প্রথম পর্ব
পত্র-পত্রিকার পাতায় দৃষ্টিপাত করলেই প্রথম পাতার মাথায় ছোট
অক্ষরে “শুক্রবার, বর্ষ ০০, সংখ্যা ০০০, মূল্য ০.০০ টাকা” লেখাটি প্রায় সব
পাঠকেরই দৃষ্টিগোচর হয়। শুক্রবার, শনিবার, রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার,
বুধবার ও বৃহস্পতিবার- কেউ কী কখনো চিন্তা করে দেখেছেন যে, বাংলা সাতবারের
এসব নাম কখন কিভাবে উৎপত্তি হয়েছে? বাংলা সাতবারের নামগুলোর অনুসান্ধান
করার চেষ্টা করব এ মাত্রিকায়। তার আগে বাংলা, ইংরেজি ও আরবি সাতবারের
নামগুলো জেনে নিই।
১. শুক্রবার / Friday (ফ্রাইডে)
‘الجمعة’ (আলজুম’য়া)/ ‘يومالجمعة’ (ইয়াওমা আলজুম’য়া) (কৈশোরকাল)
‘الجمعة’ (আলজুম’য়া)/ ‘يومالجمعة’ (ইয়াওমা আলজুম’য়া) (কৈশোরকাল)
২. শনিবার / Saturday (স্যাটার্ডে)
‘السبت’ (আসসিবাত)/ ‘يومالسبت’ (ইয়াওমা আসসিবাত) (রজকাল)
‘السبت’ (আসসিবাত)/ ‘يومالسبت’ (ইয়াওমা আসসিবাত) (রজকাল)
৩. রবিবার / Sunday (সান্ডে) (Sabbath, first day, Lord’s day)
‘الأحد’ (আলয়াহাদ)/ ‘يومالأحد’ (ইয়াওমা আলয়াহাদ) (অর্যমা)
‘الأحد’ (আলয়াহাদ)/ ‘يومالأحد’ (ইয়াওমা আলয়াহাদ) (অর্যমা)
৪. সোমবার / Monday (মনডে)
‘الاثنين’ (আলইসনাইনি)/ ‘يومالاثنين’ (ইয়াওমা আলইসনাইন) (ঊষা)
‘الاثنين’ (আলইসনাইনি)/ ‘يومالاثنين’ (ইয়াওমা আলইসনাইন) (ঊষা)
৫. মঙ্গবার / Tuesday (টুইজডে)
‘الثلاثاء’ (আসসুলাসা)/ ‘يومالثلاثاء’ (ইয়াওমা আসসুলাসা) (পবিত্রতা)
‘الثلاثاء’ (আসসুলাসা)/ ‘يومالثلاثاء’ (ইয়াওমা আসসুলাসা) (পবিত্রতা)
৬. বুধবার / Wednesday (ওয়েডনেসডে)
‘الأربعاء’ (আলয়ারবা’য়া)/ ‘يومالأربعاء’ (ইয়াওমা আলয়াবা’য়া) (জ্ঞান)
‘الأربعاء’ (আলয়ারবা’য়া)/ ‘يومالأربعاء’ (ইয়াওমা আলয়াবা’য়া) (জ্ঞান)
৭. বৃহস্পতিবার / Thursday (থ্রাসডে)
‘الخميس’ (আলখামিস)/ ‘يومالخميس’ (ইয়াওমা আলখামিস)
‘الخميس’ (আলখামিস)/ ‘يومالخميس’ (ইয়াওমা আলখামিস)
প্রথমে দিন গণনার কথায় ধরি। কোন্ সূত্র ধরে কারা কিভাবে দিনের নামাদি
নির্মাণ করেছেন? বর্তমানকালে সপ্তাহের সাতবারের ব্যবহার ও গবেষণাদি হতে যত
সম্ভব জানা যায় এ নামগুলো সৌরজগৎ হতেই উদ্ভব হয়েছে। তবে কী সৌরজগতে এ
নামাদির কোন অস্তিত্ব বা উপাদান রয়েছে? সৌরজগতেই যদি দিনের নামাদির
উপাদানাদি থাকত তবে দিনের নাম আরো অনেক অধিক হলো না কেন? সৌরজগতে কী
উপাদানের ঘাটতি ছিল? সৌরবছর ৩৬৫ দিনে তবে দিনের নাম ৩৬৫টি হলো না কেন? আবার
৩০ দিনে মাস তবে দিনের নাম ৩০টি হলো না কেন? আবার প্রতি ১৫ দিনে পক্ষ তবে
দিনের নাম ১৫টিও হলো না কেন?
দিনের বর্ণ সাদা এবং রাতের বর্ণ কালো। তাহলে দিনের নামাদি সাদা
কেন্দ্রিক হলো না কেন? দিনের মধ্যে কোন পার্থক্য না থাকলে দিনের নাম অন্তত
৩৬৫টি কিংবা ৩০টি কিংবা ১৫টি হলে কী ক্ষতি হতো? দিনের নাম সাতটি হলো কেন?
দিনের নাম সাতের অধিক হলে অথবা সাতের ন্যূন হলে কী ক্ষতি হতো? আরো প্রশ্ন
করা যায় সৌরদিন এবং সৌররাত সবই তো এক। একদিন ও অন্য দিনের মধ্যে কিংবা
একরাত অন্য রাতের মধ্যে স্বাভাবিক কোন পার্থক্য নেই। অথচ দিনের নাম ৭টি
রাখা হলো কিন্তু রাতের একাধিক নাম রাখা হলো না কেন? তবে কী সৌরজগতে নামের
উপাদানের কোন ঘাটতি দেখা দিয়েছিল? ওপরোক্ত অসংখ্য প্রশ্নের সমাধান হলো
আমাদের বঙ্গাব্দের দিনাদির নামের উপাদানাদি একটিও সৌরজগতের নয় বরং সবই
দেহজগতের। দেহবিশ্বে সাত (৭) প্রকার দিন পাওয়া গেলেও রাত একটির অধিক পাওয়া
যায় না। এ জন্যই দিনের নাম সাত (৭)টি এবং রাতের নাম এক (১)টি। এবার বলা যায়
বিশ্ববিখ্যাত আত্মতাত্ত্বিক মনীষিগণের মতে দেহবিশ্বের রাত হলো ‘রজকাল’। এর
কোন পরিবর্তন নেই। এটি সারা বিশ্বে কেবল একটিই। বিশ্বের সব রমণির রজকাল
গড়ে সমান। তবে আমাদের বাংভারতীয় আত্মতাত্ত্বিক মনীষিগণের মতে রজকালরূপ
রাতের দৈর্ঘ্য ‘সাড়েতিন দিন’। কিন্তু পারস্য মনীষিগণের মতে রজকালরূপ রাতের
দৈর্ঘ্য ‘তিনদিন’। দেহজগতের রাত মাত্র একটি । এ জন্য রাতের ভিন্নভিন্ন নাম
করণের প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু দেহজগতের দিনাদি ভিন্নভিন্ন তাই দিনের
ভিন্নভিন্ন নাম করণের প্রয়োজন হয়েছে।
আদিমযুগের সুমহান মনীষিগণ দিন গণনাপদ্ধতি নির্মাণ বা আবিষ্কার
করতে গিয়ে সৌরজগতের প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করেও সৌরম-লের দিন হতে দিন এবং
রাত হতে রাতের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য খুঁজে পাননি। তবে চন্দ্রের দিন হতে
দিনের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য না পেলেও রাতের মধ্যে আলো ও অন্ধকারের একটা
পার্থক্য দেখতে পান।মনীষিগণ দেখেন যে অন্ধকারের পরে নবোদিত চন্দ্র
ক্রমেক্রমে অধিক আলো দিতে থাকে এবং চৌদ্দতম রাতে তার পূর্ণতালাভ হয় আবার
চন্দ্রের আলো ক্রমেক্রমে হ্রাস পেতে থাকে এবং পরবর্তী দৌদ্দতম রাতে চন্দ্র
পরিপূর্ণ অদৃশ্যতালাভ করে। ফলে তারা চন্দ্রের পূর্ণতালাভকে “পূর্ণিমা”,
চন্দ্রের অদৃশ্যতালাভকে “অমাবস্যা”, চন্দ্রের ক্রমো আলো বৃদ্ধিপ্রাপ্তির
রজনিগুলোকে “শুক্লপক্ষীয় তিথি” এবং চন্দ্রের ক্রমো আলো হ্রাসপ্রাপ্তির
রজনিগুলোকে “কৃষ্ণপক্ষীয় তিথি” ইত্যাদিরূপে নামকরণ করেন। এটা হতেই
“পূর্ণিমা” “অমাবস্যা” “শুক্লপক্ষ” “কৃষ্ণপক্ষ” ও “তিথি” ইত্যাদির উৎপত্তি
হয়।
পূর্ণিমা
পূর্ণিমা (রূপ)বি পূর্ণশশী, তিথিবিশেষ, চন্দ্রের সম্পূর্ণ অংশ দৃশ্যময়তা।
পূর্ণিমা (রূপ)বি পূর্ণশশী, তিথিবিশেষ, চন্দ্রের সম্পূর্ণ অংশ দৃশ্যময়তা।
পূর্ণিমার সংজ্ঞা
চন্দ্রের সম্পূর্ণ অংশ দৃশ্যময়তাকে চন্দ্রের পূর্ণিমা বলে।
চন্দ্রের সম্পূর্ণ অংশ দৃশ্যময়তাকে চন্দ্রের পূর্ণিমা বলে।
অমাবস্যা
অমা (রূপ)বি আঠাশা (কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি)।
অমা (রূপ)বি আঠাশা (কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি)।
অমাবস্যা (মবা.রূপ)বি অমা, অমাবৈস্যা, কৃষ্ণপক্ষের সর্বশেষ তিথি, চন্দ্রকলার অদৃশ্যকাল (আবি) সিনানী, অন্ধকার, অপবিত্রতা, messenger period.
অমাবস্যার সংজ্ঞা
কৃষ্ণপক্ষের সর্বশেষ তিথিতে চন্দ্রের সম্পূর্ণ অদৃশ্যতাকে চন্দ্রের অমাবস্যা বলে।
কৃষ্ণপক্ষের সর্বশেষ তিথিতে চন্দ্রের সম্পূর্ণ অদৃশ্যতাকে চন্দ্রের অমাবস্যা বলে।
শুক্লপক্ষ
শুক্ল (রূপ)বি শ্বেতবর্ণ, শুভ্রবর্ণ, সাদা, রৌপ্য, নবনীত, ননি, বিশুদ্ধ, চক্ষুপীড়া বিণ শুদ্ধ, পবিত্র, ধবল, সিত, অকলংক, শ্বেতবর্ণযুক্ত স্ত্রী শুক্লা।
পক্ষ (রূপ)বি চন্দ্রের হ্রাস-বৃদ্ধিজনিত কাল, মাসার্ধ, প্রতিপদ থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত পঞ্চদশ তিথি।
শুক্লপক্ষ (রূপ)বি চন্দ্রোদয়ের প্রথম ১৪ দিন, পূর্ণিমা তিথিতে যে পক্ষের অবসান হয় (আবি) বিশুদ্ধতা, নির্মলতা, পিউরিটি (purity), শরীরের সুস্থ্যতা পবিত্রতার ২৭ দিন, ঋতুস্রাব হতে পবিত্র হওয়ার পর আবার ঋতু আগমনের পূর্ব পর্যন্ত সময়, শরীরের সুস্থতার সময়, শরীর সুস্থ থাকাকালীন সময় (আভা)বি পৌর্ণমাসী (আপ)বি ইদ্দত
(আ.ﻋﺩﺖ), চাহারশম্বা (ফা.ﭼﻬﺎﺮ ﺸﻧﺒﻪ), ত্বহুর (আ.ﻄﻬﺭﺓ), পাক (ফা.ﭙﺎﮎ), মি’রাজ (আ.ﻤﻌﺭﺍﺝ) (সংজ্ঞা) রজস্বলাদের একস্রাবের প্রস্থান হতে অন্য স্রাব সূচনার মধ্যবর্তী সাতাশ (২৭) দিনকে পবিত্রতা বা রূপকার্থে শুক্লপক্ষ বলা হয় (দেপ্র) পবিত্রতা পরিবারের রূপকনামসদস্য ও রূপকসাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (ছনা)বি শুক্লপক্ষ,
যোগেশ্বরী (চরি)বি পৈবত্র (উপ)বি দিন (রূ)বি পূর্ণিমা (দেত)বি পবিত্রতা {বাং.শুক্ল+বাং.পক্ষ}
শুক্ল (রূপ)বি শ্বেতবর্ণ, শুভ্রবর্ণ, সাদা, রৌপ্য, নবনীত, ননি, বিশুদ্ধ, চক্ষুপীড়া বিণ শুদ্ধ, পবিত্র, ধবল, সিত, অকলংক, শ্বেতবর্ণযুক্ত স্ত্রী শুক্লা।
পক্ষ (রূপ)বি চন্দ্রের হ্রাস-বৃদ্ধিজনিত কাল, মাসার্ধ, প্রতিপদ থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত পঞ্চদশ তিথি।
শুক্লপক্ষ (রূপ)বি চন্দ্রোদয়ের প্রথম ১৪ দিন, পূর্ণিমা তিথিতে যে পক্ষের অবসান হয় (আবি) বিশুদ্ধতা, নির্মলতা, পিউরিটি (purity), শরীরের সুস্থ্যতা পবিত্রতার ২৭ দিন, ঋতুস্রাব হতে পবিত্র হওয়ার পর আবার ঋতু আগমনের পূর্ব পর্যন্ত সময়, শরীরের সুস্থতার সময়, শরীর সুস্থ থাকাকালীন সময় (আভা)বি পৌর্ণমাসী (আপ)বি ইদ্দত
(আ.ﻋﺩﺖ), চাহারশম্বা (ফা.ﭼﻬﺎﺮ ﺸﻧﺒﻪ), ত্বহুর (আ.ﻄﻬﺭﺓ), পাক (ফা.ﭙﺎﮎ), মি’রাজ (আ.ﻤﻌﺭﺍﺝ) (সংজ্ঞা) রজস্বলাদের একস্রাবের প্রস্থান হতে অন্য স্রাব সূচনার মধ্যবর্তী সাতাশ (২৭) দিনকে পবিত্রতা বা রূপকার্থে শুক্লপক্ষ বলা হয় (দেপ্র) পবিত্রতা পরিবারের রূপকনামসদস্য ও রূপকসাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (ছনা)বি শুক্লপক্ষ,
যোগেশ্বরী (চরি)বি পৈবত্র (উপ)বি দিন (রূ)বি পূর্ণিমা (দেত)বি পবিত্রতা {বাং.শুক্ল+বাং.পক্ষ}
শুক্লপক্ষের সংজ্ঞা
চন্দ্র উদয়ের পর হতে প্রথম ১৪টি তিথিকে একত্রে শুক্লপক্ষ বলে।
চন্দ্র উদয়ের পর হতে প্রথম ১৪টি তিথিকে একত্রে শুক্লপক্ষ বলে।
কৃষ্ণপক্ষ
কৃষ্ণ বিণ কালো, কৃষ্ণবর্ণ, অসিত, নীলবর্ণ, অন্ধকারময় (প্র) পুরাণিদেবতা বিষ্ণুর অবতারবিশেষ (আবি) অগ্নি, ঈশ্বর, কাঁই, কাজলা, কালা, কালিয়া, কালো, কেলে, বিরিঞ্চি,
ব্রহ্মা, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা, Lord, আল্লাহ (ﺍﻟﻟﻪ) স্ত্রী কৃষ্ণা।
কৃষ্ণ বিণ কালো, কৃষ্ণবর্ণ, অসিত, নীলবর্ণ, অন্ধকারময় (প্র) পুরাণিদেবতা বিষ্ণুর অবতারবিশেষ (আবি) অগ্নি, ঈশ্বর, কাঁই, কাজলা, কালা, কালিয়া, কালো, কেলে, বিরিঞ্চি,
ব্রহ্মা, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা, Lord, আল্লাহ (ﺍﻟﻟﻪ) স্ত্রী কৃষ্ণা।
কৃষ্ণপক্ষের সংজ্ঞা
পূর্ণিমার পরবর্তী ১৪টি তিথিকে একত্রে চন্দ্রের কৃষ্ণপক্ষ বলে।
পূর্ণিমার পরবর্তী ১৪টি তিথিকে একত্রে চন্দ্রের কৃষ্ণপক্ষ বলে।
তিথি
তিথি (রূপ)বি দিন, কাল, ক্ষণ, পল, দণ্ড, চন্দ্রমাস অনুসারে একদিন, চন্দ্রকলার হ্রাস-বৃদ্ধির দ্বারা নির্দিষ্ট সময়-প্রতিপদ দ্বিতীয়া ইত্যাদি, পূর্ণিমা হতে অমাবস্যা এবং অমাবস্যা হতে পূর্ণিমা পর্যন্ত চন্দ্রকলার ভাগ।
তিথি (রূপ)বি দিন, কাল, ক্ষণ, পল, দণ্ড, চন্দ্রমাস অনুসারে একদিন, চন্দ্রকলার হ্রাস-বৃদ্ধির দ্বারা নির্দিষ্ট সময়-প্রতিপদ দ্বিতীয়া ইত্যাদি, পূর্ণিমা হতে অমাবস্যা এবং অমাবস্যা হতে পূর্ণিমা পর্যন্ত চন্দ্রকলার ভাগ।
তিথির সংজ্ঞা
পূর্ণিমা হতে অমাবস্যা এবং অমাবস্যা হতে পূর্ণিমা পর্যন্ত চন্দ্রকলার প্রতিভাগকে তিথি বলে।
পূর্ণিমা হতে অমাবস্যা এবং অমাবস্যা হতে পূর্ণিমা পর্যন্ত চন্দ্রকলার প্রতিভাগকে তিথি বলে।
আদিকালের মনীষিগণ তাদের আবিষ্কৃত তিথিগুলোকে নিম্নোক্তরূপে নামকরণ করেন।
শুক্লপক্ষের তিথিগুলো
১. প্রতিপদ ২. শুক্লা দ্বিতীয়া ৩. শুক্লা তৃতীয়া ৪. শুক্লা চতুর্থী৫. শুক্লা পঞ্চমী ৬. শুক্লা ষষ্ঠী ৭. শুক্লা সপ্তমী ৮. শুক্লা অষ্টমী ৯. শুক্লা নবমী ১০. শুক্লা দশমী ১১. শুক্লা একাদশী ১২. শুক্লা দ্বাদশী ১৩. শুক্লা ত্রয়োদশী ১৪. শুক্লা চতুর্দশী ১৫. পূর্ণিমা।
১. প্রতিপদ ২. শুক্লা দ্বিতীয়া ৩. শুক্লা তৃতীয়া ৪. শুক্লা চতুর্থী৫. শুক্লা পঞ্চমী ৬. শুক্লা ষষ্ঠী ৭. শুক্লা সপ্তমী ৮. শুক্লা অষ্টমী ৯. শুক্লা নবমী ১০. শুক্লা দশমী ১১. শুক্লা একাদশী ১২. শুক্লা দ্বাদশী ১৩. শুক্লা ত্রয়োদশী ১৪. শুক্লা চতুর্দশী ১৫. পূর্ণিমা।
কৃষ্ণপক্ষের তিথিগুলো
১. প্রতিপদ ২. কৃষ্ণা দ্বিতীয়া ৩. কৃষ্ণা তৃতীয়া ৪. কৃষ্ণা চতুর্থী৫. কৃষ্ণা পঞ্চমী ৬. কৃষ্ণা ষষ্ঠী ৭. কৃষ্ণা সপ্তমী ৮. কৃষ্ণা অষ্টমী ৯. কৃষ্ণা নবমী ১০. কৃষ্ণা দশমী ১১. কৃষ্ণা একাদশী ১২. কৃষ্ণা দ্বাদশী ১৩. কৃষ্ণা ত্রয়োদশী ১৪. কৃষ্ণা চতুর্দশী ১৫. অমাবস্যা।
১. প্রতিপদ ২. কৃষ্ণা দ্বিতীয়া ৩. কৃষ্ণা তৃতীয়া ৪. কৃষ্ণা চতুর্থী৫. কৃষ্ণা পঞ্চমী ৬. কৃষ্ণা ষষ্ঠী ৭. কৃষ্ণা সপ্তমী ৮. কৃষ্ণা অষ্টমী ৯. কৃষ্ণা নবমী ১০. কৃষ্ণা দশমী ১১. কৃষ্ণা একাদশী ১২. কৃষ্ণা দ্বাদশী ১৩. কৃষ্ণা ত্রয়োদশী ১৪. কৃষ্ণা চতুর্দশী ১৫. অমাবস্যা।
আদিমযুগের মনীষিগণের দিন গণনার পদ্ধতি এরূপই ছিল। এটা ছিল তাদের
নিতান্ত চান্দ্রদিন গণনা পদ্ধতি। চান্দ্রদিন গণনা পদ্ধতি ব্যবহার করেই
বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আদিমমানুষ আদিমযুগের সর্বশেষ পর্যায়ে এসে উপনীত
হন। বাংলাদেশের ইতিহাস অনুযায়ী গত একাদশ (১১০০) শতাব্দি হতে মধ্যযুগের
সূচনা হয় এবং গত সপ্তদশ (১৭০০) শতাব্দি পর্যন্ত এ সাতশত (৭০০) বছর মধ্যযুগ
স্থায়ী হয়।
ওপরোক্ত পরিসংখ্যানটি হতে আমরা নিশ্চিন্তে বলতে পারি যে, আজ হতে
প্রায় ছয়সহস্র (৬,০০০) বছর পূর্বেই ভারতবর্ষীয় সুবিজ্ঞ মনীষিগণ দ্রাবিড় ও
আর্যভাষা হতে বেরিয়ে এসে সংস্কৃতভাষার ভিত্তিস্থাপন করেন। সংস্কৃতভাষার
অধিকাংশ মনীষিই আত্মদর্শন ও আধ্যাত্মিকবিদ্যায় বিশেষ ব্যুৎপত্তিলাভ
করেছিলেন। সে সময়ই বিশেষ বিশেষ সংস্কৃত মনীষি দেখতে পান যে, চান্দ্রবর্ষের
তিথিগুলো গণনায় প্রায় হ্রাস-বৃদ্ধি হয়ে থাকে। একই অঞ্চলের একগ্রামে শুক্লা
তৃতীয়া তিথি চলে এবং অন্যগ্রামে শুক্লা দ্বিতীয়া তিথি চলে। এর কারণ হলো-
অমাবস্যার পর সবাই একই দিনে নবোদিত চন্দ্র দেখতে পান না (বর্তমানে
কুরানিদের ইদুলফিতর নিয়ে যে সমস্যা দেখা যায়)। সে জন্য তিথি গণনার সূচনাকাল
ভিন্নভিন্ন পরিলক্ষিত হতে দেখা যায়।
এ সমস্যাটি সমাধান করার জন্য একদল সংস্কৃত মনীষী সমস্যাটি নিয়ে
চিন্তাভাবনা করতে আরম্ভ করেন। তাঁরা এও চিন্তা করেন যে, যে কোন মাধ্যমে
সৌরদিন গণনা পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারলে চান্দ্রতিথি গণনার হ্রাস-বৃদ্ধির
সমস্যাটিও সমাধান করা যাবে। সুদীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত
সুমহান ও সুবিজ্ঞ আত্মতাত্ত্বিক সাধু সন্ন্যাসিগই উক্ত সমাস্যার সঠিক ও
চমৎকার সমাধান জাতিকে উপহার দেন। তাঁরা দেখেন যে একমাত্র দেহজগতের উপকরণাদি
ব্যতীত সৌরজগতের কোন উপকরণাদি দ্বারা সৌরদিনের নামকরণ করা যায় না। সে জন্য
তাঁরা আত্মদর্শনের বিভিন্ন সদস্যাদির দ্বারা সৌরদিনের নামকরণের অধ্যবসায় ও
সাধনা আরম্ভ করেন। অবশেষে তাঁরা মানবদেহের মধ্যে ‘রজকাল’ ও ‘পবিত্রকাল’
রূপ ২টি ভিন্ন সত্তার অস্তিত্ব বিবেচনায় নিয়ে আসেন। অতঃপর তাঁরা ‘রজকাল’কে
উপমিত রেখে এর উপমান নাম দেন ‘রাত’ এবং ‘পবিত্রকাল’কে উপমিত রেখে এর উপমান
নাম দেন ‘দিন’। তখন হতেই উপমানপদের অধীনে উপমিতপদের আলোচনার যুগান্তরকারী
সংস্কার আরম্ভ হয়। এটি ছিল সে যুগের সোনালী সংস্কার।
অতঃপর পূর্বকালের আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক, সাধু ও সন্ন্যাসিরা
একের পর এক বৈক্তিকমূলক সদস্য আবিষ্কার করতে থাকেন এবং রূপকসাহিত্য নির্মাণ
করতে থাকেন। তবে এসব নির্ধারণী ছিল একেবারেই অগোছাল। আজ পর্যন্ত ঠিক
সেভাবেই চলে আসছে।
দিন (রূপ)বি দিবা, দিবস, চব্বিশ
ঘণ্টাকাল, অহোরাত্র, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, একত্রে এক দিবস
ও এক রাত্র, সময়কাল (সুদিন), আয়ু (দিন ফুরিয়েছে) (জ্যোশা) তিথি,
চন্দ্রমাসের ত্রিশভাগের একভাগ (আবি) জ্ঞান, গুরু, সুস্থ্যতা,
উন্নতি, যৌবনকাল, একজনম, একনিঃশ্বাস, সাতাশদিন, রজস্বলাদের পবিত্রতার ২য়,
৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম- এ ছয় প্রহর, রজস্বলাদের পবিত্রতার সূচনা হতে অন্য
স্রাব আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়।
পরবর্তিকালের নীতিনির্ধারকগণ উক্ত সপ্তপর্যায় হতে “পর্যায়” সহগ
পরিভাষাটিকে তিরোহিত করে শুধু মূল পরিভাষাটিকে দিনরূপে গ্রহণ করেন। যেমন-
১.শুক্ল ২.শনি ৩.মঙ্গল ৪.সোম ৫.রবি ৬.বৃহৎপতি ও ৭.বুধ। আরো অনেক পরে
সপ্তাহের এ সপ্তদিনকে নীতিনির্ধারকগণ ১.শুক্লদিন ২.শনিদিন ৩.রবিদিন
৪.সোমদিন ৫.মঙ্গলদিন ৬.বুধদিন ও ৭.বৃহৎপতিদিনরূপে গণ্য করেন।
ওপরোক্ত আলোচ্য সাতটি দিবসের সমন্বয়ে গঠিত হয় সপ্তাহ। আদিমযুগে এ
সপ্তাহই ভারতবর্ষীয় মনীষিগণের সৌরদিন গণনার স্থায়ী পদ্ধতিতে পরিণত হয়।
একসময় সৌরদিন গণনার এ স্থায়ী পদ্ধতিটি ক্রমেক্রমে সারা বাংভারতীয় উপমহাদেশে
ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে চান্দ্রতিথি গণনাপদ্ধতির তিথির হ্রাস-বৃদ্ধি
সমস্যাটিরও সঠিক সমাধান হয়। দিনের পর দিন সৌরদিন গণনা পদ্ধতিটির ব্যবহার ও
গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে এবং চান্দ্রতিথি গণনা পদ্ধতিটির ব্যবহার হ্রাস
পেতে থাকে। অতঃপর গত মধ্যযুগে ফার্সি ভাষাভাষী মোঘলরা বাংভারতীয় উপমহাদেশে
আধিপত্য স্থাপন করলে আমাদের সাতদিনের শেষে সংযুক্ত “দিন” নামক সহগ শব্দটিকে
তিরোহিত করে তাদের ফার্সি ভাষার বার (ﺒﺎﺭ) শব্দটিকে সংযুক্ত করেন। ফলে
উক্ত সাতদিনের নতুন নাম হয় “সাতবার”। যা আজও অবিকল তাই রয়েছে। যেমন-
১.শুক্লবার ২.শনিবার ৩.রবিবার ৪.সোমবার ৫.মঙ্গলবার ৬.বুধবার ও
৭.বৃহৎপতিবার।
বার [ﺒﺎﺭ] (রূপ)বি পর্যায়, পালা, ধারা, ব্যাপিয়া, ফার্সি সপ্তাহের দিবস বিশেষ {ফা}
বঙ্গবর্ষের সপ্তদিবসের নামকরণের ব্যাপারে অবশ্য আরো অনেক মতবাদ
কিংবা গল্পকাহিনি আমাদের বঙ্গদেশে প্রচলিত রয়েছে। বঙ্গাব্দের দিন, সপ্তাহ,
পক্ষ, মাস ও বছর সম্পর্কে এদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিকট বিভিন্ন প্রকার
গল্পকাহিনি প্রচলিত রয়েছে। সাথে সাথে সৌরজগতের চন্দ্র, সূর্য ও তারকাদির
ব্যাপারেও রয়েছে এদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিকট ভিন্নভিন্ন গল্পকাহিনি।
নিচে পৌরাণিক একটি মতবাদ তুলে ধরা হলো।
সপ্তদিবসের নামকণের পৌরাণিক মতবাদ
আমাদের দেশে মাসগুলোর মত দিনগুলোর নামের সঙ্গেও জ্যোতিষ শাস্ত্রের বিশেষ যোগ আছে। ভারতের প্রাচীন ঋষিগণ যেমন নক্ষত্রের নামে মাসের নামকরণ করেছিলেন, সপ্তাহের দিনগুলোর নামকরণের বেলাতেও তেমনি গ্রহ-উপগ্রহের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছিলেন। যেমন আমাদের সপ্তাহের দিনগুলোর নাম যথাক্রমে রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি। মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনির মত সূর্য এবং চন্দ্রকেও (রবি ও সোম) তারা গ্রহ বলে মনে করেন এবং তাদের নামেই আমাদের সপ্তাহের দিনগুলোর নামকরণ করেন (সূত্র: জয়নাল আবেদিনের লেখা হতে গৃহীত)।
আমাদের দেশে মাসগুলোর মত দিনগুলোর নামের সঙ্গেও জ্যোতিষ শাস্ত্রের বিশেষ যোগ আছে। ভারতের প্রাচীন ঋষিগণ যেমন নক্ষত্রের নামে মাসের নামকরণ করেছিলেন, সপ্তাহের দিনগুলোর নামকরণের বেলাতেও তেমনি গ্রহ-উপগ্রহের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছিলেন। যেমন আমাদের সপ্তাহের দিনগুলোর নাম যথাক্রমে রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি। মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনির মত সূর্য এবং চন্দ্রকেও (রবি ও সোম) তারা গ্রহ বলে মনে করেন এবং তাদের নামেই আমাদের সপ্তাহের দিনগুলোর নামকরণ করেন (সূত্র: জয়নাল আবেদিনের লেখা হতে গৃহীত)।
রূপকসাহিত্যের দিন ও রাত নির্মাণের সূত্রাদি
১. সবলকে দিন ধরলে অবশ্যই দুর্বলকে রাত ধরতে হবে।
২. জ্ঞানকে দিন ধরলে অবশ্যই মনকে রাত ধরতে হবে।
৩. পবিত্রতাকে দিন ধরলে অবশ্যই অপবিত্রতাকে রাত ধরতে হবে।
৪. সুস্থতাকে দিন ধরলে অবশ্যই অসুস্থতাকে রাত ধরতে হবে।
৫. পিতাকে দিন ধরলে অবশ্যই মাতাকে রাত ধরতে হবে।
৬. গুরুকে দিন ধরলে অবশ্যই শিষ্যকে রাত ধরতে হবে।
৭. যৌবনকালকে দিন ধরলে অবশ্যই বার্ধক্যকে রাত ধরতে হবে।
৮. জ্ঞানিকে দিন ধরলে অবশ্যই অজ্ঞানিকে রাত ধরতে হবে।
১. সবলকে দিন ধরলে অবশ্যই দুর্বলকে রাত ধরতে হবে।
২. জ্ঞানকে দিন ধরলে অবশ্যই মনকে রাত ধরতে হবে।
৩. পবিত্রতাকে দিন ধরলে অবশ্যই অপবিত্রতাকে রাত ধরতে হবে।
৪. সুস্থতাকে দিন ধরলে অবশ্যই অসুস্থতাকে রাত ধরতে হবে।
৫. পিতাকে দিন ধরলে অবশ্যই মাতাকে রাত ধরতে হবে।
৬. গুরুকে দিন ধরলে অবশ্যই শিষ্যকে রাত ধরতে হবে।
৭. যৌবনকালকে দিন ধরলে অবশ্যই বার্ধক্যকে রাত ধরতে হবে।
৮. জ্ঞানিকে দিন ধরলে অবশ্যই অজ্ঞানিকে রাত ধরতে হবে।
অনুসিদ্ধান্ত
১. সৌর সপ্তদিবস একমাত্র আত্মতত্ত্ব বা আত্মদর্শন হতে উৎপত্তি।
২. এটা সর্বপ্রথম সপ্তপর্যায়রূপে ছিল। যেমনÑ ১.শুক্লপর্যায় ২.শনিপর্যায় ৩.মঙ্গলপর্যায় ৪.সোমপর্যায় ৫.রবিপর্যায় ৬.বৃহৎপতিপর্যায় ও ৭.বুধপর্যায়।
৩. অতঃপর এটা সপ্তমূলক রূপলাভ করে। যেমন- ১.শুক্ল ২.শনি ৩.মঙ্গল ৪.সোম ৫.রবি ৬.বৃহৎপতি ও ৭.বুধ।
৪. অতঃপর এটা সপ্তদিন রূপলাভ করে। যেমন- ১.শুক্লদিন ২.শনিদিন ৩.রবিদিন ৪.সোমদিন ৫.মঙ্গলদিন ৬.বুধদিন ও ৭.বৃহৎপতিদিন।
৫. অতঃপর বাংভারতীয় উপমহাদেশ মোঘলদের শাসনকালে এটা সপ্তবার রূপলাভ করে। যেমন- ১.শুক্লবার ২.শনিবার ৩.রবিবার ৪.সোমবার ৫.মঙ্গলবার ৬. বুধবার ও ৭.বৃহৎপতিবার।
১. সৌর সপ্তদিবস একমাত্র আত্মতত্ত্ব বা আত্মদর্শন হতে উৎপত্তি।
২. এটা সর্বপ্রথম সপ্তপর্যায়রূপে ছিল। যেমনÑ ১.শুক্লপর্যায় ২.শনিপর্যায় ৩.মঙ্গলপর্যায় ৪.সোমপর্যায় ৫.রবিপর্যায় ৬.বৃহৎপতিপর্যায় ও ৭.বুধপর্যায়।
৩. অতঃপর এটা সপ্তমূলক রূপলাভ করে। যেমন- ১.শুক্ল ২.শনি ৩.মঙ্গল ৪.সোম ৫.রবি ৬.বৃহৎপতি ও ৭.বুধ।
৪. অতঃপর এটা সপ্তদিন রূপলাভ করে। যেমন- ১.শুক্লদিন ২.শনিদিন ৩.রবিদিন ৪.সোমদিন ৫.মঙ্গলদিন ৬.বুধদিন ও ৭.বৃহৎপতিদিন।
৫. অতঃপর বাংভারতীয় উপমহাদেশ মোঘলদের শাসনকালে এটা সপ্তবার রূপলাভ করে। যেমন- ১.শুক্লবার ২.শনিবার ৩.রবিবার ৪.সোমবার ৫.মঙ্গলবার ৬. বুধবার ও ৭.বৃহৎপতিবার।
পরিশেষ বলা যায় জ্ঞান পবিত্রতা সুস্থতা পিতা গুরু যৌবনকাল ও
জ্ঞানী সবই পারিভাষিকদিন এবং মন অপবিত্রতা অসুস্থতা মাতা শিষ্য বার্ধক্য ও
অজ্ঞানী সবই পারিভাষিক রাত হলেও নির্ধারিত পরিভাষাদির মধ্যে অবশ্যই
সুসামঞ্জস্য বা সুসঙ্গতি রেখে উপমা ও উপাখ্যাদি রচনা বা নির্মাণ করতে হবে।
কোন প্রকার অসঙ্গত পরিভাষাদি দ্বারা উপমা বা উপাখ্যানাদি নির্মাণ করা যাবে
না। যেমন- একই উপমার মধ্যে জ্ঞানকে দিন ধরলে মাতাকে রাত ধরা যাবে না। কারণ
মাতারূপ রাতের সাথে জ্ঞানরূপ দিনের কোন সম্পর্ক নেই বিধায় জ্ঞানকে দিন
নির্ধারণ করলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই মনকে রাত নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায়
পাঠককুল কোনক্রমেই মূলক উদ্ঘাটন করতে পারবেন না। আধ্যাত্মিকবিদ্যা জানা
বিজ্ঞপাঠক হওয়া সত্ত্বেও মূলক উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হলে এরূপ রূপকসাহিত্য রচনার
কোন্ই মূল্য নেই বিধায় রূপকারগণের রূপকসাহিত্য এরূপভাবে নির্মাণ করা উচিৎ
যাতে বৈক্তিকসদস্য ও সংখ্যাসূত্রাদি জানা যে কোন পাঠক অতি সহজেই নির্মিত
উপমা বা উপাখ্যানটির মূল উপাদানাদি বের করতে পারেন। রূপক সাহিত্যের
বৈক্তিকসদস্য (Personality traits) এর মূলক বা মূল উপাদান বের করতে ব্যর্থ
হলে সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার রূপকসাহিত্য পাঠ ও অধ্যায়ন করাই ব্যর্থ হবে।
যেমন প্রবাদ আছে “সপ্তখ- রামায়ণ পড়ে বলে কিনা সীতা রামের মাসী।” সাথেসাথে
পাঠককুল অতিসহজে মূলক উদ্ঘাটন করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে রূপকারদের
রূপকসাহিত্য নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।
বড় হাস্যোপহাসের বিষয় হলো বর্তমানকালের অধিকাংশ জ্যোতির্বিদ
মনে করেন যে, সর্বাগ্রে আমাদের মাথার ওপরে অবস্থিত আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রাদির
নাম শুক্র, শনি, বুুধ, সোম ও মঙ্গল ইত্যাদি ছিল। আকাশের ঐ তারকাদির
নামানুসারে আমাদের বঙ্গাব্দের সপ্তাহের দিনের নামাদির নামকরণ করা হয়েছে।
বর্তমান বাংভারতের জ্যোতির্বিদদের এরূপ হাস্যকর অলীক ধারণার সঠিক ও যথোচিৎ
উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব আমরা পাঠককুলের ওপরই ছেড়ে দিলাম। সারাপৃথিবীর সর্ব
শ্রেণির গবেষকরা একমত যে পৃথিবীর আদিমদর্শন বা আদিমশাস্ত্রই হলো
‘আত্মতত্ত্ব’। পরবর্তিকালে জ্যোতির্বিদ্যা, আয়ুর্বেদ, সনাতনী চিকিৎসা,
তন্ত্রচিকিৎসা, ভেষজচিকিৎসা, সর্পবিষচিকিৎসা, শাস্ত্রীয় মতবাদ, পারম্পরিক
মতবাদ, মরমিবাদ, ভাষাবিজ্ঞান, নৌবিদ্যা, সমরবিদ্যা, ভাষাজ্ঞানচর্চা ও
সাহিত্যচর্চাসহ জ্ঞানের সর্ব প্রকার শাখা প্রশাখা সব কিছুই কেবল
আত্মতত্ত্ববিদ্যা বা আত্মদর্শন হতে উৎপত্তি হয়েছে। কেবল আত্মতত্ত্বদর্শনের
বৈক্তিকসদস্যাদি ও সংখ্যাসূত্রাদি ব্যবহার করেই পৃথিবীর সর্ব প্রাচীন ও
আদিমহাগ্রন্থ বেদ নির্মাণ করা হয়েছে। অতঃপর ‘আত্মতত্ত্ব ভেদ’ চর্চা ও
অনুশীলন করতে গিয়েই নির্মিত হয়েছে ত্রিপিটক, রামায়ণ, মহাভারত, তৌরাত,
যাবুর, ইঞ্জিল, জেন্দাবেস্তা, কুরান, হাদিস ও কুরাননির্ভর কাহিনি (ইসলামী
ইতিহাস)। কিন্তু বর্তমানকালের অন্ধসাম্প্রদায়িকতার নির্মম কশাঘাতে সে-ই
আত্মদর্শন ও আত্মতত্ত্ববিদ্যা আজ চরম কোন্ঠাসা হয়ে পড়েছে। পৃথিবীর বুক থেকে
বিদায় নিতে বসেছে সেই আত্মতত্ত্ব। চরমভাবে লাঞ্ছিত ও হেয়প্রতিপন্ন হয়ে
একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসেছে উপনীত হয়েছে সে-ই আত্মতত্ত্ব ভেদ।
‘আত্মতত্ত্ব ভেদ’ বা আত্মদর্শন হতে
বর্তমানকালের ছিন্নমূল শাস্ত্রীয় দর্শনের উদ্ভব হলেও শাস্ত্রীয়
মতানুুসারিদের চরম ধর্মান্ধতা ও খুষ্কমূষ্কতার দাপটে সে-ই আত্মতত্ত্বই
বর্তমানে চরম-পরম কোন্ঠাসা হয়ে পড়েছে। জীবনের প্রায় ক্ষেত্রেই কেবল
শাস্ত্রীয় গ্রন্থগ্রন্থিকার অযুহাত-উদ্ধৃতি ব্যবহার করেই শাস্ত্রীয়
প-িত-বক্তারা যাবতীয় অপকর্ম ও অপতৎপরতা চারিয়েই যাচ্ছেন। বর্তমানেও
ছিন্নমূল সাম্প্রদায়িকরা যত্রতত্র বড় গলায় প্রচার করছেন যে মরমিবাদ ও
আত্মতত্ত্ববিদ্যা বলতে কিছুই নেই। এসব জেনে বুঝে কোন লাভ নেই। নব্যসভ্যতার
ধ্বজাধারী, খুষ্কমূষ্ক প্রগতিবিদ, ধর্মান্ধ শাস্ত্রীয় মতানুসারী ও পরগাছা
জ্যোতির্বিদদের জানাতে চাই যে মরমী ও আত্মতাত্ত্বিকদের বিরুদ্ধে সমালোচনা
কিংবা গালাগালি করার আগে মাত্র একবার ভেবে দেখুন যেসব দর্শনে কেবল
সামাজিকতা বা সামান্য কিছু সমবেত উপাসনা ব্যতীত ব্যক্তিগত উত্তরণের জন্য
আত্মশুদ্ধিকরণ, সুখীপরিবারগঠন, শুক্রনিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘায়ুলাভ, অমৃতাহরণ,
সৃষ্টিকর্তাদর্শন, পালককর্তাদর্শন ও নিজনিজ প্রয়াণ-তিরোধান দিবস সম্পর্কে
অবগতি ইত্যাদি জ্ঞান নেই সেটি শাস্ত্রীয় দর্শন হলেই কী কিংবা
জ্যোতির্বিদ্যা হলেইবা কী?
আসুন সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় গোঁড়ামি পরিহার করে
আত্মতত্ত্ববিদ্যা বা আত্মদর্শনকে সবাই নিজনিজ দর্শনরূপে গ্রহণ করি।
সাথেসাথে আত্মদর্শন অন্য কোন বিদ্যার অংশ নয় বরং অন্যান্য সর্ব প্রকার
বিদ্যা কেবল আত্মদর্শনেরই অংশ এ কথা মনেচিত্তে স্বীকার করি। আরো স্বীকার
করি সৌরজগতের গ্রহ-নক্ষত্রাদির নামানুসারে সপ্তাহের দিবসের নামকরণ করা হয়নি
বরং সপ্তাহের দিবসাদির নামানুসারেই সৌরজগতের গ্রন্থ-নক্ষত্রাদির নামকরণ
করা হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত
তথ্যসূত্র
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৩য় খণ্ড)
লেখক, বলন কাঁইজি।
তথ্যসূত্র
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৩য় খণ্ড)
লেখক, বলন কাঁইজি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন