বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪

৯৮/৩. সৃষ্টিকর্তা প্রসঙ্গঃ ‘ঘি’

৯৮/৩. সৃষ্টিকর্তা প্রসঙ্গঃ ‘ঘি’ (১৬ পর্বের ৩য় পর্ব) (আধ্যাত্মিকবিদ্যা, আত্মতত্ত্ব, আত্মদর্শন, দেহতত্ত্ব, পরম্পরাতত্ত্ব, দিব্যজ্ঞান, স্বরূপদর্শন, নরত্বারোপ ও বলনদর্শন টীকা)
(আধ্যাত্মিকবিদ্যা, আত্মতত্ত্ব, আত্মদর্শন, দেহতত্ত্ব, পরম্পরাতত্ত্ব, দিব্যজ্ঞান, স্বরূপদর্শন, নরত্বারোপ ও বলনদর্শন টীকা) (Spiritualism, Theology, Apperception/ Introspection, Canonism, Theosophy, Personification/ Anthropomorphism, Self-philosophy, Bolon philosophy and Magnanimous note.)
———————————————————————-
৯৮/৩. সৃষ্টিকর্তা প্রসঙ্গঃ ‘ঘি’ (১৬ পর্বের ৩য় পর্ব)
ঘি
Butter (বাটার)/ ‘السمن’ (আস্সুম্মুন)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ব্যাপকপরিবারের অন্যতম একটি ‘উপমানপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘সৃষ্টিকর্তা’, রূপকপরিভাষা ‘কাঁই’, অন্যান্য উপমানপরিভাষা ‘নীর, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য’, চারিত্রিকপরিভাষা ‘অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর’। এ পরিভাষাটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘পালনকর্তা’ ‘শুক্র’‘সৃষ্টিকর্তা’ এ ৩টি মূলকেরই উপমানপরিভাষা রূপে রূপকসাহিত্যে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ জন্য এর ব্যবহারের ক্ষেত্রের উপর নির্ভর করে সঠিক মূলক উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।
ঘি (রূপ)বি ঘৃত, ঘিলু, মগজ, দুগ্ধ হতে উৎপন্ন স্নেহজাতীয় পদার্থ, butter (বাটার), ‘السمن’ (আস্সুম্মুন) (আবি)বি সৃষ্টিকর্তা, নির্মাতা, ক্রিয়েটর (creator), খালিক্ব (.ﺨﺎﻟﻖ), melanin (মিলেনিন), ‘ميلانين’ (মিলেনিন) (আভা)বি ঈশ্বর, অনন্ত, বিধাতা, স্বায়ম্ভু (বাদৈ)বি কালা, কৃষ্ণ, বিরিঞ্চি, ব্রহ্মা, শ্যাম (আদৈ)বি আল্লাহ (.ﺍﻠﻠﻪ), ইসা (.ﻋﻴﺴﻰٰ), মসিহ (.ﻤﺴﻴﺢ), শাম (.ﺷﺄﻢ), শামস (.ﺸﻤﺲ), শিশ (.ﺸﻴﺶ) (ইদৈ)বি লর্ড (Lord), মেকার (maker), ডিজাইনার (designer) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের ‘উপমানপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.দুগ্ধ হতে উৎপন্ন স্নেহজাতীয় পদার্থকে ঘি বলা হয় ২.রূপকসাহিত্যে কৃষ্ণবর্ণের মানবজলকে ঘি বলা হয় (ছনা)বি আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর (চরি)বিণ অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ (উপ)বি ঘি, নীর, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য (রূ)বি কাঁই (দেত)বি সৃষ্টিকর্তা।
ঘিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of butter)
“নাম গুণ তত্ত্ব জানো কী ওরে মন পণ্ডিতজি, দুগ্ধ হতে ছানা উঠে মাখন হতে উঠে ঘি” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৬)
ঘিয়ের সংজ্ঞা (Definition of butter)
দুগ্ধ হতে উৎপন্ন স্নেহজাতীয় পদার্থকে ঘি বলে।
ঘিয়ের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of butter)
রূপকসাহিত্যে কৃষ্ণবর্ণের মানবজলকে ঘি বলে।
ঘিয়ের প্রকারভেদ (Classification of butter)
ঘি দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান ঘি ও ২.উপমিত ঘি।
১. উপমান ঘি (Analogical butter)
দুগ্ধ হতে উৎপন্ন স্নেহজাতীয় পদার্থকে উপমান ঘি বলে।
২. উপমিত ঘি (Compared butter)
রূপকসাহিত্যে কৃষ্ণবর্ণের মানবজলকে উপমিত ঘি বলে।
ঘিয়ের পরিচয় (Identity of butter)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের অধীন একটি ‘উপমানপরিভাষা’ বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক গ্রন্থ-গ্রন্থিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সাধারণত দুগ্ধ হতে উত্তোলিত স্নেহজাতীয় পদার্থকেই ঘি বলা হয় কিন্তু রূপকসাহিত্যে কেবল শুক্র, সুধা ও মধুকে ঘি বলা হয়। গোয়াল, ঘোষ ও মুদিরা দুগ্ধ হতে যথাযথ পদ্ধতিতে ঘি উত্তোলন করে থাকেন তদ্রূপ আমাদের মানবদেহের মধ্যে থেকে পাকা সাধকগণ সুধা ও মধু আহরণ করে থাকেন। মানবদেহে প্রাপ্ত সাদাবর্ণের সুধা ও কালোবর্ণের মধুরসকে রূপকসাহিত্যে ঘি বলে অভিহিত করা হয়। অথচ অত্যন্ত অবাক হবার বিষয় এই যে, সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা রূপকসাহিত্যে ব্যবহৃত ‘ঘি’ পরিভাষাটি দ্বারা কেবল দুধ দ্বারা নির্মিত ঘিকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। এ জন্য শাস্ত্রীয়রা চিরদিনের জন্য আত্মতত্ত্ব বা আত্মদর্শন হতে চিরবঞ্চিত।
(সংক্ষিপ্ত)
তথ্যসূত্রঃ
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন