গুরু গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা- (তৃতীয় পর্ব)
শিষ্যদের করণীয়
০১. গুরুকে শিষ্যগণ অর্থ ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি প্রদান করার দ্বারা প্রাণপণ ভালোবাসবেন।
০২. তখন গুরুশিষ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়, যখন বিনা চেষ্টায় শিষ্যের মন, সদা গুরুদেবের প্রেমে আপ্লুত থাকে। গুরুদেবের প্রেমাধিক্যই সাঁই ও কাঁই দর্শনের সর্বাপেক্ষা নিকটতম ও সহজসাধ্য সোপান। যে শিষ্য স্বীয় গুরুদেবের প্রেমাধিক্য লাভে সমর্থ হয়েছেন, তিনিই মহা সৌভাগ্যবান হয়েছেন। জ্যোতিষ্কের আলো দ্বারা যেরূপ বস্তু আলোকিত হয়, তদ্রূপ গুরুদেবের জ্ঞানের আলোতে শিষ্যগণ আলোকিত হয়ে থাকেন। সহস্র সহস্র শিষ্যের মধ্যে সামান্য সংখ্যক শিষ্যই গুরুদেবের ভালোবাসার পাত্রে পরিণত হতে পারেন।
০৩. প্রত্যেক শিষ্যের জন্য নিজের মনকে সর্বদিক হতে ফিরিয়ে আপন গুরুদেবের দিকে নিবিষ্ট করা একান্ত কর্তব্য।
০৪. গুরুদেবের সম্মুখে তাঁর অনুমতি ভিন্ন শিষ্যদের কিছুই করা উচিৎ নয়।
০৫. গুরু ব্যতীত অন্য দিকে মুখ করে বসা কোন শিষ্যের উচিৎ নয়।
০৬. গুরুদেবের সম্মুখে বসে গুরু ভিন্ন অন্য দিকে দৃষ্টিপাত করা কোন শিষ্যের উচিৎ নয়।
০৭. গুরুদেবের সম্মুখে অন্য কারো সাথে কথা বলা কোন শিষ্যে উচিৎ নয়।
০৮. যে স্থানে দাঁড়ালে নিজের ছায়া গুরুদেবের গায়ে পতিত হয়, এরূপ স্থানে দাঁড়ানো কোন শিষ্যের উচিৎ নয়।
০৯. গুরুদেবের ভোজ্যপাত্রে ভোজন ও পানপাত্রে পান করা কোন শিষ্যের উচিৎ নয়।
১০. কোন শিষ্যের বিষয়ে, গুরু যা বলেন তা সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করা উচিৎ।
১১. গুরুদেবের অনুমতি সাপেক্ষ খাদ্য পরিচ্ছদ উঠা বসা ও শয়ন যাবতীয় বিষয়ে সর্ব সময় গুরুদেবের অনুসরণ করবে। কিন্তু গুরুদেবের অনুমতি ব্যতীত গুরুদেবের সব কার্যাদির অনুসরণ করবে না। কারণ গুরু/ গোঁসাই স্থান কাল ও পাত্রভেদে যেরূপ কাজ করেনÑ শিষ্যরা তার তাৎপর্য না বুঝে তা অনুসরণ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
১৩. গুরু ঘুমিয়ে থাকলে, তিনি জাগরিত না হওয়া পর্যন্ত তার কাছে যাবে না এবং অতিব প্রয়োজন ভিন্ন তাঁকে ডেকে জাগরিত করবে না।
১৪. একমাত্র জ্ঞানার্জন ব্যতীত গুরুদেবের নিকট আর কোন কিছুর প্রত্যাশা করবে না।
১৫. স্নানকারিদের নিকট মৃতদেহ যেরূপ থাকে, গুরুদেবের সম্মুখে সর্বক্ষণ সেরূপ থাকবে।
১৬. যে কোন বিষয়ে উন্নতি হোলে, তা গুরুদেবের কারণে হয়েছে বলে মনে চিত্তে বিশ্বাস করবে।
১৭. স্বপ্নে কোন আদেশ পেলে, তা গুরুদেবের বিনা অনুমতিতে পালন করবে না।
১৮. গুরুদেবের কোন কাজের প্রতি সন্দেহ হলে, অবিলম্বে গুরুদেবের সাথে আলোচনা করে তা সন্দেহ ভঞ্জন করবে, তবু সন্দেহ তিরোহিত না হলে, নিজের ত্রুটি বলে মনে করবে।
১৯. যদি কারণ বশতঃ কোন ত্রুটি হয়ে যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে গুরুদেবের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিবে, তা না হলে গুরুদেবের আধ্যাত্মিকশিক্ষা হতে, চিরবঞ্চিত হতে হবে।
২০. গুরুদেবের সাংসারিক যাবতীয় কাজকর্মে ও আদেশ নিষেদে সম্মত থাকবে। কোন কাজে গুরুদেবের বিরোধিতা করবে না বরং সর্বক্ষেত্রে অর্থ ও মেধা দ্বারা সাহায্য করবে। কারণ শারীরিক ও আর্থিক সাহায্য ব্যতীত শিষ্যের ভক্তি বিশ্বাস ও প্রেমের প্রমাণ হয় না। এসব কার্যাদি দ্বারা শিষ্যের গুরু ভক্তি প্রমাণিত হয়।
২১. অন্তর্দৃষ্টির দ্বারা গুরু সব জানেন এরূপ ধারণা কখনো করবে না বরং তোমার সাংসারিক ও অর্থনৈতিক সব বিষয় গুরুদেবের নিকট প্রকাশ করবে। তাহলে গুরুদেবের পক্ষে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করা সহজ হবে।
২২. গুরু গোঁসাইয়ের বাড়িতে বন্ধু বান্ধব নিয়ে বেড়াতে আসবে না। তবে যদি গুরুদেবের প্রিয় লোক হয় তাহলে গুরুদেবের অনুমতি গ্রহণ করে নিয়ে আসাতে কোন দোষ নেই।
২৩. গুরুদেবের বাড়িতে কিছুদিন যাপনের প্রয়োজন হলে, তাঁর সঙ্গে চিঠি বা আলাপীর দ্বারা পূর্বেই যোগাযোগ করে নিবে।
২৪. গুরুদেবের কোন প্রতিনিধির নিকট, কোন জ্ঞানার্জন করলে তাঁকেও গুরুদেবের ন্যায় ভক্তি করা উচিৎ। গুরুদেবের প্রতিনিধি বা যে আগে শিষ্যপাঠ গ্রহণ করেছেন, তাঁকেও গুরুজনের মতোই শ্রদ্ধা করা উচিৎ।
২৫. গুরুদেবের আত্মীয় স্বজনদের গুরুদেবের মতোই সম্মান করবে। এ সম্মানের ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা ও সাধন ভজন বিচার করা যাবে না।
২৬. পথেঘাটে কোথাও গুরুদেবের আত্মীয়তার পরিচয় দিয়ে, কারো নিকট হতে কোন প্রকার উপকার গ্রহণ করার চেষ্টা করবে না।
২৭. শিষ্যের উচিৎ প্রত্যেক কাজে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা। কারণ প্রতি মধ্যম পন্থায় বিপদাপদ একেবারে শূন্য। সর্ব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পথ ত্যাগ করবে। যেমন- স্বল্প আহার ও স্বল্প পান করবে, স্বল্প কথা বলবে ও স্বল্প ঘুমাবে সাথেসাথে কামক্রিয়াও হ্রাস করবে।
২৮. শিষ্যদের সব সময় নিজকে ছোট ও নিচু ভাবা উচিৎ। অতঃপর সর্বদা অধীনস্থদের স্নেহ ও উপস্থদের শ্রদ্ধা করা উচিৎ।
২৯. শিষ্যরা কারো দোষ অন্বেষণ করতে পারবে না এবং কাউকে দোষারোপ করতে পারবে না। অন্যের দোষ ঢেকে নিজের দোষ সব সময় বিচার করবে। সবাই “দেখবি, শুনবি, বলবি না, ধরবি না ও চলবি না”- এ আদেশ মেনে চলবে। “তুবা লিমান শাগালাহু আন উয়্যুবিন নাছ” অর্থ- “শুসংবাদ তার জন্য, যে অন্যের দোষ রেখে নিজের দোষ বিচারে ব্যস্ত থাকে।”
৩০. যারা পরম্পরা মানে না ও যাদের আত্মশুদ্ধির প্রতি ভ্রুক্ষেপ নেই, এমন লোকের সংসর্গ চিরতরে পরিত্যাগ করবে। পরম্পরা অমান্যকারী যদি আকাশ দ্বারা উড়েও যায় বা জলের ওপর দিয়ে হেঁটেও যায়, তবু তার নিকট হতে ব্যবধানে অবস্থান করবে।
৩১. নিঃস্ব ও অসহায় গুরুভাই ও গুরুবোনদের সামর্থ্য আনুযায়ী গ্রন্থ গ্রন্থিকা ক্রয় করে দেওয়ার চেষ্টা করা প্রত্যেক শিষ্যের অবশ্য কর্তব্য।
৩২. নিঃস্ব-অসহায় গুরুভাই ও গুরুবোনদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য বার্ষিক কিছু অর্থ গুরুদেবের মাধ্যমে সঞ্চয় করা উচিৎ।
৩৩. মূর্খ সুফি ও মূর্খ গুরুর সঙ্গ চিরতরে পরিত্যাগ করা সব শিষ্যের একান্ত কর্তব্য। যে ব্যক্তি আত্মদর্শন অর্জন করেছে কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকবিদ্যা অর্জন করেনি, সে যেমন মূর্খ, তদ্রপ যে ব্যক্তি প্রাতিষ্ঠানিকবিদ্যা অর্জন করেছে কিন্তু আত্মদর্শন অর্জন করেনি সেও সেরূপ মূর্খ। তবে যে ব্যক্তি প্রাতিষ্ঠানিকবিদ্যা ও আত্মদর্শন উভয় অর্জন করেছেন তিনিই প্রকৃত বিদ্বান। মনে রাখা প্রয়োজন- মূর্খ সাধু সন্ন্যাসীরা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈধ অবৈধই নির্ণয় করতে পারে না বিধায় জ্ঞান বিতরণ করা তাদের পক্ষে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারা নিজেরাই তো বিপথগামী অন্যান্যদের পথ দেখাবে কেমন করে।
৩৪. সাম্প্রদায়িক ও পারষ্পরিক মতবাদাদির মধ্যে একটিকে অপরটির ওপর শ্রেষ্ঠ মনে করবে না। সব সাম্প্রদায়িক ও পারষ্পরিক মতবাদকেই মানবকল্যাণের জন্য উপকারী মনে করবে।
৩৫. উষ্কখুষ্ক ধুলিধুসর ও মলিন বসন পরিধানকৃত সাধক সাধিকাদের ঘৃণা ও তুচ্ছজ্ঞান করবে না। যারা গান গায় ও যন্ত্র বাজায় তাদেরকেও ঘৃণা করবে না।
৩৬. রূপকসাহিত্য ও আত্মতত্ত্ব ভালোভাবে জানে না এরূপ কোন গুরু গোঁসাইয়ের বক্তব্য শ্রবণ বা তার কোন অনুষ্ঠানে যোগদান করা কোন শিষ্যের উচিৎ নয়।
৩৭. কোন অনুষ্ঠানে বক্তব্য শুনতে গেলে, বক্তৃতা দেওয়ার সময়ই বক্তার ভুল ধরা উচিৎ নয় এবং সঙ্গেসঙ্গে প্রতিবাদ করাও উচিৎ নয়। এরূপ করলে নিজের ও অনুষ্ঠানের ক্ষতি হবে বিধায় বক্তার ভুল বক্তবের বিষয়টি নিয়ে, অবসর সময়ে নিজের গুরু ভাই বোনদের নিয়ে ঘরোয়া আলোচনা করে সঠিকভাবে ভুল নির্ণয় করার পর, নিজনিজ গুরুদেবের সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁর অনুমতি ক্রমে কোন ভুল বক্তব্যে প্রতিবাদ করা উচিৎ।
৩৮. গুরুদেবের আশ্রমে মল মূত্র ত্যাগের পর, বর্চ্য উত্তমরূপে ধুয়ে দিবে, যাতে অন্য কেউ বর্চ্যে গেলে কষ্ঠ না পায়। এছাড়া- মন্দির, গোচারণভূমি, আশ্রম, শ্মশান, কর্ষিত ক্ষেত্র, সমাধিস্থান, পথ, ভস্মে, সভাস্থল, নদী বা পুকুরের জলে, গর্তে মলমূত্র ত্যাগ করবে না। দণ্ডায়মান অবস্থায় মলমূত্র ত্যাগ করবে না। মলমূত্র ত্যাগের পর উত্তমরূপে শৌচক্রিয়া করবে, যাতে দুর্গন্ধ বের না হয়। সাবান ব্যবহার করা উত্তম।
০২. তখন গুরুশিষ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়, যখন বিনা চেষ্টায় শিষ্যের মন, সদা গুরুদেবের প্রেমে আপ্লুত থাকে। গুরুদেবের প্রেমাধিক্যই সাঁই ও কাঁই দর্শনের সর্বাপেক্ষা নিকটতম ও সহজসাধ্য সোপান। যে শিষ্য স্বীয় গুরুদেবের প্রেমাধিক্য লাভে সমর্থ হয়েছেন, তিনিই মহা সৌভাগ্যবান হয়েছেন। জ্যোতিষ্কের আলো দ্বারা যেরূপ বস্তু আলোকিত হয়, তদ্রূপ গুরুদেবের জ্ঞানের আলোতে শিষ্যগণ আলোকিত হয়ে থাকেন। সহস্র সহস্র শিষ্যের মধ্যে সামান্য সংখ্যক শিষ্যই গুরুদেবের ভালোবাসার পাত্রে পরিণত হতে পারেন।
০৩. প্রত্যেক শিষ্যের জন্য নিজের মনকে সর্বদিক হতে ফিরিয়ে আপন গুরুদেবের দিকে নিবিষ্ট করা একান্ত কর্তব্য।
০৪. গুরুদেবের সম্মুখে তাঁর অনুমতি ভিন্ন শিষ্যদের কিছুই করা উচিৎ নয়।
০৫. গুরু ব্যতীত অন্য দিকে মুখ করে বসা কোন শিষ্যের উচিৎ নয়।
০৬. গুরুদেবের সম্মুখে বসে গুরু ভিন্ন অন্য দিকে দৃষ্টিপাত করা কোন শিষ্যের উচিৎ নয়।
০৭. গুরুদেবের সম্মুখে অন্য কারো সাথে কথা বলা কোন শিষ্যে উচিৎ নয়।
০৮. যে স্থানে দাঁড়ালে নিজের ছায়া গুরুদেবের গায়ে পতিত হয়, এরূপ স্থানে দাঁড়ানো কোন শিষ্যের উচিৎ নয়।
০৯. গুরুদেবের ভোজ্যপাত্রে ভোজন ও পানপাত্রে পান করা কোন শিষ্যের উচিৎ নয়।
১০. কোন শিষ্যের বিষয়ে, গুরু যা বলেন তা সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করা উচিৎ।
১১. গুরুদেবের অনুমতি সাপেক্ষ খাদ্য পরিচ্ছদ উঠা বসা ও শয়ন যাবতীয় বিষয়ে সর্ব সময় গুরুদেবের অনুসরণ করবে। কিন্তু গুরুদেবের অনুমতি ব্যতীত গুরুদেবের সব কার্যাদির অনুসরণ করবে না। কারণ গুরু/ গোঁসাই স্থান কাল ও পাত্রভেদে যেরূপ কাজ করেনÑ শিষ্যরা তার তাৎপর্য না বুঝে তা অনুসরণ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
১৩. গুরু ঘুমিয়ে থাকলে, তিনি জাগরিত না হওয়া পর্যন্ত তার কাছে যাবে না এবং অতিব প্রয়োজন ভিন্ন তাঁকে ডেকে জাগরিত করবে না।
১৪. একমাত্র জ্ঞানার্জন ব্যতীত গুরুদেবের নিকট আর কোন কিছুর প্রত্যাশা করবে না।
১৫. স্নানকারিদের নিকট মৃতদেহ যেরূপ থাকে, গুরুদেবের সম্মুখে সর্বক্ষণ সেরূপ থাকবে।
১৬. যে কোন বিষয়ে উন্নতি হোলে, তা গুরুদেবের কারণে হয়েছে বলে মনে চিত্তে বিশ্বাস করবে।
১৭. স্বপ্নে কোন আদেশ পেলে, তা গুরুদেবের বিনা অনুমতিতে পালন করবে না।
১৮. গুরুদেবের কোন কাজের প্রতি সন্দেহ হলে, অবিলম্বে গুরুদেবের সাথে আলোচনা করে তা সন্দেহ ভঞ্জন করবে, তবু সন্দেহ তিরোহিত না হলে, নিজের ত্রুটি বলে মনে করবে।
১৯. যদি কারণ বশতঃ কোন ত্রুটি হয়ে যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে গুরুদেবের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিবে, তা না হলে গুরুদেবের আধ্যাত্মিকশিক্ষা হতে, চিরবঞ্চিত হতে হবে।
২০. গুরুদেবের সাংসারিক যাবতীয় কাজকর্মে ও আদেশ নিষেদে সম্মত থাকবে। কোন কাজে গুরুদেবের বিরোধিতা করবে না বরং সর্বক্ষেত্রে অর্থ ও মেধা দ্বারা সাহায্য করবে। কারণ শারীরিক ও আর্থিক সাহায্য ব্যতীত শিষ্যের ভক্তি বিশ্বাস ও প্রেমের প্রমাণ হয় না। এসব কার্যাদি দ্বারা শিষ্যের গুরু ভক্তি প্রমাণিত হয়।
২১. অন্তর্দৃষ্টির দ্বারা গুরু সব জানেন এরূপ ধারণা কখনো করবে না বরং তোমার সাংসারিক ও অর্থনৈতিক সব বিষয় গুরুদেবের নিকট প্রকাশ করবে। তাহলে গুরুদেবের পক্ষে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করা সহজ হবে।
২২. গুরু গোঁসাইয়ের বাড়িতে বন্ধু বান্ধব নিয়ে বেড়াতে আসবে না। তবে যদি গুরুদেবের প্রিয় লোক হয় তাহলে গুরুদেবের অনুমতি গ্রহণ করে নিয়ে আসাতে কোন দোষ নেই।
২৩. গুরুদেবের বাড়িতে কিছুদিন যাপনের প্রয়োজন হলে, তাঁর সঙ্গে চিঠি বা আলাপীর দ্বারা পূর্বেই যোগাযোগ করে নিবে।
২৪. গুরুদেবের কোন প্রতিনিধির নিকট, কোন জ্ঞানার্জন করলে তাঁকেও গুরুদেবের ন্যায় ভক্তি করা উচিৎ। গুরুদেবের প্রতিনিধি বা যে আগে শিষ্যপাঠ গ্রহণ করেছেন, তাঁকেও গুরুজনের মতোই শ্রদ্ধা করা উচিৎ।
২৫. গুরুদেবের আত্মীয় স্বজনদের গুরুদেবের মতোই সম্মান করবে। এ সম্মানের ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা ও সাধন ভজন বিচার করা যাবে না।
২৬. পথেঘাটে কোথাও গুরুদেবের আত্মীয়তার পরিচয় দিয়ে, কারো নিকট হতে কোন প্রকার উপকার গ্রহণ করার চেষ্টা করবে না।
২৭. শিষ্যের উচিৎ প্রত্যেক কাজে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা। কারণ প্রতি মধ্যম পন্থায় বিপদাপদ একেবারে শূন্য। সর্ব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পথ ত্যাগ করবে। যেমন- স্বল্প আহার ও স্বল্প পান করবে, স্বল্প কথা বলবে ও স্বল্প ঘুমাবে সাথেসাথে কামক্রিয়াও হ্রাস করবে।
২৮. শিষ্যদের সব সময় নিজকে ছোট ও নিচু ভাবা উচিৎ। অতঃপর সর্বদা অধীনস্থদের স্নেহ ও উপস্থদের শ্রদ্ধা করা উচিৎ।
২৯. শিষ্যরা কারো দোষ অন্বেষণ করতে পারবে না এবং কাউকে দোষারোপ করতে পারবে না। অন্যের দোষ ঢেকে নিজের দোষ সব সময় বিচার করবে। সবাই “দেখবি, শুনবি, বলবি না, ধরবি না ও চলবি না”- এ আদেশ মেনে চলবে। “তুবা লিমান শাগালাহু আন উয়্যুবিন নাছ” অর্থ- “শুসংবাদ তার জন্য, যে অন্যের দোষ রেখে নিজের দোষ বিচারে ব্যস্ত থাকে।”
৩০. যারা পরম্পরা মানে না ও যাদের আত্মশুদ্ধির প্রতি ভ্রুক্ষেপ নেই, এমন লোকের সংসর্গ চিরতরে পরিত্যাগ করবে। পরম্পরা অমান্যকারী যদি আকাশ দ্বারা উড়েও যায় বা জলের ওপর দিয়ে হেঁটেও যায়, তবু তার নিকট হতে ব্যবধানে অবস্থান করবে।
৩১. নিঃস্ব ও অসহায় গুরুভাই ও গুরুবোনদের সামর্থ্য আনুযায়ী গ্রন্থ গ্রন্থিকা ক্রয় করে দেওয়ার চেষ্টা করা প্রত্যেক শিষ্যের অবশ্য কর্তব্য।
৩২. নিঃস্ব-অসহায় গুরুভাই ও গুরুবোনদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য বার্ষিক কিছু অর্থ গুরুদেবের মাধ্যমে সঞ্চয় করা উচিৎ।
৩৩. মূর্খ সুফি ও মূর্খ গুরুর সঙ্গ চিরতরে পরিত্যাগ করা সব শিষ্যের একান্ত কর্তব্য। যে ব্যক্তি আত্মদর্শন অর্জন করেছে কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকবিদ্যা অর্জন করেনি, সে যেমন মূর্খ, তদ্রপ যে ব্যক্তি প্রাতিষ্ঠানিকবিদ্যা অর্জন করেছে কিন্তু আত্মদর্শন অর্জন করেনি সেও সেরূপ মূর্খ। তবে যে ব্যক্তি প্রাতিষ্ঠানিকবিদ্যা ও আত্মদর্শন উভয় অর্জন করেছেন তিনিই প্রকৃত বিদ্বান। মনে রাখা প্রয়োজন- মূর্খ সাধু সন্ন্যাসীরা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈধ অবৈধই নির্ণয় করতে পারে না বিধায় জ্ঞান বিতরণ করা তাদের পক্ষে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারা নিজেরাই তো বিপথগামী অন্যান্যদের পথ দেখাবে কেমন করে।
৩৪. সাম্প্রদায়িক ও পারষ্পরিক মতবাদাদির মধ্যে একটিকে অপরটির ওপর শ্রেষ্ঠ মনে করবে না। সব সাম্প্রদায়িক ও পারষ্পরিক মতবাদকেই মানবকল্যাণের জন্য উপকারী মনে করবে।
৩৫. উষ্কখুষ্ক ধুলিধুসর ও মলিন বসন পরিধানকৃত সাধক সাধিকাদের ঘৃণা ও তুচ্ছজ্ঞান করবে না। যারা গান গায় ও যন্ত্র বাজায় তাদেরকেও ঘৃণা করবে না।
৩৬. রূপকসাহিত্য ও আত্মতত্ত্ব ভালোভাবে জানে না এরূপ কোন গুরু গোঁসাইয়ের বক্তব্য শ্রবণ বা তার কোন অনুষ্ঠানে যোগদান করা কোন শিষ্যের উচিৎ নয়।
৩৭. কোন অনুষ্ঠানে বক্তব্য শুনতে গেলে, বক্তৃতা দেওয়ার সময়ই বক্তার ভুল ধরা উচিৎ নয় এবং সঙ্গেসঙ্গে প্রতিবাদ করাও উচিৎ নয়। এরূপ করলে নিজের ও অনুষ্ঠানের ক্ষতি হবে বিধায় বক্তার ভুল বক্তবের বিষয়টি নিয়ে, অবসর সময়ে নিজের গুরু ভাই বোনদের নিয়ে ঘরোয়া আলোচনা করে সঠিকভাবে ভুল নির্ণয় করার পর, নিজনিজ গুরুদেবের সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁর অনুমতি ক্রমে কোন ভুল বক্তব্যে প্রতিবাদ করা উচিৎ।
৩৮. গুরুদেবের আশ্রমে মল মূত্র ত্যাগের পর, বর্চ্য উত্তমরূপে ধুয়ে দিবে, যাতে অন্য কেউ বর্চ্যে গেলে কষ্ঠ না পায়। এছাড়া- মন্দির, গোচারণভূমি, আশ্রম, শ্মশান, কর্ষিত ক্ষেত্র, সমাধিস্থান, পথ, ভস্মে, সভাস্থল, নদী বা পুকুরের জলে, গর্তে মলমূত্র ত্যাগ করবে না। দণ্ডায়মান অবস্থায় মলমূত্র ত্যাগ করবে না। মলমূত্র ত্যাগের পর উত্তমরূপে শৌচক্রিয়া করবে, যাতে দুর্গন্ধ বের না হয়। সাবান ব্যবহার করা উত্তম।
এসব অপরাধ করা হতে সাবধান থাকা
০১. সাধুনিন্দা না করা।
০২. গুরুকে অবজ্ঞা না করা।
০৩. গুরুদেবের সম্মুখে কখনো উচ্চকণ্ঠে কথা না বলা।
০৪. নাম ও নামজপনাকারিদের শ্রদ্ধা না করা।
০৫. যান বা শকটে চড়ে একেবারে গুরুদেবের আশ্রম পর্যন্ত না যাওয়া।
০৬. প্রচলিত সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক অনুষ্ঠানাদি করতে বাঁধা না দেওয়া।
০৭. উচ্ছিষ্ট বা অশৌচ অবস্থায় গুরুদেবের আশ্রমে না আসা।
০৮. এক হস্ত দ্বারা গুরুকে প্রণাম না করা।
০৯. গুরুদেবের সামনে পা প্রসারিত করে না বসা।
১০. গুরুদেবের অনুমতি ভিন্ন গুরুদেবের সম্মুখে না ঘুমানো।
১১. গুরুদেবের অনুমতি ভিন্ন ভোজন না করা।
১২. গুরুকে জড়িয়ে কখনো মিথ্যা না বলা।
১৩. গুরুদেবের সম্মুখে পরস্পর অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা।
১৪. গুরুদেবের সম্মুখে কোন প্রকার কলহ, হাস্য ও রোদন না করা।
১৫. গুরুদেবের সম্মুখে কাউকে নিষ্ঠুর বাক্য প্রয়োগ না করা।
১৬. গুরুদেবের সম্মুখে অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করা।
১৭. গুরুদেবের সম্মুখে অপান বায়ু ত্যাগ না করা।
১৮. গুরুদেবের অনুমতি ব্যতীত নৈবেদ্যাদি ভোগ না করা।
১৯. গুরুদেবের দিকে পশ্চাৎ দিয়ে না বসা।
২০. গুরুদেবের সম্মুখে অন্য কাউকে ভক্তি না করা।
২১. গুরুদেবের সম্মুখে অন্য গুরুর প্রশংসা না করা।
২২. নিজের মুখে নিজের প্রশংসা না করা।
২৩. ভক্ষিত আহার্যের অবশিষ্টাংশ পাত্রে রেখে না দেওয়া।
২৪. সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদাদিকে মন্দ ভাষায় গালি না দেওয়া।
২৫. সাম্প্রদায়িক শাস্ত্রাদি ও পারম্পরিক শাস্ত্রাদির অবজ্ঞা না করা।
০২. গুরুকে অবজ্ঞা না করা।
০৩. গুরুদেবের সম্মুখে কখনো উচ্চকণ্ঠে কথা না বলা।
০৪. নাম ও নামজপনাকারিদের শ্রদ্ধা না করা।
০৫. যান বা শকটে চড়ে একেবারে গুরুদেবের আশ্রম পর্যন্ত না যাওয়া।
০৬. প্রচলিত সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক অনুষ্ঠানাদি করতে বাঁধা না দেওয়া।
০৭. উচ্ছিষ্ট বা অশৌচ অবস্থায় গুরুদেবের আশ্রমে না আসা।
০৮. এক হস্ত দ্বারা গুরুকে প্রণাম না করা।
০৯. গুরুদেবের সামনে পা প্রসারিত করে না বসা।
১০. গুরুদেবের অনুমতি ভিন্ন গুরুদেবের সম্মুখে না ঘুমানো।
১১. গুরুদেবের অনুমতি ভিন্ন ভোজন না করা।
১২. গুরুকে জড়িয়ে কখনো মিথ্যা না বলা।
১৩. গুরুদেবের সম্মুখে পরস্পর অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা।
১৪. গুরুদেবের সম্মুখে কোন প্রকার কলহ, হাস্য ও রোদন না করা।
১৫. গুরুদেবের সম্মুখে কাউকে নিষ্ঠুর বাক্য প্রয়োগ না করা।
১৬. গুরুদেবের সম্মুখে অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করা।
১৭. গুরুদেবের সম্মুখে অপান বায়ু ত্যাগ না করা।
১৮. গুরুদেবের অনুমতি ব্যতীত নৈবেদ্যাদি ভোগ না করা।
১৯. গুরুদেবের দিকে পশ্চাৎ দিয়ে না বসা।
২০. গুরুদেবের সম্মুখে অন্য কাউকে ভক্তি না করা।
২১. গুরুদেবের সম্মুখে অন্য গুরুর প্রশংসা না করা।
২২. নিজের মুখে নিজের প্রশংসা না করা।
২৩. ভক্ষিত আহার্যের অবশিষ্টাংশ পাত্রে রেখে না দেওয়া।
২৪. সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদাদিকে মন্দ ভাষায় গালি না দেওয়া।
২৫. সাম্প্রদায়িক শাস্ত্রাদি ও পারম্পরিক শাস্ত্রাদির অবজ্ঞা না করা।
ভক্তির চৌষট্টি অঙ্গ
০১. গুরুদেবের পাদপদ্মে আশ্রয় গ্রহণ করা।
০২. গুরুদেবের নিকট কাঁইমন্ত্রে দীক্ষাগ্রহণ ও উপস্থ বিষয়ে জ্ঞানলাভ করা।
০৩. গুরুদেব সর্বশ্রেষ্ঠপুরুষ এবিশ্বাস সহকারে সেবা করা।
০৪. সাধুগণের আচরিত শ্র“ত্বাদি বিহিত বিধিগুলোর প্রতিপালন করা।
০৫. উপস্থ তত্ত্ব অবগত হওয়ার জন্য তদ্বিষয়ে ভজনরীতি সম্বন্ধে প্রশ্ন করা।
০৬. কাঁইয়ের প্রীতির নিমিত্ত ভোগাদি ত্যাগ করা।
০৭. পারতপক্ষে গুরুদেবের আশ্রমের নিকটে বাস করা।
০৮. নিয়মের ন্যূনতা বা আধিক্য হোলে পরমার্থ হতে ভ্রষ্ট হতে হয়। সে কারণে সর্ব প্রকার কার্যে যে পরিমাণ নিয়মের অনুষ্ঠান করলে, নিজের ভক্তি নির্বাহ হতে পারে, সেরূপ নিয়ম গ্রহণ করা।
০৯. সাঁই রজনিতে সাঁই এবং কাঁই রজনিতে কাঁই সাধনের চেষ্টা করা।
১০. গুরু সাঁই ও পরম্পরার গৌরব রক্ষা করা।
১১. উপস্থপূজা ত্যজ্যকারির সঙ্গ চিরতরে ত্যাগ করা।
১২. অনধিকারী ব্যক্তির সহচার্য চিরতরে ত্যাগ করা।
১৩. উপস্থপূজা ত্যজ্যকারী আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন না করা।
১৪. উপস্থপূজা ত্যজ্যকারী গ্রন্থ গ্রন্থিকা চিরতরে পরিবর্জন করা।
১৫. ভোজনাচ্ছাদনে সাধন বিষয়ে লাভ না হোলে বা সাধনের ক্ষতি হলে শোক না করে উপাস্যের নাম স্মরণ করা।
১৬. শোক, মোহ, ক্রোধাদির বশীভূত না হওয়া।
১৭. অন্য মানুষকে উদ্বেগ না করা।
১৮. সেবা অপরাধ ও নাম অপরাধ জন্মিতে না দেওয়া।
১৯. উপাস্য ও উপাস্য ভক্তদের হিংসা নিন্দাদি সহ্য না করা।
২০. কোপনি করঙ্গ ইত্যাদি বাউল চিহ্ন ধারণে কাউকে বাঁধা না দেওয়া।
২১. সমাধিসৌধ আচ্ছাদনিতে উপাস্যের নামাদি লেখতে বাঁদা না দেওয়া।
২২. করঙ্গ কোপনি ও বালা ইত্যাদি গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করা।
২৩. গান গাওয়া ও নৃত্যে বাঁধা না দেওয়া বরং অংশগ্রহণ করা।
২৪. দণ্ডবৎ প্রণাম করা।
২৫. গুরুদেবের পশ্চাতে পশ্চাতে গমন করা।
২৬. গুরুদেবের অগ্রে গমন না করা।
২৭. উপস্থদ্বয় ও ইন্দ্রাদির সঠিক ব্যবহারের চিন্তা করা।
২৮. কোন প্রকার শাস্ত্র নিন্দা না করা।
২৯. অন্যের কথায় বা গ্রন্থ গ্রন্থিকা পাঠের দ্বারা চিরতরে গোপী সঙ্গ ত্যাগ না করা।
৩০. যথাযথভাবে উপস্থ পূজায় রত থাকা।
৩১. দেহ মন ও অর্থ দ্বারা গুরুদেবের সেবা করা।
৩২. গুরুদেবের মাণ ও মর্যাদা বৃদ্ধিকারী নৃত্য গীতাদি করা।
৩৩. মাঝে মাঝে উপাস্যের নামাদির সংকীর্তন করা।
৩৪. মাঝে মাঝে উপাস্যের নামমন্ত্র জপনা করা।
৩৫. গুরুদের সম্মুখে আত্ম নিবেদন করা।
৩৬. গুরুদেব কর্তৃক প্রদত্ত নামাদির স্তব করা।
৩৭. নৈবেদ্যের আস্বাদ গ্রহণ করা।
৩৮. আশ্রমে পরিপাককৃত প্রসাদ ভোজন করা।
৩৯. চরণামৃত পান করা।
৪০.পুষ্প মাল্যাদির সৌরভ গ্রহণ করা।
৪১. উপাস্যের নামকীর্তনের নৃত্যগীতাদি দর্শন করা।
৪২. সাধুসেবা, সাধুসঙ্গ ও সাধুসম্মেলন ইত্যাদি অনুষ্ঠানে যোগদান করণ।
৪৩. উপাস্যের নামের কীর্তনাদির লীলা দর্শন ও কথা শ্রবণ করা।
৪৪. সাঁইলীলা নিরীক্ষণ করা।
৪৫. সাঁইনাম স্মরণ করা।
৪৬. সাঁইয়ের ধ্যান করা।
৪৭. উপস্থের দাস্যবৃত্তি করা।
৪৮. গুরুদেবের প্রতি গভীর বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা করা।
৪৯. গুরুদেবের প্রতি সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করা।
৫০. গুরুদেবের জন্য উৎকৃষ্ট বস্তু নিবেদন করা।
৫১. কাঁইয়ের নিমিত্ত সব কার্য করা।
৫২. সর্বোতরূপে গুরুদেবের শরণাপন্ন হওয়া।
৫৩. স্ব-শুক্রসেবন করা।
৫৪. সাধুশাস্ত্র, সাধুবিজ্ঞান, আধ্যাত্মিকবিজ্ঞান ও মরমী গ্রন্থগ্রন্থিকাকে সর্বপরি সম্মান দান করা।
৫৫. তীর্থস্থানে গমন করা।
৫৬. তীর্থ গমনে যাত্রা ও তীর্থব্রতের জন্য মহোৎসব করা।
৫৭. সাধু ও সন্ন্যাসিগণের সেবা করা।
৫৮. স্বীয় সাধ্য অনুযায়ী গুণীজনের সাথে উৎসব করা।
৫৯. সাধু ও সন্ন্যাসিগণের সাধ্যমত সমাদর করা।
৬০. উদ্ভিদজাতীয় ও প্রাণিজ সম্পদের সেবাযত্ন করা।
৬১. রসিক ভক্তের সাথে উপস্থের অর্থ ও রস আস্বাদন করা।
৬২. নিজের সদৃশ বা নিজ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ গুণীব্যক্তিদের সঙ্গ করা।
৬৩. শরীরের যত্ন নেওয়া।
৬৪. আধ্যাত্মিক ও আত্মতত্ত্বভিত্তিক মণ্ডলে বাস করা।
০২. গুরুদেবের নিকট কাঁইমন্ত্রে দীক্ষাগ্রহণ ও উপস্থ বিষয়ে জ্ঞানলাভ করা।
০৩. গুরুদেব সর্বশ্রেষ্ঠপুরুষ এবিশ্বাস সহকারে সেবা করা।
০৪. সাধুগণের আচরিত শ্র“ত্বাদি বিহিত বিধিগুলোর প্রতিপালন করা।
০৫. উপস্থ তত্ত্ব অবগত হওয়ার জন্য তদ্বিষয়ে ভজনরীতি সম্বন্ধে প্রশ্ন করা।
০৬. কাঁইয়ের প্রীতির নিমিত্ত ভোগাদি ত্যাগ করা।
০৭. পারতপক্ষে গুরুদেবের আশ্রমের নিকটে বাস করা।
০৮. নিয়মের ন্যূনতা বা আধিক্য হোলে পরমার্থ হতে ভ্রষ্ট হতে হয়। সে কারণে সর্ব প্রকার কার্যে যে পরিমাণ নিয়মের অনুষ্ঠান করলে, নিজের ভক্তি নির্বাহ হতে পারে, সেরূপ নিয়ম গ্রহণ করা।
০৯. সাঁই রজনিতে সাঁই এবং কাঁই রজনিতে কাঁই সাধনের চেষ্টা করা।
১০. গুরু সাঁই ও পরম্পরার গৌরব রক্ষা করা।
১১. উপস্থপূজা ত্যজ্যকারির সঙ্গ চিরতরে ত্যাগ করা।
১২. অনধিকারী ব্যক্তির সহচার্য চিরতরে ত্যাগ করা।
১৩. উপস্থপূজা ত্যজ্যকারী আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন না করা।
১৪. উপস্থপূজা ত্যজ্যকারী গ্রন্থ গ্রন্থিকা চিরতরে পরিবর্জন করা।
১৫. ভোজনাচ্ছাদনে সাধন বিষয়ে লাভ না হোলে বা সাধনের ক্ষতি হলে শোক না করে উপাস্যের নাম স্মরণ করা।
১৬. শোক, মোহ, ক্রোধাদির বশীভূত না হওয়া।
১৭. অন্য মানুষকে উদ্বেগ না করা।
১৮. সেবা অপরাধ ও নাম অপরাধ জন্মিতে না দেওয়া।
১৯. উপাস্য ও উপাস্য ভক্তদের হিংসা নিন্দাদি সহ্য না করা।
২০. কোপনি করঙ্গ ইত্যাদি বাউল চিহ্ন ধারণে কাউকে বাঁধা না দেওয়া।
২১. সমাধিসৌধ আচ্ছাদনিতে উপাস্যের নামাদি লেখতে বাঁদা না দেওয়া।
২২. করঙ্গ কোপনি ও বালা ইত্যাদি গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করা।
২৩. গান গাওয়া ও নৃত্যে বাঁধা না দেওয়া বরং অংশগ্রহণ করা।
২৪. দণ্ডবৎ প্রণাম করা।
২৫. গুরুদেবের পশ্চাতে পশ্চাতে গমন করা।
২৬. গুরুদেবের অগ্রে গমন না করা।
২৭. উপস্থদ্বয় ও ইন্দ্রাদির সঠিক ব্যবহারের চিন্তা করা।
২৮. কোন প্রকার শাস্ত্র নিন্দা না করা।
২৯. অন্যের কথায় বা গ্রন্থ গ্রন্থিকা পাঠের দ্বারা চিরতরে গোপী সঙ্গ ত্যাগ না করা।
৩০. যথাযথভাবে উপস্থ পূজায় রত থাকা।
৩১. দেহ মন ও অর্থ দ্বারা গুরুদেবের সেবা করা।
৩২. গুরুদেবের মাণ ও মর্যাদা বৃদ্ধিকারী নৃত্য গীতাদি করা।
৩৩. মাঝে মাঝে উপাস্যের নামাদির সংকীর্তন করা।
৩৪. মাঝে মাঝে উপাস্যের নামমন্ত্র জপনা করা।
৩৫. গুরুদের সম্মুখে আত্ম নিবেদন করা।
৩৬. গুরুদেব কর্তৃক প্রদত্ত নামাদির স্তব করা।
৩৭. নৈবেদ্যের আস্বাদ গ্রহণ করা।
৩৮. আশ্রমে পরিপাককৃত প্রসাদ ভোজন করা।
৩৯. চরণামৃত পান করা।
৪০.পুষ্প মাল্যাদির সৌরভ গ্রহণ করা।
৪১. উপাস্যের নামকীর্তনের নৃত্যগীতাদি দর্শন করা।
৪২. সাধুসেবা, সাধুসঙ্গ ও সাধুসম্মেলন ইত্যাদি অনুষ্ঠানে যোগদান করণ।
৪৩. উপাস্যের নামের কীর্তনাদির লীলা দর্শন ও কথা শ্রবণ করা।
৪৪. সাঁইলীলা নিরীক্ষণ করা।
৪৫. সাঁইনাম স্মরণ করা।
৪৬. সাঁইয়ের ধ্যান করা।
৪৭. উপস্থের দাস্যবৃত্তি করা।
৪৮. গুরুদেবের প্রতি গভীর বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা করা।
৪৯. গুরুদেবের প্রতি সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করা।
৫০. গুরুদেবের জন্য উৎকৃষ্ট বস্তু নিবেদন করা।
৫১. কাঁইয়ের নিমিত্ত সব কার্য করা।
৫২. সর্বোতরূপে গুরুদেবের শরণাপন্ন হওয়া।
৫৩. স্ব-শুক্রসেবন করা।
৫৪. সাধুশাস্ত্র, সাধুবিজ্ঞান, আধ্যাত্মিকবিজ্ঞান ও মরমী গ্রন্থগ্রন্থিকাকে সর্বপরি সম্মান দান করা।
৫৫. তীর্থস্থানে গমন করা।
৫৬. তীর্থ গমনে যাত্রা ও তীর্থব্রতের জন্য মহোৎসব করা।
৫৭. সাধু ও সন্ন্যাসিগণের সেবা করা।
৫৮. স্বীয় সাধ্য অনুযায়ী গুণীজনের সাথে উৎসব করা।
৫৯. সাধু ও সন্ন্যাসিগণের সাধ্যমত সমাদর করা।
৬০. উদ্ভিদজাতীয় ও প্রাণিজ সম্পদের সেবাযত্ন করা।
৬১. রসিক ভক্তের সাথে উপস্থের অর্থ ও রস আস্বাদন করা।
৬২. নিজের সদৃশ বা নিজ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ গুণীব্যক্তিদের সঙ্গ করা।
৬৩. শরীরের যত্ন নেওয়া।
৬৪. আধ্যাত্মিক ও আত্মতত্ত্বভিত্তিক মণ্ডলে বাস করা।
____________________
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসুত্রঃ ত্বরিক্বত দর্শন
লেখকঃ বলন কাঁইজি।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসুত্রঃ ত্বরিক্বত দর্শন
লেখকঃ বলন কাঁইজি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন