লক্ষ্মীর বাস্তব ভাবনা (Real ideas of the Pep)
‘الأفكار الحقيقية من الحماسي’ (আলয়াফকার আলহাক্বিক্বি মিন আলহামাসি)
‘الأفكار الحقيقية من الحماسي’ (আলয়াফকার আলহাক্বিক্বি মিন আলহামাসি)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শুক্র’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’।
রূপক সাহিত্যে বর্ণিত সব পরিভাষারই সর্বদা দু’টি দিক বিদ্যমান। একটি হচ্ছে
কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy) বা প্রপক (Extensive) ও অন্যটি হচ্ছে
আত্মদর্শন (Theosophy)। অথবা কাল্পনিকতত্ত্ব (Mythology) ও আত্মতত্ত্ব
(Theology)। এ সূত্র অনুসারে লক্ষ্মীরও দু’টি দিক রয়েছে। সাধারণ মানুষ
অর্থাৎ সাধারণ শাস্ত্রীয়রা কেবল কাল্পনিক দর্শন ছিটেফোটা জানে কিন্তু
আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্ব জানে না একেবারেই। মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন-
“আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে, দিব্যজ্ঞানী সে হয়েছে, কুবৃক্ষে সুফল পেয়েছে, আমার
মনের ঘোর গেল না।” (পবিত্র লালন- ৮২৮/৩)। রূপক সাহিত্যের
পরিভাষাগুলোর আত্মদর্শন না জানা আর বোকার রাজ্যে বাস করা সমান। সে জন্য
এখানে সংক্ষিপ্তভাবে লক্ষ্মীর কাল্পনিকদর্শন ও আত্মদর্শন আলোচনা করা হলো।
কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy)
লক্ষ্মী হলেন পুরাণোক্ত একজন দেবী। তিনি ধনসম্পদ, আধ্যাত্মিক সম্পদ, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী। তিনি বিষ্ণুর পত্নী। তাঁর অপর নাম মহালক্ষ্মী। জৈন স্মারকগুলিতেও লক্ষ্মীর ছবি দেখা যায়। এ দেবী ছয়টি বিশেষ গুণের অধিকারিণী। তিনি বিষ্ণুর শক্তিরও উৎস। বিষ্ণু রাম ও কৃষ্ণরূপে অবতার গ্রহণ করলে, লক্ষ্মী সীতা ও রাধা রূপে তাঁদের সঙ্গিনী হন। কৃষ্ণের দুই স্ত্রী রুক্মিনী ও সত্যভামাও লক্ষ্মীর অবতার রূপে কল্পিত হন। লক্ষ্মীর পূজা অধিকাংশ পুরাণী গৃহস্তের গৃহেই অনুষ্ঠিত হয়। দীপাবলি ও কোজাগরী পূর্ণিমার দিন তাঁর বিশেষ পূজা হয়। বাঙালী পুরাণীরা প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা করে থাকেন।
লক্ষ্মী হলেন পুরাণোক্ত একজন দেবী। তিনি ধনসম্পদ, আধ্যাত্মিক সম্পদ, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী। তিনি বিষ্ণুর পত্নী। তাঁর অপর নাম মহালক্ষ্মী। জৈন স্মারকগুলিতেও লক্ষ্মীর ছবি দেখা যায়। এ দেবী ছয়টি বিশেষ গুণের অধিকারিণী। তিনি বিষ্ণুর শক্তিরও উৎস। বিষ্ণু রাম ও কৃষ্ণরূপে অবতার গ্রহণ করলে, লক্ষ্মী সীতা ও রাধা রূপে তাঁদের সঙ্গিনী হন। কৃষ্ণের দুই স্ত্রী রুক্মিনী ও সত্যভামাও লক্ষ্মীর অবতার রূপে কল্পিত হন। লক্ষ্মীর পূজা অধিকাংশ পুরাণী গৃহস্তের গৃহেই অনুষ্ঠিত হয়। দীপাবলি ও কোজাগরী পূর্ণিমার দিন তাঁর বিশেষ পূজা হয়। বাঙালী পুরাণীরা প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা করে থাকেন।
প্রপক (Extensive)
ঋক বেদে শ্রী ও ঐশ্বর্যের দেবীরূপে লক্ষ্মীর নাম দেখতে পাওয়া যায়। তৈত্তিরীয় সংহিতায় লক্ষ্মী ও শ্রীকে আদিত্যের দুই স্ত্রীরূপে দেখা যায়। শতপথ ব্রাহ্মণে প্রজাপতি হতে শ্রী সম্ভূত বলে বর্ণিত আছে। পরবর্তী যুগে লক্ষ্মী ও শ্রী ঐশ্বর্যের দেবী, বিষ্ণুর স্ত্রী এবং কামের মাতারূপে খ্যাতিলাভ করে। রামায়ণ অনুসারে লক্ষ্মী পদ্মহস্তে সমুদ্র হতে উত্থিত হন, যখন দেবতা বা প্রতীতি ও অসুররা সমুদ্র মন্থন করেছিল।
ঋক বেদে শ্রী ও ঐশ্বর্যের দেবীরূপে লক্ষ্মীর নাম দেখতে পাওয়া যায়। তৈত্তিরীয় সংহিতায় লক্ষ্মী ও শ্রীকে আদিত্যের দুই স্ত্রীরূপে দেখা যায়। শতপথ ব্রাহ্মণে প্রজাপতি হতে শ্রী সম্ভূত বলে বর্ণিত আছে। পরবর্তী যুগে লক্ষ্মী ও শ্রী ঐশ্বর্যের দেবী, বিষ্ণুর স্ত্রী এবং কামের মাতারূপে খ্যাতিলাভ করে। রামায়ণ অনুসারে লক্ষ্মী পদ্মহস্তে সমুদ্র হতে উত্থিত হন, যখন দেবতা বা প্রতীতি ও অসুররা সমুদ্র মন্থন করেছিল।
পুরাণ অনুসারে মহর্ষি ভৃগুর ঔরসে ও তাঁর স্ত্রী দক্ষকন্যা খ্যাতির গর্ভে
লক্ষ্মীর জন্ম হয়। তিনি নারায়ণের স্ত্রীরূপে অঙ্কশায়িনী হন। দুর্বাশার
অভিশাপে ইন্দ্র ত্রিভুবন জয় করা থেকে বঞ্চিত ও শ্রীহীন হলে সর্ব সৌভাগ্যের
অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষ্মী সমুদ্রে প্রবেশ করেন। তারপর সমুদ্র মন্থনের সময়ে
ঘৃত থেকে তিনি পুনরায় উত্থিত হয়ে প্রতীতিগণের সম্মুখে আসেন। লক্ষ্মীকে লাভ
করার জন্য দানবরা প্রতীতিদের সঙ্গে কলহে লিপ্ত হন। কিন্তু বিষ্ণু মায়া
বিস্তার করে আপন স্ত্রীকে গ্রহণ করেন। লক্ষ্মী সর্ব সম্পদে সফলা, সব স্ত্রী
ও ঐশ্বর্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। (পৌরাণিক অভিধান)।
ব্রতকথা (Votive Lyrics)
লক্ষ্মীকে নিয়ে বাংলার জনসমাজে বিভিন্ন জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে। এই গল্পগুলি পাঁচালির আকারে লক্ষ্মীপূজার দিন পাঠ করা হয়। লক্ষ্মীর ব্রতকথাগুলির মধ্যে ‘বৃহস্পতিবারের ব্রতকথা’ সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়াও ‘বারোমাসের পাঁচালি’-তেও লক্ষ্মীকে নিয়ে অনেক লৌকিক গল্পের উল্লেখ পাওয়া যায়।
লক্ষ্মীকে নিয়ে বাংলার জনসমাজে বিভিন্ন জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে। এই গল্পগুলি পাঁচালির আকারে লক্ষ্মীপূজার দিন পাঠ করা হয়। লক্ষ্মীর ব্রতকথাগুলির মধ্যে ‘বৃহস্পতিবারের ব্রতকথা’ সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়াও ‘বারোমাসের পাঁচালি’-তেও লক্ষ্মীকে নিয়ে অনেক লৌকিক গল্পের উল্লেখ পাওয়া যায়।
লক্ষ্মীপূজা উদ্ভবের ইতিহাস (Beginning history of the Pep worship)
বাঙালী পুরাণীরা প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর সাপ্তাহিক পূজা করে থাকেন। এই পূজা সাধারণত বাড়ির সধবা স্ত্রীলোকেরাই করে থাকেন। ‘বৃহস্পতিবারের ব্রতকথা’-য় এই বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীব্রত ও পূজা প্রচলন সম্পর্কে একটি যে লৌকিকা রয়েছে। তা এরকম: এক দোলপূর্ণিমার রাতে নারদ বৈকুণ্ঠে লক্ষ্মী ও নারায়ণের কাছে গিয়ে মর্ত্যের অধিবাসীদের নানা দুঃখকষ্টের কথা বললেন। লক্ষ্মী মানুষের নিজেদের কুকর্মের ফলকেই এই সব দুঃখের কারণ বলে চিহ্নিত করলেন।. কিন্তু নারদের অনুরোধে মানুষের দুঃখকষ্ট ঘোচাতে তিনি মর্ত্যলোকে লক্ষ্মীব্রত প্রচার করতে এলেন। অবন্তী নগরে ধনেশ্বর নামে এক ধনী বণিক বাস করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেদের মধ্যে বিষয়সম্পত্তি ও অন্যান্য ব্যাপার নিয়ে ঝগড়া চলছিল। ধনেশ্বরের বিধবা পত্নী সেই ঝগড়ায় অতিষ্ট হয়ে বনে আত্মহত্যা করতে এসেছিলেন। লক্ষ্মী তাঁকে লক্ষ্মীব্রত করার উপদেশ দিয়ে ফেরত পাঠালেন। ধনেশ্বরের স্ত্রী নিজের পুত্রবধূদের দিয়ে লক্ষ্মীব্রত করাতেই তাঁদের সংসারের সব দুঃখ ঘুচে গেল। ফলে লক্ষ্মীব্রতের কথা অবন্তী নগরে প্রচারিত হয়ে গেল। একদিন অবন্তীর সধবারা লক্ষ্মীপূজা করছেন, এমন সময় শ্রীনগরের এক যুবক বণিক এসে তাদের ব্রতকে ব্যঙ্গ করল। ফলে লক্ষ্মী তার উপর কুপিত হলেন। সেও সমস্ত ধনসম্পত্তি হারিয়ে অবন্তী নগরে ভিক্ষা করতে লাগল। তারপর একদিন সধবাদের লক্ষ্মীপূজা করতে দেখে সে অনুতপ্ত হয়ে লক্ষ্মীর কাছে ক্ষমা চাইল। লক্ষ্মী তাকে ক্ষমা করে তার সব ধনসম্পত্তি ফিরিয়ে দিলেন। এভাবে পুরাণী সমাজে লক্ষ্মীব্রত প্রচলিত হয়েছিল বলে জানা যায়। (তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া)।
বাঙালী পুরাণীরা প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর সাপ্তাহিক পূজা করে থাকেন। এই পূজা সাধারণত বাড়ির সধবা স্ত্রীলোকেরাই করে থাকেন। ‘বৃহস্পতিবারের ব্রতকথা’-য় এই বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীব্রত ও পূজা প্রচলন সম্পর্কে একটি যে লৌকিকা রয়েছে। তা এরকম: এক দোলপূর্ণিমার রাতে নারদ বৈকুণ্ঠে লক্ষ্মী ও নারায়ণের কাছে গিয়ে মর্ত্যের অধিবাসীদের নানা দুঃখকষ্টের কথা বললেন। লক্ষ্মী মানুষের নিজেদের কুকর্মের ফলকেই এই সব দুঃখের কারণ বলে চিহ্নিত করলেন।. কিন্তু নারদের অনুরোধে মানুষের দুঃখকষ্ট ঘোচাতে তিনি মর্ত্যলোকে লক্ষ্মীব্রত প্রচার করতে এলেন। অবন্তী নগরে ধনেশ্বর নামে এক ধনী বণিক বাস করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেদের মধ্যে বিষয়সম্পত্তি ও অন্যান্য ব্যাপার নিয়ে ঝগড়া চলছিল। ধনেশ্বরের বিধবা পত্নী সেই ঝগড়ায় অতিষ্ট হয়ে বনে আত্মহত্যা করতে এসেছিলেন। লক্ষ্মী তাঁকে লক্ষ্মীব্রত করার উপদেশ দিয়ে ফেরত পাঠালেন। ধনেশ্বরের স্ত্রী নিজের পুত্রবধূদের দিয়ে লক্ষ্মীব্রত করাতেই তাঁদের সংসারের সব দুঃখ ঘুচে গেল। ফলে লক্ষ্মীব্রতের কথা অবন্তী নগরে প্রচারিত হয়ে গেল। একদিন অবন্তীর সধবারা লক্ষ্মীপূজা করছেন, এমন সময় শ্রীনগরের এক যুবক বণিক এসে তাদের ব্রতকে ব্যঙ্গ করল। ফলে লক্ষ্মী তার উপর কুপিত হলেন। সেও সমস্ত ধনসম্পত্তি হারিয়ে অবন্তী নগরে ভিক্ষা করতে লাগল। তারপর একদিন সধবাদের লক্ষ্মীপূজা করতে দেখে সে অনুতপ্ত হয়ে লক্ষ্মীর কাছে ক্ষমা চাইল। লক্ষ্মী তাকে ক্ষমা করে তার সব ধনসম্পত্তি ফিরিয়ে দিলেন। এভাবে পুরাণী সমাজে লক্ষ্মীব্রত প্রচলিত হয়েছিল বলে জানা যায়। (তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া)।
মূর্তি নয়, ঘটে পূজোই অধিক। সামন্ত- ভূস্বামীর লক্ষ্মী আরাধনা মানানসই।
কিন্তু দারিদ্র-তাপিত জীবন থেকে মুক্তি এবং ধনী হওয়ার স্বপ্ন গরিবেরই অধিক।
তাই বাংলাদেশের পল্লীর কোণে কোণে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কন্যা সন্তানের নাম
রাখা হয় লক্ষ্মী। কন্যা জন্মের পরে বলা হতো, লক্ষ্মী এলো। বঙ্গদেশের
সনাতনীরা সপ্তাহের একটি দিনকে বলে থাকেন ‘লক্ষ্মীবার’। লক্ষ্মীকে পেতে তাই কোজাগরী ব্রত থেকে মণ্ডপ সজ্জায় লক্ষ্মী পুজো বা বিত্তবাসীনির আরাধনা। ‘কোজাগর’-
কে কে জাগোরে? যার নেই- সে পাবার আশায় জাগে। যার প্রচুর আছে- সে হারাবার
ভয়ে জাগে! কিন্তু বিশেষ এই কোজাগরীর রাতে লক্ষ্মী-আগমনী গান তো রাত্রি
জাগরণের। সারারাত জেগে থাকলে ঘুম পাবে, তাই প্রাচীন কালে এমন রাতে
পাশাখেলার ব্যবস্থা ছিল। কোন প্রহরে কে জাগে-
“পহেলা প্রহর মে সবকোই জাগে
দু’সরা প্রহর মে গৃহী
তিসরা প্রহর মে তস্কর জাগে
চৌথা প্রহর মে যোগী।”
“পহেলা প্রহর মে সবকোই জাগে
দু’সরা প্রহর মে গৃহী
তিসরা প্রহর মে তস্কর জাগে
চৌথা প্রহর মে যোগী।”
বিশ্বের প্রায় সব শাস্ত্রীয় মতবাদেই শেষ প্রহরে উপাসনা করতে বলা হয়েছে। তাই হিন্দিতে বলা হয়।
“যো জাগতা হ্যায়
ওহি পাতা হ্যায়
যো শো যাতা হ্যায়
ওহি খো যাতা হ্যায়।”
“যো জাগতা হ্যায়
ওহি পাতা হ্যায়
যো শো যাতা হ্যায়
ওহি খো যাতা হ্যায়।”
কোজাগরী রাতের বিনিদ্র রজনী তো প্রার্থনারই। তবে বাঙালীর কী কাঁচা ঘুম ভাঙবে? আবার রবীন্দ্র সঙ্গিতে বলা হয়েছে-
“যাবই আমি যাবই ওগো,
বাণিজ্যেতে যাবই।
লক্ষ্মীরে হারাবই যদি,
অলক্ষ্মীরে পাবই।”
“যাবই আমি যাবই ওগো,
বাণিজ্যেতে যাবই।
লক্ষ্মীরে হারাবই যদি,
অলক্ষ্মীরে পাবই।”
মা লক্ষ্মীর ধ্যান-মন্ত্র (Meditation hymn of mother Pep)
“গৌর বর্ণাং সুরূপাঞ্চ সর্ব্বালঙ্কারভূষিতাং।
রৌক্মপদ্ম্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেনু তু।
শ্রী লক্ষ্মীদেব্যৈ নমঃ।”
লক্ষ্মী দেবী চঞ্চলা। তবে ক্রোধী নন। তাই অনেক সনাতনী গৃহস্থই গৃহকোণে লক্ষ্মীর ঝাঁপি করে লক্ষ্মীর পিঁড়ি পাতেন। উপচার তো সামান্যই। প্রতি বৃহস্পতিবারে সামান্য ফুল-বাতাসা আর ধোয়া পিঁড়িতে চাল পিটুলির আলপনা। সেটাই একটু বড় আকারের এই কোজাগরীর রাতে। সেই পূজোটায় অবশ্যই পুরোহিত চাই। (সূত্রতথ্যঃ ইন্টারনেট)।
“গৌর বর্ণাং সুরূপাঞ্চ সর্ব্বালঙ্কারভূষিতাং।
রৌক্মপদ্ম্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেনু তু।
শ্রী লক্ষ্মীদেব্যৈ নমঃ।”
লক্ষ্মী দেবী চঞ্চলা। তবে ক্রোধী নন। তাই অনেক সনাতনী গৃহস্থই গৃহকোণে লক্ষ্মীর ঝাঁপি করে লক্ষ্মীর পিঁড়ি পাতেন। উপচার তো সামান্যই। প্রতি বৃহস্পতিবারে সামান্য ফুল-বাতাসা আর ধোয়া পিঁড়িতে চাল পিটুলির আলপনা। সেটাই একটু বড় আকারের এই কোজাগরীর রাতে। সেই পূজোটায় অবশ্যই পুরোহিত চাই। (সূত্রতথ্যঃ ইন্টারনেট)।
লক্ষ্মী পূজা (Worship the Pep)
সনাতনী মতবাদে বিশ্বাসী বাঙালী সনাতনীদের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গোৎসবে মহামায়ার মহাপূজা শেষে আশ্বীনী পূর্ণিমার রাতে শ্রীশ্রী লক্ষ্মী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শারদীয় দুর্গোৎসব শেষে প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা লক্ষ্মীপূজা করে থাকেন। প্রতিটি ঘরে লক্ষ্মী ধন-সম্পদ তথা ঐশ্বর্যে দেবী হিসেবে পূজিত হন। লক্ষ্মী হলেন পুরাণী সম্প্রদায়ের ধনসম্পদ, ঐশ্বর্য, উন্নতি (আধ্যাত্মিক ও পার্থিক), আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী।
সনাতনী মতবাদে বিশ্বাসী বাঙালী সনাতনীদের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গোৎসবে মহামায়ার মহাপূজা শেষে আশ্বীনী পূর্ণিমার রাতে শ্রীশ্রী লক্ষ্মী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শারদীয় দুর্গোৎসব শেষে প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা লক্ষ্মীপূজা করে থাকেন। প্রতিটি ঘরে লক্ষ্মী ধন-সম্পদ তথা ঐশ্বর্যে দেবী হিসেবে পূজিত হন। লক্ষ্মী হলেন পুরাণী সম্প্রদায়ের ধনসম্পদ, ঐশ্বর্য, উন্নতি (আধ্যাত্মিক ও পার্থিক), আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী।
দিনটি উপলক্ষে সারাদেশের বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপের পাশাপাশি পুরাণী
সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও অতিথি
আপ্যায়ন করা হয়। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি ঘরবাড়ির আঙিনায় আঁকা হয় লক্ষ্মীর
পায়ের ছাপের আলপনা। মায়ের পায়ের ছাপ, ধানের শীষ আর ফুলের আল্পনায় এঁকে
সাধ্যমত উপাচার সাজিয়ে ‘এসো মা লক্ষ্মী বসো মোদের ঘরে’ এই
প্রার্থণায় সনাতনী মতবাদে বিশ্বাসী বাঙালীদের ঘরে ঘরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
সারাদিন উপোষ থেকে ধর্মীয় আচার মেনে পবিত্র বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করে
সংসারের অখন্ড সুখ ও দারিদ্রক্লেশ থেকে মুক্তি পেতেইে এ পূজার আয়োজ করে
থাকেন সনাতনীরা। এছাড়াও এ দিন সন্ধ্যায় ঘরে ঘরে প্রদীপ প্রজ্জলন করা হয়।
বাংলার অসংখ্য প্রবাদ প্রবচন ও শব্দে মিশে আছে লক্ষ্মী। সনাতনী মতবাদে
বিশ্বাসী বাংলার ঘরে ঘরে যে ক’জন দেব-দেবী নিত্য পুজো পান তাদের একজন হলেন
লক্ষ্মী দেবী। এমন কোন ঘর নেই যেখানে একটি লক্ষ্মীর পট বা ছবি বা মূর্তি
পুজো করা হয় না। এমন কোন সংসার নেই যে গৃহস্থের ঘরে একখানি লক্ষ্মীর আসন
নেই। প্রতিবছর মহালয়ার অমবশ্যার পর শুক্লপক্ষে কোজাগরী পূর্ণিমা শুরু হওয়ার
পরই শাস্ত্রীয় সংস্কার মেনে প্রথা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় শ্রীশ্রী লক্ষ্মী
পূজা।
মা দুর্গার সাথে মা লক্ষ্মীর সম্পর্কের তত্ত্বানুসন্ধান
(Exploration of relationship of the mother Pep with the mother Od)
মা আদিশক্তি দুর্গা পূজার মধ্য দিয়ে পুরাণী সম্প্রদায়, পুরাণী সমাজর ও পুরাণী সংহতি শক্তি গঠনের ইঙ্গিত দেখা যায় । সংহতির ও ঐক্যের এক বড় দৃষ্টান্ত মা দুর্গার মধ্যেই আছে । দেবী সুক্তে দেবী স্বয়ং বলেছেন-
“অহং রাষ্ট্রী সংগমনী বসূনাং চিকিতুষী প্রথমা যজ্ঞিয়নাম্।
তাং মা দেবা ব্যদধুঃ পুরত্রা ভূরিস্ত্রাতাং ভূর্য্যাবেশয়ন্তীম্।”
অর্থঃ– “আমি রাষ্ট্রী , রাষ্ট্রের অধীশ্বরী , রাজ্য রক্ষার্থে যে সম্পদের প্রয়োজন আমি তার বিধানকর্তা । সংসারে শান্তিলাভের জন্য যে ব্রহ্মজ্ঞান প্রয়োজন, আমি তাই জানি । আমি এক হয়েও বহু রূপা । সর্ব জীবে আমি প্রবিষ্ট হয়ে আছি । দৈবী সম্পদশালী দেবতারা যা সাধন করেন সকলই আমার উদ্দ্যেশে সম্পন্ন হয়।”

মা দুর্গার দক্ষিণে মা লক্ষ্মী ও শ্রীগণেশের অবস্থান
মা লক্ষ্মী হলেন ধনশক্তির আধার। ইনি বৈশ্যশক্তির প্রতীক। ইনি ধন অর্থাৎ ধনশক্তির পরিচায়ক। তিনি হলেন চারিত্রিক ও আত্মিক ঐশ্বর্যের প্রকাশ।
(Exploration of relationship of the mother Pep with the mother Od)
মা আদিশক্তি দুর্গা পূজার মধ্য দিয়ে পুরাণী সম্প্রদায়, পুরাণী সমাজর ও পুরাণী সংহতি শক্তি গঠনের ইঙ্গিত দেখা যায় । সংহতির ও ঐক্যের এক বড় দৃষ্টান্ত মা দুর্গার মধ্যেই আছে । দেবী সুক্তে দেবী স্বয়ং বলেছেন-
“অহং রাষ্ট্রী সংগমনী বসূনাং চিকিতুষী প্রথমা যজ্ঞিয়নাম্।
তাং মা দেবা ব্যদধুঃ পুরত্রা ভূরিস্ত্রাতাং ভূর্য্যাবেশয়ন্তীম্।”
অর্থঃ– “আমি রাষ্ট্রী , রাষ্ট্রের অধীশ্বরী , রাজ্য রক্ষার্থে যে সম্পদের প্রয়োজন আমি তার বিধানকর্তা । সংসারে শান্তিলাভের জন্য যে ব্রহ্মজ্ঞান প্রয়োজন, আমি তাই জানি । আমি এক হয়েও বহু রূপা । সর্ব জীবে আমি প্রবিষ্ট হয়ে আছি । দৈবী সম্পদশালী দেবতারা যা সাধন করেন সকলই আমার উদ্দ্যেশে সম্পন্ন হয়।”
মা দুর্গার দক্ষিণে মা লক্ষ্মী ও শ্রীগণেশের অবস্থান
মা লক্ষ্মী হলেন ধনশক্তির আধার। ইনি বৈশ্যশক্তির প্রতীক। ইনি ধন অর্থাৎ ধনশক্তির পরিচায়ক। তিনি হলেন চারিত্রিক ও আত্মিক ঐশ্বর্যের প্রকাশ।
শ্রীগণেশ হলেন গণশক্তির ও শূদ্রশক্তির প্রতীক। এছাড়াও তিনি বিঘ্নেশ
সিদ্ধিদাতা বলেও পরিচিত। গণেশ বলতে শ্রমশক্তিকে বোঝায় । গণেশ গণদেবতা বা
সম্প্রদায়ের সমষ্টির প্রতীক। কর্মতত্ত্ব এখানে বিদ্যমান।
অন্যদিকে মা দুর্গার বামে মা সরস্বতী ও শ্রীকার্ত্তিকের অবস্থান
মা সরস্বতী স্বয়ং জ্ঞানের দেবী। সরস্বতী সম্প্রদায়ের জ্ঞান শক্তির প্রতীক। প্রাচীনকাল হতে ব্রাহ্মণগণ শাস্ত্রপাঠ, পুথি অধ্যায়ন ও বেদান্ত জ্ঞানের সাথে যুক্ত। তাই সরস্বতী ব্রাহ্মণ্য শক্তির প্রতীক। বেদান্ত জ্ঞানের ভাণ্ডার। উত্তম মেধা ও ধীশক্তির প্রতীকরূপে মা দুর্গার বামে মা সরস্বতী দেবীর অবস্থান।
মা সরস্বতী স্বয়ং জ্ঞানের দেবী। সরস্বতী সম্প্রদায়ের জ্ঞান শক্তির প্রতীক। প্রাচীনকাল হতে ব্রাহ্মণগণ শাস্ত্রপাঠ, পুথি অধ্যায়ন ও বেদান্ত জ্ঞানের সাথে যুক্ত। তাই সরস্বতী ব্রাহ্মণ্য শক্তির প্রতীক। বেদান্ত জ্ঞানের ভাণ্ডার। উত্তম মেধা ও ধীশক্তির প্রতীকরূপে মা দুর্গার বামে মা সরস্বতী দেবীর অবস্থান।
দেবসেনাপতি কার্ত্তিক হলেন ক্ষত্রিয়শক্তির প্রতীক। এছাড়াও তিনি সংযম ও
ব্রহ্মচর্যের প্রতীক। কুমার কার্ত্তিককে অবিবাহিত বলা হয়। ব্রহ্মচর্য ও
ইন্দ্রিয় দমনের প্রতীকরূপে দেবীর বামে শ্রীকার্ত্তিকের অবস্থান।
গণশক্তি, ধনশক্তি, জ্ঞানশক্তি, ব্রহ্মচর্যশক্তি একত্র হলেই মহামিলন ও
মহামুক্তি। এই চারিটির সমন্বয় ঘটলেই জাতীয় জীবনে মহাশক্তির আবির্ভাব ও
লীলাবিকাশ ঘটে। দুর্গাপূজা মহাশক্তি ও মহাজাতির পূজা। শারদীয় দুর্গাপূজায়
সবার হৃদয়ে লক্ষ্মীপূজার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
লক্ষ্মী দেবীর অনুধ্যান (Musing of the Pep deity)
“যাম্য করে পাশ, অক্ষমালা, সৌম্য করে পদ্ম ও অঙ্কুশ ধারিনী পদ্মাসনে উপবিষ্টা, শ্রী অর্থাৎ ঐশ্বর্য সম্পৎ ও সৌন্দর্য রূপিনী, ত্রিলোকের জননী, গৌরবর্ণা, সুন্দরী, সর্বা অলঙ্কার বিভূষিতা, ব্যগ্রহস্তে স্বর্ণ পদ্ম ধারিনী এবং দক্ষিণ হস্তে বরদানকারিনী দেবীকে ধ্যান করি।
“যাম্য করে পাশ, অক্ষমালা, সৌম্য করে পদ্ম ও অঙ্কুশ ধারিনী পদ্মাসনে উপবিষ্টা, শ্রী অর্থাৎ ঐশ্বর্য সম্পৎ ও সৌন্দর্য রূপিনী, ত্রিলোকের জননী, গৌরবর্ণা, সুন্দরী, সর্বা অলঙ্কার বিভূষিতা, ব্যগ্রহস্তে স্বর্ণ পদ্ম ধারিনী এবং দক্ষিণ হস্তে বরদানকারিনী দেবীকে ধ্যান করি।
লক্ষ্মী দেবীর স্তোত্র (Hymn of the Pep deity)
“লক্ষ্মীঃ শ্রীঃ কমলা বিদ্যা মাতা বিষ্ণুপ্রিয়া সতী।
পদ্মালয়া পদ্মহস্তা পদ্মাক্ষী পদ্মসুন্দরী।।
ভূতানামীশ্বরী নিত্যা মতা সত্যাগতা শুভা।
বিষ্ণুপত্নী মহাদেবী ক্ষীরোদতনয়া ক্ষমা।।
অনন্তলোকলাভা চ ভূলীলা চ সুখপ্রদা।
রুক্মিণী চ তথা সীতা মা বৈ বেদবতী শুভা।।
এতানি পুন্যনামানি প্রাতরুথায় যঃ পঠেৎ।
মহাশ্রিয়নবাপ্নোতি ধনধান্যকল্মষম।।”
শ্রী, কমলাবিদ্যা, মাতা, বিষ্ণুপ্রিয়া, সতী, পদ্মালয়া পদ্মহস্তা পদ্মাক্ষী পদ্মসুন্দরী, ভূতগণের ঈশ্বরী, নিত্যা, সত্যাগতা, শুভা, বিষ্ণুপত্নী, ক্ষীরোদ– তনয়া, ক্ষমা স্বরূপা, অনন্তলোকলাভা, ভূলীলা, সুখপ্রদা, রুক্মিণী, সীতা, বেদবতী– দেবীর এ সকল নাম । প্রাতেঃ উত্থান কালে যারা দেবীর এই পুন্য নামাবলী পাঠ করেন তারা বিপুল ঐশ্বর্য পেয়ে ধনী হয়ে থাকেন। অগ্নি পুরাণ মতে শ্রী বা লক্ষ্মী হলেন যজ্ঞবিদ্যা, তিনিই আত্ম্যবিদ্যা, যাবতীয় গুহ্যবিদ্যা ও মহাবিদ্যা ও তিনি।
“যজ্ঞবিদ্যা মহাবিদ্যা গুহ্যবিদ্যা চ শোভনা।
আত্ম্যবিদ্যা চ দেবি বিমুক্তিফলদায়িনী।।”
“লক্ষ্মীঃ শ্রীঃ কমলা বিদ্যা মাতা বিষ্ণুপ্রিয়া সতী।
পদ্মালয়া পদ্মহস্তা পদ্মাক্ষী পদ্মসুন্দরী।।
ভূতানামীশ্বরী নিত্যা মতা সত্যাগতা শুভা।
বিষ্ণুপত্নী মহাদেবী ক্ষীরোদতনয়া ক্ষমা।।
অনন্তলোকলাভা চ ভূলীলা চ সুখপ্রদা।
রুক্মিণী চ তথা সীতা মা বৈ বেদবতী শুভা।।
এতানি পুন্যনামানি প্রাতরুথায় যঃ পঠেৎ।
মহাশ্রিয়নবাপ্নোতি ধনধান্যকল্মষম।।”
শ্রী, কমলাবিদ্যা, মাতা, বিষ্ণুপ্রিয়া, সতী, পদ্মালয়া পদ্মহস্তা পদ্মাক্ষী পদ্মসুন্দরী, ভূতগণের ঈশ্বরী, নিত্যা, সত্যাগতা, শুভা, বিষ্ণুপত্নী, ক্ষীরোদ– তনয়া, ক্ষমা স্বরূপা, অনন্তলোকলাভা, ভূলীলা, সুখপ্রদা, রুক্মিণী, সীতা, বেদবতী– দেবীর এ সকল নাম । প্রাতেঃ উত্থান কালে যারা দেবীর এই পুন্য নামাবলী পাঠ করেন তারা বিপুল ঐশ্বর্য পেয়ে ধনী হয়ে থাকেন। অগ্নি পুরাণ মতে শ্রী বা লক্ষ্মী হলেন যজ্ঞবিদ্যা, তিনিই আত্ম্যবিদ্যা, যাবতীয় গুহ্যবিদ্যা ও মহাবিদ্যা ও তিনি।
“যজ্ঞবিদ্যা মহাবিদ্যা গুহ্যবিদ্যা চ শোভনা।
আত্ম্যবিদ্যা চ দেবি বিমুক্তিফলদায়িনী।।”
দেবী ভাগবত মতে যে স্বর্গে তিনিই স্বর্গ লক্ষ্মী, রাজগৃহে তিনি
রাজলক্ষ্মী, গৃহে তিনি গৃহলক্ষ্মী। তিনি শান্তা, দান্তা, সুশীলা, সর্ব
মঙ্গলা, ষড়রিপু বর্জিতা। এক কথায় ধন, জ্ঞান, শীল– তিনেরই বিকাশ দেবী
লক্ষ্মীর মধ্যে। কমলের মতো তিনি সুন্দরী, কমলাসনে তাঁর নিবাস। কমল বা পদ্ম
হল বিকাশ বা অভ্যুদয়ের প্রতীক। পুরানে আছে সাগর মন্থন কালে দেবী লক্ষ্মী
সমুদ্র থেকে প্রকট হন। সাগর হল লক্ষ্মী দেবীর পিতা। সাগরেই মুক্তা, প্রবাল
আদি রত্ন পাওয়া যায়। রত্ন হল ধন, যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন লক্ষ্মী।
তিনি বিষ্ণুপ্রিয়া। তিনি শ্রী বিষ্ণুর সহধর্মিণী। তিনি সীতা, তিনি রাধা
তথা রুক্মিণী। তিনি মহাপ্রভুর সহধর্মিণী লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। তিনি ঠাকুর
রামকৃষ্ণ দেবের সহধর্মিণী মা সারদা। শরত ঋতু তে আমরা যে দুর্গাদেবীর পূজো
করি তিনিও মহালক্ষ্মী স্বরূপা। দেবী লক্ষ্মী মহামায়া আদিশক্তির এক অংশ।
দেবী লক্ষ্মী কে চঞ্চলা বলা হয়। কারণ লক্ষ্মী দেবী নাকি এক জায়গায়
থাকেন না। ধন হস্তান্তর হয়। কুপাত্রের হাতে বিপুল ধন আসলে সে ধনের অসৎ
প্রয়োগ করে লক্ষ্মী কে হারায়। রাবণ লক্ষ্মী সীতা দেবীকে অসৎ উপায়ে ভোগ
করতে চেয়েছিলেন, এই কারনে গোটা লঙ্কা ধ্বংস হয়েছিল । রাবন নিহত
হয়েছিলেন। এই থেকে আমরা শিক্ষা লাভ করি লক্ষ্মীর কৃপা সব সময় এ শুভ কাজেই
ব্যবহার করা উচিৎ। এবং কখনো অসৎ উপায় অবলম্বন করে লক্ষ্মী প্রাপ্তির আশা
করা উচিত নয়। না হলে রাবনের মতো আমাদেরও বিনাশ নিশ্চিত। দেবী লক্ষ্মীর
নিবাস কোথায় ? তিনি কি খালি বৈকুন্ঠে শ্রী বিষ্ণুর পাদপদ্মে থাকেন?
যেখানে শীল ও সদাচার থাকে দেবী সেখানেই বাস করেন। ব্রহ্ম বৈবরত পুরানে
দেবী নিজ পরিচয় দিয়েছেন- “যে সকল গৃহে গুরু, ঈশ্বর, পিতামাতা, আত্মীয়,
অতিথি, পিতৃলোক রুষ্ট হন, সে সকল গৃহে আমি কদাপি প্রবেশ করি না। আমি সে সকল
গৃহে যেতে ঘৃনা বোধ করি, যে সকল ব্যাক্তি স্বভাবতঃ মিথ্যাবাদী, সর্বদা
কেবল ‘নাই’, ‘নাই’ করে, যারা দুর্বলচেতা এবং দুঃশীল। যারা সত্য হীন, মিথ্যা
সাক্ষ্য দান করে, বিশ্বাসঘাতক, কৃতঘ্ন, যে সকল ব্যাক্তি সর্বদা
দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, ভয়গ্রস্ত, শত্রু গ্রস্ত, ঋণ গ্রস্ত, অতি কৃপণ, দীক্ষা
হীন, শোকার্ত, মন্দঘ্নী, স্ত্রী বশীভূত, কুলটার পতি, দুর্বাক, কলহ পরায়ণ,
যারা ভগবানের পূজো ও তাঁর নাম গুন কীর্তনে বিমুখ, যারা শয়নের পূর্বে
পাদপ্রক্ষালন করে না, নগ্ন হয়ে শয়ন করে, বেশী ঘুমায়, প্রভাতে সন্ধ্যায়
দিবসে নিদ্রা যায়, যাদের দন্ত অপরিচ্ছন্ন, বসন মলিন, মস্তক রুক্ষ, হাস্য
বিকৃত, তাদের গৃহে আমি কদাপি গমন করি না।
আমি সে সকল গৃহে বসতি করি, যে সকল গৃহ শ্বেত পারাবত অধুষ্যিত, যেখানে
গৃহিণী উজ্জ্বল সুশ্রী, যেখানে কলহ নাই, ধান্য সকল সুবর্ণ সদৃশ, তণ্ডুল
রজতোপম এবং অন্ন তুষহীন। যে গৃহস্থ পরিজনের মধ্যে ধন ভোগ্য বস্তুর সমান
বিভাগ পূর্বক বিতরণ করেন, যিনি মিষ্টভাষী, বৃদ্ধপোসেবী, প্রিয়দর্শন,
স্বল্পভাষী, অ দীর্ঘ সূত্রী, ধার্মিক, জিতেন্দ্রিয়, বিদ্যাবিনয়ী, অ
গর্বিত, জনানুরাগী, পরপীড়ন বিমুখ, যিনি ধীরে স্নান করেন, চয়িত পুস্প
আঘ্রাণ করেন না, সংযত এমন ব্যাক্তি আমার কৃপা পেয়ে থাকেন। শুধু অর্থ নয়,
উন্নত চরিত্রও মানুষের অমূল্য সম্পদ। লক্ষ্মী দেবীর কৃপা তাঁরাই লাভ করেন
যারা নৈতিক চরিত্রের অধিকারী। লক্ষ্মী র কৃপা সব সময় সৎ কাজেই ব্যাবহার
করা উচিত। মানুষ যদি লক্ষ্মীর অপপ্রয়োগ করেন তবে অলক্ষ্মীর শাপে সে ধ্বংস
হবেই। যে শুদ্ধ নৈতিক চরিত্রের অধিকারী তাঁর গৃহে লক্ষ্মী অচলা হয়ে
অবস্থান করেন। আর যারা ঠিক এর উল্টো তারা কর্মদোষে অলক্ষ্মীর আহ্বান করে
ধ্বংসের পথে অগ্রসর হয়। লক্ষ্মী হল ‘শ্রী’। সকল নারীর মধ্যে যে শীল ও
সদাচার আছে তার মাধ্যমেই তিনি প্রকাশিতা। তাই যেখানে নারী দের প্রতি
অবমাননা হয়, বা যারা নারী দের ওপর নির্যাতন করেন– সেই সব জায়গায় কখনই
দেবী লক্ষ্মীর কৃপা বর্ষণ হয় না। কথিত আছে কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার দিন
দেবী রাত্রে খোঁজ নেন– কে জেগে আছেন? যে জেগে অক্ষক্রীড়া করে, লক্ষ্মী
তাঁকে ধন সম্পদ দান করেন।
“নিশীথে বরদা লক্ষ্মীঃ জাগরত্তীতিভাষিণী।
তস্মৈ বিত্তং প্রযচ্ছামি অক্ষৈঃ ক্রীড়াং করোতি যঃ।।”
অক্ষক্রীড়া শব্দের সাধারন অর্থ পাশা খেলা। এক শ্রেনীর লোক এই দিন পাশা খেলার মাধ্যমে টাকা পয়সা বাজি রেখে জুয়া খেলায় মেতে ওঠে। আবার কেউ কেউ এই দিন পরের বাগানের ফলমূল চুরি করে গাছপালা তছনছ করে। এই সব অর্থহীন কাজের মাধ্যমে তারা ভাবে যে লক্ষ্মী দেবী তাদের কৃপা করবেন।
তস্মৈ বিত্তং প্রযচ্ছামি অক্ষৈঃ ক্রীড়াং করোতি যঃ।।”
অক্ষক্রীড়া শব্দের সাধারন অর্থ পাশা খেলা। এক শ্রেনীর লোক এই দিন পাশা খেলার মাধ্যমে টাকা পয়সা বাজি রেখে জুয়া খেলায় মেতে ওঠে। আবার কেউ কেউ এই দিন পরের বাগানের ফলমূল চুরি করে গাছপালা তছনছ করে। এই সব অর্থহীন কাজের মাধ্যমে তারা ভাবে যে লক্ষ্মী দেবী তাদের কৃপা করবেন।
‘অক্ষ’ শব্দটির অনেক রকম মানে হয় । অক্ষ শব্দটির
দ্বিতীয় অর্থ– ক্রয় বিক্রয় চিন্তা। যারা বৈশ্য তাঁরা এইদিন দেবীর আরাধনা
করে ব্যবসা বাণিজ্যের চিন্তন করেন। দেবীর কৃপা পেলেই ত ব্যবসায় সফলতা
আসবে। ‘অক্ষ’ শব্দটির আরেক ভাবে রুদ্রাক্ষ, জপমালা কেউ
বোঝায়। যারা ভক্ত মানুষ– তাঁরা এই রাত্রে দেবীর কৃপা পাবার আশায় তাঁর নাম
জপ করেন। ধন সম্পদ বলতে শুধু কি অর্থ, সোনা দানা? বৈকুণ্ঠ ধাম, শ্রী
বিষ্ণুর পাদপদ্ম পরম ধন। লক্ষ্মী পূজোর রাত্রে দেবী আসেন মর্ত্যলোকের
দ্বারে দ্বারে। কিন্তু যে ঘুমিয়ে থাকে তার দ্বার থাকে লক্ষ্মী দেবী চলে
যান। কিন্তু যিনি জেগে ভক্তি চিত্তে লক্ষ্মী জনার্দনের উপাসনা, নামস্মরণ
করেন দেবী তাঁকেই কৃপা করেন।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন-
“যা নিশা সর্বভূতানাং সা নিশা জাগরতি সংযমী।
যস্যাং জাগ্রতি ভূতানি সা নিশা পশাতো মুনেঃ।।”
অর্থাৎ সর্ব ভূতের যা রাত্রি, সংযমীর পক্ষে তা দিন। তাঁদের যা দিন, তাঁর তা রাত্রি। সকল প্রানী পরমার্থ বিষয়ে নিদ্রিত কিন্তু বিষয়ভোগে জাগ্রত। কিন্তু সংযমী সাধু যোগী পরমার্থ বিষয়ে জাগ্রত, বিষয়ভোগে নিদ্রিত। দেখা যায় দিবাকালে অন্য প্রাণীরা যখন জাগ্রত পেচক তখন নিদ্রিত। পেচক নিশাচর। নিশীথের নিস্তব্ধ পরিবেশ সাধুদের সাধনার অনুকূল। তাই পেচক আমেদের পরমার্থ চিন্তার আদর্শ সেখায়, যার মাধ্যমে আমরা দেবীর কৃপা পেতে পারি। আসুন আমরা সকলে কোজাগরী পূর্ণিমার শুভ তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় ব্রতী হই ।
“যা নিশা সর্বভূতানাং সা নিশা জাগরতি সংযমী।
যস্যাং জাগ্রতি ভূতানি সা নিশা পশাতো মুনেঃ।।”
অর্থাৎ সর্ব ভূতের যা রাত্রি, সংযমীর পক্ষে তা দিন। তাঁদের যা দিন, তাঁর তা রাত্রি। সকল প্রানী পরমার্থ বিষয়ে নিদ্রিত কিন্তু বিষয়ভোগে জাগ্রত। কিন্তু সংযমী সাধু যোগী পরমার্থ বিষয়ে জাগ্রত, বিষয়ভোগে নিদ্রিত। দেখা যায় দিবাকালে অন্য প্রাণীরা যখন জাগ্রত পেচক তখন নিদ্রিত। পেচক নিশাচর। নিশীথের নিস্তব্ধ পরিবেশ সাধুদের সাধনার অনুকূল। তাই পেচক আমেদের পরমার্থ চিন্তার আদর্শ সেখায়, যার মাধ্যমে আমরা দেবীর কৃপা পেতে পারি। আসুন আমরা সকলে কোজাগরী পূর্ণিমার শুভ তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় ব্রতী হই ।
মা লক্ষ্মী দেবীর আগমন বাহন
(The vehicles of arrivals of deity mother Pep)
মা লক্ষ্মী দেবীর আগমন বাহন পেঁচক ও হাতি। মা লক্ষ্মী কখনো পেঁচকে আবার কখনো হাতির পিষ্ঠে আসন গ্রহণ করে কৈলাস হতে আগমন করেন এবং পূজা শেষে আবার কৈলাসই প্রত্যাগমন করেন।
(The vehicles of arrivals of deity mother Pep)
মা লক্ষ্মী দেবীর আগমন বাহন পেঁচক ও হাতি। মা লক্ষ্মী কখনো পেঁচকে আবার কখনো হাতির পিষ্ঠে আসন গ্রহণ করে কৈলাস হতে আগমন করেন এবং পূজা শেষে আবার কৈলাসই প্রত্যাগমন করেন।
পেচক (Owl)
লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা কেন? কেউ কেউ বলেন, এটি বিষ্ণুর বাহন গরুড়ের পরিবর্তিত রূপ। মা লক্ষ্মী আসলে তাঁর স্বামীর বাহনটিই ব্যবহার করেন। কিন্তু এরূপ পেঁচার কেন? লক্ষ্মীর দেওয়া ধন যারা অপব্যবহার করে, তাদের কপালে লেখা আছে যমের দণ্ড—এ কথা ঘোষণা করে লক্ষ্মীর বাহন। তাই কথায় বলে, ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’। তাছাড়া ধনসম্পত্তি, সে টাকাকড়ি হোক বা সাধনধনই হোক, সদাজাগ্রত অবস্থায় রক্ষা করতে হয়। রাতে সবাই যখন ঘুমায়, তখন পেঁচা জেগে থাকে। পেঁচাই সে ধনসম্পদ পাহারা দেয়।
লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা কেন? কেউ কেউ বলেন, এটি বিষ্ণুর বাহন গরুড়ের পরিবর্তিত রূপ। মা লক্ষ্মী আসলে তাঁর স্বামীর বাহনটিই ব্যবহার করেন। কিন্তু এরূপ পেঁচার কেন? লক্ষ্মীর দেওয়া ধন যারা অপব্যবহার করে, তাদের কপালে লেখা আছে যমের দণ্ড—এ কথা ঘোষণা করে লক্ষ্মীর বাহন। তাই কথায় বলে, ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’। তাছাড়া ধনসম্পত্তি, সে টাকাকড়ি হোক বা সাধনধনই হোক, সদাজাগ্রত অবস্থায় রক্ষা করতে হয়। রাতে সবাই যখন ঘুমায়, তখন পেঁচা জেগে থাকে। পেঁচাই সে ধনসম্পদ পাহারা দেয়।
অন্যদিকে ধান হচ্ছে মা লক্ষ্মীর প্রতীক। চাল, অন্ন, খাদ্যশস্য হল
লক্ষ্মীর প্রতীক। তাই যারা খাদ্য অপচয় করেন, তাঁদের ওপর দেবী লক্ষ্মী
কখনোই তুষ্ট হন না। ধানক্ষেতের আশেপাশে মূষিক এর বাস। এবং এরা ধানের ক্ষতি
করে থাকে। পেঁচক এর আহার হল এই মূষিক। গোলাঘর কে লক্ষ্মীর প্রতীক বলা হয়।
গোলাঘরের আশেপাশে মূষিক কূলের নিবাস। পেচক এই মূষিক দের ভক্ষণ করে
খাদ্যশস্য কে রক্ষা করে। তাই এদিক থেকে পেঁচক মা লক্ষ্মীর বাহন হিসাবে
যথার্থ মানানসই। পেঁচক দিনে অন্ধ। সে রাত্রে জাগে। তাই আমরা যেনো পরধন
সমন্ধে তেমন অন্ধ হই। কখনো যেনো অন্যের ধন আত্মস্যাৎ করার ইচ্ছা মনে না
জাগে?
হাতি/ গজ (Elephant)
সাধারণত বিশালদেহী এক প্রকার বন্য প্রাণীকে হাতি বলা হয়। কিন্তু রূপক সাহিত্যে যে কোন বিশালদেহী প্রাণী, পুরুষদেহ ও শিশ্নকে হাতি বলা হয়। আর এ সূত্র ধরেই এখানে শিশ্নকে হাতি বলা হয়েছে। যেমন পবিত্র কুরানে বলা হয়েছে- “আপনি কী দেখেন না যে- আপনার প্রতিপালক হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ আচরণ করেন?” “أَلَمْ تَرَى كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ” (আলাম তারা কাইফা ফায়ালা রাব্বুকা বি আসহাবিল ফিল)। (Alam tara kayfa fa’ala rabbuka bi-ashabil feel). “Have you not seen how your Lord dealt with the Elephant forces? (কুরান, সুরা ফিল- ১)। “তাদের চক্রান্তকে তিনি কী পথভ্রষ্টায় পতিত করেন না?” “أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ” (Alam yeaj’al kaydahum fee tadleel). “Did He not make their plot go astray?” (কুরান, সুরা ফিল- ২)। “তাদের প্রতি পক্ষীদল প্রেরিত হয়।” “وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ” (ওয়া আরসালা আলাইহিম ত্বইরান আবাবিল)। (Wa arsala alayhim tayran ababeel). “And sent against them birds, in flocks.” (কুরান, সুরা ফিল- ৩)। “তাদের প্রতি তলদেশ হতে প্রস্তর নিক্ষিপ্ত হয়।” “تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ” (তারমিহিম বিহিজারতিম মিন সিজ্জিল)। (Tarmeehim bihijaratim min sijjeel). “Striking them with stones of Sijjîl.” (কুরান, সুরা ফিল- ৪)। “পরে তাদের চর্বণকৃত ভুষিবৎ করা হয়।” “فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ” (ফাজায়ালাহুম কায়াসফিম মা’কুল)। (Fa ja’lahum ka’asfim ma’kul). “And made them like an empty field of stalks.” (কুরান, সুরা ফিল- ৫)।
সাধারণত বিশালদেহী এক প্রকার বন্য প্রাণীকে হাতি বলা হয়। কিন্তু রূপক সাহিত্যে যে কোন বিশালদেহী প্রাণী, পুরুষদেহ ও শিশ্নকে হাতি বলা হয়। আর এ সূত্র ধরেই এখানে শিশ্নকে হাতি বলা হয়েছে। যেমন পবিত্র কুরানে বলা হয়েছে- “আপনি কী দেখেন না যে- আপনার প্রতিপালক হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ আচরণ করেন?” “أَلَمْ تَرَى كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ” (আলাম তারা কাইফা ফায়ালা রাব্বুকা বি আসহাবিল ফিল)। (Alam tara kayfa fa’ala rabbuka bi-ashabil feel). “Have you not seen how your Lord dealt with the Elephant forces? (কুরান, সুরা ফিল- ১)। “তাদের চক্রান্তকে তিনি কী পথভ্রষ্টায় পতিত করেন না?” “أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ” (Alam yeaj’al kaydahum fee tadleel). “Did He not make their plot go astray?” (কুরান, সুরা ফিল- ২)। “তাদের প্রতি পক্ষীদল প্রেরিত হয়।” “وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ” (ওয়া আরসালা আলাইহিম ত্বইরান আবাবিল)। (Wa arsala alayhim tayran ababeel). “And sent against them birds, in flocks.” (কুরান, সুরা ফিল- ৩)। “তাদের প্রতি তলদেশ হতে প্রস্তর নিক্ষিপ্ত হয়।” “تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ” (তারমিহিম বিহিজারতিম মিন সিজ্জিল)। (Tarmeehim bihijaratim min sijjeel). “Striking them with stones of Sijjîl.” (কুরান, সুরা ফিল- ৪)। “পরে তাদের চর্বণকৃত ভুষিবৎ করা হয়।” “فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ” (ফাজায়ালাহুম কায়াসফিম মা’কুল)। (Fa ja’lahum ka’asfim ma’kul). “And made them like an empty field of stalks.” (কুরান, সুরা ফিল- ৫)।
কৈলাস (Kailash)/ (Male body)
এটি একটি পর্বতমালা বিশেষ। পুরাণোক্ত মহাদেব ও কুবেরের বাসস্থানরূপে এ পর্বত বিখ্যাত। এর অবস্থান হিমালয়ের চূড়ায় মানস-সরোবরের উত্তর-পশ্চিম দিকে। এখানে মহাদেবের রাজপুরী অবস্থিত। মহাদেবের মহামান্যা স্ত্রী শ্রীমতি দুর্গা, শ্রীমতি পার্বতী এখানে বাস করেন। এ কৈলাস হতেই মহামান্যা শ্রীমতি দুর্গা ও লক্ষ্মী প্রতিবছর মর্ত্যধামে গমনাগমন করে থাকেন। অতঃপর পূজা শেষে আবার এ পর্বতেই ফিরে যান। তবে পুরাণীদের মধ্যে যারা মা লক্ষ্মীর আবাস বৈকুণ্ঠ বলে থাকেন তারা কেউ আত্মতত্ত্ব ভেদ জানে না। আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্ব ভেদ জেনে দেখুন তবেই খুজে পাবেন মা লক্ষ্মীর আবাস-নিবাস।
এটি একটি পর্বতমালা বিশেষ। পুরাণোক্ত মহাদেব ও কুবেরের বাসস্থানরূপে এ পর্বত বিখ্যাত। এর অবস্থান হিমালয়ের চূড়ায় মানস-সরোবরের উত্তর-পশ্চিম দিকে। এখানে মহাদেবের রাজপুরী অবস্থিত। মহাদেবের মহামান্যা স্ত্রী শ্রীমতি দুর্গা, শ্রীমতি পার্বতী এখানে বাস করেন। এ কৈলাস হতেই মহামান্যা শ্রীমতি দুর্গা ও লক্ষ্মী প্রতিবছর মর্ত্যধামে গমনাগমন করে থাকেন। অতঃপর পূজা শেষে আবার এ পর্বতেই ফিরে যান। তবে পুরাণীদের মধ্যে যারা মা লক্ষ্মীর আবাস বৈকুণ্ঠ বলে থাকেন তারা কেউ আত্মতত্ত্ব ভেদ জানে না। আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্ব ভেদ জেনে দেখুন তবেই খুজে পাবেন মা লক্ষ্মীর আবাস-নিবাস।
আত্মদর্শন (Theosophy)
এবার আমাদের কথা হচ্ছে কে এই লক্ষ্মী? আর পুরাণীরা কেন লক্ষ্মীকে মা বলে থাকেন? অন্যদিকে কুরানীরা কেন ফাত্বিমাকে মা বলে থাকেন? তবে কী লক্ষ্মী ও ফাত্বিমা একই সত্তা? হ্যাঁ এরূপ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- বাংভারতীয় পুরাণীরা মানবদেহের যে সত্তাকে মা লক্ষ্মী বলেন; কুরানীরা সে সত্তাকেই মা ফাত্বিমা বলেন। মা লক্ষ্মী ও মা ফাত্বিমা মানবদেহের একই সত্তা কেবল ভাষার ভিন্নতা মাত্র। লক্ষ্মীর অপর নাম বিষ্ণুপ্রিয়া, সতী, পদ্মালয়া, পদ্মহস্তা, পদ্মাক্ষী, পদ্মসুন্দরী, ঈশ্বরী, সুখপ্রদা, রুক্মিণী, সীতা ও বেদবতী ইত্যাদি। যিনি জগৎ সৃষ্টির আদি কারণ। যাকে সৃষ্টি করা না হলে এ বিশ্ব সৃষ্টি করা হতো না। নিচে লক্ষ্মীর আত্মতাত্ত্বিক দর্শন তুলে ধরা হলো।
এবার আমাদের কথা হচ্ছে কে এই লক্ষ্মী? আর পুরাণীরা কেন লক্ষ্মীকে মা বলে থাকেন? অন্যদিকে কুরানীরা কেন ফাত্বিমাকে মা বলে থাকেন? তবে কী লক্ষ্মী ও ফাত্বিমা একই সত্তা? হ্যাঁ এরূপ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- বাংভারতীয় পুরাণীরা মানবদেহের যে সত্তাকে মা লক্ষ্মী বলেন; কুরানীরা সে সত্তাকেই মা ফাত্বিমা বলেন। মা লক্ষ্মী ও মা ফাত্বিমা মানবদেহের একই সত্তা কেবল ভাষার ভিন্নতা মাত্র। লক্ষ্মীর অপর নাম বিষ্ণুপ্রিয়া, সতী, পদ্মালয়া, পদ্মহস্তা, পদ্মাক্ষী, পদ্মসুন্দরী, ঈশ্বরী, সুখপ্রদা, রুক্মিণী, সীতা ও বেদবতী ইত্যাদি। যিনি জগৎ সৃষ্টির আদি কারণ। যাকে সৃষ্টি করা না হলে এ বিশ্ব সৃষ্টি করা হতো না। নিচে লক্ষ্মীর আত্মতাত্ত্বিক দর্শন তুলে ধরা হলো।
লক্ষ্মী Pep (পেপ)/ ‘الحماسي’ (আলহামাসি)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শুক্র’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘শুক্র’, রূপক পরিভাষা ‘ধন’, উপমান পরিভাষা ‘অমির, আংগুর, খেজুর, নারী, নির্যাস, ধেনু, পিতৃধন, ফসল, রুটি ও স্বর্গীয়ফল’, চারিত্রিক পরিভাষা ‘দুর্গা, নারাঙ্গী, বেহুলা, মায়া, রতী, রাধা, লক্ষ্মী ও সীতা’ এবং ছদ্মনাম পরিভাষা ‘আদিপিতা, আদিমানব, দৈত্য ও মা’।
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শুক্র’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘শুক্র’, রূপক পরিভাষা ‘ধন’, উপমান পরিভাষা ‘অমির, আংগুর, খেজুর, নারী, নির্যাস, ধেনু, পিতৃধন, ফসল, রুটি ও স্বর্গীয়ফল’, চারিত্রিক পরিভাষা ‘দুর্গা, নারাঙ্গী, বেহুলা, মায়া, রতী, রাধা, লক্ষ্মী ও সীতা’ এবং ছদ্মনাম পরিভাষা ‘আদিপিতা, আদিমানব, দৈত্য ও মা’।
লক্ষ্মী (রূপ)বিস্ত্রী কমলা, রমা, ইন্দিরা, পদ্মা, পদ্মালয়া, সৌভাগ্য, শোভা, শ্রী, সৌন্দর্য, Pep (পেপ), ‘الحماسي’ (আলহামাসি) (প্র) ১.ধন ঐশ্বর্য ও সৌভাগ্যের দেবী ২.পুরাণোক্ত বিষ্ণুপত্নী (আবি)বি শুক্র, শুক্রাণু, বীর্য, বিন্দু, ধাতু, semen (সিমেন), ‘আ.ﻤﻧﻰ’ (মনি), ‘আ.ﻧﻂﻔﺔ’ (নুত্বফা) (আভা)বি গোবিন্দ, জল, বারি, পিতৃধন স্ত্রী অহল্যা, কালী, দুর্গা, বৈষ্ণবী, সীতা (আদৈ)বি ‘আ.ﺍﺪﻢ’ (আদম), ‘আ.ﻋﺯٰﻰ’ (ওয্যা), ‘আ.ﺠﻦ’ (জিন), ‘ফা.ﭙﺮﻯ’ (পরি), ‘আ.ﺯﻜﺎﺓ’ (যাকাত), ‘আ.ﻟﻮﻄ’ (লুত্ব), ‘ﻴﺯﻴﺪ’ (ইয়াজিদ) স্ত্রী (আ.ﺯﻟﻴﺠﺎ) (জুলেখা), (আ.ﺒﺎﻠﻜﺱ) (বিলকিস) (ব্য্য) সর্ব শাস্ত্রীয় মতবাদে শুক্র দ্বারা আদিমানব বা আদিপিতা নির্মাণ করা হয়- যেমন গোবিন্দ ও ‘আ.ﺍﺪﻢ’ (আদম) প্রমুখ। এছাড়া শুক্র দ্বারা রূপক সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে নারীচরিত্র নির্মাণ করা হয়- যেমন লক্ষ্মী ও (আ.ﺯﻟﻴﺠﺎ) (জুলেখা) প্রমুখ (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শুক্র’ পরিবারের ‘চারিত্রিক পরিভাষা’ ও রূপক সাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.পুরাণোক্ত বিষ্ণুপত্নীকে লক্ষ্মী বলা হয় ২.রূপক সাহিত্যে পুরুষজাতির বীর্যকে রূপকার্থে লক্ষ্মী বলা হয় (ছনা)বি আদিপিতা, আদিমানব, আদ্যাশক্তি, দুর্গা, দৈত্য ও মা (চরি)বিস্ত্রী নারাঙ্গী, বেহুলা, রতী, রাধা, লক্ষ্মী, সীতা ও সুন্দরী (উপ)বি অমির, আঙ্গুর, ধেনু, নির্যাস, পদ্ম, পিতৃধন, রুটি ও স্বর্গীয়ফল (রূ)বি ধন (দেত)বি শুক্র {বাং.লক্ষ্য+ বাং.ই}
লক্ষ্মীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Pep)
১. “কৃষ্ণ ছিল গৌরবরণ, তার বুকে কালীর চরণ, সোনাবরণ লক্ষ্মী ঠাকুরাণী, বিষ্ণুর চরণ টিপতেছে।” (পবত্রি লালন- ২৯১/২)।
২. “ছেড়ে মূল ভক্তি ধারা, লক্ষ্মীছাড়া কপালপোড়া, দেখি তোরে, লেগে এ ভবের নিশা- তাইত দশা, সর্বনাশা বেড়াই ঘুরে।” (পবিত্র লালন- ৭৫৩/৩)।
৩. “মিছে রাজা নামটি আছে, লক্ষ্মী সেতো গা তুলেছে, যে হতে গোপাল গিয়েছে, সে হতে অন্ধকার পুরী।” (পবিত্র লালন- ৩০৭/৩)।
৪. “সত্যযুগে সঙ্গে কৌশকী ছলি, ত্রতোয় সঙ্গী সীতা লক্ষ্মী হলো, দ্বাপরে সঙ্গনিী- রাধা রঙ্গনিী, কলরি ভাবে তারা কোথায় রইল” (পবত্রি লালন- ২৮০/৩)।
(Some highly important quotations of Pep)
১. “কৃষ্ণ ছিল গৌরবরণ, তার বুকে কালীর চরণ, সোনাবরণ লক্ষ্মী ঠাকুরাণী, বিষ্ণুর চরণ টিপতেছে।” (পবত্রি লালন- ২৯১/২)।
২. “ছেড়ে মূল ভক্তি ধারা, লক্ষ্মীছাড়া কপালপোড়া, দেখি তোরে, লেগে এ ভবের নিশা- তাইত দশা, সর্বনাশা বেড়াই ঘুরে।” (পবিত্র লালন- ৭৫৩/৩)।
৩. “মিছে রাজা নামটি আছে, লক্ষ্মী সেতো গা তুলেছে, যে হতে গোপাল গিয়েছে, সে হতে অন্ধকার পুরী।” (পবিত্র লালন- ৩০৭/৩)।
৪. “সত্যযুগে সঙ্গে কৌশকী ছলি, ত্রতোয় সঙ্গী সীতা লক্ষ্মী হলো, দ্বাপরে সঙ্গনিী- রাধা রঙ্গনিী, কলরি ভাবে তারা কোথায় রইল” (পবত্রি লালন- ২৮০/৩)।
লক্ষ্মীর সংজ্ঞা (Definition of Pep)
পুরাণোক্ত বিষ্ণুপত্নীকে লক্ষ্মী বলে।
লক্ষ্মীর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Pep)
রূপক সাহিত্যে পুরুষজাতির বীর্যকে রূপকার্থে লক্ষ্মী বলে।
পুরাণোক্ত বিষ্ণুপত্নীকে লক্ষ্মী বলে।
লক্ষ্মীর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Pep)
রূপক সাহিত্যে পুরুষজাতির বীর্যকে রূপকার্থে লক্ষ্মী বলে।
লক্ষ্মীর পরিচয় (Identity of Pep)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শুক্র’ পরিবারের অধীন একটি ‘চারিত্রিক পরিভাষা’ বিশেষ। পুরাণী দর্শনে এখন পর্যন্ত স্বর্গীয়া একজন দেবী বলে গণ্য হয়ে আসছেন। অধিকাংশ পুরাণীই জানেন না কে এ লক্ষ্মী? কী তার বাস্তবমূলক? পুরাণী কিংবা কুরানী সবাই মূলক হারিয়ে কেবল রূপক, ব্যাপক ও উপমান সত্তাদির ভূতুড়ে অভিধা গ্রহণ করেই বর্তমানে শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক অঙ্গনে এত অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। উপদেশ আকারে বলা যায় যে শাস্ত্রীয় গ্রন্থের ভূতুড়ে সত্তাদি সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে আত্মতত্ত্বে ফিরে আসা সব মানুষের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাহলেই মানুষ শাস্ত্রীয় সন্ত্রাসীবৃত্তি হতে মুক্তিলাভ করতে পারবে।
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শুক্র’ পরিবারের অধীন একটি ‘চারিত্রিক পরিভাষা’ বিশেষ। পুরাণী দর্শনে এখন পর্যন্ত স্বর্গীয়া একজন দেবী বলে গণ্য হয়ে আসছেন। অধিকাংশ পুরাণীই জানেন না কে এ লক্ষ্মী? কী তার বাস্তবমূলক? পুরাণী কিংবা কুরানী সবাই মূলক হারিয়ে কেবল রূপক, ব্যাপক ও উপমান সত্তাদির ভূতুড়ে অভিধা গ্রহণ করেই বর্তমানে শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক অঙ্গনে এত অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। উপদেশ আকারে বলা যায় যে শাস্ত্রীয় গ্রন্থের ভূতুড়ে সত্তাদি সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে আত্মতত্ত্বে ফিরে আসা সব মানুষের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাহলেই মানুষ শাস্ত্রীয় সন্ত্রাসীবৃত্তি হতে মুক্তিলাভ করতে পারবে।
শাস্ত্রীয় পুরাণী মনীষীগণ লক্ষ্মীর প্রকৃত অর্থ বা সঠিক অভিধা না জানার
কারণে সারা বিশ্বের পুরাণীরা এ দেবীর পূজা করা ও বিসর্জন দেওয়ার মধ্যেই একে
সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন। এর থেকে কল্যাণ গ্রহণ করা হয়নি তিলমাত্র। যাই হোক
আমাদের আলোচ্য লক্ষ্মীর আত্মদর্শন বা আত্মতাত্ত্বিক সত্তা হচ্ছে পুরুষজাতির
বীর্য বা শুক্র।
অন্যদিকে বড় আশ্চর্য হবার বিষয় হলো সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয়,
সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও
অনুবাদকরা রূপক সাহিত্যে বর্ণিত ‘লক্ষ্মী’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবল কল্পিত ও
অজানা এক দেবীকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। তাই শাস্ত্রীয় ও সাম্প্রদায়িকরা
চিরদিনের জন্য আধ্যাত্মিকজ্ঞান বা আত্মতত্ত্বের জ্ঞানে চির অন্ধ। আর এ
জন্যই শাস্ত্রীয়দের থেকে সারা বিশ্বে যুগে যুগে এত শাস্ত্রীয় সন্ত্রাস ও
শাস্ত্রীয় আগ্রাসন সংঘটিত হয়েছে, হচ্ছে ও হবে। এমনকি বর্তমানকালেও
শাস্ত্রীয়রাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শীর্ষে।
প্রতিমা বিশ্লেষণ (Embodiment analysis)

পেচকবাহী মা লক্ষ্মী …………………… হস্তীবাহী মা লক্ষ্মী
এবার আমাদের লক্ষ্মী প্রতিমা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। ওপরের চিত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি; লক্ষ্মী একটি ফুলের ওপরে আরোহণকৃত। তার ৪টি হাত। দুই হাতে ফুল। এক হাতে বিনয় ও অন্য হাতে আশীর্বাদ। এছাড়া প্রতিমা বিষারদরা একেক জনে একেক ভাবে মা লক্ষ্মীর প্রতিমা নির্মাণ করে থাকেন। তবে ওপরের চিত্রটির মধ্যে মা লক্ষ্মী ও লক্ষ্মীপূজার প্রায় সব উপাদান রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। নিচে প্রতিমার অবয়বে রূপক ও ছদ্মনাম রূপে ব্যবহৃত উপাদানগুলোর মূলক উদ্ঘাটন করে দেখানো হলো।
ছদ্মনাম- মূলক
বিষ্ণু = গর্ভের ভ্রূণ পালনকর্তা
কৈলাস = পুরুষদেহ
পার্বতী = বীর্য
হাতি/ গজ = পুরুষদেহ
পেচক = শিশ্ন
দুর্গা = বীর্য
গণেশ = শিশ্ন
লক্ষ্মী = শুক্র
সরস্বতী = রজ
কার্তিক = রজ
চারহাত = চারচন্দ্র (১.সরলচন্দ্র ২.গরলচন্দ্র ৩.রোহিনীচন্দ্র ও ৪. মোহিনীচন্দ্র)
ফুল = দেহ
—————————————————————————————————————
দুর্গার স্বরূপ বিশ্লেষণ/ (Analysis of Sooth of Od)/ ‘ تحليل واقع من ‘التطوير التنظيمي’ (তাহলিল ওয়াক্বায়া মিন আত্তাতুয়ির আত্তাঞ্জিমি)
দুর্গার কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy ot Od)
দুর্গার আত্মদর্শন (Theosophy of Od)
কৈলাস (Kailash)/ (Male body)
দুর্গার আগমন-গমন বাহনসমূহ (The vehicles of arrivals-departure of Od (Durga))
হাতি/ গজ (Elephant)
ঘোড়া/ ঘোটকঃ (Horse)
নৌকাঃ (Boat)
দোলা/ পালকিঃ (Sedan)
মহিষাসুর তিনবার বধের ব্যাখ্যা (Explanation of three-kill of Piercer)
দুর্গা Od (ওড)/ ‘التطوير التنظيمي’ (আত্তাত্বায়িরু আত্তাঞ্জিম)
দুর্গার অভিধা (Meaning of Od)
দুর্গার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of Od)
দুর্গার সংজ্ঞা (Definition of Od)
দুর্গার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Od)
দুর্গার পরিচয় (Identity of Od)
প্রতিমা বিশ্লেষণ (Embodiment analysis)
ইন্দ্রাদির পরিচয় ও কাজ (Identity and jobs of the Organs)
১. চক্ষু (Eye) চক্ষের কাজ (Jobs of Eyes)
২. কর্ণ (Ear) কর্ণের কাজ (Jobs of Ears)
৩. নাসিকা (Nose) নাসিকার কাজ (Jobs of Nose)
৪. জিহবা (Tongue)
৫. ত্বক (Derm)
৬. বাক্ (Orator) বাকের কাজ (Jobs of Orator)
৭. পাণি (Hand) পাণির কাজ (Jobs of Hands)
৮. পাদ (Footsie) পাদের কাজ (Jobs of Footsie)
৯. পায়ু (Anus)
১০. উপস্থ (Genitalia) উপস্থের কাজ (Jobs of Genitalia)
অস্ত্রাদি (Weaponry)
এসব নিয়ে ‘দুর্গার স্বরূপ বিশ্লেষণ’ প্রকাশিকায় নাতিদীর্ঘ আলোচনা করেছি। সেজন্য এখানে আর আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। দুর্গা ও লক্ষ্মী একই মণ্ডপে একই প্রেমে পূজিত। তাই ওপরোক্ত বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক মনে করেও একান্ত প্রয়োজন মনে করেই সংযুক্ত করেছি। আশা করি পাঠককুল ক্ষমা করবেন।
—————————————————————————————————————
প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা করবেন কিভাবে?
(Every Thursday how will do Pep worship?)
বাংলার ঘরে ঘরে বৃহস্পতিবার হল সাপ্তাহিক লক্ষ্মী আরাধনার দিন। বাংলায় বৃহস্পতিবারকে বলা হয় লক্ষ্মীবার। এই দিন লক্ষ্মীপূজা করলে হৃদয়ে ও গৃহে চঞ্চলা লক্ষ্মী হন অচলা। কিন্তু আজকের কর্মব্যস্ত জীবনে শুদ্ধ আচারে অথচ সহজে লক্ষ্মীপূজা করবেন কিভাবে?
প্রতিমা বিশ্লেষণ (Embodiment analysis)
পেচকবাহী মা লক্ষ্মী …………………… হস্তীবাহী মা লক্ষ্মী
এবার আমাদের লক্ষ্মী প্রতিমা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। ওপরের চিত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি; লক্ষ্মী একটি ফুলের ওপরে আরোহণকৃত। তার ৪টি হাত। দুই হাতে ফুল। এক হাতে বিনয় ও অন্য হাতে আশীর্বাদ। এছাড়া প্রতিমা বিষারদরা একেক জনে একেক ভাবে মা লক্ষ্মীর প্রতিমা নির্মাণ করে থাকেন। তবে ওপরের চিত্রটির মধ্যে মা লক্ষ্মী ও লক্ষ্মীপূজার প্রায় সব উপাদান রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। নিচে প্রতিমার অবয়বে রূপক ও ছদ্মনাম রূপে ব্যবহৃত উপাদানগুলোর মূলক উদ্ঘাটন করে দেখানো হলো।
ছদ্মনাম- মূলক
বিষ্ণু = গর্ভের ভ্রূণ পালনকর্তা
কৈলাস = পুরুষদেহ
পার্বতী = বীর্য
হাতি/ গজ = পুরুষদেহ
পেচক = শিশ্ন
দুর্গা = বীর্য
গণেশ = শিশ্ন
লক্ষ্মী = শুক্র
সরস্বতী = রজ
কার্তিক = রজ
চারহাত = চারচন্দ্র (১.সরলচন্দ্র ২.গরলচন্দ্র ৩.রোহিনীচন্দ্র ও ৪. মোহিনীচন্দ্র)
ফুল = দেহ
—————————————————————————————————————
দুর্গার স্বরূপ বিশ্লেষণ/ (Analysis of Sooth of Od)/ ‘ تحليل واقع من ‘التطوير التنظيمي’ (তাহলিল ওয়াক্বায়া মিন আত্তাতুয়ির আত্তাঞ্জিমি)
দুর্গার কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy ot Od)
দুর্গার আত্মদর্শন (Theosophy of Od)
কৈলাস (Kailash)/ (Male body)
দুর্গার আগমন-গমন বাহনসমূহ (The vehicles of arrivals-departure of Od (Durga))
হাতি/ গজ (Elephant)
ঘোড়া/ ঘোটকঃ (Horse)
নৌকাঃ (Boat)
দোলা/ পালকিঃ (Sedan)
মহিষাসুর তিনবার বধের ব্যাখ্যা (Explanation of three-kill of Piercer)
দুর্গা Od (ওড)/ ‘التطوير التنظيمي’ (আত্তাত্বায়িরু আত্তাঞ্জিম)
দুর্গার অভিধা (Meaning of Od)
দুর্গার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of Od)
দুর্গার সংজ্ঞা (Definition of Od)
দুর্গার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Od)
দুর্গার পরিচয় (Identity of Od)
প্রতিমা বিশ্লেষণ (Embodiment analysis)
ইন্দ্রাদির পরিচয় ও কাজ (Identity and jobs of the Organs)
১. চক্ষু (Eye) চক্ষের কাজ (Jobs of Eyes)
২. কর্ণ (Ear) কর্ণের কাজ (Jobs of Ears)
৩. নাসিকা (Nose) নাসিকার কাজ (Jobs of Nose)
৪. জিহবা (Tongue)
৫. ত্বক (Derm)
৬. বাক্ (Orator) বাকের কাজ (Jobs of Orator)
৭. পাণি (Hand) পাণির কাজ (Jobs of Hands)
৮. পাদ (Footsie) পাদের কাজ (Jobs of Footsie)
৯. পায়ু (Anus)
১০. উপস্থ (Genitalia) উপস্থের কাজ (Jobs of Genitalia)
অস্ত্রাদি (Weaponry)
এসব নিয়ে ‘দুর্গার স্বরূপ বিশ্লেষণ’ প্রকাশিকায় নাতিদীর্ঘ আলোচনা করেছি। সেজন্য এখানে আর আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। দুর্গা ও লক্ষ্মী একই মণ্ডপে একই প্রেমে পূজিত। তাই ওপরোক্ত বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক মনে করেও একান্ত প্রয়োজন মনে করেই সংযুক্ত করেছি। আশা করি পাঠককুল ক্ষমা করবেন।
—————————————————————————————————————
প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা করবেন কিভাবে?
(Every Thursday how will do Pep worship?)
বাংলার ঘরে ঘরে বৃহস্পতিবার হল সাপ্তাহিক লক্ষ্মী আরাধনার দিন। বাংলায় বৃহস্পতিবারকে বলা হয় লক্ষ্মীবার। এই দিন লক্ষ্মীপূজা করলে হৃদয়ে ও গৃহে চঞ্চলা লক্ষ্মী হন অচলা। কিন্তু আজকের কর্মব্যস্ত জীবনে শুদ্ধ আচারে অথচ সহজে লক্ষ্মীপূজা করবেন কিভাবে?
নথি (Cartulary)
বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীপূজার উপকরণ অতীব সামান্য। যেগুলি লাগে সেগুলি হল—সিঁদুর, ঘট ১টি, ধান সামান্য, মাটি সামান্য, আমপল্লব ১টি, ফুল ১টি, দুর্বা সামান্য, তুলসীপাতা ২টি, ফুল, কাঁঠালি কলা বা হরীতকী ১টি, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, সামান্য আতপচাল ও জল। কোনো দ্রব্য সংগ্রহ করতে না পারলে, পূজার শেষে সেই দ্রব্যটির কথা মা লক্ষ্মীর কাছে উল্লেখ করে ক্ষমা চেয়ে নিলেই হবে।
বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীপূজার উপকরণ অতীব সামান্য। যেগুলি লাগে সেগুলি হল—সিঁদুর, ঘট ১টি, ধান সামান্য, মাটি সামান্য, আমপল্লব ১টি, ফুল ১টি, দুর্বা সামান্য, তুলসীপাতা ২টি, ফুল, কাঁঠালি কলা বা হরীতকী ১টি, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, সামান্য আতপচাল ও জল। কোনো দ্রব্য সংগ্রহ করতে না পারলে, পূজার শেষে সেই দ্রব্যটির কথা মা লক্ষ্মীর কাছে উল্লেখ করে ক্ষমা চেয়ে নিলেই হবে।
বিশ্বজননী মা লক্ষ্মী (Mother Pep the mother of world)
যে দেবতার পূজা করেন, সেই দেবতার পরিচয় আগে জেনে নিতে হয়। লক্ষ্মীকে আমরা টাকাপয়সার দেবী ভাবি, আসলে লক্ষ্মীর পরিচয় শুধু ওইটুকুতেই নয়। লক্ষ্মী শুধু ধনই দেন না, তিনি জ্ঞান ও সচ্চরিত্রও দান করেন। এককথায় লক্ষ্মীপূজা করলে, মানুষ সার্বিকভাবে সুন্দর ও চরিত্রবান হয়। স্বামী প্রমেয়ানন্দ বলেছেন, ‘কেবল টাকাকড়িই ধন নয়। চরিত্রধন মানুষের মহাধন। যার টাকাকড়ি নেই সে যেমন লক্ষ্মীহীন, যার চরিত্রধন নেই সে তেমনি লক্ষ্মীছাড়া। যাঁরা সাধক তাঁরা লক্ষ্মীর আরাধনা করেন মুক্তিধন লাভের জন্য।’
যে দেবতার পূজা করেন, সেই দেবতার পরিচয় আগে জেনে নিতে হয়। লক্ষ্মীকে আমরা টাকাপয়সার দেবী ভাবি, আসলে লক্ষ্মীর পরিচয় শুধু ওইটুকুতেই নয়। লক্ষ্মী শুধু ধনই দেন না, তিনি জ্ঞান ও সচ্চরিত্রও দান করেন। এককথায় লক্ষ্মীপূজা করলে, মানুষ সার্বিকভাবে সুন্দর ও চরিত্রবান হয়। স্বামী প্রমেয়ানন্দ বলেছেন, ‘কেবল টাকাকড়িই ধন নয়। চরিত্রধন মানুষের মহাধন। যার টাকাকড়ি নেই সে যেমন লক্ষ্মীহীন, যার চরিত্রধন নেই সে তেমনি লক্ষ্মীছাড়া। যাঁরা সাধক তাঁরা লক্ষ্মীর আরাধনা করেন মুক্তিধন লাভের জন্য।’
জ্ঞাতব্য নিয়মাবলী (Cognizable rules)
লক্ষ্মীপূজা বৃহস্পতিবার মাত্রেই করা যায়। তার জন্য তিথি নক্ষত্রের বিচার করতে হয় না। তাই যাঁরা প্রবাসী তাদের ভারতীয় বা বাংলাদেশী সময় মিলিয়ে পূজা না করলেও চলবে, যেদেশে যেমন বৃহস্পতিবার পড়বে, সেই দেশে তেমনই করবে। তাছাড়া শাস্ত্রে আছে, প্রবাসে নিয়মং নাস্তি। তাই প্রবাসী হলে রবিবার বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও লক্ষ্মীপূজা করতে পারেন। সেক্ষেত্রে পূজার আগে মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলে নেবেন, মা বৃহস্পতিবার পূজা করতে পারলাম না, আজ পূজা নাও। ভারত বা বাংলাদেশবাসী হলে বৃহস্পতিবারের পূজা বৃহস্পতিবারেই করবেন।
লক্ষ্মীপূজা বৃহস্পতিবার মাত্রেই করা যায়। তার জন্য তিথি নক্ষত্রের বিচার করতে হয় না। তাই যাঁরা প্রবাসী তাদের ভারতীয় বা বাংলাদেশী সময় মিলিয়ে পূজা না করলেও চলবে, যেদেশে যেমন বৃহস্পতিবার পড়বে, সেই দেশে তেমনই করবে। তাছাড়া শাস্ত্রে আছে, প্রবাসে নিয়মং নাস্তি। তাই প্রবাসী হলে রবিবার বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও লক্ষ্মীপূজা করতে পারেন। সেক্ষেত্রে পূজার আগে মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলে নেবেন, মা বৃহস্পতিবার পূজা করতে পারলাম না, আজ পূজা নাও। ভারত বা বাংলাদেশবাসী হলে বৃহস্পতিবারের পূজা বৃহস্পতিবারেই করবেন।
লক্ষ্মীপূজায় ঘণ্টা বাজাতে নেই। লক্ষ্মীকে তুলসীপাতা দিতে নেই। কিন্তু
লক্ষ্মীপূজার পর একটি ফুল ও দুটি তুলসীপাতা দিয়ে নারায়ণকে পূজা করতে হয়।
লক্ষ্মীপূজা সাধারণত সন্ধ্যাবেলা করে, তবে অনেকে সকালেও করে থাকেন। সকালে
করলে সকাল ন-টার মধ্যে করে নেওয়াই ভাল। পূজার পর ব্রতকথা পাঠ করতে হয়।
লক্ষ্মীপূজায় লোহা বা স্টিলের বাসনকোসন ব্যবহার করবেন না। লোহা দিয়ে
অলক্ষ্মী পূজা হয়। তাই লোহা দেখলে লক্ষ্মী ত্যাগ করে যান।
লক্ষ্মীপূজা প্রতিমা, সরা বা লক্ষ্মীর ঝাঁপিতে হয়ে থাকে।
পূর্ববঙ্গীয়রা সাধারণত সরা বা প্রতিমায় লক্ষ্মীপূজা করেন, পশ্চিমবঙ্গীরা
লক্ষ্মীর ধানপাত্রে বা ঘটে পূজা করেন। কারো কারো বিশেষ পারিবারিক
লক্ষ্মীপ্রতীক রয়েছে। যাঁর যা আছে, বা যাঁদের যা নিয়ম তাঁরা তাতেই
লক্ষ্মীপূজা করবেন। পূজার পূর্বে পূজাস্থান পরিষ্কার করে নিয়ে ধূপ দীপ
জ্বালিয়ে দেবেন। পূজাস্থানে লক্ষ্মীর পা-সহ আলপনা আঁকবেন। ঘটের পাশে একটি
লক্ষ্মীর পা অবশ্যই আঁকবেন। পূজার সময় অন্যমনস্ক হবেন না বা অন্য লোকের
সঙ্গে কথা বলবেন না। মনকে লক্ষ্মীতে স্থির রাখবেন। পূজার সময় অন্য কথা
বললে বা অন্যমনস্ক হলে মন্ত্রপাঠাদি করে লক্ষ্মীপূজা করাই শ্রেয়। কিন্তু
একমনে আন্তরিকভাবে লক্ষ্মীপূজা করলে বিনা মন্ত্রেই পূজা সিদ্ধ হয়। অবশ্য
দীক্ষিত হলে গুরুমন্ত্রেও পূজা চলে। বিশেষভাবে মনে রাখবেন, মন্ত্রপাঠ ও
পূজাক্রিয়াদিতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বিনা মন্ত্রে পূজা করবেন না। বিনা
মন্ত্রে পূজা শুধু সেই সবে অনভিজ্ঞদের জন্য।
পূজা প্রণালী (Worship process)
প্রথমে মাথায় একটু গঙ্গাজল নিয়ে নারায়ণকে স্মরণ করে নিন। পূজার আগে মাথায় জল নিয়ে দেহ ও নারায়ণকে স্মরণ করে মন শুদ্ধ করে নেবেন। তারপর সূর্যের উদ্দেশ্যে একটু জল দিন। যে কোনো পূজার আগে আমাদের প্রাণশক্তির উৎস সূর্যকে জল দেওয়ার নিয়ম, তাই জল দেওয়ার জন্য ঠাকুরের সিংহাসনে একটি ছোটো তামার পাত্র সর্বদা রাখবেন। সূর্যের নাম করে সেই কুশীতে জল নিয়ে সেই তামার পাত্রে দেবেন। তারপর সংসারের সকলের মঙ্গলকামনা করবেন। এরপর একটু গঙ্গাজল আপনার পূজার আসন, পূজার ফুল-নৈবেদ্য ইত্যাদি উপকরণের উপর ছিটিয়ে দেবেন। এইভাবে পূজাদ্রব্যগুলিকে শুদ্ধ করে নিতে হয়। এরপর লক্ষ্মীর সামনে সামান্য ধান ও এক চিমটি মাটি ছড়িয়ে দিয়ে তার উপর জলভরা ঘট স্থাপন করবেন। ঘটের গায়ে সিঁদুর দিয়ে মঙ্গলচিহ্ন এঁকে নিতে ভুলবেন না। ঘটে একটি আমপল্লব (যাতে বিজোড় সংখ্যায় আমপল্লব থাকে) ও তার উপর একটি কলা বা হরীতকী দিয়ে উপরে একটি ফুল দেবেন। ইচ্ছা করলে ঘটে ও লক্ষ্মীকে একটি করে মালাও পরাতে পারেন। এবার লক্ষ্মীকে ধ্যান করবেন। লক্ষ্মীর ধ্যানমন্ত্র হলো-
“ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ-সৃণিভির্ষাম্য-সৌম্যয়োঃ।
পদ্মাসনাস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরম্।।
গৌরবর্ণাং সুরুপাঞ্চ সর্বলঙ্কার-ভূষিতাম্।
রৌক্মপদ্ম-ব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।”
মন্ত্রটি পাঠ করতে ভাল। নয়তো লক্ষ্মীর রূপটি চোখ বুজে মনে মনে খানিকক্ষণ চিন্তা করবেন। এরপর মা লক্ষ্মীকে আপনার ঘরে আবাহন করবেন। আবাহন মন্ত্রটি হলো- “ওঁ লক্ষ্মীদেবী ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ ইহ তিষ্ঠ ইহ তিষ্ঠ ইহ সন্নিধেহি ইহ সন্নিরুদ্ধস্য অত্রাধিষ্ঠান কুরু মম পূজান গৃহাণ।”
প্রথমে মাথায় একটু গঙ্গাজল নিয়ে নারায়ণকে স্মরণ করে নিন। পূজার আগে মাথায় জল নিয়ে দেহ ও নারায়ণকে স্মরণ করে মন শুদ্ধ করে নেবেন। তারপর সূর্যের উদ্দেশ্যে একটু জল দিন। যে কোনো পূজার আগে আমাদের প্রাণশক্তির উৎস সূর্যকে জল দেওয়ার নিয়ম, তাই জল দেওয়ার জন্য ঠাকুরের সিংহাসনে একটি ছোটো তামার পাত্র সর্বদা রাখবেন। সূর্যের নাম করে সেই কুশীতে জল নিয়ে সেই তামার পাত্রে দেবেন। তারপর সংসারের সকলের মঙ্গলকামনা করবেন। এরপর একটু গঙ্গাজল আপনার পূজার আসন, পূজার ফুল-নৈবেদ্য ইত্যাদি উপকরণের উপর ছিটিয়ে দেবেন। এইভাবে পূজাদ্রব্যগুলিকে শুদ্ধ করে নিতে হয়। এরপর লক্ষ্মীর সামনে সামান্য ধান ও এক চিমটি মাটি ছড়িয়ে দিয়ে তার উপর জলভরা ঘট স্থাপন করবেন। ঘটের গায়ে সিঁদুর দিয়ে মঙ্গলচিহ্ন এঁকে নিতে ভুলবেন না। ঘটে একটি আমপল্লব (যাতে বিজোড় সংখ্যায় আমপল্লব থাকে) ও তার উপর একটি কলা বা হরীতকী দিয়ে উপরে একটি ফুল দেবেন। ইচ্ছা করলে ঘটে ও লক্ষ্মীকে একটি করে মালাও পরাতে পারেন। এবার লক্ষ্মীকে ধ্যান করবেন। লক্ষ্মীর ধ্যানমন্ত্র হলো-
“ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ-সৃণিভির্ষাম্য-সৌম্যয়োঃ।
পদ্মাসনাস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরম্।।
গৌরবর্ণাং সুরুপাঞ্চ সর্বলঙ্কার-ভূষিতাম্।
রৌক্মপদ্ম-ব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।”
মন্ত্রটি পাঠ করতে ভাল। নয়তো লক্ষ্মীর রূপটি চোখ বুজে মনে মনে খানিকক্ষণ চিন্তা করবেন। এরপর মা লক্ষ্মীকে আপনার ঘরে আবাহন করবেন। আবাহন মন্ত্রটি হলো- “ওঁ লক্ষ্মীদেবী ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ ইহ তিষ্ঠ ইহ তিষ্ঠ ইহ সন্নিধেহি ইহ সন্নিরুদ্ধস্য অত্রাধিষ্ঠান কুরু মম পূজান গৃহাণ।”
সংস্কৃতে মন্ত্র পড়তে অক্ষম হলে বাংলায় বলবেন, এসো মা লক্ষ্মী, বসো মা
লক্ষ্মী, যতক্ষণ তোমার পূজা করি, ততক্ষণ তুমি স্থির হয়ে থাকো মা। তারপর
ভাববেন, মা লক্ষ্মী আপনার হৃদয়ে এসে বসে আপনার দেওয়া ফুল-নৈবেদ্য গ্রহণ
করছেন। একে বলে মানসপূজা। এরপর আপনার পূজাদ্রব্যগুলি একে একে লক্ষ্মীকে
দেবেন। লক্ষ্মী আপনার গৃহে পূজা নিতে এলেন, তাই প্রথমেই একটুখানি জল ঘটের
পাশে লক্ষ্মীপদচিহ্নে দেবেন। এটি মা লক্ষ্মীর পা ধোয়ার জল। এরপর দুর্বা ও
একটু আতপ চাল ঘটে দেবেন। এটি হল অর্ঘ্য। এর সঙ্গে একটি ফুলও দিতে পারেন।
এরপর লক্ষ্মীকে একটি চন্দনের ফোঁটা দেবেন। লক্ষ্মীর প্রতিমা না থাকলে ফুলে
চন্দন মাখিয়ে ঘটে দেবেন। এরপর লক্ষ্মীকে ফুল দেবেন। তারপর প্রথমে ধূপ ও
তারপর প্রদীপ দেখাবেন। শেষে নৈবেদ্যগুলি নিবেদন করে দেবেন। তারপর ফুল দিয়ে
পুষ্পাঞ্জলি দেবেন। মন্ত্র- “এষ সচন্দনপুষ্পাঞ্জলি ওঁ শ্রীঁ লক্ষ্মীদেব্যৈ নমঃ”
(শ্রীঁ উচ্চারণ হবে শ্রীং, নমঃ উচ্চারণ হবে নমহ।) পুষ্পাঞ্জলি এক, তিন বা
পাঁচ বার দিতে পারেন। পুষ্পাঞ্জলির পর নারায়ণের উদ্দেশ্যে একটি ফুল ও দুটি
তুলসীপাতা ঘটে দেবেন। তারপর ইন্দ্র ও কুবেরের নামে দুটি ফুলও ঘটে দেবেন।
মা লক্ষ্মীর পেচককেও একটি ফুল দেবেন। আপনি যদি দীক্ষিত হন, তবে এরপর আপনার
গুরুমন্ত্র যথাশক্তি জপ করে মা লক্ষ্মীর বাঁ হাতের উদ্দেশ্যে জপসমর্পণ
করবেন। শেষে নিম্নোক্ত মন্ত্রে প্রণাম করবেন-
“ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমঽস্তু তে।।”
মন্ত্র পড়তে অক্ষম হলে বিনা মন্ত্রেই ভক্তিভরে মা-কে প্রণাম করবেন। এরপর ব্রতকথা পাঠ করবেন বা শুনবেন।
“ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমঽস্তু তে।।”
মন্ত্র পড়তে অক্ষম হলে বিনা মন্ত্রেই ভক্তিভরে মা-কে প্রণাম করবেন। এরপর ব্রতকথা পাঠ করবেন বা শুনবেন।
বিঃ দ্রঃ কেউ কেউ লক্ষ্মীকে পান-সুপারিও দেন। তেমন
প্রথা থাকলে দেবেন। যার যার বাড়িতে লক্ষ্মীর যে পাঁচালি আছে সেটিই পড়বেন।
লক্ষ্মীর ব্রতকথা বা পাঁচালি বাজারে সুলভ। বাড়িতে পাঁচালি না থাকলে, যে
কোনো একটি কিনে নিয়ে পাঠ করলেই চলে। (তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট)।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন