শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৪

মন্দা- তৃতীয় পর্ব

একজন মানুষের চারটি মূল সত্ত্বা- দেহ, আত্মা, মন ও জ্ঞান। দেহ নামক নগরের নগরকর্তা হল মন, মন চালিত করে আকারধারি মানব দেহকে, মনের রিপু, রুদ্র, মন্দা ও দশা সব মিলিয়ে এরকম ৩৭ টা সদস্য আছে। আমরা ধীরে ধীরে মানব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই স্বত্বাটির সদস্য গুলোকে জানবো।
মনের মন্দ স্বভাবগুলোকে মন্দা বলা হয়, রুপক সাহিত্যে মন্দার গুরুত্ব অত্যধিক, এই মন্দা স্বভাবগুলো মন থেকে দূর করা প্রতিটি মানুষের জন্য আবশ্যক। মন্দ স্বভাবগুলো দূর না করলে ক্রমান্বয়ে এগুলো মানুষকে পশুত্বের দুয়ারে উপনীত করে, নিচে মন্দাদির সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরা হল…
মন্দা
মন্দা (রূপ)বি মন্দ, হ্রাস, অবনতি, পন্য দ্রব্যের মূল্য হ্রাস (মবা) দুষ্টলোক, মন্দলোক বিণ পণ্যদ্রব্যের মূল্যের অবনতি।
মন্দার সংজ্ঞা
ক্রম নিম্নগমনে বাধ্যকারী বিষয়-বস্তুকেই মন্দা বলে। যেমন- হিংসা।
মন্দার প্রকারভেদ
মন্দা ১০ প্রকার। যথা- ১.অহংকার ২.হিংসা ৩. শত্রুতা ৪.রাগ ৫.কুৎসা ৬.লিপ্সা ৭.মিথ্যা ৮.কৃপণতা ৯.কলা ও ১০.আমিত্ব।
তৃতীয় পর্ব…
৩. শত্রুতা
শত্রুতা (রূপ)বি বৈরিতা, প্রতিকূলতা, শ্ত্রুর ন্যায় আচরণ।
শত্রুতার সংজ্ঞা
কারো সাথে মনেমনে বৈরীভাব পোষণ করাকে শত্রুতা বলে।
শত্রুতার প্রকারভেদ
শত্রুতা দুই প্রকার। যথা- ১.মৌনিক শত্রুতা ও ২.দৈহিক শত্রুতা।
১. মৌনিক শত্রুতা
কারো উন্নতি ও সম্পদাদি ধ্বংস হওয়ার জন্য মনেমনে কামনা করা বা অভিশম্পাত করাকে মৌনিক শত্রুতা বলে।
২. দৈহিক শত্রুতা
কারো উন্নতি ও সম্পদাদি ধ্বংস করার জন্য- ভাংচুর, ঔষধ প্রয়োগ, অগ্নি সংযোগ বা জল সংযোগ করাকে দৈহিক শত্রুতা বলে।
শত্রুতা উৎপত্তির কারণ
আকাঙ্ক্ষার অন্তরায় হতে মনে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। কেউ যদি কারো অবসম্ভাবি প্রাপ্য বিষয়-বস্তু হস্তগত হওয়ার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তবে তার সাথে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। যেমন- কোন ভূমি ক্রয় করার জন্য সব ব্যবস্থাদিসম্পন্ন করার পর অন্য কেউ এসে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য দিয়ে তা ক্রয় করে নেয় তবে তার সাথে মনেমনে শত্রুতার সৃষ্টি হয়।
শত্রুতার লক্ষণ
নিশ্চিত প্রাপ্য বিষয়-বস্তু হস্তগত হওয়ার অন্তরায় সৃষ্টিকারী ব্যক্তির সাথে চলাফেরা করতে বা মিলেমিশে থাকতে মনে না চাওয়া।
শত্রুতার অশান্তি তাড়ানোর উপায়
উভয় প্রকার শত্রুতাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ উভয় প্রকার শত্রুতা হতে বিরত থাকা সকলের জন্য একান্ত আবশ্যক কর্তব্য। ক্ষতি দর্শনে মনে শত্রুতার উদয় হোলে ধৈর্য ধারণ করে থাকা এবং যেসব ক্ষতি দর্শনে মনে শত্রুতার সৃষ্টি হয়েছে তা প্রকৃতির পরীক্ষা ধারণা করা এবং পরবর্তিকালে হয়ত এর চেয়ে আরো অধিক ভালো বিষয়-বস্তু পেয়ে যেতে পারি মনে এরূপ ধারণা করা। মনকে জ্ঞান দ্বারা এরূপ যুক্তি দিতে থাকলে অন্তর হতে ক্রমেক্রমে শত্রুতার অশান্তি বিতাড়িত হতে থাকে।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসুত্র- আত্মতত্ত্ব ভেদ- তৃতীয় খণ্ড (মন- জ্ঞান- আত্মা) – বলন কাঁইজি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন