আস্তিক-নাস্তিক প্রসঙ্গঃ পর্ব-১ (আধ্যাত্মিকবিদ্যা, আত্মদর্শন, আত্মতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, পরম্পরাতত্ত্ব, দিব্যজ্ঞান ও বলনদর্শন টীকা)।
আস্তিক-নাস্তিক প্রসঙ্গঃ (১.আস্তিক)
আস্তিক
Theist (থিয়েস্ট)
‘مؤمنا’ (মু’মিনা)
Theist (থিয়েস্ট)
‘مؤمنا’ (মু’মিনা)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির রূপকপরিবারের অন্যতম একটি ‘রূপকপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘বিশ্বাসী’।
আস্তিক (রূপ)বিণ আস্থাভাজন, নির্ভরযোগ্য,
বিশ্বাসস্থাপনকারী, নির্ভর করা যেতে পারে এরূপ, faithful (ফেতফুল), theist
(থিয়েস্ট), ‘مؤمنا’ (মু’মিনা), মুখলেস (আ.ﻤﺧﻟﺺ) (প্র) ১.কাঁই বা
ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাসী, স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসী, শাস্ত্রীয় সৃষ্টিকর্তা,
পালনকর্তা ও পুনরুত্থানমতবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তি, সাঁই ও কাঁইয়ের ওপর
বিশ্বাসী ব্যক্তি বি শাস্ত্রীয়গ্রন্থ বা শাস্ত্রগ্রন্থে বিশ্বাসী
২.জরৎকারু মুনি ও তাঁর পত্নী নাগরাজ বাসুকির ভগিনী মনসাদেবির সন্তান। তাঁর
মাতা নাগরাজ বাসুকিদেবির ভগিনী ছিলেন (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘বিশ্বাসী’ পরিবারের ‘রূপকপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) রূপকসাহিত্যের দৈবিকা ও প্রতীতিগণের প্রতি আস্থা স্থাপনকারিকে আস্তিক বলা হয় (রূ)বিণ আস্তিক (দেত)বিণ বিশ্বাসী বিপ নাস্তিক।
(প্র) জরৎকারু মুনি ও তাঁর পত্নী নাগরাজ বাসুকির ভগিনী
মনসাদেবির সন্তান। তাঁর মাতা নাগরাজ বাসুকিদেবির ভগিনী ছিলেন। জরুৎকারু
মুনির নিদ্রাভঙ্গ করে অপ্রিয় হওয়াই তিনি তাঁর গর্ভবতী পত্নীকে ত্যাগ করে
যাবার সময় গর্ভস্থ সন্তানকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন- “অস্ত্যয়ং সুভসে গর্ভস্তব”।
অস্তি পদাদি বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন- সে জন্য তার নাম হয় আস্তিক। অর্জুনের
পৌত্র এবং অভিমন্যুর পুত্র মহারাজ পরীক্ষিতের ব্রহ্মশাপে তক্ষক দংশনে
মৃত্যু হওয়ায় তাঁর পুত্র জন্মেজয় সর্পসত্র করে নাগবংশ নির্মূল করতে চান।
বাসুকি এ ঘটনা ভগিনীর সাহায্যে আস্তিককে জানান। আস্তিক যজ্ঞস্থানে গিয়ে
জন্মেজয়কে সন্তুষ্ট করে মাতৃশাপে বিলুপ্তপ্রায় সর্পকুলকে বিনাশের হাত হতে
রক্ষা করেন। আস্তিকের নাম স্মরণ করলে সর্পভয় দূর হয়।
আস্তিকের সংজ্ঞা
১. কোন বিষয়ের ওপর আস্থা বা নির্ভরশীল ব্যক্তিকে আস্তিক বলে।
২. তথাকথিত শাস্ত্রাদিনির্ভর ও অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত শাস্ত্রীয় নিরাকার উপাস্য বা দৈবিকা ও প্রতীতি মতবাদ বিশ্বাসী এবং বস্তুবাদে অবিশ্বাসীদেরকে বিশ্বাসী বা আস্তিক বলে।
৩. পারম্পরিক ও শাস্ত্রীয় রূপকগল্পকাহিনি যাচাইবাছাই না করে কেবলই অন্ধভাবে বিশ্বাসকারিকে আস্তিক বলা হয়।
৪. রূপকসাহিত্যের আত্মদর্শনের উপমাদি বিশ্বাসকারিকে আস্তিক বলে। যেমন- সাঁই ও কাঁইয়ের নিরাকার অস্তিত্ব স্বীকারকারী।
৫. পারম্পরিক ও শাস্ত্রীয় রূপকগল্পকাহিনি অন্ধভাবে বিশ্বাসকারিকে আস্তিক বলে।
১. কোন বিষয়ের ওপর আস্থা বা নির্ভরশীল ব্যক্তিকে আস্তিক বলে।
২. তথাকথিত শাস্ত্রাদিনির্ভর ও অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত শাস্ত্রীয় নিরাকার উপাস্য বা দৈবিকা ও প্রতীতি মতবাদ বিশ্বাসী এবং বস্তুবাদে অবিশ্বাসীদেরকে বিশ্বাসী বা আস্তিক বলে।
৩. পারম্পরিক ও শাস্ত্রীয় রূপকগল্পকাহিনি যাচাইবাছাই না করে কেবলই অন্ধভাবে বিশ্বাসকারিকে আস্তিক বলা হয়।
৪. রূপকসাহিত্যের আত্মদর্শনের উপমাদি বিশ্বাসকারিকে আস্তিক বলে। যেমন- সাঁই ও কাঁইয়ের নিরাকার অস্তিত্ব স্বীকারকারী।
৫. পারম্পরিক ও শাস্ত্রীয় রূপকগল্পকাহিনি অন্ধভাবে বিশ্বাসকারিকে আস্তিক বলে।
আস্তিকের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা
শাস্ত্রীয় কল্পকাহিনি ও অলীক রূপক গল্পকাহিনি গ্রাহ্যকারিকে আস্তিক বলে।
শাস্ত্রীয় কল্পকাহিনি ও অলীক রূপক গল্পকাহিনি গ্রাহ্যকারিকে আস্তিক বলে।
আস্তিকের প্রকারভেদ
আস্তিক দুই প্রকার। যথা- ১.সাধারণ আস্তিক ২.মতবাদী আস্তিক।
আস্তিক দুই প্রকার। যথা- ১.সাধারণ আস্তিক ২.মতবাদী আস্তিক।
১. সাধারণ আস্তিক
সাধারণ বিষয়াদি যুক্তি, দর্শন, বিজ্ঞান ও প্রমাণসহ বিশ্বাসকারিকে সাধারণ আস্তিক বলে।
সাধারণ বিষয়াদি যুক্তি, দর্শন, বিজ্ঞান ও প্রমাণসহ বিশ্বাসকারিকে সাধারণ আস্তিক বলে।
২. মতবাদী আস্তিক
যুক্তি, দর্শন, বিজ্ঞান ও প্রমাণ ব্যতীত শাস্ত্রীয়দের সৃষ্টিকর্তা, পালনর্তা ও সংহারকর্তাদি বিশ্বাসকারিকে মতবাদী আস্তিক বলে।
যুক্তি, দর্শন, বিজ্ঞান ও প্রমাণ ব্যতীত শাস্ত্রীয়দের সৃষ্টিকর্তা, পালনর্তা ও সংহারকর্তাদি বিশ্বাসকারিকে মতবাদী আস্তিক বলে।
আস্তিকের পরিচয়
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘বিশ্বাসী’ পরিবারের অধীন একটি ‘রূপকপরিভাষা’ বিশেষ। তথাকথিত শাস্ত্রাদিনির্ভর ও অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত শাস্ত্রীয় নিরাকার উপাস্য বা দৈবিকা ও প্রতীতি মতবাদ বিশ্বাসী এবং বস্তুবাদে অবিশ্বাসীদেরকে বিশ্বাসী বা আস্তিক বলা হয়। না জেনে ও না বুঝে কাউকে অধিক বিশ্বাস করাও ভালো নয় আবার কাউকে অধিক অবিশ্বাস করাও উচিৎ নয়। যাচাইবাছাই বা প্রমাণ সাপেক্ষে সব কিছুই বিশ্বাস করা উত্তম। তবে যে কোন যথাযথ বিচারক মণ্ডলীর দ্বারা (উচ্চ বিচারালয় বা নিম্ন বিচারালয়) কোন বিষয় প্রমাণিত হয়ে গেলে তা বিশ্বাস করাই কোন অসুবিধা নেই। যদিও বিশ্বাস ও বাস্তবতার মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। আমাদের সমাজে সব সময় প্রায় পাঁচ প্রকার গল্পকাহিনি শুনতে পাওয়া যায়। যেমন- ১.দার্শনিক কাহিনি ২.বৈজ্ঞানিক কাহিনি ৩.রাজনৈতিক কাহিনি ৪.শাস্ত্রীয় কাহিনি ও ৫.পারম্পরিক কাহিনি। এদের মধ্যে কেবল শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক কাহিনির ক্ষেত্রে আমাদের আলোচ্য শতসত্তা ও অবিশ্বাস পরিভাষাটি প্রযোজ্য। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাসী বা নাস্তিক পরিভাষাটি নিয়ে তেমন কোন আলোচনা দেখতে পাওয়া যায় না। বর্তমানে সারাবিশ্বে অসংখ্য শাস্ত্রীয় মতবাদ থাকলেও কেবল ইসলামী মতবাদেই অত্র পরিভাষাটির অধিক ব্যবহার ও অধিক আলোচনা লক্ষ্য করা যায। শাস্ত্রীয় বিধিমালা অনুসারে শাস্ত্রীয় বিষয়বস্তু বিশ্বাসকারিরা সুপথগামী এবং এ বিশ্বাসের ফলে তারা স্বর্গবাসী হবেন। কিন্তু অস্বীকারকারিরা বিপথগামী এবং এ অবিশ্বাসের ফলে অবশ্য অবশ্যই তারা নরকবাসী হবেন। যার যার শাস্ত্রীয় মতবাদ অনুযায়ী মানুষ মাত্রই বিশ্বাসী। কারণ প্রত্যেকেই কোন না কোন শাস্ত্রীয় মতবাদ বিশ্বাস করেন বিধায় বলা যায় স্বস্ব দৃষ্টি ভঙ্গিতে সবাই বিশ্বাসী। অর্থাৎ নাস্তিক বলে কেউ নেই।
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘বিশ্বাসী’ পরিবারের অধীন একটি ‘রূপকপরিভাষা’ বিশেষ। তথাকথিত শাস্ত্রাদিনির্ভর ও অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত শাস্ত্রীয় নিরাকার উপাস্য বা দৈবিকা ও প্রতীতি মতবাদ বিশ্বাসী এবং বস্তুবাদে অবিশ্বাসীদেরকে বিশ্বাসী বা আস্তিক বলা হয়। না জেনে ও না বুঝে কাউকে অধিক বিশ্বাস করাও ভালো নয় আবার কাউকে অধিক অবিশ্বাস করাও উচিৎ নয়। যাচাইবাছাই বা প্রমাণ সাপেক্ষে সব কিছুই বিশ্বাস করা উত্তম। তবে যে কোন যথাযথ বিচারক মণ্ডলীর দ্বারা (উচ্চ বিচারালয় বা নিম্ন বিচারালয়) কোন বিষয় প্রমাণিত হয়ে গেলে তা বিশ্বাস করাই কোন অসুবিধা নেই। যদিও বিশ্বাস ও বাস্তবতার মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। আমাদের সমাজে সব সময় প্রায় পাঁচ প্রকার গল্পকাহিনি শুনতে পাওয়া যায়। যেমন- ১.দার্শনিক কাহিনি ২.বৈজ্ঞানিক কাহিনি ৩.রাজনৈতিক কাহিনি ৪.শাস্ত্রীয় কাহিনি ও ৫.পারম্পরিক কাহিনি। এদের মধ্যে কেবল শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক কাহিনির ক্ষেত্রে আমাদের আলোচ্য শতসত্তা ও অবিশ্বাস পরিভাষাটি প্রযোজ্য। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাসী বা নাস্তিক পরিভাষাটি নিয়ে তেমন কোন আলোচনা দেখতে পাওয়া যায় না। বর্তমানে সারাবিশ্বে অসংখ্য শাস্ত্রীয় মতবাদ থাকলেও কেবল ইসলামী মতবাদেই অত্র পরিভাষাটির অধিক ব্যবহার ও অধিক আলোচনা লক্ষ্য করা যায। শাস্ত্রীয় বিধিমালা অনুসারে শাস্ত্রীয় বিষয়বস্তু বিশ্বাসকারিরা সুপথগামী এবং এ বিশ্বাসের ফলে তারা স্বর্গবাসী হবেন। কিন্তু অস্বীকারকারিরা বিপথগামী এবং এ অবিশ্বাসের ফলে অবশ্য অবশ্যই তারা নরকবাসী হবেন। যার যার শাস্ত্রীয় মতবাদ অনুযায়ী মানুষ মাত্রই বিশ্বাসী। কারণ প্রত্যেকেই কোন না কোন শাস্ত্রীয় মতবাদ বিশ্বাস করেন বিধায় বলা যায় স্বস্ব দৃষ্টি ভঙ্গিতে সবাই বিশ্বাসী। অর্থাৎ নাস্তিক বলে কেউ নেই।
যার যার স্থানে অবস্থান করে শাস্ত্রীয় মতানুসারী, পারম্পরিক, জ্যোতিষী,
দার্শনিক ও বিজ্ঞানিরা যার যার স্রষ্টাকে অবশ্যই বিশ্বাস করেন বিধায় সবাই
আস্তিক। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় যেহেতু সবাই যার যার স্রষ্টাকে বিশ্বাস ও মান্য
করেন সেহেতু পৃথিবীতে নাস্তিক বলে কেউ নেই। ফলে পৃথিবীতে নাস্তিক ও
নাস্তিক্যবাদ বলে কিছুই নেই। আরো বলা যায় মানুষ স্থূলদৃষ্টিতে একে অন্যকে
নাস্তিক বলে অবুঝের মতো গালাগালি করলেও সূক্ষ্মদৃষ্টিতে সারাবিশ্বের কোথাও
নাস্তিক বা নাস্তিক্যবাদের অস্তিত্ব বলে কিছুই নেই। কার্যত যার যার মনের
মতো করে তার তার স্রষ্টার হাত, পা, চোখ, মুখ, কান, নাক, মন, জ্ঞান, রাগ,
বিবেক ও বিচার সৃষ্টি করে তা অন্যকে বিনা বিচারে গ্রহণ করতে বা মেনে নিতে
বলবেন তখন কেউ মেনে না নিলেই তাকে নাস্তিক বলবেন এটা কখনই হতে পারে না।
একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেও দেখা যায়- কারো স্রষ্টার হাত, পা, —, বিবেক ও
বিচার ইত্যাদি আছে আবার কারো স্রষ্টার এসব নেই। তাহলে স্রষ্টা নির্মাণ
একান্ত শৈল্পিক বিষয়। যার যার দলের রূপকার গুরু ও গোঁসাইরা ডাকার জন্য
স্বস্ব স্রষ্টা নির্মাণ করে তাঁকে মনের মাধুরিতে রূপদান করেছেন। সেটা হোক
শাস্ত্রীয় স্রষ্টা বা বিজ্ঞানিদের স্রষ্টা।
উল্লেখ্য, বিশ্বাসের একেক বিভাগের সৃষ্টিকর্তা একেক প্রকার। যেমন, প্রকৃতিবাদীদের সৃষ্টিকর্তা ‘প্রকৃতি’। বিজ্ঞানীদের একাংশের সৃষ্টিকর্তা ‘শক্তি’। আরেকাংশের সৃষ্টিকর্তা ‘তাপ-চাপ-চুম্বক’। দার্শনিকদের সৃষ্টিকর্তা হলো ‘জ্ঞান’। আত্মতাত্ত্বিক মনীষীদের জৈবিক সৃষ্টিকর্তা ‘পিতা’ ও ‘শুক্র’ এবং ভৌতিক সৃষ্টিকর্তা ‘তাপ-চাপ-চুম্বক’। শাস্ত্রীয়দের সৃষ্টিকর্তা ‘নিরাকার’ bogus boo (বোগাস বো) এবং পারপম্পরিকদের একাংশের সৃষ্টিকর্তা যার যার ‘গুরু’। আবার আরেক অংশের সৃষ্টিকর্তা ‘নিরাকার’। সাম্প্রদায়িক বা শাস্ত্রীয়দের সৃষ্টিকর্তাদি হলো-
১. ব্রহ্মা (পুরাণীদের স্রষ্টা)
২. কাঁই (বাঙালীদের স্রষ্টা)
৩. ঈশ্বর (বৈদিকদের স্রষ্টা)
৪. Lord (লর্ড) (ইংরেজদের একাংশের স্রষ্টা)
৫. কারাতারা (তুর্কিদের স্রষ্টা)
৬. মারাংবুরু (বার্মিসদের স্রষ্টা)
৭. খামিসামা (জাপানীদের স্রষ্টা)
৮. ‘ﺍﻠﻠﻪ’ (আল্লাহ) (কুরনীদের স্রষ্টা)
২. কাঁই (বাঙালীদের স্রষ্টা)
৩. ঈশ্বর (বৈদিকদের স্রষ্টা)
৪. Lord (লর্ড) (ইংরেজদের একাংশের স্রষ্টা)
৫. কারাতারা (তুর্কিদের স্রষ্টা)
৬. মারাংবুরু (বার্মিসদের স্রষ্টা)
৭. খামিসামা (জাপানীদের স্রষ্টা)
৮. ‘ﺍﻠﻠﻪ’ (আল্লাহ) (কুরনীদের স্রষ্টা)
ওপরোক্ত সৃষ্টিকর্তাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন নির্মাণশৈলী বা নির্মাণ কাহিনি
রয়েছে। কারো সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি হয়েছে স্বায়ম্ভু আকারে, কারো সৃষ্টিকর্তা
সৃষ্টি হয়েছে ডিম্ব হতে। কারো সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিরহস্য কেউ জানে না, কারো
সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিরহস্য প্রকাশ করলে মানুষের শাস্ত্রীয়বিশ্বাস
(ধর্মীয়বিশ্বাস) থাকে না ইত্যাদি।
এসব কারণে কোন বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু বলার পূর্বে তা ভালোভাবে জানা ও বুঝা
একান্ত প্রয়োজন। পরিষ্কার কথা হলো রূপকসাহিত্যের বিভিন্ন সূত্রাদি দ্বারা
বিশ্বের সব শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক স্রষ্টা নির্মাণ করা হয়েছে। শাস্ত্রীয় ও
পারম্পরিক মতবাদের সুমহান মনীষিরা একান্তই যার যার স্রষ্টা নির্মাণ করে
মনের রঙতুলিতে স্বস্ব স্রষ্টার অবস্থান, বিদ্যমানতা, মন, জ্ঞান, শক্তি,
হাত, পা, —, বিবেক ও বিচার ইত্যাদি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া বিশ্বের কেউই
স্রষ্টার এতবড় নিকট আত্মীয় নন যে- তিনি স্রষ্টার বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেয়ে
অথবা স্রষ্টাকে নিমন্ত্রণ করে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে, স্রষ্টার সাথে সৌজন্য
সাক্ষ্যাতে মিলিত হয়েছেন। অথবা স্রষ্টার সাথে চাচক্রে মিলিত হয়ে তার আয়তন,
অবস্থান, বিদ্যমানতা, মন, জ্ঞান, শক্তি, হাত, পা, —, বিবেক, বিচার, আসন,
বসন, তার পরিবারের সদস্যাদি এমনকি স্রষ্টার আহার নিদ্রাদি পর্যন্ত স্বচক্ষে
দেখে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ কোন রূপকারই স্রষ্টার বাড়ির চাচক্রের
নিমন্ত্রিত অতিথি নন এবং স্রষ্টাও কোন রূপকারের বাড়ির চাচক্রের নিমন্ত্রিত
অতিথি নন। মূল বিষয় হলো সুবিজ্ঞ রূপকাররা যার যার স্রষ্টার যতসব
রূপকবর্ণনাদি যার যার মনের রঙতুলি দিয়ে মনের মাধুরিতে অন্যন্যরূপে অংকন
করেছেন। সে জন্য একজনের স্রষ্টা অন্য জনের অবিশ্বাস হওয়াই স্বাভাবিক।
একজনের স্রষ্টার বর্ণনার চেয়ে অন্যজনের স্রষ্টার বর্ণনা ভিন্নভিন্ন বা ভালো
ও মন্দ হওয়াই স্বাভাবিক। সর্বশেষে বলব আসুন আমরা ‘আস্তিক’ ও ‘নাস্তিক’
এরূপ অতি সাধারণ শব্দাবলী দ্বারা আত্মতৃপ্তি বা কটুক্তি না করে বরং সবাই
আত্মসংযম করি। স্রষ্টা বিষয়ে একে অন্যকে গালি দেওয়া হতে বিরত থাকি। এক
রূপকারের নির্মিত স্রষ্টা অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে, সে তা গ্রহণ করতে না
চাইলেই তাকে নাস্তিক, যবন বা অবিশ্বাসী বলে গালি দিয়ে নিজের জ্ঞানের চরম
দৈন্যতার পরিচয় দেওয়া হতে বিরত থাকি।
সংক্ষিপ্ত
সূত্রতথ্য
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৫ম খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
সূত্রতথ্য
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৫ম খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন