বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪

৯৮/ ৯. সৃষ্টিকর্তা প্রসঙ্গঃ ‘অসিত’

৯৮/৯. সৃষ্টিকর্তা প্রসঙ্গঃ ‘অসিত’ (১৬ পর্বের ৯ম পর্ব) (আধ্যাত্মিকবিদ্যা, আত্মতত্ত্ব, আত্মদর্শন, দেহতত্ত্ব, পরম্পরাতত্ত্ব, দিব্যজ্ঞান, স্বরূপদর্শন, নরত্বারোপ ও বলনদর্শন টীকা)
———————————————————————–
অসিত
Swart (স্যার্ট)/ ‘سوارت’ (সোয়ারাত)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ব্যাপকপরিবারের অন্যতম একটি ‘চারিত্রিকপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘সৃষ্টিকর্তা’, রূপকপরিভাষা ‘কাঁই’, উপমানপরিভাষা ‘ঘি, নীর, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য’, অন্যান্য চারিত্রিকপরিভাষা ‘কালা, কালু ও কৃষ্ণ’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর’
অসিত (রূপ)বি কৃষ্ণবর্ণ বিণ কালা, কেলে, কালো, কাজলা, কালিয়া, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা, কৃষ্ণবর্ণবিশিষ্ট, swart (স্যার্ট), ‘سوارت’ (সোয়ারাত) (প্র) সরস্বতী তীরস্থ আদিত্য তীর্থবাসী গার্হস্থ্যধর্মী তপস্বী। তিনি অসিতদেবল, দেবল ও অসিত এ তিন নামেই প্রসিদ্ধ (আবি)বি ১.কাঁই, কালা, কালু, কেলে, কালিয়া, কৃষ্ণ, কাজলা, ব্র‏হ্মা, বিরিঞ্চি, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা, melanin (মিলেনিন), ‘ميلانين’ (মিলেনিন) ২.ঈশ্বর, অনন্ত, কালোঈশ্বর, প্রজাপতি, হিরণ্যগর্ভ, বিধাতা, বিবস্বান, স্বায়ম্ভু (আদৈ)বি আল্লাহ (.ﺍﻠﻠﻪ), ইসা (.ﻋﻴﺴﻰٰ), মসিহ (আ.ﻤﺴﻴﺢ), শাম (আ.ﺷﺄﻢ), শামস (আ.ﺸﻤﺲ), শিশ (আ.ﺸﻴﺶ) (ইদৈ)বি Lord (লর্ড), maker (মেকার), designer (ডিজাইনার) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের ‘চারিত্রিকপরিভাষা’ ও রূপক সাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.সাধারণত কালো বর্ণযুক্তকে অসিত বলা হয় ২.কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে সৃষ্টিকর্তা বা অসিত বলা হয় (ছনা)বি আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর (চরি)বি অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ (উপ)বি ঘি, নীর, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য (রূ)বি কাঁই (দেত)বি সৃষ্টিকর্তা স্ত্রী অসিতা।
অসিতের সংজ্ঞা (Definition of Swart)
সাধারণত কালো বর্ণযুক্তকে অসিত বলে।
অসিতের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Swart)
কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে সৃষ্টিকর্তা বা অসিত বলে।
অসিতের প্রকারভেদ (Classification of Swart)
অসিত দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান অসিত ও ২.উপমিত অসিত।
১. উপমান অসিত (Analogical Swart)
সাধারণত কালো বর্ণযুক্তকে উপমান অসিত বলে।
২. উপমিত অসিত (Compared Swart)
রূপকসাহিত্যে কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে উপমিত অসিত বলে।
অসিতের পরিচয় (Identity of Swart)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের অধীন একটি ‘চারিত্রিকপরিভাষা’ বিশেষ। বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক রূপকসাহিত্যে এ পরিভাষাটির ব্যবহার অত্যধিক। তবে একেক দেশের একেক সম্প্রদায়ের একেক ভাষায় এর ব্যবহার হওয়ার কারণে শাস্ত্রীয়রা এর কোন গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে না। সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার রূপকসাহিত্যে এ অসিত পরিভাষাটি দ্বারা যার যার শাস্ত্রীয় ঈশ্বর বা শাস্ত্রীয় সৃষ্টিকর্তা বুঝানো হয়। তবে বঙ্গদেশে অসিত দ্বারা আমাদের কাঁইকে বুঝায়। মানবদেহের কালোবর্ণের রসটিকে প্রথমে নরত্বারোফ করা হয়। তারপর তাকে দ্বারা ব্যক্তি চরিত্র রূপায়ণ করা হয়। কিন্তু শাস্ত্রীয় পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা আত্মদর্শন না জানার কারণেই একে আমাদের মতো রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ বলে বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। আর এ কারণেই শাস্ত্রীয়রা চিরদিনের জন্য আধ্যাত্মিকবিদ্যা বা আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্বজ্ঞান চিরবঞ্চিত। জীব সৃষ্টিক্রিয়ায় সর্ব প্রথমে অংশগ্রহণ করে বলেই একে সৃষ্টিকর্তা বলা হয়। এ রসকেই আরবিতে আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) এবং ইংরেজিতে Lord (লর্ড) বলা হয়।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসূত্রঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন