(তীর্থযাত্রা ও পশুবলির আত্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ- ২য় পর্ব)
(The theosophical analysis of Pilgrimage or Immolation- 2nd chapter)
“التحليل لاهوتيا من الحج أو الذبح- الفصل الثاني”
(আত্তাহলিল লাহুতিয়ান মিন আলহাজ্ব আও আজ্জাবহা- আলফাসলু আসসানিয়া)
(The theosophical analysis of Pilgrimage or Immolation- 2nd chapter)
“التحليل لاهوتيا من الحج أو الذبح- الفصل الثاني”
(আত্তাহলিল লাহুতিয়ান মিন আলহাজ্ব আও আজ্জাবহা- আলফাসলু আসসানিয়া)
আবহমানকাল হতেই বাংভারতীয় উপমহাদেশে তীর্থযাত্রা ও পশুবলি এবং এর
প্রাসঙ্গিকতায় নিষ্কামিতা, তীর্থস্নান ও তীর্থবারি পরিভাষাগুলো শাস্ত্রীয়,
পারম্পরিক ও মরমী অঙ্গনে দেখতে-শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু এসবের তত্ত্ব ও
তাত্ত্বিকতা জানতে ও বুঝতে চাইলে সঠিকভাবে জানা ও বুঝার মাধ্যম একেবারেই
নেই বললেও ভুল হবে না। কী শাস্ত্রিক, কী পারম্পরিক, কী মরমী, কী পাঠাগার,
কী সাধনগৃহ (মন্দির ও মঠ) এবং কিবা গ্রন্থ-গ্রন্থিকা। কোথাও সঠিক সমাধান
মিলে না। তবে ইদানিং Internet search করে যতটুকু পাওয়া যায় browser-রা দেখে
নিতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ ইচ্ছে করলেও এসবের বর্ণনা-বিবরণ সহজে
জানতে ও বুঝতে পারে না। তাই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। ওপরোক্ত
বিষয়গুলোকে ১.তীর্থযাত্রা ২.পশুবলি ৩.নিষ্কামিতা ৪.পুণ্যস্নান ও
৫.তীর্থবারি- এ ৫টি পৃথক পৃথক পর্বে বিভক্ত করে আলোচনা তুলে ধরতে চেষ্টা
করছি।
————————————————————————————————————————
————————————————————————————————————————
পশুবলি
Immolation (ইমোলেশন)/ ‘الذبح’ (আজ্জাবহ)
Immolation (ইমোলেশন)/ ‘الذبح’ (আজ্জাবহ)
“জীব জীবের আহার।” অর্থাৎ এক প্রাণী অন্য প্রাণীর
অন্ন। পৃথিবীতে অনেক মাংসাসী প্রাণী আছে, যারা কেবলই অন্য প্রাণীনির্ভর।
যেমন বাঘ ও সিংহ। অন্যদিকে অনেক প্রাণী আছে তৃণভোজী। তৃণভোজী প্রাণীরা ঘাস ও
লতা-পাতা খেয়ে জীবনধারণ করে। এছাড়া জলজ ও উভভোজী প্রাণীও রয়েছে। মানুষ
একটি উভভোজী প্রাণী। অর্থাৎ মানুষ পূর্ণ তৃণভোজীও নয় আবার পূর্ণ মাংসাসীও
নয়। মাংসাসী প্রাণীদের সামনের উভয় পাটের দাঁত সুঁচালো। অন্যদিকে তৃণভোজী
প্রাণীর সামনে একপাটি দাঁত থাকে। তা আবার চেপ্টা-চওড়া।
মানুষের দুইপাটি দাঁত। আবার দাঁতগুলো না সুঁচালো আর না চেপ্টা-চওড়া, আর
না একপাটি। তাই মানুষকে উভভোজী প্রাণী বলা হয়। উভভোজী বলতে তৃণ ও মাংস উভয়
ভক্ষণকারী বুঝানো হয়েছে। মানুষ অন্নরূপে ভক্ষণ করে তৃণ (চাল, গম ও শাক
ইত্যাদি)। আবার আমিষরূপে ভক্ষণ করে মাংস (গো, ছাগ ও মাছ ইত্যাদি)।
এসব প্রাকৃতিক নিয়ম। প্রকৃতির নিয়মেই গো, ছাগ ও হরিণ তৃণভোজী। বাঘ ও
সিংহ মাংসাসী। মানুষ উভভোজী। মানুষ কেবল তৃণ ভোজন করেও যেমন জীবনধারণ করতে
পারে, কেবল মাংস ভোজন করেও তেমন জীবনধারণ করতে পারে। আবার উভভোজন করেও
বাঁচতে পারে। তৃণ ভোজন করাও যেমন মানুষের অভ্যাস, মাংস ভোজন করাও ঠিক
তেমনি। এসব চিরাচরিত নিয়ম।
কিন্তু গত প্রায় তিন হাজার বছর পূর্ব হতে শাস্ত্রীয় বা সাম্প্রদায়িক মতবাদের উদ্ভব। সর্ব প্রথম হিন্দু মতবাদের উদ্ভব। এ মতবাদটি সৃষ্টি হয়েছে বেদ, রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণাদি হতে। তারপর বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি, জৈন, শিখ, কনফুসি ও ইসলাম ইত্যাদি মতবাদের সৃষ্টি। প্রকৃতির নিয়মে মাংস ভোজনের ব্যাপারে আমাদের কথা নেই। কারণ প্রাকৃতিকভাবে যে যেরূপ সৃষ্টি সে তা করবেই। কিন্তু সাম্প্রদায়িক মতবাদ বা শাস্ত্রীয় মতবাদের নামে বিশ্বব্যাপী একযোগে পশুবধ বা পশুবলি এটি কেমন অমানবিক ব্যাপার! শাস্ত্রীয় মতবাদ তো মানুষের সৃষ্টি। পুরাণনির্ভর মতবাদকে বলা হয় পুরাণী ও কুরাননির্ভর মতবাদকে বলা হয় কুরানী। পুরাণীরা শাস্ত্রীয় পশুহত্যা যজ্ঞকে বলে পশুবলি ও কুরানীরা শাস্ত্রীয় পশুনিধন যজ্ঞকে বলে পশুবধ (قُرْبَانٍ. কুরবানি)। বলি- বধ- হত্যা- হনন- নিধন ও ‘قُرْبَانٍ’ (কুরবানি) যাই বলি না কেন, এসব যে প্রাণীধ্বংস এতে কোন সন্দেহ নেই।
কিন্তু গত প্রায় তিন হাজার বছর পূর্ব হতে শাস্ত্রীয় বা সাম্প্রদায়িক মতবাদের উদ্ভব। সর্ব প্রথম হিন্দু মতবাদের উদ্ভব। এ মতবাদটি সৃষ্টি হয়েছে বেদ, রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণাদি হতে। তারপর বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি, জৈন, শিখ, কনফুসি ও ইসলাম ইত্যাদি মতবাদের সৃষ্টি। প্রকৃতির নিয়মে মাংস ভোজনের ব্যাপারে আমাদের কথা নেই। কারণ প্রাকৃতিকভাবে যে যেরূপ সৃষ্টি সে তা করবেই। কিন্তু সাম্প্রদায়িক মতবাদ বা শাস্ত্রীয় মতবাদের নামে বিশ্বব্যাপী একযোগে পশুবধ বা পশুবলি এটি কেমন অমানবিক ব্যাপার! শাস্ত্রীয় মতবাদ তো মানুষের সৃষ্টি। পুরাণনির্ভর মতবাদকে বলা হয় পুরাণী ও কুরাননির্ভর মতবাদকে বলা হয় কুরানী। পুরাণীরা শাস্ত্রীয় পশুহত্যা যজ্ঞকে বলে পশুবলি ও কুরানীরা শাস্ত্রীয় পশুনিধন যজ্ঞকে বলে পশুবধ (قُرْبَانٍ. কুরবানি)। বলি- বধ- হত্যা- হনন- নিধন ও ‘قُرْبَانٍ’ (কুরবানি) যাই বলি না কেন, এসব যে প্রাণীধ্বংস এতে কোন সন্দেহ নেই।
হাট-বিপণি, মোড়-মোচড়, গঞ্জ-বাজার বা তেমাথা-চৌমাথায় যে মাংস বিক্রয় করা
হয় তা দোষের নয়। কারণ এটি কারো ব্যবসা ও কারো বৃত্তি। জীব জীবের আহাররূপে
এরূপ করা সিদ্ধ। কষাইদের প্রাণী বধ করা ও মাংস বিক্রয় করা সঠিক। মানুষের
হাট-বাজার হতে মাংস কিনে খাওয়া বা বাড়ির পশু বধ করে খাওয়া বা পশু কিনে এনে
বধ করে খাওয়া সব ঠিক আছে। এসব প্রাকৃতিক নিয়ম। কিন্তু শাস্ত্রীয় মতবাদের
নামে বলি- বধ- হত্যা- হনন- নিধন ও ‘قُرْبَانٍ’ (কুরবানি) যাই বলি সব
প্রাণীধ্বংস বা প্রাণীনিধন। কারণ শাস্ত্রীয় ও সাম্প্রদায়িক মতবাদ চিরন্তন
নয় বরং আপেক্ষিক। মানব নির্মিত এসব মতবাদ প্রতিনিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে ও ধ্বংস
হচ্ছে। মানব রচিত এসব আপেক্ষিক মতবাদ দ্বারা পশুসম্পদ অবাধে নিধন করা
কতটুকু সমীচীন? নিচে পশুবধ বা পশুবলির ওপর কৌরানিক ও পৌরাণিক দর্শন তুলে
ধরা হলো।
পৌরাণিক দর্শন (Mythological philosophy)
কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy) বা কাল্পনিকতত্ত্ব (Mythology)
“ইমা রুদ্রায় তবসে। যথা শমসদ্দ্বিপদে চতুষ্পদে বিশ্বং পুষ্টং গ্রামে অস্মিন্ননাতুরম্”১—
কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy) বা কাল্পনিকতত্ত্ব (Mythology)
“ইমা রুদ্রায় তবসে। যথা শমসদ্দ্বিপদে চতুষ্পদে বিশ্বং পুষ্টং গ্রামে অস্মিন্ননাতুরম্”১—
বৈদিক ঋষির এই প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের হার্দিক
প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। সেখানে রুদ্রদেবতাকে স্তুতি করা হয়েছে যাতে দ্বিপদ ও
চতুষ্পদ প্রাণীরা সুস্থ থাকে এবং গ্রামে সকলে পুষ্ট ও রোগমুক্ত হয়। যদিও
ঋগ্বেদীয় সমাজে পশুপালন ও পশুহত্যা উভয়েরই প্রমাণ পাওয়া যায়। বন্যপ্রাণী
সংক্ষণের বা পশুদের রক্ষণাবেক্ষণের বিশেষ কোন নির্দেশ পাওয়া যায় না। তবে
বৈদিক যুগে পশুকে সম্পদ বলেই মনে করা হত। কেননা ইন্দ্রের কাছে যজমানের
বিভিন্ন পশু প্রার্থনা বিভিন্ন মন্ত্রে দৃষ্ট হয়।২
সম্ভবতঃ পশুর প্রাচুর্য থাকার জন্যই হয়ত সংক্ষণের প্রয়োজন হয়নি। পার্থিব
পরিবেশের জৈব উপাদানের অন্যতম অঙ্গ হল পশু। যজ্ঞের নিমিত্ত ও ভোজনের জন্য
পশুবধ করা হলেও পশুদের রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা যজুর্বেদেই দেখা যায়। কালের
নিরিখে পশুদের সংখ্যা যেই কমতে শুরু হয়, সেই তাদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
অনুভূত হয়। ঋগ্বেদীয় সমাজে যেটা তেমনভাবে দেখা যায়নি সেটাই ক্রমশঃ দেখা যায়
যজুর্বেদে। গাছ, পশু প্রভৃতি ধ্বংস করা যে পাপ এবং সেই পাপ থেকে মুক্তির
জন্য যাগের দ্বারা অপরাধের বিনাশ করার প্রচেষ্টা দেখা যায়— “যো
বামিন্দ্রবরুণা দ্বিপাৎসু পশুষু স্রামস্তম্ বামে তনাবযজ
ইত্যাহৈত্যবতীর্ব্বা আপ ওষধয়ো বনস্পতয়ঃ প্রজাঃ পশব উপজীবনায়াস্তা এবাস্মৈ
বরুণপাশান্মুঞ্চতি”৩।
বাঘ, সিংহ, নেকড়ে প্রভৃতি আরণ্য পশুর এমনকি রাক্ষসদের রক্ষার জন্যও প্রার্থনা অথর্ববেদের ভূমি সূক্তে দেখা যায়।৪
মহাভারতে পশুদের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হতে দেখা
যায়। মহাভারতে অনেক পশুর উল্লেখ আছে। সেগুলির মধ্যে গোরু অন্যতম। মহাভারতের
যুগে সমাজে গোপালন ছিল অত্যাবশ্যক। বিরাট, দুর্যোধন, যুধিষ্ঠির প্রভৃতি
রাজার গোধনের খ্যাতি ছিল। সেকালের গৃহস্থেরা গোরুকে দেবতা রূপে পূজা করত।
গোহিংসা এবং গোহত্যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ বলে গণ্য হত। গোরুর মাংস ভক্ষণও
নিষিদ্ধ ছিল। গোহত্যার ঘাতক, গোখাদক এবং গোহত্যার অনুমতি দাতা –সকলেই সেই
গোরুর যত লোম থাকে তত বছর নরকে নিমগ্ন থাকে৫—
“ঘাতকঃ খাদকো বাপি তথা যশ্চানুম্যতে।
যাবন্তি তস্য রোমাণি তাবদ্বর্ষাণি মজ্জতি”।।
এই নিষেধের মধ্য দিয়ে গোরুকুল রক্ষা এবং প্রাণীজগতের ভারসাম্য রক্ষার ব্যাপারে সচেতনতার পরিচয় পাওয়া যায়। মহাভারতে গোরু ছাড়াও হাতি, ঘোড়া, গাধা, কুকুর, বিড়াল প্রভৃতি গৃহপালিত পশুর নাম পাওয়া যায়। এই সকল পশুকে পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলেই মনে করা হত। পশুদের বিভিন্ন আচরণ থেকে মানুষেরও অনেক সুশিক্ষা নেওয়ার কথা মহাভারতে বর্ণিত হয়েছে। মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে পশুদের আচরণও দৃষ্টান্ত স্বরূপ উল্লেখ করা হয়েছে। মহাভারতের শান্তিপর্বের ১৩৪ অধ্যায়ের মার্জার-মূষিক-নকুল-পেচকের উপাখ্যান থেকে জানা যায় যে, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে শত্রুদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব করতে হয়। মহাভারতেই বর্ণিত হয়েছে রাজা শকুনের মত দুরদৃষ্টি-সম্পন্ন, বকের মত স্থির লক্ষ্য, কুকুরের ন্যায় সর্বদা সতর্ক, সিংহের মত বিক্রমশালী, কাকের মত আশঙ্কিত এবং সাপের ন্যায় পরের ছিদ্রান্বেষী হবেন।৬
যাবন্তি তস্য রোমাণি তাবদ্বর্ষাণি মজ্জতি”।।
এই নিষেধের মধ্য দিয়ে গোরুকুল রক্ষা এবং প্রাণীজগতের ভারসাম্য রক্ষার ব্যাপারে সচেতনতার পরিচয় পাওয়া যায়। মহাভারতে গোরু ছাড়াও হাতি, ঘোড়া, গাধা, কুকুর, বিড়াল প্রভৃতি গৃহপালিত পশুর নাম পাওয়া যায়। এই সকল পশুকে পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলেই মনে করা হত। পশুদের বিভিন্ন আচরণ থেকে মানুষেরও অনেক সুশিক্ষা নেওয়ার কথা মহাভারতে বর্ণিত হয়েছে। মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে পশুদের আচরণও দৃষ্টান্ত স্বরূপ উল্লেখ করা হয়েছে। মহাভারতের শান্তিপর্বের ১৩৪ অধ্যায়ের মার্জার-মূষিক-নকুল-পেচকের উপাখ্যান থেকে জানা যায় যে, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে শত্রুদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব করতে হয়। মহাভারতেই বর্ণিত হয়েছে রাজা শকুনের মত দুরদৃষ্টি-সম্পন্ন, বকের মত স্থির লক্ষ্য, কুকুরের ন্যায় সর্বদা সতর্ক, সিংহের মত বিক্রমশালী, কাকের মত আশঙ্কিত এবং সাপের ন্যায় পরের ছিদ্রান্বেষী হবেন।৬
সকল পশুই যখন গুণসম্পন্ন—এবং সেই গুণ যখন মানুষের মঙ্গল বিধান করে, তখন
তাদের ধ্বংস করা অনুচিৎ। মহাভারতে পশু হত্যার বিভিন্ন প্রায়শ্চিত্তের
বিধান আছে। শান্তিপর্বে বলা হয়েছে যে, কুকুর-শূকর-গাধা বধ করলে
শুদ্রসম্বন্ধী ব্রত আচরণ করে থাকতে হবে। একটি ক্ষুদ্র প্রাণী হত্যা করলে
কেবল অনুতাপই তার প্রায়শ্চিত্ত আর বহু ক্ষুদ্র প্রাণী হত্যা করলে এক বছর
ব্রত পালন করতে হবে।৭
প্রকৃতপক্ষে এই সকল প্রায়শ্চিত্ত বিধানের মধ্য দিয়ে পশুবধ থেকে মানুষকে
নিবৃত্ত করতে চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে বন্যপ্রাণী রক্ষণ আইন, ১৯৭২ এর দ্বারা
যে চেষ্টা করা হচ্ছে মহাভারতের যুগেও সেই প্রচেষ্টা প্রচ্ছন্ন ভাবে ছিল।
পশুহত্যার বিভিন্ন দণ্ডের বিধান পুরাণেও দৃষ্ট হয়। যেমন অগ্নিপুরাণে বলা
হয়েছে- অজ, হরিণ প্রভৃতি পশুদের কষ্ট দিলে, রক্তপাত ঘটালে বা তাদের অঙ্গ
ছেদন করলে ক্রমশঃ দুই, চার ও ছয় পণ দণ্ড বিহিত হবে। এই সকল পশুদের নিধন
করলে মধ্যমসাহম দণ্ড হবে এবং পশুর মালিককে মূল্য দিতে হবে। গোরু, ঘোড়া,
হাতি ইত্যাদি পশুর প্রতি একই অপরাধের জন্য পূর্বের উল্লিখিত দণ্ডের দ্বিগুণ
দণ্ড হবে ৮—
“দুঃখে চ শোণিতোৎপাদে শাখাঙ্গচ্ছেদনে তথা।
দণ্ডঃ ক্ষুদ্রপশূনাং স্যাদ্দ্বিপণপ্রভৃতিঃ ক্রমাৎ।।
লিঙ্গস্য ছেদনে মৃতৌ মধ্যমো মূল্যমেব চ।
মহাপশূনামেতেষু স্থানেষু দ্বিগুণা দমাঃ”।।
কূর্মপুরাণে বিভিন্ন পশুর হত্যাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলি হল- সিংহ, বাঘ, বিড়াল, কুকুর, শূকর, শিয়াল, বাঁদর ও গাধা। এছাড়া অন্য সমস্ত গ্রাম্য বা বন্য পশু ও পাখী সবেরই বধ ও ভক্ষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।৯
দণ্ডঃ ক্ষুদ্রপশূনাং স্যাদ্দ্বিপণপ্রভৃতিঃ ক্রমাৎ।।
লিঙ্গস্য ছেদনে মৃতৌ মধ্যমো মূল্যমেব চ।
মহাপশূনামেতেষু স্থানেষু দ্বিগুণা দমাঃ”।।
কূর্মপুরাণে বিভিন্ন পশুর হত্যাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলি হল- সিংহ, বাঘ, বিড়াল, কুকুর, শূকর, শিয়াল, বাঁদর ও গাধা। এছাড়া অন্য সমস্ত গ্রাম্য বা বন্য পশু ও পাখী সবেরই বধ ও ভক্ষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।৯
বায়ুপুরাণে পরিবেশের জৈব উপাদান প্রাণীদের রক্ষায় অহিংসার মন্ত্র প্রচারিত হতে দেখা যায়।
সকল প্রাণীই যেহেতু ঈশ্বরের সৃষ্টি তাই যেকোন প্রাণী হত্যাই অনুচিৎ–এটা মনু মনে করেন। তাঁর মতে বিপদের সময় বাদ দিয়ে অন্য যেকোন সময়ে যাতে কোন প্রাণীর অল্পমাত্রও অনিষ্ট না হয় বা যতটা পীড়ন না করলে নয়—এভাবে জীবিকা নির্বাহ করা উচিৎ১০–
সকল প্রাণীই যেহেতু ঈশ্বরের সৃষ্টি তাই যেকোন প্রাণী হত্যাই অনুচিৎ–এটা মনু মনে করেন। তাঁর মতে বিপদের সময় বাদ দিয়ে অন্য যেকোন সময়ে যাতে কোন প্রাণীর অল্পমাত্রও অনিষ্ট না হয় বা যতটা পীড়ন না করলে নয়—এভাবে জীবিকা নির্বাহ করা উচিৎ১০–
“অদ্রোহেণৈব ভূতানামল্পদ্রোহেন বা পুনঃ।
যা বৃত্তিস্তাং সমাস্থায় বিপ্রো জীবেদনাপদি”।।
আচার্য মনু প্রয়োজনে প্রাণীদের কষ্ট দেওয়ার কথা বলেছেন, কারণ কৃষিকাজ বা রথ পরিবহনের সময় গোরু, ঘোড়া প্রভৃতি পশুদের কষ্ট দিতেই হয়। কিন্তু তাদের বধ করে জীবন ধারণ কিংবা পরিবেশের ভারসাম্য বিনাশের কথা মনু বলেননি। উপরন্তু গাধা। ঘোড়া, মহিষ, উট, হাতি, ছাগ, প্রভৃতি বধের নিষেধের কথা বলেছেন। এই সকল প্রাণী হত্যাকারীদের সঙ্করীকরণ হয়।১১
যা বৃত্তিস্তাং সমাস্থায় বিপ্রো জীবেদনাপদি”।।
আচার্য মনু প্রয়োজনে প্রাণীদের কষ্ট দেওয়ার কথা বলেছেন, কারণ কৃষিকাজ বা রথ পরিবহনের সময় গোরু, ঘোড়া প্রভৃতি পশুদের কষ্ট দিতেই হয়। কিন্তু তাদের বধ করে জীবন ধারণ কিংবা পরিবেশের ভারসাম্য বিনাশের কথা মনু বলেননি। উপরন্তু গাধা। ঘোড়া, মহিষ, উট, হাতি, ছাগ, প্রভৃতি বধের নিষেধের কথা বলেছেন। এই সকল প্রাণী হত্যাকারীদের সঙ্করীকরণ হয়।১১
এছাড়া বিড়াল, নেউল, ব্যাঙ, কুকুর, গোসাপ, পেঁচা, কাক প্রভৃতিকে কেউ যদি
জ্ঞানত হত্যা করে তাহলে শুদ্রহত্যার সমান প্রায়শ্চিত্ত করার বিধানও মনু
কর্তৃক প্রদত্ত হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য মনু যে সকল পশু-পাখীদের বধ নিষিদ্ধ
বলেছেন১২
সেগুলির মধ্যে গোসাপ, বাজ, তিতির, শুক, ক্রৌঞ্চ বিরল প্রজাতির প্রাণী।
বর্তমানে আইন করে বিরল প্রজাতির প্রাণীদের রক্ষা করার যে প্রচেষ্টা দেখা
যায় ঋষির সত্যসন্ধ মনে তার সূচনা হয় অনেক যুগ আগেই।
মহামতি কৌটিল্যের মতে পশুসম্পদ ধনাগমেরও উৎস। অর্থসংগ্রহে এই পশুসম্পদকে
‘ব্রজ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে- “গোমহিষমজাবিকং খরোষ্ট্রমশ্বাশ্বতরাশ্চ
ব্রজঃ”১৩
অর্থাৎ গোরু, মহিষ, অজ, মেষ, গাধা, উট, ঘোড়া এবং অশ্বতর –এগুলিকে একত্রে
‘ব্রজ’ বলা হয়। এই সমস্ত পশু গৃহপালিত ছিল, কেননা এই পশুগুলি দুগ্ধ ও
পরিবহনের নিমিত্ত ব্যবহৃত হত। এই সকল পশু সংরক্ষণের কথা অর্থশাস্ত্রে
বর্ণিত হয়েছে। মাছ, হরিণ প্রভৃতির রক্ষার জন্য কৌটিল্য যে ‘সূনাধ্যক্ষ’
পদের কথা বলেছেন তা বর্তমানের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ১৯৭২ এর
বন্যপ্রাণী-সংরক্ষণ-মহানির্দেশক পদের সঙ্গে তুলনীয়। যে সকল পশু-পাখী রাজার
নির্দেশে অবধ্য বলে ঘোষিত হয়েছে বা অভয়ারণ্যের পশু-পাখীদের যারা বন্ধন,
আঘাত ও হত্যা করবে তাদের সূনাধ্যক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন-
“সূনাধ্যক্ষঃ প্রদিষ্টাভয়ানামভয়বনবাসিনাং চ
মৃগপশুপক্ষিমৎস্যানাং বন্ধবধহিংসায়ামুত্তমং দণ্ডং কারয়েৎ”১৪
“সূনাধ্যক্ষঃ প্রদিষ্টাভয়ানামভয়বনবাসিনাং চ
মৃগপশুপক্ষিমৎস্যানাং বন্ধবধহিংসায়ামুত্তমং দণ্ডং কারয়েৎ”১৪
যে সমস্ত প্রাণী অবধ্য বা রক্ষণীয় তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা কৌটিল্য দিয়েছেন১৫।
হস্তি সংরক্ষণের বিষয়ে হস্ত্যধ্যক্ষ নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। হস্তি
হত্যা একান্তভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি হাতিকে হত্যাকারীকে বধের নির্দেশও দেওয়া
হয়েছে- “হস্তিঘাতিনং হন্যুঃ”। পরিবেশ সচেতক কৌটিল্য এটাও বলেছেন যে,
অভয়ারণ্যের কোন হরিণ, বন্যপশু বা মাছ ক্ষতিকারক হয় তাহলে তাদের অভয়ারণ্যের
বাইরে নিয়ে বধ, বন্ধন প্রভৃতি করা যাবে১৬—
“দুষ্টাঃ পশুমৃগব্যালা মৎস্যাশ্চাভয়চারিণঃ।
অন্যত্র গুপ্তিস্থানেভ্যো বধবন্ধমবাপ্নুয়ুঃ”।।
“দুষ্টাঃ পশুমৃগব্যালা মৎস্যাশ্চাভয়চারিণঃ।
অন্যত্র গুপ্তিস্থানেভ্যো বধবন্ধমবাপ্নুয়ুঃ”।।
তবে শস্য ভক্ষণকারী পশুদের বিতাড়নের নির্দেশই আছে, সেই পশুকে আহত বা বিক্ষত করলে দণ্ডের বিধান দেওয়া হয়েছে।১৭
ছোট পশুদের লাঠি দিয়ে আঘাত করলে এক পণ বা দুই পণ জরিমানা দিতে হবে। আবার
আঘাতের ফলে যদি রক্তপাত হয় তাহলে সেই দণ্ড দ্বিগুণ হবে। গোরু প্রভৃতি বড়
পশুদের প্রতি ঐ একই রকম অপরাধ করলে ছোট পশুর ক্ষেত্রে বিহিত শাস্তির
দ্বিগুণ দণ্ড হবে।১৮
কৌটিল্যের পশু-পাখী হত্যার নিষিদ্ধকরণ এবং দণ্ডবিধান আধুনিক বন্যপ্রাণী
সংরক্ষণের প্রাচীনতর রূপ। বৈদিক যুগের যজ্ঞের পশুবধের সমর্থন পঞ্চতন্ত্র
প্রভৃতি গদ্য সাহিত্যে পাওয়া যায় না। পঞ্চতন্ত্রে বলা হয়েছে, হিংস্র
প্রাণীকেও যে হত্যা করে সে নিষ্ঠুর এবং সে ভয়ঙ্কর নরকে যায়১৯-
“হিংসাকান্যপি ভূতানি যো হিনস্তি স নির্ঘৃণঃ।
স যাতি নরকং ঘোরং কিং পুনর্যঃ শুভানি চ”।।
পশুবধ সম্বন্ধীয় অপর এক মত পঞ্চতন্ত্রে প্রদত্ত হয়েছে। পশুবধের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, যে সকল যাজ্ঞিক যজ্ঞে পশুবধ করে তারা মূর্খ, তারা শ্রুতিবাক্য ঠিকঠাক উপলব্ধি করতে পারেনি।
শ্রুতিতে বলা হয়েছে অজের দ্বারা যজ্ঞ করার কথা। সেখানে আসলে ‘অজ’ বলতে বোঝায় সাত বছরের পুরাতন ধান, কোন পশুবিশেষ বা ছাগল নয়২০—
স যাতি নরকং ঘোরং কিং পুনর্যঃ শুভানি চ”।।
পশুবধ সম্বন্ধীয় অপর এক মত পঞ্চতন্ত্রে প্রদত্ত হয়েছে। পশুবধের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, যে সকল যাজ্ঞিক যজ্ঞে পশুবধ করে তারা মূর্খ, তারা শ্রুতিবাক্য ঠিকঠাক উপলব্ধি করতে পারেনি।
শ্রুতিতে বলা হয়েছে অজের দ্বারা যজ্ঞ করার কথা। সেখানে আসলে ‘অজ’ বলতে বোঝায় সাত বছরের পুরাতন ধান, কোন পশুবিশেষ বা ছাগল নয়২০—
“এতেঽপি যে যাজ্ঞিকাঃ যজ্ঞকর্মণি পশূন্ ব্যাপাদয়ন্তি তে মূর্খাঃ
পরমার্থং শ্রুতের্ন জানন্তি। তত্র কিলৈতদুক্তম্ অজৈর্যষ্টব্যম্ ইতি অজা
বীহয়স্তাবৎ সপ্তবার্ষিকঃ কথ্যন্তে। ন পুনঃ পশুবিশেষাঃ”।
পরবর্তীকালের সংস্কৃত সাহিত্যে বিশেষত কালিদাসের রচনায় প্রকৃতিবর্ণনের সাথে সাথে পশু প্রভৃতি পরিবেশের উপাদানগুলির রক্ষার প্রয়াস দেখা যায়। প্রকৃতির কবি কালিদাস তাঁর অনন্তযৌবনা কাব্যসুন্দরী ‘অভিজ্ঞান-শকুন্তলম্’ নাটকে মানব চরিত্রের সঙ্গে উদ্ভিদ তথা মনুষ্যেতর প্রাণীদের সৌহার্দ্যকে স্বমহিমায় বর্ণনা করেছেন। মানুষ ও পশুপাখীর মধ্যে এক অদৃশ্য মেলবন্ধন দেখা যায়, যখন নাটকের শুরুতেই বৈখানস মৃগয়াবিহারী রাজা দুষ্যন্তকে পশুহত্যা করতে নিষেধ করেন২১-
পরবর্তীকালের সংস্কৃত সাহিত্যে বিশেষত কালিদাসের রচনায় প্রকৃতিবর্ণনের সাথে সাথে পশু প্রভৃতি পরিবেশের উপাদানগুলির রক্ষার প্রয়াস দেখা যায়। প্রকৃতির কবি কালিদাস তাঁর অনন্তযৌবনা কাব্যসুন্দরী ‘অভিজ্ঞান-শকুন্তলম্’ নাটকে মানব চরিত্রের সঙ্গে উদ্ভিদ তথা মনুষ্যেতর প্রাণীদের সৌহার্দ্যকে স্বমহিমায় বর্ণনা করেছেন। মানুষ ও পশুপাখীর মধ্যে এক অদৃশ্য মেলবন্ধন দেখা যায়, যখন নাটকের শুরুতেই বৈখানস মৃগয়াবিহারী রাজা দুষ্যন্তকে পশুহত্যা করতে নিষেধ করেন২১-
“ন খলু ন খলু বাণঃ সন্নিপাত্যোঽয়মস্মিন্।
মৃদুনি মৃগশরীরে তূলারাশাবিবাগ্নিঃ”।।
এই নিষেধ আসলে পরিবেশের প্রাণীরক্ষায় সচেতন ঋষিকুমারের নিষেধ। এই সচেতনতা রাজার মধ্যেও জাগরিত হয়।
ফলতঃ এক সময় দেখা যায় মৃগয়ার সব উপকরণ ঠিক হয়ে গেলেও রাজা সেনাপতিকে মৃগয়া বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন২২।
এই নির্দেশ কালিদাস রাজার মুখ থেকে দিয়েছেন। কারণ রাজার আদেশ সকল প্রজাই মেনে চলে। আর রাজা নিজে যদি পশুবধ থেকে নিজেকে বিরত রাখেন তাহলে অন্য সকলে তা থেকে শিক্ষা নেবে। এটাই মুখ্য উদ্দেশ্য। কালিদাসের দুষ্যন্ত এই স্থলে ‘বাঁচ’ এবং ‘বাঁচতে দাও’—এই মনোভাবের পক্ষপাতী।
মৃদুনি মৃগশরীরে তূলারাশাবিবাগ্নিঃ”।।
এই নিষেধ আসলে পরিবেশের প্রাণীরক্ষায় সচেতন ঋষিকুমারের নিষেধ। এই সচেতনতা রাজার মধ্যেও জাগরিত হয়।
ফলতঃ এক সময় দেখা যায় মৃগয়ার সব উপকরণ ঠিক হয়ে গেলেও রাজা সেনাপতিকে মৃগয়া বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন২২।
এই নির্দেশ কালিদাস রাজার মুখ থেকে দিয়েছেন। কারণ রাজার আদেশ সকল প্রজাই মেনে চলে। আর রাজা নিজে যদি পশুবধ থেকে নিজেকে বিরত রাখেন তাহলে অন্য সকলে তা থেকে শিক্ষা নেবে। এটাই মুখ্য উদ্দেশ্য। কালিদাসের দুষ্যন্ত এই স্থলে ‘বাঁচ’ এবং ‘বাঁচতে দাও’—এই মনোভাবের পক্ষপাতী।
আবার ষষ্ঠ অঙ্কে দেখা যায় মহাকবি কালিদাস খাদ্য-খাদক সম্পর্ককেও মেনে
নিয়েছেন। সেখানে পশুহত্যার অপরাধ নেই। নাটকের সপ্তম অঙ্কে সিংহশিশুর সঙ্গে
দুষ্যন্তপুত্র সর্বদমনের ক্রীড়ারত অবস্থার বর্ণনার মধ্য দিয়ে কালিদাস
বোঝাতে চেয়েছেন হিংস্র পশুমাত্রই ক্ষতিকারক বা বধ্য নয়।
কালিদাসের ‘রঘুবংশম্’ মহাকাব্যেও পশু সচেতনতার বর্ণনা
আছে। বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়েছে। যেমন গাভী নন্দিনীকে রক্ষার
জন্য রাজা দিলীপ নিজের দেহ দান করতেও প্রস্তুত। তিনি এখানে জীবের
রক্ষাকর্তা২৩—
“কিমপ্যহিংস্যস্তব চেন্মতোঽহম্/
যশঃশরীরে ভব মে দয়ালুঃ”।
নবমসর্গে মহারাজ দশরথের মৃগয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু মহারাজ মৃগয়া করতে গিয়ে কখন কখন পশু হত্যা থেকে বিরতও থেকেছেন। যেমন দশরথ একটি হরিণকে বধ করতে উদ্যত হলে তার প্রাণ রক্ষার জন্য যখন এক হরিণী তাকে আড়াল করে তখন রাজার প্রেমময় সত্তার প্রকাশ হয়। তিনি তৎক্ষণাৎ ধনুর গুণ শিথিল করে বাণ সংবরণ করেন২৪।
“কিমপ্যহিংস্যস্তব চেন্মতোঽহম্/
যশঃশরীরে ভব মে দয়ালুঃ”।
নবমসর্গে মহারাজ দশরথের মৃগয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু মহারাজ মৃগয়া করতে গিয়ে কখন কখন পশু হত্যা থেকে বিরতও থেকেছেন। যেমন দশরথ একটি হরিণকে বধ করতে উদ্যত হলে তার প্রাণ রক্ষার জন্য যখন এক হরিণী তাকে আড়াল করে তখন রাজার প্রেমময় সত্তার প্রকাশ হয়। তিনি তৎক্ষণাৎ ধনুর গুণ শিথিল করে বাণ সংবরণ করেন২৪।
বৌদ্ধযুগে পরিবেশের পশুপাখীদের রক্ষা বিষয়ে অধিক সচেতনতা দেখা যায়। কারণ
ভগবান বুদ্ধের অহিংসার বাণী তখন জনসাধারণের মনে বিশেষ স্থান অধিকার করে।
বুদ্ধের ভক্ত কবি অশ্বঘোষের রচনা থেকে পশু-সচেতনতার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র
পাওয়া যায়। বুদ্ধের প্রচলিত ধর্মের প্রভাবে যারা প্রাণি হত্যা করে জীবিকা
নির্বাহ করত, তারাও কোন জীবিত প্রাণীকে ক্ষুদ্র হলেও আঘাত করত না। আর যারা
অভিজাত, বহুগুণসম্পন্ন, দয়াশীল তাদের মনে সর্বদা অহিংসা ভাব থাকায় পশুহত্যা
তাদের ভাবনার অতীত২৫—
“ন জিহিংস সূক্ষ্মমপি জন্তুমপি পরবধোপজীবনঃ।
কিংবত বিপুলগুণঃ কুলজঃ সদয়ঃ সদা কিমু মুনেরুপাসয়া”।।
বুদ্ধের এই মৈত্রী ও অহিংসার বাণী পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। এই বাণী অশ্বঘোষ রচিত সৌন্দরনন্দে বহুলভাবে ধ্বনিত হয়েছে। নন্দের প্রতি উপদেশ স্বরূপ বলা হয়েছে২৬—
“তস্মাৎ সর্বেষু ভূতেষু মৈত্রীং কারুণ্যমেব চ।
ন ব্যপাদং বিহিংসা বা বিকল্পয়িতুমর্হসি”।।
সকল জীবের প্রতি তুমি মৈত্রী ও করুণার বৃত্তি অনুশীলন করবে। পরিবর্তে জিঘাংসা যেন মনে স্থান না পায়। দ্বেষাত্মক চিত্তকে প্রশমিত করার জন্য মৈত্রীর প্রয়োজন—“দ্বেষাত্মনো প্রশমায় হি মৈত্রী”। এইভাবে অহিংসা ও মৈত্রীর বাণীর মাধ্যমে পশু প্রভৃতি নিরপরাধ প্রাণীদের রক্ষার প্রচেষ্টা দেখা যায়।
কিংবত বিপুলগুণঃ কুলজঃ সদয়ঃ সদা কিমু মুনেরুপাসয়া”।।
বুদ্ধের এই মৈত্রী ও অহিংসার বাণী পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। এই বাণী অশ্বঘোষ রচিত সৌন্দরনন্দে বহুলভাবে ধ্বনিত হয়েছে। নন্দের প্রতি উপদেশ স্বরূপ বলা হয়েছে২৬—
“তস্মাৎ সর্বেষু ভূতেষু মৈত্রীং কারুণ্যমেব চ।
ন ব্যপাদং বিহিংসা বা বিকল্পয়িতুমর্হসি”।।
সকল জীবের প্রতি তুমি মৈত্রী ও করুণার বৃত্তি অনুশীলন করবে। পরিবর্তে জিঘাংসা যেন মনে স্থান না পায়। দ্বেষাত্মক চিত্তকে প্রশমিত করার জন্য মৈত্রীর প্রয়োজন—“দ্বেষাত্মনো প্রশমায় হি মৈত্রী”। এইভাবে অহিংসা ও মৈত্রীর বাণীর মাধ্যমে পশু প্রভৃতি নিরপরাধ প্রাণীদের রক্ষার প্রচেষ্টা দেখা যায়।
কালের গতিতে পশুর সংখ্যা ক্রমশঃ হ্রাস পেতে থাকলে বন্যপ্রাণী তথা পশু
সংরক্ষণের তাগিদ দেখা যায়। ফলে ১৯৭২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রণীত
হয়। এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে কেন্দ্রীয় সরকার বন্যপ্রাণী
সংরক্ষণের জন্য মহানির্দেশক, সহকারী নির্দেশক এবং অন্যান্য আধিকারিক
নিয়োগের কথা বলা হয়েছে—যা কৌটিল্য অনেক পূর্বে অর্থশাস্ত্র গ্রন্থে উল্লেখ
করেছেন। এই আইনের তৃতীয় অধ্যায়ে নবম ধারায় ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ তফশীলে
উল্লিখিত সমস্ত বন্যপ্রাণীর শিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে
আত্মরক্ষা, পড়াশুনা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে এই নিয়ম ১১ ও ১২ নং
ধারায় শিথিল করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ১৯৭২-এর ১৯৯১ সালের
সংযোজনী অনুসারে এই আইন লঙ্ঘনকারীর কঠোর শাস্তি বিধানের কথা বলা হয়েছে।
প্রাচীন ভারতের পশু রক্ষার ভাবনার সঙ্গে পরবর্তীকালের এই আইনের বহু মিল
খুঁজে পাওয়া যায়। সেগুলির কিয়দংশ আলোচনা করা হল। এবিষয়ে বিস্তৃত গবেষণার
অবকাশ আছে।
তথ্যসূত্রঃ
১. ঋগ্বেদ-১/১১৪/১
২. ঐ – ১/৯/৭
ঐ – ১/১৬২/৩
ঐ –১/৪/১
ঐ –৮/৪৬/২৮
ঐ –৮/৫৬/৩
৩. কৃষ্ণযজুর্বেদ-২/৩/২৩
৪. অথর্ববেদ-১২/১/১/৪৯
৫. মহাভারত-অনুশাসন পর্ব/৫৯/৬৬
৬. ঐ –শান্তি পর্ব/১৩৬/৬২
৭. ঐ –শান্তি পর্ব/১৬০/৫৪-৫৬
৮. অগ্নিপুরাণ-২৫৮/২৩-২৪
৯. কূর্মপুরাণ-উপরিভাগ/১৭/৩৪-৩৫
১০. মনুসংহিতা-৪/২
১১. ঐ –১১/৬৯
১২. ঐ –১১/১৩৫-১৩৬
১৩. অর্থসংগ্রহ-২/৬/৭
১৪. ঐ –২/২৬/১
১৫. ঐ –২/২৬/৬
১৬. ঐ –২/২৬/১৪
১৭. ঐ –৩/১০/৩০-৩৩
১৮. ঐ –৩/১৯/২৬-২৭
১৯. পঞ্চতন্ত্র-৩য় ভাগ/১০৪
২০. ঐ –৩য় ভাগ/ গল্পসংখ্যা ২
২১. অভিজ্ঞানশকুন্তলম্-১/১০
২২. ঐ –২/৬
২৩. রঘুবংশম্-২/৫৭
২৪. ঐ –৯/৫৭
২৫. সৌন্দরনন্দ-৩/৩০
২৬. ঐ –১৫/১৭
তথ্যসূত্রঃ (ইন্টারনেট)
অমিত কুমার সাহা,
অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ,
এম.ইউ.সি. উইমেন্স কলেজ, বর্ধমান
Email ID: amit.burd@gmail.com
১. ঋগ্বেদ-১/১১৪/১
২. ঐ – ১/৯/৭
ঐ – ১/১৬২/৩
ঐ –১/৪/১
ঐ –৮/৪৬/২৮
ঐ –৮/৫৬/৩
৩. কৃষ্ণযজুর্বেদ-২/৩/২৩
৪. অথর্ববেদ-১২/১/১/৪৯
৫. মহাভারত-অনুশাসন পর্ব/৫৯/৬৬
৬. ঐ –শান্তি পর্ব/১৩৬/৬২
৭. ঐ –শান্তি পর্ব/১৬০/৫৪-৫৬
৮. অগ্নিপুরাণ-২৫৮/২৩-২৪
৯. কূর্মপুরাণ-উপরিভাগ/১৭/৩৪-৩৫
১০. মনুসংহিতা-৪/২
১১. ঐ –১১/৬৯
১২. ঐ –১১/১৩৫-১৩৬
১৩. অর্থসংগ্রহ-২/৬/৭
১৪. ঐ –২/২৬/১
১৫. ঐ –২/২৬/৬
১৬. ঐ –২/২৬/১৪
১৭. ঐ –৩/১০/৩০-৩৩
১৮. ঐ –৩/১৯/২৬-২৭
১৯. পঞ্চতন্ত্র-৩য় ভাগ/১০৪
২০. ঐ –৩য় ভাগ/ গল্পসংখ্যা ২
২১. অভিজ্ঞানশকুন্তলম্-১/১০
২২. ঐ –২/৬
২৩. রঘুবংশম্-২/৫৭
২৪. ঐ –৯/৫৭
২৫. সৌন্দরনন্দ-৩/৩০
২৬. ঐ –১৫/১৭
তথ্যসূত্রঃ (ইন্টারনেট)
অমিত কুমার সাহা,
অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ,
এম.ইউ.সি. উইমেন্স কলেজ, বর্ধমান
Email ID: amit.burd@gmail.com
কৌরানিক দর্শন (Triadic philosophy)
কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy) বা কাল্পনিকতত্ত্ব (Mythology)
(১) “فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَىٰ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَىٰ ۚ قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ” “তারপর যখন সে তাঁর সঙ্গে কাজ করার যোগ্যতায় উপনীত হলো তখন তিনি বললেন- ”হে আমার পুত্র! নিঃসন্দেহ আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি তোমাকে বধ করছি। অতএব ভেবে দেখো- কী তুমি দেখছো।’’ তিনি বললেন- ”হে আমার পিতা! আপনি তাই করুন যা আপনাকে আদেশ করা হয়েছে। কাঁই ইচ্ছা করলে আপনি এখনি আমাকে পাবেন অধ্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত।” “And when he attained to working with him, he said: O my son! surely I have seen in a dream that I should Immolation you; consider then what you see. He said: O my father! do what you are commanded; if Lord please, you will find me of the patient ones.” (As-Saaffaat: 102)
কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy) বা কাল্পনিকতত্ত্ব (Mythology)
(১) “فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَىٰ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَىٰ ۚ قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ” “তারপর যখন সে তাঁর সঙ্গে কাজ করার যোগ্যতায় উপনীত হলো তখন তিনি বললেন- ”হে আমার পুত্র! নিঃসন্দেহ আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি তোমাকে বধ করছি। অতএব ভেবে দেখো- কী তুমি দেখছো।’’ তিনি বললেন- ”হে আমার পিতা! আপনি তাই করুন যা আপনাকে আদেশ করা হয়েছে। কাঁই ইচ্ছা করলে আপনি এখনি আমাকে পাবেন অধ্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত।” “And when he attained to working with him, he said: O my son! surely I have seen in a dream that I should Immolation you; consider then what you see. He said: O my father! do what you are commanded; if Lord please, you will find me of the patient ones.” (As-Saaffaat: 102)
(২) “وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ” “আমি তার পরিবর্তে দিলাম বলি
দেওয়ার জন্যে এক মহান জন্তু।” “And We ransomed him with a Feat
Immolation.” (As-Saaffaat: 107)
(৩) “فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ” “সুতরাং তোমার প্রভুর উদ্দেশ্যে
করো তাপন ও সাধনা করো। Therefore Heating to your God and make a
Immolation.” (Al-Kawthar: 2)
“قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَّا ذَلُولٌ تُثِيرُ الْأَرْضَ وَلَا تَسْقِي الْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌ لَّا شِيَةَ فِيهَا ۚ قَالُوا الْآنَ جِئْتَ بِالْحَقِّ ۚ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا يَفْعَلُونَ” “তিনি বললেন, “নিঃসন্দেহ তিনি বলছেন, সেটি নিশ্চয়ই এমন বাছুর যাকে জোয়ালে জোতা হয়নি, জমি চাষ করতে ক্ষেতে জলও দেয় না, যার মধ্যে কোন খুঁত নেই।” তারা বললে- “এবার তুমি পুরোপুরি সত্য নিয়ে এসেছো।” সুতরাং তারা তাকে বলি দিলো, আর দেখলো না যে তারা কী করল।” “He says, Surely she is a cow not made submissive that she should plough the land, nor does she irrigate the tilth; sound, without a blemish in her. They said: Now you have brought the truth; so they Immolation her, though they had not the mind to do (it)” (Al-Baqara: 71)।
“قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَّا ذَلُولٌ تُثِيرُ الْأَرْضَ وَلَا تَسْقِي الْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌ لَّا شِيَةَ فِيهَا ۚ قَالُوا الْآنَ جِئْتَ بِالْحَقِّ ۚ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا يَفْعَلُونَ” “তিনি বললেন, “নিঃসন্দেহ তিনি বলছেন, সেটি নিশ্চয়ই এমন বাছুর যাকে জোয়ালে জোতা হয়নি, জমি চাষ করতে ক্ষেতে জলও দেয় না, যার মধ্যে কোন খুঁত নেই।” তারা বললে- “এবার তুমি পুরোপুরি সত্য নিয়ে এসেছো।” সুতরাং তারা তাকে বলি দিলো, আর দেখলো না যে তারা কী করল।” “He says, Surely she is a cow not made submissive that she should plough the land, nor does she irrigate the tilth; sound, without a blemish in her. They said: Now you have brought the truth; so they Immolation her, though they had not the mind to do (it)” (Al-Baqara: 71)।
(৪) “وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ ۚ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ
فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ ۖ وَلَا تَحْلِقُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّىٰ
يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ
أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ ۚ
فَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا
اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ ۚ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ
أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ ۗ تِلْكَ عَشَرَةٌ
كَامِلَةٌ ۗ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ
الْحَرَامِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ
الْعِقَابِ” “আর তোমরা কাঁইয়ের উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রা ও পর্যটন
পরিপূর্ণভাবে পালন কর। যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও, তাহলে বলির জন্য যাকিছু
সহজলভ্য, তাই তোমাদের উপর ধার্য। আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন
করবে না, যতক্ষণ না বলি যথাস্থানে পৌছে যাবে। যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ
হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে উপোস করবে
কিংবা খয়রাত দেবে অথবা সাধনা করবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা তীর্থযাত্রা ও
পর্যটন একত্রে একই সাথে পালন করতে চাও, তবে যা কিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে বলি
করাই তার উপর কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা বলির পশু পাবে না, তারা তীর্থযাত্রার
দিনগুলোর মধ্যে উপোস থাকবে তিনটি আর সাতটি উপোস থাকবে ফিরে যাবার পর।
এভাবে দশটি উপোস পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার
পরিজন পবিত্র মন্দিরের আশে-পাশে বসবাস করে না। আর কাঁইকে ভয় করতে থাক।
সন্দেহাতীতভাবে জেনো যে, কাঁইয়ের শাস্তি বড়ই কঠিন।” “And accomplish the
pilgrimage and the visit for Lord, but if, you are prevented, whatever
offering is easy to obtain, and do not shave your heads until the
offering reaches its destination; but whoever among you is sick or has
an ailment of the head, he a compensation by fasting or alms or
Immolation, then when you are secure, whoever profits by combining the
visit with the pilgrimage what offering is easy to obtain; but he who
cannot find (any offering) should fast for three days during the
pilgrimage and for seven days when you return; these (make) ten (days)
complete; this is for him whose family is not present in the Sacred
Mosque, and be careful (of your duty) to Lord, and know that Lord is
severe in requiting.” (Al-Baqara: 196)
(৫) “قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ
رَبِّ الْعَالَمِينَ” “বলুনঃ আমার তাপন, আমার ভক্তি এবং আমার জীবন ও মরণ
বিশ্ব-প্রতিপালক কাঁইয়ের জন্যে।” “Say. Surely my prayer and my Immolation
and my life and my death are (all) for God, the God of the worlds.” (Al-An’aam: 162)
(৬) “لَكُمْ فِيهَا مَنَافِعُ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ مَحِلُّهَا
إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيقِ” “এদের মধ্যে তোমাদের জন্য উপকার রয়েছে এক
নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত। অতঃপর এগুলোকে পৌছাতে হবে মুক্ত-গৃহ পর্যন্ত।”
“You have advantages in them till a fixed time, then their place of
Immolation is the Ancient House.” (Al-Hajj: 33)
(৭) “وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِّيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ
عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ ۗ فَإِلَٰهُكُمْ
إِلَٰهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا ۗ وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ” “আর
প্রত্যেক জাতির জন্য আমরা ভক্তির বিধান দিয়েছি, যেন তারা কাঁইয়ের নাম স্মরণ
করে চতুস্পদ গবাদি-পশুদের যেগুলো দিয়ে তিনি তাদের অন্ন দিয়েছেন সে-সবের
উপরে। বস্তুতঃ তোমাদের উপাস্য একক উপাস্য, সুতরাং তাঁরই নিকট তোমরা
আত্মসমর্পণ করো। আর সুসংবাদ দাও বিনম্রদের।” “And to every nation We
appointed acts of devotion that they may mention the name of Lord on
what He has given them of the cattle quadrupeds; so your god is One God,
therefore to Him should you submit, and give good news to the humble.” (Al-Hajj: 34)
(৮) “الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ عَهِدَ إِلَيْنَا أَلَّا نُؤْمِنَ
لِرَسُولٍ حَتَّىٰ يَأْتِيَنَا بِقُرْبَانٍ تَأْكُلُهُ النَّارُ ۗ قُلْ
قَدْ جَاءَكُمْ رُسُلٌ مِّن قَبْلِي بِالْبَيِّنَاتِ وَبِالَّذِي قُلْتُمْ
فَلِمَ قَتَلْتُمُوهُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ” “সে সমস্ত লোক, যারা বলে
যে, কাঁই আমাদিগকে এমন কোন রসূলের ওপর বিশ্বাস না করতে বলে রেখেছেন যতক্ষণ
না তারা আমাদের নিকট এমন কোরবানী নিয়ে আসবেন যাকে আগুন গ্রাস করে নেবে।
তুমি তাদের বলে দাও, তোমাদের মাঝে আমার পূর্বে বহু রসূল নিদর্শনসমূহ এবং
তোমরা যা আব্দার করেছ তা নিয়ে এসেছিলেন, তখন তোমরা কেন তাদেরকে হত্যা
করলে যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।” (Those are they) who said: Surely Lord
has enjoined us that we should not believe in any messenger until he
brings us an offering which the fire consumes. Say: Indeed, there came
to you messengers before me with clear arguments and with that which you
demand; why then did you kill them if you are truthful?” (Aa Imraan: 183)
(৯) “وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا
قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ
الْآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ ۖ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ
الْمُتَّقِينَ” “আপনি তাদেরকে শঙ্করের দুই পুত্রের বাস্তব অবস্থা পাঠ করে
শুনান। যখন তারা ভয়েই কিছু উৎসর্গ নিবেদন করেছিল, তখন তাদের একজনের উৎসর্গ
গৃহীত হয়েছিল এবং অপরজনের গৃহীত হয়নি। সে বললঃ আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা
করব। সে বললঃ কাঁই ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহণ করেন।” “And relate to
them the story of the two sons of Adam with truth when they both
offered an offering, but it was accepted from one of them and was not
accepted from the other. He said: I will most certainly slay you. (The
other) said: Lord only accepts from those who guard (against evil).” (Al-Maaida: 27)
(১০) “يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ
وَأَنتُمْ حُرُمٌ ۚ وَمَن قَتَلَهُ مِنكُم مُّتَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِّثْلُ
مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنكُمْ هَدْيًا
بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ
ذَٰلِكَ صِيَامًا لِّيَذُوقَ وَبَالَ أَمْرِهِ ۗ عَفَا اللَّهُ عَمَّا
سَلَفَ ۚ وَمَنْ عَادَ فَيَنتَقِمُ اللَّهُ مِنْهُ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو
انتِقَامٍ” “হে যারা বিশ্বাস করেছ! মীন হত্যা করো না যখন তোমরা নিষিদ্ধ
থাকো। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ ইচ্ছা করে যদি তা হত্যা করে, তবে তার
ক্ষতিপূরণ হচ্ছে সে যা হত্যা করেছে- তার অনুরূপ গবাদিপশু থেকে যা ধার্য করে
দেবে তোমাদের মধ্যের দুইজন ন্যায়বান লোক; সে ত্যাগ পৌঁছানো চাই
তীর্থস্থানে অথবা প্রায়শ্চিত্ত হচ্ছে গরীবকে খাওয়ানো, অথবা তার সমতুল্য
উপোস রাখা, — যেন সে তার কাজের দণ্ড ভোগ করে। কাঁই ক্ষমা করে দেন যা হয়ে
গেছে। কিন্তু যে কেউ পুনরাবর্তন করে, কাঁই সে জন্য প্রতিফল দেবেন। আর কাঁই
মহাশক্তিশালী, প্রতিফল দানে সক্ষম।” “O you who believe! do not kill
Larval while you are on pilgrimage, and whoever among you shall kill it
intentionally, the compensation is the like of what he killed, from the
cattle, as two just persons among you shall judge, as an offering to be
brought to the Shrine or the expiation is the feeding of the poor or
the equivalent of it in fasting, that he may taste the unwholesome
result of his deed; Lord has pardoned what is gone by; and whoever
returns, Lord will inflict retribution on him; and Lord is Mighty, Lord
of Retribution.” (Al-Maaida: 95)
আত্মদর্শন (Theosophy) বা আত্মতত্ত্ব (Theology)
ওপরে বর্ণিত এসব শিক্ষামূলক উপাখ্যান। এসবের মধ্যে রয়েছে আত্মতাত্ত্বিক শিক্ষা। রূপক সাহিত্যে বধ- বলি- হত্যা- হনন- নিধন ও মৃত্যু বলতে কেবল বীর্যপাত বা শুক্রপাতকে বুঝায়। কামদেশে বা কামযজ্ঞে গিয়ে কিভাবে শুক্র-নিয়ন্ত্রণ বা বীর্য-নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তার শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে এসব উপমা দ্বারা। কোন আয়াত দ্বারাই প্রমাণ করা যায় না যে, এসব গবাদি বা বন্যপশু বধের বর্ণনা। তাই বিনা প্রয়োজনে কেবল শাস্ত্রীয় মতবাদ রক্ষা করার জন্যই অবাধে পশুবধ বা পশুসম্পদ ধ্বংস করা কতটুকু সমীচীন? বিবেকবানদের নিকট এ প্রশ্ন রইল।
ওপরে বর্ণিত এসব শিক্ষামূলক উপাখ্যান। এসবের মধ্যে রয়েছে আত্মতাত্ত্বিক শিক্ষা। রূপক সাহিত্যে বধ- বলি- হত্যা- হনন- নিধন ও মৃত্যু বলতে কেবল বীর্যপাত বা শুক্রপাতকে বুঝায়। কামদেশে বা কামযজ্ঞে গিয়ে কিভাবে শুক্র-নিয়ন্ত্রণ বা বীর্য-নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তার শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে এসব উপমা দ্বারা। কোন আয়াত দ্বারাই প্রমাণ করা যায় না যে, এসব গবাদি বা বন্যপশু বধের বর্ণনা। তাই বিনা প্রয়োজনে কেবল শাস্ত্রীয় মতবাদ রক্ষা করার জন্যই অবাধে পশুবধ বা পশুসম্পদ ধ্বংস করা কতটুকু সমীচীন? বিবেকবানদের নিকট এ প্রশ্ন রইল।
পশুবলি (রূপ)বি পশুবধ, পশুহত্যা, পশু-উৎসর্গ, Immolation (ইমোলেশন), ‘الذبح’ (আজ্জাবহ) (প্র) শাস্ত্রীয় প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে নিজের জীবনের পরিবর্তে পশু-উৎসর্গ করা (আবি)বি জীবহত্যা, প্রাণীহত্যা, নরহত্যা, মানুষহত্যা (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘তীর্থযাত্রা’ পরিবারের রূপক পরিভাষা ও রূপক সাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.শাস্ত্রীয় প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে নিজের জীবনের পরিবর্তে পশু-উৎসর্গ করাকে পশুবলি বলা হয় ২.রূপক সাহিত্যে কামবাসনা বা চন্দ্রচেতনাকে অবদমন করে কাম হতে নিষ্কামী হওয়াকে পশুবলি বলা হয় (রূ)বি নিষ্কামিতা (দেত)বি তীর্থযাত্রা {বাং.পশু+ বাং.বলি}
পশুবলির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Immolation)
১. “কর্ণরাজা ভবে বড় দাতা ছিল, অতিথীরূপে প্রভু সবংশ নাশিল, তবু কর্ণ অনুগত- বলি দিয়ে আপন পুত্র, অতিথীর মন করল সান্ত¡না।” (পবিত্র লালন- ৭৩৩/৪)। (মুখঃ- মন আমার গেল জানা, রবে না এ ধন, জীবন ও যৌবন, তবে কেন মন এত বাসনা, একবার সবুরের দেশে, বয় দেখি দম কষে, উঠিস নারে ভেসে, পেয়ে যন্ত্রণা”)।
২. “কোন্ প্রেমে মা কালী, পদতলে করে মহেশ্বর বলি, লালন বলে ধন্য দেবী, জয় জয় হরি।” (পবিত্র লালন- ৬৫০/৪)। (মুখঃ- “প্রেম প্রেম বলে করো, কোর্ট কাছারি, সে প্রেমের বাড়ি কোথায়, বলো বিহারী”)।
৩. “ফোঁটা তিলক তসবিহ মালা, তা জপ কী কারণে, লালন বলে ছয়রিপু, বলি দাও গুরুর শ্রীচরণে।” (পবিত্র লালন- ৪০৮/৩)। (মুখঃ- গুরুর নাম লইয়া তুই, বস না ধ্যানে, মন তোর এতো ভাবনা, কী কারণে”)।
৪. “হাঁটে থমকে, গিলে চুমুকে, মিঠে ভরা সারামুখে, নরবলি দেয় গো সুখে, কেউ পারে না বাঁচিতে।” (বলন তত্ত্বাবলী)। (মুখঃ- মনে চাই মনে চাই গো, রাধার ঘাটে নাও ভিড়াতে, এমন নাগরী যে দেখেছে, মন দিয়েছে ঐ রূপেতে”)।
(Some highly important quotations of Immolation)
১. “কর্ণরাজা ভবে বড় দাতা ছিল, অতিথীরূপে প্রভু সবংশ নাশিল, তবু কর্ণ অনুগত- বলি দিয়ে আপন পুত্র, অতিথীর মন করল সান্ত¡না।” (পবিত্র লালন- ৭৩৩/৪)। (মুখঃ- মন আমার গেল জানা, রবে না এ ধন, জীবন ও যৌবন, তবে কেন মন এত বাসনা, একবার সবুরের দেশে, বয় দেখি দম কষে, উঠিস নারে ভেসে, পেয়ে যন্ত্রণা”)।
২. “কোন্ প্রেমে মা কালী, পদতলে করে মহেশ্বর বলি, লালন বলে ধন্য দেবী, জয় জয় হরি।” (পবিত্র লালন- ৬৫০/৪)। (মুখঃ- “প্রেম প্রেম বলে করো, কোর্ট কাছারি, সে প্রেমের বাড়ি কোথায়, বলো বিহারী”)।
৩. “ফোঁটা তিলক তসবিহ মালা, তা জপ কী কারণে, লালন বলে ছয়রিপু, বলি দাও গুরুর শ্রীচরণে।” (পবিত্র লালন- ৪০৮/৩)। (মুখঃ- গুরুর নাম লইয়া তুই, বস না ধ্যানে, মন তোর এতো ভাবনা, কী কারণে”)।
৪. “হাঁটে থমকে, গিলে চুমুকে, মিঠে ভরা সারামুখে, নরবলি দেয় গো সুখে, কেউ পারে না বাঁচিতে।” (বলন তত্ত্বাবলী)। (মুখঃ- মনে চাই মনে চাই গো, রাধার ঘাটে নাও ভিড়াতে, এমন নাগরী যে দেখেছে, মন দিয়েছে ঐ রূপেতে”)।
পশুবলির কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি
(Some ordinary quotations of Immolation)
১. “ইব্রাহিম নবিরে শুনি, আদেশ করেন আল্লাহগনি, প্রিয়বস্তু দাও বলিদানি, দুম্বা পুত্র বলির আদেশ কোথায়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/২)।
২. “কারে শুধাইরে সে নিগূঢ় কথা, কে বলবে আমায়, পশুবধ করলে কী, সেই খোদা খুশি হয়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/১)।
৩. “কেমনে হব বলিদানি, সে ভেদ কেমনে জানি, লালন বলে কোথায় শুনি, কিরূপে কোন্ ইক্তেদায়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/৫)।
৪. “গাছের গোড়ায় বসে যে রয়, চৌদ্দভুবন সে দেখতে পায়, একূল ওকূল দু’কূল শুদ্ধ হয়, থাকে না পশুত্ব মাঝে।” (পবিত্র লালন- ৮৩৮/৩)।
৫. “জানো না মন শুকনা কাঠে, তাতে কী আর মালঞ্চ ফুটে, প্রেম নাই যার চিত্তে, সে প্রেম দেয় কষ্টে, নিজসুখ সাধনা বলি দেয়।” (পবিত্র লালন- ৮৮৫/২)।
৬. “মরণের আগেতে মরা, আপন মন বলিদান করা, প্রাণ অপেক্ষা যে পিয়ারা, তারে কী বুঝায় শরায়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/৩)।
৭. “মরে আপনার জান, আরিফেতে দেয় বলিদান, রাসুলের হাদিসে ফরমান, মাউতু ক্বাব্লাল্ মাউতায়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/৪)।
(Some ordinary quotations of Immolation)
১. “ইব্রাহিম নবিরে শুনি, আদেশ করেন আল্লাহগনি, প্রিয়বস্তু দাও বলিদানি, দুম্বা পুত্র বলির আদেশ কোথায়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/২)।
২. “কারে শুধাইরে সে নিগূঢ় কথা, কে বলবে আমায়, পশুবধ করলে কী, সেই খোদা খুশি হয়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/১)।
৩. “কেমনে হব বলিদানি, সে ভেদ কেমনে জানি, লালন বলে কোথায় শুনি, কিরূপে কোন্ ইক্তেদায়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/৫)।
৪. “গাছের গোড়ায় বসে যে রয়, চৌদ্দভুবন সে দেখতে পায়, একূল ওকূল দু’কূল শুদ্ধ হয়, থাকে না পশুত্ব মাঝে।” (পবিত্র লালন- ৮৩৮/৩)।
৫. “জানো না মন শুকনা কাঠে, তাতে কী আর মালঞ্চ ফুটে, প্রেম নাই যার চিত্তে, সে প্রেম দেয় কষ্টে, নিজসুখ সাধনা বলি দেয়।” (পবিত্র লালন- ৮৮৫/২)।
৬. “মরণের আগেতে মরা, আপন মন বলিদান করা, প্রাণ অপেক্ষা যে পিয়ারা, তারে কী বুঝায় শরায়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/৩)।
৭. “মরে আপনার জান, আরিফেতে দেয় বলিদান, রাসুলের হাদিসে ফরমান, মাউতু ক্বাব্লাল্ মাউতায়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/৪)।
বলির ওপর একটি পূর্ণ লালন (A full Lalon on the Immolation)
কারে শুধাইরে নিগূঢ় কথা,
কে বলবে আমায়,
পশুবধ করলে কী,
সেই খোদা খুশি হয়।
ইব্রাহিম নবিরে শুনি,
আদেশ করেন আল্লাহগনি,
প্রিয়বস্তু দাও বলিদানি,
দুম্বা পুত্র বলির আদেশ কোথায়।
মরণের আগেতে মরা,
আপন মন বলিদান করা,
প্রাণ অপেক্ষা যে পিয়ারা,
তারে কী বুঝায় শরায়।
মরে আপনার জান,
আরিফেতে দেয় বলিদান,
রাসুলের হাদিসে ফরমান,
মাউতু ক্বাব্লাল্ মাউতায়।
কেমনে হব বলিদানি,
সে ভেদ কেমনে জানি,
লালন বলে কোথায় শুনি,
কিরূপে কোন্ ইক্তেদায়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭)।
কারে শুধাইরে নিগূঢ় কথা,
কে বলবে আমায়,
পশুবধ করলে কী,
সেই খোদা খুশি হয়।
ইব্রাহিম নবিরে শুনি,
আদেশ করেন আল্লাহগনি,
প্রিয়বস্তু দাও বলিদানি,
দুম্বা পুত্র বলির আদেশ কোথায়।
মরণের আগেতে মরা,
আপন মন বলিদান করা,
প্রাণ অপেক্ষা যে পিয়ারা,
তারে কী বুঝায় শরায়।
মরে আপনার জান,
আরিফেতে দেয় বলিদান,
রাসুলের হাদিসে ফরমান,
মাউতু ক্বাব্লাল্ মাউতায়।
কেমনে হব বলিদানি,
সে ভেদ কেমনে জানি,
লালন বলে কোথায় শুনি,
কিরূপে কোন্ ইক্তেদায়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭)।
পশুবলির সংজ্ঞা (Definition of Immolation)
শাস্ত্রীয় প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে নিজের জীবনের পরিবর্তে পশু-উৎসর্গ করাকে পশুবলি বলে।
পশুবলির আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
(Theosophical definition of Immolation)
রূপক সাহিত্যে কামবাসনা বা চন্দ্রচেতনাকে অবদমন করে কাম হতে নিষ্কামী হওয়াকে পশুবলি বলে।
শাস্ত্রীয় প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে নিজের জীবনের পরিবর্তে পশু-উৎসর্গ করাকে পশুবলি বলে।
পশুবলির আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
(Theosophical definition of Immolation)
রূপক সাহিত্যে কামবাসনা বা চন্দ্রচেতনাকে অবদমন করে কাম হতে নিষ্কামী হওয়াকে পশুবলি বলে।
পশুবলির প্রকারভেদ (Classification of Immolation)
রূপক সাহিত্যে পশুবলি তিন প্রকার। যথা- ১.সাধারণ পশুবলি ২.শাস্ত্রীয় পশুবলি ও ৩.আধ্যাত্মিক পশুবলি।
১. সাধারণ পশুবলি (Normal Immolation)
সাধারণত মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়িতে, হাটে বা অরণ্যে আখেটি করতে গিয়ে যে পশুবধ করা হয় তাকে সাধারণ পশুবলি বলে।
২. শাস্ত্রীয় পশুবলি (Schismatical Immolation)
শাস্ত্রীয় প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে নিজের জীবনের পরিবর্তে যে পশুবধ করাকে তাকে শাস্ত্রীয় পশুবলি বলে।
৩. আধ্যাত্মিক পশুবলি (Spiritual Immolation)
মনের অপ্রয়োজনীয় কামলালসা ও পশুত্ব পরিহার করে আত্মশুদ্ধি করাকে আধ্যাত্মিক পশুবলি বলে।
রূপক সাহিত্যে পশুবলি তিন প্রকার। যথা- ১.সাধারণ পশুবলি ২.শাস্ত্রীয় পশুবলি ও ৩.আধ্যাত্মিক পশুবলি।
১. সাধারণ পশুবলি (Normal Immolation)
সাধারণত মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়িতে, হাটে বা অরণ্যে আখেটি করতে গিয়ে যে পশুবধ করা হয় তাকে সাধারণ পশুবলি বলে।
২. শাস্ত্রীয় পশুবলি (Schismatical Immolation)
শাস্ত্রীয় প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে নিজের জীবনের পরিবর্তে যে পশুবধ করাকে তাকে শাস্ত্রীয় পশুবলি বলে।
৩. আধ্যাত্মিক পশুবলি (Spiritual Immolation)
মনের অপ্রয়োজনীয় কামলালসা ও পশুত্ব পরিহার করে আত্মশুদ্ধি করাকে আধ্যাত্মিক পশুবলি বলে।
আবার রূপক সাহিত্যে পশুবলি দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান পশুবলি ও ২.উপমিত পশুবলি।
১. উপমান পশুবলি (Analogical Immolation)
শাস্ত্রীয় প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে নিজের জীবনের পরিবর্তে পশু-উৎসর্গ করাকে উপমান পশুবলি বলে।
২. উপমিত পশুবলি (Compared Immolation)
রূপক সাহিত্যে কামবাসনা বা চন্দ্রচেতনাকে অবদমন করে কাম হতে নিষ্কামী হওয়াকে উপমিত পশুবলি বলে।
১. উপমান পশুবলি (Analogical Immolation)
শাস্ত্রীয় প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে নিজের জীবনের পরিবর্তে পশু-উৎসর্গ করাকে উপমান পশুবলি বলে।
২. উপমিত পশুবলি (Compared Immolation)
রূপক সাহিত্যে কামবাসনা বা চন্দ্রচেতনাকে অবদমন করে কাম হতে নিষ্কামী হওয়াকে উপমিত পশুবলি বলে।
পশুবলির উপকার (Benefits of Immolation)
সাধারণভাবে পশু বলি-বধ-হত্যা-হনন ও নিধন করে খাওয়া এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে শাস্ত্রীয়ভাবে পশুবলি বা পশুনিধন এটা কতটুকু সমীচীন? শাস্ত্রীয় বা সাম্প্রদায়িকভাবে পশুনিধন বৈধাবৈধ যায় হোক না কেন, এর মাংস যখন দুঃস্থ ও অসহায় লোকদের মধ্যে বণ্টন করা হয় তা অবশ্যই বৈধ বা সিদ্ধ বলে ধরে নেওয়া যায়। দুঃস্থ ও অসহায় লোকেরা যেখানে সারা বছর মাংস কিনে খেতে পারে না- সেখানে শাস্ত্রীয় পশুবলির কারণে বছরে অন্তত একদিন হলেও তো তারা গো-ছাগাদির মাংস ভোজন করতে পারে।
সাধারণভাবে পশু বলি-বধ-হত্যা-হনন ও নিধন করে খাওয়া এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে শাস্ত্রীয়ভাবে পশুবলি বা পশুনিধন এটা কতটুকু সমীচীন? শাস্ত্রীয় বা সাম্প্রদায়িকভাবে পশুনিধন বৈধাবৈধ যায় হোক না কেন, এর মাংস যখন দুঃস্থ ও অসহায় লোকদের মধ্যে বণ্টন করা হয় তা অবশ্যই বৈধ বা সিদ্ধ বলে ধরে নেওয়া যায়। দুঃস্থ ও অসহায় লোকেরা যেখানে সারা বছর মাংস কিনে খেতে পারে না- সেখানে শাস্ত্রীয় পশুবলির কারণে বছরে অন্তত একদিন হলেও তো তারা গো-ছাগাদির মাংস ভোজন করতে পারে।
পশুবলির পরিচয় (Identity of Immolation)
আবহমানকাল হতেই বাংভারতীয় উপমহাদেশে তীর্থযাত্রা ও পশুবলি এবং এর প্রাসঙ্গিকতায় নিষ্কামিতা, তীর্থস্থান ও তীর্থবারি পরিভাষাগুলো শাস্ত্রীয়, পার¤পরিক ও মরমী অঙ্গনে দেখতে-শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু এসবের তত্ত্ব ও তাত্ত্বিকতা জানতে ও বুঝতে চাইলে সঠিকভাবে জানা ও বুঝার মাধ্যম একেবারেই নেই বললেও ভুল হবে না। কী শাস্ত্রিক, কী পারম্পরিক, কী মরমী, কী পাঠাগার, কী সাধনগৃহ (মন্দির ও মঠ) এবং কিবা গ্রন্থ-গ্রন্থিকা। কোথাও সঠিক সমাধান মিলে না। তবে ইদানিং Internet search করে যতটুকু পাওয়া যায় browser-রা দেখে নিতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ ইচ্ছে করলেও এসবের বর্ণনা-বিবরণ সহজে জানতে ও বুঝতে পারে না। তাই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
আবহমানকাল হতেই বাংভারতীয় উপমহাদেশে তীর্থযাত্রা ও পশুবলি এবং এর প্রাসঙ্গিকতায় নিষ্কামিতা, তীর্থস্থান ও তীর্থবারি পরিভাষাগুলো শাস্ত্রীয়, পার¤পরিক ও মরমী অঙ্গনে দেখতে-শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু এসবের তত্ত্ব ও তাত্ত্বিকতা জানতে ও বুঝতে চাইলে সঠিকভাবে জানা ও বুঝার মাধ্যম একেবারেই নেই বললেও ভুল হবে না। কী শাস্ত্রিক, কী পারম্পরিক, কী মরমী, কী পাঠাগার, কী সাধনগৃহ (মন্দির ও মঠ) এবং কিবা গ্রন্থ-গ্রন্থিকা। কোথাও সঠিক সমাধান মিলে না। তবে ইদানিং Internet search করে যতটুকু পাওয়া যায় browser-রা দেখে নিতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ ইচ্ছে করলেও এসবের বর্ণনা-বিবরণ সহজে জানতে ও বুঝতে পারে না। তাই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
সাধারণ সাহিত্যে পশুবলি বলতে প্রাণীবধ বা প্রাণীহত্যা বুঝালেও রূপক
সাহিত্যে কখনই প্রাণীবধ বা প্রাণীহত্যা বুঝায় না। বরং এ পরিভাষাটির দ্বারা
রূপক সাহিত্যে সর্বদা শুক্রপাত বা বীর্যপাতকে বুঝানো হয়। বর্তমান বিজ্ঞানের
গণনা অনুসারে একবার বীর্যপাত করার দ্বারা প্রায় ১৮ হতে ২০ লাখ
মানব-শুক্রাণু মারা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন এসব শুক্রাণু সবাই মানুষ
হওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু ডিম্বকের সঙ্গে নিষিক্ত হওয়ার সুযোগ পায় না বলেই
তারা মারা যায়। এর মাত্র ১-২টি এক সঙ্গে মানবরূপ লাভ করে। যেক্ষেত্রে ৩ হতে
২০টি মানব সন্তান জন্ম হয়, সেক্ষেত্রে ঐসব ভ্রূণ বাঁচে না। তবে ১ হতে ২টি
মানব সন্তান পৃথিবীর অনেক স্থানে বেঁচে আছে।
অন্যদিকে বড় আশ্চর্য হবার বিষয় হলো সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয়,
সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও
অনুবাদকরা রূপক সাহিত্যে বর্ণিত ‘পশুবলি’ পরিভাষাটির
দ্বারা কেবল গৃহপালিত বা বন্য পশু-পাখিকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। তাই
শাস্ত্রীয় ও সাম্প্রদায়িকরা চিরদিনের জন্য আধ্যাত্মিকজ্ঞান বা আত্মতত্ত্বের
জ্ঞানে চির অন্ধ। শাস্ত্রীয়রা একবারও ভেবে দেখে না যে পবিত্র বেদ,
ত্রিপিটক, তৌরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরান ও লালন এসব তো ঐশি মহাগ্রন্থ। এসব
তো জীবনবিজ্ঞান/ জীবনবিধান। এসব মহাগ্রন্থের মধ্যে ইতর প্রাণী বলি-বধের
আলোচনা করার কী প্রয়োজন আছে? হ্যাঁ এসব যদি জীববিজ্ঞান বা প্রাণীবিজ্ঞান
হতো তবে ইতর-প্রাণীর আলোচনা করা সঠিক হতো।
পরিশেষে বলা যায় বিশ্বের অধিকাংশ আত্মতাত্ত্বিক মনীষীর মতে শাস্ত্রীয়
রূপক মহাগ্রন্থগুলোর মধ্যে বর্ণিত ‘পশুবলি’, ‘পশুবধ’, ‘পাঁঠাবলি’ ও
‘পশু-উৎসর্গ’ পরিভাষাগুলো দ্বারা সর্বদাই শুক্রপাত, শুক্রাণুধ্বংস,
শুক্র-অপচয় ও শুক্রক্ষয় ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে। সে জন্য রূপক সাহিত্যে
বর্ণিত পশু দ্বারা কখনই ইতর-পশু অর্থ গ্রহণ করা যাবে না। রূপক সাহিত্য না
জানা ও না বুঝার কারণে শাস্ত্রীয়দের মধ্যে একদল মাংস খায় আবার আরেকদল খায়
না। একদল গোরু খায় আবার আরেকদল খায় না। একদল কচ্ছপ, কুঁইচা, বায়েম, ব্যাঙ,
খরগোশ, ঘুঘু ও শালিকের মাংস খায়, আবার আরেকদল খায় না। অথচ হাস্যকর বিষয়
হচ্ছে পবিত্র মহাগ্রন্থগুলোর মধ্যে এমন ঠুনকো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।
শাস্ত্রীয় গ্রন্থাদির অন্য নাম জীবন বিধান। জীবন বিধান যার যার জীবনের
সঙ্গে মিলিয়ে পাঠ করার সবিনয় আবেদন রইল।
প্রকৃত পশু কী? প্রকৃত পশুবলি বলতে কী বুঝায়? এসব বিষয় ভালোভাবে না জেনে
ও না বুঝে কেবল কবি নজরুল ও লালন সাঁইজির লিখিত দুয়েকটি বাণী দ্বারা
শাস্ত্রীয় পশুবলি বা পশুবধ নিষিদ্ধ করার ফোতোয়া দেওয়া কখনই সমীচীন নয়।
পশুবলি বা পশুবধ ব্যাপারে কবি নজরুল লিখেছেন-
“দিওনাকো পশু কুরবানি, বিফল হবেরে সবখানি।
মনের পশুরে কর জবাই, পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।”
“দিওনাকো পশু কুরবানি, বিফল হবেরে সবখানি।
মনের পশুরে কর জবাই, পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।”
অন্যদিকে পশুবলি বা পশুবধ ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন-
“কারে শুধাইরে সে নিগূঢ় কথা, কে বলবে আমায়,
পশুবধ করলে কী, সেই খোদা খুশি হয়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/১)।
“কারে শুধাইরে সে নিগূঢ় কথা, কে বলবে আমায়,
পশুবধ করলে কী, সেই খোদা খুশি হয়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/১)।
এসব যার যার নিজেস্ব আবেগের কথা, ভাবের কথা ও প্রেক্ষাপটভিত্তিক কথা।
তাই এসব উক্তি দ্বারা কখনই কুরানীদের পশুবলি ও পুরাণীদের পাঁঠাবলি নিষিদ্ধ
এমন কথা বলা যাবে না। শাস্ত্রীয় সংস্কার ভালোবাসা বা মান্য করা যার যার
ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু শাস্ত্রীয় সংস্কার একটি শাস্ত্রীয় বা
সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর প্রাণপ্রিয় সম্পদ। তাই কবিদের কথা দ্বারা কখনোই কোন
শাস্ত্রীয় ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অনুভূতিতে স্পর্শ করা যাবে না।
অন্যদিকে পশুবলি দ্বারা তো সাধারণ , শাস্ত্রীয় ও আধ্যাত্মিক এই তিন
প্রকার পশুবলিই বুঝায়। কেউ যদি পশুবলি নিষেধ করে তবে কোন প্রকার পশুবলি
নিষেধ করছেন তা তাকে উল্লেখ করে বলতে হবে। তা না হলে সাধারণভাবে পশুবলি
নিষেধ বললে ওপরোক্ত তিন প্রকার পশুবলি নিষিদ্ধ বুঝাবে। আর কোন মতেই-কোন
ক্রমেই ওপরোক্ত তিন প্রকার পশুবলি নিধিদ্ধ হতে পারে না। পশুবাদী, পশুজীবী ও
প্রকৃতিবাদীরা বড় জোর ওপরোক্ত দুই প্রকার পশুবলি নিষিদ্ধ করতে পারেন।
কিন্তু তৃতীয় প্রকার পশুবলি নিষিদ্ধ করার কক্ষতা কারো নেই। অর্থাৎ
আধ্যাত্মিক পশুবলি প্রত্যেক মানুষের করা একান্ত প্রয়োজন। এটি যদি কেউ
নিষিদ্ধ করেন তবে তিনি নিজেই পশু হয়ে যাবেন এবং তিনি নিজেই বলি হয়ে যাবেন।
আমাদের সর্বশেষ কথা হচ্ছে শাস্ত্রীয় দর্শন বা সাম্প্রদায়িক দর্শন যার
যার কিন্তু আত্মদর্শন সবার। আসুন আমরা আত্মদর্শনের কথা বলি। আসুন আমরা
দেহবিদ্যালয়ের কথা বলি। এটিই একমাত্র আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। এ
বিদ্যালয় একবার পাশ করলে বিশ্বের সব শাস্ত্র ও পরম্পরা অনায়াসে জানা ও বুঝা
যায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন