বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪

আস্তিক- নাস্তিক প্রসঙ্গঃ পর্ব- ২

আস্তিক- নাস্তিক প্রসঙ্গঃ ২ (২.নাস্তিক)
নাস্তিক
Atheist (এ্যাথিস্ট)/ ‘ملحد’ (মিলহিদ)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির রূপকপরিবারের অন্যতম একটি ‘রূপকপরিভাষা’ এর মূলকসদস্য ‘অবিশ্বাসী’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘যবন’
নাস্তি (রূপ)বি সত্তহীনতা, অনস্তিত্ব ক্রি নেই, নাই।
নাস্তিক বিণ অবিশ্বাসী, আচারবিরোধী, সৃষ্টিকর্তা (কাঁই) পালনকর্তা (সাঁই) ও পুনর্জন্মে অবিশ্বাসী, রূপ কথাদি বিশ্বাস করে না এরূপ, atheist (এ্যাথিস্ট), ‘ملحد’ (মিলহিদ) বি শাস্ত্রীয় সংস্কারাদিতে অবিশ্বাসী বিপ আস্তিক (আবি)বিণ মতবাদদ্বেষী, পাপিষ্ঠ, দাহরিয়া (ﺪﻫﺭﻴﺎ) (ইদৈ)বিণ আনফেতফুল (unfaithful) (আদৈ)বিণ মুলহিদ (.ﻤﻟﺤﺩ), কাফির (.ﻜﺎﻔﺮ) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিতে ‘অবিশ্বাসী’ পরিবারের ‘রূপকপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.তথাকথিত শাস্ত্রাদিনির্ভর ও অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত নিরাকার শাস্ত্রীয় উপাস্য কিংবা প্রতীতি মতবাদ অবিশ্বাসী এবং বস্তুবাদে বিশ্বাসিদেরকে অবিশ্বাসী বা রূপকার্থে ‘নাস্তিক’ বলা হয় ২.শাস্ত্রীয় কল্পকাহিনি, অলীক ও রূপক গল্পকাহিনি অগ্রাহ্যকারিকে নাস্তিক বলা হয় (ছনা)বি যবন (রূ)বি নাস্তিক (দেত)বি অবিশ্বাসী।
নাস্তিকের সংজ্ঞা
১. তথাকথিত শাস্ত্রাদিনির্ভর ও অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত শাস্ত্রীয় নিরাকার উপাস্য বা দৈবিকা ও প্রতীতিমতবাদ অবিশ্বাসী এবং বস্তুবাদে বিশ্বাসীদেরকে নাস্তিক বলে।
২. রূপকসাহিত্যে আত্মদর্শনের উপমাদি অবিশ্বাসকারিকে নাস্তিক বলে। যেমন- সাঁই ও কাঁইয়ের অস্তিত্ব অস্বীকারকারী।
নাস্তিকের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
শাস্ত্রীয় কল্পকাহিনি, অলীক ও রূপকগল্পকাহিনি অগ্রাহ্যকারিকে নাস্তিক বলে।
নাস্তিকের পরিচয়
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘অবিশ্বাসী’ পরিবারের অধীন একটি ‘রূপকপরিভাষা’ বিশেষ। তথাকথিত শাস্ত্রাদিনির্ভর ও অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত শাস্ত্রীয় নিরাকার উপাস্য কিংবা প্রতীতিমতবাদ অবিশ্বাসী এবং বস্তুবাদে বিশ্বাসীদেরকে অবিশ্বাসী বা নাস্তিক বলা হয়। সন্দেহ হতেই অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। অবিশ্বাসকারিকেই নাস্তিক বলা হয়। কাউকে অধিক বিশ্বাস করাও ভালো নয় আবার কাউকে অধিক অবিশ্বাস করাও উচিৎ নয়। যাচাইবাছাই বা প্রমাণ সাপেক্ষে সব কিছুই বিশ্বাস করা উত্তম। তবে যে কোন বিচারক ম-লীর দ্বারা কোন বিষয় প্রমাণিত হলে তা বিশ্বাস করায় কোন অসুবিধা নেই। যদিও বিশ্বাস ও বাস্তবতার মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। কোন ব্যক্তির মনে অবিশ্বাসের পরিমাণ অধিক হলে তাকে মাঝে মাঝে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। অবিশ্বাস হতেই ঘরের তালা আবিষ্কার হয়েছে বলে অনেকেই ধারনা করে থাকেন। আমাদের সমাজে সব সময় প্রায় পাঁচ প্রকার গল্পকাহিনি শুনতে পাওয়া যায়। যেমন- ১.দার্শনিক কাহিনী ২.বৈজ্ঞানিক কাহিনী ৩.রাজনৈতিক কাহিনী ৪.শাস্ত্রীয় কাহিনী ও ৫.পারম্পরিক কাহিনী। এদের মধ্যে কেবল শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক কাহিনির ক্ষেত্রে আমাদের আলোচ্য অবিশ্বাসী বা নাস্তিক পরিভাষাটি প্রযোজ্য। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাসী বা নাস্তিক পরিভাষাটি নিয়ে তেমন কোন আলোচনা দেখতে পাওয়া যায় না। বর্তমানে সারাবিশ্বে অসংখ্য শাস্ত্রীয় মতবাদ থাকলেও কেবল ইসলামী মতবাদেই অত্র পরিভাষাটির অধিক ব্যবহার ও অধিক আলোচনা লক্ষ্য করা যায। শাস্ত্রীয় বিধিমালা অনুসারে শাস্ত্রীয় বিষয়বস্তু অস্বীকারকারিরা বিপথগামী এবং এ অবিশ্বাসের ফলে অবশ্য অবশ্যই তারা নরকবাসী হবে।
জ্ঞানের আউল স্তরের মন্ত্রী ও নামী সবাই নাস্তিক কারণ তারা একে অন্যের শাস্ত্রীয় মতবাদ ও শাস্ত্রীয় উপাসনাদি সম্পূর্ণই অস্বীকার ও অবিশ্বাস করে থাকেন। পুরাণিরা তাদের শাস্ত্রীয় মতবাদ এবং শাস্ত্রীয় উপাসনাদি অস্বীকারকারিদের ‘যবন’ বলে থাকেন। অন্যদিকে কুরানিরা তাদের শাস্ত্রীয় মতবাদ ও শাস্ত্রীয় উপাসানাদি অস্বীকারকারী বা অবিশ্বাসকারিকে ‘কাফির (ﻜﺎﻔﺭ)’ বা মোয়াহিদ কাফির (ﻤﻮﺤﺪ ﻛﺎﻔﺭ) বলে থাকেন। এ সূত্র হতে মানুষ মাত্রই হয়ত ‘যবন’ নয়ত ‘কাফির (ﻜﺎﻔﺭ)’। কিন্তু বিষয়টি মূলত সেরূপ নয়। যার যার শাস্ত্রীয় মতবাদ অনুযায়ী মানুষ মাত্রই বিশ্বাসী কারণ প্রত্যেকেই কোন না কোন শাস্ত্রীয় মতবাদ বিশ্বাস করেন বিধায় বলা যায় স্বস্ব দৃষ্টি ভঙ্গিতে সবাই বিশ্বাসী। অর্থাৎ নাস্তিক বলে কেউ নেই।
যবন (রূপ)বি অহিন্দু, বিধর্মী, বিদেশী, প্রাচীন গ্রিক জাতি, আইওনিয়াবাসী গ্রিক (প্র) প্রচলিত হিন্দু শাস্ত্রীয় মতবাদ মান্য করে না এরূপ ব্যক্তি স্ত্রী যবনী।
কাফির [ﻜﺎﻔﺭ] বিণ যবন, কৃতঘ্ন, অকৃতজ্ঞ, তৃণ, গুপ্ত, সমুদ্র, লৌহবস্ত্র, সত্য অস্বীকারকারী, অন্ধকার রাত্রি, বিশাল উপত্যকা, ঘনীভূত মেঘরাশি, খেজুরের কলির আবরণ, সমতল ভূমি {}
মোয়াহিদ [ﻤﻮﺤﺪ] বি একেশ্বরবাদী, কেবল স্রষ্টার একত্ববাদে বিশ্বাসী {}
মোয়াহিদ কাফির [ﻤﻮﺤﺪ ﻛﺎﻔﺭ] বি স্রষ্টার একত্ববাদে বিশ্বাসী যবন (প্র) যে ব্যক্তি কেবল সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে কিন্তু অবতার বা অবতারবাদ কিংবা ঐশিবাদ বিশ্বাস করে না {.মোয়াহিদ.ﻤﻮﺤﺪ + .কাফির.ﻜﺎﻔﺭ}
এবার প্রশ্ন হতে পারে যারা বিশ্বের কোন শাস্ত্রীয় মতবাদই বিশ্বাস করেন না তাদের কী বলা হয়? এরূপ প্রশ্নের উত্তর হলো- সাধারণ দৃষ্টিতে মতবাদবিমুখ এরূপ ব্যক্তিকে অবিশ্বাসী বা নাস্তিক বলা হয়। কিন্তু আমরা বলব কেবল শাস্ত্রীয় মতবাদ বা শাস্ত্রীয় উপাসনাদি অস্বীকারকারী বা অবিশ্বাসকারিকে অবিশ্বাসী বা নাস্তিক বলা উচিৎ নয়। কারণ নাস্তিকরা কখনই শাস্ত্রীয় মতবাদ বা শাস্ত্রীয় উপাসনাদির পুরোটাই অস্বীকার করেন না। তারা কেবল শাস্ত্রীয় মতবাদের সে অংশটুকুই অস্বীকার করেন- যেটুকু অত্যন্ত গোজামিল, অসংলগ্ন ও রূপকথায় একেবারে ভরপুর। কিন্ত কোন নাস্তিকই যার যার স্রষ্টাকে কখনই অস্বীকার করেন না।
নাস্তিকদের ব্যাপারে এতটুকু বলা যায় যে- সৃষ্টিকর্তারূপে কেউ জ্ঞানকে, কেউবা শক্তিকে আবার কেউবা প্রকৃতিকে স্বীকার করেন থাকেন। যেমন কেউ বলেন- জ্ঞানই সব কিছু সৃষ্টি করেছে ও করছে বিধায় সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকেন তবে তিনিই হলেন ‘জ্ঞান’। আবার কেউ বলেন- শক্তিই সব কিছু সৃষ্টি করেছে ও করছে বিধায় সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকেন তবে তিনিই হলেন ‘শক্তি’। আবার কেউ বলেন- প্রকৃতিই সব কিছু সৃষ্টি করেছে ও করছে বিধায় সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকেন তবে তিনিই হলেন ‘প্রকৃতি’। নাস্তিকরা যে যা-ই বলুক না কেন সবাই কোন না কোন পরিভাষার দ্বারা সৃষ্টিকর্তাকে অবশ্যই স্বীকার করছেন। আবার আত্মতাত্ত্বিক মনীষিগণ বলেন যে- প্রকৃতি সৃষ্টিকারী স্রষ্টা ও জীব সৃষ্টিকারী স্রষ্টা এক নয় বিধায় প্রকৃতির স্রষ্টা ও শাস্ত্রীয় স্রষ্টা এক কিন্তু আত্মতাত্ত্বিক ও পারম্পরিক স্রষ্টা এবং প্রকৃতির স্রষ্টা এক নয়। প্রকৃতির স্রষ্টাই বিজ্ঞান, দর্শন ও শাস্ত্রীয় স্রষ্টা হতে পারে কিন্তু পারম্পরিক দর্শন ও আত্মতাত্ত্বিক দর্শনের স্রষ্টা সম্পূর্ণই ভিন্ন। এরূপ চিরদ্বন্দ্ব নিরসনের জন্যই বৈষয়িক স্রষ্টা ও পারম্পরিক স্রষ্টারূপে সম্পূর্ণ ভিন্নভিন্ন স্রষ্টার ভিন্নভিন্ন অস্তিত্বের বর্ণনা করা হয়ে থাকে। বিজ্ঞান, দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা ও শাস্ত্রীয় মতবাদের নিরাকার স্রষ্টাকে বৈষয়িক স্রষ্টা বলা হয় এবং তার অস্তিত্ব সম্পর্কে বলা হয়, হয়তবা তা হবে ‘জ্ঞান’ কিংবা তা হবে ‘শক্তি’ অথবা তা হবে ‘প্রকৃতি’ কিন্তু আধ্যাত্মিকবিদ্যা ও আত্মদর্শনের স্রষ্টাকে পারম্পরিক স্রষ্টা বলা হয় এবং তার অস্তিত্ব সম্পর্কে বলা হয়, হয়তবা তা হবে ‘কাঁই’ নয়তবা তা হবে ‘শুক্র’
এবার বলা যায় একদল অন্যদলের স্রষ্টাকে কখনই বিশ্বাস করেন না। অর্থাৎ শাস্ত্রীয় মতানুসারিরা বিজ্ঞানিদের স্রষ্টাকে এবং বিজ্ঞানিরা শাস্ত্রীয় মতানুসারিদের স্রষ্টাকে কখনই বিশ্বাস করেন না। তাহলে বিজ্ঞানিদের নিকট শাস্ত্রীয় মতানুসারিরা নাস্তিক এবং শাস্ত্রীয় মতানুসারিদের নিকট বিজ্ঞানিরা নাস্তিক। তদ্রূপ পুরাণিদের নিকট কুরানিরা নাস্তিক এবং কুরানিদের নিকট পুরাণিরা নাস্তিক। আবার যার যার স্থানে অবস্থান করে শাস্ত্রীয় মতানুসারী, পারম্পরিক, জ্যোতিষী, দার্শনিক ও বিজ্ঞানিরা যার যার স্রষ্টাকে অবশ্যই বিশ্বাস করেন বিধায় সবাই আস্তিক। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় যেহেতু সবাই যার যার সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস ও মান্য করেন সেহেতু পৃথিবীতে নাস্তিক বলে কেউ নেই। যার ফলে পৃথিবীতে নাস্তিক ও নাস্তিক্যবাদ বলে কিছুই নেই। আরো বলা যায় মানুষ স্থূলদৃষ্টিতে একে অন্যকে নাস্তিক বলে অবুঝের মতো গালাগালি করলেও সূক্ষ্মদৃষ্টিতে সারাবিশ্বের কোথাও নাস্তিক বা নাস্তিক্যবাদের অস্তিত্ব বলে কিছুই নেই।
আবার প্রশ্ন হতে পারে আমাদের একই সমাজে বাস করে, একদল অন্যদলকে বা একজন অন্যজনকে নাস্তিক বলে গালি দেয় কেন? এরূপ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়- স্রষ্টা কী? নাস্তিক কাকে বলে? নাস্তিক্যবাদ কাকে বলে? কোন্ কোন্ সত্তাকে স্রষ্টা বলে অস্বীকার করলে মানুষকে নাস্তিক বলা হয় ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানের চরম দৈন্যতার কারণেই মানুষ একে অন্যকে নাস্তিক বলে গালি দিয়ে নিজের নির্বুদ্ধতার পরিচয় দেয়। যার মধ্যে নাস্তিকতা ও নাস্তিক্যবাদ বিরাজমান কেবল সে অন্যকে নাস্তিক বলে গালি দিতে পারে। যুক্তিরূপে বলা যায় “পাত্রে যা থাকে ঢাললে তাই পড়ে”। তার ভিতরে নাস্তিকতা ও নাস্তিক্যবাদ আছে বলেই তা বের হচ্ছে বিধায় বলা যায় অন্যকে নাস্তিক বলে কটুক্তি করাই তার নিজের নাস্তিকতা প্রমাণ করা। কার্যত যার যার মনের মতো করে তার তার স্রষ্টার হাত, পা, চোখ, মুখ, কান, নাক, মন, জ্ঞান, রাগ, বিবেক ও বিচার নির্মাণ করে তা অন্যকে বিনা বিচারে গ্রহণ করতে বা মেনে নিতে বলবেন, কেউ মেনে না নিলেই তাকে নাস্তিক বলবেন এটা কখনই হতে পারে না। একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেও দেখা যায়- কারো স্রষ্টার হাত, পা, বিবেক ও বিচার ইত্যাদি আছে আবার কারো স্রষ্টার এসব নেই। তাহলে স্রষ্টা নির্মাণ একান্ত শৈল্পিক বিষয়। যার যার দলের রূপকার গুরু ও গোঁসাইরা ডাকার জন্য স্বস্ব স্রষ্টা নির্মাণ করে তাঁকে মনের মাধুরিতে রূপদান করেছেন। সেটা হোক শাস্ত্রীয় স্রষ্টা বা বিজ্ঞানিদের স্রষ্টা।
কোন বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু বলার পূর্বে তা ভালোভাবে জানা ও বুঝা একান্ত প্রয়োজন। এবার পরিষ্কার কথা হলো রূপকসাহিত্যের বিভিন্ন সূত্রাদি দ্বারা বিশ্বের সব শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক স্রষ্টা নির্মাণ করা হয়েছে। শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক মতবাদের সুমহান মনীষিরা একান্তই যার যার স্রষ্টা নির্মাণ করে মনের রঙতুলিতে স্বস্ব স্রষ্টার অবস্থান, বিদ্যমানতা, মন, জ্ঞান, শক্তি, হাত, পা, —, বিবেক ও বিচার ইত্যাদি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া বিশ্বের কেউই স্রষ্টার এতবড় নিকট আত্মীয় নন যে- স্রষ্টার বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেয়ে অথবা স্রষ্টাকে নিমন্ত্রণ করে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে স্রষ্টার সাথে সৌজন্য সাক্ষ্যাতে মিলিত হয়ে বা চা-চক্রে মিলিত হয়ে স্রষ্টার আয়তন, অবস্থান, বিদ্যমানতা, মন, জ্ঞান, শক্তি, হাত, পা, —, বিবেক, বিচার, আসন, বসন ও তার পরিবারের সদস্যাদি এমনকি স্রষ্টার আহার বিহারাদি পর্যন্ত স্বচক্ষে দেখে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ কোন রূপকারই স্রষ্টার বাড়ির চা-চক্রের নিমন্ত্রিত অতিথি নন এবং স্রষ্টাও কোন রূপকারের বাড়ির চা-চক্রের নিমন্ত্রিত অতিথি নন। মূল বিষয় হলো সুবিজ্ঞ রূপকাররা যার যার স্রষ্টার যতসব রূপকবর্ণনাদি যার যার মনের রঙতুলি দিয়ে মনের মাধুরিতে অন্যন্যরূপে অংকন করেছেন বিধায় একজনের স্রষ্টা অন্যজনের অবিশ্বাস হওয়াই স্বাভাবিক। একজনের স্রষ্টার বর্ণনার চেয়ে অন্যজনের স্রষ্টার বর্ণনা ভিন্নভিন্ন বা ভালো ও মন্দ হওয়াই স্বাভাবিক। সর্বশেষে বলব আসুন আমরা আস্তিক ও নাস্তিক এরূপ অতি সাধারণ শব্দাবলী দ্বারা আত্মতৃপ্তি বা কটুক্তি না করে বরং সবাই আত্মসংযম করি। স্রষ্টা বিষয়ে একে অন্যকে গালি দেওয়া হতে বিরত থাকি। স্রষ্টা সমস্যাই শাস্ত্রীয় মতানুসারিদের প্রধান সমস্যা। স্রষ্টা সমস্যা সমাধান হলেই শাস্ত্রীয় মতানুসারিরা সাধু হয়ে যায় বিধায় স্রষ্টা সমস্যা যার সমাধান হয়নি তার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক কোন সমস্যাই সমাধান হয়নি। পক্ষান্তরে যার সৃষ্টিকর্তা সমস্যার সমাধান হয়েছে তার শাস্ত্রীয়, পারম্পরিক, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত
সূত্রতথ্য
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৪র্থ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন