শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৫

দাজ্জাল বাস্তব প্রাণী নাকি বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য

দাজ্জাল বাস্তব প্রাণী নাকি বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য
(‘ﺪﺠﺎﻞ’/ Vampire real creatures or personality traits)
‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পারস্য রূপক-সাহিত্যে ব্যবহৃত একটি রূপক পরিভাষা। এটি যেমন বাংলা পরিভাষা নয় তেমন এটি পবিত্র কুরানের কোথাও উল্লেখ নেই। প্রসঙ্গটি নিয়ে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন লেখা দেখা যায়। আবার ভিন্ন ভিন্ন আলোচনাও শোনা যায়। তাই আমরা এখানে পরিভাষাটির সামান্য বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি। আশা করা যায় আমাদের এ ক্ষুদ্র বিশ্লেষণটি পারস্য রূপক-সাহিত্যে ব্যবহৃত ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) নামক রূপক পরিভাষাটির সঠিক অভিধাবোধ সৃষ্টি করতে সহায়তা করবে।
দজল [ﺪﺠﻝ] (রূপ)বি মিথ্যা, ঠেঁটামি, টেঁটনি, প্রতারণা, প্রবঞ্চনা বি মিথ্যুক, ঠেঁটা, টেঁটন, প্রতারক, প্রবঞ্চক {}
দজলাঃ [ﺪﺠﻠﺔ] (রূপ)বি ঠেঁটামি, টেঁটনি, প্রবঞ্চনা, প্রতারণা, মিথ্যা বিণ ঠেঁটা, টেঁটন, প্রতারক, প্রবঞ্চক, মিথ্যুক (প্র) ১ ইরাকের বিখ্যাত নদী বিশেষ ২ মর্ত্যধাম হতে স্বর্গধামে গমনের একমাত্র নদী (আবি) বৈতরণী, গয়া, গণ্ডকী, গোদাবরী, ফল্গু, মন্দাকিনী, যমুনা, সুরধুনী, সুরনদী (ভাঅ) জননপথ, vagina, সাওয়া (আ.ﺴﻭﺀﺓ) (ইপ) canal (আপ) বরজখ (আ.ﺒﺮﺯﺥ) (দেপ্র) ১.এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘বৈতরণী’ পরিবারের ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’ ও রূপক-সাহিত্যের একটি প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) ১ বর্তমান ইরাকের একটি বিখ্যাত নদীকে ‘ﺪﺠﻠﺔ’ (দজলাঃ) বলা হয় ২ রূপক-সাহিত্যে ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত প্রলম্বিত স্ত্রী জননপথকে বৈতরণী বা রূপকার্থে ‘ﺪﺠﻠﺔ’ (দজলাঃ) বলা হয় (ছনা) খাল, নালা ও সুড়ঙ্গ (চাপ) ডাঙ্গা, বিরজা ও যমুনা (উপ) উঠান, দুয়ার ও পথ (রূ) নদী (দেত) বৈতরণী {}
দজলানদী (রূপ)বি প্রতারক নদী, প্রতারণাকারী নদী, প্রবঞ্চনাকারী নদী (ব্য্য) অমৃতসুধা প্রদান করবে বলে কামযজ্ঞে আমন্ত্রণ করে কিন্তু পরিশেষে অমৃতসুধা না দিয়ে ওপরন্ত প্রবঞ্চনা করে পুরুষের শুক্রসম্পদ অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে রূপক-সাহিত্যে জননপথ বা বৈতরণীকে প্রতারণাকারী নদী বলা হয় (আবি) গয়া, ফল্গু, যমুনা, সুরধুনী, দজলাঃ (ﺪﺠﻠﺔ), বরজখ (আ.ﺒﺮﺯﺥ) (সংজ্ঞা) ১ বর্তমান ইরাকের একটি বিখ্যাত নদীকে ‘ﺪﺠﻠﺔ’ (দজলাঃ) বলা হয় ২ রূপক-সাহিত্যে ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত প্রলম্বিত স্ত্রী জননপথকে বৈতরণী বা রূপকার্থে ‘ﺪﺠﻠﺔ’ (দজলাঃ) নদী বলা হয় (ছনা) খাল, নালা ও সুড়ঙ্গ (চাপ) ডাঙ্গা, বিরজা ও যমুনা (উপ) উঠান, দুয়ার ও পথ (রূ) নদী (দেত) বৈতরণী {.দজলা. ﺪﺠﻠﺔ +বাং.নদী}
নদী (রূপ)বি তটিনী, তরঙ্গিনী, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিনী, শৈবলিনী, সরিৎ, স্বাভাবিক জলস্রোত, চারক্রোশের অধিক বাহিনী জলনালি, পাহাড় হ্রদ প্রস্রবণ প্রভৃতি হতে উৎপন্ন ও নানা জনপদের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জলস্রোত (আবি) বিরজা, গয়া, ফল্গু, সুরধুনী, বৈতরণী হয় (ছনা) খাল, নালা ও সুড়ঙ্গ (চাপ) ডাঙ্গা, বিরজা ও যমুনা (উপ) উঠান, দুয়ার ও পথ (রূ) নদী (দেত) বৈতরণী।
দজ্জাল [ﺪﺠﺎﻞ] ⇒ দাজ্জাল [ﺪﺠﺎﻞ]।
আরবি ‘ﺪﺠﻠﺔ’ (দজলাঃ) হতে ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটির উদ্ভব হয়েছে। যেহেতু ‘ﺪﺠﻠﺔ’ (দজলাঃ) এর অনুবাদ বাংভারতীয় যমুনা। সেহেতু যমুনার বর্ণনার পরে ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) এর বর্ণনা তুলে ধরতে চাই। এখানে যমুনার বর্ণনা তুলে ধরা হলো।
যমুনা Lethe (লিদি)/ ‘دجلة’ (দাজলা)
এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘বৈতরণী’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘চারিত্রিক পরিভাষা’। এর প্রকৃতমূলক ‘যোনিপথ’, রূপান্তরিত-মূলক ‘বৈতরণী’, রূপক পরিভাষা ‘নদী’, উপমান পরিভাষা ‘উঠান, দুয়ার ও পথ’, অন্যান্য চারিত্রিক পরিভাষা ‘ডাঙ্গা ও বিরজা’ ও ছদ্মনাম পরিভাষা ‘খাল, নালা ও সুড়ঙ্গ’
যমুনা (রূপ)বি কালিন্দী, বাংলাদেশের নদী বিশেষ, উত্তর ভারতের নদী বিশেষ, খবঃযব, ‘دجلة’ (দাজলা), Tigris (প্র) ১.বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রসস্ত নদী বিশেষ ২.পুরাণোক্ত যমের বোন, সূর্যের কন্যা (আবি) গয়া, গণ্ডকী, গোদাবরী, ফল্গু, বিরজা, বৈতরণী, ব্রজ, ভবনদী, মন্দাকিনী, মায়ানদী, সুরধুনী ও সুরনদী (ভাপ) অযোধ্যা (আভা) উঠান, ডাঙ্গা, দুয়ার, খাল, নালা (ভাঅ) জননপথ, vagina, সাওয়া (আ.ﺴﻭﺀﺓ) (ইপ) canal (আপ) দজলা (ﺪﺠﻠﺔ), বরজখ (আ.ﺒﺮﺯﺥ) (দেপ্র) এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘বৈতরণী’ পরিবারের ‘চারিত্রিক পরিভাষা’ ও রূপক-সাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ত নদীকে যমুনা বলা হয় ২.ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত জননপথকে বৈতরণী বা রূপকার্থে যমুনা বলা হয় (ছনা) খাল, নালা ও যমুনা (চাপ) ডাঙ্গা, বিরজা ও সুড়ঙ্গ (উপ) উঠান, দুয়ার ও পথ (রূ) নদী (দেত) বৈতরণী।
Lethe [লিদি] বি বিস্মৃতি, অতীত বিস্মরণ, forgetting, oblivion, ‘النسيان نهر’ (আবি) যমুনা, গয়া, গণ্ডকী, গোদাবরী, পদ্মা, ফল্গু, বিরজা, বৈতরণী, ব্রহ্মপুত্র, মন্দাকিনী, সংযমনী, সুরধুনী ও সুরনদী (ব্য্য) যে নদীতে অবগাহন করে মানুষ তার অতীতকে সম্পূর্ণরূপে ভুলে যায়, A river in Hades whose water when drunk made the psyche of the dead forget their life on earth (প্র) গ্রিক পুরাণোক্ত মৃত্যু-পুরীর বিস্মরণের নদী, নারকী অঞ্চলের একটি নদী। বিদেহী আত্মাদের বাধ্য করা হয় বিস্মৃতি উৎপাদন পান করতে বা তারা যা করেছিল সেসব কিছু ভুলে যেতে বা পৃথিবীতে জীবিত থাকাকালীন যা জানতো {}
“A slow and silent stream,
Lethe, the river of oblivion, rolls
Her watery labyrinth, whereof who drinks
Forthwith his former state and being forgets,
Forgets both joy and grief, pleasure and pain.” Milton.
যমুনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of Lethe)
১. “কোথা সে নিকুঞ্জবন, কোথা সে যমুনা এখন, কোথা সে গোপীনিগণ, আহা মরি” (পবিত্র লালন- ৬৭৫)
২. “ডুব না জেনে ডুব দিতে গিয়ে, কতজনা প্রাণ হারায়, প্রেমযমুনায় নাইতে গিয়ে, ডুবে মরিল ডাঙ্গায়” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৬)
৩. “মরণের আগে মরিয়া যেজন সেথা গিয়াছে, অফুরন্ত গুদাম ঘরের মহাজনী পাইয়াছে, জরামৃত যমুনা পাড়ে- দুয়েকজনে যাইতে পারে, আখেটি আখেটক মারে, বলন কয় তুলনা নাই” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬০)
যমুনার সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of Lethe)
১. “আমি কেন এলাম যমুনা ঘাটে, ঐ কালারূপ দেখলাম তটে, আমার কাঙ্খের কলসি কাঙ্খে রইল, দু’নয়নের জলে, কলসি ভেসে গেল” (পবিত্র লালন- ৫৬৩/২)
২. “আমায় ভিক্ষা ঝোলা দে সাজিয়ে, ওলো প্রাণসজনী, আমি জাত বেচিব মেঙ্গে খাবো, প্রেমযমুনার পানি” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯)
৩. “একদিন গিয়েছিলাম সে যমুনার ঘাটে, কত কথা মনে পড়ল গো পথে, আমি রাধে সারানিশি কেঁদে কাটাই, তবু তো দেখা দিলো না” (পবিত্র লালন- ২৫১/২)
৪. “এনে মহাজনের ধন, বিনাশ করলি ক্ষ্যাপা, সদ্য বাক্বির দায় যাবি যমুনায়, হবেরে কপালে দায়মাল ছাপা” (পবিত্র লালন- ২২১/১)
৫. “এসো গো দয়াল বন্ধু শ্যাম কালাচাঁন, মনের বনে ফুল ফুটেছে, প্রেমযমুনায় ভরা বান” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৪)
৬. “গঙ্গা যমুনা আর সরস্বতী নদী, উঠেছে ঢেউ পাতাল ভেদি, পার হয়ে যাও, অকূল সমুদ্দরি” (পবিত্র লালন- ৭৭৪/২)
৭. “চাঁদ পাড়তে যমুনা ঘাটে, ডুবিস নারে মাথা কেটে, উদয়-অস্ত প্রতিমাসে, ভেদ জেনে ভাঙ্গরে বসে, ঐ চাঁদে জগৎ উজ্বালা, বলন কয় তুলনা নাই” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩২)
৮. “চামকুঠরী প্রেমযমুনা, মৎস্য ধরাই উপাসনা, মিঠাবারি প্রেমমালখানা, মৎস্য চলে কফিন পরা” (বলন তত্ত্বাবলী- ১)
৯. “তোরা যদি দেখিস কালারে, বলে দে খবর আমারে, নইলে আমি প্রাণ ত্যাজিব যমুনার জলে, কালার আশায় জীবন গেল একাকী” (পবিত্র লালন- ৩২৪/৩)
১০. “দয়াল তোমার নাম নিয়ে, তরী ভাসালাম যমুনায়, তুমি নাবিক পারের মালিক, সে আশায় চড়েছি নায়” (পবিত্র লালন- ৫১১/১)
১১. “প্রেমযমুনা চৌদ্দভুবন, তিনঘাটে রয় তিনজন, মাঝখানে স্বরূপ কিরণ, ভাসছে সে নীরাকারে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০০)
১২. “প্রেমযমুনার মিষ্টিজল, স্বরূপ কী চিনলি না, দেখ দেখ প্রেমযমুনায়, চলছে সেথা ত্রিঝরণা” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৮)
১৩. “প্রেমযমুনার মিষ্টি পানি, সাধু গোঁসাই খায়রে শুনি, অধীন বলনকে দাও আনি, গুরু তোমায় ভজিবার” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯১)
১৪. “ফাঁদ পাতিয়া মানুষ ধরে প্রেমযমুনার ত্রিপুরে, মানুষ ধরে ভোর-দুপুরে জেলখানায় রাখে ভরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)
১৫. “বলাই যাসনে যমুনা ঘাটে, নিবে তোর মাথা কেটে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯৮)
১৬. “বান এলে প্রেমযমুনায়, ধ্যান রাখলে মণিকোঠায়, বলন কাঁইজি বলে তাই, পাবি সে জল কৌশলে” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১৬)
১৭. “বৃন্দাবনের মাখন ছানাই, পেট তো ভরে নাই, নৈদে এসে দই চিড়াতে ভুলেছে কানাই, যার বেণুর সুরে ধেনু ফিরে, যমুনার জল উজান ধায়” (পবিত্র লালন- ৯৬১/৩)
১৮. “মণিপুরী প্রেমতরী, কোন্দিন হবে ক্ষীরধর, প্রেমযমুনার ত্রিমোহনায়, শ্যামবন্ধুর ঘর” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩১)
১৯. “মন তোর ত্রিবেণী ডিঙ্গিখানা, ভরা গাঙ্গে কেন বাইলি না, শুকায় গেলে প্রেমযমুনা, কী পাবিরে বাইলে তরী” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৯)
২০. “মনরে ত্রিধারা বয় এক নদেতে দেখ যমুনা পাড়ে, রক্তিম ধারা ওপরে বহে আর সাদা কালো ভিতরে, কোমল কোঠায় কর প্রণাম- সঙ্গে লয়ে গুরু ধিয়ান, কতজন হয় মহান- পেয়ে সেথা স্বরূপমনি” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৪)
২১. “যমুনার জলে আমি, স্নান করতে যাব না, মাথায় আছে কালো কেশ, তাও রাখব না, কালো কাজল ভালো নয়, যেজন নয়নে দেয়, কালসাপে দংশিলে, বিষে অঙ্গ জ্বলে যায়” (পবিত্র লালন- ৬৯১/২)
২২. “রূপ স্বরূপ চমৎকার লীলা আট প্রহরে চলে, হারায় মাণিক জন্মনালে সেই যমুনা শুকালে, বলন কয় দিন থাকতে- মিশে যাও গুরুর জাতে, এক জনমে এ ধরাতে- পাবিরে স্বরূপখনি” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৪)
২৩. “সাঁতার শিখলি না, প্রেমযমুনার ডুবুরী হলি না, বিল বাওড়ে ফাও ডুবালি, ঐ অথৈজলে নামলি না” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৮)
যমুনার সংজ্ঞা (Definition of Lethe)
বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ত নদীকে যমুনা বলে।
যমুনার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Lethe)
ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত স্ত্রী জননপথকে বৈতরণী বা রূপকার্থে যমুনা বলে।
যমুনার প্রকারভেদ (Classification of Lethe)
যমুনা দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান যমুনা ও ২.উপমিত যমুনা।
১. উপমান যমুনা (Analogical Lethe)
বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ত নদীকে উপমান যমুনা বলে।
২. উপমিত যমুনা (Compared Lethe)
ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত স্ত্রী জননপথকে বৈতরণী বা উপমিত যমুনা বলে।
যমুনার পরিচয় (Identity of Lethe)
এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘বৈতরণী’ পরিবারের অধীন একটি ‘চারিত্রিক পরিভাষা’ বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক গ্রন্থ-গ্রন্থিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সাধারণত বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ত নদীকে যমুনা বলা হয় কিন্তু রূপক-সাহিত্যে ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত স্ত্রী জননপথকে বৈতরণী বা রূপকার্থে যমুনা বলা হয়। স্বর্গীয়নদী বৈতরণী যেরূপ মানুষের দ্বারা সৃষ্টি নয় বরং প্রতীতিদের দ্বারা সৃষ্টি তদ্রূপ যমুনাও মানুষের দ্বারা সৃষ্টি নয় বরং স্বর্গীয় প্রতীতিদের দ্বারা সৃষ্টি। এ জন্য যমুনাকে বৈতরণীর সাথে তুলনা করা হয়। অত্যন্ত বেদনার ব্যাপার হলো অধিকাংশ শাস্ত্রীয় মতানুসারী পণ্ডিত ও বক্তারা রূপক-সাহিত্যে ব্যবহৃত যমুনা বলতে কেবল বাংভারতের (বাংলাদেশ ও ভারত) যমুনা নদীকেই বুঝেন এবং বুঝিয়ে থাকেন।
‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল)
এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘বৈতরণী’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘চারিত্রিক পরিভাষা’। এর প্রকৃতমূলক ‘যোনিপথ’, রূপান্তরিতমূলক ‘বৈতরণী’, রূপক পরিভাষা ‘নদী’, উপমান পরিভাষা ‘উঠান, দুয়ার ও পথ’, অন্যান্য চারিত্রিক পরিভাষা ‘ডাঙ্গা, বিরজা ও যমুনা’ ও ছদ্মনাম পরিভাষা ‘খাল, নালা ও সুড়ঙ্গ’
‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) নামক দৈবিকাটি পারস্য রূপক-সাহিত্যের শাস্ত্রীয় বিশ্বাসমূলক একটি অনন্য দৈবিকা। এ দৈবিকাটিকে কেন্দ্র করে পারস্য সুবিজ্ঞ রূপকারগণ অসংখ্য লৌকিকা নির্মাণ করেছেন। সুমহান ও সুবিজ্ঞ রূপকারগণ কর্তৃক নির্মিত এরূপ অনন্য ও অনুপম লৌকিকাদি একত্র করেই সম্পাদিত হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত অগণিত মহাগ্রন্থ বা শাস্ত্রীয়গ্রন্থ। আরববিশ্বের অসংখ্য দৈবিকার মধ্যে আরবিভাষার ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটি একটি অনন্য ও অনুপম দৈবিকা। উক্ত সত্তাটির অলৌকিক গল্পকাহিনী জানার পর উক্ত পরিভাষাটির তথ্য, তত্ত্ব ও প্রকৃততাৎপর্য জানাও আমাদের একান্ত প্রয়োজন। এজন্য আলোচ্য পরিভাষাটির প্রকৃত সত্তা, অর্থ ও আত্মদর্শনের মূলক উদ্ঘাটনের জন্য নিচে কয়েকটি অভিধান অবিকল অনুরূপ বা হুবহু তুলে ধরা হলো। অতঃপর সম্যক পর্যালোচনা শেষে সঠিক সমাধান প্রদানের চেষ্টা করা হলো।
‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটির অনুবাদাদি
১. আরবি-বাংলা অভিধান (বাংলা একাডেমি)।
ﺪﺠﺎﻞ (দাজ্জাল)- প্রতারক, দাজ্জাল নামক খোদাদ্রোহী- যে পৃথিবীর শেষযুগে প্রকাশ পাবে।
২. আল-কাওসার (আধুনিক আরবি-বাংলা অভিধান)।
ﺪﺠﺎﻞ [দাজ্জাল] মহাপ্রতারক, তরবারীর ধার।
৩. উর্দু-বাংলা অভিধান (ফ’রহঙ্গ-ই-রব্বানি)।
ﺪﺠﺎﻞ (দজ্জাল) আঃ নাঃ পুং মিথ্যাবাদী, প্রতারক, একচক্ষুবিশিষ্ট ব্যক্তি, ইসা (আঃ) এর শত্রু বা প্রতিপক্ষ।
৪. আরবি ফার্সি তুর্কি হিন্দি উর্দু শব্দের অভিধান (বাংলা একাডেমি)।
দাজ্জাল বিণ মিথ্যাবাদী, দুর্দান্ত, অত্যাচারী, অবাধ্য, দস্যি, দুর্বিনীত, শাসনের বহির্ভূত বি একচোকা লোক- যে ক্বিয়ামতের অব্যবহিত পূর্বে হযরত ইমাম মেহেদীর সময়ে জন্মগ্রহণ করে নিজেকে খোদা বলে দাবি করবে ও বহু লোকের ঈমান নষ্ট করবে {.ﺪﺠﺎﻞ}
৫. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (বাংলা একাডেমি)।
দাজ্জাল বি কুরানীদের শাস্ত্রীয়বিশ্বাস অনুযায়ী দুর্দান্ত অত্যাচারী ব্যক্তি- যে ক্বিয়ামতের অব্যবহিত পূর্বে ইমাম মেহেদীর সময়ে জন্মগ্রহণ করে নিজেকে আল্লাহ বলে দাবি করবে ও বহু লোকের ঈমান নষ্ট করবে বলে কথিত আছে বিণ মিথ্যাবাদী, দুর্দান্ত, অত্যাচারী, দুষ্ট, দস্যি, শাসনের বহির্ভূত {.ﺪﺠﺎﻞ}
বিভিন্ন অভিধানাদি হতে প্রাপ্ত পরিভাষা
বিণ প্রতারক, মিথ্যাবাদী, দুর্দান্ত, অত্যাচারী, দুষ্ট, দস্যি, অবাধ্য, দুর্বিনীত, মহাপ্রতারক বি তরবারীর ধার, শাসনের বহির্ভূত, একচক্ষুবিশিষ্ট ব্যক্তি, ইসা (আঃ)- এর শত্রু বা প্রতিপক্ষ, দাজ্জাল নামক খোদাদ্রোহী- যে পৃথিবীর শেষযুগে প্রকাশ পাবে, মুসলমানদের শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী দুর্দান্ত অত্যাচারী ব্যক্তি- যে ক্বিয়ামতের অব্যবহিত পূর্বে ইমাম মেহেদীর সময়ে জন্মগ্রহণ করে নিজেকে আল্লাহ বলে দাবি করবে ও বহু লোকের ঈমান নষ্ট করবে বলে কথিত আছে, একচোখা লোক- যে ক্বিয়ামতের অব্যবহিত পূর্বে হযরত ইমাম মেহেদীর সময়ে জন্মগ্রহণ করে নিজেকে খোদা বলে দাবি করবে ও বহু লোকের ঈমান নষ্ট করবে।”
পর্যালোচনা (The discussion)
ওপরোক্ত পরিভাষাাদির মধ্যে একটিও আরবি ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটির প্রকৃত বাংলা অনুবাদ নয়। কারণ আরবি ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটি আরবি দাজলা (ﺪﺠﻟﺔ) পরিভাষা হতে উদ্ভূত হয়েছে। আরবি দাজলা (ﺪﺠﻟﺔ) পরিভাষাটির অর্থ (প্র) দাজলা নদী, ইরাকের অন্তর্গত তাইগ্রিস নদী, ইরাকের বিখ্যাত দাজলা নদী (আবি) তটিনী, তরঙ্গিনী, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিনী, শৈবলিনী, সরিৎ, স্বাভাবিক জলস্রোত ইত্যাদি। এ জন্য আরবি ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটির অর্থ নদী সম্বন্ধে হওয়াই যুক্তিযুক্ত। তবে “বিণ প্রতারক, মিথ্যাবাদী, দুর্দান্ত, অত্যাচারী, দুষ্ট, দস্যি, অবাধ্য, দুর্বিনীত, মহাপ্রতারক” এ অংশটুকু রূপকানুবাদ বা ভাবার্থ এবং “বি তরবারীর ধার, শাসনের বহির্ভূত, একচক্ষুবিশিষ্ট ব্যক্তি, ইসা এর শত্রু বা প্রতিপক্ষ, দাজ্জাল নামক খোদাদ্রোহী- যে পৃথিবীর শেষযুগে প্রকাশ পাবে, মুসলমানদের শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী দুর্দান্ত অত্যাচারীব্যক্তি- যে ক্বিয়ামতের অব্যবহিত পূর্বে ইমাম মেহেদীর সময়ে জন্মগ্রহণ করে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে দাবি করবে ও বহু লোকের ঈমান নষ্ট করবে বলে কথিত আছে, একচোখা লোক- যে ক্বিয়ামতের অব্যবহিত পূর্বে হযরত ইমাম মেহেদীর সময়ে জন্মগ্রহণ করে নিজেকে খোদা বলে দাবি করবে ও বহু লোকের ঈমান নষ্ট করবে”- এ অংশটুকু আরবি ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটির প্রকৃত-সত্তা বা অভিধা উদ্ঘাটনের জন্য পার্সিয়ান রূপক-সাহিত্য শিল্প দ্বারা নির্মিত রূপকলৌকিকা।
সমাধান (The solution)
দাজ্জাল [ﺪﺠﺎﻞ] (রূপ)বি দস্যু, লুণ্ঠক, তস্কর, দুর্দান্ত অত্যাচারী বিণ দস্যি, অবাধ্য, দুরন্ত, দুর্দান্ত, অশান্ত, নির্ভীক, অপহারক, দুর্বিনীত, অত্যাচারী, অসমসাহসী, প্রতারক, মিথ্যাবাদী, নির্যাতনকারী, হরণকারী, নিপীড়নকারী, নিষ্পেষণকারী, লুণ্ঠনকারী, অপহরণকারী, প্রবঞ্চক, বলপূর্বক অপহরণকারী, শাসনের বহির্ভূত, শক্তির দ্বারা পরদ্রব্য হরণকারী, ধারালো তরবারি (প্র) কুরানী মনীষীদের রূপক বর্ণনা মতে প্রলয়ক্ষণের পূর্বে এক চোখ অন্ধ একজন লোকের আবির্ভাব হয় এবং নিজকে বড় বলে ঘোষণা করে অনেক লোকের ক্ষতিসাধন করে। এ সময় চৈতন্যদেব (জ্ঞান) এর আগমন ঘটে এবং তার হাতে সে ধ্বংপ্রাপ্ত হয় (ব্য্য) ১ ভৃগু-সত্তার ত্রিধারারূপ তিনটি চোখ রয়েছে, একটি প্রকৃতির নিয়মে প্রতি মাসেই উম্মুক্ত হয় এবং অবশিষ্ট চোখদ্বয় বন্ধ থাকে। পারস্য রূপকারগণ বন্ধ চোখদ্বয়কে এক চোখ গণনা করে থাকেন এবং বন্ধ চোখটিকে অন্ধচোখ বলে অভিহিত করে থাকেন। তারা বলে থাকেন হিবাচী বা ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) এক চক্ষু কানা ২ নরজীবের শুক্রসম্পদ হরণ করে বলে হিবাচীকে দস্যু বলা হয় (আবি) যোনি, vagina, ফারজ (আ.ﻔﺮﺝ) (আঞ্চ) গুয়া, সেঁটা, গাঁড় (আভা) কানাই, করঙ্গ, অযোধ্যা, গোকুল, গোষ্ঠ, চিতা, চুলা, নৌকা, পাথর, ব্রজ (দেপ্র) এটি রূপক-সাহিত্যের বৈক্তিক- বৈশিষ্ট্য সারণির ‘কানাই’ পরিবারের ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’ ও রূপক-সাহিত্যের একটি প্রতীতি বিশেষ (ইপ) origin (আদৈ) মক্কা (আ.ﻤﻜﺔ), হামান (আ.ﻫﺎﻤﺎﻦ), হারুত (আ.ﻫﺎﺭﻮﺓ) (সংজ্ঞা) ১ সাধারণত সর্ব প্রকার লুণ্ঠককেই দস্যু বা ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) বলা হয় ২ রূপক-সাহিত্যে কবন্ধকে কানাই বা রূপকার্থে দস্যু বা ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) বলা হয় (ছনা) খাল, নালা ও সুড়ঙ্গ (চাপ) ডাঙ্গা, বিরজা ও যমুনা (উপ) উঠান, দুয়ার ও পথ (রূ) নদী (দেত) বৈতরণী {আরবি.‘ﺪﺠﻠﺔ’ (দজলাঃ)>}
‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) সম্পর্কে ইঞ্জিলের লৌকিকা
“৩. কেউ যেন কোনভাবেই তোমাদের ভুল পথে নিয়ে না যায়, কারণ সেদিন আসবার আগে প্রভুর বিরুদ্ধে ভীষণ বিদ্রোহ হবে, আর সে ‘অবাধ্য-পুরুষ’ যে নরকী সে প্রকাশিত হবে।
৪. সাঁই বলে যা কিছু আছে সে সবার বিরুদ্ধে এবং সব উপাসনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সে নিজেকে বড় করে দেখাবে, এমনকি সে কাঁইয়ের মন্দিরে বসে নিজেকে কাঁই বলে ঘোষণা করবে।
৫. আমি যখন তোমাদের কাছে ছিলাম, তখন এসব কথা যে তোমাদের বলতাম, তা কী তোমাদের মনে পড়ে না?
৬. সে ‘অবাধ্য-পুরুষ’ যাতে ঠিক সময়ের আগে প্রকাশিত হতে না পারে, সেজন্য যা এখন তাকে বাধা দিয়ে রাখছে, তা তো তোমরা জানো। তোমরা এও জানতে পেরেছ যে, ‘অবাধ্য-পুরুষ’ এব গোপন কার্যকলাপ এখনও চলছে।
৭. কিন্তু যিনি তাকে বাধা দিয়ে রাখছেন তিনি সরে না যাওয়া পর্যন্ত বাধা দিতেই থাকবেন। তারপরে সে ‘অবাধ্য-পুরুষ’ প্রকাশিত হবে।
৮. মহাত্মা কানীন তাঁর মুখের নিঃশ্বাসে তাকে ধ্বংস করবেন এবং তার মহিমাপূর্ণ উপস্থিতির দ্বারা তার শক্তি শেষ করে দিবেন।
৯. সে ‘অবাধ্য-পুরুষ’ যখন আসবে, তখন তার সঙ্গে থাকবে ব্যর্থশক্তি। সে শক্তি প্রকাশ পাবে সর্ব প্রকার মিথ্যা চিহ্ন এবং কুহক ও শক্তির কাজের মধ্যে।
১০. ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাওয়া লোকদের ঠকাবার সর্ব প্রকার দুষ্ট ছলনার মধ্যে। এ লোকেরা ধ্বংস হবে, কারণ মুক্তি পাবার জন্য তারা সত্যকে ভালোবাসেনি এবং তা গ্রহণও করেনি।
১১. এ জন্য প্রভু তাদের নিকট এমন এক শক্তি পাঠাবেন যা তাদের ভুল পথে নিয়ে যাবে, যেন তারা মিথ্যায় বিশ্বাস করে।
১২. ফলে যারা সত্যের ওপর বিশ্বাস না করে অন্যায় কাজে আনন্দ পেয়েছে, তাদের সবাইকে পুনর্জন্মে অপরাধী বলে ধরা হবে” (ইঞ্জিল, ২ থিষলিনীকীয়-২/৩-১২)
পবিত্র কুরানে তো কোথাও ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটির কোন ব্যবহার নেই। ওপরোক্ত আলোচনার মধ্যেও ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটির হুবহু ব্যবহার নেই। মহাগ্রন্থাদি হতে ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটির হুবহু ব্যবহার তুলে ধরার জন্য আমরা পবিত্র ইঞ্জিল হতে আরো কিছু উদ্ধৃতি নিচে তুলে ধরব। “এ যুগের শেষে অর্থাৎ দ-ায়মান দিনে যে ‘জঘন্য লোকটা’ এ পৃথিবীতে দেখা দিবে পবিত্র ইঞ্জিল গ্রন্থে তাকেই ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) বলা হয়েছে (ইঞ্জিল, ইউহোন্না- ২/১৮-২২)
সে কাঁইয়ের দাসদের ওপর ভীষণ অত্যাচার করবে এবং তার উপাসনা করবার জন্য তাদের ওপর বল প্রয়োগ করবে। ইঞ্জিল গ্রন্থে তাকে ‘অবাধ্য পুরুষ’ নামেও ডাকা হয়েছে (ইঞ্জিল, ২ থিষলিনীকীয়-২/৩, ৬)
মহাত্মা কানীন যখন এ পৃথিবীতে মহিমার সাথে আবার ফিরে আসবেন তখন তিনি ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) এর ওপর ধ্বংস অবতরণ করবেন এবং তাকে ও তার দলকে পরাজিত করবেন (কিতাবুল মোকাদ্দস, শব্দের অর্থ ও টীকা)
“১৮.সন্তানেরা, এ-ই শেষ সময়! তোমরা তো শুনেছ যে ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) আসছে, কিন্তু আরো অনেক ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) এরই মধ্যে এসে গেছে। তাই আমরা বুঝতে পারছি যে এ-ই শেষ সময়! ১৯.এ ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) রা আমাদের মধ্যে থেকে বের হয়ে গেছে। তারা কিন্তু আমাদের লোক ছিল না। যদি তারা আমাদেরই হতো তবে আমাদের সঙ্গেই থাকত কিন্তু তারা বের হয়ে গেছে বলে বুঝা যাচ্ছে, তারা কেউই আমাদের নয়। ২০.তোমরা কিন্তু সে পবিত্রজনের নিকট হতে অভিষেক পেয়েছ অর্থাৎ আত্মা পেয়েছ এবং তোমরা সবাই সত্যকে জানতে পেরেছ। ২১.সত্যকে জানো না বলে যে আমি তোমাদের কাছে লেখলাম তা নয় কিন্তু তোমরা সত্যকে জানো এবং এও জানো যে, সত্য থেকে মিথ্যা আসে না। সে জন্যই আমি তোমাদের নিকট লেখলাম। ২২.যে বলে কানীন সত্য নন সে মিথ্যাবাদী ছাড়া আর কী? পিতা ও পুত্রকে যে অস্বীকার করে সে-ই তো ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) (ইঞ্জিল, ইউহোন্না- ২/১৮-২২)
বর্তমানে কুরানীরা যে ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) নিয়ে অধিক বাড়াবাড়ি করে যাচ্ছে- কার্যত দেখা যায় সে ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটি তাদের শাস্ত্রীয়গ্রন্থ পবিত্র কুরানের কোথাও উল্লেখ নেই। তারা ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) সম্পর্কে যা কিছু বলে বেড়াচ্ছে বা প্রচার করে যাচ্ছে তা সবই পবিত্র ইঞ্জিল (ﺍﻧﺠﻴﻝ) এর বাণী। যারা কুরান ছাড়া অন্য কোন গ্রন্থাদি মানে না, তারা আবার অন্যান্য গ্রন্থের বিবরণাদি নিয়ে এতো তোলপাড় করে কিজন্য, তা এখন ভাববার সময় এসেছে। সময় এসেছে তলিয়ে দেখার। একটি অদ্ভূতজন্তুর আবির্ভাব হওয়া সম্পর্কে পবিত্র কুরানে যে বর্ণনাটি পাওয়া যায় তা এরূপ- “وَإِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِنْ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِآيَاتِنَا لَا يُوقِنُونَ” অর্থ- “যখন তাদের প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন আমরা ভূতল হতে একটি জীব বের করব- যা তাদের সাথে কথা বলবে, এ কারণে যে মানুষ আমাদের কথা বিশ্বাস করতো না” (কুরান, সুরা- নমল-৮২)
এ মন্ত্রটি দ্বারাও দাজ্জাল প্রমাণ হয় না।
দাজ্জালের পরিচয় (The identity of Vampire)
‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটি পারস্য রূপকারগণের আবিষ্কৃত রূপক-সাহিত্যের একটি পরিভাষা। বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্যাদির মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী একটি সত্তাকে বুঝানোর জন্য এ পরিভাষাটির সৃষ্টি করা হয়েছে। বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য কয়েক হাজার রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী-সত্তা হলো জননপথ বা ‘হিবাচী’। যাকে যমদূতের নদী বলে নামকরণ করা হয়েছে রূপক-সাহিত্যে।
হাস্যকর বিষয় হচ্ছে রূপক-সাহিত্যে ব্যবহৃত রূপক পরিভাষাগুলোকে বর্তমানে বাস্তব সত্তা বা বাস্তব চরিত্র মনে করে বাংভারতের কিছু কিছু লোক ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) ব্যবসা আরম্ভ করেছে। ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল)-বাজরা ও ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) ব্যবসায়ীরা কী একবারও ভেবে দেখে না যে, নাটক, গল্প, কাহিনী, উপন্যাস, সারী, জারী, পালা, ছড়া ও বৈঠকীর মধ্যে রূপকথার বাঘ, সাপ, পরী, দৈত্য, দানব, অপ্সরা, কিন্নরী ও গন্ধর্ব থাকে। এসব তো রূপকথার জীব। বাস্তবে এদের অস্তিত্ব পূর্বেও যেমন ছিল না বর্তমানেও তেমন নেই।
বাংভারতীয় রূপক-সাহিত্যে যেমন রয়েছে- প্রজাপতি, গড়ুর ও রথ ইত্যাদি দৈবযান পারস্য রূপক-সাহিত্যেও তেমন রয়েছে- বোরাক ও রফরফ ইত্যাদি ঐশিযান।
Greek mythology এর মধ্যে যেমন- Acheron (অ্যাকেরন), Arethusa (আর্থিজা), Cocytus (কোসাইটাস), Oocytes (ওওসাইটিস), Lethe (লিদি), Olyras (ওলেরাস), Pactolus (প্যাক্টোলাস), Phlegethon (প্লেগেদন) ও Styx (স্টেক্স) ইত্যাদি স্বর্গীয় ও নারকী নদীর নাম পাওয়া যায়। তেমন বাংভারতের রূপক-সাহিত্যের মধ্যেও ১ অলকানন্দা, ইরাবতী, কালিন্দী, গঙ্গা, গণ্ডকী, গয়া, গোদাবরী, গোমতী, চন্দ্রভাগা, তমসা, তিস্তা, পদ্মা, ফল্গু, বিপাশা, বিরজা, বৈতরণী, ব্রহ্মপুত্র, ভাগীরথী, মন্দাকিনী, মেঘনা, যমুনা, শতদ্রু, সংযমনী, সরষু, সুরধুনী ও সুরনদী ২ কামনদী, প্রেমনদী, ভবনদী, মায়ানদী, রূপনদী ও স্বরূপনদী ইত্যাদি স্বর্গীয় ও নারকী নদীর নাম পাওয়া যায়। তেমনি পার্সিয়ানদের নির্মিত আউলিয়া, আম্বিয়া, সুলত্বানিয়া ও মুলুকিয়ার কাসাস, হিকায়াত ও আদাবুর রায়ায়াতের মধ্যে ফুরাত, দজলা ও নীলনদের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এসব একটিও বাস্তব নয়। সবই রূপকথার নদী। তবে রূপকথার এসব নদ-নদী পরিভাষার মূলক হচ্ছে জননপথ।
প্রকৃত বিষয় হচ্ছে দাজ্জাল, ইয়াঝুজ-মাঝুজ ও দাব্বাতুল-আরদ এসব হচ্ছে কুরানী মনীষীদের বিভিন্ন বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্যের বা একই বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্যের রূপক বর্ণনা। এগুলোর মূলক উদ্ঘাটন করা প্রত্যেক পাঠকের একান্ত কর্তব্য। এখানে দাজ্জাল কোন মানুষও নয় আবার কোন প্রাণীও নয়। দাজ্জাল হচ্ছে মানবদেহের একটি বৈক্তিক-মূলক। যার বাস্তব সত্তা হচ্ছে স্ত্রীদের জননপথ।
বিশ্বের সব ভাষায় অধিকাংশ মরমী সঙ্গীত এ হিবাচী নিয়েই রচিত। যেমন-
১. “কী সন্ধানে যাই সেখানে
মনেরমানুষ যেখানে
আঁধার ঘরে জ্বলছে বাতি
দিবারাতি নাই সেখানে।
যেতে পথে কামনদীতে
পাড়ি দিতে ত্রিবেণে
কতো ধনীর ভারা যাচ্ছে মারা
পড়ে নদীর ঘোর তুফানে।
রসিক যারা পার হয় তারা
তারাই নদীর ধারা চিনে
তারা উজান তরী যাচ্ছে বেয়ে
তারাই স্বরূপ সাধন জানে।
লালন বলে ম’লাম জ্বলে
ম’লাম আমি নিশি দিনে
মনেরমানুষ ঘরে রেখে
কী ধন খুঁজো বনে বনে।” (পবিত্র লালন- ২৯৯)।
২. “উবুদ করা নদী দেখলাম ভাই
আসমানে তার তলি
কত জাহাজ মুল্লুক যাচ্ছে মারা
শুনে নদীর কলকলি।
জোয়ার এলে উঠে সোনা
অজোয়ারে উঠে লোনা
আচ্ছা মজার ফেলি।
ও সে রসিক মাঝি দিচ্ছে পাড়ি
অরসিক সব যাচ্ছে মরি
সদায় খেয়ে চুবু চুবানি।
লালন কয় সদায় থেকো অনুরাগে
হোসনে যেন খলখলি।” (পবিত্র লালন- ৭০৩)
৩. “মারিস না কানাই ওরে
যতনের এ বলাইরে।
চুরি করে ছয়টি চোরা
আমার বলাই পড়ে ধরা
মারিস নারে নিষ্ঠুর মারা
তোর অথৈ পারাপারে।
নেংড়া কেমনে চুরি করে
কেউ না নিলে সঙ্গে করে
দয়া নাই তোর অন্তরে
নির্মম কেন তুই এতরে।
তোরে জানাই ওরে কানাই
নির্দোষী আমার বলাই
বলন কয় পড়শি জ্বালায়
আমার বলাই চুরি করে।” (বলন তত্ত্বাবলী-২৫৫)
৪. “ডুব না জেনে ডুব দিতে গিয়ে
কতজনা প্রাণ হারায়
প্রেমযমুনায় নাইতে গিয়ে
ডুবে মরিল ডাঙ্গায়।
গ্রন্থে যার নাই নিদর্শনা
অরসিকে ভেদ জানে না
ভেদের কথা কইতে মানা
শিষ্য বিনে অশিষ্যায়।
নিঠাঁইয়েতে সাঁই পাড়িতে
কত ভরা ডুবে ডাঙ্গাতে
কেউ কেউ পায় সামান্যেতে
বিশ্বাসী গুরুর কৃপায়।
জলের মাঝে রয় অজলা
অথৈজলে লীলাখেলা
সুরসিকে মিলায় মেলা
ভাবিয়া কয় বলন তাই।” (বলন তত্ত্বাবলী-১২৬)
বৈক্তিক বৈশিষ্ট্যের মহাশক্তিধর এ বৈতরণী বা কানাইকে পারস্য রূপকারগণ ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) নামকরণ করেছেন। দাজ্জালকে (ﺪﺠﺎﻞ) বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করার কারণাদি নিম্নরূপ। আরবি ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) পরিভাষাটিকে আমরা বাংলাভাষায় “হিবাচী” পরিভাষাটি দ্বারা অনুবাদ করে আলোচনা সামনে অগ্রসর করার চেষ্টা করেছি।
১. দাজ্জালকে (ﺪﺠﺎﻞ) মহাপ্রতারক বলার কারণ
হিবাচীকে মহাপ্রতারক বলা হয় এ জন্য যে, সে কামরিপুর সাহায্য নিয়ে ছলনা করে বা প্রতারণা করে নর-নারীকে কামরাজ্যে নিয়ে যায়। অতঃপর ভুলিয়ে ভালিয়ে জীবের শুক্রসম্পদ অপহরণ করে।
২. দাজ্জালকে (ﺪﺠﺎﻞ) মহাদস্যু বলার কারণ
হিবাচীকে মহাদস্যু বলা হয় এ জন্য যে, সে বৈতরণী ঘাটে দস্যুর মতো ওঁৎ পেতে বসে থাকে নরগণ কামপথ অতিক্রম করতে যাওয়া মাত্রই বল প্রয়োগ করেই শুক্রসম্পদ হরণ করে নিয়ে নেয়।
৩. দাজ্জালকে (ﺪﺠﺎﻞ) একচোখ কানা বলার কারণ
হিবাচীকে রূপক-সাহিত্যে ত্রিবেণী বা ত্রিবেণী বলে। ত্রিবেণীর তিনটি দ্বার। যথা- ১.রজদ্বার ২.সুধাদ্বার ও ৩.মধুদ্বার। পারস্য দরবেশদের মতে সুধাদ্বার ও মধুদ্বার বলে পৃথকপৃথক দ্বারের অস্তিত্ব ভৃগুপথে নেই। তবে সুধাধারা ও মধুধারা সময়ের ব্যবধানে ভৃগু-সত্তার একই দ্বার দ্বারায় প্রবাহিত হয়। এ জন্য তারা ধারণা করেন ভৃগু-সত্তার প্রকৃত দ্বার দু’টি। যথা- ১.রজদ্বার ও ২.সুধাদ্বার। প্রায় দশবছর বয়সের সময় প্রকৃতির নিয়মে আপনা হতেই রজদ্বারটি উম্মুক্ত হয়ে স্বায়ম্ভু-সত্তা রজধারা প্রবাহিত হয়। এ ধারা প্রবাহিত হওয়ার ফলেই অরজা বা কিশোরী রজস্বলা বা যুবতীরমণীতে পরিণত হয়। অতঃপর প্রতি মাসেই এ দ্বারটি উম্মুক্ত হয়ে স্রাবধারা প্রবাহিত হওয়া অব্যহত থাকে। কিন্তু সুধাধারা প্রবাহিত না হওয়াই সুধাদ্বারটি চিরবন্ধ থাকে। যেমন-
“আমার ঘরের চাবি পরের হাতে
কেমনে খুলে সে ধন
দেখব চোখেতে।
আপন ঘরে বোঝায় সোনা
পরে করে লেনা দেনা
আমি হলাম জনমকানা
না পাই দেখতে।
রাজি হলে দারওয়ানি
দ্বার খুলে দিবেন তিনি
তারে বা কৈ চিনি জানি
বেড়াই কুপথে।
এই মানুষে আছে রে ধন
যারে বলে মানুষরতন
লালন বলে পেয়ে সে ধন
পারলাম না চিনতে।” (পবিত্র লালন- ১৬)
কোন সুবিজ্ঞ সাধু সন্ন্যাসীর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করে পরাজ্ঞান বা ব্রহ্মজ্ঞান অর্জন করার পরই সাধকগণ উক্ত গুপ্তদ্বারটি উম্মুক্ত করতে পারেন। ওপরোক্ত দ্বারদ্বয়কে পারস্য দরবেশগণ দুই চোখ বলে অভিহিত করেছেন। এ জন্য তারা উম্মুক্ত দ্বারটিকে সচল চোখ এবং বন্ধ বা গুপ্তদ্বারটিকে অন্ধ চোখ বলে উপমা নির্মাণ করেছেন। এ সূত্র ধরেই পারস্য দরবেশগণ বলে থাকেন ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) বা হিবাচীর এক চোখ কানা।
৪. দাজ্জালকে (ﺪﺠﺎﻞ) হযরত ইসা- এর শত্রু বলার কারণ
রূপক-সাহিত্যে কাঁই বা ব্রহ্মা বা আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) বা লড স্বয়ং জীবকুলের স্রষ্টা। তিনি জীবের মুক্তির জন্য যুগেযুগে স্বর্গধাম হতে আমাদের এ মর্ত্যধামে অবতরণ করেন। সাধু সন্ন্যাসীগণ বা রূপকারগণ মনে করেন যে, কাঁইয়ের দর্শনলাভ করাই জীবের একমাত্র মুক্তির পথ। কিন্তু কাঁইয়ের দর্শনলাভের একমাত্র প্রধান অন্তরায় হলো হিবাচী। বীরত্বের সাথে শুক্ররণে এক হাজার (১,০০০) বছর শুক্রপাতহীনভাবে পাশাখেলায় জয়ী না হলে তার জন্য কাঁইধামে গমনের গুপ্তপথটি উন্মোচন করা হয় না। এ জন্য কাঁই বা ইসা (ﻋﻴﺲٰ) ও সাধক ভক্তের সাথে দেখা করতে পারেন না। আবার যারা শুক্রপাত করে তখন কাঁই বা ইসা (ﻋﻴﺲٰ) সে শুক্রশক্তির দ্বারা জীব সৃষ্টি করে সে জীবকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। হিবাচী কাঁইকে একদিকে যেমন সাধক ভক্তের সাথে দেখা করতে দেয় না অন্যদিকে তেমন একটি জীবের সর্ব প্রকার দায় দায়িত্বের দায়ে কাঁই বা ইসাকে (ﻋﻴﺲٰ) আরো একজনমের জন্য আবদ্ধ করে। সে জন্যই বলা হয় হিবাচী কাঁই বা ইসা (ﻋﻴﺲٰ) এর শত্রু।
৫. শেষযুগে ‘ﺪﺠﺎﻞ’ (দাজ্জাল) বের হওয়ার কারণ
মানবদেহ সুগঠিত হওয়ার পর নরদেহে সর্বশেষে আগমন করে দাড়ি-মুচ এবং নারীদেহে সর্বশেষে আগমন করে বসিধ (জোয়ার) প্রতীতি। দাড়ি ও মুচ আগমন করে কৈশোরকালরূপ বিত্র প্রতীতিকে হত্যা করে নরগণের যৌবনের ঘোষণা প্রদান করে এবং বসিধ প্রতীতি আগমন করে কৈশোরকালরূপ বিত্র প্রতীতিকে হত্যা করে নারীগণকে যুবতী বা রজস্বলা বলে ঘোষণা প্রদান করে। বসিধ প্রতীতি আগমন না করলে কিশোরীরা যুবতী হয় না। এ জন্য কিশোরীদের হিবাচী প্রতীতি সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও তারা মৈথুনক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। নারীদেহের সর্বশেষে বসিধ প্রতীতির আগমন দ্বারা হিবাচী সর্বশেষে সক্রিয় হয় বলে রূপক-সাহিত্যে শেষযুগে তার বহিঃপ্রকাশ বলে উপাখ্যানাদি রচনা করা হয়।
৬. দাজ্জাল কর্তৃক (ﺪﺠﺎﻞ) মানুষ হত্যা করে আবার জীবিত করার রহস্য
জনৈক মরমীকবি লিখেছেন-
“কার ঘরের রমণী গো লাগে চিনিচিনি
কপালে তিলকের ফোটা চিকন গোয়ালিনী।
নারীর প্রেমে কেউ মজ না দুইদিন হীন আলেয়ায়
চাঁদ দেখিয়ে ফাঁদ পাতবে গলাতে রশি লাগায়
সাপের মতো ছোবল দিবে
সাজিয়া নাগিনী।”
হিবাচীর কাজ হলো কামরিপুর সহযোগিতায় নর ও নারীকে কামের প্রতি প্রলুব্ধ করা, অতঃপর নর ও নারীগণ যখন কামকেলিতে রতো হয় তখন শুক্রপাতরূপ আত্মহত্যা দ্বারা নরগণকে হত্যা করে মাত্র ৩০৯ দিন বা ১০ মাস ৯ দিনের ব্যবধানে তাকে পুনরায় জীবিত করে স্বর্গধামরূপ জঠর হতে মর্ত্যধামরূপ পৃথিবীতে প্রেরণ করা। যেমন-
“বাঘের ডাকে অন্তর কাঁপে মধুপুরের সেই ঘরে
কে যাবি শিকারে মানুষ কে যাবি শিকারে।
বাঘিনীর নাকটি বোঁচা কেউ তারে দিওনা খোঁচা
বাঘিনীর কোমর উঁচা চায় সে আড়ে আড়ে
যে শিকারী গিয়াছিল বাঘ ধরিবারে
কত শিকারী ধরে খেল গুলি-বন্দুক সহকারে।
শিকারীরা নিশিকালে নিরবে যাও জঙ্গলে
নিশানাটা ঠিক করিয়া বসে রও আড়ালে
এমন জোরে ছাড়ো গুলি এক গুলিতেই মরে
ধন্যরে শিকারী ব্যাটা ধন্য আমি বলি তারে।
শাহজালাল দরবেশে বলে যাবি যদি বাঘ জঙ্গলে
ভাবের বন্দুক প্রেমের গুলি হাতে নাওরে তুলে
পঞ্চস্থানে পঞ্চগুলি যে লাগাতে পারে
বাঘের সঙ্গে করলে পিরিত এক গুলিতে ঢলে পড়ে।” (মরমী কবি জালাল)
বিশ্বের বিভিন্ন রূপক-সাহিতে এর বিভিন্ন প্রকার নাম রয়েছে। কেউ বাঘ, কেউ নাগিনী, কেউ বৈতরণী, আবার কেউবা প্রেমনদীও বলেছেন। হিবাচীও একজন বিশিষ্ট প্রতীতি। হিবাচী প্রতীতি জীবকুলকে শুক্রপাতরূপ হত্যা দ্বারা হত্যা করে সন্তানরূপে জীবিত করেন। একমাত্র পাকা সাধক ভিন্ন কেউই তার ভীষণ আক্রমণের মরণকবল হতে আত্মরক্ষা করতে পারেন না।
তথ্যসূত্রঃ
আত্মতত্ত্ব ভেদ
লেখকঃ বলন কাঁইজি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন