নিষ্কামিতা
(তীর্থযাত্রা ও পশুবলির আত্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ- ৩য় পর্ব)
(The theosophical analysis of Pilgrimage or Immolation- 3rd chapter) “التحليل لاهوتيا من الحج أو الذبح- الفصل الثالث” (আত্তাহলিল লাহুতিয়ান মিন আলহাজ্ব আও আজ্জাবহা- আলফাসলু আস্সালিস)
(তীর্থযাত্রা ও পশুবলির আত্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ- ৩য় পর্ব)
(The theosophical analysis of Pilgrimage or Immolation- 3rd chapter) “التحليل لاهوتيا من الحج أو الذبح- الفصل الثالث” (আত্তাহলিল লাহুতিয়ান মিন আলহাজ্ব আও আজ্জাবহা- আলফাসলু আস্সালিস)
আবহমানকাল হতেই বাংভারতীয় উপমহাদেশে তীর্থযাত্রা ও পশুবলি এবং এর
প্রাসঙ্গিকতায় নিষ্কামিতা, তীর্থস্নান ও তীর্থবারি পরিভাষাগুলো শাস্ত্রীয়,
পারম্পরিক ও মরমী অঙ্গনে দেখতে-শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু এসবের তত্ত্ব ও
তাত্ত্বিকতা জানতে ও বুঝতে চাইলে সঠিকভাবে জানা ও বুঝার মাধ্যম একেবারেই
নেই বললেও ভুল হবে না। কী শাস্ত্রিক, কী পারম্পরিক, কী মরমী, কী পাঠাগার,
কী সাধনগৃহ (মন্দির ও মঠ) এবং কিবা গ্রন্থ-গ্রন্থিকা। কোথাও সঠিক সমাধান
মিলে না। তবে ইদানিং Internet search করে যতটুকু পাওয়া যায় browser-রা দেখে
নিতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ ইচ্ছে করলেও এসবের বর্ণনা-বিবরণ সহজে
জানতে ও বুঝতে পারে না। তাই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। ওপরোক্ত
বিষয়গুলোকে ১.তীর্থযাত্রা ২.পশুবলি ৩.নিষ্কামিতা ৪.পুণ্যস্নান ও
৫.তীর্থবারি- এ ৫টি পৃথক পৃথক পর্বে বিভক্ত করে আলোচনা তুলে ধরতে চেষ্টা
করছি।
————————————————————————————————————————
নিষ্কামিতা
Asexuality (এজসেক্সুয়ালিটি)/
‘اللاجنسية’ (আল্লাজিনসিয়া)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘তীর্থযাত্রা’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘রূপক পরিভাষা’ এবং এর মূলকসদস্য ‘তীর্থযাত্রা’।
————————————————————————————————————————
নিষ্কামিতা
Asexuality (এজসেক্সুয়ালিটি)/
‘اللاجنسية’ (আল্লাজিনসিয়া)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘তীর্থযাত্রা’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘রূপক পরিভাষা’ এবং এর মূলকসদস্য ‘তীর্থযাত্রা’।
নিষ্কাম বিণ বাসনাহীন, কামনাহীন, কামশূন্য, ফল আকাংখাহীন, Asexual.
নিষ্কামী বিণ অটল, অমর, রতীনিয়ন্ত্রণকারী, কামকেলিতে রতীরক্ষাকারী, Asexual.
নিষ্কামিতা (রূপ)বি কামহীনতা, কামশূন্যতা, আকাংখ্যাহীনতা, Asexuality, ‘اللاجنسية’ (আল্লাজিনসিয়া) বিণ নিষ্কামী (প্র) রূপক সাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘তীর্থযাত্রা’ পরিবারের ‘রূপক পরিভাষা’ ও রূপক সাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.কোন কিছু ক্রম ম্রিয়মান বা নিষ্ক্রিয়মান করাকে নিষ্কামিতা বলা হয় ২.শুক্র নিয়ন্ত্রণের দ্বারা কামের ওপর বিজয়লাভ করাকে নিষ্কামিতা বলা হয় (রূ)বি নিষ্কামিতা (দেত)বি তীর্থযাত্রা।
নিষ্কামী বিণ অটল, অমর, রতীনিয়ন্ত্রণকারী, কামকেলিতে রতীরক্ষাকারী, Asexual.
নিষ্কামিতা (রূপ)বি কামহীনতা, কামশূন্যতা, আকাংখ্যাহীনতা, Asexuality, ‘اللاجنسية’ (আল্লাজিনসিয়া) বিণ নিষ্কামী (প্র) রূপক সাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘তীর্থযাত্রা’ পরিবারের ‘রূপক পরিভাষা’ ও রূপক সাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.কোন কিছু ক্রম ম্রিয়মান বা নিষ্ক্রিয়মান করাকে নিষ্কামিতা বলা হয় ২.শুক্র নিয়ন্ত্রণের দ্বারা কামের ওপর বিজয়লাভ করাকে নিষ্কামিতা বলা হয় (রূ)বি নিষ্কামিতা (দেত)বি তীর্থযাত্রা।
নিষ্কামিতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Asexuality)
১. “কাম থেকে যে নিষ্কামী হয়, কামরতী হয় শক্তির আশ্রয়, লালন ফকিরে- ফাঁকে ফিরে, কঠিন দেখে শুনে” (পবিত্র লালন- ২৪২/৫)।
২. “কামী থেকে নিষ্কামী কী হয়, আজব কথা এও শোনা যায়, তার মর্ম কে মোরে কয়, লালন তাই ভাবে বসে” (পবিত্র লালন- ৩৬৬/৪)।
৩. “নিষ্কামী নির্বিকার হয়ে, দাঁড়াও মায়ের স্মরণ লয়ে, বর্তমানে দেখ চেয়ে, স্বরূপে রূপনিশানা” (পবিত্র লালন- ৮৬/৩)।
৪. “নিষ্কামী নির্বিকার হয়ে, যে থাকবে সে চরণ চেয়ে, শ্রীরূপ এসে তারে লয়ে, যাবে রূপেরদ্বারায়” (পবিত্র লালন- ৭০০/৩)।
৫. “নিষ্কামী নির্বিকার হলে, জিয়ন্তে মরে যোগ সাধলে, তবে খাত্বায় ওয়াসিল মিলে, নইলে উপায় কৈ দেখি” (পবিত্র লালন- ৬৩/৩)।
৬. “বলব কী সে প্রেমের বাণী, কাম থেকে হয় নিষ্কামী, শুদ্ধ সহজরস- করে বিশ্বাস, দোহার মন করে দোহারভাবে” (পবিত্র লালন- ৯৪৯/৩)।
৭. “সে প্রেমের করণ করা, কামের ঘরে নিষ্কামী যারা, নির্হেতু প্রেমে অধরা ধরা, ব্রজগোপীর ঠাঁই” (পবিত্র লালন- ৯৬৬/২)।
(Some highly important quotations of Asexuality)
১. “কাম থেকে যে নিষ্কামী হয়, কামরতী হয় শক্তির আশ্রয়, লালন ফকিরে- ফাঁকে ফিরে, কঠিন দেখে শুনে” (পবিত্র লালন- ২৪২/৫)।
২. “কামী থেকে নিষ্কামী কী হয়, আজব কথা এও শোনা যায়, তার মর্ম কে মোরে কয়, লালন তাই ভাবে বসে” (পবিত্র লালন- ৩৬৬/৪)।
৩. “নিষ্কামী নির্বিকার হয়ে, দাঁড়াও মায়ের স্মরণ লয়ে, বর্তমানে দেখ চেয়ে, স্বরূপে রূপনিশানা” (পবিত্র লালন- ৮৬/৩)।
৪. “নিষ্কামী নির্বিকার হয়ে, যে থাকবে সে চরণ চেয়ে, শ্রীরূপ এসে তারে লয়ে, যাবে রূপেরদ্বারায়” (পবিত্র লালন- ৭০০/৩)।
৫. “নিষ্কামী নির্বিকার হলে, জিয়ন্তে মরে যোগ সাধলে, তবে খাত্বায় ওয়াসিল মিলে, নইলে উপায় কৈ দেখি” (পবিত্র লালন- ৬৩/৩)।
৬. “বলব কী সে প্রেমের বাণী, কাম থেকে হয় নিষ্কামী, শুদ্ধ সহজরস- করে বিশ্বাস, দোহার মন করে দোহারভাবে” (পবিত্র লালন- ৯৪৯/৩)।
৭. “সে প্রেমের করণ করা, কামের ঘরে নিষ্কামী যারা, নির্হেতু প্রেমে অধরা ধরা, ব্রজগোপীর ঠাঁই” (পবিত্র লালন- ৯৬৬/২)।
নিষ্কামিতার সংজ্ঞা (Definition of Asexuality)
কোন কিছু ক্রম ম্রিয়মান বা নিষ্ক্রিয়মান করাকে নিষ্কামিতা বলে।
নিষ্কামিতার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
(Theosophical definition of Asexuality)
১. শুক্র নিয়ন্ত্রণের দ্বারা কামের ওপর বিজয়লাভ করাকে নিষ্কামিতা বলে।
২. সঙ্গম বা কামের ওপর বিজয়লাভ করাকে নিষ্কামিতা বলে।
কোন কিছু ক্রম ম্রিয়মান বা নিষ্ক্রিয়মান করাকে নিষ্কামিতা বলে।
নিষ্কামিতার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
(Theosophical definition of Asexuality)
১. শুক্র নিয়ন্ত্রণের দ্বারা কামের ওপর বিজয়লাভ করাকে নিষ্কামিতা বলে।
২. সঙ্গম বা কামের ওপর বিজয়লাভ করাকে নিষ্কামিতা বলে।
নিষ্কামিতার প্রকারভেদ (Classification of Asexuality)
নিষ্কামিতা দুই প্রকার। যথা- ১.শুক্র নিয়ন্ত্রণ নিষ্কামিতা ও ২.কাম বর্জন নিষ্কামিতা।
শুক্র নিয়ন্ত্রণ নিষ্কামিতা (Asexuality of semen control)
১. কামকেলিতে সার্বক্ষণিকভাবে শুক্র নিয়ন্ত্রণ করাকে শুক্র নিয়ন্ত্রণ নিষ্কামিতা বলে।
২. মৈথুনক্রিয়ায় শুক্রপাত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখাকে শুক্র নিয়ন্ত্রণ নিষ্কামিতা বলে।
কাম বর্জন নিষ্ককামিতা (Asexuality of lust leave)
চিরতরে নারী-সঙ্গম পরিত্যাগ করাকে কাম-বর্জন নিষ্কামিতা বলে।
নিষ্কামিতা দুই প্রকার। যথা- ১.শুক্র নিয়ন্ত্রণ নিষ্কামিতা ও ২.কাম বর্জন নিষ্কামিতা।
শুক্র নিয়ন্ত্রণ নিষ্কামিতা (Asexuality of semen control)
১. কামকেলিতে সার্বক্ষণিকভাবে শুক্র নিয়ন্ত্রণ করাকে শুক্র নিয়ন্ত্রণ নিষ্কামিতা বলে।
২. মৈথুনক্রিয়ায় শুক্রপাত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখাকে শুক্র নিয়ন্ত্রণ নিষ্কামিতা বলে।
কাম বর্জন নিষ্ককামিতা (Asexuality of lust leave)
চিরতরে নারী-সঙ্গম পরিত্যাগ করাকে কাম-বর্জন নিষ্কামিতা বলে।
নিষ্কামিতার উপকার (Benefits of Asexuality)
১. নিষ্কামিতা অর্জন করলে সহজে চুল দাড়ি পাকে না।
২. এর দ্বারা মৈথুনে পূর্ণ তৃপ্তিলাভ করা যায়।
৩. এর দ্বারা সুস্বাস্থ্য রক্ষা করা যায়।
৪. এর দ্বারা জন্ম নিয়ন্ত্রণের কোন প্রয়োজন হয় না। এ জন্য অর্থও সাশ্রয় করা যায়।
৫. এর দ্বারা কামজয়ী সাধকগণ সাঁই ও কাঁইয়ের দর্শনলাভ করে থাকেন।
৬. যৌবনকাল হতে নিষ্কামিতা অবলম্বন করলে দীর্ঘায়ুলাভ করা যায়।
১. নিষ্কামিতা অর্জন করলে সহজে চুল দাড়ি পাকে না।
২. এর দ্বারা মৈথুনে পূর্ণ তৃপ্তিলাভ করা যায়।
৩. এর দ্বারা সুস্বাস্থ্য রক্ষা করা যায়।
৪. এর দ্বারা জন্ম নিয়ন্ত্রণের কোন প্রয়োজন হয় না। এ জন্য অর্থও সাশ্রয় করা যায়।
৫. এর দ্বারা কামজয়ী সাধকগণ সাঁই ও কাঁইয়ের দর্শনলাভ করে থাকেন।
৬. যৌবনকাল হতে নিষ্কামিতা অবলম্বন করলে দীর্ঘায়ুলাভ করা যায়।
নিষ্কামিতার পরিচয় (Identity of Asexuality)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘তীর্থযাত্রা’ পরিবারের অধীন একটি ‘রূপক পরিভাষা’ বিশেষ। কোন কিছু ক্রম ম্রিয়মান বা নিষ্ক্রিয়মান করাকে নিষ্কামিতা বলা হয়। কামকেলি দ্বিপস্থ জীবের সহজাত প্রবৃত্তি। এ জন্য জীবমাত্রই কাম ব্যতীত উপস্থ সংযম করতে ব্যর্থ। অনেক অজ্ঞ-সাধক ভেবে থাকেন, নিষ্কাম অর্থ কাম হতে চিরতরে বিরত থাকা। কিন্তু বিষয়টি আদৌ তা নয়। কাম হতে চিরতরে বিরত হলে, জীবন ও জনম পরিপূর্ণই ব্যর্থতায় পর্যবশিত হয়। তাই নিষ্কাম অর্থ এরূপ ভাবা কখনো ঠিক হবে না যে, কখনো কামকেলি করাই যাবে না। বিশ্বের প্রায় জীবই কামকেলিপ্রিয় এবং তারা কামকেলিতে রত হয়। অবশেষে সব প্রাণীই কামকেলিতে শুক্রপাত করেই চরম পুলকলাভ করে। মানুষ শ্রেষ্ঠ-জীবরূপে চিন্তা করা প্রয়োজন যে, অবোধ ও নির্বোধ প্রাণীরা তো এরূপ করতেই পারে কিন্তু আমরা মানুষ শ্রেষ্ঠ-জীবরূপে নির্বোধ পশুপাখির মতো শুক্রপাতকেই চরমপুলক ধারণা করলে, শুক্রপাতের দিক দিয়ে নির্বোধ পশুপাখি ও বুদ্ধিমান মানুষের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। তারাও শুক্রপাত করে আমরাও শুক্রপাত করি, তবে তাদের এবং আমাদের মধ্যে শুক্রপাতকারী জীবরূপে কোন পার্থক্য থাকে না। এ দিকটি বিবেচনা করে আদিকালের সাধু ও সন্ন্যাসীগণ জ্ঞানীদের জন্য নিষ্কামিতা পদ্ধতির আবিষ্কার করেন।
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘তীর্থযাত্রা’ পরিবারের অধীন একটি ‘রূপক পরিভাষা’ বিশেষ। কোন কিছু ক্রম ম্রিয়মান বা নিষ্ক্রিয়মান করাকে নিষ্কামিতা বলা হয়। কামকেলি দ্বিপস্থ জীবের সহজাত প্রবৃত্তি। এ জন্য জীবমাত্রই কাম ব্যতীত উপস্থ সংযম করতে ব্যর্থ। অনেক অজ্ঞ-সাধক ভেবে থাকেন, নিষ্কাম অর্থ কাম হতে চিরতরে বিরত থাকা। কিন্তু বিষয়টি আদৌ তা নয়। কাম হতে চিরতরে বিরত হলে, জীবন ও জনম পরিপূর্ণই ব্যর্থতায় পর্যবশিত হয়। তাই নিষ্কাম অর্থ এরূপ ভাবা কখনো ঠিক হবে না যে, কখনো কামকেলি করাই যাবে না। বিশ্বের প্রায় জীবই কামকেলিপ্রিয় এবং তারা কামকেলিতে রত হয়। অবশেষে সব প্রাণীই কামকেলিতে শুক্রপাত করেই চরম পুলকলাভ করে। মানুষ শ্রেষ্ঠ-জীবরূপে চিন্তা করা প্রয়োজন যে, অবোধ ও নির্বোধ প্রাণীরা তো এরূপ করতেই পারে কিন্তু আমরা মানুষ শ্রেষ্ঠ-জীবরূপে নির্বোধ পশুপাখির মতো শুক্রপাতকেই চরমপুলক ধারণা করলে, শুক্রপাতের দিক দিয়ে নির্বোধ পশুপাখি ও বুদ্ধিমান মানুষের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। তারাও শুক্রপাত করে আমরাও শুক্রপাত করি, তবে তাদের এবং আমাদের মধ্যে শুক্রপাতকারী জীবরূপে কোন পার্থক্য থাকে না। এ দিকটি বিবেচনা করে আদিকালের সাধু ও সন্ন্যাসীগণ জ্ঞানীদের জন্য নিষ্কামিতা পদ্ধতির আবিষ্কার করেন।
নিষ্কামিতা হলো- কামের সময় পুরুষজাতি তাদের শুক্র নিয়ন্ত্রণ করবে।
অর্থাৎ নিয়মিত মৈথুন করেও তাদের একফোঁটা শুক্রও ক্ষয় হবে না। পশুপাখি
যেখানে শুক্রপাত দ্বারা চরম পুলকলাভ করে, জ্ঞানীরা সেখানে শুক্ররক্ষার
দ্বারা কামের পরিপূর্ণ তৃপ্তিলাভ করে বা পরিপূর্ণ প্রশান্তিলাভ করে। এ জন্য
নিষ্কামী হতে হলে কামকেলি একেবারে ছেড়ে দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। তবে
প্রয়োজন হলো কামের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং এ প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজন
দিব্যজ্ঞানী গুরুদেবের দীক্ষা। একজন আধ্যাত্মিক-জ্ঞানী গুরুদেবের নিকট হতে,
যথাযথ গুরুপাঠ গ্রহণ করে, ক্রমান্বয়ে কামের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে, অনায়াসে
নিষ্কামী হওয়া যায়। নিষ্কামী হওয়ার জন্য এ আত্মদর্শনের মধ্যেই
শুক্র-নিয়ন্ত্রণ ছোড়ান (চাবি) রয়েছে। উক্ত ছোড়ান চেপে ধরে মন মতো সময় মৈথুন
করলেও একবিন্দুও শুক্রপাত হয় না। বিস্তারিত সাধকগুরু ও গোঁসাইয়ের নিকট
জানার জন্য পরামর্শ রইল। মানবকুলে জন্ম নিয়ে কামবিজয়ী হওয়া কষ্টসাধ্য
ব্যাপার। সবার দ্বারা এহেন কঠিন সাধন সম্ভব নয়। তবু আমাদের সবারই কাম হতে
ক্রমান্বয়ে নিষ্কামী হওয়ার চেষ্টা বা প্রয়াস করা একান্ত প্রয়োজন। কাম হতে
নিষ্কামী হতে না পারলে জীবনে কখনই কাম বা সঙ্গমের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করা
যায় না। এছাড়া নিষ্কামী না হতে পারলে সাঁইসাধন ও কাঁইসাধন করা সম্ভব নয়। এ
ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন- “হায়রে মজার তিলেখাজা, দেখলিনে মন
কেমন মজা, লালন কয় বিজাতির রাজা, পড়ে আছে সে অকূলে” (পবিত্র লালন- ৬১৬/৪)। অর্থাৎ নিষ্কামী হওয়ার পূর্বে কেউ সঙ্গমের কোন স্বাদই আস্বাদন করতে পারে না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন