‘ﺮﻮﺯﻩ’ (রোজা) প্রসঙ্গ (Context of fasting)
ফার্সিভাষার রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) নামক পরিভাষাটি পারস্য রূপকসাহিত্যের উপাসনামূলক একটি অনন্য পরিভাষা। এ পরিভাষাটিকে কেন্দ্র করে পারস্য সুবিজ্ঞ রূপকারগণ অসংখ্য ও অগণিত লৌকিকা নির্মাণ করেছেন। সুমহান ও সুবিজ্ঞ রূপকারগণ কর্তৃক নির্মিত অনন্য ও অনুপম লৌকিকাদি একত্র করেই সম্পাদিত হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত অসংখ্য ও অগণিত মহাগ্রন্থ বা শাস্ত্রীয়গ্রন্থ। আরববিশ্বের অসংখ্য ও অগণিত পরিভাষার মধ্যে আরবিভাষার রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাটি উপাসনামূলক একটি অনন্য ও অনুপম পরিভাষা। আলোচ্য পরিভাষাটি কুরানীদের একটি অন্যতম শাস্ত্রীয় সংস্কারো বটে। এটা পারস্য রূপকারগণের বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিরল অনন্য ও অনুপম শাস্ত্রীয়সংস্কার।
ফার্সিভাষার রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) নামক পরিভাষাটি পারস্য রূপকসাহিত্যের উপাসনামূলক একটি অনন্য পরিভাষা। এ পরিভাষাটিকে কেন্দ্র করে পারস্য সুবিজ্ঞ রূপকারগণ অসংখ্য ও অগণিত লৌকিকা নির্মাণ করেছেন। সুমহান ও সুবিজ্ঞ রূপকারগণ কর্তৃক নির্মিত অনন্য ও অনুপম লৌকিকাদি একত্র করেই সম্পাদিত হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত অসংখ্য ও অগণিত মহাগ্রন্থ বা শাস্ত্রীয়গ্রন্থ। আরববিশ্বের অসংখ্য ও অগণিত পরিভাষার মধ্যে আরবিভাষার রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাটি উপাসনামূলক একটি অনন্য ও অনুপম পরিভাষা। আলোচ্য পরিভাষাটি কুরানীদের একটি অন্যতম শাস্ত্রীয় সংস্কারো বটে। এটা পারস্য রূপকারগণের বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিরল অনন্য ও অনুপম শাস্ত্রীয়সংস্কার।
শাস্ত্রীয়সত্তাদি ও সংস্কারাদির শাস্ত্রীয় উপাসনা অনুষ্ঠান ও অলৌকিক
গল্পকাহিনি জানার পর উক্ত পরিভাষাদির প্রকৃত তথ্য, তত্ত্ব ও প্রকৃত তাৎপর্য
জানাও আমাদের একান্ত প্রয়োজন। এ জন্য আলোচ্য পরিভাষাটির প্রকৃতসত্তা
প্রকৃত অর্থ ও আত্মদর্শনের মূলক উদ্ঘাটনের জন্য নিচে কয়েকটি অভিধান অবিকল
অনুরূপ বা হুবহু তুলে ধরা হলো। অতঃপর সম্যক পর্যালোচনা শেষে সঠিক সমাধান
প্রদানের চেষ্টা করা হলো।
ফার্সি রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাটির অনুবাদাদি
১. উর্দু-বাংলা অভিধান (ফ’রহঙ্গ-ই-রব্বানি)।
ﺮﻮﺯﻩ (রোযা) ফাঃ নাঃ পুংঃ; রোজা, উপবাস।
১. উর্দু-বাংলা অভিধান (ফ’রহঙ্গ-ই-রব্বানি)।
ﺮﻮﺯﻩ (রোযা) ফাঃ নাঃ পুংঃ; রোজা, উপবাস।
২. আরবি ফার্সি তুর্কি হিন্দি উর্দু শব্দের অভিধান (বাংলা একাডেমি)।
অত্র অভিধানে রোজা পরিভাষাটি সংকলন করাই হয়নি।
অত্র অভিধানে রোজা পরিভাষাটি সংকলন করাই হয়নি।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (বাংলা একাডেমি)।
রোজা, রোযা বি ইসলামী শাস্ত্রীয়বিধি অনুসারে উপবাস, উষাকালের সামান্য পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্ব প্রকার আহার ও যৌনমিলন থেকে সম্পূর্ণ বিরতি {ফা.ﺮﻮﺯﻩ}
রোজা, রোযা বি ইসলামী শাস্ত্রীয়বিধি অনুসারে উপবাস, উষাকালের সামান্য পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্ব প্রকার আহার ও যৌনমিলন থেকে সম্পূর্ণ বিরতি {ফা.ﺮﻮﺯﻩ}
*. উর্দু-বাংলা অভিধান (ফ’রহাঙ্গ-কাসেমী)।*
ﺮﻮﺯﻩ (রোযা) ফাঃ নাঃ পুংঃ; রোজা, সাওম, রোজার দিন, উপবাস।
ﺮﻮﺯﻩ (রোযা) ফাঃ নাঃ পুংঃ; রোজা, সাওম, রোজার দিন, উপবাস।
অভিধানাদি হতে প্রাপ্ত পরিভাষাদি
“রোজা, উপবাস, ইসলামী শাস্ত্রীয়বিধি অনুসারে উপবাস, উষাকালের সামান্য পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্ব প্রকার আহার ও যৌনমিলন থেকে সম্পূর্ণ বিরতি।”
“রোজা, উপবাস, ইসলামী শাস্ত্রীয়বিধি অনুসারে উপবাস, উষাকালের সামান্য পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্ব প্রকার আহার ও যৌনমিলন থেকে সম্পূর্ণ বিরতি।”
পর্যালোচনা (The discussion)
ওপরোক্ত শব্দাদির মধ্যে কেবল উপবাস ব্যতীত অন্য একটিও ফার্সি রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাটির বাংলা অনুবাদ নয়। প্রথম ‘রোজা’ পরিভাষাটি ফার্সি রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাটির বঙ্গানুবাদ নয়। দ্বিতীয় ‘উপবাস’ ফার্সি রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাটির একটি রূপকপরিভাষা। ‘ ইসলামী শাস্ত্রীয়বিধি অনুসারে উপবাস, উষাকালের সামান্য পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্ব প্রকার আহার ও যৌনমিলন থেকে সম্পূর্ণ বিরতি’ এ অংশটি ফার্সি রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাটির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা মাত্র।
ওপরোক্ত শব্দাদির মধ্যে কেবল উপবাস ব্যতীত অন্য একটিও ফার্সি রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাটির বাংলা অনুবাদ নয়। প্রথম ‘রোজা’ পরিভাষাটি ফার্সি রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাটির বঙ্গানুবাদ নয়। দ্বিতীয় ‘উপবাস’ ফার্সি রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাটির একটি রূপকপরিভাষা। ‘ ইসলামী শাস্ত্রীয়বিধি অনুসারে উপবাস, উষাকালের সামান্য পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্ব প্রকার আহার ও যৌনমিলন থেকে সম্পূর্ণ বিরতি’ এ অংশটি ফার্সি রোজা (ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাটির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা মাত্র।
সমাধান (Solution)
রোজা [ﺭﻭﺯﻩ] (রূপ)বি ১.কর্ম, বৃত্তি, উপায়, পন্থা, আয়ের মাধ্যম, অর্থ উপার্জনের পথ ২.ভাগ্য, নিয়তি, কপাল, ভাল, কপালের লেখন, দৈনিক আয়, প্রত্যাহিক উপার্জন, দৈনিক বেতন, প্রতিদিনের পারিশ্রমিক (বাসং)বি উপোস, উপবাস, অনশন, উপোসন, অনাহার (প্র) ১.পুরাণী মুনীষীদের রূপকবর্ণনা মতে এক সন্ধ্যাকাল হতে অন্য সন্ধ্যাকালের পর যে দেবতার জন্য উপোস রাখা হয়েছে সে দেবতার পূজা শেষ হওয়ার পর পর্যন্ত উপোসব্রত পালন ২.কুরানী মনীষীদের রূপকবর্ণনা মতে প্রভাত হতে সন্ধ্যা উপবাসব্রত পালন করা ৩.আত্মতাত্ত্বিক ও মরমী মনীষীদের মতে উষা হতে অর্যমা পর্যন্ত কামযজ্ঞে জননপথে শুক্র নিক্ষেপ না করা (পরি) রজস্বলাদের জোয়ার চলাকালীন তিনদিন মৈথুনক্রিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এ তিনদিনই কামব্রত হতে আন্তর্জাতিক ছুটি বা বিরতি (আবি)বি মৈথুনক্রিয়ায় জন্মনালিতে শুক্রপাত না করাকেই আত্মদর্শন বা আধ্যাত্মিকবিদ্যা বা রূপকসাহিত্যে রূপকার্থে অনশন বা উপোস বলা হয়। পুরো পবিত্রতার ২৭ দিন শুক্রপাতহীন গমনাগমন করে মানবদেহ হতে অমৃত ও সুধা নামক জীবজল আহরণ করা হয় (আপ)বি সিয়াম (ﺼﻴﺎﻢ) (রূ)বি উপোস {ফা.রাউঝ.ﺮﻮﺯ;}
রোজা [ﺭﻭﺯﻩ] (রূপ)বি ১.কর্ম, বৃত্তি, উপায়, পন্থা, আয়ের মাধ্যম, অর্থ উপার্জনের পথ ২.ভাগ্য, নিয়তি, কপাল, ভাল, কপালের লেখন, দৈনিক আয়, প্রত্যাহিক উপার্জন, দৈনিক বেতন, প্রতিদিনের পারিশ্রমিক (বাসং)বি উপোস, উপবাস, অনশন, উপোসন, অনাহার (প্র) ১.পুরাণী মুনীষীদের রূপকবর্ণনা মতে এক সন্ধ্যাকাল হতে অন্য সন্ধ্যাকালের পর যে দেবতার জন্য উপোস রাখা হয়েছে সে দেবতার পূজা শেষ হওয়ার পর পর্যন্ত উপোসব্রত পালন ২.কুরানী মনীষীদের রূপকবর্ণনা মতে প্রভাত হতে সন্ধ্যা উপবাসব্রত পালন করা ৩.আত্মতাত্ত্বিক ও মরমী মনীষীদের মতে উষা হতে অর্যমা পর্যন্ত কামযজ্ঞে জননপথে শুক্র নিক্ষেপ না করা (পরি) রজস্বলাদের জোয়ার চলাকালীন তিনদিন মৈথুনক্রিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এ তিনদিনই কামব্রত হতে আন্তর্জাতিক ছুটি বা বিরতি (আবি)বি মৈথুনক্রিয়ায় জন্মনালিতে শুক্রপাত না করাকেই আত্মদর্শন বা আধ্যাত্মিকবিদ্যা বা রূপকসাহিত্যে রূপকার্থে অনশন বা উপোস বলা হয়। পুরো পবিত্রতার ২৭ দিন শুক্রপাতহীন গমনাগমন করে মানবদেহ হতে অমৃত ও সুধা নামক জীবজল আহরণ করা হয় (আপ)বি সিয়াম (ﺼﻴﺎﻢ) (রূ)বি উপোস {ফা.রাউঝ.ﺮﻮﺯ;}
উপোসের পরিচয় (Identity of fasting)
উপোস তাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যাকে আরবিভাষায় সিয়াম (ﺼﻴﺎﻢ) এবং ফার্সিভাষায় রোজা (ﺭﻭﺯﻩ) বলে। বিভিন্ন শাস্ত্রীয় সংস্কারের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার উপবাসব্রত পালনের ভিন্নভিন্ন নিয়মাবলী লক্ষ্য করা যায়। যেমন- জোড় উপোস, বেজোড় উপোস, তিন উপোস, ছয় উপোস, দশ উপোস ও তিরিশ উপোস ইত্যাদি। উপোসব্রতের প্রচলন বিভিন্ন শাস্ত্রীয় সংস্কারাদির মধ্যে ভিন্নভিন্ন দেখা যায়। কিন্তু আত্মদর্শন বা আধ্যাত্মিকবিদ্যায় প্রকৃত উপোসব্রত হলো ‘রজকাল’। অর্থাৎ রজস্বলাদের জোয়ার চলাকালীন সময়ের মধ্যে গমনাগমন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সারাবিশ্বের সব রমণীর প্রতি লক্ষ্য করে বাংভারতীয় সাধু সন্ন্যাসীগণ গড়ে সাড়েতিনদিন সময়কে এবং পার্সিয়ান দরবেশগণ গড়ে তিনদিন সময়কে রজকাল বলে থাকেন। ফলে বাংভারতীয় শাস্ত্রীয় সংস্কারবাদিদের মতে বার্ষিক উপোস মোট ৪২টি এবং পার্সিয়ান শাস্ত্রীয় সংস্কারবাদিদের মতে বার্ষিক উপোস মোট (৩×১২) বা ৩৬টি। এ জন্য বাংভারতীয় ও পার্সিয়ানদের উপোসব্রত সংস্কারের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন- বাংভারতীয় শাস্ত্রীয় সংস্কারাদির মধ্যে প্রতিমাসের উপোস প্রতিমাসেই রেখে দেয়া হয়েছে এবং একমাসে তিনটি (৩) ও অন্য মাসে চারটি (৪) উপোসব্রত পালনের নীতিমালা বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু কুরানীদের শাস্ত্রীয় সংস্কারের মধ্যে ত্রিশটি (৩০) উপোসব্রতকে এক মাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ছয়টি (৬) উপোসব্রতকে পরবর্তিমাস বা অন্য যে কোন মাসে সমাপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। তাপন ও বিরতি এ দু’টি মূল উপাসনার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের অন্যান্য শাস্ত্রীয় সংস্কারাদির অন্যান্য উপাসনার রূপকতত্ত্ব নির্মাণ করা হয়েছে বলে আমরা শুধু উক্ত দু’টি উপাসনার রূপকসংস্কারের মূলভিত্তি আলোচনা করেই বক্তব্য শেষ করেছি।
উপোস তাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যাকে আরবিভাষায় সিয়াম (ﺼﻴﺎﻢ) এবং ফার্সিভাষায় রোজা (ﺭﻭﺯﻩ) বলে। বিভিন্ন শাস্ত্রীয় সংস্কারের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার উপবাসব্রত পালনের ভিন্নভিন্ন নিয়মাবলী লক্ষ্য করা যায়। যেমন- জোড় উপোস, বেজোড় উপোস, তিন উপোস, ছয় উপোস, দশ উপোস ও তিরিশ উপোস ইত্যাদি। উপোসব্রতের প্রচলন বিভিন্ন শাস্ত্রীয় সংস্কারাদির মধ্যে ভিন্নভিন্ন দেখা যায়। কিন্তু আত্মদর্শন বা আধ্যাত্মিকবিদ্যায় প্রকৃত উপোসব্রত হলো ‘রজকাল’। অর্থাৎ রজস্বলাদের জোয়ার চলাকালীন সময়ের মধ্যে গমনাগমন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সারাবিশ্বের সব রমণীর প্রতি লক্ষ্য করে বাংভারতীয় সাধু সন্ন্যাসীগণ গড়ে সাড়েতিনদিন সময়কে এবং পার্সিয়ান দরবেশগণ গড়ে তিনদিন সময়কে রজকাল বলে থাকেন। ফলে বাংভারতীয় শাস্ত্রীয় সংস্কারবাদিদের মতে বার্ষিক উপোস মোট ৪২টি এবং পার্সিয়ান শাস্ত্রীয় সংস্কারবাদিদের মতে বার্ষিক উপোস মোট (৩×১২) বা ৩৬টি। এ জন্য বাংভারতীয় ও পার্সিয়ানদের উপোসব্রত সংস্কারের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন- বাংভারতীয় শাস্ত্রীয় সংস্কারাদির মধ্যে প্রতিমাসের উপোস প্রতিমাসেই রেখে দেয়া হয়েছে এবং একমাসে তিনটি (৩) ও অন্য মাসে চারটি (৪) উপোসব্রত পালনের নীতিমালা বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু কুরানীদের শাস্ত্রীয় সংস্কারের মধ্যে ত্রিশটি (৩০) উপোসব্রতকে এক মাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ছয়টি (৬) উপোসব্রতকে পরবর্তিমাস বা অন্য যে কোন মাসে সমাপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। তাপন ও বিরতি এ দু’টি মূল উপাসনার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের অন্যান্য শাস্ত্রীয় সংস্কারাদির অন্যান্য উপাসনার রূপকতত্ত্ব নির্মাণ করা হয়েছে বলে আমরা শুধু উক্ত দু’টি উপাসনার রূপকসংস্কারের মূলভিত্তি আলোচনা করেই বক্তব্য শেষ করেছি।
অবকাশ (সিয়াম.ﺼﻴﺎﻡ) ও উপবাস (রোজা.ﺮﻮﺯﻩ) পরিভাষাদ্বয়ের সমন্বয়
(The combinations of vacation and fasting two terminology)
রজস্বলাদের রজকালে কামব্রত হতে বিরত থাকা প্রাকৃতিক সাধারণ অবকাশ বা আন্তর্জাতিক সাধারণ অবকাশ। এ সাধারণ অবকাশটি শুধু কুরানী বা পুরাণীদের পৃথক পৃথক নয় বরং সারাবিশ্বের সবার জন্যই সমান। বিশ্বের সব মানুষ সমানভাবে এ অবকাশের অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া উষার প্রথম প্রতিপদ হতে অর্যমার শেষদিন পর্যন্ত জননপথে শুক্রনিক্ষেপ না করা সাধু সন্ন্যাসীগণের বিশেষ অবকাশ বা বিশেষ বিরতি বা বিশেষ উপোস।
(The combinations of vacation and fasting two terminology)
রজস্বলাদের রজকালে কামব্রত হতে বিরত থাকা প্রাকৃতিক সাধারণ অবকাশ বা আন্তর্জাতিক সাধারণ অবকাশ। এ সাধারণ অবকাশটি শুধু কুরানী বা পুরাণীদের পৃথক পৃথক নয় বরং সারাবিশ্বের সবার জন্যই সমান। বিশ্বের সব মানুষ সমানভাবে এ অবকাশের অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া উষার প্রথম প্রতিপদ হতে অর্যমার শেষদিন পর্যন্ত জননপথে শুক্রনিক্ষেপ না করা সাধু সন্ন্যাসীগণের বিশেষ অবকাশ বা বিশেষ বিরতি বা বিশেষ উপোস।
যদি কেউ এ বিশেষ বিরতি বা বিশেষ অবকাশটি পালন করেন তবে তিনি সাঁইরাত্রির
(শবেবরাত. ﺸﺑﻰ ﺑﺭﺍﺀﺓ) সাঁইসাধন দ্বারা সুধারস এবং কাঁইরাত্রির (শবেক্বদর.
ﺸﺑﻰ ﻘﺪﺭ) কাঁইসাধন দ্বারা মধুরস আহরণ করে তা পান করে জীবকুল হতে
প্রতীতিকুলে পদার্পণ করতে পারেন। সার্বক্ষণিক এ ব্রতদ্বয় সম্পাদনের দ্বারা
সে ব্যক্তি প্রতীতিকুল হতে ঈশ্বরকুলে পদার্পণও করতে পারেন। কিন্তু বিশেষ
অবকাশটি পালন না করলে অর্থাৎ জননপথে শুক্রপাত করলে পরবর্তিকালে জীবজলরূপ
অমৃত ও মধু আহরণ করা কোনক্রমেই সম্ভব নয়। অর্থাৎ কামব্রত সম্পাদন করতে গিয়ে
শুক্ররুদ্ধরূপ অবকাশ পালন করলে অমৃতরূপ ও মধুরূপ জীবজল বেতনরূপে পাওয়া
যায়। বাস্তবে দেখা যায় অবকাশ কাটালে বেতন নাই কিন্তু আধ্যাত্মিকবিদ্যায়
দেখা যায় বিশেষ অবকাশ কাটালে পরিপূর্ণ বেতন পাওয়া যায়। স্বভাবকর্ম করলে
বেতন নাই অবকাশ কাটালে বেতন পাওয়া যায়।
পবিত্র লালন হতে রোজার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of fasting from pure Lalon)
১. “আগে শরিয়ত জেনে যাও হাক্বিক্বতের ঘরে, রোজা আর নামাজ শরিয়তের কাজ, আসল শরিয়ত বলছ কারে” (পবিত্র লালন- ৭৮/১)।
২. “ত্বরিক্ব দিচ্ছে নবি জাহির বাতিনে, যথাযোগ্য লায়েক্ব চিনে, রোজা আর নামাজ- ব্যক্ত এ কাজ, গুপ্তপথ মিলে ভক্তির সন্ধানে” (পবিত্র লালন- ১৬০/২)।
৩. “না করলে নামাজ রোজা, হাশরে হয় ভীষম সাজা, চল্লিশ বছর নামাজ ক্বাজা, করেছেন রাসুল দয়াময়” (পবিত্র লালন- ৮০৯/৩)।
৪. “নামাজ রোজা কালিমা জাকাত, তা করলে হয় শরিয়ত, শরা ক্ববুল করে, ভাবে বুঝা যায়- কালিমা শরিয়ত নয়, কালিমার পরমার্থ থাকতে পারে” (পবিত্র লালন- ৭৮/২)।
৫. “বলো কোন্ নামাজে, খোদার দিদার হয়, নামাজ পড় রোজা করো, কেবলি দোজখের ভয়” (পবিত্র লালন- ৬৮০/১)।
৬. “বিসমিল্লার দম্ভ ভারী, নামাজ রোজা তার সিঁড়ি, খায় রাত্রিদিনে পাঁচ আড়ি, ছিঁড়ল দড়া আচম্বিতে” (পবিত্র লালন- ১৩১/৩)।
৭. “রোজা করো নামাজ পড়, নূর নবিজির ত্বরিক্ব ধর, নবির ত্বরিক্ব যদি ছাড়, ঠেকবিরে রোজহাশরেতে” (পবিত্র লালন- ১৮৬/২)।
৮. “রোজা নামাজ কালিমা জাকাত, তা করলে হয় শরিয়ত, শরা ক্ববুল করে, ভাবে বুঝা যায়- কালিমা শরিয়ত নয়, শরিয়তের পরমার্থ থাকতে পারে” (পবিত্র লালন- ৮৮২/২)।
৯. “রোজা নামাজ বেহেস্তের ভজন, তাই করে কী পাবে সেধন, বিনয় করে বলছে লালন, থাকতে পারে ভেদ গুরুর ঠাঁই” (পবিত্র লালন- ১৮৭/৪)।
১০. “রোজা পূজা করলে সবে, আপ্তসুখের কার্য হবে, সাঁইয়ের করণ সহি পড়বে, ভাবে তাই” (পবিত্র লালন- ৮৯১/২)।
১১. “রোজা পূজা জাতির আচার, মন যদি চাস কররে এবার, বিজাতির কাজ বেদান্তর, মায়াবাদির কার্য নয়” (পবিত্র লালন ৩৫৭/৩)।
১২. “রোজা রাখো নামাজ পড়ো, কালিমা হজ জাকাত করো, তবে কী হবি পার, পাবি কী বেহেস্তখানা” (পবিত্র লালন- ৮৭৭/৩)।
১৩. “শরিয়ত জ্ঞানবুদ্ধি শান্ত করে, কেমন করে, রোজা নামাজ শরিয়তের কাজ, আসল শরিয়ত বলছ কারে” (পবিত্র লালন- ৮৮২/১)।
(Some highly important quotations of fasting from pure Lalon)
১. “আগে শরিয়ত জেনে যাও হাক্বিক্বতের ঘরে, রোজা আর নামাজ শরিয়তের কাজ, আসল শরিয়ত বলছ কারে” (পবিত্র লালন- ৭৮/১)।
২. “ত্বরিক্ব দিচ্ছে নবি জাহির বাতিনে, যথাযোগ্য লায়েক্ব চিনে, রোজা আর নামাজ- ব্যক্ত এ কাজ, গুপ্তপথ মিলে ভক্তির সন্ধানে” (পবিত্র লালন- ১৬০/২)।
৩. “না করলে নামাজ রোজা, হাশরে হয় ভীষম সাজা, চল্লিশ বছর নামাজ ক্বাজা, করেছেন রাসুল দয়াময়” (পবিত্র লালন- ৮০৯/৩)।
৪. “নামাজ রোজা কালিমা জাকাত, তা করলে হয় শরিয়ত, শরা ক্ববুল করে, ভাবে বুঝা যায়- কালিমা শরিয়ত নয়, কালিমার পরমার্থ থাকতে পারে” (পবিত্র লালন- ৭৮/২)।
৫. “বলো কোন্ নামাজে, খোদার দিদার হয়, নামাজ পড় রোজা করো, কেবলি দোজখের ভয়” (পবিত্র লালন- ৬৮০/১)।
৬. “বিসমিল্লার দম্ভ ভারী, নামাজ রোজা তার সিঁড়ি, খায় রাত্রিদিনে পাঁচ আড়ি, ছিঁড়ল দড়া আচম্বিতে” (পবিত্র লালন- ১৩১/৩)।
৭. “রোজা করো নামাজ পড়, নূর নবিজির ত্বরিক্ব ধর, নবির ত্বরিক্ব যদি ছাড়, ঠেকবিরে রোজহাশরেতে” (পবিত্র লালন- ১৮৬/২)।
৮. “রোজা নামাজ কালিমা জাকাত, তা করলে হয় শরিয়ত, শরা ক্ববুল করে, ভাবে বুঝা যায়- কালিমা শরিয়ত নয়, শরিয়তের পরমার্থ থাকতে পারে” (পবিত্র লালন- ৮৮২/২)।
৯. “রোজা নামাজ বেহেস্তের ভজন, তাই করে কী পাবে সেধন, বিনয় করে বলছে লালন, থাকতে পারে ভেদ গুরুর ঠাঁই” (পবিত্র লালন- ১৮৭/৪)।
১০. “রোজা পূজা করলে সবে, আপ্তসুখের কার্য হবে, সাঁইয়ের করণ সহি পড়বে, ভাবে তাই” (পবিত্র লালন- ৮৯১/২)।
১১. “রোজা পূজা জাতির আচার, মন যদি চাস কররে এবার, বিজাতির কাজ বেদান্তর, মায়াবাদির কার্য নয়” (পবিত্র লালন ৩৫৭/৩)।
১২. “রোজা রাখো নামাজ পড়ো, কালিমা হজ জাকাত করো, তবে কী হবি পার, পাবি কী বেহেস্তখানা” (পবিত্র লালন- ৮৭৭/৩)।
১৩. “শরিয়ত জ্ঞানবুদ্ধি শান্ত করে, কেমন করে, রোজা নামাজ শরিয়তের কাজ, আসল শরিয়ত বলছ কারে” (পবিত্র লালন- ৮৮২/১)।
অবকাশ (সিয়াম.ﺼﻴﺎﻡ) ও বেতন (রোজা.ﺮﻮﺯﻩ) সাধনের সময়সীমা
(Vacation and fasting practicing deadlines)
কুরানী মনীষীদের রূপকবর্ণনা মতে প্রত্যুষ হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইন্দ্র ও রসনা বিরতিই হলো অবকাশ বা সিয়াম (ﺼﻴﺎﻡ) সাধনা। তারা আরো বলে থাকেন নির্ধারিত মাসে ত্রিশটি (৩০) উপোস এবং পরবর্তিমাস বা যে কোন মাসে ছয়টি (৬) উপোস, বছরে মোট ছত্রিশটি (৩০ + ৬) = ৩৬ উপোস পালন করলে সারাবছর উপোসব্রত পালন করার পুণ্যলাভ হয়। ব্যাখ্যাস্বরূপ তারা বলেন ছত্রিশটি (৩৬) উপোস পালন করলে প্রতীতিগণ (ফেরেস্তা. ﻔﺮﺸﺗﻪ) উক্ত ছত্রিশ (৩৬) সংখ্যাকে দশ (১০) দ্বারা গুণ করে তিনশোষাটটি (৩৬ × ১০) = ৩৬০ উপোস পরিপূর্ণ করে নেন। সৌরবছর তো তিনশত পঁয়ষট্টি (৩৬৫) দিনে। কিন্তু উপোস হলো তিনশোষাটটি (৩৬০)। তাহলে পাঁচ (৩৬৫- ৩৬০) = ৫ দিন উদ্বৃত্ত হয়। এ পাঁচ (৫) দিন উপোসব্রত পালন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সে নিষিদ্ধ দিবসাদি হলো-
(Vacation and fasting practicing deadlines)
কুরানী মনীষীদের রূপকবর্ণনা মতে প্রত্যুষ হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইন্দ্র ও রসনা বিরতিই হলো অবকাশ বা সিয়াম (ﺼﻴﺎﻡ) সাধনা। তারা আরো বলে থাকেন নির্ধারিত মাসে ত্রিশটি (৩০) উপোস এবং পরবর্তিমাস বা যে কোন মাসে ছয়টি (৬) উপোস, বছরে মোট ছত্রিশটি (৩০ + ৬) = ৩৬ উপোস পালন করলে সারাবছর উপোসব্রত পালন করার পুণ্যলাভ হয়। ব্যাখ্যাস্বরূপ তারা বলেন ছত্রিশটি (৩৬) উপোস পালন করলে প্রতীতিগণ (ফেরেস্তা. ﻔﺮﺸﺗﻪ) উক্ত ছত্রিশ (৩৬) সংখ্যাকে দশ (১০) দ্বারা গুণ করে তিনশোষাটটি (৩৬ × ১০) = ৩৬০ উপোস পরিপূর্ণ করে নেন। সৌরবছর তো তিনশত পঁয়ষট্টি (৩৬৫) দিনে। কিন্তু উপোস হলো তিনশোষাটটি (৩৬০)। তাহলে পাঁচ (৩৬৫- ৩৬০) = ৫ দিন উদ্বৃত্ত হয়। এ পাঁচ (৫) দিন উপোসব্রত পালন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সে নিষিদ্ধ দিবসাদি হলো-
১. নির্বাণোৎসবের (ঈদুলফিতর. ﻋﻴﺪﺍﻟﻔﻄﺮ) দিন
২. মুক্তোৎসবের (ঈদুলআজহা. ﻋﻴﺪ ﺍﻻﺿﺤﻰ) দিন
৩. জিলহজ মাসের নবম দিবস হতে একাদশতম দিবস অর্থাৎ ৯ ১০ ও ১১- এ তিনদিন উপবাসব্রত পালন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২. মুক্তোৎসবের (ঈদুলআজহা. ﻋﻴﺪ ﺍﻻﺿﺤﻰ) দিন
৩. জিলহজ মাসের নবম দিবস হতে একাদশতম দিবস অর্থাৎ ৯ ১০ ও ১১- এ তিনদিন উপবাসব্রত পালন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কুরানী শাস্ত্রীয় মতবাদী পণ্ডিতদের ব্যাখ্যা হলো সৌরবর্ষের তিনশত
পঁয়ষট্টিটি (৩৬৫) দিবসের মধ্যে পাঁচ (৫) দিন উপোসব্রত পালন করা নিষিদ্ধ এবং
ছত্রিশটি (৩৬) উপোসব্রত পালন করলে প্রতীতিগণ দশ (১০) সংখ্যাটি দ্বারা
ছত্রিশ (৩৬) সংখ্যাটিকে গুণ করে পরিপূর্ণ তিনশোষাটটি (৩৬০) উপোসব্রত পালনের
পুণ্য যার যার কর্মগ্রন্থে লিখে দেন।
পরিশেষে বলা যায় প্রকৃত উপোস বা প্রকৃত অবকাশ (অর্থাৎ রজকালে কাম হতে
বিরত থাকা) সবার জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু শাস্ত্রীয় উপোষ শাস্ত্রানুসারী/
শাস্ত্রীয়/ সাম্প্রদায়িকদের জন্য বাধ্যতামূলক।
(সংক্ষিপ্ত)
সূত্রতথ্যঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (১ম খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
সূত্রতথ্যঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (১ম খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন