আশুরা কারবালা ও হুসেন শহিদ (৩য় পর্ব)
Ashura Karbala and Hussain Shahid (3rd Part)
‘عاشوراء كربلاء والحسين الشهيد (3 جزء)’
Ashura Karbala and Hussain Shahid (3rd Part)
‘عاشوراء كربلاء والحسين الشهيد (3 جزء)’
কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy) বা কাল্পনিকতত্ত্ব (Mythology)
এবার আমরা একটি কথিত উপাখ্যান দ্বারা আলোচনা আরম্ভ করব। “একদা হুজুর
(সাঃ) এর পিঠে চড়ে ঘোড়-শোয়ার খেলার সময় হযরত হুসেন (রাঃ) বললেন- “নানা আমার
মৃত্যু হবে কিভাবে বলো।” হুজুর বললেন- “তুমি পথ চলতে থাকবে এবং যখন তোমার
ঘোড়ার ক্ষুর মাটির মধ্যে দেবে যাবে- এবং সেখান থেকে রক্তজল প্রবাহিত হবে।
এরূপ অবস্থা যখন দেখবে তখন তোমার মৃত্যু হবে।” ঘটনাক্রমে হযরত হুসেন (রাঃ)
ইয়াজিদের নিমন্ত্রণ পেয়ে রাজনৈতিক সন্ধি করার জন্য কুফার পথে যাত্রা করেন।
ফুরাত নদীর পাড়ে গিয়ে তাঁর ঘোড়ার ক্ষুর দেবে যেতে আরম্ভ করে। তখন তিনি
নিশ্চিত হন যে, এখানে তাঁর মৃত্যু অবধারিত। তখন তিনি সেখানে শিবির স্থাপন
করে যাত্রা ভঙ্গ করেন। অতঃপর এখানে সংঘটিত হয় তাঁর মর্মান্তিক মুত্যু।
সন্ধিযাত্রার সময় হযরত হুসেন (রাঃ) এর সাথে তাঁর পরিবারের লোকজনসহ মোট
১৪শত লোক ছিল। অন্যদিকে ইয়াজিদের বাহিনিতে সৈন্য ছিল ৩৩,০০০ জন। তার মধ্যে
নিশ্চিত যুদ্ধ ভেবে ২০০ জন পালিয়ে যায়।”
কুরানীদের মধ্যে এরূপ ঘটনা প্রায়সই দেখতে ও শুনতে পাওয়া যায়। আর এসব
ঘটনার উৎস জারির তাবারির লেখা ‘Sa’aadatuddarain fi Qatlil Husain’
(সাদাতুদ্দারাইন ফি কাতিল হুসেন) গ্রন্থটি। এবং এ গ্রন্থের অনুকুলে লেখা
মোল্লা হুসাইন কাশিফির লেখা ‘Rawdat al-shuhada’ (রাওদাত আল শুহাদা)
গ্রন্থটি।
এবার আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি যে, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা সম্বলিত উপন্যাস ‘সাদাতুদ্দারাইন ফি কাতিল হুসেন’ সর্ব প্রথম জারির তাবারি নির্মাণ করেন। অতঃপর মোল্লা হুসাইন কাশিফি এ গ্রন্থের অনুকুলে ‘রাওদাত আল শুহাদা’ রচনা করেন। যেমন বাংলাদেশে মীর মুশাররফ হোসেন ‘বিষাদসিন্ধু’ এবং কায়কোবাদ ‘মহাশ্মশান’ রচনা করেছেন। উদাহরণত আরো বলা যায় মহাগ্রন্থ ‘রামায়ণ’ এর অনুকুলে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনা করেছেন ‘মেঘনাথ বধ’। তদ্রূপ মহাকবি হোমারের মহাগ্রন্থ ‘ইলিওড’ এর অনুকুলে নির্মিত হয়েছে- তৌরাত, ইঞ্জিল ও কুরানের আদম ও হাওয়ার ঘটনা।
তবে জারির তাবারির লেখা ‘সাদাতুদ্দারাইন ফি কাতিল হুসেন’ গ্রন্থটি সারা কুরানী বিশ্বে তেমন প্রচার-প্রসারলাভ না করলেও মোল্লা হুসাইন কাশিফির লেখা ‘রাওদাত আল শুহাদা’ গ্রন্থটি অধিক প্রচার-প্রসারলাভ করেছে।
মোল্লা হুসাইন কাশিফির লেখা ‘রাওদাত আল শুহাদা’
গ্রন্থটি এ উপমহাদেশের কুরানীদের নিকট এতই সমাদৃত হয়েছে যে, এ উপন্যাসের
কেন্দ্রিয় চরিত্র হাসান ও হুসেন কুরানোক্ত কেন্দ্রিয় চরিত্র মুহাম্মদের
নাতি বা দৌহিত্র পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এবং হুসেন জননী ফাতিমা মুহাম্মদের
কন্যায় উপনীত হয়েছে।
ঘটনা কেবল এখানেই শেষ নয়। আরো মজার বিষয় হচ্ছে এ উপমহাদেশের
মোল্লা-মুন্সিরা বর্তমানকালে এসব ঘটনাকে তাদের সাপ্তাহিক শুক্রবারের জুমার
নামাজের খুৎবার মধ্যে সংযোজন করতেও দ্বিধা করেননি। যেমন প্রতি জুমার সানি
খুৎবার মধ্যে পাঠ করা হয়- ‘الحسن والحسين سيدا شباب أهل الجنة’ “আল হাসান
ওয়াল হুসাইনু সাইয়্যিদা শাবাবি আহলিল জান্না।” অর্থঃ
হাসান ও হুসেন হচ্ছেন স্বর্গীয় যুবকদের নেতা। এবং ‘وفاطمة سيدة نسائهم أهل
الجنة’ “ওয়াল ফাতিমাতু সাইয়্যিদাতু নিসায়িহিম আহলিল জান্না।” অর্থঃ “এবং
ফাতিমা হচ্ছেন স্বর্গীয় নারীদের নেত্রী।”
এখন এগুলো আর উপন্যাস নয় বরং হাদিসরূপে ব্যবহার হওয়া আরম্ভ হয়েছে। যেমন-
“الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أما بعد: فقد
ورد في مسند الإمام أحمد وعند الترمذي وابن ماجه والنسائي عن أبي سعيد
الخدري -رضي الله عنه- قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الحسن
والحسين سيدا شباب أهل الجنة. وصححه الشيخ الألباني، وفي رواية: وفاطمة
سيدة نسائهم”
অন্যদিকে জারির তাবারির লেখা ‘সাদাতুদ্দারাইন ফি কাতিল হুসেন’
এর মধ্যে বর্ণিত হাসান, হুসেন ও ফাতিমার সাথে কুরানোক্ত মুহাম্মদের যে কোন
সম্পর্ক নেই তা আজ আর কুরানীরা জানেই না। আর ঔপন্যাসিক চরিত্র হাসান,
হুসেন ও ফাতিমাকে কুরানোক্ত মুহাম্মদের সাথে সম্পৃক্ত করতে গিয়ে কুরানীরা
এখন পবিত্র কুরানকেই অস্বীকার করতে আরম্ভ করেছে। কুরানে বলা হয়েছে
মুহাম্মদের কোন ছেলেমেয়ে নেই। তিনি কোন মানুষের পিতা নন। যেমন- “مَا كَانَ
مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَٰكِنْ رَسُولَ اللَّهِ
وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا” (কুরান, আহযাব- ৪০)। অর্থঃ
“মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মতো পিতা ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন কাঁইয়ের
অবতার ও সর্বশেষ ঐশি সাংবাদিক। কাঁই সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।” এখানে
পরিষ্কারভাবেই উল্লেখ হয়েছে যে, মুহাম্মদ পবিত্র কুরানের একটি চরিত্র
মাত্র। তিনি স্বর্গীয় অবতার এবং সর্বশেষ ঐশি সাংবাদিক। তিনি মানুষরূপী
পুরুষদের মতো পিতা নন। অর্থাৎ তাঁর কোন সন্তানাদি নেই।
বর্তমানকালে এভাবেই শাস্ত্রান্ধ কুরানীদের দ্বারা পবিত্র কুরান পদ্দোলিত
হতে আরম্ভ করেছে। পবিত্র কুরানের অনেক আয়াতের অর্থকে এভাবেই হেরফের করে
ঐসব উপন্যাসের অনুকুলে অর্থ করা আরম্ভ হয়েছে। আর কুরানীদের বিভিন্ন দল-উপদল
নিজেদের দলীয় স্বার্থে পবিত্র কুরানের কত আয়াতের অর্থ যে হেরফের করেছে তার
কোন ইয়ত্তা নেই। এসব কারণে সৌদি সরকার আমাদের বাংভারতীয় উপমহাদেশের প্রায়
৬০টি গ্রন্থ অনেক আগেই নিষিদ্ধ করেছে। এর মধ্যে আছে- মাযহাব, ত্বরিক্বত ও
তাবলিগ সংক্রান্ত গ্রন্থ-গ্রন্থিকা। আশরাফ আলী থানভী ও মওদুদীর লেখা
গ্রন্থ-গ্রন্থিকা।
“স্থানীয় দৈনিক ওকাজের তথ্য মতে, রিয়াদ আন্তর্জাতিক বইমেলা কর্তৃপক্ষ
৪২০টি বইয়ের ১০ হাজারের বেশি কপি বাজেয়াপ্ত করেছে। শুক্রবার এ বইমেলা শেষ
হবে। স্থানীয় সংবাদ-সাইট ‘সাবক ডট ওআরজি’ জানিয়েছে, সৌদি আরবের ধর্মীয়
পুলিশ আরবের বিখ্যাত কবি দারউইশের বইয়ে ‘ব্লাসফেমি অধ্যায়’ এর প্রতিবাদ করে
তার সব বই বইমেলা থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে আধুনিক
কবি বদর শাকের আল সায়াব, ইরাকি কবি আবদুল ওহাব আল বয়াতি, ফিলিস্তিনি কবি
মুঈন বিশুর কাব্যগ্রন্থও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবদুল্লাহ আলামীর লেখা ‘সৌদি
নারীরা কখন গাড়ি চালাবে’ বইটিও নিষিদ্ধ করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। জানিয়েছে
দৈনিক সৌদি গেজেট। নিষিদ্ধ হওয়া বইয়ের তালিকায় আছে ‘হিজাবের ইতিহাস’,
‘ইসলামে নারীবাদ’।” তথ্যসূত্রঃ সোমবার, ১৭ মার্চ ২০১৪।
———————————————————————————
আত্মদর্শন (Theosophy) বা আত্মতত্ত্ব (Theology)
এবার আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্ব দ্বারা আলোচনার যবনিকাপাত করতে চাই। তিনপর্বের দীর্ঘ আলোচনার মধ্যে যেসব রূপক পরিভাষা রয়েছে তা দেখে নিই। রূপক পরিভাষাগুলো হচ্ছে- আশুরা, কারবালা, হুসেন, ফাত্বিমা, মুহাম্মদ, ফুরাতনদী, জল, যুদ্ধ ও শহিদ।
রূপক পরিভাষা = আত্মতাত্ত্বিক মূলক
আশুরা = প্রথমপ্রহর
কারবালা = ভৃগু
হুসেন = বামশ্বাস
হুসেন শহিদ = শুক্রপাত
ফাত্বিমা = শুক্র
ইয়াজিদ = শুক্র
মুহাম্মদ = সাঁই
ফুরাতনদী = বৈতরণী
জল = সাঁই
যুদ্ধ = কাম
শহিদ = শুক্রপাত
ঘোড়া = দেহ
ঘোড়ার ক্ষুর = বলাই
৩৩,০০০ = তেত্রিশ প্রতীতি
১,৪০০ = চৌদ্দপোয়া
২০০ পালিয়ে যাওয়া = সাঁই ও কাঁইয়ের সন্ধান না পাওয়া
রক্তজল = রজ
———————————————————————————
আত্মদর্শন (Theosophy) বা আত্মতত্ত্ব (Theology)
এবার আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্ব দ্বারা আলোচনার যবনিকাপাত করতে চাই। তিনপর্বের দীর্ঘ আলোচনার মধ্যে যেসব রূপক পরিভাষা রয়েছে তা দেখে নিই। রূপক পরিভাষাগুলো হচ্ছে- আশুরা, কারবালা, হুসেন, ফাত্বিমা, মুহাম্মদ, ফুরাতনদী, জল, যুদ্ধ ও শহিদ।
রূপক পরিভাষা = আত্মতাত্ত্বিক মূলক
আশুরা = প্রথমপ্রহর
কারবালা = ভৃগু
হুসেন = বামশ্বাস
হুসেন শহিদ = শুক্রপাত
ফাত্বিমা = শুক্র
ইয়াজিদ = শুক্র
মুহাম্মদ = সাঁই
ফুরাতনদী = বৈতরণী
জল = সাঁই
যুদ্ধ = কাম
শহিদ = শুক্রপাত
ঘোড়া = দেহ
ঘোড়ার ক্ষুর = বলাই
৩৩,০০০ = তেত্রিশ প্রতীতি
১,৪০০ = চৌদ্দপোয়া
২০০ পালিয়ে যাওয়া = সাঁই ও কাঁইয়ের সন্ধান না পাওয়া
রক্তজল = রজ
কারবালা [ﻜﺮﺑﺎﻞ] (রূপ)বি চালুনি, শস্য চালার চালুনি, ধনুৎকারের তুলা ধুনার যন্ত্র (আল) পরীক্ষক, নিরীক্ষক, বাছাইকারী, নির্ণয়কারী (প্র)
কুরানী মনীষীদের রূপকবর্ণনা মতে সাগরতীরস্থ ঘাসপাতাহীন ধূসর প্রান্তর
বিশেষ- যে স্থানে মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদ ও আলির পুত্র হুসেনের মধ্যে ভীষণ
যুদ্ধ হয় এবং হুসেন সপরিবারে নিহত হন বলে কুরানী রূপক সাহিত্যের মধ্যে
বর্ণনাদি পাওয়া যায় (ব্য্য) ১.কামসাধক টল নাকি অটল ভৃগু দ্বারা
বাছাই বা নির্বাচন করা হয় বলে রূপক সাহিত্যে ভৃগুকে চালুনি বলা হয়।
উল্লেখ্য ভৃগুকে চালুনি ধরে রূপক সাহিত্য শিল্পাদিতে উপমাশৈলী বা উদাহরণাদি
নির্মাণ করা হয় ২.চন্দ্রচেতনা বা কামবাসনারূপ শত্রু কবলিত হয়ে কামনদীর
তীরে কামব্রত পালনে গিয়ে শুক্রপাতরূপ মৃত্যুবরণ করা (আবি) প্রপাত, জলপ্রপাত, নির্ঝরের পতনস্থান, cervix (সাভেক্স), ‘دش’ (দাশশা) (আভা) ক্ষুর, তলোয়ার, পরশু, ত্র্যম্বক, নারদ (আদৈ) মুসা (আ.ﻤﻭﺴﻰٰ), হুদহুদ (আ.ﻫﺪﻫﺪ) (ইদৈ) chopper (চোপার) (পরি) জরায়ুমুখ, womb aperture (ওম্ব এ্যাপারচার) (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘ভৃগু’ পরিবারের একটি ‘রূপক পরিভাষা’ ও রূপক সাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.কুরানী রূপক সাহিত্যের উপন্যাস বিখ্যাত একটি স্থানকে কারবালা বলা হয় ২.রূপক সাহিত্যে জরায়ুমুখকে কারবালা বলা হয় (ছনা) অসি ও পরশু (চরি) অর্জুন, দ্বারী ও মহারাজ (উপ) খিড়কি, পর্বত, পাখি, সিঁধ, স্বর্গদ্বার ও স্বর্গমুখ (রূ) ত্রিবেণী (দেত) ভৃগু {আ.কারবালা. ﻜﺮﺑﺎﻞ> কারবালা. ﻜﺮﺑﻼ}
ইয়াজিদ [ﻴﺯﻴﺪ] (রূপ)বি উদ্বৃত্তান, উদ্বৃত্ত, বৃদ্ধি, আপনাপনি বর্ধিত হয় যা (ব্য্য) শুক্র বা বীর্য প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদেহের মধ্যে আপনাপনি বর্ধিত হয় বলে রূপক সাহিত্যে শুক্রকে উদ্বৃত্তান বলা হয় (প্র)
কুরানী মনীষীদের রূপক বর্ণনা মতে মুয়াবিয়া পুত্র- যে কুরানোক্ত মুহাম্মদের
নাতি হুসেনকে কারবালা প্রান্তর বা ফুরাতনদীর তীরে হত্যা করেছিল (আবি) গোবিন্দ, জল, বারি, পিতৃধন স্ত্রী অহল্যা, কালী, দুর্গা, বৈষ্ণবী, সীতা (সাঅ)
শুক্র, শুক্রগ্রহ, শুকতারা, শুক্রাণু, বীর্য, বিন্দু, ধাতু, রতী, semen
(সিমেন), ‘مني’(মনিয়া), নুত্বফা (আ.ﻧﻂﻔﺔ) (আদৈ) ‘আ.ﺍﺪﻢ’ (আদম), ‘আ.ﻋﺯٰﻰ’
(ওয্যা), ‘আ.ﺠﻦ’ (জিন), ‘ফা.ﭙﺮﻯ’ (পরি), ‘আ.ﺯﻜﺎﺓ’ (যাকাত), ‘আ.ﻟﻮﻄ’ (লুত্ব)
স্ত্রী ‘আ.ﺯﻟﻴﺠﺎ’ (জুলেখা), ‘আ.‘ﺯﻫﺭﺍﺓ’ (জোহরা) ও ‘আ.ﺒﺎﻠﻜﺱ’ (বিলকিস) (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শুক্র’ পরিবারের একটি পরিভাষা ও রূপক সাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা)
১.কুরানীদের রূপক সাহিত্যে বিখ্যাত মুয়াবিয়া পুত্রকে ইয়াজিদ বলা হয়
২.কামযজ্ঞের সময়ে শিশ্ন হতে নিঃসৃত শুভ্রবর্ণের তরল পদার্থকে শুক্র বা
রূপকার্থে ইয়াজিদ বলা হয় (ছনা) আদিপিতা, আদিমানব, আদ্যাশক্তি, দৈত্য ও মা (চরি) নারাঙ্গী, বেহুলা, রতী, রাধা, সীতা ও সুন্দরী (উপ) অমির, আংগুর, ধেনু, নির্যাস, পদ্ম, পিতৃধন, রুটি ও স্বর্গীয়ফল (রূ) ধন (দেত) শুক্র {আ.যাইদ. ﺯﻴﺪ>}
রূপক সাহিত্যে যেভাবে আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো বর্ণনা করা হয় প্রকৃত
বিষয়গুলো আদৌ তেমন নয়। আমাদের দেশের আহলে বায়াত, পাঞ্জাতনবাদী, মারিফতবাদী ও
ত্বরিক্বাবাদীরা হুসেনের একটি মনোজ্ঞ বা মনোকল্প বর্ণনা করে থাকেন। তা
হলো- স্বর্গের তৌবা গাছে একটি ময়ুর বসে আছে। সে ময়ুরের মাথার মুকুটরূপে
আলি, হাসান-হুসেন কানের দুলরূপে ও মুহাম্মদ গলার হাররূপে আছেন। এ মুহাম্মদ,
আলি, ফাত্বিমা, হাসান ও হুসেন নিতান্ত ঔপন্যাসিক চরিত্র, কৌরাণিক চরিত্র
নয়। তাই এখানে (সাঃ) ও (রাঃ) সম্বোধন ত্যাগ করা হয়েছে। বিশ্বের সব
মুহাম্মদ, আলি, ফাত্বিমা, হাসান ও হুসেন এর ক্ষেত্রে (সাঃ) ও (রাঃ) সম্বোধন
প্রয়োজন নেই।
এরূপ রূপক গল্পের আত্মতত্ত্ব হচ্ছে- ঐ ময়ুরটি স্বয়ং শুক্র (ফাতিমা),
মাথার মুকুটরূপ আলি হচ্ছে অটল বা ঊর্ধ্বরেতা শক্তি, গলার হার হচ্ছে সাঁই
(মুহাম্মদ) এবং কানের দুল হচ্ছে ডানশ্বাস ও বামশ্বাস। কারণ রূপক সাহিত্যে
পাঞ্জাতন হচ্ছে- অটল (আলি), সাঁই (মুহাম্মদ), শুক্র (ফাতিমা), ডানশ্বাস
(হাসান) ও বামশ্বাস (হুসেন)। আর তৌবাগাছ হচ্ছে স্বয়ং দেহ।
এবার আমরা ওপরোক্ত রূপক গল্পটির আত্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা তুলে ধরার চেষ্টা করব। গল্পটি ছিল- “একদা
হুজুর (সাঃ) এর পিঠে চড়ে ঘোড়-শোয়ার খেলার সময় হযরত হুসেন (রাঃ) বললেন-
“নানা আমার মৃত্যু হবে কিভাবে বলো।” হুজুর বললেন- “তুমি পথ চলতে থাকবে এবং
যখন তোমার ঘোড়ার ক্ষুর মাটির মধ্যে দেবে যাবে- এবং সেখান থেকে রক্তজল
প্রবাহিত হবে। এরূপ অবস্থা যখন দেখবে তখন তোমার মৃত্যু হবে।” ঘটনাক্রমে
হযরত হুসেন (রাঃ) ইয়াজিদের নিমন্ত্রণ পেয়ে রাজনৈতিক সন্ধি করার জন্য
দামেস্কের পথে যাত্রা করেন। ফুরাত নদীর পাড়ে গিয়ে তাঁর ঘোড়ার ক্ষুর দেবে
যেতে আরম্ভ করে। তখন তিনি নিশ্চিত হন যে, এখানে তার মৃত্যু অবধারিত। তখন
তিনি সেখানে শিবির স্থাপন করে যাত্রা ভঙ্গ করেন। অতঃপর এখানে সংঘটিত হয়
তাঁর মর্মান্তিক মুত্যু। সন্ধিযাত্রার সময় হযরত হুসেন (রাঃ) সাথে তাঁর
পরিবারের লোকজনসহ মোট ১৪শত লোক ছিল। অন্যদিকে ইয়াজিদের বাহিনিতে সৈন্য ছিল
৩৩,০০০ জন। তার মধ্যে নিশ্চিত যুদ্ধ ভেবে ২০০ জন পালিয়ে যায়।”
এটি ছিল সাঁই সাধনের রূপক বর্ণনা। এখানে সঙ্গমকে যুদ্ধ, শিশ্নকে ঘোড়ার
ক্ষুর, দেহকে ঘোড়া, রজকে রক্তজল, অমৃতনদী বৈতরণীকে ফুরাতনদী (সুমিষ্ট জলের
নদী), শুক্রকে ইয়াজিদ বা ফাতিমা, বামশ্বাসকে হুসেন ও অটলকে আলি ধরে উপমা
নির্মাণ করা হয়েছে। সাধক কামযুদ্ধের মাধ্যমে অমৃত মানবজল বা অমৃতজল আহরণ
করার সাধনায় যখন ব্রত হন- তখন যম স্বর্গীয় বাহিনী দ্বারা তা প্রতিহত করার
চেষ্টা করতে থাকেন। স্বর্গীয় বাহিনীর মধ্যে রয়েছে কামরসরূপ দেবসেনা,
কানাইরূপ স্বর্গীয় বিষবৈদ্য ও চন্দ্রচেতনারূপ যম।
যম দেবসেনা ও বিষবৈদ্য দ্বারা শিশ্নকে ক্ষতবিক্ষত করে শুক্র ছিনিয়ে নিতে
মরিয়া হয়ে উঠে। বন্ধ করে দেয় মিষ্টজলের স্বর্গীয় কূপ জরায়ুর গুপ্তদ্বার।
দেবসেনাগণ কামরসরূপ তীর ছুড়তে থাকেন। যম শুক্রপাতরূপ মাথা কাটার জন্য
ভৃগুরূপ খড়গ নিয়ে প্রস্তুত থাকেন।
যখন বামশ্বাসের গতি প্রতি দণ্ডে ২৪ হতে ২৭ শ্বাসে উন্নীত হয় তখন হৃদকম্প
৭২ হতে ৮১ তে উন্নীত হয়। আর এ সময় রক্ত হতে শুক্র পৃথক হয়ে পড়ে। অতঃপর
সাধক যদি তার ইন্দ্রগতি নিয়ন্ত্রণ না করেন তবে শ্বাসের গতি যখন ২৮ শে
উন্নীত হয় তখন হৃদকম্পও ৮৪ তে উন্নীত হয়। অতঃপর শুক্রপাত হয়ে যায়। এ
শুক্রপাতকেই ভারতীয় রূপক সাহিত্যে রাবণ বধ এবং পার্সিয়ান রূপক সাহিত্যে
হুসেন বধ বলা হয়।
এসব আত্মতত্ত্ব না জানা ও না বুঝার কারণে শাস্ত্রীয় ঠাক-পুরুৎ বা
মোল্লা-মুন্সিরা রূপক উপমাগুলোকে সর্বদা অলৌকিককার্য বা চমৎকার ভেবে থাকেন।
বৈক্তিকসদস্যগুলোকে অবতার বা ঐশিদূত ভেবে থাকেন। ঘটনাগুলোকে দৈবকার্য ভেবে
থাকেন। এগুলোকে রক্ষা করা কিংবা এসব ঘটনার শ্রদ্ধা করা শাস্ত্রীয় কর্মের
অংশ ভেবে থাকেন।
যখন কোন গবেষক বা লেখক এসব গল্প-কাহিনীর প্রকৃত অর্থ বুঝতে অক্ষম হন
তখনি তারা এসব ঘটনার অপব্যাখ্যায় আত্মনিয়োগ করেন। যেমন- মহাভারতোক্ত
শ্রীকৃষ্ণের ১৬০০ গোপী কেন? কুরানোক্ত সুলাইমানের ৩০১ স্ত্রী কেন?
কুরানোক্ত মুহাম্মদের ১৪ বিবি কেন? শাস্ত্রীয় নায়করা মহামানব হলে তাঁরা
যুদ্ধ করেছেন কেন? শ্রীকৃষ্ণ মামী রাধার সাথে প্রেম করেছেন কেন? আলি-আয়েশা
শ্বাশুড়ী-জামাই যুদ্ধ করেছেন কেন? খেলাফতকালে সাহাবিদের মধ্যে যুদ্ধ হলো
কেন? ইত্যাদি।
আত্মদর্শন জ্ঞানহীন গবেষকদের এরূপ ব্যঙ্গোক্তির জন্য শাস্ত্রীয়
ঠাক-পুরুৎ ও মোল্লা-মুন্সিরা তাদেরকে প্রায় যবন, ধর্মত্যাগী বা কাফির আখ্যা
দিয়ে থাকেন। উভয় গোষ্ঠীর স্বস্ব ভুলের কারণে ইতোপূর্বে অনেককে দেশ ত্যাগও
করতে হয়েছে। আবার এসব ভুলের জন্য যুগে যুগে শাস্ত্রীয়দের মধ্যে অনেক
শাস্ত্রীয় উগ্রবাদ বা শাস্ত্রীয় আতংবাদেরও উদ্ভব হয়েছে। সাগর সাগর
রক্তহানীও হয়েছে। অনেক মায়ের বুকও খালি হয়েছে। তবু আজো শাস্ত্রীয়দের
চোখ-কান খোলেনি। বলন কাঁইজির নিরন্তর তত্ত্ব উদ্ঘাটনমূলক আলোচনা পড়ে ও শোনে
শাস্ত্রীয়দের সুবোধ উদয় হয়নি।
আত্মদর্শন না জানা ও না বুঝার কারণে সেই আদিকাল হতে আজো শাস্ত্রীয়রা রাজনীতির ‘বলির পাঠা’।
যুগে যুগে বড় বড় রাজনীতিকরা স্বস্ব শাস্ত্রীয় প্রতিষ্ঠানে সামান্য অর্থ,
চাল ও গম দিয়ে থাকে। তারপর তাদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে। অতঃপর
শাস্ত্রীয় ঠাক-পুরুৎ ও মোল্লা-মুন্সিদের দ্বারা যার প্রতি ইচ্ছে যবন-কাফির
অপবাদ ছুঁড়ে মারে। তারপর অজ্ঞ শাস্ত্রীয়দের দ্বারা প্রতিবাদ, সভা, সমাবেশ,
সম্মেলন, মিছিল ও মিটিং করিয়ে নেয়। অজ্ঞ, শাস্ত্রান্ধ ও শাস্ত্রানুসারীরা
টেরও পায় না যে, তারা ধুরন্ধর রাজনীতিকদের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে। চতুর
রাজনীতিকরা যুগে যুগে কেবল শাস্ত্রীয় ঠাক-পুরুৎ-মোল্লা-মুন্সিদের ব্যবহার
করেছে। রাজনীতিকরা শাস্ত্রীয়দের ব্যবহার করে টিকিয়ে রেখেছে তাদের ক্ষমতার
মসনদ। অন্যদিকে শাস্ত্রীয়রা রাজনীতিকদের বলির পাঁঠারূপে পথে-ঘাটে সমাবেশ,
মিছিল ও হরতালে ব্যবহৃত হয়েই আসছে। ক্ষমতার স্বাদ পায়নি বিন্দুমাত্র।
এখন শাস্ত্রীয়দের শাস্ত্রবাজি, অবতারবাজি, পুণ্যবাজি, স্বর্গবাজি ও
নরকবাজি পরিত্যাগ করে প্রচার মাধ্যমের মুক্তাঙ্গনে ফিরে আসা উচিৎ। ফিরে আসা
উচিৎ মুক্তচিন্তা ও স্বাধীনতার মুক্তাঙ্গনে। নইলে তাদের চিরদিন
রাজনীতিকদের বলির পাঁঠা হয়েই থাকতে হবে। উদাহরণত বলা হয় সারা বিশ্বের সর্ব
প্রকার শাস্ত্রীয়রাই ধনতান্ত্রিক রাজনীতির বলির পাঁঠা। তারাই শাস্ত্রীয় কথা
বলে শাস্ত্রীয়দের উস্কে দেয় আবার শাসনের কথা বলে পাখির মতো হত্যা করে। এ
যেন কম্পিউটার ভাইরাস ছড়ানো আবার তা এন্টিভাইরাস দ্বারা মুক্ত করা।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসূত্রঃ
(কালজয়ী কাহিনীর) আত্মদর্শন রহস্য
লেখকঃ বলন কাঁইজি
তথ্যসূত্রঃ
(কালজয়ী কাহিনীর) আত্মদর্শন রহস্য
লেখকঃ বলন কাঁইজি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন