৯৮/২. সৃষ্টিকর্তা প্রসঙ্গঃ ‘কাঁই’ (১৬ পর্বের ২য় পর্ব)
(আধ্যাত্মিকবিদ্যা, আত্মতত্ত্ব, আত্মদর্শন, দেহতত্ত্ব, পরম্পরাতত্ত্ব,
দিব্যজ্ঞান, স্বরূপদর্শন, নরত্বারোপ ও বলনদর্শন টীকা)
কাঁই
Lord (লর্ড)/ ‘ﺍﻟﻟﻪ’ (আল্লাহ)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির রূপকপরিবারের অন্যতম একটি ‘রূপকপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘সৃষ্টিকর্তা’, উপমানপরিভাষা ‘ঘি, নীর, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য’ চারিত্রিকপরিভাষা ‘অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর’।
Lord (লর্ড)/ ‘ﺍﻟﻟﻪ’ (আল্লাহ)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির রূপকপরিবারের অন্যতম একটি ‘রূপকপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘সৃষ্টিকর্তা’, উপমানপরিভাষা ‘ঘি, নীর, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য’ চারিত্রিকপরিভাষা ‘অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর’।
কাঁই (রূপ)বি কাজলা, কালা, কালিয়া, কালু,
কৃষ্ণ, কেলে, বিরিঞ্চি, ব্রহ্মা, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা, Lord (লর্ড),
‘ﺍﻟﻟﻪ’ (আল্লাহ), melanin (মিলেনিন), ‘ميلانين’ (মিলেনিন) (সাঅ)বি নির্মাতা, সৃষ্টিকর্তা, জগৎস্রষ্টা, creator (ক্রিয়েটর), author (অথার), খালিক্ব (আ.ﺨﺎﻟﻖ) (আবি)বি ঈশ্বর, অনন্ত, কালোঈশ্বর, প্রজাপতি, হিরণ্যগর্ভ, বিধাতা, বিবস্বান, স্বায়ম্ভু (আদৈ)বি ইসা (আ.ﻋﻴﺴﻰٰ), মসিহ (আ.ﻤﺴﻴﺢ), শাম (আ.ﺷﺄﻢ), শামস (আ.ﺸﻤﺲ), শিশ (আ.ﺸﻴﺶ) (ইদৈ)বি Lord (লর্ড), maker (মেকার), designer (ডিজাইনার) (ব্য্য) কাঁইশক্তি বা জীবনিশক্তি ভিন্ন জীব সৃষ্টি হয় না এবং জীবকুল পরমাত্মার সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে না বলে কাঁইকে সৃষ্টিকর্তা বলা হয় (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের ‘রূপকপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.বাঙালীদের শাস্ত্রীয় সৃষ্টিকর্তাকে কাঁই বলা হয় ২.কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে সৃষ্টিকর্তা বা রূপকার্থে কাঁই বলা হয় (ছনা)বি আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর (চরি)বিণ অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ (উপ)বি ঘি, নীর, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য (রূ)বি কাঁই (দেত)বি সৃষ্টিকর্তা {বাং.কালো+ বাং.ঈশ্বর)-; (কা + ঈ)-; কাঈ-; কাঁই}
কাঁইকোষ (রূপ)বি বিচি, আঁটি, বড়া, অণ্ডকোষ, ফল বা শস্যাদির ক্ষুদ্র আঁটি, ফোঁড়ার মধ্যেকার গুঁটি (আবি)বি
মুষ্ক, অণ্ড, আণ্ডা, বিচি, অণ্ডকোষ, অণ্ডাধার, ব্রহ্মকোষ, জননকোষ,
অংকুরোদ্গম শক্তির আধার, টেষ্টিকল (testicle), স্কটাম (scrotum), বয়জা (আ.ﺑﻴﺿﺎﻦ), খুসিয়া (আ.ﺨﺼﻴﺔ), বিয়াউ (আ.ﻮﻋﺎﺀ), সফন (আ.ﺼﻔﻦ) (আভা)বি থলে, বস্তা, ছালা (আপ)বি ঝুলি (হি.ﺠﻬﻮﻟﻰ), ঝোলা (হি.ﺠﻬﻮﻻ) (আদৈ)বিস্ত্রী মারিয়াম (আ.ﻤﺮﻴﻢ) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘মুষ্ক’ পরিবারের ‘ছদ্মনামপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) শিশ্নের অ-থলিকে মুষ্ক বা রূপকার্থে কাঁইকোষ বলা হয় (চরি)বি অণ্ডাল (ছনা)বি অষ্ঠি (রূ)বি থলি (দেত)বি মুষ্ক {বাং.কাঁই+ বাং.কোষ}
কাঁইচারী (রূপ)বিণ কাঁইজি, কাঁইবিহারী, কাঁইধারী, ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মচারী, কাঁই বা সৃষ্টিকর্তার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দর্শনলাভকারী {বাং.কাঁই-}
কাঁইজি (রূপ)বিণ ১.পরমেশ্বর, পরমপতি,
বিশ্বেশ্বর, বিশ্বনাথ, বিশ্বপতি ২.কাঁইদর্শনলাভকারী, কাঁই প্রেমিক,
কাঁইদর্শন প্রত্যাশী, কাঁইচারী, কাঁইবিহারী, কাঁইধারী, ব্রাহ্মণ,
ব্রহ্মচারী, বৈরিঞ্চি, কাঁইতত্ত্ব বিশারদ, Lordship, Lordlike, ‘ربوبيته’
(রুবুবিয়াতাহু) (পরি) জ্ঞানের নৈরাকার স্তর এবং রসাশ্রয় ও রূপাশ্রয় হতে ‘কাঁইজি’ সম্প্রদায়ের উৎপত্তি (প্র)
১.প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাঁইদর্শনকারী সাধকসাধিকার উপাধি বিশেষ
২.আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের আউল, বাউল, নাড়া, সাঁইজি ও কাঁইজি- এ পাঁচটি সাধন
স্তরের সর্বশেষ স্তর বিশেষ (ভাপ) ব্রাহ্মণ (ইদৈ) Lordship (আদৈ) ‘ولى الله’ (ওয়ালি আল্লাহ), ‘خليفة الله’ (খালিফাতু আল্লাহ), নায়িবে ইলাহি (ﻨﺎﺌﺏ ﺍﻟﻬﻰ) {বাং.কাঁই+ তু.জি.ﺠﻰ}
কাঁইধারী (রূপ)বিণ কাঁইজি, কাঁইচারী, কাঁইবিহারী, ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মচারী (প্র) কাঁই বা সৃষ্টিকর্তার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দর্শনলাভকারী {বাং.কাঁই-;}
কাঁইবিহারী (রূপ)বিণ কাঁইজি, কাঁইচারী, কাঁইধারী, ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মচারী (প্র) কাঁই বা সৃষ্টিকর্তার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দর্শনলাভকারী {বাং.কাঁই-;}
কাঁইরাতি (রূপ)বি কোজাগর, মধুনিশি, মধুযামিনী, মধুরাতি, আনন্দরাত্রি (আদৈ)বি শবেক্বদর (ﺸﺑﻰ ﻘﺪﺭ) (প্র) বসন্তকালের রাত্রি (আবি) যে রাতে জীবের সৃষ্টিকর্তা কাঁই দেহধামে অবতরণ করে এবং সাধকগণ তার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দর্শনলাভ করে ধন্য হন।
কাঁইয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Lord)
১. কাঁই কাঁইরে মজার খাল কেটেছে ভারি কৌশলে, একবিন্দু জল নাইরে খালে, কাপড় ভিজে ঝাঁপ দিলে (বলন তত্ত্বাবলী)।
২. কাঁইয়ের বসতবাড়ি নাইরে ভুবনে, গড়িয়া এ নিখিল সংসার, বিরাজ করে কোনখানে (বলন তত্ত্বাবলী)।
(Some highly important quotations of Lord)
১. কাঁই কাঁইরে মজার খাল কেটেছে ভারি কৌশলে, একবিন্দু জল নাইরে খালে, কাপড় ভিজে ঝাঁপ দিলে (বলন তত্ত্বাবলী)।
২. কাঁইয়ের বসতবাড়ি নাইরে ভুবনে, গড়িয়া এ নিখিল সংসার, বিরাজ করে কোনখানে (বলন তত্ত্বাবলী)।
কাঁইয়ের সংজ্ঞা (Definition of Lord)
জীবদেহে অবতরণ করে নতুন জীব সৃষ্টির অনুঘট প্রতীতিকে কাঁই বলে।
জীবদেহে অবতরণ করে নতুন জীব সৃষ্টির অনুঘট প্রতীতিকে কাঁই বলে।
কাঁইয়ের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Lord)
মানবদেহে প্রাপ্ত কালোবর্ণের অমৃতজলকে সৃষ্টিকর্তা বা কাঁই বলে।
মানবদেহে প্রাপ্ত কালোবর্ণের অমৃতজলকে সৃষ্টিকর্তা বা কাঁই বলে।
কাঁইয়ের পরিচয় (Identity of Lord)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের অধীন একটি ‘রূপকপরিভাষা’ বিশেষ। যৌবনকালে জীবদেহে অবতরণ করে নতুনভাবে জীব সৃষ্টিকারী আদি প্রতীতিকে কাঁই বলা হয়। রূপকসাহিত্যে সৃষ্টিকর্তা নামে পরিচিত কাঁইয়ের ২টি রূপ পরিলক্ষিত হয়।
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের অধীন একটি ‘রূপকপরিভাষা’ বিশেষ। যৌবনকালে জীবদেহে অবতরণ করে নতুনভাবে জীব সৃষ্টিকারী আদি প্রতীতিকে কাঁই বলা হয়। রূপকসাহিত্যে সৃষ্টিকর্তা নামে পরিচিত কাঁইয়ের ২টি রূপ পরিলক্ষিত হয়।
প্রথমতঃ যে কোন ফলবান বৃক্ষের ফলের শাস হওয়ার পর তা
পরিপক্ব হওয়ার সময় যে শক্তি ফলের মধ্যে প্রবেশ করলে পরবর্তিকালে বিচিটি
অংকুরিত হয় তাকেই কাঁই বলা হয়। যে কোন ফল কাঁচা কর্তন করলে ও পরবর্তিকালে
বপণ করলে তা অংকুরিত হয় না কিন্তু পাকাফল কর্তন করে আবার বপন করলে তা
অবশ্যই অংকুরিত হয়। এ হতে বুঝা যায় পাকাফলের মধ্যে অদৃশ্য কোন একটি শক্তি
অবশ্যই প্রবেশ করে। পাকাফলের মধ্যে যে অদৃশ্যশক্তি প্রবেশ করে তা-ই
কাঁইসত্তা। জীবের বেলায়ও ঠিক তাই দেখা যায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক কোন নর বা
পুরুষের কাঁচাশুক্র প্রাপ্তবয়স্কা কোন নারীর গর্ভে নিক্ষেপ করলেও কোন
ভ্রূণের সৃষ্টি হয় না। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক নরের শুক্র যে কোন
প্রাপ্তবয়স্কা নারীর গর্ভে নিক্ষেপ করলেই তা মানব ভ্রূণ সঞ্চার করতে পারে।
মানবভ্রূণ সঞ্চারকারী এ অদৃশ্যশক্তিকেই কাঁই বলে।
ধান সিদ্ধ করলে বা ডিম সিদ্ধ করলে ধান ও ডিম অক্ষত থাকে বটে কিন্তু তার
ভিতরের অদৃশ্য জীবনিশক্তি লোপ পায়। ধান ও ডিম সিদ্ধ করার পর যে
জীবনিশক্তিটি লোপ পেয়ে থাকে তাকেই কাঁই বলা হয়। ধান ও ডিম সিদ্ধ করলে
যেহেতু কাঁইশক্তিটি লোপ পায় তাই সিদ্ধ ধান বপণ করলে তা আর অংকুরিত হয় না
এবং সিদ্ধ ডিমে ‘ঊষুম’ বা ‘তা’ দিলেও তা আর ছানায় পরিণত হয় না। এ প্রথম
রূপটি নিয়ে রূপকসাহিত্যের কোন রূপকারের তেমন কোন লেখালেখি বা আলোচনা নেই।
দ্বিতীয়তঃ কিশোরীদের দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুগঠিত ও
সুঠাম হওয়ার পর যে শক্তিটি প্রবেশ করায় নতুন একটি আন্ত আলোড়নের মাধ্যমে
রজস্রাবের সৃষ্টি হয় তাকেই কাঁই বলা হয়। অথবা সম্পূর্ণ সুস্থদেহে যার
নির্দেশে প্রতিমাসে রজস্বলা রমণীদের গর্ভাশয় হতে রজধারা নিঃসৃত হয়ে থাকে সে
মহাশক্তিকেই কাঁই বলা হয়। এ মহাশক্তিটি যতদিন নারীদেহে আগমন ও প্রত্যাগমন
করতে থাকে ততদিনই প্রাপ্তবয়স্কা নারীদের রজধারা চলতে থাকে। উক্ত কাঁইশক্তির
আগমন প্রত্যাগমন বন্ধ হয়ে গেলেই তাদের রজ আগমন ধারাও চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
আমরা আরো বলতে পারি একটা নারীদেহে কাঁইরূপ মহাশক্তি প্রবেশ করার পর পরই
কেবল প্রতিমাসে রজ আগমন আরম্ভ হয়ে থাকে। রজধারার ছদ্মনামপরিভাষা হলো ‘বসিধ’।
তাই এবার বলা যায় “নারীদেহে কাঁইয়ের আগমনে বসিধের আগমন হয় এবং বসিধের
আগমনেই সাঁইয়ের আগমন হয়ে থাকে।” প্রাপ্তবয়স্কা নারীদেহে বসিধ বাহ্যিকভাবে
সর্বশেষ প্রতীতি এবং অদৃশ্যভাবে সাঁই সর্বশেষ ঐশী অবতার। কাঁই ও সাঁই জীবের
আত্মা, মন ও জ্ঞান ইত্যাদি অদৃশ্যসত্তাদি বহন করেন। কাঁই জীবের আত্মা, মন ও
জ্ঞান ইত্যাদি অদৃশ্যসত্তাদি বহন করেন এবং জীবের ভ্রূণ সৃষ্টি করেন কিন্তু
সাঁই জীবের আত্মা, মন ও জ্ঞান ইত্যাদি অদৃশ্যসত্তাদি বহনও করেন এবং জীবের
সদ্য সৃষ্ট ভ্রূণাদি প্রতিপালনও করে থাকেন বিধায় কাঁইকে জীবের সৃষ্টিকর্তা
এবং সাঁইকে জীবের পালনকর্তা বলা হয়। সাধুশাস্ত্রে বসিধের কোন সাধন ভজন নেই।
তবে বসিধ কেবল সময়ের গুরুত্ব বহন করেন। অন্যদিকে কাঁইসাধন ও সাঁইসাধন
সাধকদের প্রকৃত সাধন। স্মরণীয় বসিধের বর্ণ লাল, সাঁইয়ের বর্ণ সাদা ও
কাঁইয়ের বর্ণ কালো।
আমাদের আলোচ্য কাঁইজিকেই সংস্কৃত ভাষায় ব্রহ্মা ও কৃষ্ণ এবং আরবি ভাষায়
আল্লাহ (ﺍﻠﻟﻪ) এবং ইংরেজি ভাষায় Lord (লর্ড) বলা হয়। সাধনবলে মানবদেহে
প্রাপ্ত এ কালো জলের সঙ্গে সাক্ষাৎলাভ করতে পারলেই সাধকগণ কাঁইজি বা
ব্রহ্মচারী বা অলিউল্লাহ বা Lordship, Lordlike উপাধি প্রাপ্ত হয়ে থাকেন।
সাঁই বা কাঁইয়ের দর্শনলাভকারী সাধকগণ সব সময় জন্মান্তরহীন বা পুনর্জনমহীন
বা নিঃসন্তান অবস্থায় জীবনযাপন করেন। অর্থাৎ তারা সর্বদা অখ- থাকার চেষ্টা
করেন। সাঁই ও কাঁইদর্শনকারী সাধকরা কখনই খণ্ডিত হন না। এরূপ সাধকগণ খণ্ডিত
হলে বা সন্তানরূপে পুনর্জন্মে গেলে তাদের উক্ত সাঁইজি, কাঁইজি ও
ব্রহ্মচারী ইত্যাদি উপাধিও চিরদিনের জন্য চিররহিত হয়ে যায়। তারা আর
মহাশক্তিশালী মহামানবরূপে থাকেন না বরং তখন তারা আবার সাধারণ জীবে পরিণত
হয়ে যান।
মরমীগণ বলেন- স্রষ্টা পরিভাষাটির অভিধা হলো জীবকুলের প্রাণশক্তি বহনকারী
একপ্রকার জীবজল। জীবকুল বয়সপ্রাপ্ত হলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে জীবদেহে এ
রসের উৎপত্তি হয়। জীবদেহে এ রসের উৎপত্তি না হলে জীবকোষাদি প্রাণশক্তি
উৎপাদন করার ক্ষমতা প্রাপ্ত হয় না। যেমন- শিশুদের শুক্র বা শিশুকোষ
কোনটিতেই ডিম্বকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ ধারণ করা বা বিদ্যুৎ উৎপাদন
করার ক্ষমতা নেই। আবার কিশোরিদের ক্ষেত্রেও তাই দেখা যায়। কোন কিশোরী
রজস্বলা হওয়ার পূর্বে যত শুক্রই ধারণ করুক না কেন তা কোন প্রকার ভ্রূণ
সৃষ্টি করে গর্ভধারণ করতে পারে না।
জীবকুল যৌবনকালে বিদ্যুৎধারণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে ক্ষমতালাভ করে তাকে
জীবের সৃষ্টিশক্তি বলে। এ সৃষ্টিশক্তি বা জীবনিশক্তি যে রসের মধ্যে সঞ্চিত
থাকে মরমীকবি বা আত্মতাত্ত্বিকগণ তাকেই স্রষ্টা বলেন। কিশোরের মুচ উদ্গত
হলে, কিশোরী রজস্বলা হলে, ধান সোনালিবর্ণ ধারণ করলে, ফল পাকলে তাদের মধ্যে
সৃষ্টিশক্তি প্রবেশ করে। কিশোরের মুচ উঠার পূর্বে, কিশোরী রজস্বলা হওয়ার
পূর্বে, সবুজধানে ও কাঁচাফলে সৃষ্টিশক্তি থাকে না বিধায় কিশোরের বীর্যে,
কিশোরির গর্ভে সন্তান জন্ম হয় না এবং সবুজ ধান বা কাঁচা ফল বপন করলে তা
ভ্রূণ সৃষ্টিও করতে পারে না। ফলে অংকুরিতও হয় না।
আবার যথাযথশক্তি বা বল প্রয়োগের মাধ্যমে জীবের এ স্বায়ম্ভুশক্তি বা
সৃষ্টিশক্তিকে হত্যাও করা যায়। যেমন- ডিম ও ধান সিদ্ধ করলে ডিম ও ধানের
ভিতরে ব্যাপ্ত সৃষ্টিশক্তি মারা যায়। ফলে সিদ্ধ ডিমের ছানা ফুটে না এবং
সিদ্ধ ধান বপন করলে অংকুরিত হয় না। ডিম বা ধান সিদ্ধ করার পূর্বে যে শক্তি
ছিল কিন্তু সিদ্ধ করার পর তা লোপ পেয়েছে সে শক্তিকেই সৃষ্টিশক্তি বা
স্বায়ম্ভুশক্তি বলে। এ সৃষ্টিশক্তি যে রসের মধ্যে সঞ্চিত থাকে তাকেই মরমীগণ
স্রষ্টা বলে থাকেন। অর্থাৎ জীবদেহে সৃষ্টিশক্তি বা স্বায়ম্ভুশক্তি বহনকারী
রসকেই আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানে সৃষ্টিকর্তা বা স্রষ্টা বলে।
আত্মতাত্ত্বিকগণের মতে মানবদেহে কালোবর্ণের এক প্রকার রস এ সৃষ্টিশক্তি
বহন করে। একে ধরা যায়, দেখা যায়, ভজন ও ভোজন করা যায় বিধায় মরমীগণ এ জীবজল
বা জীবাম্বুকে রূপকভাবে কাঁই, ব্রহ্মা, কৃষ্ণ, কাজলা, কালা, কালাচাঁদ,
কালাচাঁন, কালিয়া, কালোভ্রমর, কালোমানিক, কালোশশী, কেলে, কেলেমানিক,
কেলেসোনা, চিকনকালা, বিরিঞ্চি, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা, শ্যামকালিয়া
ইত্যাদি নামে নামকরণ করেছেন। এসব নামেই আবহমানকাল হতে আমাদের বাংলাভাষায়
রচিত হয়ে আসছে অসংখ্য গীতিকাব্য। যেমন-
১. “চাতক প্রায় অহর্নিশি, চেয়ে থাকে কালোশশী, হব বলে চরণদাসী, তা হয় না কপাল গুণে” (পবিত্র লালন- ৭৯১/২)।
২. “অনাদির আদি শ্রীকৃষ্ণ নিধি, তার কী আছে কভু গোষ্ঠখেলা, ব্রহ্মরূপে সে অটলে বসে, লীলাকারী তার অংশকলা। পূর্ণচন্দ্র কৃষ্ণ রসিক শিখরে, শক্তির উদয় যার শরীরে, শক্তিতে সৃজন মহাসংকর্ষণ, বেদ আগমে যারে কৃষ্ণ বলে। সত্য স্মরণ বেদ আগমে কয়, চিদানন্দরূপ পূর্ণব্রহ্ম হয়, জন্মমৃত্যু যার নাই ভবের পর, তবু তো নয় স্বয়ং নন্দলালা। যে দরবেশের দিলদরিয়া অথাই, অজান খবর সে জানে ভাই, ভজ দরবেশ পাবি উপদেশ, লালন কয় হয় উজ্জ্বল হৃদকমলা” (পবিত্র লালন- ৫৯৩)।
৩. “কাজলাকালো বন্ধু আমার, আসবি কবে বলরে কাজলা আসবি কবে বল। অনেকদিন গেছিস রে কাজলা আসবি কবে বল, দিবানিশি তোর জন্য মন করে টলমল” (অজ্ঞাত গীতিকার)।
৪. “কালা আমায় পাগল করেছেরে, ঘরে রই কেমনে” (অজ্ঞাত গীতিকার)।
৫. “আজ পাশাখেলব রে শ্যাম, ও শ্যাম রে তোমার সনে, একেলা পেয়েছিরে শ্যাম, এ নিধুবনে” (মরমী গীতিকার রাধারমণ)।
৬. “তোমার লাগিয়ারে সদায়, মন আমার কান্দে বন্ধুরে, প্রাণবন্ধু কালিয়ারে। হৃদয় নিষ্ঠুর রে বন্ধু, তুই তো কুলনাশা, আসি বলে ফাঁকি দিলিরে বন্ধু, না মিটালি আশা” (বীরেন্দ্রনাথ সরকার)।
৭. “রজনী হোসনে অবসান, আজ নিশিতে আসতে পারে, বন্ধু কালাচাঁন” (শিল্পী বারি ছিদ্দিকী)।
৮. “এমন শ্যামল সুন্দর মুখ ওরে, আমি যেদিন হতে হেরি, আমার মনে লয় না, ঘর আর বাড়ি” (অজ্ঞাত গীতিকার)।
৯. শ্যাম কালিয়ারে কৃষ্ণ কালিয়া, কী সুখে রয়েছে রাধা, দেখে যাও আসিয়া (বলন কাঁইজি)।
১০. কোথায় রইলারে শ্যাম কালিয়া, পাগল বানাইয়া আমায় উদাসী করিয়া (বলন কাঁইজি)।
১. “চাতক প্রায় অহর্নিশি, চেয়ে থাকে কালোশশী, হব বলে চরণদাসী, তা হয় না কপাল গুণে” (পবিত্র লালন- ৭৯১/২)।
২. “অনাদির আদি শ্রীকৃষ্ণ নিধি, তার কী আছে কভু গোষ্ঠখেলা, ব্রহ্মরূপে সে অটলে বসে, লীলাকারী তার অংশকলা। পূর্ণচন্দ্র কৃষ্ণ রসিক শিখরে, শক্তির উদয় যার শরীরে, শক্তিতে সৃজন মহাসংকর্ষণ, বেদ আগমে যারে কৃষ্ণ বলে। সত্য স্মরণ বেদ আগমে কয়, চিদানন্দরূপ পূর্ণব্রহ্ম হয়, জন্মমৃত্যু যার নাই ভবের পর, তবু তো নয় স্বয়ং নন্দলালা। যে দরবেশের দিলদরিয়া অথাই, অজান খবর সে জানে ভাই, ভজ দরবেশ পাবি উপদেশ, লালন কয় হয় উজ্জ্বল হৃদকমলা” (পবিত্র লালন- ৫৯৩)।
৩. “কাজলাকালো বন্ধু আমার, আসবি কবে বলরে কাজলা আসবি কবে বল। অনেকদিন গেছিস রে কাজলা আসবি কবে বল, দিবানিশি তোর জন্য মন করে টলমল” (অজ্ঞাত গীতিকার)।
৪. “কালা আমায় পাগল করেছেরে, ঘরে রই কেমনে” (অজ্ঞাত গীতিকার)।
৫. “আজ পাশাখেলব রে শ্যাম, ও শ্যাম রে তোমার সনে, একেলা পেয়েছিরে শ্যাম, এ নিধুবনে” (মরমী গীতিকার রাধারমণ)।
৬. “তোমার লাগিয়ারে সদায়, মন আমার কান্দে বন্ধুরে, প্রাণবন্ধু কালিয়ারে। হৃদয় নিষ্ঠুর রে বন্ধু, তুই তো কুলনাশা, আসি বলে ফাঁকি দিলিরে বন্ধু, না মিটালি আশা” (বীরেন্দ্রনাথ সরকার)।
৭. “রজনী হোসনে অবসান, আজ নিশিতে আসতে পারে, বন্ধু কালাচাঁন” (শিল্পী বারি ছিদ্দিকী)।
৮. “এমন শ্যামল সুন্দর মুখ ওরে, আমি যেদিন হতে হেরি, আমার মনে লয় না, ঘর আর বাড়ি” (অজ্ঞাত গীতিকার)।
৯. শ্যাম কালিয়ারে কৃষ্ণ কালিয়া, কী সুখে রয়েছে রাধা, দেখে যাও আসিয়া (বলন কাঁইজি)।
১০. কোথায় রইলারে শ্যাম কালিয়া, পাগল বানাইয়া আমায় উদাসী করিয়া (বলন কাঁইজি)।
সমীক্ষা (Experiment)
আমাদের বাংভারতীয় উপমহাদেশ ফর্সা বা সাদাপ্রিয় দেশ। বাংভারতীয় উপমহাদেশের শিশু, যুবক ও বৃদ্ধ সবাই ফর্সা বা সাদা ভালোবাসে। বিশ্বের মধ্যে মাত্র দুয়েকটি কালো প্রিয় দেশ আছে। সে সব দেশের শিশু, যুবক ও বৃদ্ধ সবাই কালো ভালোবাসে। কিন্তু এ উপমহাদেশের গীতিকার বা মরমী কবিগণ কালো নিয়ে গীতি রচনা করে থাকেন। যদি কালো শব্দটির সত্যসত্যই কোন গোপন অভিধা না থাকত তবে কালোবর্ণ নিয়ে সবাই লেখত না। যেহেতু এ উপমহাদেশ ফর্সাপ্রিয়। অতএব সব গীতিকাব্যাদি ফর্সা নিয়েই রচিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে কেউই ফর্সা নিয়ে কোন আধ্যাত্মিকগীতি রচনা করেননি । সবাই কালো, কৃষ্ণ, শ্যাম অর্থাৎ কালোবর্ণ নিয়েই গীতি রচনা করেছেন, বর্তমানেও করতেছেন এবং ভবিষ্যতেও রচনা করবেন। এ কালো, কালা, কৃষ্ণ বা শ্যাম দ্বারা আধ্যাত্মিকসাহিত্য বা রূপকসাহিত্যে কাঁই বা ব্রহ্মাকে বুঝায় এবং কাঁই বা ব্রহ্মা রূপক পরিভাষাটির প্রকৃত আভিধানিক শব্দই হলো স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা।
আমাদের বাংভারতীয় উপমহাদেশ ফর্সা বা সাদাপ্রিয় দেশ। বাংভারতীয় উপমহাদেশের শিশু, যুবক ও বৃদ্ধ সবাই ফর্সা বা সাদা ভালোবাসে। বিশ্বের মধ্যে মাত্র দুয়েকটি কালো প্রিয় দেশ আছে। সে সব দেশের শিশু, যুবক ও বৃদ্ধ সবাই কালো ভালোবাসে। কিন্তু এ উপমহাদেশের গীতিকার বা মরমী কবিগণ কালো নিয়ে গীতি রচনা করে থাকেন। যদি কালো শব্দটির সত্যসত্যই কোন গোপন অভিধা না থাকত তবে কালোবর্ণ নিয়ে সবাই লেখত না। যেহেতু এ উপমহাদেশ ফর্সাপ্রিয়। অতএব সব গীতিকাব্যাদি ফর্সা নিয়েই রচিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে কেউই ফর্সা নিয়ে কোন আধ্যাত্মিকগীতি রচনা করেননি । সবাই কালো, কৃষ্ণ, শ্যাম অর্থাৎ কালোবর্ণ নিয়েই গীতি রচনা করেছেন, বর্তমানেও করতেছেন এবং ভবিষ্যতেও রচনা করবেন। এ কালো, কালা, কৃষ্ণ বা শ্যাম দ্বারা আধ্যাত্মিকসাহিত্য বা রূপকসাহিত্যে কাঁই বা ব্রহ্মাকে বুঝায় এবং কাঁই বা ব্রহ্মা রূপক পরিভাষাটির প্রকৃত আভিধানিক শব্দই হলো স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা।
আমাদের আভিধানিক স্রষ্টাই রূপকসাহিত্যে ব্রহ্মা বা কাঁই বা কৃষ্ণ। মরমী
সাধকগণ মানবদেহ হতে নিয়মিত সাধন ও অনুশীলনের দ্বারা এ কাঁইয়ের দর্শনলাভ
করেই কাঁইজি ও ব্রহ্মার দর্শনলাভ করেই ব্রাহ্মণ বা ব্রহ্মচারী উপাধিলাভ
করেন। মরমীগণের মতে স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তার প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎলাভ করাই
সাধনরাজ্যের সর্বশেষ স্তর। তদ্রূপ আরবীয় আধ্যাত্মিকবিদ্যা (রুহানিয়্যাত.
ﺮﻭﺤﺎﻨﻴﺔ) বা রূপকসাহিত্যে আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) এর সাথে প্রত্যক্ষ দর্শনলাভ করাই
আব্দালগণের সর্বশেষ স্তর। আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) এর সাথে সাক্ষাৎলাভ করলেই
আব্দালগণের উপাধি অলিউল্লাহ (ﻭﻟﻰﺍﻠﻠﻪ) বা সংক্ষেপে অলি (ﻭﻟﻰ) হয়ে যায়। আরবি
এ অলি (ﻭﻟﻰ) পরিভাষাটির বহুবচন হলো আউলিয়া (ﺍﻭﻟﻴﺎﺀ)। সাধকের ব্রাহ্মণ বা
অলি (ﻭﻟﻰ) হওয়ার পর আর কোন সাধন ভজন অবশিষ্ট থাকে না। তখন তাঁরা কেউবা
গ্রন্থ লিখে কেউবা নিরব থেকে আবার কেউবা গুরুরূপে অবশিষ্ট জীবনকাল অতিবাহিত
করে পরপারে যাত্রা করেন।
১.“১যেখানে সাঁইর বারামখানা, শুনলে মন চমকে উঠে, দেখতে যেমন ভুজঙ্গনা।
২যা ছুঁলে প্রাণে মরি, এ জগতে তাইতে তরি, বুঝে তা বুঝতে নারি, কী করি তার
নাই ঠিকানা। ৩আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে, দিব্যজ্ঞানী সে হয়েছে, কুবৃক্ষে সুফল
পেয়েছে, আমার মনের ঘোর গেল না। ৪যে ধনে উৎপত্তি প্রাণধন, সে ধনের হলো না
যতন, অকালে ফল পাকায় লালন, দেখেশুনে জ্ঞান হলো না” (পবিত্র লালন- ৮২৮)।
২. “يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ” “ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু লা তাখুনুল্লাহ ওয়ার রাসুল ওয়া তাখুনু আমানাতিকুম ওয়া আনতুম তা’লামুন” অর্থ- “হে বিশ্বাসীগণ তোমরা কাঁই ও সাঁই এর অপচয় করো না এবং তোমরা সঞ্চিত সম্পদের অপচয় করো না, তোমরা জ্ঞাত থাকা অবস্থায়” (কুরান, আনফাল- ২৭)। “O you who believe! Betray not Lord and God, nor betray knowingly your things entrusted to you, if you know.”।
ওপরোক্ত উদ্ধৃতি দু’টি মরমীগণের স্রষ্টা মানবদেহের সংকর, সাঁই ও কাঁই প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
২. “يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ” “ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু লা তাখুনুল্লাহ ওয়ার রাসুল ওয়া তাখুনু আমানাতিকুম ওয়া আনতুম তা’লামুন” অর্থ- “হে বিশ্বাসীগণ তোমরা কাঁই ও সাঁই এর অপচয় করো না এবং তোমরা সঞ্চিত সম্পদের অপচয় করো না, তোমরা জ্ঞাত থাকা অবস্থায়” (কুরান, আনফাল- ২৭)। “O you who believe! Betray not Lord and God, nor betray knowingly your things entrusted to you, if you know.”।
ওপরোক্ত উদ্ধৃতি দু’টি মরমীগণের স্রষ্টা মানবদেহের সংকর, সাঁই ও কাঁই প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
জীবের সৃষ্টিকর্তা (Creator of organism)
১. সারাজগতের সৃষ্টিকারিকে সৃষ্টিকর্তা বা স্রষ্টা বলে।
২. সৃষ্টিক্রিয়ায় সরাসরি অংশ গ্রহণকারিকে সৃষ্টিকর্তা বা স্রষ্টা বলে।
১. সারাজগতের সৃষ্টিকারিকে সৃষ্টিকর্তা বা স্রষ্টা বলে।
২. সৃষ্টিক্রিয়ায় সরাসরি অংশ গ্রহণকারিকে সৃষ্টিকর্তা বা স্রষ্টা বলে।
পরিশেষ (Conclusion)
কাঁই, ব্রহ্মা ও আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) যাই বলি না কেন, এসবের ধ্রুব বাস্তবতা রয়েছে এবং আত্মদর্শনে এ শব্দাদির বাস্তবসত্তাও রয়েছে। এসব অত্যন্ত গুরুত্ববহনকারী ও রহস্যময় শব্দ। কাঁই, ব্রহ্মা, আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) ও লর্ড (Lord) এসব শব্দকে শুধুই গালগল্প, অর্থহীন, ভিত্তিহীন, বাস্তবতাহীন, সত্তাহীন ও অভিধাহীন বলে উপহাস করা বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের আধ্যাত্মিকদৈন্যতা বৈ নয়। আবার শাস্ত্রীয় মতানুসারিগণ কাঁই, ব্রহ্মা ও আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) ইত্যাদি শব্দের অভিধা যে নিরাকার মহাশক্তি বলে নির্ধারণ করেছেন- তাও একেবারে ভিত্তিহীন। কোন নিরাকারসত্তা নিয়ে এতো কিছু লেখা বা বলার কোন অবকাশ নেই। যাকে ধরা যায় না, অনুভব করা যায় না, ছোঁয়া যায় না, দেখা যায় না, ভোজন, ভজন বা পূঁজন করা যায় না তা নিয়ে রূপকসাহিত্য বা আধ্যাত্মিকসাহিত্য বা মহাবিজ্ঞানে আলোচনা করা একেবারে অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। কাঁই, ব্রহ্মা ও আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) ইত্যাদির যদি কোন বাস্তবতা না থাকত তবে মহাবিজ্ঞানী মরমীগণ এতো কালি ব্যয় করে এতো কাগজ নষ্ট করে এতো গ্রন্থাদি রচনা করতেন না।
কাঁই, ব্রহ্মা ও আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) যাই বলি না কেন, এসবের ধ্রুব বাস্তবতা রয়েছে এবং আত্মদর্শনে এ শব্দাদির বাস্তবসত্তাও রয়েছে। এসব অত্যন্ত গুরুত্ববহনকারী ও রহস্যময় শব্দ। কাঁই, ব্রহ্মা, আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) ও লর্ড (Lord) এসব শব্দকে শুধুই গালগল্প, অর্থহীন, ভিত্তিহীন, বাস্তবতাহীন, সত্তাহীন ও অভিধাহীন বলে উপহাস করা বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের আধ্যাত্মিকদৈন্যতা বৈ নয়। আবার শাস্ত্রীয় মতানুসারিগণ কাঁই, ব্রহ্মা ও আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) ইত্যাদি শব্দের অভিধা যে নিরাকার মহাশক্তি বলে নির্ধারণ করেছেন- তাও একেবারে ভিত্তিহীন। কোন নিরাকারসত্তা নিয়ে এতো কিছু লেখা বা বলার কোন অবকাশ নেই। যাকে ধরা যায় না, অনুভব করা যায় না, ছোঁয়া যায় না, দেখা যায় না, ভোজন, ভজন বা পূঁজন করা যায় না তা নিয়ে রূপকসাহিত্য বা আধ্যাত্মিকসাহিত্য বা মহাবিজ্ঞানে আলোচনা করা একেবারে অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। কাঁই, ব্রহ্মা ও আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) ইত্যাদির যদি কোন বাস্তবতা না থাকত তবে মহাবিজ্ঞানী মরমীগণ এতো কালি ব্যয় করে এতো কাগজ নষ্ট করে এতো গ্রন্থাদি রচনা করতেন না।
সর্বশেষে বলতে হয় ব্যবধানে অবস্থান করে কোন কিছুই জানা বা বুঝা যায় না।
ওপরোক্ত ত্রি-ত্ব মত পরিত্যাগ করে একনিষ্ঠভাবে কাঁই, ব্রহ্মা ও আল্লাহ
(ﺍﻠﻠﻪ) ইত্যাদি শব্দের প্রকৃতসত্তা উদ্ঘাটন করতে হলে আধ্যাত্মিকবিদ্যা বা
মহাবিজ্ঞান ভালোভাবে পড়া প্রয়োজন। মরমী মহাবিজ্ঞানীগণের নিকট শব্দাদির গভীর
তত্ত্বভেদ ও রহস্যময়তা একান্তভাবে জানা ও বুঝা উচিৎ। তা না হলে শুধু
বিজ্ঞান ও দর্শন দ্বারা মহাবিজ্ঞান জানা ও বুঝা সম্ভব নয়। যেহেতু
আদিস্রষ্টাকে ধরা ছোঁয়া যায় না সেহেতু স্রষ্টাকে নিয়ে কোন কিছু আলোচনাও
পরাবিদ্যা বা আধ্যাত্মিকবিদ্যা বা রূপকসাহিত্যের বিষয়বস্তুও নয়। বিশ্বের সব
রূপকসাহিত্যে যার আলোচনা করা হয়েছে বর্তমানেও করা হচ্ছে এবং অনন্তকাল
পর্যন্ত করা হবে তিনি হলেন স্বয়ম্ভুসদস্য স্বায়ম্ভুব। বাংলাভাষায়
আধ্যাত্মিকনাম “কাঁই” সংস্কৃতভাষায় ‘ব্রহ্মা’ আরবি ভাষায় ‘আল্লাহ’ ‘ﺍﻠﻠﻪ’
এবং ইংরেজি ভাষায় ‘লর্ড’ ‘Lord’।
জীবের বর্তমান অবস্থা স্রষ্টা সৃষ্টি করে না। স্রষ্টা হলেন
আদিসৃষ্টিকর্তা। স্রষ্টার প্রতিনিধি স্বায়ম্ভু তিনি সৃষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ
করেন মাত্র কিন্তু তিনিও নিজে সৃষ্টি করতে পারেন না। বর্তমানে স্রষ্টা
নিজে কোন কিছু সৃষ্টি করেন না। তিনি সব কিছু আদিপর্বে সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
তাঁর প্রতিনিধি স্বায়ম্ভু তার সদস্যদের নিয়ে সৃষ্টিকার্য পরিচালনা করে
থাকেন কিন্তু তিনিও কোন কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। ফলে জীবের সৃষ্টিকর্তা
বলতে একমাত্র জনককেই বুঝায়। একমাত্র পিতার ইচ্ছেতেই জীব সৃষ্টি হয়।
রূপকসাহিত্যে পিতা বলতে পিতা-মাতা উভয়ই বুঝায়। পিতা ইচ্ছে করলে সন্তান
সৃষ্টি করতে পারেন আবার নাও পারেন। প্রসঙ্গক্রমে আবারও বলতে হয় স্রষ্টা
বর্তমান জীব সৃষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন না এবং তার জীব সৃষ্টিক্রিয়ার
অনুঘটক প্রতিনিধি স্বায়ম্ভুও নিজে কোন জীব সৃষ্টি করতে পারেন না। ফলে জীবের
সৃষ্টিকর্তাকে চেনার অর্থ যার যার আপন পিতাকে চেনা এবং উপাস্য চেনা অর্থ
স্বায়ম্ভুর জীব সৃষ্টির অনুঘটক সদস্য সাঁই ও কাঁইকে চেনা। উপাস্যরূপে পিতা
নয় স্রষ্টাও নয় বরং সাঁই ও কাঁই। স্থূলজ্ঞানী ও শাস্ত্রীয় সংস্কারের
নীতিমালার ধ্বজাধারিগণ নিরাকার স্রষ্টার উপাসনার ধুয়া দিয়ে প্রত্যক্ষ
বোকামি করে সাধারণ মানুষকে বিপথগামী করে চিরান্ধকারের পথে ঠেলে দিয়ে আসছে
বরাবরই।
বিশ্বের কোন মহাগ্রন্থে নিরাকার স্রষ্টার উপাসনার ধুয়া দিয়ে অযথা
অন্ধকারে ঢিল ছুড়তে বলা হয়নি। ক্ষুদ্র পরিসর জীবনে যাকে ধরা যায় এবং যাকে
সাধনভজনে পাওয়া যায় এরূপ উপাস্য সাঁই ও কাঁইয়ের উপাসনা করেই তো শেষ করা যায়
না। আর যাকে ধরা যায় না ও যাকে ছোঁয়া যায় না এরূপ নিরাকার উপাস্যের
উপাসনা মানুষ করবে কোন্ সময়ে। পরিশেষে বলা যায় জীবের সৃষ্টিকর্তা বা সৃজক
বলতে জীবের স্বয়ম্ভুসদস্য স্বায়ম্ভুবকে বুঝায়। স্বায়ম্ভুর বাংলা
ছদ্মনামপরিভাষা হলো সাঁই। জীবের সৃষ্টিকর্তা স্বায়ম্ভুকেই বাংলাভাষায়
রূপকভাবে কাঁই ইংরেজি ভাষায় রূপকভাবে লর্ড (Lord) এবং আরবি ভাষায় রূপকভাবে
‘আল্লাহ’ (‘ﺍﻠﻠﻪ’) বলা হয়। নিচে কাঁই পরিভাষাটির গঠন ও তাৎপর্য তুলে ধরা
হলো।
কাঁই পরিভাষাটির উৎপত্তি বিশ্লেষণ
(Analysis of the origin of the technicality Lord)
কালো (রূপ)বি কৃষ্ণবর্ণ, শ্যামবর্ণ বিণ কৃষ্ণবর্ণযুক্ত, শ্যামবর্ণবিশিষ্ট (রূ)বি কাঁই (দেত)বি সৃষ্টিকর্তা।
(Analysis of the origin of the technicality Lord)
কালো (রূপ)বি কৃষ্ণবর্ণ, শ্যামবর্ণ বিণ কৃষ্ণবর্ণযুক্ত, শ্যামবর্ণবিশিষ্ট (রূ)বি কাঁই (দেত)বি সৃষ্টিকর্তা।
কালো + ঈশ্বর = কাঈ (উভয় শব্দের প্রথম বর্ণ গ্রহণ করে)। ‘কাঈ’ শব্দটির
দীর্ঘই (ঈ) বর্ণটির দীর্ঘস্বর পড়তে কষ্ট হয় বিধায় পড়ার সুবিধার্থে দীর্ঘই
(ঈ) বর্ণটিকে হ্রস্বই (ই) বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করে এবং সে পরিবর্তনের
চিহ্নস্বরূপ একটি চন্দ্রবিন্দু “ ঁ ” গ্রহণ করে ‘কাঈ’ শব্দটি “কাঁই”
পরিভাষারূপে সৃষ্টি করা হয়েছে। বাংলা এ ‘কাঁই’ পরিভাষাটি হতেই ‘কাঁইজি’
পরিভাষাটির উৎপত্তি। নিচে ‘কাঁইজি’ পরিভাষাটির উৎপত্তি বিশ্লেষণ করা হলো।
কাঁই (রূপ)বি কাজলা, কালা, কালিয়া, কালু,
কৃষ্ণ, কেলে, বিরিঞ্চি, ব্রহ্মা, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা, Lord, creator,
author, maker, designer, ‘ﺍﻠﻠﻪ’ (আল্লাহ), ‘ﺨﺎﻟﻖ’ (খালিক্ব), ‘ﻋﻴﺴﻰٰ’
(ঈসা), ‘ﻤﺴﻴﺢ’ (মসিহ), ‘ﺷﺄﻢ’ (শাম), ‘ﺸﻤﺲ’ (শামস), ‘ﺸﻴﺶ’ (শিশ) (সাঅ)বি নির্মাতা, সৃষ্টিকর্তা, জগৎস্রষ্টা (আবি)বি অনন্ত, ঈশ্বর, কমলাসন, কালোঈশ্বর, চতুরানন, প্রজাপতি, বিধাতা, বিবস্বান, ব্রহ্মা, স্বায়ম্ভু, হিরণ্যগর্ভ (ব্য্য) কাঁইশক্তি বা জীবনিশক্তি ভিন্ন জীব সৃষ্টি হয় না বলে কাঁইকে সৃষ্টিকর্তা বলা হয় (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের ‘রূপকসদস্য’ ও রূপকসাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা)
১.যৌবনকালে জীবদেহে অবতরণ করে নতুনভাবে জীব সৃষ্টিকারী আদি কালো রসকে কাঁই
বলা হয় ২.কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে সৃষ্টিকর্তা বা রূপকার্থে কাঁই বলা হয় (ছনা)বি আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর (চরি)বিণ অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ (উপ)বি ঘি, নীর, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য (রূ)বি কাঁই (দেত)বি সৃষ্টিকর্তা {বাং.কালো+ বাং.ঈশ্বর)-; (কা + ঈ)-; কাঈ-; কাঁই}
জি [ﺠﻰ] অব্য নামের পরে ব্যবহৃত সম্বোধনসূচক শব্দ (নানাজি) {তু}
আবার বাংলা ‘কাঁই’ এবং তুর্কি ‘জি (ﺠﻰ)’ শব্দদ্বয় একত্রিত হয়ে (কাঁই+জি) এ “কাঁইজি” পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে।
আবার বাংলা ‘কাঁই’ এবং তুর্কি ‘জি (ﺠﻰ)’ শব্দদ্বয় একত্রিত হয়ে (কাঁই+জি) এ “কাঁইজি” পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে।
কাঁইজি (রূপ)বিণ ১.পরমেশ্বর, পরমপতি,
বিশ্বেশ্বর, বিশ্বনাথ, বিশ্বপতি ২.কাঁইদর্শনলাভকারী, কাঁইপ্রেমিক,
কাঁইদর্শন প্রত্যাশী, কাঁইচারী, কাঁইবিহারী, কাঁইধারী, ব্রাহ্মণ,
ব্রহ্মচারী, বৈরিঞ্চি, কাঁইতত্ত্ব বিশারদ, Lordship, Lordlike, ‘ربوبيته’
(রুবুবিয়াতাহু) (পরি) জ্ঞানের নৈরাকার স্তর এবং রসাশ্রয় ও রূপাশ্রয় হতে ‘কাঁইজি’ সম্প্রদায়ের উৎপত্তি (প্র)
১.প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাঁইদর্শনকারী সাধকসাধিকার উপাধি বিশেষ
৩.আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের আউল, বাউল, নাড়া, সাঁইজি ও কাঁইজি- এ পাঁচটি সাধন
স্তরের সর্বশেষ স্তর বিশেষ (ভাপ)বিণ ব্রাহ্মণ (ইদৈ)বিণ Lordship (আদৈ)বিণ ‘ولى الله’ (ওয়ালি আল্লাহ), ‘خليفة الله’ (খালিফাতু আল্লাহ), নায়িবে ইলাহি (ﻨﺎﺌﺏ ﺍﻟﻬﻰ) {বাং.কাঁই+ তু.জি.ﺠﻰ}
জীবের সৃষ্টিকর্তা কে কাঁই নাকি সাঁই
(Who is the creator of organism Lord or God?)
আজ হতে প্রায় দেড়শো বছর পূর্বে মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখে গেছেন- “অনন্তরূপ সৃষ্টি করলেন সাঁই, মানবের চেয়ে উত্তম কিছু নাই, দেব-দেবতাগণ করে আরাধন, জনম নিতে এ মানবে।” (পবিত্র লালন- ২২৭/২)। অর্থাৎ তিনি সাঁইকে সৃষ্টিকর্তা বলে গেছেন। তখন সৃষ্টিকর্তা বুঝানোর জন্য ‘সাঁই’ ব্যতীত অন্য কোন পরিভাষা ছিল না। যেমন এখনও ফার্সি ভাষায় সৃষ্টিকর্তা বুঝানোর জন্য কেবল ‘খোদা’ ব্যতীত অন্য কোন পরিভাষা নেই। তাই পার্সিয়ানরা এখনও খোদা পরিভাষাটি দ্বারাই ‘সৃষ্টিকর্তা’ ও ‘পালনকর্তা’ উভয়কেই বুঝিয়ে থাকেন। তাদৃশ আমাদের বাংলা ভাষায় রূপকসাহিত্য গড়ে না উঠায় আজো সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, ঐশীদূত ও বর্থ্য প্রমুখের নামকরণ করা হয়নি।
(Who is the creator of organism Lord or God?)
আজ হতে প্রায় দেড়শো বছর পূর্বে মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখে গেছেন- “অনন্তরূপ সৃষ্টি করলেন সাঁই, মানবের চেয়ে উত্তম কিছু নাই, দেব-দেবতাগণ করে আরাধন, জনম নিতে এ মানবে।” (পবিত্র লালন- ২২৭/২)। অর্থাৎ তিনি সাঁইকে সৃষ্টিকর্তা বলে গেছেন। তখন সৃষ্টিকর্তা বুঝানোর জন্য ‘সাঁই’ ব্যতীত অন্য কোন পরিভাষা ছিল না। যেমন এখনও ফার্সি ভাষায় সৃষ্টিকর্তা বুঝানোর জন্য কেবল ‘খোদা’ ব্যতীত অন্য কোন পরিভাষা নেই। তাই পার্সিয়ানরা এখনও খোদা পরিভাষাটি দ্বারাই ‘সৃষ্টিকর্তা’ ও ‘পালনকর্তা’ উভয়কেই বুঝিয়ে থাকেন। তাদৃশ আমাদের বাংলা ভাষায় রূপকসাহিত্য গড়ে না উঠায় আজো সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, ঐশীদূত ও বর্থ্য প্রমুখের নামকরণ করা হয়নি।
অবশেষে গত একবিংশ শতাব্দির প্রথমদশকে আমরা বাংলা ভাষায় সৃষ্টিকর্তার নামকরণ করেছি ‘কাঁই’ এবং ঐশীদূতের নামকরণ করেছি ‘বসিধ’। এবার পৃথিবীর অন্যান্য ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষাও সাবলিল হয়েছে। নিচে একটি সারণী তুলে ধরা হলো।
১. বাংলা : কাঁই (সৃষ্টিকর্তা), সাঁই (পালনকর্তা) ও বসিধ (ঐশীদূত)
২. সংস্কৃত : ব্রহ্মা (সৃষ্টিকর্তা), বিষ্ণু (পালনকর্তা) ও নারদ (ঐশীদূত)
৩. ইংরেজি : Lord (লর্ড) (সৃষ্টিকর্তা), God (গড) (পালনকর্তা) ও Messenger (ম্যাসেঞ্জার) (ঐশীদূত)
৪. আরবি: ‘ﺍﻠﻠﻪ’ (আল্লাহ) (সৃষ্টিকর্তা), ‘ﺮﺏ’ (রব) (পালনকর্তা) ও ‘ﻨﺑﻰ’ (নবি) (ঐশীদূত)
৫. ফার্সি : ‘ﺨﺪﺍ’ (খোদা) (সৃষ্টিকর্তা ), ‘ﺨﺪﺍ’ (খোদা) (পালনকর্তা) ও ‘ﭙﻴﻐﻤﺒﺮ’ (পয়গম্বর) (ঐশীদূত)
২. সংস্কৃত : ব্রহ্মা (সৃষ্টিকর্তা), বিষ্ণু (পালনকর্তা) ও নারদ (ঐশীদূত)
৩. ইংরেজি : Lord (লর্ড) (সৃষ্টিকর্তা), God (গড) (পালনকর্তা) ও Messenger (ম্যাসেঞ্জার) (ঐশীদূত)
৪. আরবি: ‘ﺍﻠﻠﻪ’ (আল্লাহ) (সৃষ্টিকর্তা), ‘ﺮﺏ’ (রব) (পালনকর্তা) ও ‘ﻨﺑﻰ’ (নবি) (ঐশীদূত)
৫. ফার্সি : ‘ﺨﺪﺍ’ (খোদা) (সৃষ্টিকর্তা ), ‘ﺨﺪﺍ’ (খোদা) (পালনকর্তা) ও ‘ﭙﻴﻐﻤﺒﺮ’ (পয়গম্বর) (ঐশীদূত)
সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তাকে কখনই এক করা বা এক বলা সমীচীন নয়। কারণ দু’টো
সত্তাই সম্পূর্ণ ভিন্ন। অতীতকালে বাংলা ভাষায় যদিও কেবল ‘সাঁই’ পরিভাষাটির
দ্বারা দু’টো সত্তাকেই বুঝানো হতো। উদাহরণত বলা যায় যখন মোবাইল ছিল না তখন
মোবাইল ছাড়াই চলেছে। কিন্তু বর্তমানে মোবাইল ছাড়া চলা একেবারেই অসম্ভব।
তাদৃশ যখন ‘কাঁই’ পরিভাষা ছিল না তখন উক্ত পরিভাষা ছাড়াই চলেছে। কিন্তু
বর্তমানে সাহিত্য, উপন্যাস, গীতি, সারি, নাটক, যাত্রাপালা, কাব্য কিংবা
কবিতা লিখতে গেলেই ‘কাঁই’ পরিভাষাটির ব্যবহার অতীত প্রয়োজন। এবার শক্ত করেই
বলা যায় ‘কাঁই’ হলেন সৃষ্টিকর্তা, ‘সাঁই’ হলেন পালনকর্তা এবং ‘বসিধ’ হলেন স্বর্গীয়দূত।
শাস্ত্রীয় সৃষ্টিকর্তা নির্মাণপদ্ধতি
(Schismatical creator construction method)
রূপকসাহিত্য নির্মাণ এবং রূপকপরিভাষাদির জন্ম-পরিচয় ও জীবনী নির্মাণ একটি যুগান্তরকারী শিল্প। এ শিল্পের নাম রূপকসাহিত্য শিল্প। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক মতবাদ রয়েছে এবং এসবের অনুকূলে যতগুলো গল্পকাহিনি রয়েছে তা সবই এ শিল্পের মাধ্যমেই নির্মিত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২,৫০০টিরও অধিক স্বয়ং সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় মতবাদ রয়েছে। আবার এসব শাস্ত্রীয় মতবাদের অনুকূলে প্রায় পাঁচলক্ষাধিক (৫,০০,০০০) পারম্পরিক মতবাদ রয়েছে। সব মতবাদেরই একটি করে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, সংহারকর্তা, নগরকর্তা, সংহারকর্তা, আদিমানব, আদিমানবী ও বর্থ্য রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে পাপ, পুণ্য, স্বর্গ ও নরক।
(Schismatical creator construction method)
রূপকসাহিত্য নির্মাণ এবং রূপকপরিভাষাদির জন্ম-পরিচয় ও জীবনী নির্মাণ একটি যুগান্তরকারী শিল্প। এ শিল্পের নাম রূপকসাহিত্য শিল্প। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক মতবাদ রয়েছে এবং এসবের অনুকূলে যতগুলো গল্পকাহিনি রয়েছে তা সবই এ শিল্পের মাধ্যমেই নির্মিত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২,৫০০টিরও অধিক স্বয়ং সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় মতবাদ রয়েছে। আবার এসব শাস্ত্রীয় মতবাদের অনুকূলে প্রায় পাঁচলক্ষাধিক (৫,০০,০০০) পারম্পরিক মতবাদ রয়েছে। সব মতবাদেরই একটি করে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, সংহারকর্তা, নগরকর্তা, সংহারকর্তা, আদিমানব, আদিমানবী ও বর্থ্য রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে পাপ, পুণ্য, স্বর্গ ও নরক।
অত্যন্ত মজার ব্যাপার হলো এক শাস্ত্রীয় মতবাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা,
সংহারকর্তা, নগরকর্তা, সংহারকর্তা, আদিমানব, আদিমানবী ও বর্থ্য এবং পাপ,
পুণ্য, স্বর্গ ও নরক ইত্যাদির সাথে অন্য মতবাদের এসব উপাদানের অবিকল মিল
নেই। এর কারণ একেক রূপকার একেকভাবে নিজস্ব মনের রঙতুলি দ্বারা এসব নির্মাণ
করেছেন। যেমন পুরাণীদের নির্মিত স্রষ্টা ব্রহ্মা ও কুরানীদের নির্মিত
স্রষ্টা আল্লাহ। ব্রহ্মার ঔরসজাত সন্তানাদি নির্মাণ করা না হলেও তাঁর
মানসপুত্র ও মানসীকন্যা অনেক নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু কুরানীদের আল্লাহর
ঔরসজাত কিংবা মানসসন্তান কিছুই নির্মাণ করা হয়নি। ব্রহ্মার ব্যাপারে
নির্মাণ করা হয়েছে তিনি বিশ্বজগতের সব কিছুই কেবল মন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।
কিন্তু আল্লাহর ব্যাপারে নির্মাণ করা হয়েছে তিনি প্রেমাসক্ত হয়ে নিজের
জ্যোতি হতে আংশিক জ্যোতি সর্ব প্রথমে ভিন্ন করেছেন। সে ভিন্ন জ্যোতি হতেই
জ্যোতি পৃথকীকরণের দ্বারা এ বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। এমনিভাবে একেক
শাস্ত্রীয় মতবাদের সৃষ্টিকর্তার একেক প্রকার বিশ্ব নির্মাণপদ্ধতি ও একেক
প্রকার তাদের চরিত্র পাওয়া যায়।
বাস্তবে বলতে হয় কোন রূপকার তো সৃষ্টিকর্তার বাড়ির নিমন্ত্রিত অতিথিও নন
কিংবা সৃষ্টিকর্তাও কোন রূপকারের বাড়ির চা-চক্রের নিমন্ত্রিত অতিথিও নন।
তবে রূপকাররা সৃষ্টিকর্তাগণের সৃষ্টি হতে তাদের গঠনগাঠন, আসন-বসন,
আহার-বিহার, সন্তান-সন্ততি ও প্রেম-রাগ সবকিছুই অবিকল বলে দিলেন কিভাবে?
যদি দৈববাণী বা ঐশিবাণী যোগেই এসব বলা হতো তবে সারাবিশ্বের সব বর্ণনা একই
হতো। এরূপ প্রশ্নের উত্তর হলো এসব কেবলই রূপকসাহিত্যের সূত্রাদি দ্বারাই
নির্মিত।
এবার আমরা নতুন একটি সৃষ্টিকর্তা নির্মাণকার্য আরম্ভ করব। সুতীক্ষ্ণ
দৃষ্টি রাখব যাতে করে আমাদের নয়া স্রষ্টা বিশ্বের অন্যান্য মতবাদের
স্রষ্টার সাথে অবিকল মিলে না যায়। আমাদের স্রষ্টার নাম ‘কাঁই’।
তিনি সর্ব প্রথম রূপকারগণের দ্বারা সৃষ্টি হয়ে মানুষের দ্বারা পূজিত হতে
আরম্ভ করেন। দিব্যদৃষ্টিহীন শাস্ত্রীয় মতবাদী পণ্ডিতদের দ্বারা জাগতিক
উপাস্যের স্তরে উন্নীত হওয়ার পর তিনি ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। সেখান থেকেই
তিনি বিশ্বজগৎ প্রসারণ করতে আরম্ভ করেন। ২১ দিনে সারাবিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেন।
যাবতীয় কার্যাদি কেবল ইঙ্গিতের দ্বারাই তিনি পরিচালনা করে থাকেন। কোন কিছু
সৃষ্টি করতে চাইলে তিনি কেবল একটি ইঙ্গিত করেন সঙ্গেসঙ্গেই তা হয়ে যায়।
কাঁইয়ের আহার, নিদ্রা, ভয়, চিন্তা, লোভ ও লালসা সবই আছে। কিন্তু তাঁর কোন
জন্ম-মৃত্যু নেই। তিনি অনাদি কিন্তু অনন্ত। তিনি প্রতিমাসে মাত্র একবার
আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহটি পরিভ্রমণে আসেন। ঐ দিনক্ষণ জেনে ও বুঝে
আত্মতত্ত্বপন্থী সাধক-সাধিকাগণ কাঁইয়ের দর্শনলাভ করে মানবকর্ম সারা করে
থাকেন।
(সংক্ষিপ্ত)
তথ্যসূত্রঃ
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
তথ্যসূত্রঃ
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন