রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৪

তীর্থযাত্রা

(তীর্থযাত্রা ও পশুবলির আত্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ- ১ম পর্ব)
(The theosophical analysis of Pilgrimage or Immolation- 1st chapter) “التحليل لاهوتيا من الحج أو الذبح- الفصل الأول” (আত্তাহলিল লাহুতিয়ান মিন আলহাজ্‌ব আও আজ্জাবহা- আলফাসলু আলয়াওয়াল) আবহমানকাল হতেই বাংভারতীয় উপমহাদেশে তীর্থযাত্রা ও পশুবলি এবং এর প্রাসঙ্গিকতায় নিষ্কামিতা, তীর্থস্নান ও তীর্থবারি পরিভাষাগুলো শাস্ত্রীয়, পারম্পরিক ও মরমী অঙ্গনে দেখতে-শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু এসবের তত্ত্ব ও তাত্ত্বিকতা জানতে ও বুঝতে চাইলে সঠিকভাবে জানা ও বুঝার মাধ্যম একেবারেই নেই বললেও ভুল হবে না। কী শাস্ত্রিক, কী পারম্পরিক, কী মরমী, কী পাঠাগার, কী সাধনগৃহ (মন্দির ও মঠ) এবং কিবা গ্রন্থ-গ্রন্থিকা। কোথাও সঠিক সমাধান মিলে না। তবে ইদানিং Internet search করে যতটুকু পাওয়া যায় browser-রা দেখে নিতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ ইচ্ছে করলেও এসবের বর্ণনা-বিবরণ সহজে জানতে ও বুঝতে পারে না। তাই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। ওপরোক্ত বিষয়গুলোকে ১.তীর্থযাত্রা ২.পশুবলি ৩.নিষ্কামিতা ৪.পুণ্যস্নান ও ৫.তীর্থবারি- এ ৫টি পৃথক পৃথক পর্বে বিভক্ত করে আলোচনা তুলে ধরতে চেষ্টা করছি।
তীর্থযাত্রা
Pilgrimage (পিলগ্রিমেজ)/ ‘ﺤﺞ’ (হজ্ব)
এটি রূপক সাহিত্যের মূলক-পরিবারের একটি অন্যতম ‘মূলক-সদস্য’। এর রূপক পরিভাষা ‘নিষ্কামিতা’। এটি একটি ‘মূলক-প্রধান’ সত্তা।
সারা বিশ্বে অবস্থিত প্রায় সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক ঘরানারই তীর্থ, তীর্থধাম বা মহাতীর্থ ইত্যাদি রয়েছে। আবার যার যার তীর্থ, তীর্থধাম বা মহাতীর্থ যাত্রা-ভ্রমণ-গমনেরও শাস্ত্রীয় বিধি-বিধান রয়েছে। বলতে গেলে সবাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই আজ আর কারো এরূপ কথা বলার অবকাশ নেই যে, কেবল আমাদের সাম্প্রদায়িক বা শাস্ত্রীয় মতবাদই পরিপূর্ণ আর সব অপূর্ণ। আমাদের মতবাদটিই সঠিক আর সব ভুল। আমাদের শাস্ত্রীয় স্রষ্টা সঠিক আর সব ভ্রান্ত। স্বয়ং চলচ্চিত্র (Video) প্রদর্শনীর এ যুগে কার মতবাদ বড় আর কার মতবাদ ছোট- কার মতবাদ সঠিক ও আর কার মতবাদ ভুল, কার মতবাদ বিশ্বের কতজন মানুষ মান্য করে এসব নিয়ে মাইক লাগিয়ে আর গলাবাজি করার সময় নেই। তবুও যদি কেউ এসব নিয়ে গলাবাজি করে তবে তো সে নিজেই বর্বর। আর এ ব্যাপারে কুরানে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, “তোমাদের মতবাদ তোমাদের জন্য এবং আমাদের মতবাদ আমাদের জন্য।” “لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ” (লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়া দিন)। (Lakum deenukum waliya deen). “To you be your religion and to me my religion.” (কুরান, সুরা কাফিরুন- ৬)
কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy)
তীর্থযাত্রার পুরাণী দর্শন
(Mythological philosophy of Pilgrimage)
পুরাণী মনীষীদের মতে তীর্থযাত্রা অতি উত্তম সাধনের মধ্যে অন্যতম। এর দ্বারা অতীতের পাপ মোচন হয়। এর দ্বারা আত্মশুদ্ধি হয়।
তীর্থধাম দর্শন সম্পর্কে বাণী
অনন্ত সংহিতায় বর্ণিত আছে একদা শিব পার্বতীকে বলছিলেন-“লোকে হাজারো অশ্বমেধ ও বাজপেয় যজ্ঞ, হাজারো পুণ্য কর্ম, হাজার যোগ অভ্যাস করে যে ফল লাভ করে, কেবলমাত্র ‘শ্রীধামের’ কথা স্মরণ করেই তার চেয়ে কোটিগুণ বেশি ফল লাভ করা যায়। অতএব, ধাম দর্শন বা ধাম বাসের ফলের কথা বর্ণনার অতীত।” (তথ্যসূত্রঃ ওয়েবসাইট, ইস্কন পুণ্ডরীকধাম)।
শ্রী স্বরূপদামোদরের উক্তি
পুণ্ডরীক বিদ্যানিধির প্রাণপ্রিয় সখা স্বরূপদামোদর মহাপ্রভুর কাছে তাঁর অভিলাষ ব্যক্ত করতে গিয়ে শ্রীধামের মহিমা বর্ণনা করতঃ বলেছিলেন– “চিন্তামণির দ্বারা আবৃত, দ্বিতীয় চতুর্ব্যূহ (অনিরুদ্ধ, সঙ্কর্ষণ, প্রদ্যূম্ন এবং নারায়ণ) দ্বারা যে স্থানের ভূমণ্ডল ও সুদর্শন চক্র দ্বারা যাঁর আকাশমার্গ সুরক্ষিত থাকে, যে স্থান জুড়ে চিদানন্দ বিগ্রহ ‘শ্রী লক্ষী-জনার্দন’ নিত্যকাল বিরাজ করে, যে স্থানটি গৌড়মণ্ডলে স্থিত হলেও অভিন্ন বৃন্দাবন স্বরূপ, যে রসপূর্ণ স্থান দেব-গন্ধর্ব-মুনি-সিদ্ধগণের দ্বারাও আরাধিত, আমার নিজ নিবাস কি সেই ‘পুণ্ডরীক ধাম’ হবে না প্রভু?” (তথ্যসূত্রঃ ওয়েবসাইট, ইস্কন পুণ্ডরীকধাম)।
‘শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম’
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাবিলাস ক্ষেত্র ব্রজ অভিন্ন শ্রীগৌড়মণ্ডলের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ, শাস্ত্র যাকে ব্রহ্মগিরি এবং জনকপুরী বলে বন্দনা করে, শ্রীমতি রাধারাণীর পিতা বৃষভানুরাজ খ্যাত শ্রীল পুণ্ডরীক বিদ্যানিধির মহা-আবির্ভাব স্থলী যা ‘পুণ্ডরীক ধাম’ নামে প্রসিদ্ধ। শ্রীমতি রাধারাণীসহ বিভিন্ন গৌর পার্ষদদের পদচারণার লীলা বিজড়িত বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান শ্রীধামে অদ্যাপিহ বিরাজমান। শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী– মহাপ্রভুর লীলাবিলাস কালে তদীয় পার্ষদগণ নবদ্বীপ ধামের পরে বৃন্দাবন অপেক্ষাও ‘শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধামে’ অধিক আগমন করেছেন, যা শ্রীধামের গুরুত্বকে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
‘শ্রী পুণ্ডরীক ধামে’ এখনো অবধি শ্রীমতি রাধারাণীর পাদস্পর্শে আবির্ভূত, তীর্থশ্রেষ্ঠ ও সকল ভজনস্থলীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সাধকগণের নিত্য ধ্যেয়– ‘শ্রীশ্রী রাধাকুণ্ড’ বিদ্যমান, যে কুণ্ডে সমগ্র তীর্থজল নিত্য অবস্থান করে, যাঁ দর্শনমাত্রও সর্বপাপ বিদূরিত হয়। (তথ্যসূত্রঃ ওয়েবসাইট, ইস্কন পুণ্ডরীকধাম)।
বৃহৎ পদ্ম পুরাণে বর্ণিত ধাম অপরাধসমূহ
০১. শিষ্যের নিকট শ্রীধামের মাহাত্ম্য প্রকাশকারী গুরুদেবকে অপমান বা অসম্মান প্রদর্শন করা।
০২. শ্রীধামকে অস্থায়ী বলে মনে করা।
০৩. শ্রীধামবাসী অথবা শ্রীধাম যাত্রীগণের কারও প্রতি উৎপীড়ন বা অনিষ্ট করা অথবা তাঁদেরকে সাধারণ জড়লোক বলে মনে করা।
০৪. শ্রীধামে বাসকালে জড়কর্ম করা।
০৫. শ্রীবিগ্রহ অর্চন ও শ্রীনাম কীর্তনকালে অর্থ সংগ্রহ করা ও তৎদ্বারা ব্যবসা করা।
০৬. শ্রীধামকে কোন দেশ বা রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত বলে মনে করা অথবা শ্রীধামকে কোন দেবতার সাথে সম্বন্ধযুক্ত স্থান বলে মনে করা এবং শ্রীধামের সীমা নিরূপনের চেষ্টা করা।
০৭. শ্রীধামে বাসকালে পাপকর্ম করা।
০৮. বৃন্দাবন, নবদ্বীপ ও পুণ্ডরীক ধাম আদি ভগবৎ লীলা স্থানগুলোর মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা।
০৯. শ্রীধামের মাহাত্ম্য প্রকাশকারী শাস্ত্রের নিন্দা করা।
১০. শ্রীধামের মাহাত্ম্যকে কল্পিত মনে করে অবিশ্বাস করা।
(তথ্যসূত্রঃ ওয়েবসাইট, ইস্কন পুণ্ডরীকধাম)।
তীর্থযাত্রার কুরানী দর্শন
(Triadic philosophy of Pilgrimage)
কুরানী শাস্ত্রীয় দর্শন অনুযায়ী তীর্থযাত্রাকে আরবি ভাষায় বলা হয় হজ্ব। হজ্বের অনুকুলে বর্ণনা তুলে ধরা হলো। কুরানী মনীষীদের শাস্ত্রীয় দর্শন অনুযায়ী তীর্থযাত্রার পদ্ধতি দুটি। যথা ১.হজ্ব ও ২.ওমরা।
হজ্বের ফরজ ও ওয়াজিব
হজ্জের ফরজ ৩টি
১. ইহরাম বাধা
২. উ’কুফে আ’রাফা (আরাফাতের ময়দানে অবস্থান)
৩. তাওয়াফুয্ যিয়ারাত
হজ্জের ওয়াজিব ৬টি
১. ‘সাফা ও মারওয়া’ পাহাড় দ্বয়ের মাঝে ৭ বার সায়ী করা।
২. অকুফে মুযদালিফায় (৯ই জিলহজ্জ) অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত একমুহুর্তের জন্য হলেও অবস্থান করা।
৩. মিনায় তিন শয়তান (জামারাত) সমূহকে পাথর নিক্ষেপ করা।
৪. ‘হজ্জে তামাত্তু’ ও ‘কি্বরান’ কারীগণ ‘হজ্জ’ সমাপনের জন্য দমে শোকর করা।
৫. এহরাম খোলার পূর্বে মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা।
৬. মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদা অর্থাৎ মক্কা থেকে বিদায়কালীন তাওয়াফ করা। এছাড়া আর যে সমস্ত আমল রয়েছে সব সুন্নাত অথবা মুস্তাহাব।
ওমরাহর ফরজ ও ওয়াজিব
ওমরার ফরজ ২টি
১. ইহরাম পরিধান করা
২. তাওয়াফ
ওমরার ওয়াজিব ২টি
১. সাফা ও মারওয়া মধ্যবর্তী (সবুজ বাতি) স্থানে সাতবার সায়ী করা।
২. মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা।
তালবিয়া
”লাব্বাঈক আল্লাহুম্মা লাব্বাঈক, লাব্বাঈক, লা-শারীকা-লাকা লাব্বাঈক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুল্ক, লা শারীকালাক।”
অর্থ: “আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত! আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোন অংশীদার নেই। নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও সম্পদরাজি আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আপনার। আপনার কোন অংশীদার নেই।”
ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ
১. সেলাইযুক্ত যে কোন কাপড় বা জুতা ব্যবহার, এক্ষেত্রে স্পঞ্জ সেন্ডেলের ব্যবহার করা।
২. মস্তক ও মুখমন্ডল (ইহরামের কাপড়সহ যে কোন কাপড় দ্বারা) ঢাকা,
৩. পায়ের পিঠ ঢেকে যায় এমন জুতা পরা।
৪. চুলকাটা বা ছিড়ে ফেলা,
৫. নখকাটা,
৬. ঘ্রাণযুক্ত তৈল বা আতর লাগানো।
৭. স্ত্রীর সঙ্গে সংগম করা।
৮. যৌন উত্তেজনামূলক কোন আচরণ বা কোন কথা বলা।
৯. শিকার করা।
১০. ঝগড়া বিবাদ বা যুদ্ধ করা।
১১. চুল দাড়িতে চিরুনী বা আঙ্গুলী চালনা করা, যাতে ছিড়ার আশংকা থাকে।
১২. শরীরে সাবান লাগানো।
১৩. উকুন, ছারপোকা, মশা ও মাছিসহ কোন জীবজন্তু হত্যা করা বা মারা।
১৪. কোন গুনাহের কাজ করা, ইত্যাদি।
হজ্জের প্রকার ও নিয়তসমূহ
প্রথম প্রকার হজ্জে ইফরাদ
বর্ণনা: ওমরাহ্ ব্যতিত শুধু হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা এবং হজ্জের সাথে ওমরাহকে না মিলানো। (বদলী হজ্জের জন্যও এই হজ্জ)।
নিয়্যাত: আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াসছির হুলিওয়াতা কাব্বালহুমিনি্ন। (বাংলা নিয়ত- আল্লাহ আমি ইফরাদ হজ্জের উদ্দেশ্যে আপনার সন্তুষ্টির জন্য ইহরাম বাধলাম। তা সহজ করে দিন ও কবুল করে নিন)
দ্বিতীয় প্রকার হজ্জে কি্বরান
বর্ণনা: একত্রে একই স্থান থেকে হজ্জ ও ওমরার নিয়্যাত করে হজ্জের সাথে ওমরাহকে মিলানো এবং একই ইহরামে উভয়টি আদায় করা।
নিয়্যাত: আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল উ’মরাতা ফায়াচ্ছির লী-ওয়াতাকাব্বাল মিন্নী। (বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি আপনার উদ্দেশ্যে হজ্জে কি্বরানের জন্য ইহরাম বাধলাম তা সহজ করে দিন ও কবুল করে নিন)
তৃতীয় প্রকার হজ্জে তামাত্তু
বর্ণনা: একই সফরে পৃথক পৃথক ভাবে ‘ইহরাম’ পরিধান করে ‘হজ্জ ও ওমরাহ’ আদায় করা। প্রথম ইহরামে ওমরাহর নিয়্যাত করে তা পালন শেষে চুল কেটে ‘ইহরাম’ খুলে হালাল হয়ে দ্বিতীয় বার নতুন করে হজ্জের নিয়্যাতে ৮ই জিলহজ্জ ‘মক্কা শরীফ’ থেকে হজ্জের জন্য ইহরাম বাধা। তামাত্তু করার ইচ্ছা থাকলে প্রথমে ওমরার নিয়্যাত করে এহরাম বাঁধুন।
শুধু ওমরাহর নিয়্যাত
আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল উম’রাতা ফায়াচ্ছির লী-ওয়াতাকাব্বাল মিন্নী। (বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি ওমরাহ্ পালনের জন্য ইহরাম বাধলাম তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন)
শুধু হজ্জের নিয়্যাত
আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াচ্ছিরহু-লী অ-তাকাব্বালহু মিন্নী। (বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি পবিত্র হজ্জ পালনের জন্য ইহরাম বেধে নিয়ত করলাম তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন)
তাওয়াফের বিবরণ
হাজীদের সর্বপ্রথম কাজই হলো (তামাত্তু ও ক্বেরানকারীগণ) নিজের মালছামান গুছিয়ে রেখে পাক-পবিত্র হয়ে মোটেই দেরী না করে ‘হারাম শরীফে’ হাজিরা দেওয়া এবং ‘তাওয়াফ’ করা। ওমরাহ এবং হজ্জের তাওয়াফ ব্যতীত নফল তাওয়াফও করা যায়। যেমন: রাসূল (দঃ), সাহাবা-আওলিয়া, আহলে-বাইত, মা-বাবা, পীর-উস্তাদ ও অন্যান্য মুরুব্বী বা সন্তানদের স্মরণে বা তাঁদের নামে তাওয়াফ করা।
তাওয়াফের ওয়াজিবসমূহ
১. শরীর পাক-সাফ রাখা, ওজু করা। মহিলাদের হায়েজ নেফাছ অবস্থায় তাওয়াফ করা জায়েজ নাই।
২. ছতর ঢাকা। অর্থাৎ যেটুকু ঢাকা প্রত্যেক পুরুষ-নারীর জন্য ফরজ।
৩. ‘হাতীমে কা’বার’ বাইরে থেকে ‘তাওয়াফ’ করা।
৪. পায়ে হেঁটে ‘তাওয়াফ’ করা। অক্ষম ব্যক্তি খাটিয়ার মাধ্যমে ‘তাওয়াফ’ করতে পারেন।
৫. ‘হাজরে আস্ওয়াদ’ থেকে শুরু করে ডানদিক দিয়ে ‘তাওয়াফ’ শুরু করা।
৬. এক নাগাড়ে বিরতিহীনভাবে ‘সাতবার চক্কর’ দিয়ে ‘তাওয়াফ’ পূর্ণ করা।
৭. ‘সাত চক্করে’ এক ‘তাওয়াফ’, এটা পূর্ণ হলেই ‘তাওয়াফের’ নামাজ পড়া।
তাওয়াফের সুন্নত কার্যাবলী
১. ‘তাওয়াফে’র শুরুতে ‘হাজরে আসওয়াদ’ এর দিকে মুখ করা।
২. সম্ভব হলে ‘হাজরে আস্ওয়াদ’ চুম্বন করা। নতুবা হাত দ্বারা দূর থেকে ইশারা করা, এবং মুখে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ’ বলা।
৩. ‘হাজরে অস্ওয়াদ’ বরাবর দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরিমা’র ন্যায় উভয় হাত সিনা পর্যন্ত উঠান।
৪. যে ‘তাওয়াফে’র পরে ‘সাঈ’ আছে তাতে ‘এযতেবা’ করা। অর্থাৎ ইহরামের চাদরের (উপরের অংশের) দুই মাথা ডান বগলের নিচ দিয়ে বাম কাঁধের উপর ফেলে দেওয়া।
৫. ‘সাঈ’ যুক্ত ‘তাওয়াফে’র প্রথম তিন চক্করে ‘রমল’ করা। অর্থাৎ বীরের মত হেলে দুলে জোর ক্বদমে (একের পর এক পা ফেলে) চলা।
৬. বাকী চার চক্কর সাধারণ গতিতে (ধীরে ধীরে) সম্পন্ন করা।
৭. প্রত্যেক চক্কর তাওয়াফ শেষ করে এবং শেষ চক্করেরও পরে ‘হাজরে অস্ওয়াদ’কে চুম্বন করা। সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে “বিসমিল্লাহে আল্লাহ আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ্” দোয়াটি পাঠ করা এবং ৩ নং নিয়মের ন্যায় দাঁড়িয়ে ইশারা করে ‘তাওয়াফ’ শেষ করা।
তাওয়াফের নিয়্যাত
আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদু তাওয়াফা বাইতিকাল হারাম ফায়াচ্ছিরহু-লী, ওয়া তাক্বাব্বাল-হু-মিন্নী, সাবাআ’তা আশ্ওয়াতি্বন লিল্লাহি তায়া’লা। (বাংলায় নিয়ত- হে আল্লাহ আমি তাওয়াফ পালনের জন্য নিয়ত করলাম)
সায়ীর নিয়ম
‘হজ্জ ও ওমরাহ’ ছাড়া নফল ‘তাওয়াফে’র কোন সায়ী নাই। কারো নামে ওমরাহ করতে হলেও সায়ী করতে হবে। সায়ী অর্থ দৌড়ানো। এটা ‘ছাফা’ পাহাড় থেকে প্রথমে শুরু করতে হবে। ছাফা থেকে মারওয়া। মারওয়া থেকে ছাফায়। এভাবে সাতবার সায়ীর সময় প্রথম তিন চক্কর সবুজ বাতির মাঝের অংশটুকু দৌড়ে দৌড়ে হেলে দুলে যাওয়া সুন্নাত (পুরুষদের জন্য)। পরের চার চক্কর সাধারণ গতিতে সম্পন্ন করতে হবে।
সায়ীর সহজ দোয়া
সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়া লা-হাওলা, ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আ’লিয়্যিল আ’যীম, রাবি্বগফির ওয়ারহাম ওয়াআনতাল আ-আজ্জুল আকরাম।
সায়ীর কুরানী দোয়া
‘ইন্নাছ্ ছাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন্ শাআ’ইরিল্লাহ্ ফামান হাজ্জাল বাইতা আও-ই’ তামারা ফালা জুনাহা আ’লাইহি আইয়াত্ত্বাওয়াফা বিহিমা ওমান তাত্বাওয়াআ খাইরান ফা-ইন্নাল্লাহা শাকিরুণ আ’লীম।” উপরোক্ত দুই দোয়া সাতবার চক্করের সময় হাটতে চলতে পড়তে হবে। পরেরটি না পারলে উপরেরটিই যথেষ্ট হবে।
হজ্জ ও ওমরাহর করণীয়
একনজরে তিন প্রকার হজ্জের জরুরী কাজ, হুকুম ও তারিখসমূহ।
১ম প্রকার হজ্জে ইফরাদের ১১টি জরুরী কাজ
৩টি ফরজ
(১) ইহরাম (শুধু হজ্জের জন্য)।
(২) ৯ই জিলহজ্জ উ’কুফে আ’রাফা (সূর্য হেলার পর থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত)।
(৩) ১০ থেকে ১২ই জিলহজ্জ তাওয়াফে যিয়ারাত তবে ১০ই জিলহজ্ব তারিখই উত্তম।
৬টি ওয়াজিব
(৪) অকুফে মুযদালেফায় ১০ই জিলহজ্জ সুবহে সাদেক সূর্য উদয় পর্যন্ত।
(৫) ১০ই জিলহজ্জ বড় শয়তানকে (জামারাতে আক্কাবায়) ৭টি কঙ্কর মারা। সুর্য হেলার পূর্বে দুপুর ১২টার আগে সুন্নত।
(৬) মাথা মুন্ডানো তবে দম দিতে হবে।
(৭) সায়ী ৯ তারিখের পূর্বে বা পরে) করে দিবেন।
(৮) ১১ তারিখে তিন শয়তানকে (প্রথম ছোট/মেঝ ও পড়ে বড়) ৭×৩=২১টি পাথর মারা।
(৯) ১২ তারিখে অনুরূপ তিন শয়তানকে ৭×৩= ২১টি পাথর মারা। সর্বমোট তিন দিনে ৭+২১+২১= ৪৯টি কঙ্কর মারা।
(১০) ‘বিদায়ী তাওয়াফে’ (মক্কার বাইরের লোকদের জন্য) বিদায়ের পূর্বে। এটি ওয়াজিব।
(১১) তাওয়াফে কুদুম করা। (মক্কায় গিয়ে সর্বপ্রথম)
২য় প্রকার হজ্জে কেরানের ১৩টি জরুরী কাজ
৩টি ফরজ
(১) ইহরাম (হজ্জ ও ওমরাহর জন্য)
(২) আরাফাতে অবস্থান।
(৩) তাওয়াফুয যিয়ারাত।
১০টি ওয়াজিব
(৪) ওমরাহর তাওয়াফ
(৫) ওমরাহর সায়ী
(৬) হজ্জের সায়ী
(৭) অকুফে মুযদালিফায়
(৮) ১০ই জিলহজ্ব তারিখে বড় শয়তানকে ৭টি পাথর মারা (দুপুর ১২টার পূর্বে) সুন্নত।
(৯) দম দিতে হবে।
(১০) মাথা মুন্ডানো।
(১১) ১১ই জিলহজ্ব তারিখে তিন শয়তানকে পাথর মারা
(১২) ১২ তারিখে তিন শয়তানকে পূর্বের ছকের নিয়মে পৃথক পৃথক ভাবে সূর্য হেলার পরে নিয়ম অনুযায়ী পাথর মারা।
(১৩) বিদায়ী তাওয়াফ।
৩য় প্রকার হজ্জে তামাত্তুর ১৫টি জরুরী কাজ
৪টি ফরজ
(১) ওমরাহর ইহরাম (বাংলাদেশ)।
(২) হজ্জের ইহরাম (৮ তারিখ মক্কায়)
(৩) উ,কুফে আরাফা (৯ই জিলহজ্জ সূর্য হেলার পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত)।
(৪) তাওয়াফে জিয়ারত (১০ তারিখ অথবা ১১, ১২ তারিখ)
১১টি ওয়াজিব
(৫) তাওয়াফে ওমরাহ (মক্কায় গিয়েই)
(৬) ওমরাহর সায়ী (ওমরাহ তাওয়াফের পরই)
(৭) মাথা মুন্ডানো (ওমরাহর পর)।
(৮) হজ্জের সায়ী
(৯) বড় শয়তানকে ৭টি পাথর মারা ( ১০ই জিলহজ্ব তারিখ সুর্য হেলার বা ১২টা পূর্বে) সুন্নত।
(১০) কুরবানী করা (পাথর মেরে ১০ তারিখ)।
(১১) মাথা মুন্ডানো দম দিতে হবে।
(১২) ১১ তারিখ তিন শয়তানকে ৭+৭+৭=২১টি পাথর মারা।
(১৩) ১২ তারিখে তিন শয়তানকে ৭+৭+৭=২১টি পাথর মারা (সর্বমোট তিন দিনে ৭+২১+২১=৪৯টি পাথর মারতে হবে)।
(১৪) বিদায়ী তাওয়াফ।
একনজরে হজ্জের ৫টি দিন ও তার কাজ বা আ’মলসমূহ
৮ই জিলহজ্জ থেকে ১৩ই জিলহজ্জ হাজীদের কোথায় কি করণীয় তার বর্ণনা নিম্নরূপ: (বিঃ দ্রঃ শুধু হজ্জে ইফরাদের জন্য কুরবানী মুস্তাহাব। শুকুর করা এবং হজ্জে তামাত্তুতে তাওয়াফে কুদুম সুন্নাত নয়) এ ছাড়া তিন প্রকারের হজ্জের আমল ৫ দিনে একই।
১ম দিন ৮ই জিলহজ্জ
ইহরাম অবস্থায় (ফরয) মক্কা থেকে হজ্জের নিয়্যাতে মিনায় রওয়ানা।
এ দিনের কাজ দু’টি
(১) ইহরাম (ফরজ) (২) ৫ ওয়াক্ত নামাজ মিনায় আদায় করা (সুন্নাত)। যোহর, আছর, মাগরিব, এশা ও ৯ তারিখ ফজর সর্বমোট ৫ ওয়াক্ত।
২য় দিন ৯ই জিলহজ্জ
১. আরাফাতে অবস্থান (ফরজ)। ২. অকুফে মুযদালিফায় (ওয়াজিব)
আরাফাতে অবস্থান (ফরজ)
১. ফজরের নামাজ মিনায় পড়ে আরাফাতের ময়দানের দিকে রওয়ানা।
২. আরাফাতে সূর্য হেলার পর অর্থাৎ ১২টার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা হজ্জের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ।
৩. ওয়াক্ত মত তাবুতে (মসজিদে নামেরায় না গেলে) বা আরাফার ময়দানে যে কোন স্থানে জোহরের সময় জোহর নামাজ আদায়।
৪. আসরের নামাজ আসরের সময় আদায় করা, নির্দিষ্ট সময় বা আগে পরে, পৃথক পৃথক ভাবে।
৫. উল্লেখ্য: ‘মসজিদে নামেরায়’ জোহর ও আসরের জামাত এক আযান দুই ইকামাতে একত্রে আদায় করলে একত্রে দুই ওয়াক্ত আদায় করতে হয়, ওটার নাম ‘জমে তাক্বদীম’। কিন্তু তাবুতে বা অন্য কোন স্থানে একত্রে নয়। ভিন্ন সময় ভিন্ন ভাবে ওয়াক্ত মত আদায় করতে হবে।)
৬. সূর্যাস্তের পর সাথে সাথে মাগরিব না পড়ে মুযদালিফায় রওয়ানা।
৭. মুযদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ এক আযান দুই এক্বামাতে একত্রে আদায়। এটা ওয়াজিব এটার নাম ‘জামে তাখীর জামাতে পড়া উত্তম।
মুযদালিফায় অবস্থান (ওয়াজিব)
মুযদালিফায় থাকাকালীন পাহাড়ে অথবা তার পাদদেশে যে কোন ঘাস দুবলা থেকে খুঁজে খুঁজে পাথর মারার জন্য ৭২টি (চানাবুটের ন্যায় কঙ্কর) ছোট ছোট পাথর সংগ্রহ করে ইহরামের কাপড়ে বেঁধে রাখা।
১০/১১/১২ তিন দিনে (৪৯টি পাথর) তিন শয়তানকে মারতে হবে।
১ম দিন ৭টি
২য় দিন ২১টি
৩য় দিন ২১টি
(সর্বমোট তিন দিনে ৭+২১+২১=৪৯টি)। তবে মিসিং হতে পারে বলে বেশী (৭২) নেওয়া সুন্নাত।
৩য় দিন ১০ই জিলহজ্জ
এ দিনের মোট কাজ ৪টি (১) বড় শয়তানকে পাথর মারা (২) কুরবানী (৩) মাথা মুন্ডানো (৪) তাওয়াফে যিয়ারাত করা-
১. মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে সূর্য উদয়ের আগ পর্যন্ত অবস্থান করা (ওয়াজিব)।
২. মিনায় পৌছে বড় শয়তানকে ৭টি পাথর সূর্য হেলার আগে (১২টার পূর্বেই) মারা। (সুন্নাত)।
৩. তারপর তামাত্তু ও কি্বরান হজ্জকারীগণ কুরবানী করা (ওয়াজিব)।
৪. এরপর ইহরাম খুলে হালাল হয়ে স্বাভাবিক পোষাক পরিধান করা। কিন্তু কোরবানী পূর্বে নয়। (তবে ইফরাদ হজ্জকারী কুরবানী না করলেও চলবে)।
৫. চুল ছাটা বা মুন্ডানোর পর মক্কায় গিয়ে (সম্ভব হলে উত্তম) তৃতীয় দিনেই তাওয়াফে যিয়ারত করা। তৃতীয় দিনে করা সর্বোত্তম। (এটা ফরজ)।
৬. তাওয়াফ শেষে মিনায় এসে রাত্রি যাপন করা সুন্নাত।
৪র্থ দিন ১১ই জিলহজ্জ
১. ১০ তারিখে কুরবানী, চুল ছাটা ও তাওয়াফে যিয়ারত না করে থাকলে আজ করা।
২. সূর্য হেলার পর থেকে (১২টার পর) মিনায় তিন শয়তানকে সূর্যাস্তের পূর্বে (প্রথম ছোট, তারপর মেজ অতঃপর বড়) ৭+৭+৭=২১টি পাথর মারা (ওয়াজিব)। মিনায় রাত্রি যাপন করা (সুন্নাত)।
৫ম দিন ১২ই জিলহজ্জ
১. তাওয়াফে যিয়ারত ১০/১১ তারিখে না করে থাকলে আজ সূর্যাস্তের পূর্বে করা অবশ্যক।
২. মিনায় সূর্য হেলার পর থেকে (সুন্নাত সময় হল) সূর্যাস্তের পূর্বে ৭+৭+৭=২১টি পাথর (ছোট, মেজ ও বড় ) শয়তানকে মেরে সূর্যাস্তের পূর্বে) মক্কায় রওয়ানার চেষ্টা করা।
জরুরী কথা
১. তবে ১১/১২ তারিখ সূর্য হেলার পূর্বে পাথর মারলে আদায় হবে না। পুনরায় মারতে হবে। নতুবা দম দিতে হবে।
২. যদি ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বে মীনা ত্যাগ করে মক্কায় রওয়ানা না হলে ১৩ তারিখ পূনরায় তিন শয়তানকে ৭+৭+৭=২১টি পাথর (ছোট, মেজ ও বড় ) মেরে (পূর্বের নিয়মে) তারপর মক্কায় আসতে হবে।
৩. তাওয়াফে যিয়ারতের উত্তম সময় ১০ই জিলহজ্জ (তবে ৩ দিন, এর সব মোট সময়) শেষ সময় ১২ই জিলহজ্জ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
৪. মক্কা থেকে মিনায় রওয়ানার পূর্বে যদি নফল তাওয়াফ করে হজ্জের নিয়্যাত সায়ী না করলে, (বা মিনায় আসলে) হজ্জের পরে তাওয়াফে যিয়ারতের পর অবশ্যই হজ্জের সায়ী করা (ওয়াজিব)। (তথ্যসূত্রঃ ইন্টার্নেট, হজ্ব এজেন্সিজ এসোসিয়েশন ওব বাংলাদেশ, মাওলানা মুহাম্মদ আমিনুল হক)।
আত্মদর্শন (Theosophy) বা আত্মতত্ত্ব (Theology)
তীর্থযাত্রা (রূপ)বি পরিব্রজ্যা, তীর্থগমন, পাপ মোচনার্থে তীর্থস্থানে গমন, Pilgrimage (পিলগ্রিমেজ), ‘ﺤﺞ’ (হজ্জ), hegira, ‘هجري’ (হিজরি) (আবি)বি অটল গমনাগমন, রতীহীন সঙ্গম (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘তীর্থযাত্রা’ পরিবার প্রধান ও রূপক সাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.পাপ মোচনার্থে তীর্থস্থানে গমন করাকে তীর্থযাত্রা বলা হয় ২.রূপক সাহিত্যে সম্ভোগ বা মৈথুনের ওপর বিজয়লাভ করার ইচ্ছাকে তীর্থযাত্রা বলে (রূ)বি নিষ্কামিতা (দেত)বি তীর্থযাত্রা।
তীর্থযাত্রার সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন
( Short Reports of the ‘Pilgrimage’ )
মূলক সদস্য : তীর্থযাত্রা
সহযোগীমূলক : পশুবলি
রূপক পরিভাষা : নিষ্কামিতা
উপমান পরিভাষা : ০০
চারিত্রিক পরিভাষা: ০০
ছদ্মনাম পরিভাষা : ০০
তীর্থযাত্রা {Pilgrimage (পিলগ্রিমেজ) ‘ﺤﺞ’ (হজ্জ)}
নিষ্কামিতা {Asexuality (এজসেক্সুয়ালিটি) ‘اللاجنسية’ (আল্লাজিনসিয়া)}
পশুবলি {Immolation (ইমোলেশন) ‘الذبح’ (আজ্জাবহ)}
তীর্থযাত্রার সংজ্ঞা (Definition of Pilgrimage)
পাপ মোচনার্থে তীর্থস্থানে গমন করাকে তীর্থযাত্রা বলা হয়।
তীর্থযাত্রার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
(Theosophical definition of Pilgrimage)
১. সম্ভোগ বা মৈথুনের ওপর বিজয়লাভ করার ইচ্ছাকে তীর্থযাত্রা বলে।
২. শুক্র নিয়ন্ত্রণের দ্বারা কাম হতে নিষ্কামী হওয়া বা কামের ওপর বিজয়লাভের ইচ্ছাকে তীর্থযাত্রা বলে।
তীর্থযাত্রার প্রকারভেদ (Classification of Pilgrimage)
তীর্থযাত্রা দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান তীর্থযাত্রা ও ২.উপমিত তীর্থযাত্রা।
১. উপমান তীর্থযাত্রা (Analogical Pilgrimage)
পাপ মোচনার্থে তীর্থস্থানে গমন করাকে উপমান তীর্থযাত্রা বলে।
২. উপমিত তীর্থযাত্রা (Compared Pilgrimage)
রূপক সাহিত্যে মৈথুনের ওপর বিজয়লাভ করার ইচ্ছাকে উপমিত তীর্থযাত্রা বলে।
তীর্থযাত্রার পরিচয় (Identity of Pilgrimage)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘তীর্থযাত্রা’ পরিবারের ‘মূলকসদস্য’ বিশেষ। সাধারণত তীর্থস্থান দর্শনের জন্য যাত্রা করাকে তীর্থযাত্রা বলা হয়। কিন্তু রূপক সাহিত্যে কাম হতে নিষ্কামী হওয়ার জন্য মৈথুন করাকে তীর্থযাত্রা বলা হয়। বর্তমানকালে যত্রতত্র যেমনটি তীর্থস্থান রয়েছে পূর্বকালে তেমনটি ছিল না। তবে তীর্থযাত্রা নিয়ে এতো লেখালেখি হওয়ার কারণ কী? এর উত্তর হলো পূর্বকালে যে তীর্থযাত্রা নিয়ে লেখালেখি করা হতো তা আদৌ শাস্ত্রীয় তীর্থস্থান ভ্রমণ যাত্রার বর্ণনা ছিল না। বরং তা ছিল কাম হতে নিষ্কামী হওয়ার কামযজ্ঞ নিয়ে। বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় গ্রন্থ-গ্রন্থিকায় তীর্থযাত্রা নিয়ে যত লেখালেখি করা হয়েছে তা সবই কাম হতে নিষ্কামী হওয়ার মৈথুনযাত্রা। কিন্তু বড় মজার বিষয় হলো বর্তমানকালের শাস্ত্রীয় বৈখ্যিক ও টৈকিকরা প্রকৃত আত্মদর্শন হতে ছিটকে পড়েছে। তারা প্রভুর নির্মিত মানবদেহের সনাতনী তীর্থস্থান পরিত্যাগ করে মানুষের নির্মিত তীর্থঘরে বছরে এক বা একাধিকবার তীর্থযাত্রা করে পাপ মোচন করার কথা বলে থাকেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন