৯৮/৭. সৃষ্টিকর্তা প্রসঙ্গঃ ‘শস্য’ (১৬ পর্বের ৭ম পর্ব
বিশেষ) (আধ্যাত্মিকবিদ্যা, আত্মতত্ত্ব, আত্মদর্শন, দেহতত্ত্ব,
পরম্পরাতত্ত্ব, দিব্যজ্ঞান, স্বরূপদর্শন, নরত্বারোপ ও বলনদর্শন টীকা)
——————————————————————————-
শস্য
Grain (গ্রেইন)/ ‘حبوب’ (হুবুব)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ব্যাপকপরিবারের অন্যতম একটি ‘উপমানপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘সৃষ্টিকর্তা’, রূপকপরিভাষা ‘কাঁই’, অন্যান্য উপমানপরিভাষা ‘ঘি, নীর, পীযূষ, মধু ও সূর্য’, চারিত্রিকপরিভাষা ‘অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর’। এ পরিভাষাটি রূপক সাহিত্যের ‘দুগ্ধ’, ‘শুক্র’, ‘পালনকর্তা’, ‘সৃষ্টিকর্তা’ ও ‘সন্তান’ এ ৫টি বৈক্তিক সদস্যেরই ব্যাপক পরিভাষারূপে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ জন্য বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিকমূলক উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।
——————————————————————————-
শস্য
Grain (গ্রেইন)/ ‘حبوب’ (হুবুব)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ব্যাপকপরিবারের অন্যতম একটি ‘উপমানপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘সৃষ্টিকর্তা’, রূপকপরিভাষা ‘কাঁই’, অন্যান্য উপমানপরিভাষা ‘ঘি, নীর, পীযূষ, মধু ও সূর্য’, চারিত্রিকপরিভাষা ‘অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর’। এ পরিভাষাটি রূপক সাহিত্যের ‘দুগ্ধ’, ‘শুক্র’, ‘পালনকর্তা’, ‘সৃষ্টিকর্তা’ ও ‘সন্তান’ এ ৫টি বৈক্তিক সদস্যেরই ব্যাপক পরিভাষারূপে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ জন্য বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিকমূলক উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।
শস্য (রূপ)বি ফসল, ফল, শাঁস, কৃষিপণ্য, কৃষিজাত ফল, কৃষিজাত বীজ, ফলের সার অংশ, grain (গ্রেইন), ‘حبوب’ (হুবুব) (আবি)বি
কাঁই, ব্রহ্মা, বিরিঞ্চি, কালা, কালু, কেলে, কালিয়া, কৃষ্ণ, কাজলা,
শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা, সবষধহরহ (মিলেনিন), ‘ميلانين’ (মিলেনিন) (আভা)বি ঈশ্বর, অনন্ত, কালোঈশ্বর, প্রজাপতি, হিরণ্যগর্ভ, বিধাতা, বিবস্বান, স্বায়ম্ভু (আদৈ)বি আল্লাহ (আ.ﺍﻠﻠﻪ), ইসা (আ.ﻋﻴﺴﻰٰ), মসিহ (আ.ﻤﺴﻴﺢ), শাম (আ.ﺷﺄﻢ), শামস (আ.ﺸﻤﺲ), শিশ (আ.ﺸﻴﺶ) (ইদৈ)বি Lord (লর্ড), maker (মেকার), designer (ডিজাইনার) (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের ‘উপমানপরিভাষা’ ও রূপক সাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.সাধারণত সর্ব প্রকার ফসলকেই শস্য বলা হয় ২.কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে সৃষ্টিকর্তা বা রূপকার্থে শস্য বলা হয় (ছনা)বি আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর (চরি)বিণ অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ (উপ)বি ঘি, নীর, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য (রূ)বি কাঁই (দেত)বি সৃষ্টিকর্তা।
শস্যের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of grain)
১. “আকাশে মই লাগাইয়া, ফল পাড়ে দুইজনে গিয়া, বলন কয় দ্বার খুলিয়া, সাধুরা ফল খাইতেছে” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০৮)।
২. “ডাল নাই তার পাতা আছে, তিনডালে জগৎ জুড়েছে, লালন বলে ভাবিস মিছে, ফুল ছাড়া ফল রয়েছে” (পবিত্র লালন- ৮৩৮/৪)।
(Some highly important quotations of grain)
১. “আকাশে মই লাগাইয়া, ফল পাড়ে দুইজনে গিয়া, বলন কয় দ্বার খুলিয়া, সাধুরা ফল খাইতেছে” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০৮)।
২. “ডাল নাই তার পাতা আছে, তিনডালে জগৎ জুড়েছে, লালন বলে ভাবিস মিছে, ফুল ছাড়া ফল রয়েছে” (পবিত্র লালন- ৮৩৮/৪)।
শস্যের সংজ্ঞা (Definition of grain)
সাধারণত সর্ব প্রকার ফসলকে শস্য বলে।
সাধারণত সর্ব প্রকার ফসলকে শস্য বলে।
শস্যের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of grain)
রূপকসাহিত্যে সৃষ্টিকর্তাকে উপমার্থে শস্য বলে।
রূপকসাহিত্যে সৃষ্টিকর্তাকে উপমার্থে শস্য বলে।
শস্যের প্রকারভেদ (Classification of grain)
শস্য দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান শস্য ও ২.উপমিত শস্য।
১. উপমান শস্য (Analogical grain)
সাধারণত সর্ব প্রকার ফসলকে উপমান শস্য বলে।
২. উপমিত শস্য (Compared grain)
রূপকসাহিত্যে জীবের সৃষ্টিকর্তাকে উপমিত শস্য বলে।
শস্য দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান শস্য ও ২.উপমিত শস্য।
১. উপমান শস্য (Analogical grain)
সাধারণত সর্ব প্রকার ফসলকে উপমান শস্য বলে।
২. উপমিত শস্য (Compared grain)
রূপকসাহিত্যে জীবের সৃষ্টিকর্তাকে উপমিত শস্য বলে।
শস্যের পরিচয় (Identity of grain)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের অধীন একটি ‘উপমানপরিভাষা’ বিশেষ। সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক গ্রন্থ-গ্রন্থিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় এবং একেক পরিভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সমাজবিজ্ঞানে সাধারণত সর্ব প্রকার ফসলকে শস্য বলা হলেও রূপকসাহিত্যে দুগ্ধ, শুক্র, সুধা, মধু ও সন্তানকে শস্য বলা হয়। তবে এখানে কেবল মধুকেই শস্য বলা হয়েছে। ফলের মধ্যে যেরূপ খাদ্যসার সঞ্চিত থাকে তাদৃশ মধুর মধ্যেও খাদ্যসার সঞ্চিত থাকে বলেই একে শস্য বলা হয়েছে। মধু হলো মানবগাছের মানবফল। মানবগাছের মানবফলের সন্ধান জানেন না বলেই শাস্ত্রীয় মতানুসারিরা শাস্ত্রীয় গ্রন্থাদির মধ্যে ব্যবহৃত ‘শস্য’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবলই উদ্ভিদরূপ শস্যকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক সাহিত্যাদি সর্বকালে ও সর্বস্থলেই উপমিতপ্রধান। এ জন্য এসব গ্রন্থে ব্যবহৃত উপমানপদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ না করে বরং এদের উপমিতপদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা একান্ত প্রয়োজন।
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের অধীন একটি ‘উপমানপরিভাষা’ বিশেষ। সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক গ্রন্থ-গ্রন্থিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় এবং একেক পরিভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সমাজবিজ্ঞানে সাধারণত সর্ব প্রকার ফসলকে শস্য বলা হলেও রূপকসাহিত্যে দুগ্ধ, শুক্র, সুধা, মধু ও সন্তানকে শস্য বলা হয়। তবে এখানে কেবল মধুকেই শস্য বলা হয়েছে। ফলের মধ্যে যেরূপ খাদ্যসার সঞ্চিত থাকে তাদৃশ মধুর মধ্যেও খাদ্যসার সঞ্চিত থাকে বলেই একে শস্য বলা হয়েছে। মধু হলো মানবগাছের মানবফল। মানবগাছের মানবফলের সন্ধান জানেন না বলেই শাস্ত্রীয় মতানুসারিরা শাস্ত্রীয় গ্রন্থাদির মধ্যে ব্যবহৃত ‘শস্য’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবলই উদ্ভিদরূপ শস্যকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক সাহিত্যাদি সর্বকালে ও সর্বস্থলেই উপমিতপ্রধান। এ জন্য এসব গ্রন্থে ব্যবহৃত উপমানপদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ না করে বরং এদের উপমিতপদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা একান্ত প্রয়োজন।
অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলেও চিরসত্য যে, বাংভারতের শাস্ত্রীয়
মতানুসারী পণ্ডিত ও বক্তারা উপমিতপ্রধান এসব মহাগ্রন্থের কেবল উপমানপদাদির
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেই হাঁপিয়ে উঠেছেন। পক্ষান্তরে উপমিতপদের সন্ধান করতে
এখনো উদ্যোগী হতে পারেননি। সে জন্যই শাস্ত্রীয়গ্রন্থ পাঠ করে শাস্ত্রীয়
সন্ত্রাসী সৃষ্টি হওয়া আরম্ভ হয়েছে। যে শাস্ত্রীয়গ্রন্থ মানুষের নীতি ও
নৈতিকতা শিক্ষা দেয় ও যে শাস্ত্রীয়গ্রন্থ মানুষের মনুষ্যত্ব শিক্ষা দেয়, সে
শাস্ত্রীয়গ্রন্থ পাঠ করেই বর্তমানে শাস্ত্রীয় ছাত্রসমাজ পশুত্ব শিক্ষা
করছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শিক্ষা করছে। এর জন্য ছাত্রসমাজ অভিযুক্ত নয়
বরং প্রকৃতপক্ষে অভিযুক্ত হলো শাস্ত্রীয় মতবাদের ধ্বজাধারী শাস্ত্রীয়
মতানুসারী পণ্ডিত ও বক্তারা।
পরিশেষে বলতে চাই যারা কেবল শাস্ত্রীয় গ্রন্থাদি পাঠ করে এবং তোতা পাখির
মতো শাস্ত্রীয় গ্রন্থের বচন প্রচার করতে থাকে তারাই শাস্ত্রীয় সন্ত্রাসী।
এরাই মানুষকে বিপথগামী করার মূল ক্রীড়ানক। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা কেবল
দু’য়েকজনকে হত্যা, হনন ও বধ করে থাকে। কিন্তু শাস্ত্রীয় সন্ত্রাসীরা গোটা
জাতির মনুষ্যত্বকে হত্যা করে। জাতিকে উগ্রবাদী ও আতংবাদী করে গোড়ে তুলে।
(সংক্ষিপ্ত)
সূত্রতথ্যঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
সূত্রতথ্যঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন