শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৪

বঙ্গাব্দের সাতদিনের উৎপত্তিঃ

তৃতীয় পর্ব
৪. সোমপর্যায়
রূপকসাহিত্যে দেহবিশ্বের মঙ্গল পর্যায়ের প্রথম প্রহর বা প্রথম সাড়েতিন দিন সময়কে সোমপর্যায় বা সোমবার বলা হয়। এ সোমপর্যায় বা সোমবারকে রূপকসাহিত্যে ‘ঊষা’ বলা হয়। পবিত্র বেদ ও পবিত্র কুরানে এ ঊষা নিয়ে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। দেহবিশ্বের ঊষা প্রহরে মানবদেহে সোম প্রতীতির আগমন ঘটে বলেই একে সোমপর্যায় বা সোমবার বলা হয়। সোমবারে সোম প্রতীতি অবতরণ করে মাত্র এক প্রহর বা সাড়েতিন দিন অবস্থান করেই প্রস্থান করে থাকেন। রূপকসাহিত্যে সোমনাথ বা সোম প্রতীতিকে জীবের পালনকর্তা বা সাঁই বলা হয়। উল্লেখ্য সোমনাথ বা সাঁই বা রব (ﺮﺐ) প্রতীতির আগমনকালকে পুরাণিরা ‘কোজাগর’ এবং কুরানিরা ‘সবেবরাত’ (ﺸﺑﻰ ﺑﺭﺍﺀﺓ) বলে থাকেন।
সারাবিশ্বের সর্ব ঘরানার আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক মনীষিদের সর্ব সম্মতিক্রমে সোমপর্যায় বা সোমবার প্রতিপদের মাত্র এক প্রহর। জীবকুলের লালন-পালনকর্তা সাঁই জীব লালনপালন করা এবং সাথে সাথে সাধকগণের সাথে দর্শনদান করার জন্য প্রতি মাসে মাত্র এক প্রহর বৈকুণ্ঠে অবস্থান করেন। এ সময়ের মধ্যে মহাসাধক বা সিদ্ধসাধকগণ সাঁই বা সোমনাথের সাথে প্রত্যক্ষ দর্শনলাভ করে মানবজনম ধন্য করেন। যারাই সোমনাথ বা সাঁইয়ের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দর্শনলাভ করেন তারাই সাঁইজি, বৈষ্ণব, সাঁইচারী, সাঁইবিহারী, নায়িবে রাসুল ও আশিকে রাসুল ইত্যাদি উপাধিলাভ করেন। সোমপর্যায়ের দৈর্ঘ্য সর্ব সম্মতিক্রমে প্রতিপদের প্রথম এক প্রহর। এক প্রহর সমান সাড়েতিন দিন। অর্থাৎ সোমপর্যায় বা সোমবারের দৈর্ঘ্য সাড়েতিন দিন।
পুরাণিরা এ কোজাগরে মন্দিরে মন্দিরে তাদের বিষ্ণুকে অন্বেষণ করে থাকেন এবং কুরানিরা এ শবেবরাত (ফা.ﺸﺑﻰ ﺑﺭﺍﺀﺓ) এ মসজিদ, মাজার, দরবার, খানকা ও তীর্থে তীর্থে তাদের রবকে (আ.ﺮﺐ) অন্বেষণ করে থাকনে। অন্য দিকে আত্মতাত্ত্বিকরা কেবল আপন আপন দেহের মাঝেই স্বস্ব সাঁইয়ের অন্বেষণ করে থকেন। ঊষার কোন দিবসে সত্যসত্যই সাঁইদর্শন হয়? এটি নিয়ে পুরাণী ও কুরানী মনীষিদের মধ্যে তেমন কোন বিরোধ না থাকলেও আত্মতাত্ত্বিক মনীষিদের মধ্যে ব্যাপক মতোবিরোধ রয়েছে। যেমন-নব্য লালনপন্থিদের অনেকেই বলে থাকেন সাঁইদর্শন রজকালেই হয়ে থাকে। অর্থাৎ রজকালেই সাঁই অবতরণ করে থাকেন। তাদের যুক্তিগুলো হলো, ১.“সময় বুঝে বাঁধাল বাঁধলি না, জল শুকাবে মীন পালাবে, পস্তাবিরে ভাই মনা” (পবিত্র লালন- ৯২২/১)। ২.“হলে অমাবতির বার, মাটি রসে হয় সরোবর, সাধু গুরু বৈষ্টম তিনে, উদয় হয় সে যোগের দিনে” (পবিত্র লালন- ১৬২/২)।
ওপরোক্ত মতের প্রবক্তা বা নব্য লালন গবেষকগণের এরূপ ধারণা যে, একেবারেই ভ্রান্ত বা শতভাগই ভুল, তা প্রমাণের জন্য পবিত্র কুরানের এ বাণিটি তুলে ধরা হলো “এবং তারা রজকাল সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞেস করতেছে- বলে দাও তা কষ্টকর, অতএব রজকালে, তোমরা রমণিদের পৃথক রেখো। যে পর্যন্ত তারা পবিত্র না হয়, তাদের নিকটবর্তী হইও না, তারা পবিত্র হলে, কাঁইরে আদেশ অনুযায়ী সেখানে যেও। সত্যই কাঁই প্রত্যাবর্তনকারী ও শুদ্ধাচারিদের অধিক ভালোবাসেন” (কুরান, বাক্বারা- ২২২)। এ ছাড়াও পবিত্র লালনের এ বাণিদ্বয়ই যথেষ্ট- ১.“অমাবস্যা অমঙ্গল তিথি, তাতে মিলন পুরুষের ক্ষতি, জল অমাবস্যায়- উঠে ডাঙ্গায়, লালন কয় থেকো হুঁশিয়ার” (পবিত্র লালন-১০৭/৪) ২.“তুই মদনা চাষা ভাই, তোর জ্ঞান কিছুই নাই, প্রতিপদ বিনে অমাবস্যায়, হাল বয়ে কাল হও কেনে” (পবিত্র লালন- ১৬২/৩)।
তাদের এ মতটি যে সম্পূর্ণরূপেই অযৌক্তিক, অমূলক, যুক্তিহীন ও ভিত্তিহীন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ রজকালে কেবল রজ ব্যতীত অন্য কোন প্রতীতির আগমন ঘটে না। সে জন্য এ সময়ে সাঁইসাধন করা বা সাঁই অন্বেষণ করা সম্পূর্ণই নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখে গেছেন, ১.“অমাবস্যা অমঙ্গল তিথি, তাতে মিলন পুরুষের ক্ষতি, জল অমাবস্যায়- উঠে ডাঙ্গায়, লালন কয় থেকো হুঁশিয়ার।” (পবিত্র লালন- ১০৭/৪)। ২.“তুই মদনা চাষা ভাই, তোর জ্ঞান কিছুই নাই, প্রতিপদ বিনে অমাবস্যায়, হাল বয়ে কাল হও কেনে” (পবিত্র লালন- ১৬২/৩)। উল্লেখ্য রজকালকে রূপকসাহিত্যে অমাবস্যা বলা হয়।
বিশ্ববিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক মনীষিদের মধ্যে অন্যতম হলেন বলন কাঁইজি ও লালন সাঁইজি। দিগন্তবিজয়ী ও ক্ষণজন্মা এ মনীষিদ্বয়ের মতে ঊষার দ্বিতীয় দিবসই হলো সাঁইদর্শনের জন্য উত্তম যোগ। এ ব্যাপারে লালন সাঁইজির পরিস্কার নির্দেশ হলো, “অমাবস্যা পূর্ণিমা হয়, মহাযোগ সে দিনে উদয়, লালন কয় সময় নির্ণয়, করে করো সাধনা”(পবিত্র লালন- ৯২১/৪)।
সাঁই আগমনের সময় ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজির মতামত
১. “অমাবস্যার দিনে চন্দ্র থাকে কোন্ শহরে, প্রতিপদে উদয় হয় সে, দৃষ্ট হয় না কেন তারে” (পবিত্র লালন- ৬০/১)।
২. “অমাবস্যার পর চন্দ্র উদয়, দেখতে যার বাসনা হয়, লালন বলে থাকো সদায়, ত্রিবেণিতে থাকো বসে” (পবিত্র লালন- ৯৭৬/৪)।
৩. “অমাবস্যার পর প্রতিপদে, দ্বিতীয়ার প্রথম বিভাগে, ভেবে কয় লালনÑ করে আগমন, সে যোগের দিনে” (পবিত্র লালন- ৪৮৮/৪)।
৪. “অমাবস্যায় সে রয় ঘুমিয়ে, নাড়া তাকে নেয় জাগিয়ে, লালন কয় কামিনির ঘরে, যাসনেরে সেথা মানুষ মারে” (পবিত্র লালন- ২৭৪/৪)।
৫. “একটি চন্দ্র লক্ষ তারা, সারাআকাশ ছেয়ে রয়, অমাবস্যা লাগলে সে চন্দ্র, আবার কোথায় গিয়ে লুকায়” (পবিত্র লালন- ৬৭৯/৩)।
৬. “মন চোরারে ধরবি যদি মন, ফাঁদ পেতে বস ত্রিবেণে, অমাবস্যার পর পূর্ণিমাতে, বারাম দেয় সেখানে” (পবিত্র লালন- ৭৩৯/১)।
৭. “শুক্লপক্ষে ব্রহ্মা-ে গমন, কৃষ্ণপক্ষে যায় নিজভুবন, লালন বলেÑ সে রূপলীলে, দিব্যজ্ঞানী সে জানে” (পবিত্র লালন- ৭৩৯/৪)।
৮. “হৃদকমলে খেলছে আসি, জোয়ার ভাটা দিবানিশি, অমাবস্যার পর উদয় শশী, দেখ তার কারসাজি, সুধা বর্ষে রাশি রাশি, কে জানে সে রূপলীলে” (পবিত্র লালন-৬৮৭/৩)।
সোম (রূপ)বি চাঁদ, চন্দ্র, ইন্দু, শশী, সোমলতা, জলজলতা, সোমলতার রসে প্রস্তুত সুধাবিশেষ (প্র) বঙ্গাব্দের সপ্তাহের একটি দিবস বিশেষ (ভাঅ)বিণ লালনপালনকর্তা, ঈশ্বর, প্রভু, গার্ডিয়ান (guardian), রব (.ﺮﺐ) (আবি)বি ১. সুরা, মদ, সারাংশ, সার, রস, সুধা, অমৃত, জ্যেতৎস্না, জল ২. উপাস্য, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, স্বরূপ (আদৈ)বিখোদা (ফা.ﺨﺪﺍ), মা’বুদ (আ.ﻤﻌﺑﻭﺪ), মুহাম্মদ (.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (আ.رَسُول) (আপ)বি কাওসার (আ.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (আ.ﻔﺭﺍﺖ) (ইপ)বি গড (God), নেক্টার (nectar), ইলিক্সার (elixir) (সংজ্ঞা) মাতৃজঠরে সর্বজীবের ভ্রূণ লালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের অমৃতরসকে পালনকর্তা বা রূপকার্থে সাঁই বলা হয় (দেপ্র) ১. পালনকর্তা পরিবার প্রধান ও রূপকসাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ ২. দেহবিশ্বের পূর্ণিমার প্রথম ২ প্রহর সময়, প্রতিপদ হতে ২ প্রহর সময় (ছনা)বি ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, প্রভু, পরমগুরু, মনেরমানুষ, রাজা ও স্বরূপ (চরি)বি লালন (উপ)বি অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, ননি, পক্ষী, ফল, ফুল১, মানিক ও সুধা (রূ)বি সাঁই (দেত)বি পালনকর্তা।
সোমপর্যায় (রূপ)বি সোমবার, সুধা আগমন সময়, অমৃতসুধা অবতরণ সময়, জীবজল আগমন সময়, জীবনজল অবতীর্ণ হওয়ার মুহূর্ত (প্র) ১. এটি বঙ্গাব্দের সপ্তাহের একটি দিবস বিশেষ ২. রজস্বলাদের রজস্রাব ঊর্ধ্বগমন হতে পরবর্তী এক প্রহর সময় ৩. আত্মদর্শনের আদি ১. শুক্ল ২. শনি ৩. মঙ্গল ৪. সোম ৫. রবি ৬. বুধ ৭. বৃহৎপতি- এ সপ্তপর্যায়ের একটি পর্যায় (ছনা)বি প্রতিপদ (চরি)বি আদিত্য (উপ)বি সকাল (রূ)বি ঊষা (দেত)বি প্রথমপ্রহর {বাং.সোম+ বাং.পর্যায়} পর্যায়- শুক্লপর্যায় দেখুন।
সোমপর্যায়ের সংজ্ঞা
১. রজস্বলাদের রজস্রাব হতে পবিত্রতালাভের পর প্রথম ৭দিন সময়কে সোমপর্যায় বলে। ২. মানবদেহে সোম (সাঁই) প্রতীতির অবস্থানকালীন প্রতিপদের প্রথম ৭দিন সময়কে সোমপর্যায় বলে।
সোমবার (রূপ)বি সোমদিবস, সোমদিন, সাঁইদিবস (প্র) ১. এটি বঙ্গাব্দের সপ্তাহের একটি দিবস বিশেষ ২. প্রতিপদের প্রথম এক প্রহর সময় বিশেষ ৩. আত্মদর্শনের আদি ১. শুক্ল ২. শনি ৩. মঙ্গল ৪. সোম ৫. রবি ৬. বুধ ৭. বৃহৎপতি- এ সপ্তপর্যায়ের একটি পর্যায় (ভাঅ)বি ঊষা, ভোর, সকাল, প্রত্যুষ, প্রভাত, প্রাতঃ, প্রাতঃকাল, ভোরবেলা, dawn (ডওন), ‘داون’ (দাওনা), মরনিং (morning), জোহর (.ﻆﻬﺮ), ফজর (.ﻔﺠﺮ), ফালাক্ব (আ.ﻔﻟﻖ), বারায়াত (.ﺑﺭﺍﺀﺓ), সুবহ (.ﺼﺑﺢ) (আবি)বি প্রতিপদ, প্রথমপ্রহর, সাঁই আগমনের সময়, অরোরা (aurora), আওয়াল ওয়াক্ত (.ﺍﻮﻞ ﻮﻗﺖ) (পুস)বি ‘কোজাগর’ (কুস)বি শবেবরাত (ফা.ﺸﺑﻰ ﺑﺭﺍﺀﺓ) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘প্রথমপ্রহর’ পরিবারের ‘রূপকপরিভাষা’ ও রূপক সাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. প্রাতঃকাল বা সকালকে ঊষা বলা হয় ২. রজস্বলাদের পবিত্রতার প্রথম সাড়েতিন দিন সময়কে প্রথমপ্রহর বা রূপকার্থে ঊষা বলা হয় (ছনা)বি প্রতিপদ (চরি)বি আদিত্য (উপ)বি সকাল (রূ)বি ঊষা (দেত)বি প্রথমপ্রহর {বাং.সোম+ ফা.বার. ﺑﺎﺮ} বার- বার১ [ﺒﺎﺭ], বার২ [bar], বার৩ [bar] ও বার৪ [bar] দেখুন।
৫. রবিপর্যায়
রূপকসাহিত্যে দেহবিশ্বের মঙ্গল পর্যায়ের সর্বশেষ প্রহর বা সর্বশেষ সাড়েতিন দিন সময়কে রবিপর্যায় বা রবিবার বলা হয়। এ রবিপর্যায় বা রবিবারকে রূপকসাহিত্যে অর্যমা বলা হয়। পবিত্র বেদ এবং পবিত্র কুরানে এ অর্যমা নিয়ে অনেক বর্ণনা রয়েছে। এর স্থায়িত্বকাল মাত্র এক প্রহর। অর্থাৎ পবিত্রতার সর্বশেষ প্রহর। আর দেহবিশ্বে এক প্রহর সমান সাড়েতিন দিন। তাই বলা যায় রবিপর্যায় বা রবিবারের দৈর্ঘ্য সাড়েতিন দিন। অর্যমা প্রহরে রবি প্রতীতি আগমন করে থাকে বলেই এই প্রহরকে রবিপর্যায় বা রবিবার বলা হয়। উল্লেখ্য রবিপর্যায় বা রবিবারে দেববিশ্বে আগমনকারী প্রতীতিকে রবি প্রতীতি বলা হয়। রবি প্রতীতিকে রূপকসাহিত্যে কাঁই বা সৃষ্টিকর্তা বলা হয়।
সারাবিশ্বের সর্ব ঘরানার আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক মনীষিদের সর্ব সম্মতিক্রমে রবিপর্যায় বা রবিবার প্রতিপদের মাত্র এক প্রহর। জীবকুলের সৃষ্টিকর্তা কাঁই জীব সৃষ্টি করা এবং সাথে সাথে সাধকগণের সাথে দর্শনদান করার জন্য প্রতি মাসে মাত্র এক প্রহর বৈকুণ্ঠে অবস্থান করেন। এ সময়ের মধ্যে মহাসাধক বা সিদ্ধসাধকগণ সৃষ্টিকর্তা বা কাঁইয়ের সাথে প্রত্যক্ষ দর্শনলাভ করে মানবজনম ধন্য করেন। যারাই সৃষ্টিকর্তা বা কাঁইয়ের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দর্শনলাভ করেন তারাই কাঁইজি, ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মচারী, ব্রহ্মবিহারী, ওলিউল্লাহ/ খলিফাতুল্লাহ ইত্যাদি উপাধিলাভ করেন। রবিপর্যায় বা রবিবারের দৈর্ঘ্য সর্ব সম্মতিক্রমে প্রতিপদের প্রথম এক প্রহর। এক প্রহর সমান সাড়েতিন দিন। অর্থাৎ রবিপর্যায় বা রবিবারের দৈর্ঘ্য সাড়েতিন দিন।
পুরাণিরা এ কোজাগরে মন্দিরে মন্দিরে তাদের ব্রহ্মাকে অন্বেষণ করে থাকেন এবং কুরানিরা এ ‘শবেক্বদর (ফা.ﺸﺑﻰ ﻘﺪﺭ)’ এ মসজিদ, মাজার, দরবার, খানকা ও তীর্থে তীর্থে তাদের আল্লাকে অন্বেষণ করে থাকনে। অন্য দিকে আত্মতাত্ত্বিকরা কেবল আপন আপন দেহের মাঝেই স্বস্ব কাঁইয়ের অন্বেষণ করে থকেন। অর্যমান কোন দিবসে সত্যসত্যই কাঁইদর্শন হয়? এটি নিয়ে কুরানী শাস্ত্রীয় মনীষিদের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলে থাকেন, উপোসের ২১, ২৩, ২৫ ও ২৭ এসব বেজোড় রাতে। তবে অধিকাংশের মতামত হলো উপোসের ২৭তম রাতে। এখানে রাত হওয়ার তো প্রশ্নও আসে না। এখানে হবে দিবস। কাঁইদর্শনের জন্য ২৭তম দিবসটিই আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিকরা সঠিক বলে মনে করে থাকেন।
রবি (রূপ)বি সূর্য, ভাস্কর, ভানু, দিবাকর, দিনমণি বিণ চৈতালি, বসন্তকালের শস্য (প্র) রবিবাসর, ইঞ্জিল আশ্রয়ীদের সপ্তাহের প্রথম দিবস (পরি) প্রতিপদের সর্বশেষ প্রহর অর্যমা(আবি)বি ঈশ্বর, অনন্ত, বিধাতা, স্বায়ম্ভু (ভাঅ)বি নির্মাতা, পিতা, জনক, ক্রিয়েটর (creator), খালিক্ব (আ.ﺨﺎﻟﻖ) (বাদৈ)বি কালা, কৃষ্ণ, বিরিঞ্চি, ব্রহ্মা, শ্যাম (আদৈ)বি আল্লাহ (.ﺍﻠﻠﻪ), ইসা (.ﻋﻴﺴﻰٰ), মসিহ (.ﻤﺴﻴﺢ), শাম (.ﺷﺄﻢ), শামস (.ﺸﻤﺲ), শিশ (.ﺸﻴﺶ) (ইদৈ)বি লর্ড (Lord), মেকার (maker), ডিজাইনার (designer)(পরি) মানবদেহে প্রাপ্ত কালোবর্ণের মধুবৎ মিষ্ট অমৃতসুধা (সংজ্ঞা) সৃষ্টিক্রিয়ার সরাসরি অংশ গ্রহণকারিকে সৃষ্টিকর্তা বা রূপকার্থে কাঁই বলা হয় (দেপ্র) সৃষ্টিকর্তা পরিবার প্রধান ও রূপকসাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (ছনা)বি চোর, স্রষ্টা (চরি)বি কানীন, স্বায়ম্ভু (উপ)বি অমৃতসুধা, ঘি, সূর্য, স্বর্গীয়ান্ন (রূ)বি কাঁই (দেত)বি সৃষ্টিকর্তা।
রবিপর্যায় (রূপ)বি রবিবার, রবিদিবস, রবিদিন (ভাঅ) কাঁই আগমন সময়, রবি প্রতীতির অবতরণ মুহূর্ত (প্র) ১.এটি বঙ্গাব্দের সপ্তাহের একটি দিবস বিশেষ ২. প্রতিপদের সর্বশেষ এক প্রহর সময় বিশেষ ৩. আত্মদর্শনের আদি ১. শুক্ল ২. শনি ৩. মঙ্গল ৪. সোম ৫. রবি ৬. বুধ ৭. বৃহৎপতি- এ সপ্তপর্যায়ের একটি পর্যায় (ছনা)বি রবিবার (উপ)বি সন্ধ্যা(রূ)বি অর্যমা (দেত)বি শেষপ্রহর {বাং.রবি+ বাং.পর্যায়} পর্যায়- শুক্লপর্যায় দেখুন।
রবিপর্যায়ের সংজ্ঞা
১. রজস্বলাদের পবিত্রতালাভের পর সর্বশেষ প্রহরকে রবিপর্যায় বলে।
২. মানবদেহে রবি (কাঁই) প্রতীতির অবস্থানকালীন সময়কে রবিপর্যায় বলে।
রবিবার (রূপ)বি রবিদিবস, রবিদিন (প্র) ১. এটি বঙ্গাব্দের সপ্তাহের একটি দিবস বিশেষ ২. প্রতিপদের অর্যমা প্রহর বা সর্বশেষ প্রহর বিশেষ ৩. আত্মদর্শনের আদি ১. শুক্ল ২. শনি ৩. মঙ্গল ৪. সোম ৫. রবি ৬. বুধ ৭. বৃহৎপতি- এ সপ্তপর্যায়ের একটি পর্যায় (আবি)বি বিকাল, সন্ধ্যা, সাঁঝ, মুমূর্ষুকাল, শেষ সময়, ইভিনিং (evening), নাইটফল (nigntfall), ডাস্ক (dusk), আখির ওয়াক্ত (.ﺍﺨﺮ ﻮﻗﺖ) (আপ)বি এশা (.ﻋﺸﺎﺀ), মাসায়া (.ﻤﺴﺎﺀ) (পুস)বি ‘কোজাগর’ (কুস)বি ‘শবেক্বদর (ফা.ﺸﺑﻰ ﻘﺪﺭ)’ (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শেষপ্রহর’ পরিবারের ‘ছদ্মনামপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত বঙ্গাব্দের সপ্তাহের একটি দিবসকে রবিপর্যায় বা রবিবার বলা হয় ২. রজস্বলাদের পবিত্রতার শেষ সাড়েতিন দিন সময়কে রবিপর্যায় বা রবিবার বলা হয় (ছনা)বি রবিবার (উপ)বি সন্ধ্যা (রূ)বি অর্যমা (দেত)বি শেষপ্রহর {বাং.রবি+ ফা.বার. ﺑﺎﺮ} বার- বার১ [ﺒﺎﺭ], বার২ [bar], বার৩ [bar] ও বার৪ [bar] দেখুন।
৬. বৃহৎপতিপর্যায়
এটি ভিন্ন বা পৃথক কোন পর্যায় নয়। বসিধ প্রতীতির বিদায়ের পর মঙ্গল প্রতীতি অবতরণ করেন। অতঃপর এ প্রতীতি মানবদেহে দীর্ঘ ২৭ দিন অবস্থান করেন। অতঃপর মঙ্গল প্রতীতি আবার অজানা উদ্দেশ্যে ঊর্ধ্বগমন করেন। অতঃপর শনি প্রতীতি আগমন করেন। অরজা রজস্বলা হওয়ার পর হতে এভাবে শনি ও মঙ্গল প্রতীতির আগমন ও ঊর্ধ্বগমনের পালা চলতে থাকে। তবে শুক্ল প্রতীতি আর কোন্দিন আগমন করেন না। এক শনির প্রস্থান হতে অন্য শনির পুনরাগমনের পূর্ব পর্যন্ত পুরো ২৭দিন সময়েকই মঙ্গলপর্যায় বলা হয়। এ মঙ্গলপর্যায়ের মধ্যে যদি কোন সাধক ঊষায় সাঁই এবং অর্যমায় কাঁই দর্শনলাভ করতে পারেন তবে সে মঙ্গল পর্যায়টিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ও বরণীয় দিন। অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ মঙ্গলপর্যায় বা বৃহৎ মঙ্গলপর্যায়। যে পর্যায়ে সোমনাথ (সাঁই) এবং রবি (কাঁই) উভয় প্রতীতির দর্শনলাভ করা যায় সে পর্যায়টিই শ্রেষ্ঠপর্যায়। আত্মতাত্ত্বিক মনীষিরা শ্রেষ্ঠপর্যায়কে বৃহৎপর্যায় বা পর্যায়পতি বলে থাকেন। এ পর্যায়পতি হতেই পরে বৃহৎপতি বা বৃহৎপতিপর্যায় রূপলাভ করে। আর বৃহৎপতি পর্যায়কেই বৃহস্পতিবার বলা হয়। এর নির্দিষ্ট কোন পরিমাণ বা দৈর্ঘ্য নেই। সাধক জীবনের এর সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি হতে পারে। অর্থাৎ কোন সাধকের জীবনে এটি না-ও আসতে পারে এবং এবং কোন সাধকের জীবনে এর সংখ্যা এক হতে একাধিকও হতে পারে।
বৃহৎ বিণ বড়, প্রকা-, বিরাট, বিস্তৃতি, উদার, মহৎ, সমারোহপূর্ণ স্ত্রী বৃহতী।
পতি (রূপ)বি স্বামী, প্রভু, কর্তা, রক্ষক, রক্ষাকর্তা, অধীশ্বর, অধিপতি, রাজা, নেতা, নায়ক, প্রধান, পরিচালক।
বৃহস্পতি (রূপ)বি বৃহস্পতিপর্যায়, বড়দিন, বড়দিবস, দিবসপতি (আল) মহামান্য, মান্যবর (প্র) ১. বাংলা সপ্তাহের দিবস বিশেষ ২. একটি গ্রহের নাম, Jupiter ৩. পুরাণোক্ত দেবগুরু {বাং.বৃহৎ+ বাং.পতি}
বৃহস্পতিপর্যায় (রূপ)বি বৃহস্পতিবার, বৃহস্পতিদিবস, বড়দিন, বড়দিবস, দিবসপতি (আল) মহামান্য, মান্যবর (প্র) ১. এটি বঙ্গাব্দের সপ্তাহের একটি দিবস বিশেষ ২. আত্মদর্শনের আদি ১. শুক্ল ২. শনি ৩. মঙ্গল ৪. সোম ৫. রবি ৬. বুধ ৭. বৃহৎপতি- এ সপ্তপর্যায়ের একটি পর্যায় {বাং.বৃহৎ+ বাং.পতি+ বাং.পর্যায়} পর্যায়- শুক্লপর্যায় দেখুন।
বৃহৎপতিপর্যায়ের সংজ্ঞা
একই মঙ্গলপর্যায়ে কোন মহানসাধক সোম (সাঁই) এবং রবি (কাঁই) প্রতীতির সন্ধানলাভ করতে পারলে সে মঙ্গলপর্যায়কে বৃহৎপতিপর্যায় বলে।
বৃহস্পতিবার (রূপ)বি বৃহস্পতিদিবস, বড়দিন, বড়দিবস, দিবসপতি (প্র) এটি বঙ্গাব্দের সপ্তাহের একটি দিবস বিশেষ ২. আত্মদর্শনের আদি ১. শুক্ল ২. শনি ৩. মঙ্গল ৪. সোম ৫. রবি ৬. বুধ ৭. বৃহৎপতি- এ সপ্তপর্যায়ের একটি পর্যায় {বাং.বৃহৎ+ বাং.পতি+ ফা.বার. ﺑﺎﺮ} বার- বার১ [ﺒﺎﺭ], বার২ [bar], বার৩ [bar] ও বার৪ [bar] দেখুন।
৭. বুধপর্যায়
প্রতিটি জীব কৈশোরকাল অতিক্রম করে যৌবনে পদার্পণ করার সঙ্গেসঙ্গেই দৈহিক আন্তঃআলোড়নের মাধ্যমে সারাদেহের প্রতিটি কোষই একেকটি অনুজীবে পরিণত হয়। অতঃপর তারা কামজ, কা-জ ও অঙ্গজ ইত্যাদি প্রজননের মাধ্যমে প্রত্যেকেই পুনর্দেহধারণের প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকে। একদিকে কোষের পুনর্দেহধারণ অন্যদিকে প্রভুদর্শন। মানুষের ক্ষেত্রে বলা যায় পুনর্জন্মগ্রহণ। একদিকে পুনর্জন্মগ্রহণ অন্যদিকে প্রভুদর্শন। পুনর্জন্ম গ্রহণ করতে গেলে প্রভুদর্শন হয় না আবার প্রভুদর্শন করতে গেলে পুনর্জন্মগ্রহণ হয় না। প্রতিমাসে একটি করে মঙ্গল হলে প্রতি বছরে (১২ ১) = ১২টি মঙ্গল। তবে ৩০ বছরে (৩০ ১২) = ৩৬০টি মঙ্গলকে একত্রে বুধপর্যায় বলে। অত্যন্ত তীক্ষè বুদ্ধিমত্তার সাথে জীবনের এ সময়টি অতিক্রম করতে হয় বলেই এ সময়টিকে বুধপর্যায় বা বুধবার বলা হয়। সারা বিশ্বের সর্ব ঘরানার সাধু সন্ন্যাসিদেরর মতে এর দৈর্ঘ্য ৩০ বছর। বুুধবার হলো যৌবনকালের পুরো ৩০ বছর। অর্থাৎ বুধপর্যায় বা বুধবারের দৈর্ঘ্য ৩০ বছর।
বুধ (রূপ)বি বুধপর্যায় বিণ জ্ঞানী, পণ্ডিত, বিদ্বান, প্রতিভাধর, বোধশক্তি-সম্পন্নব্যক্তি (প্র) ১. বাংলা সপ্তাহের একটি দিবস বিশেষ ২. একটি গ্রহের নাম, Mercury ৩. পুরাণোক্ত চন্দ্রের পুত্র (দেপ্র) গড়ে যৌবনের ৩০ বছর (১০ হতে ৪০ বছর) পর্যন্ত সময়।
বুধপর্যায় (রূপ)বি বুধবার, বুধদিবস, বুদ্ধিমত্তার সাথে অতিবাহিত করার সময় (প্র) ১.এটি বঙ্গাব্দের সপ্তাহের একটি দিবস বিশেষ ২.গড়ে যৌবনের ৩০ বছর (১০ হতে ৪০ বছর) পর্যন্ত সময় (রূ)বি সেতু (দেত)বি যৌবনকাল {বাং.বুধ+ বাং.পর্যায়} পর্যায়- শুক্লপর্যায় দেখুন।
বুধপর্যায়ের সংজ্ঞা
প্রতিটি মানুষের জীবনের যৌবনের ৩০ বছরের (১০ হতে ৪০ বছর) সব মঙ্গলবারকে একত্রে বুধপর্যায় বলে।
বুধবার (রূপ)বি বুধদিবস, বুধদিন (প্র) ১. এটি বঙ্গাব্দের সপ্তাহের একটি দিবস বিশেষ ২. যৌবনকালের মোট ৩০ বছর সময় ৩. আত্মদর্শনের আদি ১. শুক্ল ২. শনি ৩. মঙ্গল ৪. সোম ৫. রবি ৬. বুধ ৭. বৃহৎপতি- এ সপ্তপর্যায়ের একটি পর্যায় (ভাঅ)বি তরুণকাল, যুবাকাল, নর-নারির ১১ হতে ৪০ বছর পর্যন্ত বয়স, দি পিরিওড ওফ ইয়থ (the period of youth), আইয়ামুশ শাবাব (ﺍﻴﺎﻢ ﺍﻟﺸﺑﺎﺐ) (আবি)বি চন্দ্রচেতনাকাল, কামচেতনা প্রাপ্ত বয়স (বাদৈ)বিণ ধনী, ব্যবসায়ী (আদৈ)বিণ গনি (.ﻏﻨﻰ) (ইপ)বিণ ইয়াং (young), এ্যাডাল্ট (adult) (দেপ্র) ১. এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘যৌবনকাল’ পরিবারের ‘ছদ্মনামপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) রূপকসাহিত্যে মানব সন্তানের যৌবনকালের ৩০ বছর সময়কে বুধবার বলা হয় (রূ)বি সেতু (দেত)বি যৌবনকাল {বাং.বুধ+ ফা.বার. ﺑﺎﺮ}
বার- বার১ [ﺒﺎﺭ], বার২ [bar], বার৩ [bar] ও বার৪ [bar] দেখুন।
রূপকসাহিত্যের দৈহিক সপ্তপর্যায় দ্বারা ভারতবর্ষীয় আত্মতাত্ত্বিক মনীষিগণ সৌরদিন গণনার শুভ সূচনা করেছিলেন অনেক পূর্বে। দৈহিক পর্যায়াদি হলো- ১. শুক্লপর্যায় ২. শনিপর্যায় ৩. মঙ্গলপর্যায় ৪. সোমপর্যায় ৫. রবিপর্যায় ৬. বৃহৎপতিপর্যায় ও ৭. বুধপর্যায়। এই সপ্তপর্যায়ই আজ আমাদের নিকট সপ্তাহের সাতবার নামে পরিচিত।পরবর্তিকালের নীতিনির্ধারকগণ উক্ত সপ্তপর্যায় হতে ‘পর্যায়’ সহগ পরিভাষাটিকে তিরোহিত করে শুধু মূল পরিভাষাটিকে দিনরূপে গ্রহণ করেন। যেমন- ১. শুক্ল ২. শনি ৩. মঙ্গল ৪. সোম ৫. রবি ৬. বৃহৎপতি ও ৭. বুধ। আরো অনেক পরে সপ্তাহের এ সপ্তদিনকে নীতিনির্ধারকগণ ১. শুক্লদিন ২. শনিদিন ৩. রবিদিন ৪. সোমদিন ৫. মঙ্গলদিন ৬. বুধদিন ও ৭. বৃহৎপতিদিন রূপে গণ্য করেন।
দিন (রূপ)বি দিবা, দিবস, চব্বিশ ঘণ্টাকাল, অহোরাত্র, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, একত্রে এক দিবস ও এক রাত্র, সময়কাল (সুদিন), আয়ু (দিন ফুরিয়েছে) (জ্যোশা) তিথি, চন্দ্রমাসের ত্রিশভাগের একভাগ (আবি) জ্ঞান, গুরু, সুস্থ্যতা, উন্নতি, যৌবনকাল, একজনম, এক নিঃশ্বাস, সাতাশদিন (প্র) ১.রজস্বলাদের পবিত্রতার ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম- এ ছয় প্রহর ২.রজস্বলাদের পবিত্রতার সূচনা হতে অন্য স্রাব আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময় (আবি)বি পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা, নির্মলতা, moonfull (মুনফুল), ‘كامل القمر’ (কামাল আলক্বামার) (আভা)বি পৌর্ণমাসী, শুক্লপক্ষ, শরীরের সুস্থ্যতা (আপ)বি ইদ্দত (.ﻋﺩﺖ), চাহারশম্বা (ফা.ﭼﻬﺎﺮ ﺸﻧﺒﻪ), ত্বহুর (.ﻄﻬﺭﺓ), পাক (ফা.ﭙﺎﮎ), মি’রাজ (.ﻤﻌﺭﺍﺝ) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘পবিত্রতা’ পরিবারের ‘উপমানপরিভাষা’ ও রূপক সাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণ সূর্য দৃশ্যকালীন সময়কে দিন বলা হয় ২. রজস্বলাদের এক স্রাবের প্রস্থান হতে অন্য স্রাব সূচনার মধ্যবর্তী ২৭ দিনকে পবিত্রতা বা রূপকার্থে দিন বলা হয় (ছনা)বি মঙ্গলবার ও শুক্লপক্ষ (উপ)বি দিন (রূ)বি পূর্ণিমা (দেত)বি পবিত্রতা।
ওপরোক্ত আলোচ্য সাতটি দিবসের সমন্বয়ে গঠিত হয় সপ্তাহ। আদিমযুগে এ সপ্তাহই ভারতবর্ষীয় মনীষিগণের সৌরদিন গণনার স্থায়ী পদ্ধতিতে পরিণত হয়। এক সময় সৌরদিন গণনার এ স্থায়ী পদ্ধতিটি ক্রমেক্রমে সারা বাংভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে চান্দ্রতিথি গণনাপদ্ধতির তিথির হ্রাস-বৃদ্ধি সমস্যাটিরও সঠিক সমাধান হয়। দিনের পর দিন সৌরদিন গণনা পদ্ধতিটির ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে এবং চান্দ্রতিথি গণনা পদ্ধতিটির ব্যবহার হ্রাস পেতে থাকে। অতঃপর গত মধ্যযুগে ফার্সি ভাষাভাষী মোঘলরা বাংভারতীয় উপমহাদেশে আধিপত্য স্থাপন করলে আমাদের সাতদিনের শেষে সংযুক্ত ‘দিন’ নামক সহগ শব্দটিকে তিরোহিত করে তাদের ফার্সি ভাষার ‘বার (ﺒﺎﺭ)’ শব্দটিকে সংযুক্ত করেন। ফলে উক্ত ‘সাতদিন’ এর নতুন নাম হয় ‘সাতবার’। যা আজও অবিকল তাই রয়েছে। যেমন- ১. শুক্লবার ২. শনিবার ৩. রবিবার ৪. সোমবার ৫. মঙ্গলবার ৬. বুধবার ও ৭. বৃহৎপতিবার।
বার [ﺒﺎﺭ] (রূপ)বি পর্যায়, পালা, ধারা, ব্যাপিয়া, ফার্সি সপ্তাহের দিবস বিশেষ (প্র) ফার্সি সনের সপ্তাহের একটি দিন বিশেষ {ফা}
আসুন সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় গোঁড়ামি পরিহার করে আত্মতত্ত্ববিদ্যা বা আত্মদর্শনকে সবাই নিজনিজ দর্শনরূপে গ্রহণ করি। সাথেসাথে আত্মদর্শন অন্য কোন বিদ্যার অংশ নয় বরং অন্যান্য সর্ব প্রকার বিদ্যা কেবল আত্মদর্শনেরই অংশ এ কথা মনেচিত্তে স্বীকার করি। আরো স্বীকার করি সৌরজগতের গ্রহ-নক্ষত্রাদির নামানুসারে সপ্তাহের দিবসের নামকরণ করা হয়নি বরং সপ্তাহের দিবসাদির নামানুসারেই সৌরজগতের গ্রন্থ-নক্ষত্রাদির নামকরণ করা হয়েছে। বঙ্গাব্দের সপ্তাহের দিবসাদির নামকরণ করা হয়েছে কেবল আত্মদর্শনের বৈক্তিক সদস্য সারণির বিভিন্ন সদস্যাদির নামানুসারে।
সংক্ষিপ্ত
সূত্রতথ্য
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৩য় খণ্ড)
লেখক বলন কাঁইজি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন