আশুরা কারবালা ও হুসেন শহিদ (২য় পর্ব)
Ashura Karbala and Hussain Shahid (2nd Part)
‘عاشوراء كربلاء والحسين الشهيد (2 جزء)’
Ashura Karbala and Hussain Shahid (2nd Part)
‘عاشوراء كربلاء والحسين الشهيد (2 جزء)’
তৃতীয় হিজরির শেষ দিক হতে আরম্ভ করে চতুর্থ শতকের শুরুর দিকে ইসলামের
শাস্ত্রীয় গল্প-কাহিনী সর্ব প্রথম পারস্য জগতের শ্রেষ্ঠ আত্মতাত্ত্বিক
জারির তাবারির (৮৩৯-৯২৩ খ্রি:)
দ্বারা লিখিত হয়। তিনি ৩১০ হিজরিতে প্রয়াণলাভ করেন। তাঁর শাস্ত্রীয় কাহিনী
নির্মাণের তথ্য-উপাত্ত ছিল আত্মদর্শন। শাস্ত্রীয় কাহিনী নির্মাণ করার জন্য
ঐতিহাসিক সূত্র-তথ্যের কোন প্রয়োজন হয় না। যেমন- ভারতবর্ষের সর্বকালের
সর্ব শ্রেষ্ঠ আত্মতাত্ত্বিক বেদব্যাসের ‘মহাভারত’ ও ‘পুরাণ’গুলো
নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজন হয়নি ঐতিহাসিক কোন নথিপত্রের। তেমন মহাকবি
বাল্মীকিরও রামায়ণ নির্মাণ করতে প্রয়োজন হয়নি ঐতিহাসিক কোন সূত্রতথ্যের।
আত্মতত্ত্বে কানা, আত্মদর্শনে অন্ধ ও দেহতত্ত্বের জ্ঞানহীন টোকাই
গবেষকরা প্রায় হাজার বছর ধরে খুঁজে চলেছে জারির তাবারির ইসলামি কাহিনী
নির্মাণের সূত্রতথ্য। হাজার বছর নয়, লক্ষ বছর ধরে অন্বেষণ করলেও শাস্ত্রীয়
কাহিনী নির্মাণের কোন সূত্রতথ্য পাওয়া যাবে না। কারণ শাস্ত্রীয় গল্প-কাহিনী
নির্মাণ করা হয় কেবল বৈক্তিক সদস্যাদি দ্বারা। বৈক্তিকসদস্যকে ইংরেজিতে
Personality traits (পারসোনালিটি ট্রেট) এবং আরবি ভাষায় ‘السمات الشخصية’
(আসসিমাত আশশাখসিয়া) বলা হয়।
আত্মতত্ত্বমূলক গল্পকাহিনী নির্ভর সাহিত্যকে বলা হয় রূপক সাহিত্য। একে
ইংরেজিতে ‘Fabulous literature’ (ফেবুলাস লিটারেচার) এবং আরবি ভাষায়
‘أَدَبِ رَائَعَ’ (আদাবি রায়ায়া) বলা হয়।
রূপকসাহিত্যের মূলক সমূহ
১.অজ্ঞতা, ২.অতীতকাহিনী, ৩.অন্যায়, ৪.অবিশ্বাসী, ৫.অর্ধদ্বার, ৬.অশান্তি, ৭.আগধড়, ৮.আয়ু, ৯.আশীর্বাদ, ১০.আশ্রম, ১১.ইঙ্গিত, ১২.উপমা, ১৩.উপস্থ, ১৪.উপহার, ১৫.উপাসক, ১৬.কানাই, ১৭.কাম, ১৮.কামরস, ২৯.কিশোরী, ২০.কৈশোরকাল, ২১.গবেষণা, ২২.গর্ভকাল, ২৩.চক্ষু, ২৪.চন্দ্রচেতনা, ২৫.চিন্তা, ২৬.জন্ম, ২৭.জরায়ু, ২৮.জীবনীশক্তি, ২৯.জৈবাস্ত্র, ৩০.জ্ঞান, ৩১.ডান, ৩২.তীর্থযাত্রা, ৩৩.দুগ্ধ, ৩৪.দেহ, ৩৫.দৈবিকা, ৩৬.নর, ৩৭.নরদেহ, ৩৮.নারীদেহ, ৩৯.নারী, ৪০.নাসিকা, ৪১.ন্যায়, ৪২.পঞ্চবায়ু, ৪৩.পঞ্চরস, ৪৪.পবিত্রতা, ৪৫.পরকিনী, ৪৬.পরম্পরা, ৪৭.পাঁচশতবছর, ৪৮.পাছধড়, ৪৯.পালনকর্তা, ৫০.পুরুষ, ৫১.পুরুষত্ব, ৫২.প্রথমপ্রহর, ৫৩.প্রয়াণ, ৫৪.প্রসাদ, ৫৫.প্রেমিক, ৫৬.বন্ধু, ৫৭.বর্তমানজনম, ৫৮.বলাই, ৫৯.বাম, ৬০.বার্ধক্য, ৬১.বিদ্যুৎ, ৬২.বিনয়, ৬৩.বিনোদন, ৬৪.বিশ্বাসী, ৬৫.বৃদ্ধা, ৬৬.বৈতরণী, ৬৭.ব্যর্থতা, ৬৮.ভগ, ৬৯.ভালোবাসা, ৭০.ভৃগু, ৭১.মন, ৭২.মনোযোগ, ৭৩.মানুষ, ৭৪.মুমূর্ষুতা, ৭৫.মুষ্ক, ৭৬.মূত্র, ৭৭.মূলনীতি, ৭৮.মোটাশিরা, ৭৯.যৌবন, ৮০.যৌবনকাল, ৮১.রজ, ৮২.রজকাল, ৮৩.রজপট্টি, ৮৪.রজস্বলা, ৮৫.শত্রু, ৮৬.শান্তি, ৮৭.শুক্র, ৮৮.শুক্রধর, ৮৯.শুক্রপাত, ৯০.শুক্রপাতকারী, ৯১.শেষপ্রহর, ৯২.শ্বাস, ৯৩.সন্তান, ৯৪.সন্তানপালন, ৯৫.সপ্তকর্ম, ৯৬.সহস্রাব্দ, ৯৭.সৃষ্টিকর্তা, ৯৮.স্ফীতাঙ্গ ও ৯৯.স্বভাব। আত্মদর্শনের এসব মূলকের রূপক, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষাগুলোকে নরত্বারোপ করে ব্যক্তি- বস্তু- স্থান- ও প্রতীতিরূপে উপমা নির্মাণ করা হয়। বিষয়, বস্তু ও অঙ্গাদির প্রতি নরত্বারোপ করাকে ইংরেজি ভাষায় Anthropomorphism (এ্যান্থোসপামোফিজম) এবং আরবি ভাষায় ‘التجسيم’ (আত্তাজসিম) বলা হয়।
১.অজ্ঞতা, ২.অতীতকাহিনী, ৩.অন্যায়, ৪.অবিশ্বাসী, ৫.অর্ধদ্বার, ৬.অশান্তি, ৭.আগধড়, ৮.আয়ু, ৯.আশীর্বাদ, ১০.আশ্রম, ১১.ইঙ্গিত, ১২.উপমা, ১৩.উপস্থ, ১৪.উপহার, ১৫.উপাসক, ১৬.কানাই, ১৭.কাম, ১৮.কামরস, ২৯.কিশোরী, ২০.কৈশোরকাল, ২১.গবেষণা, ২২.গর্ভকাল, ২৩.চক্ষু, ২৪.চন্দ্রচেতনা, ২৫.চিন্তা, ২৬.জন্ম, ২৭.জরায়ু, ২৮.জীবনীশক্তি, ২৯.জৈবাস্ত্র, ৩০.জ্ঞান, ৩১.ডান, ৩২.তীর্থযাত্রা, ৩৩.দুগ্ধ, ৩৪.দেহ, ৩৫.দৈবিকা, ৩৬.নর, ৩৭.নরদেহ, ৩৮.নারীদেহ, ৩৯.নারী, ৪০.নাসিকা, ৪১.ন্যায়, ৪২.পঞ্চবায়ু, ৪৩.পঞ্চরস, ৪৪.পবিত্রতা, ৪৫.পরকিনী, ৪৬.পরম্পরা, ৪৭.পাঁচশতবছর, ৪৮.পাছধড়, ৪৯.পালনকর্তা, ৫০.পুরুষ, ৫১.পুরুষত্ব, ৫২.প্রথমপ্রহর, ৫৩.প্রয়াণ, ৫৪.প্রসাদ, ৫৫.প্রেমিক, ৫৬.বন্ধু, ৫৭.বর্তমানজনম, ৫৮.বলাই, ৫৯.বাম, ৬০.বার্ধক্য, ৬১.বিদ্যুৎ, ৬২.বিনয়, ৬৩.বিনোদন, ৬৪.বিশ্বাসী, ৬৫.বৃদ্ধা, ৬৬.বৈতরণী, ৬৭.ব্যর্থতা, ৬৮.ভগ, ৬৯.ভালোবাসা, ৭০.ভৃগু, ৭১.মন, ৭২.মনোযোগ, ৭৩.মানুষ, ৭৪.মুমূর্ষুতা, ৭৫.মুষ্ক, ৭৬.মূত্র, ৭৭.মূলনীতি, ৭৮.মোটাশিরা, ৭৯.যৌবন, ৮০.যৌবনকাল, ৮১.রজ, ৮২.রজকাল, ৮৩.রজপট্টি, ৮৪.রজস্বলা, ৮৫.শত্রু, ৮৬.শান্তি, ৮৭.শুক্র, ৮৮.শুক্রধর, ৮৯.শুক্রপাত, ৯০.শুক্রপাতকারী, ৯১.শেষপ্রহর, ৯২.শ্বাস, ৯৩.সন্তান, ৯৪.সন্তানপালন, ৯৫.সপ্তকর্ম, ৯৬.সহস্রাব্দ, ৯৭.সৃষ্টিকর্তা, ৯৮.স্ফীতাঙ্গ ও ৯৯.স্বভাব। আত্মদর্শনের এসব মূলকের রূপক, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষাগুলোকে নরত্বারোপ করে ব্যক্তি- বস্তু- স্থান- ও প্রতীতিরূপে উপমা নির্মাণ করা হয়। বিষয়, বস্তু ও অঙ্গাদির প্রতি নরত্বারোপ করাকে ইংরেজি ভাষায় Anthropomorphism (এ্যান্থোসপামোফিজম) এবং আরবি ভাষায় ‘التجسيم’ (আত্তাজসিম) বলা হয়।
নরত্বারোপ বি নররূপারোপ, ব্যক্তিরূপদান,
stereology, anthropomorphism, personification, representationism,
‘التجسيم’ (আত্তাজসিম), ‘الادميه’ (আলয়াদামি), ‘تجسيد’ (তাজসিদ) (প্র) দেবতা, প্রকৃতি, বস্তু, জীবজন্তু কিংবা বৈক্তিক সদস্যাদিতে মানবীয় চরিত্র আরোপ বা নরত্বারোপ {ই}
হাস্যকর বিষয় হলো পরবর্তীকালের আত্মতত্ত্ব জ্ঞানহীন গবেষকরা এগুলোকে
ইতিহাস বলে বিভ্রম করে থাকে। আর এভাবেই পুরাণী, ত্রিপিটকী, কুরানী, ইঞ্জিলী
ও তৌরাতীদের শাস্ত্রীয় গল্প-কাহিনী- শাস্ত্রীয় ইতিহাসে রূপান্তরিত হয়েছে।
কাহিনীকার জারির তাবারি সম্পর্কে কুরানী মনীষীদের তেমনি কিছু মতামত তুলে ধরা হলো।
জারির তাবারি শাস্ত্রীয় ইসলামি ইতিহাসের নির্মাতা। তিনি কোন তথ্যের ভিত্তিতে তা নির্মাণ করেছেন তা আজো জানা যায় না।
তার পুরো ইতিহাস সংরক্ষিত হয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তির শোনা কথার ওপর ভিত্তি
করে। আর এ ব্যক্তিবর্গও কেউ কোন ঘটনার সাক্ষী ছিলেন না। পুরোটাই শোনাকথা
রূপে এসেছে তার পূর্ববর্তীদের কারো কাছ থেকে। এমনকি ইমাম তাবারি তাঁর
গ্রন্থের সূচনায় বলেছেন যে, যেসব অসংগত ঘটনা তিনি বর্ণনা করেছেন তার জন্য
তিনি দায়ী নন বরং যারা তাঁকে বলেছেন তারাই দায়ী। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন
তাঁর এসব ঘটনা বর্ণনার উৎস হারমুযান, জাফিনা এবং সা’বা বিন শামি’উন (এরা
সবাই খলিফা বা ইমাম হত্যার সাথে জড়িত ছিল) বংশধরদের কাছ থেকে এসেছে।
জারির তাবারি একজন কাহিনীকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর ১৩ খন্ডের
ইতিহাস এবং ৩০ খন্ডের কুরানের ব্যাখ্যা তাঁকে ইমামদের মধ্যে অন্যতমরূপে
পরিচিতি দিয়েছে। পরবর্তীকালে মুহম্মদ বিন ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-কালিনীও
চতুর্থ হিজরির শেষের দিকে এসে ইতিহাস লেখেন তারো কোন লিখিত তথ্যসূত্র নেই
শুধু শোনা কথা ছাড়া।
উল্লেখযোগ্য যে ইসলামের ইতিহাসের পরিচিত ইতিহাসবিদগণের প্রায় সবাই
তাবারী-কাল পরবর্তী যুগের। শাস্ত্রীয় ইসলামি ইতিহাসের যে সময়টাকে স্বর্ণযুগ
বলা হয়- সে সময়ের রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম বা নথিপত্রসমূহ কোথায়? ১৬৫ হিজরিতে
আব্বাসীয় বংশের খলিফা হারুন-আর-রশিদ যখন ইমাম আহমাদ বিন হানবালকে তার
তথ্যের সত্যতা প্রমাণের নথিপত্র দেখাতে বলেন- তার কিছুই তিনি দেখাতে
পারেননি। এমনকি মামুন আর-রশিদের সাথে ‘কুরান আল্লাহর বাণী না অন্য কিছু’ এ
নিয়ে বিতর্কে অংশ গহণ করে তাঁকে বেত্রাঘাত পর্যন্ত সহ্য করতে হয়েছিল। ঐ সময়
অন্য কোন ইমাম রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে তার পাশে দাঁড়িয়ে বলেনি যে- এ আচরণ
অনৈসলামিক।
ইমাম আবু হানিফার শিষ্য/ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ যেমন খলিফা মো’তামিদের
(২৭০ হিজরি) রাজকীয় বিচার বিভাগের একজন বিচারক ছিলেন। জারির তাবারিও তেমনি
সে সময়ের একজন বিচারক ছিলেন। জারির তাবারি, খলিফা আল-মুক্তাদার বিল্লাহর
ইচ্ছার অন্যতম সঙ্গী ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায় যে, জারির
তাবারি তার পারসীয়ান পরিচয় গোপন করার জন্য নিজ নাম ‘ইবন জারির বিন রুস্তম
ইবন তাবারি’ (Ibn Jareer bin Rustam Ibn Tabar) থেকে ‘ইবন জারির বিন ইয়াজিদ
তাবারি’ (Imam Ibn Jareer bin Yazeed Tabari) নামে পরিচয় দিতেন।
তাঁর সম্বন্ধে অনেক বিতর্কিত খবর আছে, ইসলামের কোন দলকে (শিয়া/সুন্নী,
খারিজি/অথবা জরোয়াস্ট্রিয়ান) তিনি অনুসরণ করতেন? প্রচলিত আছে যে ‘জারির
তাবারি বিন ইয়াজিদ’ এবং ‘ইবন তাবারি বিন রুস্তম’ দু’জন ভিন্ন ব্যক্তি। যদিও
তাঁরা দু’জনেই জন্মেছেন একই দিনে। দু’জনেই ছিলেন ইতিহাসবিদ। একই নগরে বাস
করতেন তাঁরা। একই রকম দেখতে, একই রকম বসন পরিধান করতেন এবং এমনকি একই দিনেই
মৃত্যূবরণ করেন। এ ধরনের সমাপতন সত্যি বিস্ময়কর!!
‘কারবালা কাহিনী’ বা কারবালা যুদ্ধের যে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় তার
সম্পূর্ণটাই তাবারি কর্তৃক রচিত। এবং তা বর্তমানকালে প্রচলিত কারবালা
যুদ্ধের ২৩৯ বছর পর লিখিত। এখানেও তিনি একইভাবে সূচনা করেছেন- “আবু মুকনিফ
বলেছিল এটা, আবু মুকনিফ বলেছিল ওটা।” গবেষক শাহ আব্দুল আজিজ, আল্লামা
তামান্না ইমাদি এবং মওলানা হাবিবুর রহমান খানদালবী এক গবেষণার পর মতামত দেন
যে ‘আবু মুকনিফ’ একটা কাল্পনিক চরিত্র।
অন্যান্য গবেষকগণ এ প্রসঙ্গে বলেন যে, ‘আবু মুকনিফ’ বলে যদি কেউ
রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ থেকেও থাকে- তিনি মৃত্যূ বরণ করেছিলেন তাবারি জন্মেরও
৫০ বছর পূর্বে। তাদের মতে জারির তাবারি নিজেই কারবালা কাহিনী লিখেছিলেন
আবু মুকনিফের নামে। এমনকি জারির তাবারি কখনো উল্লেখ করেননি যে, তাঁর সাথে
আবু মুকনিফের দেখা হয়েছিল।
আরও একটি উল্লেখ্য বিষয় যে, যেহেতু ঘটনা ঘটার প্রায় ২৩৯ বছর পর জারির
তাবারি বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন- এর মধ্যবর্তী সময়ে আর কেউ কি এ বিষয়ে জানতেন
না? এ রকম ঘটনা ঘটার পর প্রায় কয়েকশ’ লেখা খুঁজে পাবার কথা; কিন্তু শুধু
জারির তাবারির মাধ্যমেই আমরা এটা জানতে পারলাম!!
কেউ কেউ তাঁদের এ বিষয়ে গবেষণার পর মনে করেন যে, ‘আবু মুকনিফ’ ছাড়াও
‘লুত বিন ইয়াহিয়া’, ‘মুহম্মদ বিন সায়েব কলবী’ চরিত্রগুলো কাল্পনিক।
ইতিহাসবিদগণ প্রয়োজন অনুযায়ী চরিত্রগুলো সৃষ্টি করেছেন।
এখানে আরো উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন যে, ইয়াজিদ যদি সত্যি এতই ঘৃণিত ব্যক্তি
হতেন, তাহলে হযরত হাসান-হুসেনের বংশধর কেন ইয়াজিদের আত্মীয় স্বজনের সাথে
বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বা পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব এবং খলিফাগণ
তাদের নাম ইয়াজিদ রেখেছিলেন? এ হতে আরো পরিষ্কার হয় যে, ‘ইয়াজিদ’ও একটি
কাল্পনিক চরিত্র।
অনেক ইউরোপিয়ান গবেষক বলেছেন যে, প্রাচ্যের ইতিহাসের বর্ণনায় অনেক
অতিরঞ্জিত বিষয় থাকে। মোল্লা দরবান্দী তার ‘আসরার আল-সাহাদাহ’ গ্রন্থে
লিখেছেন যে, কারবালার যুদ্ধে উমর ইবন সা’দের বাহিনীতে প্রায় ৬০০,০০০
অশ্বারোহী, ২০ মিলিয়ন পদাতিক বাহিনী একত্রিত হয়েছিল।
ইসলামের ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে, বিদায় হজের ভাষণে প্রায় সোয়ালক্ষ সাহাবি
উপস্থিত ছিলেন। সে সময় পুরো আরব এবং ইরাকে সত্যিই কী এত লোক বাস করত?
[বাংলাদেশে একাত্তর সালে লোকসংখ্যা ছিল সাতকোটি। মাত্র চল্লিশ বছরে তার
দ্বিগুণ পেরিয়ে গেছে। চল্লিশ বছরে জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়। এ অনুপাত
করতে থাকলে এক হাজার বছর পূর্বে আমাদের বঙ্গদেশের লোকসংখ্যা কত ছিল? আর
পনেরশত বছর পূর্বে লোকসংখ্যা কত ছিল?
বর্তমানকালে সৌদি আরবের লোকসংখ্যা প্রায় চারকোটি। তার মধ্যে দেড়কোটিই
হলো বাইরের। তবে হাজার বছর ও পনেরশত বছর পূর্বে লোকসংখ্যা কত ছিল?] লেখক।
এ ছাড়াও কুফা থেকে ১ মিলিয়ন ৬,০০,০০০ অর্থাৎ কুফার সকল জনগণ যোগ
দিয়েছিল। এখন প্রশ্ন, কত বড় নগর ছিল কুফা? কুফা খুব একটা পুরনো নগর নয়।
এছাড়া, এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না যে, এ রকম নতুন একটা নগরীতে এত লোক বাস
করত! কুফা বাহিনীতেও এত লোক জড়ো হওয়া এবং ইমাম হুসেনের ৩,০০,০০০ লোক হত্যা
করা মোটেও যুক্তিযুক্ত মনে হয় না। এ ধরনের হিসাব পুরো ঘটনার উপরেই একটা
সন্দেহের বীজ বপন করে। ইবনে জযির মতে শত্রুপক্ষে মোট সৈন্য সংখ্যা ৬ হাজার,
সৈয়দ বিন তুসির মতে ২০ হাজার, আবি ফারাস বলেন ৫০ হাজার, আর আবি নাহাফ
আজওয়ির মতে ৮০ হাজার। অন্যদিকে, ইমাম হুসেনের বাহিনীতে আবি ফারাসির মতে ১
হাজার, শেইখ মুফিদের মতে ৭২ জন (৩২ জন অশ্বারোহী এবং ৪০ জন পদাতিক সৈন্য),
ইমাম বাকীর বলেন ১৪৫ জন।
কারবালার ঘটনার এমন অসম্ভব ও অবাস্তবপূর্ণ বর্ণনা যে, পুরো ঘটনাটাই
অসংখ্য প্রশ্নের উদ্রেক করে। সম্পূর্ণ ঘটনাটি এখানে আলোচনা করা সম্ভব নয়।
তাই সামান্য কিছু অংশ উল্লেখ করা হলো।
“ইবন জিয়াদ ইমাম হুসেনকে বলেন যে, সে নরম বালিশে মাথা রাখতে পারবে না বা
ভালো খাদ্য গ্রহণ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে ইমামকে হত্যা করতে পারে। এর
উত্তরে ইমাম হুসেন বলেন যে, কুফা নগরবাসী তাঁর কাছে চিঠি লিখেছিল তাই তিনি
এসেছেন। এখন কুফাবাসী যদি তাঁকে পছন্দ না করেন, তবে তাঁকে চলে যেতে দেয়া
হোক। এমনকি ইমাম হুসেন, উমর বিন সা’দকে অনুরোধ করেছিলেন যে, তাঁকে চলে যেতে
দেয়া হোক। কিন্তু মুজতাহিদ লেখকের মতে ইমাম হুসেন সেখানে গিয়েছিলেন
জিহাদের উদ্দেশ্যে। তাহলে কেন তিনি চলে যেতে দেবার জন্য অনুরোধ করবেন? কথিত
আছে পারসীয়ানদের তখন ঘৃণা বা হিংসা ছিল হযরত সা’দ বিন আবি ওয়াকাসের ওপর।
কারণ তিনি ৫০ বছর পূর্বে অর্ধেক পারস্য জয় করেছিলেন। তাই উমর বিন সা’দের
নাম এখানে লাগানো হয়েছে। কিন্তু গণনা মতে উমর বিন সা’দ তখন সিরিয়ায় তার
বাহিনীকে নির্দেশনা দিচ্ছিল। (Ref. Al-Milil Wanhil by Imam Sheristani)
আশুরার দিনে (১০ই মুহররম) ইমাম হুসেন ইয়াজিদকে বলেছিলেন, “Yazeed the
bastard, son of a bastard has forced me to choose between death and
disgrace.” কিন্তু ঘটনার বর্ণনায় অন্যত্র বলা আছে ইমাম নিজের ইচ্ছাতেই
কুফায় এসেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কুফাতে না যাবার
উপদেশ সত্ত্বেও তিনি কুফায় গিয়েছিলেন। তাহলে আর গালি-গালাজ কেন? আর একজন
নেতৃত্ব স্হানীয় ব্যক্তির ভাষা এমন হতে পারে কী?
ইমাম জয়নুল আবেদিন বলেন যে, যখন ইমাম হুসেন তাঁর মৃত্যূ সম্বন্ধে শ্লোক
আওড়াচ্ছিলেন, তা শুনে জয়নব তাঁর নিজ মুখ-মন্ডলে আঘাত করছিলেন এবং প্রায়
কাপড় ছিঁড়ে ফেলছিলেন। তিনি এক সময় অজ্ঞান হয়ে যান। ইমাম হুসেন তাঁর বোনকে
বলেন যে, তাঁকে (জয়নব) ওয়াদা করতে হবে যে, তাঁর মৃত্যূর পর সে নিজেকে আঘাতে
জর্জরিত করতে পারবে না বা কাপড় ছিঁড়ে শোক প্রকাশ করতে পারবে না। কিন্তু
কেউ কী ইমামের এ উপদেশ বা শেষ ইচ্ছার মর্যাদা দিয়েছেন? জারির তাবারি তাঁর এ
বই ‘Sa’aadatuddarain fi Qatlil Husain’ বইতে শুধু ঘটনার বর্ণনাই নয়,
কিভাবে ইমাম হুসেনের স্মৃতি উৎসব পালন করতে হবে তারও নির্দেশনা বর্ণনা
করেছেন। এখন কথা হচ্ছে এ নিয়ম তিনি কোথা থেকে পেলেন?
শুধু এখানেই থেমে নেই, আরো বর্ণনা আছে যে, একটা পাখি ইমাম হুসেনের মাথার
ওপর পাখা ছড়িয়ে বলে যে, আল্লাহ ইচ্ছে করলে তাঁকে বিজয় দিতে পারে; ৪ হাজার
ফেরেস্তা তাঁকে যুদ্ধে সাহায্য করতে চান কিন্তু তিনি কোন সাহায্যই চান না।
এমনকি জিনরা এসেও তাঁকে সাহায্য করার কথা বলেন কিন্তু কারও সাহায্য তিনি
গ্রহণ করেননি। কোন সাহায্যই যদি কাম্য নয় তবে জিহাদে বা কুফা নগরীর লোকেদের
কিভাবে সাহায্য করবেন?
যখন যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষ হাজার হাজার তীর ছোঁড়া শুরু করলো, ইমাম
হুসেন ও তার দলও পালটা আঘাত শুরু করল। যুদ্ধ প্রায় এক ঘন্টা চলে। এত হাজার
হাজার তীরের বিরুদ্ধে কী ৭২ জনের বা ১৪৫ জনের একঘন্টাও টিকে থাকা সম্ভব?
শুধু ঘটনার পূংঙ্খানু্পূংঙ্খ বর্ণনাই নয়, সেই সাথে ইতিহাসবিদগণ যেভাবে
শত্রু-মিত্র পক্ষের প্রত্যক্ষ কথোপোকথন বর্ণনা করেছেন মনে হয় তারা সে ঘটনা
প্রত্যক্ষ করেছেন অথবা অডিও-ভিডিওতে ধারন করা হয়েছিল।
ইমাম তাঁর দুধের শিশু আলি আসগরকে (যুদ্ধক্ষেত্রে শিশু সন্তান?) তাবুর
বাইরে জল পান করানোর জন্য নিয়ে এসে একটু জল দেবার অনুরোধ করেন। পরিবর্তে
শত্রুপক্ষের লোক তীর ছুঁড়ে মারে- যার আঘাতে আলি আসগর মারা যায়। কিন্তু তাঁর
এক ফোঁটা রক্ত ইমাম হুসেন মাটিতে পড়তে না দিয়ে নিজের হাতের তালুতে ধারন
করে আকাশের দিকে ছুঁড়ে মারেন। তার এক ফোঁটা রক্তও মাটিতে ফিরে আসেনি।
একইভাবে ইমাম হুসেন যখন হাজার হাজার তীর (১,৯৫০ টা তীর- কিন্তু কেউ
বলেনি কে গুনল বা কিভাবে তখন হিসাব করা সম্ভব!) দ্বারা আক্রান্ত হন। তার
নিজের রক্তও এভাবে আকাশে ছুঁড়ে মারেন এবং এক ফোঁটাও মাটিতে ফিরে আসেনি।
পরবর্তী তিনদিন এই রক্তই রক্ত-বৃস্টি হয়ে ঝরে পড়ে। এই ইতিহাস বইগুলোতে বলা
আছে যে, তিনদিন যাবৎ এ রকম রক্ত-বৃস্টি দেখে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় লোকজন
ভাবতে শুরু করল যে, কেয়ামত চলে এসেছে। কিন্তু এমন ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা
রোমান, মিশরীয়, গ্রিক, ভারত বা অন্যান্য দেশের ইতিহাসে লেখা নেই বা কেউ
জানল না যতদিন না তাবারি তার ‘কারবালার কাহিনী’ লিখল!
এবার সময়ের হিসাবটা করা যাক। যতদূর জানা যায় ৬৮০ খ্রিঃ উল্লেখিত
কারবালার ঘটনা সংঘটিত?? ৭০০ খ্রিঃ ইমাম হুসেনের পুত্র ইমাম যয়নুল আবেদিন
‘মুনাজাত-ই-যয়নুল আবেদিন’ ও ‘সহিফা সাজ্জাদিয়া’ নামে দু’টো বই লেখেন।
এখানেও কারবালার ঘটনার কোন উল্লেখ নেই। ৭৫৮ খ্রিঃ ইমাম মালিক ‘মুওয়াত্তা’
লেখেন, এখানেও কারবালার কোন উল্লেখ নেই। [এ গ্রন্থটি বর্তমান ভারতবর্ষে
‘মুয়াত্তা মালিক’ নামে পরিচিত। লেখক] ৮৬০ খ্রিঃ হতে হাদিস গ্রন্থগুলো লেখা
আরম্ভ হয়, সেখানেও কারবালার ঘটনা নেই। ৯০০ খ্রিঃ জারির তাবারি ‘কারবালার
কাহিনী’ বর্ণনা করেন। তবে তাঁর লেখার পক্ষে কোনো প্রমাণ বা নথিপত্র নেই।
এরপর ৯১০ খ্রিঃ থেকে আজ পর্যন্ত নিত্য-নতুন ঘটনা সংযোজিত হয়ে ঘটিনাটি সমাজে
আশুরারূপে প্রতিষ্ঠালাভ করেছে। [সাথে সাথে কুরানীদের একটি শাখা (শিয়া) এ
উপন্যাসিক ঘটনাকে শাস্ত্রীয় ইতিহাস ভেবে তার শোকগাঁথা ও শোকানুষ্ঠান আরম্ভ
করেছে। লেখক]
‘Rawdat al-shuhada’ নামে মোল্লা হুসাইন কাশিফি ফার্সি ভাষায় একটি বই
লেখেন। মোল্লা হুসাইন কাশিফি একজন জ্ঞানী ব্যক্তিরূপে পরিচিতি পেয়েছিলেন।
কিন্তু তাঁর সম্বন্ধেও অনেক বিতর্কিত তথ্য আছে। তাঁকে হাজি নুরি বহুরূপী
গিরগিটির (chameleon) সাথে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ শিয়াদের সাথে একজন
শিয়ারূপে মিশেছেন। আবার সুন্নীদের কাছে নিজেকে হানাফীরূপে পরিচয় দিতেন।
তিনি Sabzawar অঞ্চলের লোক ছিলেন, যেখানকার লোকজন প্রায় সবাই শিয়া ছিল। নিজ
অঞ্চলেই তিনি কারবালার ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি প্রায় ৯১০ হিজরির দিকে
মৃত্যূবরণ করেন। তাঁর এ গ্রন্থটি পড়ে হাজি নুরি বলেন যে, এ বইয়ে ইমাম
হুসেনের সঙ্গীদের নামগুলো নির্মিত। এমনকি শত্রুপক্ষের নামগুলোও নির্মিত।
সে অঞ্চলের বেশিরভাগ লোকজনই ছিল অশিক্ষিত এবং আররি পড়তে জানত না। যেহেতু
এ গ্রন্থটি ফার্সি ভাষায় লেখা প্রথম গল্পের বই এবং তা ইমাম হুসেন স্মরণে-
তাই তারা একত্রিত হওয়া জনগণকে এ গ্রন্থটি থেকে ঘটনা পড়ে শোনাত। এভাবে
একত্রিত হয়ে ইমাম হুসেনের জন্য শোক করাকে বলে rawdeh-khwani. কিন্তু
radeh-khwani ইমাম সাদিক বা ইমাম হাসান আসকারীর সময়ে ছিল না বা সাঈদ
মুরতাদা (হিজরি ৪৩৬) বা খাজা নাসির আল-দিন আল তুসির (হিজরি ৬৭২) সময়ে
পরিলক্ষিত হয়নি।
আর radeh-khwani মানে হচ্ছে Rawdat al-shuhada গ্রন্থ থেকে পড়ে শোনানো।
হাজি নুরি এ গ্রন্থকে– “a pack of lies” বলে উল্লেখ করেছেন। যখন থেকে
সাধারণ জনগণ এ গ্রন্থটা অনুসরন করা আরম্ভ করল- তখন থেকে আর কেউ ইমাম
হুসেনের জীবনী নিয়ে অনুধ্যান করার চেষ্টা করল না।
এরপর মাঠে এলেন মোল্লা দরবান্দী- যিনি Rawdat al-shuhadaর বিষয়বস্তু
নিয়ে লিখে ফেললেন একটি গ্রন্থ। নাম ‘আসরার আল-সাহাদাহ’। এ গ্রন্থই তখন থেকে
শাস্ত্রীয় ইসলামের ভাগ্যে অন্যতম শোকগাঁথা রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে।
কারবালার ঘটনার বর্ণনা এবং সত্যরূপে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়ে আসলে ইমাম
হুসেনকেই অসম্মান করা হয়েছে। এবং এর সাথে সাথে মানুষের সাধারণ বুদ্ধি,
বিবেচনা, প্রকৃতির নিয়মনীতি, সর্বোপরি মানুষের বুদ্ধিমত্তাকেই হেয় করা
হয়েছে। আশুরার দিনে একজন আরেকজনের দাঁড়িতে ধূলা ছুঁড়ে দেয়া মুহম্মদ (সাঃ)
সময়কার নিয়ম। (Tirmizi Shareef, vol ii Pg 218, Delhi Edition) কিন্তু লেখক
ভুলে গেছেন যে মুহম্মদ (সাঃ) মৃত্যূবরণ করেছিলেন কথিত কারবালার ঘটনার ৫০
বছর পূর্বে। তাহলে এটা নবির সময়কার রীতি হলো কী করে?
এখন কথা হচ্ছে কেন একদল লোক আশুরা পালনের মাধ্যমে ইমাম হুসেনকে স্মরণীয়
রাখতে চায়? ইমাম হুসেনের আগে হযরত ওমর, উসমান বা আলীর মৃত্যূ নিয়ে তো কোন
মাতামাতি হয়নি!! ইমাম হুসেনের মাজার জিয়ারত, তাকে নিয়ে শোক পালন করার জন্য
শিয়াদের উৎসাহিত বা জোর দেয়া হয় কেন?
তথ্যসূত্রঃ Ashura-History and Popular Legend, Second
Sermon Martyr Murtada Mutahhari; Tanslated from the Persian by ‘Ali
Quli Qara’I , Vol XIII No.3 (Fall 1996). Karbala—Fact or Fiction? by
Shabbir Ahmed, M.D.
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট- কারবালার যুদ্ধ—ইতিহাস নাকি বানানো গল্প?
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট- কারবালার যুদ্ধ—ইতিহাস নাকি বানানো গল্প?
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসূত্রঃ
(কালজয়ী কাহিনীর) আত্মদর্শন রহস্য
লেখকঃ বলন কাঁইজি
তথ্যসূত্রঃ
(কালজয়ী কাহিনীর) আত্মদর্শন রহস্য
লেখকঃ বলন কাঁইজি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন