৯৮/৬. সৃষ্টিকর্তা প্রসঙ্গঃ ‘মধু’ (প্রথম অংশ) (১৬
পর্বের ৬ষ্ঠ পর্ব বিশেষ) (আধ্যাত্মিকবিদ্যা, আত্মতত্ত্ব, আত্মদর্শন,
দেহতত্ত্ব, পরম্পরাতত্ত্ব, দিব্যজ্ঞান, স্বরূপদর্শন, নরত্বারোপ ও বলনদর্শন
টীকা)
মধু
Honey (হানি)/ ‘عسل’ (আসালা)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ব্যাপকপরিবারের অন্যতম একটি ‘উপমানপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘সৃষ্টিকর্তা’, রূপকপরিভাষা ‘কাঁই’, অন্যান্য উপমানপরিভাষা ‘ঘি, নীর, মধু, শস্য ও সূর্য’, চারিত্রিকপরিভাষা ‘অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর’। এ পরিভাষাটি রূপকসাহিত্যের ‘দুগ্ধ’, ‘শুক্র’, ‘সুধা’ ও ‘মধু’ এ ৪টি বৈক্তিক সদস্যেরই ব্যাপক পরিভাষারূপে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ জন্য বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিকমূলক উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।
Honey (হানি)/ ‘عسل’ (আসালা)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ব্যাপকপরিবারের অন্যতম একটি ‘উপমানপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘সৃষ্টিকর্তা’, রূপকপরিভাষা ‘কাঁই’, অন্যান্য উপমানপরিভাষা ‘ঘি, নীর, মধু, শস্য ও সূর্য’, চারিত্রিকপরিভাষা ‘অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর’। এ পরিভাষাটি রূপকসাহিত্যের ‘দুগ্ধ’, ‘শুক্র’, ‘সুধা’ ও ‘মধু’ এ ৪টি বৈক্তিক সদস্যেরই ব্যাপক পরিভাষারূপে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ জন্য বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিকমূলক উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।
১. মধু (রূপ)বি মউ, মৌ, সুধা, সুরা, মদ,
মকন্দর, মিষ্টদ্রব্য, ফুলের মিষ্ট রস, মৌমাছি ফুল হতে যে মিষ্টরস আহরণ করে
মৌচাকে সঞ্চয় করে রাখে, honey (হানি), ‘عسل’ (আসালা) বিণ মধুর মতো স্বাদযুক্ত (আবি)বি সৃষ্টিকর্তা, নির্মাতা, creator (ক্রিয়েটর), খালিক্ব (আ.ﺨﺎﻟﻖ), melanin (মিলেনিন), ‘ميلانين’ (মিলেনিন) (আভা)বি অনন্ত, ঈশ্বর, বিধাতা, স্বায়ম্ভু (বাদৈ)বি কালা, কৃষ্ণ, বিরিঞ্চি, ব্রহ্মা, শ্যাম (আদৈ)বি আল্লাহ (আ.ﺍﻠﻠﻪ), ইসা (আ.ﻋﻴﺴﻰٰ), মসিহ (আ.ﻤﺴﻴﺢ), শাম (আ.ﺷﺄﻢ), শামস (আ.ﺸﻤﺲ), শিশ (আ.ﺸﻴﺶ) (ইদৈ)বি Lord (লর্ড), maker (মেকার), designer (ডিজাইনার) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের ‘উপমানপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.মৌমাছি ফুল হতে যে মিষ্টরস আহরণ করে মৌচাকে সঞ্চয় করে রাখে তাকে মধু বলা হয় ২.রূপকসাহিত্যে কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে মধু বলা হয় (ছনা)বি আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর (চরি)বিণ অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ (উপ)বি ঘি, নীর, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য (রূ)বি কাঁই (দেত)বি সৃষ্টিকর্তা।
২ .মধু (রূপ)বি বসন্তকাল, চৈত্রমাস, মাধুর্য, মাধুরতা (প্র) পুরাণোক্ত মহাদৈত্য বিশেষ (মধুকৈটভ)- বিষ্ণু যাকে বধ করেছিলেন (ভাঅ)বি শিশ্ন, বাঁড়া, মেঢ়্র, হোল, penis (পেনিস), জকর (আ.ﺬﻜﺭ) (আঞ্চ)বি সোনা, পোতা, ধন (আবি)বি ১.কামদেব, নারদ, বলাই, বিম্বল, মদন, মন্মথ, মহাদেব, মাধব, রাবণ, শিব ২.লাঠি, হাত, পা, গাছ, রশি (আদৈ)বি আসা (আ.ﻋَﺼَﺎ), জাকারিয়া (আ.ﺯﻜﺭﻴﺎ), শিমার (আ.ﺸﻤﺭ), হাবিল (আ.ﺤﺎﺒﻞ), মারুত (আ.ﻤﺎﺭﻮﺕ) (ইদৈ)বি finger (ফিঙ্গার) (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘বলাই’ পরিবারের ‘ছদ্মনামপরিভাষা’ পরিভাষা ও রূপকসাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) নরজীবের শিশ্নকে বলাই বা রূপকার্থে ‘মধু’ বলা হয় (ছনা)বি কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, মরা ও শ্রীচরণ (চরি)বি অনস্থী, ইন্দ্র, কর্ণ, জগাই, জনক, দৈত্য ও শুক্রাচার্য (উপ)বি আঁচল, খুঁটি, গাছ, চরণ, পদ, বৈঠা, রশি, লাঠি ও হাত (রূ)বি বিম্বল (দেত)বি বলাই।
মধুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of honey)
১. “কোমলকোঠা কারে বলি, কোন্ মুক্বাম তার কোথা গলি, কোন্ সময় পড়ে ফুলি, মধু খায় অলিজনা” (পবিত্র লালন- ১০৬/২)।
২. “ভরানদী শূন্য করো- শূন্যনদী জলে ভরো, যা খুশি তা করো- কেহ নাই বাঁধা দিবার, তিনপাড়েতে বার্নিস করা- মধু সুধা জল ত্রিধারা, মধু খায় মদনচোরা- মধুমতি নামটি তার” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৬)।
৩. “মধুর দিলদরিয়ায় ডুবে করো ফকিরি, করো ফকিরি ছাড়ো ফিকিরি হবে আখিরি” (পবিত্র লালন- ৭২৮/১)।
৪. “মধুর দিলদরিয়ায় যেজন ডুবেছে, সে সব খবরের জবর হয়েছে” (পবিত্র লালন- ৭২৯/১)।
————————————————————-
মধুর কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি
(Some ordinary quotations of honey)
১. “ও ভাণ্ডে আছে কত মধু ভরা, পরম্পরার খান্দানে মিশ গা তোরা” (পবিত্র লালন- ২৫২/১)।
২. “করে কামসাগরে এ কামনা, দান করে মধু কুলবধূ, পেয়েছ কেলেসোনা” (পবিত্র লালন- ২৬৭/১)।
৩. “কারণ বারির মধ্যে সে ফুল, ভেসে বেড়ায় একূল ওকূল, শ্বেতবরণ এক ভ্রমর ব্যাকুল, সে ফুলের মধুর আশে” (পবিত্র লালন- ২০০/২)।
৪. “কুঞ্জবনে মধুর হাঁড়ি, পায়ের নিচে গড়াগড়ি, মধু খেয়ে উজাড় করি, শূন্যহাঁড়ি যায় ফেলে” (বলনতত্ত্ব, গীতিকার, বলন কাঁইজি)।
৫. “কোথা তার বৃক্ষ কোথা ডাল, তরঙ্গে ফুল ভাসছে চিরকাল, কখন এসে অলি- মধু খায় তুলি, লালন কয় চাইতে গেলে দেয় ধূল” (পবিত্র লালন- ৬০৭/৪)।
৬. “কোন্ রাগে সে মানুষ, রয় মহারসের ধনী, পদ্মে মধু চন্দ্রে সুধা, জোগায় বসে রাত্রদিনি” (পবিত্র লালন- ৩৬৭/১)।
৭. “জলের নিচে স্থলপদ্ম, তার নিচে কত মধু, কালোভ্রমর জানে মধুর মর্ম, অন্য কেউ জানে না” (পবিত্র লালন- ৭২০/৩)।
৮. “পূর্ণ করে ষোলকলা, ভেদ করে সপ্ততলা, তার ওপরে বসে কালা মধু খায়, ষটচক্র পর- আদিবিধান তার, সেজন মৃণাল ধরে উজান ধায়” (পবিত্র লালন- ৯৯৬/৩)।
৯. “ফলে যার অমৃতসুধা, ফুলে মধু প্রফুল্লতা, পান করলে হরে ক্ষুধা, দারিদ্রতা দূরে যায়” (পবিত্র লালন- ৫৪৫/৩)।
১০. “ফুলে মধু প্রফুল্লতা, ফলে তার অমৃতসুধা, এমন ফুল দিন দুনিয়ায় পয়দা, জানলে দুর্গতি যায়” (পবিত্র লালন- ২৬০/২)।
১১. “ফুলের নামটি নীল লাল জবা, ও তার ফুলে মধু ফলে সুধা, সে ফুলে হয় সাধুসেবা, ও কৃষ্ণ রাধার অলি” (পবিত্র লালন- ৪৫৪/২)।
১২. “ফুলের নাম নীল লাল জবা, ফুলে মধু ফলে সুধা, বড় কঠিন তার মর্ম বুঝা, সে ফুল তুলতে মদনাবেটা, সদায় ছাড়ে হাই” (পবিত্র লালন- ৪৫৯/২)।
১৩. “বলব কিসে বৃক্ষের কথা, ফুলে মধু ফলে সুধা, এমন বৃক্ষ মানে যেবা, তার বলিহারি জয়” (পবিত্র লালন- ৮৯৭/৩)।
১৪. “মহাশূন্যে কাঁই ব্রহ্মাকারা, বারমাসই বয় ত্রিধারা, মিঠা মধু খাইল যারা, হলো ব্রজধামে ব্রহ্মচারী” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫০)।
১৫. “মূল ছাড়া এক আজগুবি ফুল, ফুটেছে সে ভবনদীর কূল, চিরদিন এক রসিক বুলবুল, সে ফুলের মধু খায়” (পবিত্র লালন- ১৭৯/৩)।
১৬. “শুদ্ধ প্রেম সাধিলে সাধু, প্রেমকুঠিতে লাগে যাদু, তের মাস খায় সে মধু, ভাঙ্গিয়া সাঁই নিগমকারা” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৯)।
১৭. “সকাল বিকাল জোয়ার ভাটা ত্রিধারাসাগরে, রক্তিম সাদা পাড়ি দিয়া যাইও কালা ধারে, অমৃতসুধা দুগ্ধ মধু যত পারো খাইতে যাদু, বলন কয় সাবধানে সাধু প্রাণ ভরিয়া খাও” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫২)।
১৮. “সকাল সাঁঝে জোয়ার ভাটা, ধারা সুধা মধু লবণকটা, সাধনে নাই কোন ঘটা, ত্রিধারা জল তল ওপরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০৪)।
১৯. “সহস্রী ভ্রমর খাইরে মধু ফাল্গুনে বনে বনে, ফুলের মধু যায় শুকাইয়া সুজন বিহনে, বলন কয় ফুল শুকাইলে, ঝরিয়া যায় বাতাসে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫১)।
২০. “সাধন হলে একনিষ্ঠ, সারিবে আঠারোকুষ্ঠ, আপনা আপন হবে দৃষ্ট, প্রেমনদের মধুজলে” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২)।
২১. “সাধু যারা দেয় না ধরা, উজান ভাটি নির্ণয় করে (ভোলামন মনরে), দ্বি হাওয়ায়, নিরীক্ষে যায়, মধু খায় মধুপুরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)।
২২. “সেই পঞ্চরস অমৃতসুধার বাণিজ্য মেলায়, দুগ্ধ রতী সুধা মধু কত যে ভেঁসে বেড়ায়, বলন কাঁইজি ভেবে বলে, ত্রিবেণীর দরজা খুলে, পঞ্চরস নিও তুলে জনমভরি (ও ভোলা মন)” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪১)।
(Some highly important quotations of honey)
১. “কোমলকোঠা কারে বলি, কোন্ মুক্বাম তার কোথা গলি, কোন্ সময় পড়ে ফুলি, মধু খায় অলিজনা” (পবিত্র লালন- ১০৬/২)।
২. “ভরানদী শূন্য করো- শূন্যনদী জলে ভরো, যা খুশি তা করো- কেহ নাই বাঁধা দিবার, তিনপাড়েতে বার্নিস করা- মধু সুধা জল ত্রিধারা, মধু খায় মদনচোরা- মধুমতি নামটি তার” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৬)।
৩. “মধুর দিলদরিয়ায় ডুবে করো ফকিরি, করো ফকিরি ছাড়ো ফিকিরি হবে আখিরি” (পবিত্র লালন- ৭২৮/১)।
৪. “মধুর দিলদরিয়ায় যেজন ডুবেছে, সে সব খবরের জবর হয়েছে” (পবিত্র লালন- ৭২৯/১)।
————————————————————-
মধুর কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি
(Some ordinary quotations of honey)
১. “ও ভাণ্ডে আছে কত মধু ভরা, পরম্পরার খান্দানে মিশ গা তোরা” (পবিত্র লালন- ২৫২/১)।
২. “করে কামসাগরে এ কামনা, দান করে মধু কুলবধূ, পেয়েছ কেলেসোনা” (পবিত্র লালন- ২৬৭/১)।
৩. “কারণ বারির মধ্যে সে ফুল, ভেসে বেড়ায় একূল ওকূল, শ্বেতবরণ এক ভ্রমর ব্যাকুল, সে ফুলের মধুর আশে” (পবিত্র লালন- ২০০/২)।
৪. “কুঞ্জবনে মধুর হাঁড়ি, পায়ের নিচে গড়াগড়ি, মধু খেয়ে উজাড় করি, শূন্যহাঁড়ি যায় ফেলে” (বলনতত্ত্ব, গীতিকার, বলন কাঁইজি)।
৫. “কোথা তার বৃক্ষ কোথা ডাল, তরঙ্গে ফুল ভাসছে চিরকাল, কখন এসে অলি- মধু খায় তুলি, লালন কয় চাইতে গেলে দেয় ধূল” (পবিত্র লালন- ৬০৭/৪)।
৬. “কোন্ রাগে সে মানুষ, রয় মহারসের ধনী, পদ্মে মধু চন্দ্রে সুধা, জোগায় বসে রাত্রদিনি” (পবিত্র লালন- ৩৬৭/১)।
৭. “জলের নিচে স্থলপদ্ম, তার নিচে কত মধু, কালোভ্রমর জানে মধুর মর্ম, অন্য কেউ জানে না” (পবিত্র লালন- ৭২০/৩)।
৮. “পূর্ণ করে ষোলকলা, ভেদ করে সপ্ততলা, তার ওপরে বসে কালা মধু খায়, ষটচক্র পর- আদিবিধান তার, সেজন মৃণাল ধরে উজান ধায়” (পবিত্র লালন- ৯৯৬/৩)।
৯. “ফলে যার অমৃতসুধা, ফুলে মধু প্রফুল্লতা, পান করলে হরে ক্ষুধা, দারিদ্রতা দূরে যায়” (পবিত্র লালন- ৫৪৫/৩)।
১০. “ফুলে মধু প্রফুল্লতা, ফলে তার অমৃতসুধা, এমন ফুল দিন দুনিয়ায় পয়দা, জানলে দুর্গতি যায়” (পবিত্র লালন- ২৬০/২)।
১১. “ফুলের নামটি নীল লাল জবা, ও তার ফুলে মধু ফলে সুধা, সে ফুলে হয় সাধুসেবা, ও কৃষ্ণ রাধার অলি” (পবিত্র লালন- ৪৫৪/২)।
১২. “ফুলের নাম নীল লাল জবা, ফুলে মধু ফলে সুধা, বড় কঠিন তার মর্ম বুঝা, সে ফুল তুলতে মদনাবেটা, সদায় ছাড়ে হাই” (পবিত্র লালন- ৪৫৯/২)।
১৩. “বলব কিসে বৃক্ষের কথা, ফুলে মধু ফলে সুধা, এমন বৃক্ষ মানে যেবা, তার বলিহারি জয়” (পবিত্র লালন- ৮৯৭/৩)।
১৪. “মহাশূন্যে কাঁই ব্রহ্মাকারা, বারমাসই বয় ত্রিধারা, মিঠা মধু খাইল যারা, হলো ব্রজধামে ব্রহ্মচারী” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫০)।
১৫. “মূল ছাড়া এক আজগুবি ফুল, ফুটেছে সে ভবনদীর কূল, চিরদিন এক রসিক বুলবুল, সে ফুলের মধু খায়” (পবিত্র লালন- ১৭৯/৩)।
১৬. “শুদ্ধ প্রেম সাধিলে সাধু, প্রেমকুঠিতে লাগে যাদু, তের মাস খায় সে মধু, ভাঙ্গিয়া সাঁই নিগমকারা” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৯)।
১৭. “সকাল বিকাল জোয়ার ভাটা ত্রিধারাসাগরে, রক্তিম সাদা পাড়ি দিয়া যাইও কালা ধারে, অমৃতসুধা দুগ্ধ মধু যত পারো খাইতে যাদু, বলন কয় সাবধানে সাধু প্রাণ ভরিয়া খাও” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫২)।
১৮. “সকাল সাঁঝে জোয়ার ভাটা, ধারা সুধা মধু লবণকটা, সাধনে নাই কোন ঘটা, ত্রিধারা জল তল ওপরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০৪)।
১৯. “সহস্রী ভ্রমর খাইরে মধু ফাল্গুনে বনে বনে, ফুলের মধু যায় শুকাইয়া সুজন বিহনে, বলন কয় ফুল শুকাইলে, ঝরিয়া যায় বাতাসে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫১)।
২০. “সাধন হলে একনিষ্ঠ, সারিবে আঠারোকুষ্ঠ, আপনা আপন হবে দৃষ্ট, প্রেমনদের মধুজলে” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২)।
২১. “সাধু যারা দেয় না ধরা, উজান ভাটি নির্ণয় করে (ভোলামন মনরে), দ্বি হাওয়ায়, নিরীক্ষে যায়, মধু খায় মধুপুরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)।
২২. “সেই পঞ্চরস অমৃতসুধার বাণিজ্য মেলায়, দুগ্ধ রতী সুধা মধু কত যে ভেঁসে বেড়ায়, বলন কাঁইজি ভেবে বলে, ত্রিবেণীর দরজা খুলে, পঞ্চরস নিও তুলে জনমভরি (ও ভোলা মন)” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪১)।
শ্রুতিমাধুরতা অর্থে ‘মধু’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology honey sense for melodious)
১. “অকাজে দিন হলো নিগম, কখন নিবা সে মধুর নাম, বাজার ভাঙ্গলে, পেয়েছিলে মন- দুর্লভ জনম, লালন কয় এ জনম যায় বিফলে” (পবিত্র লালন- ৪৭৯/২)।
২. “আগে তো জানি না কোকিল বন্ধু নিঠুরিয়া, মধুর মধুর কথা কইয়া মন নিছে কাড়িয়া, ফাঁকি দিয়া পাষাণ বন্ধু, আমায় গেছে ছাড়ি” (বলনতত্ত্ব, গীতিকার, বলন কাঁইজি)।
৩. “আপনদেশের মধুরবাণী, গুরু আমায় শোনাও না, দেশবাসী কয় উল্টাকথা, সোজা করে শোনায় না” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫)।
৪. “একদিন চরণ থেমেছিল, তাইত মন্দাকিনী হলো, পাপহরা সুশীতল, সে মধুর চরণখানি” (পবিত্র লালন- ৪৫০/২)।
৫. “করে শত জ্ঞান বিতরণ, নিজেরে কয় অবোধ লালন, পড়ে কর সে জ্ঞান অর্জন, সাঁই লালনের মধুরবাণী” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬১)।
৬. “কালো পাঁঠার মাংস ভালো, দুধ ভালো গাই হলে কালো, আবার দেখ কালো কোকিল, মধুর তানে কুহু কুহু ডাকতেছে” (পবিত্র লালন- ২৯১/৩)।
৭. “চাঁদ মুখেতে মধুর হাসি, আমি ঐরূপ ভালোবাসি, লোকে করে দ্বেষাদ্বেষি, গৌর বলে যাই চলে” (পবিত্র লালন- ৬৯৯/৪)।
৮. “প্রেমের মধু জানে সুজন, অনুরাগী করে ঊর্ধ্বদেশে গমন, লালন বলে অজ্ঞানিরা, নিগূঢ়তত্ত্ব জানে না” (পবিত্র লালন- ৬৪৯/৪)।
৯. “বলো গুরুর নাম বলো, ঐ নামে সুধামাখা, গুরুর নাম বড় মধুরসে মাখা” (পবিত্র লালন- ৬৮১/১)।
১০. “শুনেছি তার মধুরবচন, ভঙ্গি বাঁকা দু’টি নয়ন, মন নিছে হরে, লালন কয় বল সজনী, অভাগিনী আমি কী পাব তারে” (পবিত্র লালন- ১৩৩/২)।
১১. “সখ্য শান্ত দাস্য প্রেমে, বাৎসল্য আর মধুর প্রেমে, পঞ্চতত্ত্ব পঞ্চপ্রেমে, বচ্ছে শতধারা, ঘটা হয়ে মাতোয়ারা, পঞ্চানন খায় ধুতরা, মুখে বলে রাম হরিরাম, ঐ প্রেমের প্রেমিক যারা” (পবিত্র লালন- ৬৫৮/২)।
১২. “সে প্রেমের ভাব বুঝা ভার, মধুর আলাপে রয় বরাবর, প্রেমে মগ্ন হলে- হৃদয় গলে, লালন বলে দূরে যায় অন্ধকার” (পবিত্র লালন- ৯৬৭/৪)।
(Using the terminology honey sense for melodious)
১. “অকাজে দিন হলো নিগম, কখন নিবা সে মধুর নাম, বাজার ভাঙ্গলে, পেয়েছিলে মন- দুর্লভ জনম, লালন কয় এ জনম যায় বিফলে” (পবিত্র লালন- ৪৭৯/২)।
২. “আগে তো জানি না কোকিল বন্ধু নিঠুরিয়া, মধুর মধুর কথা কইয়া মন নিছে কাড়িয়া, ফাঁকি দিয়া পাষাণ বন্ধু, আমায় গেছে ছাড়ি” (বলনতত্ত্ব, গীতিকার, বলন কাঁইজি)।
৩. “আপনদেশের মধুরবাণী, গুরু আমায় শোনাও না, দেশবাসী কয় উল্টাকথা, সোজা করে শোনায় না” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫)।
৪. “একদিন চরণ থেমেছিল, তাইত মন্দাকিনী হলো, পাপহরা সুশীতল, সে মধুর চরণখানি” (পবিত্র লালন- ৪৫০/২)।
৫. “করে শত জ্ঞান বিতরণ, নিজেরে কয় অবোধ লালন, পড়ে কর সে জ্ঞান অর্জন, সাঁই লালনের মধুরবাণী” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬১)।
৬. “কালো পাঁঠার মাংস ভালো, দুধ ভালো গাই হলে কালো, আবার দেখ কালো কোকিল, মধুর তানে কুহু কুহু ডাকতেছে” (পবিত্র লালন- ২৯১/৩)।
৭. “চাঁদ মুখেতে মধুর হাসি, আমি ঐরূপ ভালোবাসি, লোকে করে দ্বেষাদ্বেষি, গৌর বলে যাই চলে” (পবিত্র লালন- ৬৯৯/৪)।
৮. “প্রেমের মধু জানে সুজন, অনুরাগী করে ঊর্ধ্বদেশে গমন, লালন বলে অজ্ঞানিরা, নিগূঢ়তত্ত্ব জানে না” (পবিত্র লালন- ৬৪৯/৪)।
৯. “বলো গুরুর নাম বলো, ঐ নামে সুধামাখা, গুরুর নাম বড় মধুরসে মাখা” (পবিত্র লালন- ৬৮১/১)।
১০. “শুনেছি তার মধুরবচন, ভঙ্গি বাঁকা দু’টি নয়ন, মন নিছে হরে, লালন কয় বল সজনী, অভাগিনী আমি কী পাব তারে” (পবিত্র লালন- ১৩৩/২)।
১১. “সখ্য শান্ত দাস্য প্রেমে, বাৎসল্য আর মধুর প্রেমে, পঞ্চতত্ত্ব পঞ্চপ্রেমে, বচ্ছে শতধারা, ঘটা হয়ে মাতোয়ারা, পঞ্চানন খায় ধুতরা, মুখে বলে রাম হরিরাম, ঐ প্রেমের প্রেমিক যারা” (পবিত্র লালন- ৬৫৮/২)।
১২. “সে প্রেমের ভাব বুঝা ভার, মধুর আলাপে রয় বরাবর, প্রেমে মগ্ন হলে- হৃদয় গলে, লালন বলে দূরে যায় অন্ধকার” (পবিত্র লালন- ৯৬৭/৪)।
আনন্দময় নিশি অর্থে ‘মধু’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology honey sense for joyful night)
১. “এমন মধুর নিশিতে বান্ধব কেন এলি না, জেগে থাকি তোর আশাতে, নিশি কাটে না” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৩)।
২. “জাগ জাগ ও প্রাণনাথ দেখ পূর্ণিমা নিশে, মধুরনিশি যায় বইয়া যায় ঘুমে আলসে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫১)।
৩. “ভাবুক দেখে করে লীলা নিগমে গোপনে, দুইজনে হয় মাখামাখি পাইলে নিধুবনে, বলন কাঁইজি ভাবিয়া কয়, ঐ প্রেমে হয় মধুভাব” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫০)।
৪. “ভক্তিতে করলে গো বরণ- পেতে দাও রাঙ্গাচরণ, থাকে না জন্ম-মরণ- মধুময় মিলন ভুবনে, এসমে আজম গোপনে- দাও প্রিয়জন প্রিয়জনে” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭১)।
৫. “মধুরনিশি হলো বুঝি বিরহের রজনী, বলনকে করলি বন্ধু উদাসী বিহারিণী, কার বুকে ঘুমাও না জানি, তোর ছলনা বুঝলাম না” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৩)।
(Using the terminology honey sense for joyful night)
১. “এমন মধুর নিশিতে বান্ধব কেন এলি না, জেগে থাকি তোর আশাতে, নিশি কাটে না” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৩)।
২. “জাগ জাগ ও প্রাণনাথ দেখ পূর্ণিমা নিশে, মধুরনিশি যায় বইয়া যায় ঘুমে আলসে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫১)।
৩. “ভাবুক দেখে করে লীলা নিগমে গোপনে, দুইজনে হয় মাখামাখি পাইলে নিধুবনে, বলন কাঁইজি ভাবিয়া কয়, ঐ প্রেমে হয় মধুভাব” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫০)।
৪. “ভক্তিতে করলে গো বরণ- পেতে দাও রাঙ্গাচরণ, থাকে না জন্ম-মরণ- মধুময় মিলন ভুবনে, এসমে আজম গোপনে- দাও প্রিয়জন প্রিয়জনে” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭১)।
৫. “মধুরনিশি হলো বুঝি বিরহের রজনী, বলনকে করলি বন্ধু উদাসী বিহারিণী, কার বুকে ঘুমাও না জানি, তোর ছলনা বুঝলাম না” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৩)।
জরায়ু অর্থে ‘মধু’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology honey sense for uterus)
১. “কালা মধুপুর বিজনে বসি, রোজ বাজায় বিষের বাঁশি, লীলার লোভে মাসে আসি, প্রেম জাগায় রাধার মনে” (বলনতত্ত্ব, গীতিকার, বলন কাঁইজি)।
২. “গুরুচাঁদ হলে কা-ারী, উজান বেয়ে যায় সে তরী, মরণের ভয় না করি, বাস করে সে মধুপুরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ২)।
৩. “ডাকতে ডাকতে রাগ ধরবে, হৃদকমল বিকশিত হবে, লালন বলে সে কমলে হবে, মধুরচাক” (পবিত্র লালন- ৯৭৩/৪)।
৪. “বন্ধুর বাড়ি কল্যাণপুরে, বাস করে মধুপুরে, একদিন দেখলাম নারে, সদায় থাকি তার আশে” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৪)।
৫. “যুগলচাঁদ উদয় হয়, দ্বিদলপদ্মে রয়, মধুপুর কী মথুরায়, বলন শুধু খায় তলানী” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৯)।
৬. “সাঁই মণিপুরে চলে ফিরে, মধুপুরে বিহার করে, যারে খুশি তারে মারে, বাঁধা দিবার কেহ নাই” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৭)।
(Using the terminology honey sense for uterus)
১. “কালা মধুপুর বিজনে বসি, রোজ বাজায় বিষের বাঁশি, লীলার লোভে মাসে আসি, প্রেম জাগায় রাধার মনে” (বলনতত্ত্ব, গীতিকার, বলন কাঁইজি)।
২. “গুরুচাঁদ হলে কা-ারী, উজান বেয়ে যায় সে তরী, মরণের ভয় না করি, বাস করে সে মধুপুরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ২)।
৩. “ডাকতে ডাকতে রাগ ধরবে, হৃদকমল বিকশিত হবে, লালন বলে সে কমলে হবে, মধুরচাক” (পবিত্র লালন- ৯৭৩/৪)।
৪. “বন্ধুর বাড়ি কল্যাণপুরে, বাস করে মধুপুরে, একদিন দেখলাম নারে, সদায় থাকি তার আশে” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৪)।
৫. “যুগলচাঁদ উদয় হয়, দ্বিদলপদ্মে রয়, মধুপুর কী মথুরায়, বলন শুধু খায় তলানী” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৯)।
৬. “সাঁই মণিপুরে চলে ফিরে, মধুপুরে বিহার করে, যারে খুশি তারে মারে, বাঁধা দিবার কেহ নাই” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৭)।
কাঁইজি অর্থে ‘মধু’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology honey sense for Lordship)
১. “বেতালা বাউল বাতাসে, পাতালগামী হয় নিমিশে, কেমনে যাই বন্ধুর দেশে, কেমনে হবো মধুকর” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩১)।
২. “শুম্ভবিম্ব নাই যে ফুলে, সেথায় মধুকর কেমনে খেলে, পড় সহজ প্রেমস্কুলে, জ্ঞানের উদয় হলে যাবে ভুল” (পবিত্র লালন- ২০৬/৩)।
(Using the terminology honey sense for Lordship)
১. “বেতালা বাউল বাতাসে, পাতালগামী হয় নিমিশে, কেমনে যাই বন্ধুর দেশে, কেমনে হবো মধুকর” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩১)।
২. “শুম্ভবিম্ব নাই যে ফুলে, সেথায় মধুকর কেমনে খেলে, পড় সহজ প্রেমস্কুলে, জ্ঞানের উদয় হলে যাবে ভুল” (পবিত্র লালন- ২০৬/৩)।
মধুর ওপর একটি পূর্ণ বলন
(A full Balon on the honey)
“কোন দিনেতে জোয়ার আসে
ঐ দিনের আশে থাকরে বসে।
(A full Balon on the honey)
“কোন দিনেতে জোয়ার আসে
ঐ দিনের আশে থাকরে বসে।
গাঙ্গে আসে মধু জোয়ার,
দুই যোগে দুকূল ভাসে তার,
প্রাতঃ সন্ধ্যা করে বিহার,
মধু খা মধুকর সেজে।
দুই যোগে দুকূল ভাসে তার,
প্রাতঃ সন্ধ্যা করে বিহার,
মধু খা মধুকর সেজে।
ত্রিবেণীর কোন্ ঘাটে মধু,
সে ভেদ জানে নিষ্ঠাসাধু,
সাধুর নিকট জেনে যাদু,
মধু খারে সহস্রমাসে।
সে ভেদ জানে নিষ্ঠাসাধু,
সাধুর নিকট জেনে যাদু,
মধু খারে সহস্রমাসে।
শুকনাগাঙ্গে জোয়ারভাটা,
ত্রিমোহনা পিছলঘাটা,
বলন কয় মাথাকাটা,
যাসনে মধু খেতে এসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৬)।
ত্রিমোহনা পিছলঘাটা,
বলন কয় মাথাকাটা,
যাসনে মধু খেতে এসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৬)।
মধুর সংজ্ঞা (Definition of honey)
মৌমাছি ফুল হতে যে মিষ্টরস আহরণ করে মৌচাকে সঞ্চয় করে রাখে তাকে মধু বলা হয়।
মৌমাছি ফুল হতে যে মিষ্টরস আহরণ করে মৌচাকে সঞ্চয় করে রাখে তাকে মধু বলা হয়।
মধুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of honey)
রূপকসাহিত্যে কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে মধু বলে।
রূপকসাহিত্যে কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে মধু বলে।
মধুর প্রকারভেদ (Classification of honey)
মধু দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান মধু ও ২.উপমিত মধু।
১. উপমান মধু (Analogical honey)
মৌমাছি ফুল হতে যে মিষ্টরস আহরণ করে মৌচাকে সঞ্চয় করে রাখে তাকে উপমান মধু বলে।
২. উপমিত মধু (Compared honey)
রূপকসাহিত্যে কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে উপমিত মধু বলে।
মধু দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান মধু ও ২.উপমিত মধু।
১. উপমান মধু (Analogical honey)
মৌমাছি ফুল হতে যে মিষ্টরস আহরণ করে মৌচাকে সঞ্চয় করে রাখে তাকে উপমান মধু বলে।
২. উপমিত মধু (Compared honey)
রূপকসাহিত্যে কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে উপমিত মধু বলে।
মধুর পরিচয় (Identity of honey)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের অধীন একটি ‘উপমানপরিভাষা’ বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক গ্রন্থ-গ্রন্থিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। মধুরসের বর্ণনা ও বিবরণ প্রায় সুধারসের মতই। তবে কিছুকিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন- মধুরস আহরণ করতে হয় অর্যমা প্রহরে। এটি আহরণ করতে প্রায় ১৫০০ শ্বাস বা ৬৩ মিনিট সময়ের প্রয়োজন হয়। এটি দেখতে কালো ও স্বাদে মধুবৎ মিষ্ট হয়ে থাকে। নিচে সুধা ও মধুর ব্যবহারিক পার্থক্যাদি তুলে ধরা হলো।
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের অধীন একটি ‘উপমানপরিভাষা’ বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক গ্রন্থ-গ্রন্থিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। মধুরসের বর্ণনা ও বিবরণ প্রায় সুধারসের মতই। তবে কিছুকিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন- মধুরস আহরণ করতে হয় অর্যমা প্রহরে। এটি আহরণ করতে প্রায় ১৫০০ শ্বাস বা ৬৩ মিনিট সময়ের প্রয়োজন হয়। এটি দেখতে কালো ও স্বাদে মধুবৎ মিষ্ট হয়ে থাকে। নিচে সুধা ও মধুর ব্যবহারিক পার্থক্যাদি তুলে ধরা হলো।
সুধা ও মধুর পার্থক্য
(Difference between nectar and honey)
১. মানবদেহ হতে আহরণকৃত ডাবের জলবৎ সাদা ও সামান্য মিষ্ট মানবজলকে সুধা বলে।
১. মানবদেহ হতে আহরণকৃত, কালো বর্ণের ও মধুবৎ মিষ্ট মানবজলকে মধু বলে।
(Difference between nectar and honey)
১. মানবদেহ হতে আহরণকৃত ডাবের জলবৎ সাদা ও সামান্য মিষ্ট মানবজলকে সুধা বলে।
১. মানবদেহ হতে আহরণকৃত, কালো বর্ণের ও মধুবৎ মিষ্ট মানবজলকে মধু বলে।
২. সুধাকে রূপকসাহিত্যে রূপকভাবে সাঁই বা পালনকর্তা বলা হয়।
২. মধুকে রূপকসাহিত্যে রূপকভাবে কাঁই বা সৃষ্টিকর্তা বলা হয়।
২. মধুকে রূপকসাহিত্যে রূপকভাবে কাঁই বা সৃষ্টিকর্তা বলা হয়।
৩. সুধা আহরণ করতে হয় ঊষা প্রহরে।
৩. মধু আহরণ করতে হয় অর্যমা প্রহরে।
৩. মধু আহরণ করতে হয় অর্যমা প্রহরে।
৪. সুধা আহরণ করতে সময় লাগে ১০০০ শ্বাস বা ৪২ মিনিট।
৪. মধু আহরণ করতে সময় লাগে ১৫০০ শ্বাস বা ৬৩ মিনিট।
৪. মধু আহরণ করতে সময় লাগে ১৫০০ শ্বাস বা ৬৩ মিনিট।
৫. সুধার পরিমাণ হয় এক পোয়া হতে প্রায় এক সের পর্যন্ত।
৫. মধুর পরিমাণ হয় আধা পোয়া হতে এক পোয়া পর্যন্ত।
৫. মধুর পরিমাণ হয় আধা পোয়া হতে এক পোয়া পর্যন্ত।
৬. সুধার বর্ণ কচি ডাবের জলবৎ সাদা।
৬. মধুর বর্ণ পাকাজামের রসবৎ কালো।
৬. মধুর বর্ণ পাকাজামের রসবৎ কালো।
৭. সুধা দর্শনের দ্বারা সাধক- সাঁইজি ও বৈষ্ণব উপাধিতে ভূষিত হন।
৭. মধু দর্শনের দ্বারা সাধক- কাঁইজি ও ব্রহ্মচারী উপাধিতে ভূষিত হন।
৭. মধু দর্শনের দ্বারা সাধক- কাঁইজি ও ব্রহ্মচারী উপাধিতে ভূষিত হন।
৮. এটি প্রায় রমণী হতেই আহরণ করা যায়।
৮. এটি পদ্মিনিরমণী ব্যতীত আহরণ করা যায় না।
৮. এটি পদ্মিনিরমণী ব্যতীত আহরণ করা যায় না।
৯. এর অবতরণকাল পুরাণীদের নিকট কোজাগর ও কুরানীদের নিকট শবেবরাত (ﺸﺑﻰ ﺑﺭﺍﺀﺓ) নামে পরিচিত।
৯. এর অবতরণকাল পুরাণীদের নিকট ব্রহ্মনিশি ও কুরানীদের নিকট শবেক্বদর (ﺸﺑﻰ ﻘﺪﺭ) নামে পরিচিত।
৯. এর অবতরণকাল পুরাণীদের নিকট ব্রহ্মনিশি ও কুরানীদের নিকট শবেক্বদর (ﺸﺑﻰ ﻘﺪﺭ) নামে পরিচিত।
১০.এর জৈবিক গুরুত্ব অপেক্ষাকৃত স্বল্প।
১০.এর জৈবিক গুরুত্ব অপেক্ষাকৃত অধিক।
১০.এর জৈবিক গুরুত্ব অপেক্ষাকৃত অধিক।
এ পার্থক্যাদি না জেনে ও না বুঝে অনেক খুষ্কমুষ্কজ্ঞানী গুরু-গোঁসাই
সুধা ও মধুকে প্রায় একই অর্থে ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া বর্তমানে প্রায়
আত্মদর্শনের চর্চা, অনুশীলন ও অধ্যয়ন বন্ধ হয়ে যাওয়াই এ শিল্পে ইতোমধ্যেই
অনেক ভাটা পড়েছে। কোটি কোটি সাধু মহতের মধ্যেও দুয়েকজন আত্মতাত্ত্বিক সাধক
বের করা অত্যন্ত দুষ্কর। তারপরও বাংভারতের শাস্ত্রীয়প্রবণ বাঙালিরা এখনো
অনেক গুরু গোঁসাইয়ের নিকট দীক্ষা নিয়েই যাচ্ছেন। এ সুযোগে রীতিমত ব্যবসা
করে যাচ্ছে অসৎ মতবাদ ব্যবসায়ীরা।
পরিশেষে আরো বলতে হয় যে শাস্ত্রীয় পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক,
অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা রূপকসাহিত্যে বর্ণিত ‘মধু’ পরিভাষাটি দ্বারা কেবল
মৌমাছি কর্তৃক সঞ্চিত মধুকে বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। তারা কখন চিন্তাও করেন
না যে, রূপকসাহিত্যে বর্ণিত ‘মধু’ দ্বারা এক প্রকার মানবজলও বুঝায়। এরূপ
ক্ষেত্রে রূপকসাহিত্যে বর্ণিত ‘মধু’ হলো উপমান এবং মানবজল হলো উপমিত।
শাস্ত্রীয়, সাম্প্রদায়িক ও মতবাদীদের গোঁড়ামি, মতবাদান্ধতা ও নির্বুদ্ধতার
কারণে তারা চিরদিনের জন্যই প্রকৃত মধু হতে বঞ্চিত। এ কারণেই তারা
রূপকসাহিত্যে বর্ণিত মানবজলরূপ মধুর অভিধা, আহরণ, গুণাগুণ ও সংরক্ষণ কিছুই
জানেন না। অন্যদিকে মরমী সাধক ও মরমী গীতিকাররা কেবল মধুবৎ মানবজলকে মধু
ধরেই গীতি, বাণী, গান, কবিতা ও রূপকসাহিত্য নির্মাণ করেই চলেছেন। এসব কারণে
বর্তমানে সাধারণ মানুষ দুভাগে বিভক্ত। একদল শাস্ত্রীয় ও অন্যদল তাত্ত্বিক।
তাত্ত্বিকরা রূপকসাহিত্যে ব্যবহৃত মধু পরিভাষাটির দ্বারা মধুবৎ মানবজলকে
বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন কিন্তু শাস্ত্রীয় পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক,
অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা ঐ একই পরিভাষা দ্বারা মৌমাছির চাকের মধুকে বুঝেন ও
বুঝিয়ে থাকেন। সমাধান রূপে বলা যায় সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয়
গ্রন্থ-গ্রন্থিকার মধ্যে যে মধু পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়েছে, হচ্ছে ও হবে, তা
দ্বারা কেবল মধুবৎ মিষ্ট মানবজলকেই বুঝানো হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে।
(সংক্ষিপ্ত)
সূত্রতথ্যঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
সূত্রতথ্যঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন