আধ্যাত্মিকবিদ্যার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ: (আধ্যাত্মিকবিদ্যা, আত্মদর্শন,
আত্মতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, দিব্যজ্ঞান, নরত্বারোপ ও বলনদর্শন টীকা)
আত্মদর্শন-১
আধ্যাত্মিকবিদ্যার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
আধ্য বিণ আধ্যাত্মিকবিদ্যা সম্বন্ধীয়, আধ্যাত্মিকজ্ঞান সম্বন্ধীয় (আধ্যশক্তি)।
আধ্যজ্ঞান (রূপ)বি পরাজ্ঞান, ভেদজ্ঞান, ভেদবিধান, আত্মতত্ত্বজ্ঞান, আধ্যাত্মিকজ্ঞান, যে জ্ঞান দ্বারা জীবের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তাকে চিনা যায়।
আধ্যাত্মিক বিণ অধ্যাত্মিক, মানসিক, পারমার্থিক, আত্ম হতে উৎপন্ন, আত্ম সম্বন্ধীয়, spiritual. {বাং.আদি+ বাং.অতীত>}
আধ্যাত্মিকজ্ঞান (রূপ)বি আধ্যজ্ঞান, ভেদজ্ঞান, পরাজ্ঞান, ব্রহ্মজ্ঞান, আত্মিকজ্ঞান, মানসিকজ্ঞান, পারমার্থিকজ্ঞান, আত্ম সমন্বীয় জ্ঞান, spiritual knowledge.
আধ্য বিণ আধ্যাত্মিকবিদ্যা সম্বন্ধীয়, আধ্যাত্মিকজ্ঞান সম্বন্ধীয় (আধ্যশক্তি)।
আধ্যজ্ঞান (রূপ)বি পরাজ্ঞান, ভেদজ্ঞান, ভেদবিধান, আত্মতত্ত্বজ্ঞান, আধ্যাত্মিকজ্ঞান, যে জ্ঞান দ্বারা জীবের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তাকে চিনা যায়।
আধ্যাত্মিক বিণ অধ্যাত্মিক, মানসিক, পারমার্থিক, আত্ম হতে উৎপন্ন, আত্ম সম্বন্ধীয়, spiritual. {বাং.আদি+ বাং.অতীত>}
আধ্যাত্মিকজ্ঞান (রূপ)বি আধ্যজ্ঞান, ভেদজ্ঞান, পরাজ্ঞান, ব্রহ্মজ্ঞান, আত্মিকজ্ঞান, মানসিকজ্ঞান, পারমার্থিকজ্ঞান, আত্ম সমন্বীয় জ্ঞান, spiritual knowledge.
আধ্যাত্মিকবিদ্যার সংজ্ঞা
আদি ও অতীত বিষয়ক বিদ্যাকে আধ্যাত্মিকবিদ্যা বলে।
আদি ও অতীত বিষয়ক বিদ্যাকে আধ্যাত্মিকবিদ্যা বলে।
আধ্যাত্মিকবিদ্যার উপকারিতা
১. আধ্যাত্মিকবিদ্যা মানুষের সুখী, প্রশান্তিময় ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের শিক্ষা দেয়।
২. আধ্যাত্মিকবিদ্যা পাঠের দ্বারা চুল ও দাড়ি কাঁচা রাখা ও চিরসুস্বাস্থ্য রক্ষা করার সুব্যবস্থাদি জানা যায়।
৩. আধ্যাত্মিকবিদ্যা প্রচার ও প্রসার দ্বারা বিশ্বজুড়ে শান্তিময় ও সুসভ্য সমাজ গঠন করা যায়।
৪. এ বিদ্যা পাঠ করার দ্বারা বৈজ্ঞানিক সর্ব প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার ছাড়াই মধুময় দাম্পত্য অতিবাহিত করা যায়।
১. আধ্যাত্মিকবিদ্যা মানুষের সুখী, প্রশান্তিময় ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের শিক্ষা দেয়।
২. আধ্যাত্মিকবিদ্যা পাঠের দ্বারা চুল ও দাড়ি কাঁচা রাখা ও চিরসুস্বাস্থ্য রক্ষা করার সুব্যবস্থাদি জানা যায়।
৩. আধ্যাত্মিকবিদ্যা প্রচার ও প্রসার দ্বারা বিশ্বজুড়ে শান্তিময় ও সুসভ্য সমাজ গঠন করা যায়।
৪. এ বিদ্যা পাঠ করার দ্বারা বৈজ্ঞানিক সর্ব প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার ছাড়াই মধুময় দাম্পত্য অতিবাহিত করা যায়।
আধ্যাত্মিকবিদ্যার উৎপত্তিমূল বা শিকড়ের সন্ধান করতে হলে সর্ব
প্রথমে মহাশূন্য হতে বর্তমানকাল পর্যন্ত সৃষ্টিপর্বের ১০টি যুগ সম্পর্কে
অবশ্যই জ্ঞানার্জন করা প্রয়োজন। এছাড়াও মানবসভ্যতার সপ্তযুগের সংক্ষিপ্ত
আলোচনা এ বিষয়টিকে আরো স্বচ্ছ করে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। নিচে
মানবসভ্যতার সাতটি যুগের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো-
১. আধুনিকযুগ (১,৯০০ খ্রি. হতে বর্তমানকাল পর্যন্ত)
২. মধ্যযুগ (১,৬০০- ১,৮০০ খ্রি.)
৩. আদিমযুগ (১,২০০- ১,৫০০ খ্রি.)
৪. ধাতুরযুগ (১,১০০- ১,৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)
৫. প্রস্তরযুগ (১,৬০০- ৬,০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)
৬. প্রাগৈতিহাসিকযুগ (৬,১০০- ৮,০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)
৭. আদিযুগ (৮,১০০- ৪৮,০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)।
২. মধ্যযুগ (১,৬০০- ১,৮০০ খ্রি.)
৩. আদিমযুগ (১,২০০- ১,৫০০ খ্রি.)
৪. ধাতুরযুগ (১,১০০- ১,৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)
৫. প্রস্তরযুগ (১,৬০০- ৬,০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)
৬. প্রাগৈতিহাসিকযুগ (৬,১০০- ৮,০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)
৭. আদিযুগ (৮,১০০- ৪৮,০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)।
উল্লেখ্য আধুনিক বিজ্ঞানিদের সর্বসম্পতিক্রমে পৃথিবীর আদিপ্রাণী
অম্বুকের উদ্ভবের পর হতেই জীবসভ্যতারযুগ ধরা হয়। তবে কেবল ৪৮,০০০ খ্রিস্ট
পূর্বাব্দ হতেই মানবসভ্যতাযুগ ধরা হয়। অন্নদিকে পদার্থযুগ, শক্তিযুগ ও
কারযুগকে সভ্যতারযুগ বলা হয় না।
৮. পদার্থযুগ (১,৫০০,০০,০০,০০০- —— খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)
৯. শক্তিযুগ (১,৫০০,০০,০০,০০০- ———খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)
১০. কারযুগ (১,৫০০,০০,০০,০০০- ——–খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)
৯. শক্তিযুগ (১,৫০০,০০,০০,০০০- ———খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)
১০. কারযুগ (১,৫০০,০০,০০,০০০- ——–খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)
প্রায় একঅব্জ পাঁচনর্ব্যুদ (১,৫০০,০০,০০,০০০) বছর পূর্বে পৃথিবীর
আদিপ্রাণী অম্বুকের সৃষ্টি হয়েছিল বলে বর্তমানে অধিকাংশ বিজ্ঞানিরা একমত।
প্রায় আড়াইলক্ষব ছর (২,৫০,০০০) পূর্বে মানুষের উদ্ভব হয়েছে বলে বর্তমানে
অনেক গবেষক ও মনীষীদের ধারণা। মানুষের উদ্ভবের পর হতে প্রায় দুইলক্ষবছর
(২,০০,০০০) মানবসভ্যতার কোন উন্নয়ন হয়নি। অতঃপর প্রায় পঞ্চাশসহস্রবছর
(৫০,০০০) পূর্বে ইঙ্গিতরূপেই ভাষার আবিষ্কার হয়। তখন হতেই মানবসভ্যতার
অগ্রযাত্রা আরম্ভ হয়। মানবসভ্যতার আধুনিকযুগ হতে প্রস্তরযুগ পর্যন্ত
শিল্পকলা, স্থাপত্যবিদ্যা ও ভাস্কর্য নির্মাণে মানুষের বিভিন্ন উপকরণাদি
ব্যবহারের অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন আধুনিক সভ্যতায় যোগাযোগ ব্যবস্থার
উন্নয়নে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নির্মাণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে লোহা, তামা ও
ইস্পাত ইত্যাদি। আবার বস্ত্রাদি নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে তুলা। তেমনি
প্রস্তরযুগে ভাস্কর্য ও শিল্পাদি নির্মাণের জন্য অধিক ব্যবহার করা হতো পাথর
ও মাটি।
আদিযুগের মানুষ প্রযুক্তি নির্মাণ বা প্রযুক্তির ব্যবহার কিংবা
প্রযুক্তি নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত উপাদানের ব্যবহার কোন কিছুই জানত না। তখন
মানুষের কেবল আহার ও বিনোদন ব্যতীত সময় কাটানোর মতো কোন বিনোদন ব্যবস্থাই
ছিল না। আহার অন্বেষণ ও বন্য জীবজন্তুর আক্রমণ হতে আত্মরক্ষার জন্য মানুষ
তখন দলবদ্ধ বা সঙ্গবদ্ধভাবে বসবাস করত। তখন আহার ও বিহারের ফাঁকে ফাঁকে
গোত্রপ্রধান বা দলপ্রধানরা স্ব-স্ব দল বা গোত্রের উচ্ছৃংখল, বিচ্ছৃংখল,
উগ্র ও চরমপন্থিদের সুচ্ছৃংখল, সঙ্গবদ্ধ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য
শিক্ষামূলক বিভিন্ন ছোটকি বা চমৎকার নির্মাণে ব্যস্ত থাকতেন। কারণ তখন
ছোটকি বা চমৎকার নির্মাণ করতে কেবল জ্ঞান ভিন্ন অন্য কোন উপকরণের প্রয়োজন
হতো না। আর এসব নির্মাণের জন্য তাদের কাগজ ও লেখনীর কোন প্রয়োজন হতো না।
তখন তারা এসব মনেমনে নির্মাণ করতেন এবং মুখে মুখে প্রচার করতেন। আবার মাঝে
মাঝে দলপ্রধানরা স্ব-স্ব নির্মিত ছোটকি ও চমৎকার বৈঠকীও করতেন। মানুষের
আজকের কথ্য ও লেখ্য ভাষা আবিষ্কার ও ভাষার ব্যবহার আরম্ভ হওয়ার পূর্ব
পর্যন্ত কেবল ইঙ্গিতের মাধ্যমেই স্রষ্টার ভয়ভীতি দ্বারা দুষ্টদের শাসন ও
শিষ্টদের পালন করা হতো। তখন স্বর্গের সুখ ও নরকের ভয় দেখানো প্রথার প্রচলন
যে ছিল না তা নিশ্চিত করে বলা যায়। তবে স্রষ্টার ভয় যে দেখান হতো, তা শক্ত
করেই বলা যায়। তখন ইঙ্গিতেই বলা হতো স্রষ্টা তোমাদের সব কিছু দেখেন বিধায়
তোমরা অন্যায় করলে স্রষ্টা তোমাদের শাস্তি দিবেন। রূপকার দলপ্রধানদের
নির্মিত ছোটকি বা চমৎকারাদির নামধাম ব্যবহার করে অন্যান্য দলপ্রধানরা তা
দ্বারা দুর্বলদের ভয়ভীতি দেখিয়ে শাসনপালনও করতেন। প্রত্যেক গোত্র প্রধানরা
তখন অন্যায়ের পরিমাণ অনুযায়ী অন্যাকারিকে শাস্তি অবশ্যই দিতেন। তা না হোলে
দল বা গোত্র পরিচালনা করা কোন মতেই সম্ভব হতো না। এছাড়াও তারা অপরাধীদের
ইঙ্গিতের মাধ্যমেই তাদের ভবিষ্যৎ দিক নির্দেষণাও দিতেন। এ হতেই অনুমান করা
যায় যে রূপকার্থে নির্মিত নিরাকার স্রষ্টার ভয় দেখিয়ে দুষ্টদের শাসন ও
শিষ্টদের পালন করার পদ্ধতি তখনি আবিষ্কার হয়েছিল বা প্রতিষ্ঠালাভ করেছিল।
আত্মদর্শনের বিষয়-বস্তু নিয়ে রূপকার্থে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা,
সংহারকর্তা, আদিমানব, বর্থ্য, স্বর্গ ও নরক নির্ধারণ করে নির্মিত নীতি ও
নৈতিকতা শিক্ষামূলক গল্প- কাহিনিকেই রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous literature’
বলা হয়।
আরো বলা যায় প্রাগৈতিহাসিকযুগ হতেই রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous
literature’ গুরু পরম্পরার মাধ্যমে কালাতিপাত করতে করতে লেখন পদ্ধতি
আবিষ্কার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এসেছিল। অতঃপর লেখন পদ্ধতি আবিষ্কার হওয়াই তা
চামড়া, প্রস্তর ও গাছের পাতায় লিখে রাখার ব্যবস্থা চালু করা হয়। অতঃপর
কাগজ আবিষ্কার হওয়ার পর রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous literature’ গ্রন্থাকারে
লিপিবদ্ধ করা আরম্ভ হয়। পৃথিবীর কোন্ প্রদেশে রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous
literature’ আবিষ্কার আগে হয়েছিল এমন কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায় না।
তবে এশিয়া মহাদেশেই সর্ব প্রথম মানববসতি স্থাপিত হয়েছিল বলে
প্রত্নতাত্ত্বিক ও গবেষণালব্ধ অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। সে সূত্র ধরে বলা যায়
রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous literature’ সর্ব প্রথম উদ্ভাবন হয়েছিল এশিয়া
মহাদেশে। রূপক পরিভাষা ও রূপকপরিভাষা নির্মাণ করে সাহিত্য নির্মাণ এটি একটি
শিল্প। এর নাম রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous literature’ শিল্প। অত্যন্ত
বাস্তবতার ভিত্তিতে বলা যায় এটি মানবসভ্যতার সর্ব প্রাচীন শিল্প বিধায় “একে
মানবসভ্যতার প্রথম বা আদিশিল্প বলা হয়।” তবে বিশিষ্ট রূপকার, আচার্য ও
ঋষিদের অভাবে বর্তমানে এ শিল্পটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।
এবার শক্ত করেই বলা যায় কী প্রাগৈতিহাসিকযুগ ও কী ধাতুরযুগ বরং
প্রস্তর-যুগেই এ রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous literature’ আবিষ্কার হয়েছিল। কারণ
যে কোন শিল্প সৃষ্টি করতে হোলে অনেক উপকরণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু
প্রস্তুরযুগে শিল্পাদি সৃষ্টি করার কোন উপাদান অবশ্যই ছিল না। তাই
শিল্পকার্যে মানুষ আত্মনিয়োগ করতে পারত না। কিন্তু রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous
literature’ নির্মাণ করতে কেবল জ্ঞান ও বুদ্ধি ভিন্ন অন্য কোন উপাদানের
প্রয়োজন হয় না। ‘Fabulous literature’ মূল উপাদান হলো কেবল চারটি। যথা-
১.মূলকশব্দ ও ২.রূপকপরিভাষা এবং ৩.মূলকসংখ্যা ও ৪.রূপকসংখ্যা। এ দ্বারাই
দৈবিকা ও চমৎকার অনায়াসে সৃষ্টি করা যায়। আর এসব উপাদান মানবদেহেই অফুরন্ত
পাওয়া যায়। আধ্যাত্মিকবিদ্যা চিরসত্য ও চিরন্তন অনন্যবিদ্যা। এ বিদ্যা
অসভ্য ও বর্বর মানুষকে সুসভ্য মানবসমাজ গঠনে অবর্ণনীয় ভূমিকা পালন করে।
মানুষের কর্ম ও সুখী জীবনযাপন নিয়ে আলোচনা করা হলো রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous
literature’ এর মূল বৈশিষ্ট্য।
‘শরীর মাধ্যাং খলুঃ মতবাদ সাধনং’, অর্থাৎ শরীর ভালো না থাকলে কারো
শাস্ত্রীয়কর্ম হয় না। এজন্য সাম্প্রদায়িক সংস্কারাদি সাধনার আগে
স্বাস্থ্যরক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। সমাজবিজ্ঞান ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানের মতেও
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। মানুষের এ অধিকার
জাতিসংঘ মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে স্বীকৃত। ১৯৪৮ সনের ১০ই
ডিসেম্বর ঘোষণার ২৫(ক) ধারায় বলা হয়েছে- “নিজের ও নিজ পরিবারের স্বাস্থ্য ও
কল্যাণের নিমিত্ত পর্যাপ্ত জীবনমানের অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে। শিশুকে
সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে বেঁচে উঠার সুযোগ দিতে হবে এবং শিশুর অধিকার
থাকবে পর্যাপ্ত চিকিৎসালাভের।” জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রাদি উক্ত ঘোষণা মেনে
চলতে বাধ্য। সেজন্য বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮(১) ধারায় রাষ্ট্র পরিচালনার
মূলনীতিতে বলা হয়েছে- “জনগণের পুষ্টির উন্নয়ন স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনকে
রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলে গণ্য করবে।” এ অধ্যায়ের ১৯(১) ধারায়
বলা হয়েছে- “স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে সব নাগরিকের সমতা নিশ্চিত করতে
রাষ্ট্র সর্বদা সচেষ্ট হবে।” এ হলো জনগণের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনগত ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
আধ্যাত্মিকবিদ্যার পরিচয়
বাংভারতীয়/ ‘Bangladesh and India’ উপমহাদেশে প্রাথমিক যুগের সংস্কৃত ভাষা মধ্যযুগের সংস্কৃত ভাষায় প্রবেশ করে শব্দের অর্থ প্রয়োগের কিছুটা পরিবর্তন সাধিত হয়। অনুরূপভাবে মধ্যযুগের সংস্কৃতভাষা আধুনিক বাংলাভাষায় প্রবেশ করলে শব্দের অর্থ প্রয়োগ এবং যথাশব্দ গ্রহণে ব্যাপক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়, পরবর্তিতে আরও পরিবর্তন হতে পারে এটাই সুস্থ বিবেকের দাবি। আজ হতে প্রায় পাঁচসহস্র বছর পূর্বে আমাদের ভারতবর্ষের অসংখ্য সাধু সন্ন্যাসী মুনি ও ঋষিদের দ্বারা বৈক্তিকসদস্যাদির রূপকনামকরণের মাধ্যমে রচিত আত্মতত্ত্বনর্ভর অমূল্যবাণির দ্বারাই বিশ্বে সর্বপ্রথম মানবকল্যাণে রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous literature’ চর্চার সূচনা হয় এবং এটাই ছিল পৃথিবীর আদিসাহিত্য। একমাত্র আধ্যাত্মিক সাহিত্যের রূপকবর্ণনার দ্বারাই সাধুরা মানুষের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, শুক্রনিয়ন্ত্রণ, জন্মনিয়ন্ত্রণ, সুখী পরিবার ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের সুশিক্ষা প্রদান করে এসেছিলেন। তখনও রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous literature’ এ অমূল্যবাণিগুলো মুখে মুখেই ছিল। ক্রমে ক্রমে এর গুরুত্ব ও কল্যাণকারিতার প্রতি লক্ষ্য করে এর ব্যাপক চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে প্রায় চারসহস্র বছর পূর্বে সংস্কৃত ভাষায় ‘বেদ’ নামক একটি মহাগ্রন্থ রচিত হয়। এটা ছিল পৃথিবীর আদি আধ্যাত্মিকগ্রন্থ। ক্রমে ক্রমে গ্রন্থটির ব্যাপকতা ও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে ও প্রচার প্রসার হতে থাকে। গ্রন্থটির জনপ্রিয়তার প্রতি লক্ষ্য করেই পরবর্তিকালে এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ উপনিষদাদি রচিত হতে থাকে। অতঃপর এর রূপকব্যাখ্যা গ্রন্থ পুরাণাদি রচিত হয়। অতঃপর উপন্যাস আকারে রচিত হয় বেদনির্ভর ‘রামায়ণ’ ও ‘মহাভারত’ গ্রন্থাদি।
বাংভারতীয়/ ‘Bangladesh and India’ উপমহাদেশে প্রাথমিক যুগের সংস্কৃত ভাষা মধ্যযুগের সংস্কৃত ভাষায় প্রবেশ করে শব্দের অর্থ প্রয়োগের কিছুটা পরিবর্তন সাধিত হয়। অনুরূপভাবে মধ্যযুগের সংস্কৃতভাষা আধুনিক বাংলাভাষায় প্রবেশ করলে শব্দের অর্থ প্রয়োগ এবং যথাশব্দ গ্রহণে ব্যাপক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়, পরবর্তিতে আরও পরিবর্তন হতে পারে এটাই সুস্থ বিবেকের দাবি। আজ হতে প্রায় পাঁচসহস্র বছর পূর্বে আমাদের ভারতবর্ষের অসংখ্য সাধু সন্ন্যাসী মুনি ও ঋষিদের দ্বারা বৈক্তিকসদস্যাদির রূপকনামকরণের মাধ্যমে রচিত আত্মতত্ত্বনর্ভর অমূল্যবাণির দ্বারাই বিশ্বে সর্বপ্রথম মানবকল্যাণে রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous literature’ চর্চার সূচনা হয় এবং এটাই ছিল পৃথিবীর আদিসাহিত্য। একমাত্র আধ্যাত্মিক সাহিত্যের রূপকবর্ণনার দ্বারাই সাধুরা মানুষের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, শুক্রনিয়ন্ত্রণ, জন্মনিয়ন্ত্রণ, সুখী পরিবার ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের সুশিক্ষা প্রদান করে এসেছিলেন। তখনও রূপকসাহিত্য/ ‘Fabulous literature’ এ অমূল্যবাণিগুলো মুখে মুখেই ছিল। ক্রমে ক্রমে এর গুরুত্ব ও কল্যাণকারিতার প্রতি লক্ষ্য করে এর ব্যাপক চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে প্রায় চারসহস্র বছর পূর্বে সংস্কৃত ভাষায় ‘বেদ’ নামক একটি মহাগ্রন্থ রচিত হয়। এটা ছিল পৃথিবীর আদি আধ্যাত্মিকগ্রন্থ। ক্রমে ক্রমে গ্রন্থটির ব্যাপকতা ও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে ও প্রচার প্রসার হতে থাকে। গ্রন্থটির জনপ্রিয়তার প্রতি লক্ষ্য করেই পরবর্তিকালে এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ উপনিষদাদি রচিত হতে থাকে। অতঃপর এর রূপকব্যাখ্যা গ্রন্থ পুরাণাদি রচিত হয়। অতঃপর উপন্যাস আকারে রচিত হয় বেদনির্ভর ‘রামায়ণ’ ও ‘মহাভারত’ গ্রন্থাদি।
সংস্কৃত ভাষার আধ্যাত্মিক গ্রন্থ ‘বেদ’ এর ব্যাপক চর্চা,
অনুশীলন, প্রচার, প্রসার ও ক্রম বিস্তৃতি এবং এর উপকারিতার প্রতি লক্ষ্য
করে পালি ভাষাসহ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য ভাষাতেও ক্রমে ক্রমে
আধ্যাত্মিকবিদ্যা চর্চা, অনুশীলন ও গবেষণার সূচনা হয়। অতঃপর পালিভাষার
শ্রমণ রাও সংস্কৃত ভাষার সাধু দের নির্ধারিত ও চয়িত ব্রহ্মা, বিষ্ণু,
গোবিন্দ, শিব, কালী, হরি, নিতাই, গয়া, কাশী, মথুরা ও বৃন্দাবন ইত্যাদি শব্দ
ও আধ্যাত্মিক সূত্রগুলো যথাযথ রেখে স্ব-স্ব ভাষায় আধ্যাত্মিক সাহিত্য রচনা
করতে আরম্ভ করেন। সংস্কৃতভাষায় ব্যবহৃত শব্দগুলো ও সূত্রগুলো ব্যবহার করে
প্রায় ৫০০ বছর ব্যবধানে ১৭টি গ্রন্থের সমন্বয়ে পালিভাষায় রচিত হয় অপর একটি
আধ্যাত্মিকমহাগ্রন্থ ত্রিপিটক। (উল্লেখ্য বৈদিক গ্রন্থাদিতে ব্যবহৃত
রূপকশব্দাবলী, সূত্রাবলী ও উপমাশৈলী এবং ত্রিপিটকনির্ভর গ্রন্থাদিতে
ব্যবহৃত রূপকশব্দাবলী সূত্রাবলী ও উপমাশৈলী হুবহু একই)। পরবর্তিতে
রূপকার্থে ত্রিপিটকনির্ভর আরও অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হয়।
বেদ ও ত্রিপিটক নির্ভর আধ্যাত্মিক শাস্ত্র গুলোর ব্যাপক চর্চা ও
অনুশীলন হতে থাকে সারাএশিয়া মহাদেশে। মধ্যযুগীয় বর্বর জাতির সুখী পরিবার ও
শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অবৈজ্ঞানিক মধ্যযুগের ভারত-বর্ষীয় রূপক সাহিত্যের
অসাধারণ ভূমিকা দেখে মধ্য-প্রাচ্যের পারস্য অলি ও আবদালরাও রূপক সাহিত্যের
চর্চা ও অনুশীলন আরম্ভ করে। অত্যধিক চর্চা, অনুশীলন ও অধ্যাবসায়ের ফলে
তারাও ‘Fabulous literature’ আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য ভারতে
আধ্যাত্মিকবিদ্যা উৎপত্তির প্রায় দুইসহস্র বছর পরে পারস্য উপমহাদেশে
‘Fabulous literature’ রচনার শুভ সূচনা হয়। ভারতীয় ‘Fabulous literature’
সূত্রগুলো ও উপমা নির্মাণশৈলী একই রেখে কেবল শব্দ চয়নের ধারা পরিবর্তন করে
অর্থাৎ ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও গোবিন্দ ইত্যাদি শব্দকে- আল্লাহ, রাসুল ও আদম
ইত্যাদি শব্দের দ্বারা পরিবর্তন করে অসংখ্য ‘Fabulous literature’ রচিত হয়।
উল্লেখযোগ্য এসব মহাগ্রন্থ গুলো রচনার সূত্রগুলো, উপমা নির্মাণশৈলী ও রূপক
পরিভাষা চয়ন- আল্লাহ, রাসুল, নবি, আদম, হাওয়া, হাবিল, কাবিল, হারুৎ,
মারুৎ, ইসা, মুসা, দাউদ ও সুলাইমান ইত্যাদি একই। আরও উল্লেখ্য ভারতীয়
mythology ও পারস্য mythology এ উভয় বিদ্যারই ভাব, সূত্রগুলো, উৎপত্তিমূল
এবং উপমা নির্মাণশৈলী একই শুধু রূপকার্থে চয়িতশব্দ গুলোই ভিন্ন।
এভাবে একই সূত্র ও উপমা নির্মাণশৈলীর দ্বারা রচিত mythology কেবল
রূপক পরিভাষা চয়নের ভিন্নতার দ্বারা ভারতীয় ও পারস্য দু’বলয়ে বিভক্ত হয়ে
পড়েছে। অতঃপর উভয় mythology ক্রমে ক্রমে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রচার ও
প্রসার লাভ করতে থাকে। উল্লেখ্য ‘Indian’ mythology প্রায় তিনসহস্র (৩০০০)
বছর পূর্বে পারস্য উপমহাদেশে প্রবেশ করেছিল। পারস্য সুবিজ্ঞ সাধুরা এর সব
রূপক পরিভাষাকে স্বস্ব মাতৃভাষায় সার্থক অনুবাদ করেই তা গ্রহণ করেছিলেন।
৩০০০ বছর পরে অর্থাৎ আজ হতে মাত্র ছয়শত (৬০০) বছর পূর্বে সে পারস্য
mythology পুনরায় ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। কিন্তু আজো এ উপমহাদেশের অনুবাদকরা
পারস্য ‘Fabulous literature’ এর রূপক পরিভাষাদির সার্থক অনুবাদ করতে
সক্ষম হননি। অনুবাদকরা অনুবাদ করার সময়ে আল্লাহ, রাসুল, আদম, হাওয়া, ইসা,
মুসা ও সুলাইমান ইত্যাদি রূপক পরিভাষার সফল কোন অনুবাদ না করে নামপদ বা
বিশেষ্যপদ বলে তা হুবহু রেখে দিয়েছেন।
ফলে সাধারণ জনগণের নিকট এটা নতুন বা ভিন্ন কোন অভিনব বিদ্যা বলে
প্রতীয়মান হয়ে আসছে। উল্লেখ্য গত অর্ধ শতাব্দি হতে বাংভারতীয় উপমহাদেশের
নব্য অনুবাদকরা পারস্য আধ্যাত্মিক বিদ্যা নির্ভর বিভিন্ন গ্রন্থ বাংলাভাষায়
অনুবাদ করার সময়ে পারস্য ‘Fabulous literature’ রূপক পরিভাষা গুলোকে নামপদ
বা বিশেষ্যপদ বলে কোন অনুবাদ বা প্রতিশব্দ প্রণয়ন না করে হুবহু তাই রেখে
দিয়েছেন। এমনকি কোনো অনুবাদক বা অভিধানবেত্তা রূপক পরিভাষা গুলোর কোন
প্রকার অর্থও প্রদান করেননি। ব্যাপারটি সম্পূর্ণ উল্টো কারণ সাধারণ
সাহিত্যে নামপদের কোন অনুবাদ হয় না বটে কিন্তু ‘Fabulous literature’ চয়িত
নামপদ গুলোর কয়েক শত পর্যন্ত প্রতিশব্দ হয়ে থাকে। প্রায় সহস্র বছর পূর্ব
হতে পারস্য সাধুদের ভারতবর্ষে আগমনের মধ্যমে আল্লাহ, রাসুল, আদম, হাওয়া,
ইসা, মুসা, সুলাইমান, জিব্রাইল, মিকাইল, জান্নাত ও জাহান্নাম ইত্যাদি
পারস্য আধ্যাত্মিক সাহিত্যের রূপক পরিভাষা গুলো বাংভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ
করতে থাকে। অতঃপর প্রায় ৬০০ বছর পূর্বে মোঘল সম্রাটদের আধিপত্যের
ছত্রছায়ায় পারস্য পণ্ডিতদের দ্বারা পারস্য mythology হতে সংস্কারিত সামাজিক
ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারগুলো শাস্ত্রীয় Guidelines নামে ভারতবর্ষে
রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠালাভ করে। তখন হতেই শাস্ত্রীয় Guidelines আশ্রয়িদের
নিকট হতে আমাদেরই পূর্বপুরুষদের বহু কষ্টার্জিত বাংভারতীয় mythology বা
প্রকৃত আত্মদর্শন ‘real introspection’ বা ‘real theosophy’ ক্রমেক্রমে
অবহেলিত, উপেক্ষিত ও বিলুপ্ত হতে থাকে। অর্থ্যাৎ প্রকৃত আত্মদর্শন (real
introspection) মারা যায় এবং প্রতীকী আত্মদর্শন (symbolic introspection)
সমাজে প্রতিষ্ঠালাভ করে। সমাজের প্রায় সর্বত্রই (realism) এর পরিবর্তে
(symbolism) প্রতিষ্ঠা হতে আরম্ভ করে। ফলে বাস্তব আত্মদর্শনের প্রতি সৃষ্টি
হতে থাকে বিদ্বেষ ও বিরোধের বিষোদগারপূর্ণ মনোভাব।
অতঃপর পারস্য ‘Fabulous literature’ হতে সংস্কারিত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়
Guidelines গুলোর ধ্বজাধারী পরগাছা নব্যপণ্ডিতরা আমাদের ভারতীয় আদি
mythologyকে মন্দ, পরিত্যাজ্য ও বিপথগামী বলে কটুক্তিপূর্ণ ধৃষ্টতা
প্রদর্শন করতে আরম্ভ করে। অপরদিকে কালের আবর্তন ও বিবর্তনের ফলে প্রায়
চারসহস্র বছরের ব্যবধানে ভারতীয় পণ্ডিতরাও ব্রহ্মা, বিষ্ণু, গোবিন্দ, শিব,
কালী, রাম, লক্ষ্মণ ও সীতা ইত্যাদি আধ্যাত্মিক সাহিত্যের ‘Metaphor
terminologies’ এর উৎপত্তিমূল হারিয়ে ফেলে প্রায় দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে
আল্লাহ, রাসুল, আদম, হাওয়া, হারুৎ, মারুৎ, জান্নাত, জাহান্নাম এবং ব্রহ্মা,
বিষ্ণু, গোবিন্দ, কানাই, বলাই, স্বর্গ ও নরক ইত্যাদি ‘Metaphor
terminology’ এর দ্বারা উভয় ‘Fabulous literature’ প্রকৃতভাবে কী বা কাকে
বুঝানো হয় এবং এর মর্মভেদইবা কী এর উপকারিতাইবা কী ইত্যাদির প্রতি কোন
পণ্ডিত লক্ষ্য করেননি ।
তার পরিবর্তে সাধারণ জনগণের নিকট ক্রমে ক্রমে বিভিন্ন উপমা
দ্বারা জনশ্রুতি, গুজব, রটনা, লোকশ্রুতি, কিংবদন্তি, রূপকথা, লোককথা,
জনপ্রবাদ, লোকপ্রবাদ, কথিত কথা, লোক পরস্পরায় প্রচলিত কথা, লোকমুখে
প্রচারিত কথা, লোক পরস্পরায় শ্রুত ও কথিত কথা, লোক পরস্পরায় রটা কথা,
দীর্ঘদিন ধরে লোকমুখে চলে আসা কথা ইত্যাদি অন্তঃসারশূন্য গল্প-কাহিনি রূপে
পরিণত করেছেন বিশ্বের সব মহান রূপকসাহিত্যকে। এ জন্য আধ্যাত্মিক সাহিত্যের
অমর ও অমূল্য রূপক কাহিনি গুলো মূলশিক্ষা ও স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে। ফলে
আধ্যাত্মিক সাহিত্যের উপমা গুলোর ওপর ভিত্তি করে যাত্রাপালা, নাটক-নাটিকা ও
চলচ্চিত্র নির্মাণ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি শিল্প নির্মাতারা। আধ্যাত্মিক
সাহিত্যের নিয়ম অনুযায়ী নির্মিত ও উপস্থাপিত মনোরম ছোটছোট গল্পগুলো ক্রমে
ক্রমে নাটক-নাটিকা, ছায়াচিত্র, গ্রন্থ-গ্রন্থিকা ও লোক সাহিত্যের দ্বারা
পৃথিবীর সর্বত্র প্রায় সর্বভাষায় সর্ব সাধারণের নিকট মর্মগ্রাহী ও
হৃদয়গ্রাহী হয়ে উঠতে থাকে।
ভারতবর্ষের ‘Fabulous literature’ দৈবিকা বা প্রতীতিদের আত্মতত্ত্ব
অলৌকিক কাহিনিই আরব বিশ্বে মুজেযা ও কারামত নামে পরিচিতি লাভ করে। এমনকি
পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষণীয় ও উপদেশমূলক
গল্প আকারে পাঠ দানেরও শুভ-সূচনা হয়। মহাভারতে রূপকার্থে বর্ণিত
কুরুক্ষেত্রের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয় চির অমর মহাকাব্য ‘শ্রীমদ্ভগবদ গীতা,
রামায়ণে রাম-রাবণের এক ভয়াবহ কল্পিত যুদ্ধ বর্ণনা করা হয়। বিশ্ববিখ্যাত
মহাগ্রন্থ রামায়ণের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয় মহাকাব্য ‘মেঘনাথ বধ’ এবং
মহাগ্রন্থ বেদের ওপর ভিত্তি করে শাস্ত্রীয় Guidelines রূপে রচিত হয়
‘উপনিষদগুলো। আরো পরে আধ্যাত্মিক সাহিত্যের রূপকগল্প গুলোর ওপর ভিত্তি করে
রচিত হতে থাকে অসংখ্য উপন্যাস, মহাকাব্য ও মহাগ্রন্থ। উপন্যাসের মধ্যে
পারস্য উপন্যাস গুলো উল্লেখযোগ্য। আরব বিশ্বের সুবিখ্যাত কাববালা উপন্যাসের
ফুরাত নদির তীরবর্তী হোসেন বধ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত হয় অমরগ্রন্থ
‘বিষাদসিন্ধু’ ও মহাকাব্য ‘মহাশ্মশান’।
অতঃপর আরব্য বিশ্বের মূল মহাগ্রন্থ গুলোর ওপর ভিত্তি করে
পরবর্তি কালে রচিত হতে থাকে শাস্ত্রীয় Guidelines বিষয়ক ব্যক্তি মতামত
নির্ভর হানাফি, শাফিয়ি, মালিকি ও হাম্বলি ইত্যাদি ফিক্বা গ্রন্থ। মানব
জাতীর চির কল্যাণের জন্য থরে বিথরে রচিত হয়েছে হাদিস’ গ্রন্থগুলো। এগুলো
মূল মহাগ্রন্থ গুলোর রূপক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নির্ভর এবং আধ্যাত্মিক
সাহিত্যের চিরন্তনবাণী আত্মতত্ত্ব ও সাধন তত্ত্ব বিষয়ক মহামূল্যবান গ্রন্থ।
বস্তুত মূল মহাগ্রন্থ তৌরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও কুরান হতে কয়েকশত বছর
ব্যবধানের কারণে ও রূপকার্থে রচিত হাদিস গ্রন্থগুলো এবং শাস্ত্রীয়
Guidelines বিষয়ক ফিক্বা গ্রন্থ গুলো রচিত হওয়ার কারণে মানুষ ক্রমেক্রমে
মূল মহাগ্রন্থগুলোর real theosophy পরিহার করে শাস্ত্রীয় Guidelines এর
প্রতি ঝুঁকে পড়তে আরম্ভ করে। ফলে theosophy বা সাধু শাস্ত্রীয় অমূল্য
শিক্ষাও ক্রমেক্রমে অবলুপ্ত হতে থাকে। উল্লেখ্য শাস্ত্রীয়দর্শন ও প্রকৃত
আত্মদর্শন এক নয়। তারপরও সাধারণ মানুষ শাস্ত্রীয় সাম্প্রদায়িক দর্শনকে
প্রকৃত দর্শন মনে করে ক্রমেক্রমে শাস্ত্রীয় সাম্প্রদায়িক দর্শন নির্ভর হয়ে
পড়তে আরম্ভ করে।
অবলুপ্ত theosophy পুনঃ প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুগেযুগে বড়বড় সাধু
সন্ন্যাসিরা অবর্ণনীয় প্রচেষ্টা ও প্রয়াস করে গেছেন। ফলে শাস্ত্রীয়
Guidelines বর্তমান থাকা সত্ত্বেও আধ্যাত্মিকপন্থিদের জন্য ক্বাদরিয়া,
চিস্তিয়া, নক্সাবন্দিয়া ও মুজাদ্দিদিয়া নামক প্রধান চারটি ত্বরিক্বাসহ
প্রায় লক্ষাধিক ত্বরিক্বার আবিষ্কার হয়েছে। মূল আধ্যাত্মিক শিক্ষা হতে
বিচ্যুতি হওয়ার ফলে দিশেহারা মানুষ ক্রমে ক্রমে দল-উপদল ও শাখা-প্রশাখায় বা
একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য theosophy সর্বকালে সর্বযুগে
সারাবিশ্বে একই। এর কোন শাখা প্রশাখার উৎপত্তি আজও হয়নি আর কোনদিন হবেও না।
কারণ আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র একটি তা হলো ‘মানবদেহ’। সৃষ্টি জগতে
মানবের ঊর্ধ্বে আর কিছু নেই। ফলে একমাত্র মানবদেহ খুঁজলেই পরম সৃষ্টিকর্তা ও
পালনকর্তার সন্ধান পাওয়া যায়। বাঙালী হয়েও বাংলা সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক
পরিভাষার জ্ঞান অর্জন না করে কেউ কেউ কেবল সংস্কৃত পরিভাষায় সাম্প্রদায়িক ও
পারম্পরিক জ্ঞান বুঝেন ও বুঝান (গোঁসাইরা), আবার কেউ কেউ কেবল আরবি
পরিভাষায় সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক জ্ঞান বুঝেন ও বুঝান (পিরেরা)। ফলে মূল
বিষয় দাঁড়ায় এরূপ গোঁসাই ও পিরেরা নিজেও কিছু বুঝেন না এবং শিষ্যদেরও
কিছুই বুঝাতে সক্ষম হন না। তারা নিজেরাও যেমন বিপথগামী তদ্রূপ তাদের
শিষ্যরাও চরম বিপথগামী। বুদ্ধিমান গোঁসাই, পির, শিষ্য ও পাঠকদের উচিৎ সর্ব
প্রথমে যার যার মাতৃভাষায় যার যার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পরিভাষা গুলো
ভালোভাবে জেনে ও বুঝে নেওয়া। অতঃপর সাধন-ভজন কিংবা সাম্প্রদায়িক ও
পারম্পরিক প্রচার প্রসারে আত্মনিয়োগ করা। নিজের মাতৃভাষায় কোন কিছু
ভালোভাবে বুঝে না নিলে তা কোনদিন তার কোন উপকারে আসবে না। আপন মাতৃভাষায়
কোন কিছু একবার বুঝে নেয়া অন্য ভাষায় সহস্র বার বুঝে নেয়ার চেয়েও উত্তম।
সংক্ষিপ্ত
আধ্যাত্মিকবিদ্যা পরিচিতি
লেখক, বলন কাঁইজি।
আধ্যাত্মিকবিদ্যা পরিচিতি
লেখক, বলন কাঁইজি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন