) উপবীতও আবিষ্কার হয়েছে।
Digit [ডিজিট] (রূপ)বি আঙুলি, কর, finger (ফিঙ্গার) {ই}
Digital [ডিজিটাল] (রূপ)বি আঙুলি সম্বন্ধীয়, আঙুল দ্বারা চালানো যায় এরূপ {ই}
৭. “হরে কৃষ্ণ হরে রাম” কী? (What is the Lord thief God thief?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
এটি পুরাণীদের বীজ মন্ত্র। এর সরল অর্থ হলো- কৃষ্ণ চোর ও রাম চোর। এখানে কৃষ্ণ হলো কাঁই এবং রাম হলো- সাঁই। অর্থাৎ কাঁই চোর এবং সাঁই চোর। অনুরূপভাবে বলা যায় ব্রহ্মা চোর ও বিষ্ণু চোর, লর্ডস চোর ও গড চোর এবং আল্লাহ চোর ও রাসুল চোর। সারাবিশ্বের সব রূপক সাহিত্যেই এ সত্তাদ্বয়কে চোর বলা হয়। এ সত্তাদ্বয় মানবদেহের মধ্যে চোরের মতো অবস্থান করে। সাধারণ মানুষ হন্নে হয়ে অন্বেষণ করেও তাঁদের দর্শন পায় না বলেই তাদের চোর বলা হয়। যেমন- লালন সাঁইজি বলেছেন “ধরো চোর হাওয়ার ঘরে, ফাঁদ পেতে, সে কিরে সামান্য চোরা, ধরবি কোনাকাঞ্চিতে। ২পাতালে চোরের বহর, দেখায় আকাশের ওপর, তিনতারে হচ্ছে খবর, শুভাশুভ যোগ মতে। ৩কেবা চোর কেবা সেনা, কে করে ঠিক ঠিকানা, হাওয়ায় তার বারামখানা, হাওয়ায় মূলাধার তাতে। ৪চোর ধরে রাখবি যদি, হৃদগারদ করগে খাঁটি, লালন কয় খুঁটিনাটি, থাকতে কী সে দেয় ছুঁতে” (পবিত্র লালন- ৫৬৬)।
৮. নামীদের নামে ডুবে থাকা কী? (What is the hymnic name Concentrated?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে উপাস্যের নামজপনাকারীকেই নামী বলা হয়। উপাস্যের নামজপনার এ সাধনস্তরকে নামাশ্রয় বলা হয়। এ আশ্রয়ের সাধকরা কেবলই উপাস্যের নামজপনায় ব্যতিব্যস্ত থাকেন। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে হেলাদুলেও জপনা করে থাকেন। নামীদের মধ্যে জপনা করতে করতে কাউকে মূর্ছা যেতেও দেখা যায়। নামিরা কয়েকজন একত্রে বসে বা দাঁড়িয়ে বড়বড় ঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে এরূপ জপনা করা আরম্ভ করেন যে তাদের উপাস্য আকাশে কিংবা পাতালে থাকলেও তাদের সম্মুখে না এসে উপায় নেই। একেই নামীদের নামকীর্তনে ডুবে থাকা বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে কেউ জানেন না যে তারা যাকে ডাকছেন সে উপাস্য একটি ‘bogus boo’,
৯. দূর্বাবনে বাঘে মারা কী?
(What is killed by tigers of cynodon dactylon-forest?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
দূর্বা এক প্রকার ক্ষুদ্র ঘাস। এ ঘাসের বিশাল অঞ্চলকেই দূর্বাবন বলা হয়। এ বনে বাঘ থাকারও কথা নয় এবং মানুষ মারাও কথা নয়। তবে দূর্বাবনে বাঘে মারার উদাহরণটি দীর্ঘদিন যাবৎ অনেক সাহিত্যিক ও মরমী গীতিকাররা স্ব-স্ব সাহিত্যের মধ্যে ব্যবহার করে আসছেন কেন? যেমন মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন- “যদি থাকে এ কপালে, রত্ন এনে দেয় গোপালে, কপালের বিমতি হলে, দূর্বাবনে বাঘে মারে” (পবিত্র লালন- ৯০১/২)। অর্থাৎ কাপুরুষতা ও দুর্বলতার জন্য কেবল ব্যর্থতা ও পরাজয়তা দ্বারা আক্রান্ত হওয়াকে দূর্বাবনে বাঘে মারার কথা বলা হয়। কাঁইজিও এখানে তদ্রুপই বলেছেন।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
(সূত্রতথ্যঃ)
(প্রশ্নোত্তরে)
বলন তত্ত্বাবলী
লেখকঃ খোরশেদ আলম
রাগিণী/ (Tune)/ ‘لحن’ (লুহানা)-
তাল/ (Rhythm)/ ‘إيقاع’ (ইক্বাউ)-
————————————————————
“চাঁদকে কেউ চাঁদ ডাকিল”
চাঁদে কী আর কথা কয়
দৃশ্যাদৃশ্য বিধির বিধান
মহাশূন্যে ভেঁসে রয়।
যেথার বস্তূ সেথা রলে
কী হবে ছাই নাম জপিলে
নামিরা নাম করে লীলে
তাতে কী আর বস্তূ পায়।
উপবীত কী জপমালা
হরে কৃষ্ণ জপ নিরালা
নেচে গেয়ে জপে ভালা
শেষকালে ফল একই হয়।
বলন কাঁইজি বসে ভনে
নামিরা রয় ডুবে নামে
বাঘে মারে দূর্বাবনে
শেষে করে হায়ঃ হায়ঃ।”
সারমর্ম (Essence)/ ‘جوهر’ (জুহার)
বিশ্ববিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক এবং বাংলাভাষার যুগান্তকারী মরমীকবি বলন কাঁইজির নির্মিত বিখ্যাত গীতিকাব্য ‘বলন তত্ত্বাবলী’ হতে বিখ্যাত এ বলনটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বলনটির মধ্যে কাঁইজি নামজপনারূপ পারম্পরিক সংস্কারটির স্বরূপ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন।
এখানে কাঁইজি বলেছেন সৌর-জগতের চাঁদকে শত ডাকাডাকি করলেও সে নামির সাথে কথা বলে না কারণ সে জড়পদার্থ। তবে প্রকৃতির নিয়মে চাঁদ কেবল দৃশ্য ও অদৃশ্য হয়ে থাকে মাত্র তদ্রুপ সাঁই ও কাঁইকে যতই ডাকাডাকি করা হোক না কেন তারাও নামির সাথে কথা বলেন না কারণ তারাও জড়পদার্থ। তবে কেবল অটলসাধনা দ্বারাই মানবের উপাস্যদ্বয়কে আহরণ করা সম্ভব।
অতঃপর কাঁইজি বলেছেন যে- জপনা করে যদি জপিত উপাস্যকে না পাওয়া যায় তবে জপনা করেই লাভ কী? যারা উপবীত বা জপমালা দ্বারা সর্বক্ষণ বা মাঝে মাঝে উপাস্যের নামজপনা করে থাকেন আর যারা করেন না উভয়েরই শেষফল শূন্য। নামী এবং অনামী উভয়ই শেষকালে হায়ঃ হায়ঃ করেন এবং বলেন- “আইলাম আর গেলাম, খাইলাম আর ছুইলাম, দেখলাম শুনলাম কিছুই বুঝলাম না।”
কাঁইজির উদাত্ত আহ্বান হলো- নামজপনা কেবল নামাশ্রয়ের কাজমাত্র। উল্লেখ্য মানবের আশ্রয় মোট ৬টি। যথা- ১.মন্ত্রাশ্রয় ২.নামাশ্রয় ৩.ভাবাশ্রয় ৪.প্রেমাশ্রয় ৫.রসাশ্রয় এবং ৬.রূপাশ্রয়। সেজন্য সাধককে কেবল জপনা নিয়ে বসে থাকলেই চলবে না বরং আগ্রহী ও কৌতুহলী সাধককে ক্রমে ক্রমে ভাবাশ্রয়, প্রেমাশ্রয় ও রসাশ্রয় অতিক্রম করে সিদ্ধি স্তর বা রূপাশ্রয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। এ জন্য কাঁইজি এখানে আগ্রহী সাধকদের ক্রমে ক্রমে সিদ্ধিস্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
রূপক পরিভাষা
(Metaphorical Terminology)/ ‘مصطلحات مجازي’ (মুস্তালাহাত মুজাঝিয়া)
উপবীত, কৃষ্ণ, চাঁদ, জপমালা, দুর্বাবন, নামী, বস্তু, বাঘ, মহাশূন্য, লীলে। অত্র গ্রন্থের শেষে ‘রূপক পরিভাষার অভিধা’ অনুচ্ছেদ দেখুন।
প্রশ্ন ও উত্তর
(Questions and Answers)/
‘اسئلة واجابات’ (আসইলা ওয়া ইজাবাত)
১. চাঁদ কী? (What is Moon?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সাধারণত বর্তমান বিজ্ঞানের আবিষ্কার সৌর জগতের পৃথিবী নামক গ্রহের একটি উপগ্রহকে চাঁদ বলা হয় কিন্তু রূপক সাহিত্যে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুকেই চাঁদ বলা হয় (যেমন গুরুচাঁদ)। তবে এখানে কাঁইজি পৃথিবীর উপগ্রহকেই চাঁদ বলে অভিহিত করেছেন।
২. বিধির বিধান কী? (What is the act of God?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
আমাদের এ পৃথিবীতে অনেক দর্শনের মানুষ বাস করেন। একেক দর্শনে একেক সত্তাকে বিধি বা নিয়ামক বলা হয়। যেমন- প্রকৃতিবাদীরা কেবল প্রকৃতিকেই বিধি বা নিয়ামক বলে থাকেন। তদ্রƒপ বিজ্ঞানীরা শক্তিকে, দার্শনিকরা জ্ঞানকে, মরমীরা শ্বাসকে, পুরাণীরা ব্রহ্মাকে, কুরানীরা আল্লাহকে এবং আত্মতাত্ত্বিকরা কেবল কাঁইকে বিধি বা নিয়ামক বলে থাকেন। এ সূত্র হতে প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়মকেই বিধির বিধান বলা হয়।
৩. মহাশূন্য কী? (What is the vesoljska?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
সারা সৃষ্টিজগৎকেই মহাশূন্য বলা হয়। কারণ সৃষ্টিজগৎ পুরোটাই শূন্য। যেসব জ্যোতিষ্ক আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় তাও মহাশূন্যের মধ্যেই ভাসমান। অর্থাৎ সারাবিশ্বটাকেই মহাশূন্য বলা হয়।
৪. নামজপনা কী? (What is the Hymnody?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে মোট ৬টি আশ্রয় রয়েছে। যথা- ১.মন্ত্রাশ্রয়, ২.নামাশ্রয়, ৩.ভাবাশ্রয়, ৪.প্রেমাশ্রয়, ৫.রসাশ্রয় ও ৬.রূপাশ্রয়। এর মধ্যে নামাশ্রয়ের মূল কার্যক্রম হলো কেবল উপাস্যের নামজপনা করা। রূপক সাহিত্যে বর্ণিত উপাস্যদের সুন্দর সুন্দর নামাদি পুনঃপুন উচ্চারণ করাকে নামজপনা বলা হয়। অর্থাৎ কোন উপাস্যের নাম পুনঃপুন উচ্চারণ করাকেই নামজপনা বলা হয়।
৫. নামী কাকে বলে? (What is called the hymnodist?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
নামাশ্রয়ের আউল সাধকদেরকেই নামী বলা হয়। নামিরা নামজপনার ঊর্ধ্বে অন্য কোন সাধন করতে চান না এবং তারা রূপক সাহিত্যাদির মন্ত্রাদির তত্ত্বাদিও উদ্ঘাটন করতে চান না। উপাস্যের নামজপনাকারীকেই নামী বলা হয়।
৬. উপবীত কী? (What is the paternoster?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
নামজপনার ছড়াকেই উপবীত বা জপমালা বলা হয়। কাঠ বা ধাতু দ্বারা নির্মিত ছোটছোট গুঁটি মাল্যবৎ একত্রে গ্রন্থন করে উপাস্যের নামজপনার জন্য যে ছড়া নির্মাণ করা হয় তাকেই উপবীত বা জপমালা বলা হয়। তবে বর্তমান বৈজ্ঞানিক যুগে যান্ত্রিক (ডিজিটাল. Digital)) উপবীতও আবিষ্কার হয়েছে।
Digit [ডিজিট] (রূপ)বি আঙুলি, কর, finger (ফিঙ্গার) {ই}
Digital [ডিজিটাল] (রূপ)বি আঙুলি সম্বন্ধীয়, আঙুল দ্বারা চালানো যায় এরূপ {ই}
৭. “হরে কৃষ্ণ হরে রাম” কী? (What is the Lord thief God thief?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
এটি পুরাণীদের বীজ মন্ত্র। এর সরল অর্থ হলো- কৃষ্ণ চোর ও রাম চোর। এখানে কৃষ্ণ হলো কাঁই এবং রাম হলো- সাঁই। অর্থাৎ কাঁই চোর এবং সাঁই চোর। অনুরূপভাবে বলা যায় ব্রহ্মা চোর ও বিষ্ণু চোর, লর্ডস চোর ও গড চোর এবং আল্লাহ চোর ও রাসুল চোর। সারাবিশ্বের সব রূপক সাহিত্যেই এ সত্তাদ্বয়কে চোর বলা হয়। এ সত্তাদ্বয় মানবদেহের মধ্যে চোরের মতো অবস্থান করে। সাধারণ মানুষ হন্নে হয়ে অন্বেষণ করেও তাঁদের দর্শন পায় না বলেই তাদের চোর বলা হয়। যেমন- লালন সাঁইজি বলেছেন “ধরো চোর হাওয়ার ঘরে, ফাঁদ পেতে, সে কিরে সামান্য চোরা, ধরবি কোনাকাঞ্চিতে। ২পাতালে চোরের বহর, দেখায় আকাশের ওপর, তিনতারে হচ্ছে খবর, শুভাশুভ যোগ মতে। ৩কেবা চোর কেবা সেনা, কে করে ঠিক ঠিকানা, হাওয়ায় তার বারামখানা, হাওয়ায় মূলাধার তাতে। ৪চোর ধরে রাখবি যদি, হৃদগারদ করগে খাঁটি, লালন কয় খুঁটিনাটি, থাকতে কী সে দেয় ছুঁতে” (পবিত্র লালন- ৫৬৬)।
৮. নামীদের নামে ডুবে থাকা কী? (What is the hymnic name Concentrated?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
রূপক সাহিত্যে উপাস্যের নামজপনাকারীকেই নামী বলা হয়। উপাস্যের নামজপনার এ সাধনস্তরকে নামাশ্রয় বলা হয়। এ আশ্রয়ের সাধকরা কেবলই উপাস্যের নামজপনায় ব্যতিব্যস্ত থাকেন। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে হেলাদুলেও জপনা করে থাকেন। নামীদের মধ্যে জপনা করতে করতে কাউকে মূর্ছা যেতেও দেখা যায়। নামিরা কয়েকজন একত্রে বসে বা দাঁড়িয়ে বড়বড় ঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে এরূপ জপনা করা আরম্ভ করেন যে তাদের উপাস্য আকাশে কিংবা পাতালে থাকলেও তাদের সম্মুখে না এসে উপায় নেই। একেই নামীদের নামকীর্তনে ডুবে থাকা বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে কেউ জানেন না যে তারা যাকে ডাকছেন সে উপাস্য একটি ‘bogus boo’,
৯. দূর্বাবনে বাঘে মারা কী?
(What is killed by tigers of cynodon dactylon-forest?)
উত্তর (Answers)/ ‘إجابة’ (ইজাবা)
দূর্বা এক প্রকার ক্ষুদ্র ঘাস। এ ঘাসের বিশাল অঞ্চলকেই দূর্বাবন বলা হয়। এ বনে বাঘ থাকারও কথা নয় এবং মানুষ মারাও কথা নয়। তবে দূর্বাবনে বাঘে মারার উদাহরণটি দীর্ঘদিন যাবৎ অনেক সাহিত্যিক ও মরমী গীতিকাররা স্ব-স্ব সাহিত্যের মধ্যে ব্যবহার করে আসছেন কেন? যেমন মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন- “যদি থাকে এ কপালে, রত্ন এনে দেয় গোপালে, কপালের বিমতি হলে, দূর্বাবনে বাঘে মারে” (পবিত্র লালন- ৯০১/২)। অর্থাৎ কাপুরুষতা ও দুর্বলতার জন্য কেবল ব্যর্থতা ও পরাজয়তা দ্বারা আক্রান্ত হওয়াকে দূর্বাবনে বাঘে মারার কথা বলা হয়। কাঁইজিও এখানে তদ্রুপই বলেছেন।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
(সূত্রতথ্যঃ)
(প্রশ্নোত্তরে)
বলন তত্ত্বাবলী
লেখকঃ খোরশেদ আলম
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন