আশুরা কারবালা ও হুসেন শহিদ (১ম পর্ব)
Ashura Karbala and Hussain Shahid (1st Part)
‘عاشوراء كربلاء والحسين الشهيد (1 جزء)’
Ashura Karbala and Hussain Shahid (1st Part)
‘عاشوراء كربلاء والحسين الشهيد (1 جزء)’
কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy) বা কাল্পনিকতত্ত্ব (Mythology)
আশুরা (عاشوراء) কী?
এটি একটি আরবী পরিভাষা। আরবি ‘ﻋﺸﺮﻩ’ (আশারা) সংখ্যাবাচক পরিভাষা হতে ‘আশেরা’ ও পরে ‘আশেরা হতে ‘আশুরা’ পরিভাষাটির উদ্ভব। সাধারণ ‘ﻋﺸﺮﻩ’ (আশুরা) এর বাংলা অর্থ দশ (১০), দশক, দশজন বা দশটি। অন্যদিকে আরবি ‘عاشوراء’ (আশুরা) পরিভাষাটি দ্বারা কুরানী মুনীষীগণ মুহররম মাসের দশম দিবসকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন।
এটি একটি আরবী পরিভাষা। আরবি ‘ﻋﺸﺮﻩ’ (আশারা) সংখ্যাবাচক পরিভাষা হতে ‘আশেরা’ ও পরে ‘আশেরা হতে ‘আশুরা’ পরিভাষাটির উদ্ভব। সাধারণ ‘ﻋﺸﺮﻩ’ (আশুরা) এর বাংলা অর্থ দশ (১০), দশক, দশজন বা দশটি। অন্যদিকে আরবি ‘عاشوراء’ (আশুরা) পরিভাষাটি দ্বারা কুরানী মুনীষীগণ মুহররম মাসের দশম দিবসকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন।
আশুরার দিন নির্ণয়
আশুরার দিনটি মুহররম মাসের নবম দিন না দশম দিন? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ কুরানী মনীষীর মতে মহররম মাসের ১০ দিবসকে আশুরা বলা হয়। কারণ শব্দের নামকরণ ও ব্যুৎপত্তি, দশ তারিখকেই সমর্থন করে [ফাতহুল বারী, ৪/৩১১]। তাছাড়া আশুরা বিষয়ক হাদিসগুলি দ্বারা দশ তারিখ বুঝা যায়।
আশুরার দিনটি মুহররম মাসের নবম দিন না দশম দিন? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ কুরানী মনীষীর মতে মহররম মাসের ১০ দিবসকে আশুরা বলা হয়। কারণ শব্দের নামকরণ ও ব্যুৎপত্তি, দশ তারিখকেই সমর্থন করে [ফাতহুল বারী, ৪/৩১১]। তাছাড়া আশুরা বিষয়ক হাদিসগুলি দ্বারা দশ তারিখ বুঝা যায়।
ইসলাম পূর্বে আশুরার রোযা
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ الله عنها ، قالت : كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصُومُ عَاشُورَاءَ فَي الجَاهِلِيَّةِ ، وَ كَانَ رسول الله صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ ، فَلمّا هَاجَرَ إلى المدينةِ ، صَامَهُ و أمَرَ بصَوْمِهِ ، فَلمّا فُرِضَ شَهْرُ رَمَضَانَ قال : مَنْ شَاءَ صَامَهُ و مَنْ شَاءَ تَرَكَهُ (رواه مسلم) অর্থঃ আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ কুরাইশ গোত্র জাহেলী যুগে আশুরার রোযা রাখতো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও রোযা রাখতেন। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তিনি নিজে রোযা রাখলেন এবং অন্যদের রোযা রাখার আদেশ করলেন। তারপর যখন রমযান মাসের রোযা ফরয করা হল, তখন তিনি বললেন: “ইচ্ছা হলে রোযা রাখো, না হলে রেখো না।” [মুসলিম, সিয়াম, নং ২৬৩২]
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ الله عنها ، قالت : كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصُومُ عَاشُورَاءَ فَي الجَاهِلِيَّةِ ، وَ كَانَ رسول الله صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ ، فَلمّا هَاجَرَ إلى المدينةِ ، صَامَهُ و أمَرَ بصَوْمِهِ ، فَلمّا فُرِضَ شَهْرُ رَمَضَانَ قال : مَنْ شَاءَ صَامَهُ و مَنْ شَاءَ تَرَكَهُ (رواه مسلم) অর্থঃ আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ কুরাইশ গোত্র জাহেলী যুগে আশুরার রোযা রাখতো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও রোযা রাখতেন। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তিনি নিজে রোযা রাখলেন এবং অন্যদের রোযা রাখার আদেশ করলেন। তারপর যখন রমযান মাসের রোযা ফরয করা হল, তখন তিনি বললেন: “ইচ্ছা হলে রোযা রাখো, না হলে রেখো না।” [মুসলিম, সিয়াম, নং ২৬৩২]
ইসলামে আশুরার রোযা
ইবনে আব্বাস (রাযি) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করলেন, তখন ঈহুদী সম্প্রদায়কে আশুরার দিনে রোযা পালন করতে দেখলেন। তাই তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন- مَا هذا اليومُ الذي تَصُومُونَهُ ؟ قَالوا هذا يَومٌ عَظِيْمٌ ، أنْجى اللهُ فيهِ موسى و قَومَهُ ، وَ غَرَّقَ فِرْعَونَ و قَومَهُ ، فصَامَهُ موسى شكراً . فنحنُ نصومهُ ، فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم : فنحنُ أحَقُّ و أولى بموسى مِنْكُمْ ، فصامَهُ رسُولُ الله صلى الله عليه و سلم ، و أمَرَ بِصِياَمِ (رواه مسلم) “এটা এমন কোন্ দিন, যে দিনে তোমরা রোযায় আছো? তারা বললঃ এটি একটি মহান দিন, আল্লাহ তায়ালা এই দিনে মুসা (আঃ) এবং তাঁর অনুসারীদের লোকজনকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার অনুসারী লোকজনকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। তাই মুসা (আঃ) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোযা রাখেন। অতএব আমরাও রোযা করি। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তাহলে তো মুসা (আঃ) এর ব্যাপারে তোমাদের তুলনায় আমরা বেশি হকদার। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযা রাখেন এবং রোযা রাখার আদেশ দেন [মুসলিম, সিয়াম, নং ২৬৫৩]
ইবনে আব্বাস (রাযি) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করলেন, তখন ঈহুদী সম্প্রদায়কে আশুরার দিনে রোযা পালন করতে দেখলেন। তাই তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন- مَا هذا اليومُ الذي تَصُومُونَهُ ؟ قَالوا هذا يَومٌ عَظِيْمٌ ، أنْجى اللهُ فيهِ موسى و قَومَهُ ، وَ غَرَّقَ فِرْعَونَ و قَومَهُ ، فصَامَهُ موسى شكراً . فنحنُ نصومهُ ، فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم : فنحنُ أحَقُّ و أولى بموسى مِنْكُمْ ، فصامَهُ رسُولُ الله صلى الله عليه و سلم ، و أمَرَ بِصِياَمِ (رواه مسلم) “এটা এমন কোন্ দিন, যে দিনে তোমরা রোযায় আছো? তারা বললঃ এটি একটি মহান দিন, আল্লাহ তায়ালা এই দিনে মুসা (আঃ) এবং তাঁর অনুসারীদের লোকজনকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার অনুসারী লোকজনকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। তাই মুসা (আঃ) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোযা রাখেন। অতএব আমরাও রোযা করি। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তাহলে তো মুসা (আঃ) এর ব্যাপারে তোমাদের তুলনায় আমরা বেশি হকদার। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযা রাখেন এবং রোযা রাখার আদেশ দেন [মুসলিম, সিয়াম, নং ২৬৫৩]
আশুরার রোযার ফযীলত
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশুরার রোযার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন- يُكَفِّرُ السَّنَةَ المَاضِيَةَ “এটা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা। “অর্থাৎ এর মাধ্যমে বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা হয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশুরার রোযার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন- يُكَفِّرُ السَّنَةَ المَاضِيَةَ “এটা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা। “অর্থাৎ এর মাধ্যমে বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা হয়।
আশুরার রোযার হুকুম
ইমাম নবভী বলেন: “উলামাগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আশুরার রোযা সুন্নত। ওয়াজিব (আবশ্যক) নয় [শারহ মুসলিম,৭-৮/২৪৫] কারণ একাধিক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান মাসের রোযা ফরয হওয়ার পর এই রোযার সম্পর্কে বলেছেন: “যার ইচ্ছা রোযা রাখবে আর যার ইচ্ছা রাখবে না।
ইমাম নবভী বলেন: “উলামাগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আশুরার রোযা সুন্নত। ওয়াজিব (আবশ্যক) নয় [শারহ মুসলিম,৭-৮/২৪৫] কারণ একাধিক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান মাসের রোযা ফরয হওয়ার পর এই রোযার সম্পর্কে বলেছেন: “যার ইচ্ছা রোযা রাখবে আর যার ইচ্ছা রাখবে না।
আশুরার রোযা কয়টি?
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুহররম মাসের দশম তারিখে (আশুরার দিনে) রোযা রাখতেন, যেমন পূর্বে বর্ণিত হাদীসগুলিতে এবং অন্যান্য একাধিক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুর পূর্বে নবম তারিখেও রোযা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা করার ইচ্ছা করেন তাও সুন্নত।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুহররম মাসের দশম তারিখে (আশুরার দিনে) রোযা রাখতেন, যেমন পূর্বে বর্ণিত হাদীসগুলিতে এবং অন্যান্য একাধিক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুর পূর্বে নবম তারিখেও রোযা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা করার ইচ্ছা করেন তাও সুন্নত।
ইবনে আব্বাস (রা:)
বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার রোযা রাখেন এবং
অন্যদের রাখার আদেশ করেন, তখন সাহাবাগণ বললেন: এটি একটি এমন দিন যাকে ইহুদী
ও খ্রিস্টানেরা সম্মান করে থাকে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেন: “আগামী বছর আসলে ইনশাআল্লাহ নবম তারিখেও রোযা রাখবো।” হাদীস
বর্ণনাকারী বলেন: আগামী বছর আসার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম মারা যান [মুসলিম, সিয়াম, হাদীস নং ২৬৬১]
দশ তারিখের সাথে নয় তারিখেও রোযা রাখার কারণ সম্পর্কে কিছু আলেম বলেন:
শুধু দশ তারিখে রোযা রাখলে ইহুদীদের সাদৃশ্য হয়। তাই তিনি (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন করার ইচ্ছা করেছিলেন [শারহু মুসলিম,
নবভী,৭-৮/২৫৪]
অতএব বুঝা গেল, আশুরার রোযা হবে দুটি: নবম এবং দশম তারিখ। আর এটিই হচ্ছে
আশুরার রোযার উৎকৃষ্ট স্তর। কারণ এর সমর্থনে সহীহ প্রমাণ বিদ্যমান। অনুরূপ
শুধু দশম তারিখে একটি রোযাও রাখা যেতে পারে। কারণ এটিই ছিল নবীজী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আমল। তবে উলামাগণ এটিকে আশুরার রোযার
নিম্নস্তর বলেছেন।
উল্লেখ থাকে যে, অনেকে আশুরার রোযাসহ তার পূর্বে ও পরে আরও একটি অর্থাৎ
মোট তিনটি রোযা রাখাকে সর্ব্বোত্তম স্তর বলেছেন [ফতহুল্ বারী, ৪/৩১১-১২/
নায়লুল আউতার, ৩-৪/৭৩৩/ তুহফাতুল আহ ওয়াযী,৩/৩৮২] আশুরার রোযার সাথে
হুসেন (রাযিঃ) এর শাহাদাতের কোন সম্পর্ক আছে কী?
অনেককে এই দিনে রোযা রাখার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলতে শুনা যায়: এই দিনে হুসেন (রা:)শহীদ হয়েছিলেন তাই আমরা রোযা আছি। দ্বীনের বিষয়ে এটি একটি বিরাট অজ্ঞতা।
সাধারণ লোকদের এই উত্তরের পিছনে আছে শিয়া সম্প্রদায়ের কৃতিত্ব। যেহেতু
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দৌহিত্র হুসেন (রা:) এ দিনে ইরাকের কারবালা মাঠে মর্মান্তিকভাবে শহিদ হয়েছিলেন। তাই শিয়ারা এ
দিনটিকে শোকদিবস রূপে বিভিন্ন কার্যকলাপের মাধ্যমে উদযাপন করে থাকে। দেশে
তাদের কর্মসূচিগুলি রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে সরকারিভাবে প্রচার করা হয়।
এমনকি এ দিনে সরকারি ছুটিও থাকে। তাই সাধারণ লোকদের নিকট এই দিনটির পরিচয়
এবং মর্যাদার কারণ হচ্ছে, হুসেন (রা:) এর শাহাদত। আর এ কারণেই হয়ত: তারা বলে থাকে যে, হুসেন (রা:) শহিদ হয়েছিলেন তাই রোযা করছি।
কুরানীদের এটি একটি বিরাট ভুল ধারণা। কারণ যেদিন নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম মারা গেছেন সেদিন থেকে সমস্ত অহী (প্রত্যাদেশ) বন্ধ
হয়ে গেছে- যার মাধ্যমে ইসলামের আদেশ-নিষেধ আসতো। ইসলাম পূর্ণতালাভ করার
পরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাই তাঁর মৃত্যুর পর ইসলামের নামে কোন বিধান
আবিষ্কৃত হবে না। কেউ এমন করলে তা বিদাত (দ্বীনের নামে নতুন বিধান) হবে- যা
প্রত্যাখ্যাত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- مَنْ أَحْدَثَ
فِي أمْرِنَا هذا ما ليسَ مِنهُ فَهُوِ ردٌّ ( بخاري و مسلم) “যে ব্যক্তি
আমাদের এই মতবাদে নতুন কিছু আবিষ্কার করলো যা- এর অংশ নয় তা
প্রত্যাখ্যাত।” [বুখারী, মুসলিম] তাই যারা এ ইচ্ছায় উপোস করে থাকে যে, এ
দিনে হুসেন (রা:)
মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তাহলে তাদের উপোস তো হবেই না বরং তাদের এসব শাস্ত্রীয়
কর্ম বিদাতে পরিণত হবে। কারণ আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে ইবাদত করা
শিরক। মুহররম ও আশুরাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত কিছু বিদাত-
১- ঢোল-বাজনা, লাঠিখেলা এবং অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে মুহররম উদযাপন করা।
২- তাজিয়া তৈরি করা এবং তাজিয়াকে সম্মান করা।
৩- মাতম করত: কালোজামা এবং ধারালো অস্ত্র দ্বারা শরীরকে ক্ষত-বিক্ষত করা।
৪- কারবালার ঘটনাকে স্মরণ করে মুরছিয়া গাওয়া ইত্যাদি।
(তথ্যসূত্রঃ ফেসবুক- Islamer Alo)
————————————————————-
আত্মদর্শন (Theosophy) বা আত্মতত্ত্ব (Theology)
আমাদের আলোচ্য ‘عاشوراء’ (আশুরা) পরিভাষাটি যেহেতু আরবি রূপক পরিভাষা। সেহেতু এর বাংলা অনুবাদও করতে হবে বাংলা রূপক পরিভাষা দ্বারা। ‘عاشوراء’ (আশুরা) এর বাংলা অনুবাদ- প্রথমপ্রহর। এ জন্য আমরা প্রথমপ্রহর পরিভাষাটির অনুকুলেই আরবি ‘عاشوراء’ (আশুরা) পরিভাষাটির বর্ণনা তুলে ধরার চেষ্টা করব।
১- ঢোল-বাজনা, লাঠিখেলা এবং অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে মুহররম উদযাপন করা।
২- তাজিয়া তৈরি করা এবং তাজিয়াকে সম্মান করা।
৩- মাতম করত: কালোজামা এবং ধারালো অস্ত্র দ্বারা শরীরকে ক্ষত-বিক্ষত করা।
৪- কারবালার ঘটনাকে স্মরণ করে মুরছিয়া গাওয়া ইত্যাদি।
(তথ্যসূত্রঃ ফেসবুক- Islamer Alo)
————————————————————-
আত্মদর্শন (Theosophy) বা আত্মতত্ত্ব (Theology)
আমাদের আলোচ্য ‘عاشوراء’ (আশুরা) পরিভাষাটি যেহেতু আরবি রূপক পরিভাষা। সেহেতু এর বাংলা অনুবাদও করতে হবে বাংলা রূপক পরিভাষা দ্বারা। ‘عاشوراء’ (আশুরা) এর বাংলা অনুবাদ- প্রথমপ্রহর। এ জন্য আমরা প্রথমপ্রহর পরিভাষাটির অনুকুলেই আরবি ‘عاشوراء’ (আশুরা) পরিভাষাটির বর্ণনা তুলে ধরার চেষ্টা করব।
প্রথমপ্রহর কী?
(What is First period) (হুয়াট ইজ ফাস্ট পিরিওড)
“ما هي الفترة الأولى؟” (মা হিয়া আলফাতরা আলয়াওয়ালি) অর্থাৎ
“ما هو عاشوراء؟” (মা হুয়া আশুরায়ি)
(What is First period) (হুয়াট ইজ ফাস্ট পিরিওড)
“ما هي الفترة الأولى؟” (মা হিয়া আলফাতরা আলয়াওয়ালি) অর্থাৎ
“ما هو عاشوراء؟” (মা হুয়া আশুরায়ি)
প্রথমপ্রহর
First Period (ফাস্ট পিরিওড)/
‘أول ساعة’ (আওয়াল সায়াত)
First Period (ফাস্ট পিরিওড)/
‘أول ساعة’ (আওয়াল সায়াত)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির মূলক-পরিবারের একটি অন্যতম ‘মূলকসদস্য’ এবং ‘প্রথমপ্রহর’ পরিবার প্রধানবিশেষ। এর রূপক পরিভাষা ‘ঊষা’ উপমান পরিভাষা ‘সকাল’, চারিত্রিক পরিভাষা ‘আদিত্য’ এবং ছদ্মনাম পরিভাষা ‘প্রতিপদ’। এটি একটি ‘উপমান-প্রধান’ সত্তা।
প্রথমপ্রহরের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন
(Short Reports of the ‘First Period’)
মূলক= রূপক= উপমান= চারিত্রিক= ছদ্মনাম
প্রথমপ্রহর= ঊষা= সকাল= আদিত্য = প্রতিপদ
মূলক সদস্য : প্রথমপ্রহর
রূপক পরিভাষা : ঊষা
উপমান পরিভাষা : সকাল
চারিত্রিক পরিভাষা : আদিত্য
ছদ্মনাম পরিভাষা : প্রতিপদ
বাংলা= ইংরেজি= আরবি=
প্রথমপ্রহর= First period (ফাস্ট পিরিওড)= ‘أول ساعة’ (আওয়াল সায়াত)
ঊষা= Aurora (অরোরা)= ‘ﻔﺠﺮ’ (ফাজারা)
সকাল= Morning (মর্নিং)= ‘صباح’ (সাবহা)
আদিত্য= Helio (হিলিও)= ‘مشمس’ (মুশমিস)
প্রতিপদ= Retrograde (রিটরোগ্রেড)= ‘تقهقري’ (তাক্বাহকুরি)
(Short Reports of the ‘First Period’)
মূলক= রূপক= উপমান= চারিত্রিক= ছদ্মনাম
প্রথমপ্রহর= ঊষা= সকাল= আদিত্য = প্রতিপদ
মূলক সদস্য : প্রথমপ্রহর
রূপক পরিভাষা : ঊষা
উপমান পরিভাষা : সকাল
চারিত্রিক পরিভাষা : আদিত্য
ছদ্মনাম পরিভাষা : প্রতিপদ
বাংলা= ইংরেজি= আরবি=
প্রথমপ্রহর= First period (ফাস্ট পিরিওড)= ‘أول ساعة’ (আওয়াল সায়াত)
ঊষা= Aurora (অরোরা)= ‘ﻔﺠﺮ’ (ফাজারা)
সকাল= Morning (মর্নিং)= ‘صباح’ (সাবহা)
আদিত্য= Helio (হিলিও)= ‘مشمس’ (মুশমিস)
প্রতিপদ= Retrograde (রিটরোগ্রেড)= ‘تقهقري’ (তাক্বাহকুরি)
এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন রূপক সাহিত্যে এর অন্যান্য যেসব পরিভাষা ব্যবহার হয়ে থাকে তা হচ্ছে-
উপমান (Analogical)
অরুণোদয়, পূর্বাহ্ন, প্রত্যুষ, প্রভাত, প্রাতঃ, প্রাতঃকাল, বিয়ান, বিয়ানবেলা, বেয়ান, বেয়ানবেলা, বেহান, বেহানবেলা ও ভোর।
চারিত্রিক (Characteristic)
আর্ক, দিনমুখ, বালশশী ও বালেন্দু।
ছদ্মনাম (Pseudonym)
প্রাহ্ন, সোমবার ও সোমপর্যায়।
উপমান (Analogical)
অরুণোদয়, পূর্বাহ্ন, প্রত্যুষ, প্রভাত, প্রাতঃ, প্রাতঃকাল, বিয়ান, বিয়ানবেলা, বেয়ান, বেয়ানবেলা, বেহান, বেহানবেলা ও ভোর।
চারিত্রিক (Characteristic)
আর্ক, দিনমুখ, বালশশী ও বালেন্দু।
ছদ্মনাম (Pseudonym)
প্রাহ্ন, সোমবার ও সোমপর্যায়।
প্রথমপ্রহর বি সকাল, প্রত্যুষ, ভোর, বিয়ান, First period (ফাস্ট পিরিওড), ‘أول ساعة’ (আওয়াল সায়াত) (প্র) ১.পবিত্রতার প্রথমপ্রহর ২.সাঁই আগমনের সময় (আবি)বি
ঊষা, প্রতিপদ, Aurora (অরোরা), dawn (ডওন), morning (মর্নিং),
‘আ.ﻔﺠﺮ’(ফাজারা), ‘আ.ﻆﻬﺮ’ (জোহর), ‘আ.ﻔﻟﻖ’ (ফালাক্ব), ‘আ.ﺼﺑﺢ’ (সুবহ)
‘আ.ﺑﺭﺍﺀﺓ’ (বারায়াত), ‘ফা.ﺸﺑﻰ ﺑﺭﺍﺀﺓ’ (শবেবরাত), ‘আ.ﺍﻮﻞ ﻮﻗﺖ’ (আওয়াল
ওয়াক্ত) (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘প্রথমপ্রহর’ পরিবার প্রধান ও রূপক সাহিত্যের একটি পরিভাষাবিশেষ (সংজ্ঞা) ১.সব কিছুর প্রথম সময়কে প্রথমপ্রহর বলা হয় ২.রজস্বলাদের শুক্লপক্ষের প্রথম সাড়েতিনদিন সময়কে প্রথমপ্রহর বলা হয় (ছনা)বি প্রতিপদ (চরি)বি আদিত্য (উপ)বি সকাল (রূ)বি ঊষা (দেত)বি প্রথমপ্রহর {বাং.প্রথম+ বাং.প্রহর}
প্রহর (রূপ)বি যাম, তিনঘণ্টা, দিনরাতের এক অষ্টমাংশ (আবি) সাড়েতিন দিন, ৮৪ ঘণ্টা সময়, ২৮দিনে ৮ প্রহর (প্র) ১.স্রাবণ্য ২.ঊষা ৩.নিশা ৪.ঊর্ধ্বা ৫.শংকা ৬.বিপদ ৭.নীরব ৮.নিরাপদ ও ৯.অর্যমা- দেহপঞ্জিকার এ নয়টি প্রহর বিশেষ।
প্রহর (রূপ)বি যাম, তিনঘণ্টা, দিনরাতের এক অষ্টমাংশ (আবি) সাড়েতিন দিন, ৮৪ ঘণ্টা সময়, ২৮দিনে ৮ প্রহর (প্র) ১.স্রাবণ্য ২.ঊষা ৩.নিশা ৪.ঊর্ধ্বা ৫.শংকা ৬.বিপদ ৭.নীরব ৮.নিরাপদ ও ৯.অর্যমা- দেহপঞ্জিকার এ নয়টি প্রহর বিশেষ।
প্রথমপ্রহরের ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(A highly important quotations of First period)
“এরপর থেকে সে দক্ষিণালয়ের ওপর প্রত্যেক দিন নিয়মিতভাবে দুইটা করে ভেড়ার বাচ্চা দক্ষিণা দিতে হবে, তার প্রত্যেকটার বয়স হবে একবছর। একটা দক্ষিণা দিতে হবে সকালবেলায় ও অন্যটা সন্ধ্যাবেলায়। প্রথম ভেড়াটির সঙ্গে এককেজি আটশত গ্রাম মিহি ময়দা প্রায় একলিটার সেচা জলপায়ের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে দক্ষিণা দিতে হবে” (তৌরাত, স্থানান্তর, ২৯/৩৮- ৪০)।
(A highly important quotations of First period)
“এরপর থেকে সে দক্ষিণালয়ের ওপর প্রত্যেক দিন নিয়মিতভাবে দুইটা করে ভেড়ার বাচ্চা দক্ষিণা দিতে হবে, তার প্রত্যেকটার বয়স হবে একবছর। একটা দক্ষিণা দিতে হবে সকালবেলায় ও অন্যটা সন্ধ্যাবেলায়। প্রথম ভেড়াটির সঙ্গে এককেজি আটশত গ্রাম মিহি ময়দা প্রায় একলিটার সেচা জলপায়ের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে দক্ষিণা দিতে হবে” (তৌরাত, স্থানান্তর, ২৯/৩৮- ৪০)।
প্রথমপ্রহরের সংজ্ঞা (Definition of First period)
কোন কিছুর প্রারম্ভিক সময়কেই প্রথমপ্রহর বলে।
প্রথমপ্রহরের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
(Theosophical definition of First period)
রজস্বলাদের রজস্রাব বিদায়ের পর পবিত্রতার প্রথম সাড়েতিন সময়কে প্রথমপ্রহর বলে।
প্রথমপ্রহরের প্রকারভেদ (Classification of First period)
প্রথমপ্রহর তিন প্রকার। যথা- ১.সৌর প্রথমপ্রহর, ২.পৌরাণিক প্রথমপ্রহর ও ৩.কৌরানিক প্রথমপ্রহর।
কোন কিছুর প্রারম্ভিক সময়কেই প্রথমপ্রহর বলে।
প্রথমপ্রহরের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
(Theosophical definition of First period)
রজস্বলাদের রজস্রাব বিদায়ের পর পবিত্রতার প্রথম সাড়েতিন সময়কে প্রথমপ্রহর বলে।
প্রথমপ্রহরের প্রকারভেদ (Classification of First period)
প্রথমপ্রহর তিন প্রকার। যথা- ১.সৌর প্রথমপ্রহর, ২.পৌরাণিক প্রথমপ্রহর ও ৩.কৌরানিক প্রথমপ্রহর।
১. সৌর প্রথমপ্রহর (Solar First period)
ভারতবর্ষের সুবিজ্ঞ রূপকার ও মরমী মনীষীগণের মতে আগে রাত এবং পরে দিনের সূচনা হয়। তাই তাঁরা আগে রাত ও পরে দিন গণনা করে থাকেন। যেমন- তাঁরা সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য দৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে রাত এবং সূর্য দৃশ্যমান হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে দিন গণনা করে থাকেন। অন্যদিকে বৈষয়িক মনীষীরা আগে দিন ও পরে রাত গণনা করে থাকেন। তাই তারা সূর্য দৃশ্য হওয়ার পর হতে আগে দিন গণনা করেন এবং সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর হতে রাত গণনা করে থাকেন। এ সূত্র হতে তারা দুপরের পূর্বভাগকে দিনের প্রথমপ্রহর এবং পরবর্তী ভাগকে দ্বিতীয় প্রহর গণনা করে থাকেন। ঠিক তেমনি মধ্যরাতের পূর্বভাগকে রাতের প্রথমপ্রহর এবং পরবর্তী ভাগকে দ্বিতীয় প্রহর গণনা করে থাকেন।
ভারতবর্ষের সুবিজ্ঞ রূপকার ও মরমী মনীষীগণের মতে আগে রাত এবং পরে দিনের সূচনা হয়। তাই তাঁরা আগে রাত ও পরে দিন গণনা করে থাকেন। যেমন- তাঁরা সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য দৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে রাত এবং সূর্য দৃশ্যমান হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে দিন গণনা করে থাকেন। অন্যদিকে বৈষয়িক মনীষীরা আগে দিন ও পরে রাত গণনা করে থাকেন। তাই তারা সূর্য দৃশ্য হওয়ার পর হতে আগে দিন গণনা করেন এবং সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর হতে রাত গণনা করে থাকেন। এ সূত্র হতে তারা দুপরের পূর্বভাগকে দিনের প্রথমপ্রহর এবং পরবর্তী ভাগকে দ্বিতীয় প্রহর গণনা করে থাকেন। ঠিক তেমনি মধ্যরাতের পূর্বভাগকে রাতের প্রথমপ্রহর এবং পরবর্তী ভাগকে দ্বিতীয় প্রহর গণনা করে থাকেন।
২. পৌরাণিক প্রথমপ্রহর (Mythological Firstperiod)
ভারতবর্ষের সুবিজ্ঞ রূপকার ও মরমী মনীষীগণের মতে আগে রাত এবং পরে দিনের সূচনা হয়। তাই তাঁরা আগে রাত ও পরে দিন গণনা করে থাকেন। যেমন- তাঁরা সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য দৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে রাত এবং সূর্য দৃশ্যমান হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে দিন গণনা করে থাকেন। আবার রূপক সাহিত্যে রজস্বলা রমণীদের রজকালকে রাত ও পবিত্রতাকে দিন ধরা হয়। এ জন্য দেখা যায় আগে রাত ও পরে দিনের উদয় হয়। তবে পরবর্তিকালের নীতিনির্ধারকরা বাংলা দিন গণনা আগে ও রাত গণনা পরে আরম্ভ করেন। তাই রূপকারগণ আবার বাংলা দিন গণনার সূত্রের সাথে সঙ্গতি রেখে উপমা নির্মাণ করার জন্য রজস্বলা রমণীদের পবিত্রতাকে গণনার প্রথমপ্রহররূপে প্রতিষ্ঠিত করেন। অর্থাৎ ভারতবর্ষীয় পৌরাণিক রূপক সাহিত্য অনুযায়ী রজস্বলাদের পবিত্রতার প্রথমপ্রহর ঊষাকেই প্রকৃত প্রথমপ্রহর ধরা হয়।
ভারতবর্ষের সুবিজ্ঞ রূপকার ও মরমী মনীষীগণের মতে আগে রাত এবং পরে দিনের সূচনা হয়। তাই তাঁরা আগে রাত ও পরে দিন গণনা করে থাকেন। যেমন- তাঁরা সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য দৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে রাত এবং সূর্য দৃশ্যমান হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে দিন গণনা করে থাকেন। আবার রূপক সাহিত্যে রজস্বলা রমণীদের রজকালকে রাত ও পবিত্রতাকে দিন ধরা হয়। এ জন্য দেখা যায় আগে রাত ও পরে দিনের উদয় হয়। তবে পরবর্তিকালের নীতিনির্ধারকরা বাংলা দিন গণনা আগে ও রাত গণনা পরে আরম্ভ করেন। তাই রূপকারগণ আবার বাংলা দিন গণনার সূত্রের সাথে সঙ্গতি রেখে উপমা নির্মাণ করার জন্য রজস্বলা রমণীদের পবিত্রতাকে গণনার প্রথমপ্রহররূপে প্রতিষ্ঠিত করেন। অর্থাৎ ভারতবর্ষীয় পৌরাণিক রূপক সাহিত্য অনুযায়ী রজস্বলাদের পবিত্রতার প্রথমপ্রহর ঊষাকেই প্রকৃত প্রথমপ্রহর ধরা হয়।
৩. কৌরানিক প্রথমপ্রহর (Triadic First period)
আরববিশ্বের সুবিজ্ঞ রূপকার ও মরমী মনীষীগণের মতে আগে রাত এবং পরে দিনের সূচনা হয়। তাই তাঁরা আগে রাত ও পরে দিন গণনা করে থাকেন। যেমন- তাঁরা সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য দৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে রাত এবং সূর্য দৃশ্যমান হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে দিন গণনা করে থাকেন। রূপক সাহিত্যে রজস্বলা রমণীদের রজকালকে রাত ও পবিত্রতাকে দিন ধরা হয়। এ জন্য দেখা যায় আগে রাত ও পরে দিনের উদয় হয়। তাই রূপকারগণ আরবি দিন গণনার সূত্রের সাথে সঙ্গতি রেখে উপমা নির্মাণ করার জন্য রজস্বলা রমণীদের রজকালকে গণনার প্রথমপ্রহররূপে প্রতিষ্ঠিত করেন। অর্থাৎ আরববিশ্বের কুরানী রূপক সাহিত্য অনুযায়ী রজস্বলাদের রজকাল স্রাবণ্যকেই প্রথমপ্রহর ধরা হয়। তবে সাধনের জন্য পবিত্রতার প্রথমপ্রহরই যে প্রকৃত প্রথমপ্রহর এ ব্যাপারে সারাবিশ্বের আত্মতাত্ত্বিকগণ একমত।
আরববিশ্বের সুবিজ্ঞ রূপকার ও মরমী মনীষীগণের মতে আগে রাত এবং পরে দিনের সূচনা হয়। তাই তাঁরা আগে রাত ও পরে দিন গণনা করে থাকেন। যেমন- তাঁরা সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য দৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে রাত এবং সূর্য দৃশ্যমান হওয়ার পর হতে আরম্ভ করে সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে দিন গণনা করে থাকেন। রূপক সাহিত্যে রজস্বলা রমণীদের রজকালকে রাত ও পবিত্রতাকে দিন ধরা হয়। এ জন্য দেখা যায় আগে রাত ও পরে দিনের উদয় হয়। তাই রূপকারগণ আরবি দিন গণনার সূত্রের সাথে সঙ্গতি রেখে উপমা নির্মাণ করার জন্য রজস্বলা রমণীদের রজকালকে গণনার প্রথমপ্রহররূপে প্রতিষ্ঠিত করেন। অর্থাৎ আরববিশ্বের কুরানী রূপক সাহিত্য অনুযায়ী রজস্বলাদের রজকাল স্রাবণ্যকেই প্রথমপ্রহর ধরা হয়। তবে সাধনের জন্য পবিত্রতার প্রথমপ্রহরই যে প্রকৃত প্রথমপ্রহর এ ব্যাপারে সারাবিশ্বের আত্মতাত্ত্বিকগণ একমত।
পরিশেষে বলা যায় বিভিন্ন প্রথম প্রহরের মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য নেই।
তবে ভারতবর্ষীয় সাধুমত এবং পারস্য অলিমতের মধ্যে দুই প্রকার প্রথমপ্রহর
লক্ষ্য করা যায়। ভারতবর্ষীয় সাধু মতে প্রথমপ্রহর পবিত্রতার সূচনা হতে আরম্ভ
হয়| কিন্তু পারস্য অলিদের মতে প্রথমপ্রহর রজস্বলাদের রজস্রাব আরম্ভ হওয়ার
সময় হতে আরম্ভ হয়। তাই পারস্য অলিগণের মতে আগে রাত আসে- যেহেতু রজস্রাবকে
রূপক সাহিত্যে রাত ধরা হয় এবং ভারতবর্ষীয় সাধু ও সন্ন্যাসীগণের মতে আগে দিন
আসে- যেহেতু পবিত্রতার ২৭ দিনকে দিন ধরা হয়।
উল্লেখ্য বাংলা দিন গণনা করা হয়- সকাল ৬টা হতে আরম্ভ করে পরের দিন সকাল
৬টা পর্যন্ত। ইংরেজি দিন গণনা করা হয়- রাত ১২টা হতে আরম্ভ করে পরের রাত
১২টা পর্যন্ত। এবং আরবি দিন গণনা করা হয়- সন্ধ্যা ৬টা হতে আরম্ভ করে পরের
সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
প্রথমপ্রহরের উপকার (Benefits of First period)
১. প্রথমপ্রহরে মানবদেহে সাঁইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়।
২. প্রথমপ্রহরে মৈথুনক্রিয়ায় সন্তান জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
১. প্রথমপ্রহরে মানবদেহে সাঁইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়।
২. প্রথমপ্রহরে মৈথুনক্রিয়ায় সন্তান জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
প্রথমপ্রহরের পরিচয় (Identity of First period)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘প্রথমপ্রহর’ পরিবারের ‘মূলকসদস্য’ বিশেষ। রজস্বলা রমণীদের পবিত্রতার সর্বপ্রথম সাড়েতিন দিবসকে রূপক সাহিত্যে প্রথমপ্রহর বলা হয়। সুমহান আত্মতাত্ত্বিক মনীষীগণের মতে রজস্বলাদের রজস্রাব আরম্ভ হওয়ার সময় হতেই স্রাবণ্য প্রহরের সূচনা হয়। বসিধ বা সরস্বতী একপ্রহর অবস্থান করেই বিদায় গ্রহণ করেন। অতঃপর পবিত্রতার শুভ সুচনা হয়। এ পবিত্রতার সর্বপ্রথম পর্যায়কেই আত্মদর্শনে প্রথম-প্রহর রূপে গণনা করা হয়। ফলে প্রথম-প্রহর বলতে দৈহিকপ্রহর গণনার দ্বিতীয়-প্রহর বুঝায়। অর্থাৎ আত্মতাত্ত্বিকদের গণনা মতে রজস্রাবের দ্বিতীয় প্রহরই পবিত্রতার প্রথম হয়। এ গণনা মতে রজস্বলাদের রজকালীন সাড়েতিন দিন সময়কে রাত বা অমাবস্যা বলে।
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘প্রথমপ্রহর’ পরিবারের ‘মূলকসদস্য’ বিশেষ। রজস্বলা রমণীদের পবিত্রতার সর্বপ্রথম সাড়েতিন দিবসকে রূপক সাহিত্যে প্রথমপ্রহর বলা হয়। সুমহান আত্মতাত্ত্বিক মনীষীগণের মতে রজস্বলাদের রজস্রাব আরম্ভ হওয়ার সময় হতেই স্রাবণ্য প্রহরের সূচনা হয়। বসিধ বা সরস্বতী একপ্রহর অবস্থান করেই বিদায় গ্রহণ করেন। অতঃপর পবিত্রতার শুভ সুচনা হয়। এ পবিত্রতার সর্বপ্রথম পর্যায়কেই আত্মদর্শনে প্রথম-প্রহর রূপে গণনা করা হয়। ফলে প্রথম-প্রহর বলতে দৈহিকপ্রহর গণনার দ্বিতীয়-প্রহর বুঝায়। অর্থাৎ আত্মতাত্ত্বিকদের গণনা মতে রজস্রাবের দ্বিতীয় প্রহরই পবিত্রতার প্রথম হয়। এ গণনা মতে রজস্বলাদের রজকালীন সাড়েতিন দিন সময়কে রাত বা অমাবস্যা বলে।
পরবর্তী পবিত্রতার ২৭দিন সময়কে পূর্ণিমা বা দিন বলে। ফলে আলোচ্য
প্রথম-প্রহরকে দিনের প্রথম-প্রহর বুঝায়। অর্থাৎ আত্মতাত্ত্বিকদের গণনায়
রজস্রাবের সূচনা হতে দ্বিতীয় প্রহর বা দিনের প্রথম সাড়েতিন দিন বা এক প্রহর
সময়কেই প্রথম-প্রহর বলে বুঝানো হয়। এককথায় রজস্বলা রমণীদের পবিত্রতা আরম্ভ
হওয়ার প্রথম সাড়েতিনদিন সময়কেই রূপক সাহিত্যের প্রথম-প্রহর বুঝায়। এটি
জর্জিয়ান বা মায়া ক্যালেন্ডারের কোন গণনা নয় বরং এটি স্বয়ং দেহপঞ্জিকার
গণনা। এ গণনা অনুযায়ী সারাবিশ্বের সব রূপক সাহিত্য নির্মাণ করা হয়।
বিশ্ববিখ্যাত রূপক সাহিত্যাদিই পরবর্তিকালে শাস্ত্রীয় গ্রন্থে পরিণত হয়।
আলোচ্য মূলকের অন্যান্য ব্যাপক পরিভাষাদি মূল গ্রন্থে (আত্মতত্ত্ব ভেদ)
আলোচনা করা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন