বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪

প্রতীতি প্রসঙ্গঃ প্রতীতি কেন কাঁধে ওঠবে?

এই গানটি হতেই দুই কাঁধে দুই প্রতীতি থাকা কথাটির উদ্ভব হয়েছে বলে অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাস। পবিত্র কুরানে বলা হয়েছে-
(কুরান, সুরা ইনফিতর- ১১-১২)। “كِرَامًا كَاتِبِينَ(11) يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ(12)”
বাংলা উচ্চারণঃ “কিরামাং কাতিবিনা (১১) ইয়া’লামুনা মা তাফয়ালুন (১২)।”
ইংরেজি উচ্চারণঃ “Kiraman katibeena (11) Yalamoona ma tafaloona (12)”
অর্থঃ “সম্মানিত লেখকদ্বয় (১১) জানেন তোমরা যা কর (১২)।”
ইংরেজি ট্রেন্সলেশনঃ “Two honorable writer.” (11) They know all that you do. (12)”
প্রতীতি তো মানুষের দাস। নিচে এতো স্থান রেখে দাস প্রতিভুর কাঁধের ওপর বসে বসে লেখা কতটুকু সমীচীন? পবিত্র কুরানে তো কাঁধে বসার কোন বর্ণনা নেই।
মানবদেহের সব সদস্যই তো রূপকভাবে প্রতীতি। প্রতীতিরা তো যার যার স্থানেই থাকে। কেউ তো কখনো কাঁধে ওঠে বসে না। যেমন- চোখ হতে দ্রষ্টা, শিশ্ন হতে মদন/ মারুত।
আবার তাবলীগরা বলেন, বর্চ্যে গেলে লজ্জায় প্রতীতিরা মাথার ওপরে গিয়ে বসেন। তাই মাথায় টুপি বা পাগড়ি ব্যতীত বর্চ্যে যেতে নাই। যারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে শাস্ত্রীয় মনীষীদের মতে তারা সবাই প্রতীতি। এ সূত্র মতে আমাদের পায়ু, শিশ্ন, মলাশয় ও মূত্রাশয় রূপকার্থে প্রতীতি। এবার কথা হলো বর্চ্যের সময় তারা যদি মাথার ওপর গিয়ে বসে থাকেন। তবে মল ও মূত্র অপসারণ করবে কে? পায়ু ছাড়া কি মল অপসারণ সম্ভব? শিশ্ন ছাড়া কি মূত্র অপসারণ সম্ভব। তাই আমাদের মনে হয় শাস্ত্রীয়রা প্রতীতি বিষয়টিই ভালোভাবে বুঝেননি।
ভাববার বিষয় হলো পবিত্র কুরানে প্রতীতি কাঁধে ওঠার কথা না থাকলেও। গীতিকার “দুই কান্দে দুই মুহূরি লিখতে আছেন ডাইরি” কথাটি বলেছেন। আর এখান থেকেই এদেশের বয়াতি, বক্তা, বাউল, গীতিকার, গবেষক, বৈখ্যিক ও টৈকিকরা প্রতীতিদের কাঁধে ওঠে বসে বসে লেখার কথা স্বীকার ও প্রচার করতে নেমে পড়লেন।
আসুন আগে আমরা প্রতীতি, দৈবিকা, দেবতা, ফেরেস্তা (ﻔﺮﺸﺗﻪ), (এ্যাঞ্জেল) সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিই।
ফেরেস্তা [ﻔﺮﺸﺗﻪ] (আদৈ)বি সুর, অমর, অত্যন্ত সুন্দও ও নির্দোষ জীব (আবি)বি প্রতীতি, দৈবিকা, দেবতা, উদ্দীপক, দৈবদূত, স্বর্গীয়দূত (প্র) কুরানী মনীষীদের রূপকবর্ণনা মতে দেহহীন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিষ্পাপ অনুজীব বিশেষ (পরি) বৈক্তিকসদস্যাদির ইন্দ্র, উদ্দীপক, রিপু, রুদ্র ও দশা ইত্যাদি সদস্যদের রূপকনাম বা ছদ্মনামাদিকে ফেরেস্তা (ﻔﺮﺸﺗﻪ) বা প্রতীতি বলা হয় (চোখ) (বাদৈ)বি প্রতীতি(আদৈ)বি মালাকা (ﻤﻟﻚ) (ইদৈ)বি এন্জেল (angel) (ভাদৈ)বি দেবতা {ফা}
মালাকা [ﻤﻟﻚ] (রূপ)বি প্রতীতি, সুর, অমর, অত্যন্ত সুন্দও ও নির্দোষ জীব (আদৈ) ফিরেস্তা (ﻔﺮﺸﺗﻪ) (বাদৈ)বি প্রতীতি, দৈবিকা, উদ্দীপক, দৈবদূত, স্বর্গীয়দূত (ইদৈ)বি এন্জেল (angel) (ভাদৈ)বিদেবতা (প্র) কুরানী মনীষীদের রূপকবর্ণনা মতে দেহহীন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিষ্পাপ অনুজীব বিশেষ (পরি) বৈক্তিকসদস্যের ইন্দ্র, রিপু, রুদ্র ও দশা ইত্যাদি সদস্যদের রূপকনাম বা ছদ্মনামাদিকে প্রতীতি বলা হয় (যেমন- বাক্ হতে বলন)। এখানে বাক্ বৈক্তিকসদস্য হলেও বলন একজন স্বর্গীয় প্রতীতি বিশেষ {}
এন্জেল [angel] (রূপ)বি সুর, অমর, অত্যন্ত সুন্দও ও নির্দোষ জীব (বাদৈ)বি প্রতীতি, দৈবিকা, দেবতা, উদ্দীপক, দৈবদূত, স্বর্গীয়দূত (প্র) কুরানী মনীষীদের রূপকবর্ণনা মতে দেহহীন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিষ্পাপ অনুজীব বিশেষ (পরি) মানবদেহের ইন্দ্র, উদ্দীপক, রিপু, রুদ্র ও দশা ইত্যাদি সদস্যদের রূপকনাম বা ছদ্মনামাদিকে প্রতীতি বলা হয় (যেমন- বাক্প্রতীতি বলন) (ভাদৈ)বি দেবতা (আদৈ)বি মালাকা (ﻤﻟﻚ), ফেরেস্তা (ﻔﺮﺸﺗﻪ) {}
——————————————————————
“আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার
শেষ বিচারের হাইকোর্টেতে তিনিই আমায় করবেন পার
আমি পাপী তিনি জামিনদার।।
মনের ঘরে তালা দিয়া চাবি লইয়া আছেন সাঁই
আমি অধম সাধ্য কি তার হুকুম ছাড়া বাইরে যাই (মনরে রে রে)
দুই কান্দে দুই মুহূরি লিখতে আছেন ডাইরি
দলিল দেইখা রায় দিবেন টাকা পয়সার নাই কারবার
সময় থাকতে মনা হুশিয়ার।।
সেদিনের সেই ইস্টিশনে থাকবে নানান প্যাসেঞ্জার
দ্রুতযানে পাড় হবে সে টিকিট কাটা আছে যার (মনরে রে রে)
পারাপারের থাকলে তাড়া সঙ্গে নিও গাড়ি ভাড়া
জবাবদিহি করতে হবে ধরলে টিকিট কালেক্টার
সময় থাকতে মনা হুশিয়ার।“
—————————————————————-
শিল্পীঃ সৈয়দ আব্দুল হাদী
গীতিকারঃ গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন