নারীদেহ এক মন্দির! ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী (বাংলাদেশ প্রতিদিন- 30/08/2014)
বিতর্কিত মন্তব্য করে ফের কটাক্ষের শিকার হলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। নারীশরীরকে মন্দিরের সঙ্গে তুলনা করার ফলে একই সঙ্গে টিপ্পনী ও কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
বিতর্কিত মন্তব্য করে ফের কটাক্ষের শিকার হলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। নারীশরীরকে মন্দিরের সঙ্গে তুলনা করার ফলে একই সঙ্গে টিপ্পনী ও কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
চিন্তাভাবনা না করেই যে কোনো বিষয়ে দুম করে মন্তব্য পেশ করার ব্যাপারে
দস্তুরমতো রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন হর্ষবর্ধন। বৃহস্পতিবার আরেকটি বিতর্কের জন্ম
দিলেন তিনি। দিলি্লর একটি মহিলা কলেজের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত
হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শহুরে মহিলাদের অসুখের বাড়বাড়ন্ত
প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ‘নারীদেহ হলো এক মন্দির যা দেশের
ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ মহিলাদের এক নবীন প্রজন্ম গড়ে
তুলতে পারলে তার সুফল ভোগ করবে পরিবার, সমাজ ও দেশ। মেয়েরা শুধু চাকরিই
করেন না, তারা একাধারে মা, সন্তানের শিক্ষিকা এবং নীতিবোধের পরাকাষ্ঠা।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের শেষ ভাগ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া না হলেও,
প্রথমাংশ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফেসবুকে নারী আন্দোলন
কর্মী কবিতা কৃষ্ণান জানিয়েছেন, ‘নারীর শরীর কোনো মন্দির নয় যা দেশের
সম্পত্তি। তার সুস্থ থাকা দরকার একমাত্র নিজের জন্যই, পরিবার, সমাজ বা
দেশের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য নয়।’ এতেই থেমে না থেকে তিনি প্রশ্ন
তুলেছেন, ‘নবীন প্রজন্মের মেয়েদের একাধারে পেশাদার, মা, শিক্ষক, নীতিবোধের
পরাকাষ্ঠা ইত্যাদি বলার অর্থ কী? সন্তানের পিতার থেকে কি একই দায়িত্বজ্ঞান
আশা করা যায় না?’ এ ছাড়া আধুনিকাদের জীবনযাপন পদ্ধতি ও ধূমপানের প্রতি
আসক্তি নিয়েও এদিন উদ্বেগ প্রকাশ করেন হর্ষবর্ধন। তিনি জানান, ‘পেশাদার
মহিলাদের জীবনযাপন পদ্ধতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। একদিকে
পেশাদারিত্বের কারণে কাজের চাপ, অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া ও
যথেষ্ট ঘুমের অভাবে তাদের স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। এ সমস্যার মোকাবিলা করতে
সরকার ধর্মীয়, সামাজিক, ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সাহায্য চাইছে।’
পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যায়াম ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের সাহায্যে মেয়েদের
ওজন কমানোর প্রচেষ্টারও কড়া সমালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার এসব
মন্তব্যের জেরে ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে নিন্দায় মুখর হয়েছে নবীন প্রজন্ম।
সূত্র এখানে।
সূত্র এখানে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘হর্ষবর্ধন’ নারীদেহকে মন্দিরের সাথে তুলনা করার জন্য যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তার উত্তরে—————- বলন কাঁইজি
সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক রূপকসাহিত্যে পুরুষকে রূপকপরিভাষারূপে ‘গোরু’, উপমানপরিভাষারূপে ‘নিঃস্ব’ ও ছদ্মনামপরিভাষারূপে ‘বলদ’ এবং পুরুষদেহকে রূপকপরিভাষারূপে ‘বৃন্দাবন’, উপমানপরিভাষারূপে ‘লঙ্কা’ ও ছদ্মনামপরিভাষারূপে ‘সরন্দীপ’ ইত্যাদি বলা হয়।
অন্যদিকে রূপকসাহিত্যে নারীকে রূপকপরিভাষারূপে ‘ছাগল’ ও ছদ্মনামপরিভাষারূপে ‘প্রকৃতি’ এবং নারীদেহকে রূপকপরিভাষারূপে ‘নিধুবন’, উপমানপরিভাষারূপে ‘নবদ্বীপ’ ও ‘নাগরদোলা’ ও ছদ্মনামপরিভাষারূপে ‘নদীয়া’ বলা হয়।
সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয়, পারম্পরিক ও মরমীদের সব ধরণের
রূপকসাহিত্যে সততই মূলকের রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা
ব্যবহার করা হয়। সেখানে মূলকের ধরণের ওপর এসব পরিভাষা নির্মাণ করা হয়। তাতে
কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। অথচ ‘হর্ষবর্ধন’ নারীকে কেবল মন্দিরের সাথে উপমা করেছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠে গেল। বর্তমানে যারা হর্ষবর্ধনের সমালোচনা করছেন তারা ‘উপমিতি’ একেবারেই যে বুঝেন না, রূপকসাহিত্য সম্পর্কে যে একেবারেই শিশু তা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে।
ছাগল যেমন প্রভুহীন হলে অত্যন্ত দিশেহারা হয়ে পড়ে একজন নারীও তেমন
পিতা-মাতা, দাদা-দিদী, স্বামী, পুত্র-কন্যাহীন হলে চরম দিশেহারা হয়ে পড়ে
তাই নারীকে ‘ছাগল’ এর সঙ্গে তুলনা করা হয়।
প্রকৃতি যেমন সবকিছু জন্ম দেয় ও লালনপালন করে একজন নারীও তেমন সন্তান ধারণ করে ও জন্ম দেয় এবং লালনপালন করে তাই নারীকে ‘প্রকৃতি’ এর সাথে উপমা করা হয়।
রূপকথার নিধুবনে যেমন অমূল্যনিধি পাওয়া যায় একজন নারীর মধ্যেও তেমন
ভালোবাসা, সন্তান-সন্ততি, দুগ্ধ, সুধা ও মধু পাওয়া যায়। তাই রূপকসাহিত্যে
নারীকে ‘নিধুবন’ বলা হয়।
নবদ্বীপে যেমন নতুন নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয় একজন নারীর মধ্যেও তেমন নতুন নতুন মানুষ সৃষ্টি হয়। তাই রূপকসাহিত্যে নারীকে ‘নবদ্বীপ’ এর সাথে তুলনা করা হয়।
নাগরদোলা যেমন মানুষের দোলন উপকরণ একজন নারীও তেমন দোলন উপকরণ। তাই রূপকসাহিত্যে নারীকে ‘নাগরদোলা’ বলা হয়। এ ব্যাপারে প্রচলিত একটি গানকে স্মরণ করা যায়। গানটির মুখ হচ্ছে- “দোলা দে দোলা দে, দোলা দেরে পাগলা দোলা দেরে।” অর্থাৎ এখানে নারীকেই ‘দোলনা’ বা ‘নাগরদোলা’ বলা হয়েছে। তবে রূপকসাহিত্যে ‘নাগরদোলা’ বলতে মানুষের জন্মান্তরকেও বুঝায়।
নদীবহুল অঞ্চলকে যেমন নদীয়া বলা হয়, নারীর মধ্যে তেমন কাল্পনিক স্বর্গীয়
নদী, গয়া, গঙ্গা, বৈতরণী, বিরজা, ফল্গু, সুরধুনী ও সুরনদী বিদ্যমান বলেই
রূপকসাহিত্যে নারীকে ‘নদীয়া’ বলা হয়।
“তদ্রূপ মন্দিরে যেমন প্রভুর উপাসনা করা হয়, নারীরূপ মন্দিরে
তেমন কামযজ্ঞ করা হয় বলে নারীকে মন্দির বলা অধিক অধিক যুক্তিযুক্ত। নারীকে
রূপকার্থে মন্দির বলে অভিহিত করা নিঃসন্দেহে উঁচুমাপের গৌরবের কাজ।” নিচে প্রামাণ্য আলোচনাগুলো তুলে ধরা হলো।
মন্দির
Temple (টেম্পল)/ ‘معبد’ (মুয়াব্বাদ)
Temple (টেম্পল)/ ‘معبد’ (মুয়াব্বাদ)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘দেহ’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘ছদ্মনামপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘দেহ’, রূপকপরিভাষা ‘পৃথিবী’, উপমানপরিভাষা ‘অশ্ব, কানন, গাড়ি, জাহাজ, তরী, পাহাড়, বৃক্ষ ও হাতি’, চারিত্রিকপরিভাষা ‘বপু ও ভুবন’ এবং অন্যান্য ছদ্মনামপরিভাষা ‘দেবালয়, বিশ্ব, ব্রজ, রথ, শাস্ত্র ও স্বর্গালয়’। এ পরিভাষাটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘দেহ’ ও ‘জরায়ু’ উভয় মূলকেরই ছদ্মনামপরিভাষারূপে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সে জন্য এর প্রকৃত মূলক উদ্ঘাটন করা প্রত্যেক পাঠক-পাঠিকার একান্ত প্রয়োজন।
মন্দির (রূপ)বি দেবালয়, পূজাগৃহ, ভজনালয়, বিহার, বেদী, মঠ, আশ্রম, আড্ডা, গৃহ, ভবন, বাড়ি (প্র) পুরাণী মনীষীদের মতে প্রভুর প্রতি মনোস্থির করার পবিত্র স্থান বিশেষ (আবি)বি দেহ, খাঁচা, ধড়, পিঞ্জর, body (বডি), জাসাদ (আ.ﺠﺴﺪ), বদন (আ.ﺒﺪﻦ) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘দেহ’ পরিবারের ‘ছদ্মনামপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.পুরাণী মনীষীদের মতে প্রভুর প্রতি মনোস্থির করার পবিত্র স্থানকে মন্দির বলা হয় ২.রূপকসাহিত্যে জীবের স্থূল আকারকে দেহ বা রূপকার্থে মন্দির বলা হয় (ছনা)বি দেবালয়, বিশ্ব, ব্রজ, মন্দির, রথ, শাস্ত্র ও স্বর্গালয় (চরি)বি ‘বপু ও ভুবন’ (উপ)বি অশ্ব, কানন, গাড়ি, জাহাজ, তরী, পাহাড়, বৃক্ষ ও হাতি (রূ)বি পৃথিবী (দেত)বি দেহ {বাং.মন+ বাং.স্থির>}
মন্দিরের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(A highly important quotations of Temple)
১. “বলো বলো কে দেখেছ, গৌরাঙ্গ চাঁদেরে, সেচাঁদ গোপীনাথ মন্দিরে গেল, আর তো এলো না ফিরে।” (পবিত্র লালন- ৬৮২/১)।
২. “মন্দিরে যাও সবার আগে, প্রার্থনা করিতে ভাগে, তাতে কিবা দয়াল জাগে, থাক সুখে আনন্দময়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৬)। (মুখঃ “মন তোর পূজা হলো ছাই সাঁইখানা নিলামে যায়, সাঁই দরশন না পাইলে কী হবে এ নাম ফাটাই”)।
(A highly important quotations of Temple)
১. “বলো বলো কে দেখেছ, গৌরাঙ্গ চাঁদেরে, সেচাঁদ গোপীনাথ মন্দিরে গেল, আর তো এলো না ফিরে।” (পবিত্র লালন- ৬৮২/১)।
২. “মন্দিরে যাও সবার আগে, প্রার্থনা করিতে ভাগে, তাতে কিবা দয়াল জাগে, থাক সুখে আনন্দময়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৬)। (মুখঃ “মন তোর পূজা হলো ছাই সাঁইখানা নিলামে যায়, সাঁই দরশন না পাইলে কী হবে এ নাম ফাটাই”)।
মন্দিরের ওপর কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি
(Some ordinary quotations of Temple)
১. “গুরু ধরে জ্যান্ত মরে, বসাও গুরু হৃদমন্দিরে, সিরাজ সাঁইয়ের চরণ ভুলে, লালন মিছে বেড়াও ঘুরে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৫/৪)।
২. “নিহারায় চেহারা বন্দি, করো একান্তি, সাড়েচব্বিশ জেলায় করো ফন্দি, পালাবে কোন্ শহরে, ত্বরায় দারোগা হয়ে, বন্দি করো স্বরূপ-মন্দিরে।” (পবিত্র লালন- ৭৮২/২)।
(Some ordinary quotations of Temple)
১. “গুরু ধরে জ্যান্ত মরে, বসাও গুরু হৃদমন্দিরে, সিরাজ সাঁইয়ের চরণ ভুলে, লালন মিছে বেড়াও ঘুরে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৫/৪)।
২. “নিহারায় চেহারা বন্দি, করো একান্তি, সাড়েচব্বিশ জেলায় করো ফন্দি, পালাবে কোন্ শহরে, ত্বরায় দারোগা হয়ে, বন্দি করো স্বরূপ-মন্দিরে।” (পবিত্র লালন- ৭৮২/২)।
জরায়ু অর্থে ‘মন্দির’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology Temple sense for uterus)
১. “ত্রিপিটক ইঞ্জিল কুরান, জানগে বেদরূপের সন্ধান, সদায় স্বরূপ কর ধিয়ান, নিজনিজ হৃদমন্দিরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৭)।
২. “ধ্যানযোগে তোমায় দেখি, তুমি সখা আমি সখী, মম হৃদমন্দিরে থাকি, স্বরূপ দাও গো দর্শন।” (পবিত্র লালন- ২৩৬/৩)।
৩. “শহর বেড়া অগাধ দোরে, তার মাঝখানে ভাবমন্দিরে, সে নিগুম জায়গায়, পবনদ্বারে- চৌকি ফিরে, এমন ঘরে চোর আসে যায়।” (পবিত্র লালন- ১৯৮/২)।
(Using the terminology Temple sense for uterus)
১. “ত্রিপিটক ইঞ্জিল কুরান, জানগে বেদরূপের সন্ধান, সদায় স্বরূপ কর ধিয়ান, নিজনিজ হৃদমন্দিরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৭)।
২. “ধ্যানযোগে তোমায় দেখি, তুমি সখা আমি সখী, মম হৃদমন্দিরে থাকি, স্বরূপ দাও গো দর্শন।” (পবিত্র লালন- ২৩৬/৩)।
৩. “শহর বেড়া অগাধ দোরে, তার মাঝখানে ভাবমন্দিরে, সে নিগুম জায়গায়, পবনদ্বারে- চৌকি ফিরে, এমন ঘরে চোর আসে যায়।” (পবিত্র লালন- ১৯৮/২)।
মন্দিরের সংজ্ঞা (Definition of Temple)
পুরাণী মনীষীদের মতে প্রভুর প্রতি মনোস্থির করার পবিত্র স্থানকে মন্দির বলে।
পুরাণী মনীষীদের মতে প্রভুর প্রতি মনোস্থির করার পবিত্র স্থানকে মন্দির বলে।
মন্দিরের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Temple)
রূপকসাহিত্যে জীবের স্থূল আকারকে দেহ বা রূপকার্থে মন্দির বলে।
রূপকসাহিত্যে জীবের স্থূল আকারকে দেহ বা রূপকার্থে মন্দির বলে।
মন্দিরের প্রকারভেদ (Classification of Temple)
রূপকসাহিত্যে মন্দির দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান মন্দির ও ২.উপমিত মন্দির।
১. উপমান মন্দির (Analogical Temple)
পুরাণী মনীষীদের মতে প্রভুর প্রতি মনোস্থির করার পবিত্র স্থানকে উপমান মন্দির বলে।
২. উপমিত মন্দির (Compared Temple)
রূপকসাহিত্যে জীবের স্থূল আকারকে দেহ বা উপমিত মন্দির বলে।
রূপকসাহিত্যে মন্দির দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান মন্দির ও ২.উপমিত মন্দির।
১. উপমান মন্দির (Analogical Temple)
পুরাণী মনীষীদের মতে প্রভুর প্রতি মনোস্থির করার পবিত্র স্থানকে উপমান মন্দির বলে।
২. উপমিত মন্দির (Compared Temple)
রূপকসাহিত্যে জীবের স্থূল আকারকে দেহ বা উপমিত মন্দির বলে।
মন্দিরের পরিচয় (Identity of Temple)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘দেহ’ পরিবারের অধীন একটি ‘ছদ্মনামপরিভাষা’ বিশেষ। এ পরিভাষাটি একেক অঞ্চলের একেক রূপকসাহিত্যে একেক ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সে জন্য এটি সাধারণ পাঠক-পাঠিকার তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সাধারণভাবে পুরাণীদের উপাসনার পবিত্র স্থানকে মন্দির বলা হয়। কিন্তু রূপকসাহিত্যে কেবল মানব দেহকেই মন্দির বলা হয়। আর মানবদেহ বলতে পুরুষদেহ ও নারীদেহ উভয়ই বুঝায়। কারণ পুরুষ অর্ধাঙ্গ ও নারী অর্ধাঙ্গিনী। আধা অঙ্গ ও আধা অঙ্গ মিলেই এক অঙ্গ হয়ে থাকে। এ কারণে আত্মতাত্ত্বিক, মরমী ও রূপকসাহিত্যিকরা পুরুষদেহ ও নারীদেহকে একত্রেই একজন মানুষ কল্পনা করে থাকেন। স্থূলদৃষ্টিতে যদিও পুরুষদেহ ও নারীদেহ ভিন্ন ভিন্ন। এ সূত্র মতে পুরুষ-নারী দাম্পত্যে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে অর্ধ মানুষরূপে অবস্থান করে। বিবাহের পর তারা পূর্ণাঙ্গ মানুষরূপলাভ করে থাকে।
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘দেহ’ পরিবারের অধীন একটি ‘ছদ্মনামপরিভাষা’ বিশেষ। এ পরিভাষাটি একেক অঞ্চলের একেক রূপকসাহিত্যে একেক ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সে জন্য এটি সাধারণ পাঠক-পাঠিকার তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সাধারণভাবে পুরাণীদের উপাসনার পবিত্র স্থানকে মন্দির বলা হয়। কিন্তু রূপকসাহিত্যে কেবল মানব দেহকেই মন্দির বলা হয়। আর মানবদেহ বলতে পুরুষদেহ ও নারীদেহ উভয়ই বুঝায়। কারণ পুরুষ অর্ধাঙ্গ ও নারী অর্ধাঙ্গিনী। আধা অঙ্গ ও আধা অঙ্গ মিলেই এক অঙ্গ হয়ে থাকে। এ কারণে আত্মতাত্ত্বিক, মরমী ও রূপকসাহিত্যিকরা পুরুষদেহ ও নারীদেহকে একত্রেই একজন মানুষ কল্পনা করে থাকেন। স্থূলদৃষ্টিতে যদিও পুরুষদেহ ও নারীদেহ ভিন্ন ভিন্ন। এ সূত্র মতে পুরুষ-নারী দাম্পত্যে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে অর্ধ মানুষরূপে অবস্থান করে। বিবাহের পর তারা পূর্ণাঙ্গ মানুষরূপলাভ করে থাকে।
পূর্ণাঙ্গ এ মানবদেহের মধ্যেই প্রভু বা পালনকর্তার বাস। পালনকর্তাকে
রূপকার্থে- নারায়ণ, নিরঞ্জন, নিমাই, প্রভু, বিষ্ণু, রাম, সাঁই, হরি ইত্যাদি
নামে ডাকা হয়। যুগে যুগে মহাসাধকগণ দেহ নামক এ মন্দিরে যজ্ঞ করেই পরম
প্রভুর দর্শনলাভ করে মানবজনম ধন্য করেছেন। আজ পর্যন্ত কোন গ্রন্থে কেউ বলতে
সাহস করেনি যে, মানব দেহের বাইরে প্রভু বাস করেন। বরং সবাই বলেছেন যে,
প্রভু মানবদেহের মধ্যেই বাস করেন। জনৈক কবি ফার্সিতে বলেছেন-
“মান্না গুঞ্জম দর জমিন আসমা,
লেকে গুঞ্জম দর কুলুবি মু’মিনা।”
অর্থঃ “আমি আকাশ ও ভূমির কোথায় অবস্থান করি না, কেবল বিশ্বাসীদের হৃদয়গুলোতে বাস করি।”
লেকে গুঞ্জম দর কুলুবি মু’মিনা।”
অর্থঃ “আমি আকাশ ও ভূমির কোথায় অবস্থান করি না, কেবল বিশ্বাসীদের হৃদয়গুলোতে বাস করি।”
কুরানীদের হাদিসের মধ্যে আছে- “ﻘُﻟُﻭْﺐُ ﺍﻟْﻤُﺆْﻤِﻨِﻴْﻦَ ﻋَﺭْﺶُ ﺍﻟﻟَّﻪِ ﺘَﻌَﺎﻟٰﻰ” উচ্চারণঃ “কুলুবুল মু’মিনিনা আরশুল্লাহি তা’য়ালা” অর্থঃ “বিশ্বাসীদের হৃদয়াদিই মহান কাঁইয়ের আসন” (আলহাদিস)। আবার কুরানে আছে- “ نَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ” উচ্চারণঃ “নাহনু আক্বরাবু ইলাইহি মিন হাবলিল ওয়ারিদ” অর্থঃ “আমরা মোটাশিরা হতেও আরো নিকটবর্তী” (কুরান, ক্বাফ- ১৬)। আবার অন্যত্র বলা হয়েছে- “وَفِي أَنفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ” উচ্চারণঃ “ওয়া ফি আনফুছিকুম আফালা তুবসিরুন” অর্থঃ “তোমাদের মধ্যেই অবস্থিত কিন্তু তোমরা দেখনা”- (কুরান, জারিয়াত- ২১)।
এসব বাণীই প্রমাণ করে যে, মহান প্রভুর বাস এই মানবদেহে। এই মানবদেহে
উপাসনা করেই প্রভুর দর্শনলাভ করতে হয়। এখন আমরা বলতে পারি রূপকসাহিত্যে
আমাদের দেহধামকেই মন্দির বলা হয়। আর পুরুষদেহ ও নারীদেহকে একত্রে দেহধাম
বলা হয়। এসব বাণীই প্রমাণ করে যে, মহান প্রভুর বাস এই মানবদেহে। এই
মানবদেহে উপাসনা করেই প্রভুর দর্শনলাভ করতে হয়। এখন আমরা বলতে পারি
রূপকসাহিত্যে আমাদের দেহধামকেই মন্দির বলা হয়। আর পুরুষদেহ ও নারীদেহকে
একত্রে দেহধাম বলা হয়।
মন্দিরের আত্মতত্ত্বভিত্তিক ব্যাখ্যা
(The theosophical explanation of the Temple)
সুমহান রূপকারগণ এই মানবদেহের সাধন-ভজনের জন্য একটি নির্জন স্থান কল্পনা করে থাকেন। এ সূত্র ধরে মানব দেহের অনুরূপ মাটির ঘর নির্মাণ করেন। সে ঘরে তারা প্রত্যাহিক আরাধনা-উপাসনা করে থাকেন। এই কল্পিত বা উপমান ঘরকেই মন্দির, মসজিদ, বেদি, বিহার, দেবালয়, দেবধাম ইত্যাদি বলা হয়। অথচ বড় হতাশ হবার বিষয় হচ্ছে শাস্ত্রীয়রা কালক্রমে মানবদেবরূপ প্রকৃত মন্দিরটি ভুলে গিয়ে বর্তমানকালে কেবল মাটি, ইঁট, পাথর বা বাঁশ দিয়ে নির্মিত মন্দিরের ভক্ত হয়ে পড়েছে। সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিকরা ঐ কৃত্রিম মন্দিরেই আরাধনা করছে। সেখানে তারা না পাচ্ছে প্রভুর দর্শন আর নাই পাচ্ছে জনমমুক্তি। অন্যদিকে এসব হতাশা ও বিভ্রান্তি হতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে শাস্ত্রীয় উগ্রবাদ ও শাস্ত্রীয় সন্ত্রাসীবৃত্তি। বর্তমানকালে বিজ্ঞান, দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার অনেক উন্নতি হয়েছে। আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের অনেক সূত্র ও অনেক টীকা আবিষ্কার হয়েছে। তাই আমাদের সবিনয় অনুরোধ শাস্ত্রীয় যে কোন বিষয়-আশয় বিজ্ঞান, দর্শন ও যুক্তি দ্বারা যাচাই-বাছাই না করে গ্রহণ করা কোন মানুষেরই উচিৎ নয়।
(The theosophical explanation of the Temple)
সুমহান রূপকারগণ এই মানবদেহের সাধন-ভজনের জন্য একটি নির্জন স্থান কল্পনা করে থাকেন। এ সূত্র ধরে মানব দেহের অনুরূপ মাটির ঘর নির্মাণ করেন। সে ঘরে তারা প্রত্যাহিক আরাধনা-উপাসনা করে থাকেন। এই কল্পিত বা উপমান ঘরকেই মন্দির, মসজিদ, বেদি, বিহার, দেবালয়, দেবধাম ইত্যাদি বলা হয়। অথচ বড় হতাশ হবার বিষয় হচ্ছে শাস্ত্রীয়রা কালক্রমে মানবদেবরূপ প্রকৃত মন্দিরটি ভুলে গিয়ে বর্তমানকালে কেবল মাটি, ইঁট, পাথর বা বাঁশ দিয়ে নির্মিত মন্দিরের ভক্ত হয়ে পড়েছে। সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিকরা ঐ কৃত্রিম মন্দিরেই আরাধনা করছে। সেখানে তারা না পাচ্ছে প্রভুর দর্শন আর নাই পাচ্ছে জনমমুক্তি। অন্যদিকে এসব হতাশা ও বিভ্রান্তি হতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে শাস্ত্রীয় উগ্রবাদ ও শাস্ত্রীয় সন্ত্রাসীবৃত্তি। বর্তমানকালে বিজ্ঞান, দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার অনেক উন্নতি হয়েছে। আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের অনেক সূত্র ও অনেক টীকা আবিষ্কার হয়েছে। তাই আমাদের সবিনয় অনুরোধ শাস্ত্রীয় যে কোন বিষয়-আশয় বিজ্ঞান, দর্শন ও যুক্তি দ্বারা যাচাই-বাছাই না করে গ্রহণ করা কোন মানুষেরই উচিৎ নয়।
৩৪. দেহ
Body (বডি)/ ‘جسم’ (জেসিমা)
Body (বডি)/ ‘جسم’ (জেসিমা)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির মূলকপরিবারের অন্যতম একটি ‘মূলকসদস্য’ এবং ‘দেহপরিবার’ প্রধান বিশেষ। এর রূপকপরিভাষা ‘পৃথিবী’, উপমানপরিভাষা ‘অশ্ব, কানন, গাড়ি, জাহাজ, তরী, পাহাড়, বৃক্ষ ও হাতি’, চারিত্রিকপরিভাষা ‘বপু ও ভুবন’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘দেবালয়, বিশ্ব, ব্রজ, মন্দির, রথ, শাস্ত্র ও স্বর্গালয়’। এটি একটি ‘রূপকপ্রধানসত্তা’ বিশেষ।
দেহ বি খাঁচা, ধড়, পিঞ্জর, Body (বডি), corpus,physique, substance, trunk, organism, ‘جسم’ (জেসিমা), বদন (আ.ﺒﺪﻦ) (আল)বি কংকাল, কলেবর (আবি)বি ১.উষ্ট্র, ঘোড়া, নদীয়া, নবদ্বীপ, পাহাড়, ব্রহ্মা-, হাতি ২.কল্পতরু, কল্পদ্রুম, কল্পবৃক্ষ (ইপ)বি world (ওয়ার্ল্ড) (আপ)বি আলম (আ.ﻋﺎﻠﻡ), ক্ববর (আ.ﻘﺑﺮ), জাহান (ফা.ﺠﻬﺎﻦ), ফিল (আ.ﻔﻴﻞ), মিসর (আ.ﻤﺻﺮ), মুলুক (আ.ﻤﻟﻚ), শাজারা (আ.ﺸﺠﺮﺓ) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘দেহ’ পরিবার প্রধান ও রূপকসাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) জীবের স্থূল আকারকে দেহ বলা হয় (ছনা)বি দেবালয়, বিশ্ব, ব্রজ, মন্দির, রথ, শাস্ত্র ও স্বর্গালয় (চরি)বি ‘বপু ও ভুবন’ (উপ)বি অশ্ব, কানন, গাড়ি, জাহাজ, তরী, পাহাড়, বৃক্ষ ও হাতি (রূ)বি পৃথিবী (দেত)বি দেহ।
দেহের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of body)
১. “আত্মা নামিবে ভুবনে হইলে মিলন সুদিন সুজনে, দেহ ভাঙ্গিয়া গড়িবে যেদিন, সে দিনটি রেখ স্মরণে (বলন তত্ত্বাবলী- ১১)।
২. “আরবিতে যাকাতের মানি, এ দেহের নির্যাস মণি, অটলে পায় স্বরূপখনি, যার যার দিব্যজ্ঞানে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭৬)।
৩. “চৌদ্দপোয়া দেহের গড়ন, ধরতে যদি পারো লালন, তবে স্বদেশী চলন, জানবি দিব্যজ্ঞান অনুসারে” (পবিত্র লালন- ৭৯৭/৪)।
৪. “দেহের খবর বলি শোনরে মন, দেহের উত্তর দিকে আছে বেশি দক্ষিণেতে কম” (পবিত্র লালন- ৫৫০/১)।
৫. “পিতার বীর্যে পুত্রের সৃজন, তাতেই পিতার পুনর্জনম, সুধা শুক্রে দেহের গঠন, আলেকরূপে ফিরে সদায়” (পবিত্র লালন- ৫৩৮/২)।
৬. “সাঁই মিলে গুরু ভজনে, চৌদ্দতলা দেহভুবনে, বিনয় করে বলন ভনে, যারা মরার আগে মরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪১)।
(Some highly important quotations of body)
১. “আত্মা নামিবে ভুবনে হইলে মিলন সুদিন সুজনে, দেহ ভাঙ্গিয়া গড়িবে যেদিন, সে দিনটি রেখ স্মরণে (বলন তত্ত্বাবলী- ১১)।
২. “আরবিতে যাকাতের মানি, এ দেহের নির্যাস মণি, অটলে পায় স্বরূপখনি, যার যার দিব্যজ্ঞানে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭৬)।
৩. “চৌদ্দপোয়া দেহের গড়ন, ধরতে যদি পারো লালন, তবে স্বদেশী চলন, জানবি দিব্যজ্ঞান অনুসারে” (পবিত্র লালন- ৭৯৭/৪)।
৪. “দেহের খবর বলি শোনরে মন, দেহের উত্তর দিকে আছে বেশি দক্ষিণেতে কম” (পবিত্র লালন- ৫৫০/১)।
৫. “পিতার বীর্যে পুত্রের সৃজন, তাতেই পিতার পুনর্জনম, সুধা শুক্রে দেহের গঠন, আলেকরূপে ফিরে সদায়” (পবিত্র লালন- ৫৩৮/২)।
৬. “সাঁই মিলে গুরু ভজনে, চৌদ্দতলা দেহভুবনে, বিনয় করে বলন ভনে, যারা মরার আগে মরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪১)।
দেহের সংজ্ঞা (Definition of body)
জীবের স্থূল আকারকে দেহ বলে।
জীবের স্থূল আকারকে দেহ বলে।
দেহের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of body)
আত্মা, জ্ঞান ও মন বহনকারী জীবন্ত কাঠামোকে দেহ বলে।
আত্মা, জ্ঞান ও মন বহনকারী জীবন্ত কাঠামোকে দেহ বলে।
দেহের প্রকারভেদ (Classification of body)
দেহ দুই প্রকার। যথা- ১.নরদেহ ও ২.নারীদেহ।
১. নরদেহ (Male body)
শিশ্নচিহ্নধারী দেহকে নরদেহ বলে।
এ বিষয়টি নিয়ে নিচে ‘নরদেহ’ মাত্রিকায় সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে।
২. নারীদেহ (Female body)
ভগচিহ্নধারী দেহকে নারীদেহ বলে।
এ বিষয়টি নিয়ে নিচে ‘নারীদেহ’ মাত্রিকায় সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে।
দেহ দুই প্রকার। যথা- ১.নরদেহ ও ২.নারীদেহ।
১. নরদেহ (Male body)
শিশ্নচিহ্নধারী দেহকে নরদেহ বলে।
এ বিষয়টি নিয়ে নিচে ‘নরদেহ’ মাত্রিকায় সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে।
২. নারীদেহ (Female body)
ভগচিহ্নধারী দেহকে নারীদেহ বলে।
এ বিষয়টি নিয়ে নিচে ‘নারীদেহ’ মাত্রিকায় সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে।
দেহের উপকার (Benefits of body)
১. দেহের দ্বারা মন ও জ্ঞানের বিকাশসাধন হয়।
২. এটি জীবের সৌন্দর্যবিধান করে।
৩. এটি জীব প্রজাতির পরিচয় বহন করে।
৪. এটি জীবের আহার্যরূপে ব্যবহার হয়।
৫. এর চর্ম ও হাড় ব্যবহারিক দ্রব্যাদি প্রস্তুতে ব্যবহার করা যায়।
১. দেহের দ্বারা মন ও জ্ঞানের বিকাশসাধন হয়।
২. এটি জীবের সৌন্দর্যবিধান করে।
৩. এটি জীব প্রজাতির পরিচয় বহন করে।
৪. এটি জীবের আহার্যরূপে ব্যবহার হয়।
৫. এর চর্ম ও হাড় ব্যবহারিক দ্রব্যাদি প্রস্তুতে ব্যবহার করা যায়।
দেহ গঠনের উপাদান (Body building components)
অধিকাংশ আত্মতাত্ত্বিক সুমহান মনীষীদের মতে মানবদেহ মোট আঠারটি বিষয়-বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত। এ আঠারটি সদস্যকে আবার তিনভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যেমন- পিতার চারসদস্য, মাতার চারসদস্য এবং প্রকৃতির দশসদস্য।
পিতার চারসদস্য (Four members of father)
১.হাড় ২.হৃদরা ৩.শুক্র ও ৪.ঘিলু।
মাতার চারসদস্য (Four members of mother)
১.চুল ২.চামড়া ৩.মাংস ও ৪.চর্বি।
প্রকৃতির দশসদস্য (Ten members of nature)
১.চক্ষু ২.কর্ণ ৩.নাসিকা ৪.জিহবা ৫.ত্বক ৬.বাক্ ৭.পাণি ৮.পাদ ৯.পায়ু ও ১০.উপস্থ।
অধিকাংশ আত্মতাত্ত্বিক সুমহান মনীষীদের মতে মানবদেহ মোট আঠারটি বিষয়-বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত। এ আঠারটি সদস্যকে আবার তিনভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যেমন- পিতার চারসদস্য, মাতার চারসদস্য এবং প্রকৃতির দশসদস্য।
পিতার চারসদস্য (Four members of father)
১.হাড় ২.হৃদরা ৩.শুক্র ও ৪.ঘিলু।
মাতার চারসদস্য (Four members of mother)
১.চুল ২.চামড়া ৩.মাংস ও ৪.চর্বি।
প্রকৃতির দশসদস্য (Ten members of nature)
১.চক্ষু ২.কর্ণ ৩.নাসিকা ৪.জিহবা ৫.ত্বক ৬.বাক্ ৭.পাণি ৮.পাদ ৯.পায়ু ও ১০.উপস্থ।
দেহের পরিচয় (Identity of body)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘দেহ’ পরিবারের ‘মূলকসদস্য’ বিশেষ। জীবের আত্মা, মন ও জ্ঞানধারণকারী আধারকে দেহ বলা হয়। প্রতিটি জীবের মাথা হতে লেজ বা পায়ের নখ পর্যন্ত পুরো অংশকে একত্রে দেহ বলা হয়। দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বিষয়-বস্তু, অবস্থা ও শক্তিগুলোকে রূপকসাহিত্যে প্রতীতি, দৈবিকা, জ্যোতিকা, দেবতা ও সুর বলা হয়। অর্থাৎ আরবিভাষায় ‘ﻤﻟﻚ’ (মালাকা), ফার্সিভাষায় ‘ﻔﺮﺸﺗﻪ’ (ফেরেস্তা) এবং ইংরেজি ভাষায় angel (এঞ্জেল) বলা হয়। আত্মদর্শনের রিপু, রুদ্র ও দশার সদস্যদের অসুর এবং অন্যান্য সব সদস্যদের সুর বলে রূপকসাহিত্যে বিবেচনা করা হয়। দেহের সব সদস্যকে একত্রে সুরাসুর বলে। রূপকসাহিত্যের অসংখ্য প্রতীতি ও দৈবিকার আবাস্থল এ মানবদেহ। এ জন্য মানবদেহকে দেবপুরী বা দেবধাম বা দেবালয় বা স্বর্গপুরী ইত্যাদি বলা হয়। ভারতবর্ষীয় ব্রহ্মা, বিষ্ণু, হরি, নিতাই, রাম, লক্ষ্মণ, সীতা, শিব, কালী ও মহাদেবসহ রূপকসাহিত্যের সর্ব প্রকার কল্পিত প্রতীতি বা দৈবিকা ও উপাস্যগণ এ মানবদেহেই বাস করেন। তদ্রূপ আরববিশ্বের আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ), রাসুল (ﺭﺴﻮﻝ), আদম (ﺁﺪﻢ), জিন (ﺠﻥ) ও জান্নাতসহ (ﺠﻨﺔ) রূপকসাহিত্যের সর্ব প্রকার রূপকচরিত্র ও উপাস্যগণ এ মানবদেহেই বাস করেন। দেহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। ১.আকাশ ২.ভূমি ও ৩.পাতাল। আকাশ- নাভি হতে ঊর্ধ্বাঙ্গকে আকাশ ধরা হয়। ভূমি- নাভি হতে নিম্নাঙ্গকে ভূমি ধরা হয়। পাতাল- জঠর বা গর্ভাশয়কে পাতাল ধরা হয়। গর্ভাশয়রূপ এ পাতালেই বাংভারতীয় রূপকসাহিত্যের ব্রহ্মা ও বিষ্ণু এবং আরবীয় রূপকসাহিত্যের আল্লাহ ও রাসুল অবতরণ করেন। একজন সুবিজ্ঞ সাধকগুরুর সহচার্য গ্রহণ করে ব্রহ্মা ও বিষ্ণু বা আল্লাহ ও রাসুলের সন্ধান করতে হয়।
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘দেহ’ পরিবারের ‘মূলকসদস্য’ বিশেষ। জীবের আত্মা, মন ও জ্ঞানধারণকারী আধারকে দেহ বলা হয়। প্রতিটি জীবের মাথা হতে লেজ বা পায়ের নখ পর্যন্ত পুরো অংশকে একত্রে দেহ বলা হয়। দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বিষয়-বস্তু, অবস্থা ও শক্তিগুলোকে রূপকসাহিত্যে প্রতীতি, দৈবিকা, জ্যোতিকা, দেবতা ও সুর বলা হয়। অর্থাৎ আরবিভাষায় ‘ﻤﻟﻚ’ (মালাকা), ফার্সিভাষায় ‘ﻔﺮﺸﺗﻪ’ (ফেরেস্তা) এবং ইংরেজি ভাষায় angel (এঞ্জেল) বলা হয়। আত্মদর্শনের রিপু, রুদ্র ও দশার সদস্যদের অসুর এবং অন্যান্য সব সদস্যদের সুর বলে রূপকসাহিত্যে বিবেচনা করা হয়। দেহের সব সদস্যকে একত্রে সুরাসুর বলে। রূপকসাহিত্যের অসংখ্য প্রতীতি ও দৈবিকার আবাস্থল এ মানবদেহ। এ জন্য মানবদেহকে দেবপুরী বা দেবধাম বা দেবালয় বা স্বর্গপুরী ইত্যাদি বলা হয়। ভারতবর্ষীয় ব্রহ্মা, বিষ্ণু, হরি, নিতাই, রাম, লক্ষ্মণ, সীতা, শিব, কালী ও মহাদেবসহ রূপকসাহিত্যের সর্ব প্রকার কল্পিত প্রতীতি বা দৈবিকা ও উপাস্যগণ এ মানবদেহেই বাস করেন। তদ্রূপ আরববিশ্বের আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ), রাসুল (ﺭﺴﻮﻝ), আদম (ﺁﺪﻢ), জিন (ﺠﻥ) ও জান্নাতসহ (ﺠﻨﺔ) রূপকসাহিত্যের সর্ব প্রকার রূপকচরিত্র ও উপাস্যগণ এ মানবদেহেই বাস করেন। দেহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। ১.আকাশ ২.ভূমি ও ৩.পাতাল। আকাশ- নাভি হতে ঊর্ধ্বাঙ্গকে আকাশ ধরা হয়। ভূমি- নাভি হতে নিম্নাঙ্গকে ভূমি ধরা হয়। পাতাল- জঠর বা গর্ভাশয়কে পাতাল ধরা হয়। গর্ভাশয়রূপ এ পাতালেই বাংভারতীয় রূপকসাহিত্যের ব্রহ্মা ও বিষ্ণু এবং আরবীয় রূপকসাহিত্যের আল্লাহ ও রাসুল অবতরণ করেন। একজন সুবিজ্ঞ সাধকগুরুর সহচার্য গ্রহণ করে ব্রহ্মা ও বিষ্ণু বা আল্লাহ ও রাসুলের সন্ধান করতে হয়।
দেহ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের রচিত ‘আত্মতত্ত্ব ভেদ’
(১ম খণ্ড) গ্রন্থটি পাঠ করতে পারেন। কারণ উক্ত গ্রন্থটির মধ্যে কেবল
মানবদেহ, দেহ সৃষ্টি ও দেহের ক্রমবিকাশ নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের
আলোচ্য এ দেহই হলো রূপকসাহিত্যের আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। দেহ নামক এ
বিশ্ববিদ্যালয় যিনি একবার উত্তরণ করেন তিনিই বিশ্ববিখ্যাত মহামানবরূপে
স্বীকৃতিলাভ করেন। আমাদের এ আত্মদর্শনেই রূপকসাহিত্যের সব উপাদন অবস্থিত। এ
আত্মদর্শনের মূলক, রূপক, ব্যাপক, উপমান ও সংখ্যাসূত্রাদির সাহায্যে
বিশ্বের সব শাস্ত্রীয়গ্রন্থ ও পারম্পরিক গ্রন্থ গ্রন্থিকা নির্মিত হয়েছে। এ
ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন- “আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে,
দিব্যজ্ঞানী সে হয়েছে, কুবৃক্ষে সুফল পেয়েছে, আমার মনের ঘোর গেল না” (পবিত্র লালন- ৮২৮/৩)।
অর্থাৎ যে কোন লোক একবার আত্মতত্ত্ব ভালোভাবে জেনে নিলেই তিনি দিব্যজ্ঞানী
হয়ে যান। অর্থাৎ বিশ্বের সব শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিকজ্ঞান কেবল ‘আত্মতত্ত্ব
ভেদ’ অর্জন করার দ্বারা অর্জন করা যায়।
সাধারণত সারা সৃষ্টি জগৎকে বিশ্ব বলা হয়। তবে রূপকসাহিত্যে কেবল মানবদেহকে বিশ্ব বলা হয়। আত্মতাত্ত্বিক মনীষীরা বলে থাকেন- “বিশ্ব একটি বৃহত্তম মানুষ এবং মানুষ একটি ক্ষুদ্রতম বিশ্ব।” অর্থাৎ মানুষ বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রূপ এবং বিশ্ব মানুষের বৃহত্তম রূপ। আর এ সূত্র ধরেই আত্মতাত্ত্বিক মনীষীদের মুখে শুনতে পাওয়া যায়- “যা আছে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে মানবভাণ্ডে।” এরূপকথা পবিত্র কুরানেও স্পটতই উল্লেখ আছে। যথা-
“ وَفِي الْأَرْضِ آيَاتٌ لِلْمُوقِنِينَ(২০)
وَفِي أَنفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ(২১)” উচ্চারণঃ “ওয়া ফিল আরদি আয়াতুল্লিল মুক্বিনিনা (২০) ওয়া ফি আনফুসিকুম, আফালা তুবসিরুন (২১)।”
وَفِي أَنفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ(২১)” উচ্চারণঃ “ওয়া ফিল আরদি আয়াতুল্লিল মুক্বিনিনা (২০) ওয়া ফি আনফুসিকুম, আফালা তুবসিরুন (২১)।”
অর্থ- “বিশ্বাসিদের জন্য পৃথিবীর যত নিদর্শন,
তোমাদের মধ্যেই রয়েছে- তোমরা কর না দর্শন।”
আধ্যাত্মিক প্রবাদটি হলো- “যা আছে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে মানবভাণ্ডে।”
তোমাদের মধ্যেই রয়েছে- তোমরা কর না দর্শন।”
আধ্যাত্মিক প্রবাদটি হলো- “যা আছে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে মানবভাণ্ডে।”
মূলকসত্তা = ‘দেহ’
রূপকপরিভাষা = ‘পৃথিবী’
উপমানপরিভাষা = ‘অশ্ব, কানন, গাড়ি, জাহাজ, তরী, পাহাড়, বৃক্ষ ও হাতি’
চারিত্রিকপরিভাষা = ‘বপু ও ভুবন’
ছদ্মনামপরিভাষা = ‘দেবালয়, বিশ্ব, ব্রজ, মন্দির, রথ, শাস্ত্র ও স্বর্গালয়’
আলোচ্য মূলকের রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষাদির আলোচনা মূলগ্রন্থে সবিস্তারে রয়েছে।
রূপকপরিভাষা = ‘পৃথিবী’
উপমানপরিভাষা = ‘অশ্ব, কানন, গাড়ি, জাহাজ, তরী, পাহাড়, বৃক্ষ ও হাতি’
চারিত্রিকপরিভাষা = ‘বপু ও ভুবন’
ছদ্মনামপরিভাষা = ‘দেবালয়, বিশ্ব, ব্রজ, মন্দির, রথ, শাস্ত্র ও স্বর্গালয়’
আলোচ্য মূলকের রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষাদির আলোচনা মূলগ্রন্থে সবিস্তারে রয়েছে।
৩৭. নরদেহ
Male body (মেল বডি)/ ‘جسم الذكور’ (জেসমা আযযুকুর)
Male body (মেল বডি)/ ‘جسم الذكور’ (জেসমা আযযুকুর)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির মূলকপরিবারের একটি অন্যতম ‘মূলকসদস্য’ এবং ‘নরদেহ’ পরিবার প্রধান বিশেষ। এর রূপকপরিভাষা ‘বৃন্দাবন’, উপমানপরিভাষা ‘লংকা’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘সরন্দীপ’। এটি একটি ‘রূপকপ্রধানসত্তা’ বিশেষ।
নরদেহ (রূপ)বি পুরুষদেহ, Male body (মেলবডি), ‘جسم الذكور’ (জেসমা আযযুকুর) (আবি)বি বৃন্দাবন, কুশদ্বীপ, মদনগঞ্জ, মদনচর, মনিপুর, লংকা, সরন্দীপ (ইপ)বি Male (মেল), Man (ম্যান) (আপ)বি ইনসান (আ.ﺍﻧﺴﺎﻦ), নাছ (আ.ﻧﺎﺲ), বাশার (আ.ﺒﺸﺮ), মারয়ু (আ.ﻤﺮﺀ) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘নরদেহ’ পরিবার প্রধান ও রূপকসাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) শিশ্ন চিহ্নধারী দেহকে নরদেহ বা রূপকার্থে বৃন্দাবন বলা হয় (ছনা)বি সরন্দীপ (উপ)বি লংকা (রূ)বি বৃন্দাবন (দেত)বি নরদেহ {বাং.নর+ বাং.দেহ}
নরদেহের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of male body)
১. “তোরে পাবার আশে ঘর ছাড়িলাম, বৃক্ষতলে ঘর বান্ধিলাম (রে), জাতি কুল হারালাম, ঠেকলাম এসে মদনচর (বলন তত্ত্বাবলী)।
২. “বর্তমানে তারে দেখ ধরি, নরদেহ হয় অটলবিহারী, মরো কেন বলে হরি, কাঠের মালা টিপে হারে” (পবিত্র লালন- ৯০৭/৩)।
(Some highly important quotations of male body)
১. “তোরে পাবার আশে ঘর ছাড়িলাম, বৃক্ষতলে ঘর বান্ধিলাম (রে), জাতি কুল হারালাম, ঠেকলাম এসে মদনচর (বলন তত্ত্বাবলী)।
২. “বর্তমানে তারে দেখ ধরি, নরদেহ হয় অটলবিহারী, মরো কেন বলে হরি, কাঠের মালা টিপে হারে” (পবিত্র লালন- ৯০৭/৩)।
নরদেহের সংজ্ঞা (Definition of male body)
সাধারণত শিশ্নচিহ্নধারী দেহকে নরদেহ বলে।
সাধারণত শিশ্নচিহ্নধারী দেহকে নরদেহ বলে।
নরদেহের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of male body)
পুনরুত্থান শক্তিসম্পন্ন শুক্রধারী দেহকে নরদেহ বলে।
পুনরুত্থান শক্তিসম্পন্ন শুক্রধারী দেহকে নরদেহ বলে।
নরদেহের প্রকারভেদ (Classification of male body)
নরদেহ দুই প্রকার। যথা- ১.শুক্রহীন নরদেহ ও ২.শুক্রযুক্ত নরদেহ।
১. শুক্রহীন নরদেহ (Semenless male body)
পুনরুত্থান শক্তিসম্পন্ন শুক্র থাকা সত্ত্বেও পুনর্জন্ম গ্রহণ করেন না এরূপ একেশ্বরবাদী সুমহান মহাসাধকগণের দেহকেই শুক্রহীন নরদেহ বলা হয়। কেবল সন্তানহীন সাধুপুরুষকে এ পর্যায়ে ধরা যায়। যেমন- নিঃসন্তান সাধুপুরুষ।
২. শুক্রযুক্ত নরদেহ (Semenable of male body)
পুনর্জন্ম গ্রহণকারী নরদেহকে শুক্রযুক্ত নরদেহ বলে। যেমন- সন্তান গ্রহণকারী।
নরদেহ দুই প্রকার। যথা- ১.শুক্রহীন নরদেহ ও ২.শুক্রযুক্ত নরদেহ।
১. শুক্রহীন নরদেহ (Semenless male body)
পুনরুত্থান শক্তিসম্পন্ন শুক্র থাকা সত্ত্বেও পুনর্জন্ম গ্রহণ করেন না এরূপ একেশ্বরবাদী সুমহান মহাসাধকগণের দেহকেই শুক্রহীন নরদেহ বলা হয়। কেবল সন্তানহীন সাধুপুরুষকে এ পর্যায়ে ধরা যায়। যেমন- নিঃসন্তান সাধুপুরুষ।
২. শুক্রযুক্ত নরদেহ (Semenable of male body)
পুনর্জন্ম গ্রহণকারী নরদেহকে শুক্রযুক্ত নরদেহ বলে। যেমন- সন্তান গ্রহণকারী।
নরদেহের উপকার (Benefits of male body)
নরদেহের সাহায্যে দ্বিপস্থ জীবগণ পুনর্জন্মগ্রহণ করে থাকেন।
নরদেহের সাহায্যে দ্বিপস্থ জীবগণ পুনর্জন্মগ্রহণ করে থাকেন।
নরদেহের পরিচয় (Identity of male body)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘নরদেহ’ পরিবারের ‘মূলকসদস্য’ বিশেষ। সাধারণত দ্বিপস্থ জীবের শিশ্ন চিহ্নধারী দেহকে নরদেহ বলা হয় বা যে দেহে শিশ্ন সংযুক্ত থাকে তাকেই নরদেহ ধরা হয়। শিশ্ন সংযুক্ত থাকা সত্ত্বেও নরদেহে সর্বসময় পুনরুত্থান শক্তিসম্পন্ন শুক্র থাকে না। নরদেহে গড়ে জন্ম হতে বারো বছর পর্যন্ত শুক্র থাকে না। ফলে নরদেহে পুনর্জন্ম ক্ষমতাও থাকে না। শুক্রশক্তির আগমন হলে মহান সাধকগণের নিকট হতে শুক্রনিয়ন্ত্রণ শিক্ষা গ্রহণ করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হয়। শুক্রনিয়ন্ত্রণের দ্বারা নরদেহ দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যবান হয়। শিশ্নও শক্ত ও মোটা থাকে দীর্ঘদিন।
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘নরদেহ’ পরিবারের ‘মূলকসদস্য’ বিশেষ। সাধারণত দ্বিপস্থ জীবের শিশ্ন চিহ্নধারী দেহকে নরদেহ বলা হয় বা যে দেহে শিশ্ন সংযুক্ত থাকে তাকেই নরদেহ ধরা হয়। শিশ্ন সংযুক্ত থাকা সত্ত্বেও নরদেহে সর্বসময় পুনরুত্থান শক্তিসম্পন্ন শুক্র থাকে না। নরদেহে গড়ে জন্ম হতে বারো বছর পর্যন্ত শুক্র থাকে না। ফলে নরদেহে পুনর্জন্ম ক্ষমতাও থাকে না। শুক্রশক্তির আগমন হলে মহান সাধকগণের নিকট হতে শুক্রনিয়ন্ত্রণ শিক্ষা গ্রহণ করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হয়। শুক্রনিয়ন্ত্রণের দ্বারা নরদেহ দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যবান হয়। শিশ্নও শক্ত ও মোটা থাকে দীর্ঘদিন।
স্থুলদৃষ্টিতে নরদেহ ও নারীদেহ ভিন্নভিন্ন দেখা গেলেও রূপকসাহিত্যে নর ও
নারী উভয় দেহ মিলেই একদেহ ধরা হয়। কেবল দাম্পত্য দ্বারা বা যুগলমিলন
দ্বারায় মানুষ পরিপূর্ণ দেহের অধিকারী হয়ে থাকে। যারা দাম্পত্য গ্রহণ করেন
না তারা কোনদিনই পরিপূর্ণ দেহের অধিকারী হতে পারেন না। রূপকসাহিত্যে
নরদেহের অনেক ছদ্মনাম রয়েছে। সেসব ছদ্মনামাদি দ্বারায় কেবল রূপকসাহিত্য
নির্মাণ করা হয়ে থাকে। যে কোন বিষয়ের ছদ্মনাম ও রূপকঘটনাদি ব্যতীত
রূপকসাহিত্য নির্মাণ করা যায় না। রূপকসাহিত্যে বর্ণিত মানবদেহের পবিত্র
পঞ্চরসের এমটি রস এ নরদেহে অবস্থিত। এটিও হলো নরদেহের ভজনের মূল। একে শুক্র
বলা হয়। যে ব্যক্তি শুক্রনিয়ন্ত্রণ করে তাকেই প্রকৃত সাধক বলা হয়। অধিক
শুক্রক্ষরণের দ্বারা নরদেহ অতি দ্রুত ক্ষয় ও লয়প্রাপ্ত হতে দেখা যায়। এ
জন্য দেহ রক্ষা করার জন্য প্রত্যেক নরকে একজন সাধকগুরুর নিকট গিয়ে
শুক্রনিয়ন্ত্রণ সাধন শিক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন।
মূলকসত্তা = ‘নরদেহ’
রূপকপরিভাষা = ‘বৃন্দাবন’
উপমানপরিভাষা = ‘লংকা’
চারিত্রিকপরিভাষা = 00
ছদ্মনামপরিভাষা = ‘সরন্দীপ’
আলোচ্য মূলকের রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষাদির আলোচনা মূলগ্রন্থে সবিস্তারে রয়েছে।
রূপকপরিভাষা = ‘বৃন্দাবন’
উপমানপরিভাষা = ‘লংকা’
চারিত্রিকপরিভাষা = 00
ছদ্মনামপরিভাষা = ‘সরন্দীপ’
আলোচ্য মূলকের রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষাদির আলোচনা মূলগ্রন্থে সবিস্তারে রয়েছে।
৩৮. নারীদেহ
Female body (ফিমেল বডি)/ ‘جسم النساء’ (জেসমুন নিসায়ি)
Female body (ফিমেল বডি)/ ‘جسم النساء’ (জেসমুন নিসায়ি)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির মূলকপরিবারের একটি অন্যতম ‘মূলকসদস্য’ এবং ‘নারীদেহ’ পরিবার প্রধান বিশেষ। এর রূপকপরিভাষা ‘নিধুবন’, উপমানপরিভাষা ‘নবদ্বীপ ও নাগরদোলা’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘নদীয়া’। এটি একটি ‘রূপকপ্রধানসত্তা’ বিশেষ।
নারীদেহ বি ভগচিহ্নধারিণী দেহ, Female body (ফিমেল বডি), ‘جسم النساء’ (জেসম আন্নিসায়ি) (আবি)বি নাগরদোলা, পাতাল, ভূমি (আপ)বি ইমরাত (আ.ﺍﻤﺮﺃﺓ), মারয়াত (আ.ﻤﺮﺀﺓ) (ইপ)বি woman (ওম্যান), female (ফিমেল) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘নারীদেহ’ পরিবার প্রধান ও রূপকসাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ভগ চিহ্নধারী দেহকে নারীদেহ বলা হয় (ছনা)বি নদীয়া (উপ)বি নবদ্বীপ, নাগরদোলা (রূ)বি নিধুবন (দেত)বি নারীদেহ {বাং.নারী+ বাং.দেহ}
নারীদেহের সংজ্ঞা (Definition of femalebody)
ভগ চিহ্নধারী দেহকে নারীদেহ বলে।
ভগ চিহ্নধারী দেহকে নারীদেহ বলে।
নারীদেহের প্রকারভেদ (Classification of femalebody)
নারীদেহ তিন প্রকার। যথা- ১.অরজা, ২.রজস্বলা ও ৩.গতার্তবা।
অরজা (Missy)
রজস্রাব আগমনের পূর্ববর্তী নারীদেহকে অরজা বলে।
রজস্বলা (Menstruating)
রজবতী বা কুসুমিতা নারীদেহকে রজস্বলা বলে।
গতার্তবা (Deadmenses/ Crone)
রজস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া নারীদেহকে গতার্তবা বলে।
নারীদেহ তিন প্রকার। যথা- ১.অরজা, ২.রজস্বলা ও ৩.গতার্তবা।
অরজা (Missy)
রজস্রাব আগমনের পূর্ববর্তী নারীদেহকে অরজা বলে।
রজস্বলা (Menstruating)
রজবতী বা কুসুমিতা নারীদেহকে রজস্বলা বলে।
গতার্তবা (Deadmenses/ Crone)
রজস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া নারীদেহকে গতার্তবা বলে।
নারীদেহের উপকার (Benefits of femalebody)
১. নারীদেহে সাঁই ও কাঁইসত্তার অবতরণ ঘটে।
২. স্বর্গীয় পঞ্চরসের তিনটি রসের অবতরণ এ নারীদেহে ঘটে।
৩. শাস্ত্রীয়গ্রন্থ কিম্বা রূপকসাহিত্যের অধিকাংশ সদস্যই নারীদেহ হতে উৎপন্ন হয়।
১. নারীদেহে সাঁই ও কাঁইসত্তার অবতরণ ঘটে।
২. স্বর্গীয় পঞ্চরসের তিনটি রসের অবতরণ এ নারীদেহে ঘটে।
৩. শাস্ত্রীয়গ্রন্থ কিম্বা রূপকসাহিত্যের অধিকাংশ সদস্যই নারীদেহ হতে উৎপন্ন হয়।
নারীদেহের অপকার (Disservice of femalebody)
নারীদেহ নরদেহ হতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল।
নারীদেহ নরদেহ হতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল।
নারীদেহের পরিচয় (Identity of femalebody)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির অন্যতম একটি ‘মূলকসদস্য’ বিশেষ। ভগ চিহ্নধারী দেহকে নারীদেহ বলা হয়। স্ত্রীলিঙ্গ বহনকারী দেহই নারীদেহ। গর্ভধারণ ও স্তন্যদানের ক্ষেত্রে নারীদের কোন বিকল্প নেই। স্থূলদৃষ্টিতে যদিও নরদেহ ও নারীদেহের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে কিন্তু রূপকসাহিত্য কিম্বা আধ্যাত্মিকবিদ্যায় দেহদ্বয়ের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। অর্ধাঙ্গ ও অর্ধাঙ্গিনীরূপে উভয়দেহকেই প্রায় সমমানে দেখা হয়।
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির অন্যতম একটি ‘মূলকসদস্য’ বিশেষ। ভগ চিহ্নধারী দেহকে নারীদেহ বলা হয়। স্ত্রীলিঙ্গ বহনকারী দেহই নারীদেহ। গর্ভধারণ ও স্তন্যদানের ক্ষেত্রে নারীদের কোন বিকল্প নেই। স্থূলদৃষ্টিতে যদিও নরদেহ ও নারীদেহের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে কিন্তু রূপকসাহিত্য কিম্বা আধ্যাত্মিকবিদ্যায় দেহদ্বয়ের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। অর্ধাঙ্গ ও অর্ধাঙ্গিনীরূপে উভয়দেহকেই প্রায় সমমানে দেখা হয়।
মূলকসত্তা = ‘নারীদেহ’
রূপকপরিভাষা = ‘নিধুবন’
উপমানপরিভাষা = ‘নবদ্বীপ ও নাগরদোলা’
চারিত্রিকপরিভাষা = 00
ছদ্মনামপরিভাষা = ‘নদীয়া’
আলোচ্য মূলকের রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষাদির আলোচনা মূলগ্রন্থে সবিস্তারে রয়েছে।
রূপকপরিভাষা = ‘নিধুবন’
উপমানপরিভাষা = ‘নবদ্বীপ ও নাগরদোলা’
চারিত্রিকপরিভাষা = 00
ছদ্মনামপরিভাষা = ‘নদীয়া’
আলোচ্য মূলকের রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষাদির আলোচনা মূলগ্রন্থে সবিস্তারে রয়েছে।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসূত্র
আত্মতত্ত্ব ভেদ (১ম খণ্ড হতে ৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
তথ্যসূত্র
আত্মতত্ত্ব ভেদ (১ম খণ্ড হতে ৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন