পাশাখেলা কী মাকড়ি খেলা নাকি কামব্রত?
What is earring game; pendant game or coitus?
———————————————————————————————
পাশাখেলা
Earring game (এয়াররিং গেম)
‘لعبة قرط’ (লায়াবা ক্বারাত্বা)
ভাবার্থঃ Coitus (কোয়িটাস)/ ‘مضاجعة’ (মুদাজায়া)
What is earring game; pendant game or coitus?
———————————————————————————————
পাশাখেলা
Earring game (এয়াররিং গেম)
‘لعبة قرط’ (লায়াবা ক্বারাত্বা)
ভাবার্থঃ Coitus (কোয়িটাস)/ ‘مضاجعة’ (মুদাজায়া)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘কাম’ পরিবারের অধীন অন্যতম একটি ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’। এর প্রকৃতমূলক ‘সঙ্গম’, রূপান্তরিতমূলক ‘কাম’, রূপক পরিভাষা ‘উপাসনা’, উপমান পরিভাষা ‘পূজা ও যজ্ঞ’ এবং অন্যান্য ছদ্মনাম পরিভাষা ‘তাপন ও বাইচালি’।
পাশাখেলা (রূপ)বি নববর ও নববধূর এক প্রকার খেলা বিশেষ, Earring game (এয়াররিং গেম), ‘لعبة قرط’ (লায়াবা ক্বারাত্বা) (আবি)বি অক্ষক্রীড়া, কাম, কামকেলি, কেলি, নিত্যকর্ম, ভ্রমণ, পর্যটন, বপ্রক্রীড়া, বপ্রকেলি, বপ্রক্রিয়া, বাইচালি, journey (জার্নি) (ভাঅ)বি মৈথুন, সঙ্গম, sexual intercourse (সেক্সুয়াল ইন্টারকর্স), ‘আ.ﻭﻄﻰ’ (ওয়াত্বিউ), ‘আ.ﺠﻤﺎﻉ’ (জিমাউ), ‘আ.ﻟﻮﺍﻄﺔ’ (লাওয়াত্বাত) (আপ)বি ‘আ.ﻋﺑﺎﺪﺖ’ (ইবাদত), ‘আ.ﺻﻠﻮﺓ’ (সালাত), ‘ফা.ﺒﻧﺪﮔﻰ’ (বন্দেগি) (ইপ)বি prayer (প্রেয়ার), rape (র্যাপ), copulation (কোপুলেশন) (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘কাম’ পরিবারের ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’ ও রূপক সাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.সাধারণত বর-বধুর পাশা লুকিয়ে রেখে খুঁজে বের করা খেলাকে পাশাখেলা বলা হয় ২.রূপক সাহিত্যে পুরুষ ও নারীর যৌনমিলনকে সঙ্গম বা রূপকার্থে পাশাখেলা বলা হয় (ছনা)বি তাপন, পাশাখেলা ও বাইচালি (উপ)বি পূজা ও যজ্ঞ (রূ)বি উপাসনা (দেত)বি কাম {বাং.পাশা+ বাং.খেলা}
Earring [এয়াররিং] বি মাকড়ি, পাশা, দুল, ear drop, pendant, ‘قرط’ (ক্বারাত্ব), ‘حلقان’ (হুলক্বান) (প্র) ভারতবর্ষীয় রমণীদের কানে পরিহিত এক প্রকার অলংকার বিশেষ {ই}
Earring game [এয়াররিং গেম] বি পাশাখেলা, দুলখেলা, মাকড়ি খেলা, ear drop game, pendant game, ‘لعبة قرط’ (লায়াবা ক্বারাত্ব), ‘لعبة حلقان’ (লায়াবা হুলক্বান) (প্র) বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের নববর-নববধূর কানের মাকড়ি বা পাশা জলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ও বের করা এক প্রকার খেলা বিশেষ {ই}
‘قرط’ [ক্বারাত্বা] বি মাকড়ি, দুল, কর্ণাভরণ, কর্ণান্তর, কানের দুল, earring (এয়াররিং), pendant, pendent, ear drop, ‘حلقان’ (হুলক্বান) (প্র) ভারতবর্ষীয় রমণীদের কানে পরিহিত এক প্রকার অলংকার বিশেষ {আ}
‘لعبة قرط’ [লায়িবা ক্বারত্ব] বি পাশাখেলা, দুলখেলা, মাকড়ি খেলা, earring game (এয়াররিং গেম), ear drop game, pendant game, ‘لعبة حلقان’ (লায়াবা হুলক্বান) (প্র) বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের নববর-নববধূর কানের মাকড়ি বা পাশা জলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ও বের করা এক প্রকার খেলা বিশেষ {আ}
Coitus [কোয়িটাস] বি মৈথুন, রতীক্রিয়া,
স্ত্রীসঙ্গম, স্ত্রীসংসর্গ, রমণ, গমন, intercourse, copulation, congress,
love making/ enjoyment, sport, passage, departure, transit, going,
‘مضاجعة’ (মুদাজায়া), ‘جماع’ (জিমায়া), ‘إتصال جنسي’ (ইত্তেসাল জিন্সি) {ই}
‘مضاجعة’ [মুদাজায়া] বি মৈথুন, রতীক্রিয়া, স্ত্রীসঙ্গম, স্ত্রীসংসর্গ, যৌনক্রিয়া, যৌনসঙ্গম, যৌনমিলন, রমণ, গমন, Coitus (কোয়িটাস) (আবি)বি কামকেলি, প্রণয়ক্রীড়া, বপ্রক্রীড়া, amorous sports (এ্যমোরাস স্পোটর্স), ‘ﻤﺪﺍﻋﺒﺎﺖ’ (মুদায়াবাত) {আ}
পাশাখেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Earring game)
১. “আজ পাশাখেলবরে শ্যাম, ও শ্যামরে তোমার সনে, একেলা পেয়েছিরে শ্যাম এ নিধুবনে” (মরমীকবি দীনহীন, ওরফে আব্দুন নূর হোসেনী চিশতী (১৮৫৪- ১৯১৮), হবিগঞ্জ, সিলেট)।
২. “পাশাখেলতে ফুলবনে, নিত্য আসো নিধুবনে, লালবাতি জ্বালাইয়ারে” (বলন কাঁইজি, বলন তত্ত্বাবলী)।
৩. “হৃদয়ও ছিঁড়িয়ারে দিতাম হৃদয়েতে বাসা, আমি তোমায় দেখে সাধ মিটাইতামরে বন্ধু, খেলতাম প্রেমের পাশা বন্ধুরে।” (মরমী কবি কানাইলাল শীল)।
(Some highly important quotations of Earring game)
১. “আজ পাশাখেলবরে শ্যাম, ও শ্যামরে তোমার সনে, একেলা পেয়েছিরে শ্যাম এ নিধুবনে” (মরমীকবি দীনহীন, ওরফে আব্দুন নূর হোসেনী চিশতী (১৮৫৪- ১৯১৮), হবিগঞ্জ, সিলেট)।
২. “পাশাখেলতে ফুলবনে, নিত্য আসো নিধুবনে, লালবাতি জ্বালাইয়ারে” (বলন কাঁইজি, বলন তত্ত্বাবলী)।
৩. “হৃদয়ও ছিঁড়িয়ারে দিতাম হৃদয়েতে বাসা, আমি তোমায় দেখে সাধ মিটাইতামরে বন্ধু, খেলতাম প্রেমের পাশা বন্ধুরে।” (মরমী কবি কানাইলাল শীল)।
পাশাখেলার কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি
(Some ordinary quotations of Earring game)
১. “কী পাশাখেলবরে, আমার জুড়ি কে আছে, পাশাখেলা যাওয়া আসা, আমার খেলার দিন গেছে” (পবিত্র লালন- ৩০৮/১)।
২. “পরের সঙ্গে জন্মাবধি, পাশাখেলায় রইলাম বন্দি, ভবকূপে দিবারাত্রি, কত ঢেউ মোর উঠতেছে” (পবিত্র লালন- ৩০৮/৩)।
৩. “পাশাখেলা জানে যারা, তাদের করণ সারা, তারাই ধরে অধরা ধরা, তাদের কুমিরে না ধরে, না এঁটে ঘাটের চাবি, কতজন যাচ্ছে ডুবি, পা দিয়ে অমনি গড়াগড়ি, চুবানি খেয়ে মরে” (পবিত্র লালন- ২৫০/৩)।
৪. “লালন কয় ভাঙ্গরে খেলা, করিস না আর অবহেলা, মন হলি কামে ভোলা, পাশাখেলা ফেলে যা দেশে” (পবিত্র লালন- ৩০৮/৪)।
(Some ordinary quotations of Earring game)
১. “কী পাশাখেলবরে, আমার জুড়ি কে আছে, পাশাখেলা যাওয়া আসা, আমার খেলার দিন গেছে” (পবিত্র লালন- ৩০৮/১)।
২. “পরের সঙ্গে জন্মাবধি, পাশাখেলায় রইলাম বন্দি, ভবকূপে দিবারাত্রি, কত ঢেউ মোর উঠতেছে” (পবিত্র লালন- ৩০৮/৩)।
৩. “পাশাখেলা জানে যারা, তাদের করণ সারা, তারাই ধরে অধরা ধরা, তাদের কুমিরে না ধরে, না এঁটে ঘাটের চাবি, কতজন যাচ্ছে ডুবি, পা দিয়ে অমনি গড়াগড়ি, চুবানি খেয়ে মরে” (পবিত্র লালন- ২৫০/৩)।
৪. “লালন কয় ভাঙ্গরে খেলা, করিস না আর অবহেলা, মন হলি কামে ভোলা, পাশাখেলা ফেলে যা দেশে” (পবিত্র লালন- ৩০৮/৪)।
পাশাখেলার সংজ্ঞা (Definition of Earring game)
সাধারণত বর-বধুর পাশা লুকিয়ে রেখে খুঁজে বের করা খেলাকে পাশাখেলা বলে।
সাধারণত বর-বধুর পাশা লুকিয়ে রেখে খুঁজে বের করা খেলাকে পাশাখেলা বলে।
পাশাখেলার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
(Theosophical definition of Earring game)
রূপক সাহিত্যে পুরুষ ও নারীর যৌনমিলনকে সঙ্গম বা রূপকার্থে পাশাখেলা বলে।
(Theosophical definition of Earring game)
রূপক সাহিত্যে পুরুষ ও নারীর যৌনমিলনকে সঙ্গম বা রূপকার্থে পাশাখেলা বলে।
পাশাখেলার প্রকারভেদ (Classification of Earring game)
পাশাখেলা দুই প্রকার। ১.উপমান পাশাখেলা ও ২.উপমিত পাশাখেলা।
১. উপমান পাশাখেলা (Analogical Earring game)
সাধারণত বর-বধুর পাশা লুকিয়ে রেখে খুঁজে বের করা খেলাকে উপমান পাশাখেলা বলে।
২. উপমিত পাশাখেলা (Compared Earring game)
রূপক সাহিত্যে পুরুষ ও নারীর যৌনমিলনকে সঙ্গম বা উপমিত পাশাখেলা বলে।
পাশাখেলা দুই প্রকার। ১.উপমান পাশাখেলা ও ২.উপমিত পাশাখেলা।
১. উপমান পাশাখেলা (Analogical Earring game)
সাধারণত বর-বধুর পাশা লুকিয়ে রেখে খুঁজে বের করা খেলাকে উপমান পাশাখেলা বলে।
২. উপমিত পাশাখেলা (Compared Earring game)
রূপক সাহিত্যে পুরুষ ও নারীর যৌনমিলনকে সঙ্গম বা উপমিত পাশাখেলা বলে।
পাশাখেলার পরিচয় (Identity of Earring game)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘কাম’ পরিবারের অধীন একটি ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’ বিশেষ। এটি রূপক সাহিত্যের বহুল ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ ও ভাবার্থ জানা না থাকার কারণে সাধারণভাবে এটি পাঠক-পাঠিকাদের দৃষ্টিগোচর হয় না।
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘কাম’ পরিবারের অধীন একটি ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’ বিশেষ। এটি রূপক সাহিত্যের বহুল ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ ও ভাবার্থ জানা না থাকার কারণে সাধারণভাবে এটি পাঠক-পাঠিকাদের দৃষ্টিগোচর হয় না।
নববর ও নববধূর এক প্রকার খেলাকে (অঞ্চলভেদে) পাশাখেলা বলা হয়।
বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলের কথা ধরা যাক। এ অঞ্চলে নববধূ বাড়িতে নিয়ে আসার
পরের দিন দুপুরের কিছু পূর্বে বাড়ির উঠান বা পৈঠান অথবা পার্শ্ববর্তী কোন
গাছের নিচে ১২ ইঞ্চি হতে ১৮ ইঞ্চি গভীর গর্ত করে তা জল দ্বারা ভর্তি করা হয়
এবং তার মধ্যে একটি স্বর্ণ কিংবা রূপার আংটি ফেলে দিয়ে বর ও বধূকে তা
ঢুঁড়ে বের করতে বলা হয়। যে আগে পাবে সে আবার গর্তের মধ্যে আংটিটি লুকিয়ে
রাখবে অন্যজন তা আবার বের করবে। এভাবে বর তিনবার এবং বধূ তিনবার আংটি
লুকিয়ে রাখা ও ঢুঁড়ে বের করার সুযোগ পায়। গর্তের জল-কাদার মধ্যে লুকিয়ে
রাখা আংটি ঢুঁড়ে বের করতে না পারলে তার হার নিশ্চিত হয়ে যায়। রাজশাহীর
দুর্গাপুর অঞ্চলে এ খেলাকেই পাশাখেলা বলা হয়। অনেকেই মনে করে থাকেন যে
যেহেতু পাশাখেলা। এ জন্য রমণীদের কানের পাশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন খেলা হবে
অবশ্যই। প্রকৃত ব্যাপার হলো পাশাখেলা পাশা দ্বারা কৃত কোন খেলা নয়। এটি
মূলত আংটি লুকানো খেলা। খেলাটি পাশাদ্বারা না খেলে আংটি দ্বারা খেলার
অন্যতম কারণ হলো পাশার সাথে অনেক বুর, বালা ও হুক লাগানো থাকে- কাদার মধ্যে
পুঁতে রাখার সময় ঐগুলো হয়ত ভেগে যেতে পারে বা খসে পড়ে হারিয়ে যেতে পারে
কিন্তু আংটির সাথে তেমন কোন বুর, বালা ও হুক থাকে না। এ জন্য এর ভাঙ্গা
কিংবা হারানোর কিছু নেই। এ খেলাটির নাম পাশাখেলা হলেও এসব কারণে সম্ভবত
আদিকাল হতে এ খেলাটি পাশার পরিবর্তে আংটি দ্বারা খেলানো হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য পাশাখেলা পরিভাষাটি কখন হতে রূপক সাহিত্যে কাম অর্থে ব্যবহার
হওয়া আরম্ভ হয়েছে তা সঠিকভাবে বলা যায় না। তবে বর্তমানে অধিকাংশ মরমী
গীতিকার ও রূপক সাহিত্যিক এ পরিভাষাটিকে কেবল কাম অর্থেই ব্যবহার করে
থাকেন। শব্দটির পারিভাষিক অর্থ না জানার কারণেই অভিধানবেত্তারা কেউই তাঁদের
স্বস্ব অভিধানের মধ্যে এ পরিভাষাটি সংকলন করার কোন আগ্রহই প্রকাশ করেননি।
বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশকে শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক মতবাদের আখড়া বললেও অধিক
বলা হবে না। কারণ বাংলাদেশের মতো একটি ক্ষুদ্র দেশে এত অধিক শাস্ত্রীয় ও
পারম্পরিক মতবাদ রয়েছে যে যা পৃথিবীর অন্য কোন দেশেই দেখা যায় না। তবুও
অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো এ দেশে একটিও পারিভাষিক অভিধান নেই। শাস্ত্রীয় ও
পারম্পরিক পরিভাষার অভিধান নির্মাণ না করার কারণেই শাস্ত্রীয় মতবাদী
পণ্ডিত ও পারম্পরিক মনীষীগণ এখনো ভাষা ও সাহিত্যের সুগভীর অন্ধকার অরণ্যেই
পড়ে রয়েছেন। রূপক সাহিত্য রূপক পরিভাষাদির ব্যাপক চর্চা ও অনুশীলন ব্যতীত
তাদের এরূপ দৈন্যতা হতে উন্নয়ন ও উত্তরণের কোনই সম্ভাবনা নেই।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসূত্রঃ
আত্মতত্ম ভেদ (৪র্থ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
তথ্যসূত্রঃ
আত্মতত্ম ভেদ (৪র্থ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন