রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৪

দুর্গার স্বরূপ বিশ্লেষণ

দুর্গার স্বরূপ বিশ্লেষণ (Analysis of Sooth of Od)
‘ تحليل واقع من ‘التطوير التنظيمي’ (তাহলিল ওয়াক্বায়া মিন আত্তাতুয়ির আত্তাঞ্জিমি)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শুক্র’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’। রূপক সাহিত্যে বর্ণিত সব পরিভাষার সর্বদা দু’টি দিক বিদ্যমান। তা হচ্ছে কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy) বা প্রপক (Extensive) ও আত্মদর্শন (Theosophy)। অথবা কাল্পনিকতত্ত্ব (Mythology) ও আত্মতত্ত্ব (Theology)। এ সূত্র অনুসারে দুর্গারও দু’টি দিক রয়েছে। সাধারণ মানুষ অর্থাৎ সাধারণ শাস্ত্রীয়রা কেবল কাল্পনিক দর্শন ছিটেফোটা জানে কিন্তু আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্ব জানে না একেবারেই। মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন- “আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে, দিব্যজ্ঞানী সে হয়েছে, কুবৃক্ষে সুফল পেয়েছে, আমার মনের ঘোর গেল না।” (পবিত্র লালন- ৮২৮/৩)। রূপক সাহিত্যের পরিভাষাগুলোর আত্মদর্শন না জানা আর বোকার রাজ্যে বাস করা সমান। সে জন্য এখানে সংক্ষিপ্তভাবে দুর্গার কাল্পনিকদর্শন ও আত্মদর্শন আলোচনা করা হলো।
কাল্পনিকদর্শন (Mythosphilosophy) বা প্রপক (Extensive)
পরমা প্রকৃতি, বিশ্বের আদি কারণ ও পুরাণোক্ত শিবপত্নী। মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ হতে বিতাড়িত করে স্বর্গরাজ্যলাভ করেন। দেবতারা বিপন্ন হয়ে ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। ব্রহ্মা শিব ও দেবতাদের সঙ্গে নিয়ে বিষ্ণুর কাছে যান। অতঃপর তাঁদের দুর্দশার কথা বর্ণনা করেন ও তাঁদের বিপদ হতে উদ্ধার করতে অনুরোধ করেন। কারণ ব্রহ্মার বরে মহিষাসুর পুরুষের অবাধ্য হয়েছে। তখন বিষ্ণু বলেন- এই অসুরকে বধ করতে হলে নিজ নিজ স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়ে স্বস্ব তেজের কাছে এই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই সমবেতভাবে উৎপন্ন তেজ হতে যেন এক নারী-মূর্তি আবির্ভূতা হন। এই নারীই অসুরকে বধ করতে পারবেন। এরূপ শুনে ব্রহ্মা, ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতাদের দেহ হতে তেজ নির্গত হলো। সমবেত তেজরাশি হতে এক নারী-মূর্তি আবির্ভূতা হলেন। তখন সব দেবতা তাঁদের নিজ নিজ অস্ত্রাদি তাঁকে দান করলেন। এই দেবী মহিষাসুরকে তিনবার বধ করেন। প্রথমবার অষ্টাদশভূজা উগ্রচণ্ডারূপে, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার দশভূজা দুর্গারূপে। রাত্রে ভদ্রকালীর মূর্তি স্বপ্নে দেখে মহিষাসুর এই মূর্তির আরাধনা করেছিলেন। দেবী মহিষাসুরের কাছে এলে মহিষাসুর বলেন, “আপনার হাতে মৃত্যুর জন্য কোন দুঃখ নেই। কিন্তু আপনার সঙ্গে আমিও যাতে সর্বজনের পূজিত হই; তারই ব্যবস্থা করুন।” দেবী তখন বললেন- উগ্রচণ্ডা, ভদ্রকালী ও দুর্গা- এই তিন মূর্তিতে তুমি সব সময় আমার পদলগ্ন হয়ে দেবতা, মানুষ ও রাক্ষসদের পূজ্য হবে।” (দেবী ভাগবত, মার্কণ্ডেয়চণ্ডী ও কালিকা পুরাণ)
সত্যযুগে সুরখ রাজা ও সমাধি বৈশ্য দুর্গা-মূর্তি প্রস্তুত করে তিন বছর পূজার্চনা করেছিলেন। ত্রেতাযুগে রাবণ চৈত্রমাসে বসন্তকালে এ দুর্গা দেবীর পূজা করতেন। সে জন্য এই পূজা বাসন্তীপূজা নামে বিখ্যাত। এছাড়া শ্রী রামচন্দ্র অকালে বোধন করে রাবণ বধের জন্য এই পূজা করেছিলেন (পৌরাণিক অভিধান)। অন্যদিকে রাবণ বধ এবং জানকীকে উদ্ধার করার জন্য শ্রী রামচন্দ্র বসন্তকালের পূর্বে শরৎকালে দেবীপূজা করেছিলেন। উল্লেখ্য, শ্রী রামচন্দ্র দেবী ভগবতীকে অকালে বোধন করেছিলেন। মূলত দেবীর পূজা বসন্তকালে হয়ে থাকে। আর সেই থেকে শরতে দেবীপূজা অকালবোধন নামে পরিচিত। শরতের এই পূজাই আমাদের দুর্গোৎসব। শরতের সঙ্গে সঙ্গে হেমন্তে কাত্যায়নী দুর্গা, বসন্তে বাসন্তী পূজারও প্রচলন আছে। (তথ্যসূত্রঃ- দৈনিক যুগান্তর, ২২ অক্টোবর, ২০১২ ইং)
দুর্গার আগমন-গমন বাহনসমূহ
(The vehicles of arrivals-departure of Od (Durga))
সাধারণত দুর্গার গমন ও আগমনে চারটি বাহন দেখা যায়।
১. গজ বা হাতি
২. ঘোটক বা ঘোড়া
৩. নৌকা
৪. দোলা বা পালকি
দেবী দুর্গার গজ এ আগমন ও গমনকে কেন্দ্র করে বলা হয়েছে- “গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা।” অর্থাৎ এই আগমন ও গমনে বসুন্ধরা শস্যপূর্ণ হয়ে মানুষকে সুখ, স্বাচ্ছন্দ্যে ভরিয়ে তুলবে।
অন্যদিকে ঘোটক দেব-দেবী ও মানুষের কাজে ব্যবহৃত হলেও গজের মতো মর্যাদা না দিয়ে ঘোটকে দুর্গার আগমন ও গমন নিয়ে বলা হয়েছে- “ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে”। অর্থাৎ ঘোটকে আগমন ও গমনে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংসারিক ক্ষেত্রেও অস্থিরতা প্রকাশ পাবে। যেমন, রাজনৈতিক উত্থান, পতন, সামাজিক স্তরে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, গৃহযুদ্ধ, দুর্ঘটনা, অপমৃত্যু ইত্যাদির প্রভাব বাড়বে।
আবার নৌকায় আগমন ও গমনে বলা হয়েছে “শস্যবৃদ্ধিস্তুথাজলম।” এ ক্ষেত্রে প্রবল বন্যা, ঝড়, অতিবৃষ্টি ইত্যাদির জন্যে একদিকে প্লাবন ও ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্যদিকে দ্বিগুণ শস্যবৃদ্ধি। এর মধ্যে দোলায় আগমন ও গমন সবচেয়ে অশুভ। তাই দোলা সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, “দোলায়াং মরকং ভবেৎ”। মহামারি, ভূমিকম্প, যুদ্ধ, মন্বন্তর, খরা ইত্যাদির প্রভাবে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু তো ঘটাবেই, আবার সেই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতিও হবে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, একমাত্র গজ ছাড়া দেবী দুর্গার অন্য তিন যানবাহনের মাধ্যমে ধ্বংস বা লয়কে ব্যবহার করা হয়েছে। শুধুমাত্র গজই প্রয়োজন মতো বৃষ্টি ধারায় বসুন্ধরাকে ধন- ধান্যে সমৃদ্ধ করে তুলবে।
কৈলাস (Kailash)/ (Male body)
এটি একটি পর্বতমালা বিশেষ। পুরাণোক্ত মহাদেব ও কুবেরের বাসস্থানরূপে এ পর্বত বিখ্যাত। এর অবস্থান হিমালয়ের চূড়ায় মানস-সরোবরের উত্তর-পশ্চিম দিকে। এখানে মহাদেবের রাজপুরী অবস্থিত। মহাদেবের মহামান্যা স্ত্রী শ্রীমতি দুর্গা, শ্রীমতি পার্বতী এখানে বাস করেন। এ কৈলাস হতেই মহামান্যা শ্রীমতি দুর্গা প্রতিবছর মর্ত্যধামে গমনাগমন করে থাকেন।
আত্মদর্শন (Theosophy)
এবার আমাদের কথা হচ্ছে কে এই দুর্গা? আর পুরাণীরা কেন দুর্গাকে মা বলে থাকেন? অন্যদিকে কুরানীরা ফাত্বিমাকে মা বলে থাকেন। তবে কী দুর্গা ও ফাত্বিমার মধ্যে তাত্ত্বিক কোন মিল আছে?
হ্যাঁ এরূপ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- বাংভারতীয় পুরাণীরা মানবদেহের যে সত্তাকে মা দুর্গা বলে থাকেন; কুরানীরা সে সত্তাকেই মা ফাত্বিমা বলে থাকেন। মা দুর্গা ও মা ফাত্বিমা মানবদেহের একই সত্তা কেবল ভাষার ভিন্নতা মাত্র। দুর্গার অপর নাম আদ্যা বা আদ্যাশক্তি। যিনি জগৎ সৃষ্টির আদি কারণ। যাকে সৃষ্টি করা না হলে এ বিশ্ব সৃষ্টি করা হতো না। নিচে দুর্গা বা আদ্যাশক্তির আত্মতাত্ত্বিক দর্শন তুলে ধরা হলো। সর্ব প্রথমে ওপরোক্ত প্রপকটির মধ্যে ব্যবহৃত রূপক ও ছদ্মনামগুলোর মূলক বের করে দেখানো হলো।
ছদ্মনাম = মূলক
১ . মহাদেব = শিশ্ন
২ . কৈলাস = পুরুষদেহ
৩ . পার্বতী = বীর্য
৪ . হাতি/ গজ = পুরুষদেহ
৫ . ঘোড়া/ ঘোটক = পুরুষদেহ ও মন
৬ . নৌকা = পুরুষদেহ, নারীদেহ ও ভগ
৭ . দোলা/ পালকি = নারীদেহ
৮ . শিব = শিশ্ন
৯ . দুর্গা = বীর্য
১০ . স্বর্গ = দেহ
১১ . দেবতা = বৈক্তিকসদস্যের ছদ্মনাম
১২ . ব্রহ্মা = কালোবর্ণের মানবজল
১৩ . বিষ্ণু = সাদাবর্ণের মানবজল
১৪. মহিষাসুর = শিশ্ন
১৫ . মহিষাসুর বধ = বীর্যপাত
হাতি/ গজ (Elephant)
সাধারণত বিশালদেহী এক প্রকার বন্য প্রাণীকে হাতি বলা হয়। কিন্তু রূপক সাহিত্যে যে কোন বিশালদেহী প্রাণীকেই হাতি বলা হয়। আর এ সূত্র ধরেই রূপক সাহিত্যে মানবদেহকে হাতি বলা হয়। তবে রূপক সাহিত্যে ব্যবহৃত হাতি পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র পুরুষদেহকেই বুঝায়। যেমন পবিত্র কুরানে বলা হয়েছে- “আপনি কী দেখেন না যে- আপনার প্রতিপালক হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ আচরণ করেন?” “أَلَمْ تَرَى كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ” (আলাম তারা কাইফা ফায়ালা রাব্বুকা বি আসহাবিল ফিল)। (Alam tara kayfa fa’ala rabbuka bi-ashabil feel). “Have you not seen how your Lord dealt with the Elephant forces? (কুরান, সুরা ফিল- ১)। “তাদের চক্রান্তকে তিনি কী পথভ্রষ্টায় পতিত করেন না?” “أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ” (Alam yeaj’al kaydahum fee tadleel). “Did He not make their plot go astray?” (কুরান, সুরা ফিল- ২)। “তাদের প্রতি পক্ষীদল প্রেরিত হয়।” “وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ” (ওয়া আরসালা আলাইহিম ত্বইরান আবাবিল)। (Wa arsala alayhim tayran ababeel). “And sent against them birds, in flocks.” (কুরান, সুরা ফিল- ৩)। “তাদের প্রতি তলদেশ হতে প্রস্তর নিক্ষিপ্ত হয়।” “تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ” (তারমিহিম বিহিজারতিম মিন সিজ্জিল)। (Tarmeehim bihijaratim min sijjeel). “Striking them with stones of Sijjîl.” (কুরান, সুরা ফিল- ৪)। “পরে তাদের চর্বণকৃত ভুষিবৎ করা হয়।” “فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ” (ফাজায়ালাহুম কায়াসফিম মা’কুল)। (Fa ja’lahum ka’asfim ma’kul). “And made them like an empty field of stalks.” (কুরান, সুরা ফিল- ৫)
ঘোড়া/ ঘোটকঃ (Horse)
সাধারণত এক প্রকার ভারবাহী ও দ্রুত গমনশীল গৃহপালিত প্রাণীকে ঘোড়া বলা হয়। তবে রূপক সাহিত্যে মানবদেহ ও মনকে ঘোড়া বলা হয়। এখানে ঘোড়া বলতে মানবদেহকে বুঝানো হয়েছে। মানবদেহ দুই প্রকার। যথা- ১.পুরুষদেহ ও ২.নারীদেহ। রূপক সাহিত্যে ব্যবহৃত ঘোড়া পরিভাষাটির দ্বারা যদি দেহ বুঝানো হয় তবে তা হবে অবশ্যই পুরুষদেহ। কারণ নারীদেহকে কখনই ঘোড়া বলা হয় না। যেমন মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন- “শশকপুরুষ সত্যবাদী, মৃগপুরুষ ঊর্ধ্বভেদী, অশ্ব বৃষ বেহুঁশ নিরবধি, কু’কর্মেতে সদায় মন” (পবিত্র লালন- ৯১৫/৩)
নৌকাঃ (Boat)
সাধারণত সনাতনী ভাবে প্রস্তুত জলযানকে নৌকা বা তরী বলা হয়। কিন্তু রূপক সাহিত্যে দেহ ও মনকে নৌকা বলা হয়। তবে এখানে কেবল দেহকে নৌকা বলা হয়েছে। দেহ দুই প্রকার। যথা- ১.পুরুষদেহ ও ২.নারীদেহ। এখানে দেহ বলতে কেবল পুরুষদেহকেই বুঝাবে। উল্লেখ্য দুর্গা হচ্ছে পুরুষদেহের বীর্য, নৌকা হচ্ছে পুরুষদেহ এবং দোলা হচ্ছে নারীদেহ। এই বীর্য পুরুষ দেহরূপ নৌকায় চড়ে আসে এবং বীর্যপাতের পর নারীদেহরূপ দোলায় চড়ে স্বর্গধামরূপ জরায়ুতে যায়। যেমন- মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন- “এ দেশেতে এ সুখ হলো, আবার কোথায় যাই না জানি, পেয়েছি এক ভাঙ্গা নৌকা, জনম গেল সেচতে পানি।” (পবিত্র লালন- ২১৬/১)
দোলা/ পালকিঃ (Sedan)
সাধারণত রাজা, সম্রাট ও বিত্তবানরা মধ্যযুগে ও আধুনিক যুগের প্রাথমিক দিকে কোথাও যাওয়া আসার জন্য যে সনাতনী মানবযান ব্যবহার করতেন তাকে পালকি বা দোলা বলা হয়। তবে রূপক সাহিত্যে কেবল নারীদেহকে পালকি বা দোলা বলা হয়। কামযজ্ঞের সময় নারীদেহ পুরুষকে নাগরদোলার মতো দোলায় বলেই এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে- “দোলা দে দোলা দে, দোলা দেরে পাগলা।”
মহিষাসুর তিনবার বধের ব্যাখ্যা
(Explanation of three-kill of Piercer)
রূপক সাহিত্যে শিশ্নকে রূপকার্থে মহিষাসুর বলা হয়। কামযজ্ঞে রত হলে মহিষাসুরকে হত্যা করার জন্য কবন্ধ তিনবার কামরস নিক্ষেপ করে। ঊর্ধ্বরেতা সাধকরা বৈতরণী অতিক্রম করতে পারে কিন্তু সাধারণ কামুকরা কবন্ধের হাতে মৃত্যুবরণ করে। একেই রূপক আকারে তিনবার মহিষাসুর বধ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রকৃতপক্ষে মহিষাসুর কখনই তিনবার মৃত্যুবরণ করে না। যদিও কোন কোন বর্ণনায় এর প্রমাণও তুলে ধরা হয়, তাও রূপক।
অন্যদিকে শাস্ত্রীয় কুরানী মনীষীরা বর্থ্যকে পাথর মারা বলে বিষয়টি উল্লেখ করে থাকেন। কামযজ্ঞে তিনবার কামরস নিঃসরণের চিহ্নরূপে তিনবার পাথর মারা হয়। এখানে বর্থ্য হচ্ছে ব্যর্থতা। শিশ্নের চিহ্নরূপে একটি কাঠি পুঁতে রেখে তাকে সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এর অর্থ হচ্ছে প্রতি ৭ মিনিট পর একবার কামরস নিঃসরণ হয়। এ সূত্র মতে কামযজ্ঞে রত হওয়ার প্রায় ৭ মিনিট, ১৪ মিনিট ও ২১ মিনিট পর কামরস নিঃসৃত হয়। তারপর আর কামরস আসে না। এরই রূপক ব্যাখ্যারূপে তিনবারে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে শুক্রপাত না হলে সাধক অটলত্বলাভ করে। আর শুক্রপাত হলে সে মৃত্যুবরণ করে। পুরাণীদের মহিষাসুর বধ ও কুরানীদের বর্থ্যকে (‘ﺸﻴﻄﺎﻦ’. শয়তান) পাথর মারার মূল বিষয়টি এক ও অভিন্ন। কেবল উপমা নির্মাণের নৈপুণ্যতাটাই ভিন্ন।
দুর্গা
Od (ওড)/
‘التطوير التنظيمي’ (আত্তাত্বায়িরু আত্তাঞ্জিম)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শুক্র’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘শুক্র’, রূপক পরিভাষা ‘ধন’, উপমান পরিভাষা ‘অমির, আংগুর, খেজুর, নারী, নির্যাস, ধেনু, পিতৃধন, ফসল, রুটি ও স্বর্গীয়ফল’, চারিত্রিক পরিভাষা ‘নারাঙ্গী, বেহুলা, মায়া, রতী, রাধা, সীতা’ এবং অন্যান্য ছদ্মনাম পরিভাষা ‘আদিপিতা, আদিমানব, দৈত্য ও মা’
দুর্গা (রূপ)বিণস্ত্রী আদ্যা, আদ্যাশক্তি, আদিভূতা, কালী, গৌরী, পার্বতী, ভগবতী, মহামায়া, বিপত্তারিণী বিস্ত্রী প্রকৃতি, পরমেশ্বরী, Od (ওড), ‘التطوير التنظيمي’ (আত্তাত্বায়িরু আত্তাঞ্জিম) (প্র) পুরাণোক্ত শিব বা মহাদেবের পত্নী (আবি)বি শুক্র, শুক্রাণু, বীর্য, বিন্দু, ধাতু, semen (সিমেন), ‘.ﻤﻧﻰ’ (মনি), ‘.ﻧﻂﻔﺔ’ (নুত্বফা) (আভা)বি গোবিন্দ, জল, বারি, পিতৃধন স্ত্রী অহল্যা, কালী, দুর্গা, বৈষ্ণবী, সীতা (আদৈ)বি.ﺍﺪﻢ’ (আদম), ‘.ﻋﺯٰﻰ’ (ওয্যা), ‘.ﺠﻦ’ (জিন), ‘ফা.ﭙﺮﻯ’ (পরি), ‘.ﺯﻜﺎﺓ’ (যাকাত), ‘.ﻟﻮﻄ’ (লুত্ব), ‘ﻴﺯﻴﺪ’ (ইয়াজিদ) স্ত্রী (.ﺯﻟﻴﺠﺎ) (জুলেখা), (.ﺒﺎﻠﻜﺱ) (বিলকিস) (ব্য্য) সর্ব শাস্ত্রীয় মতবাদে শুক্র দ্বারা আদিমানব বা আদিপিতা নির্মাণ করা হয়- যেমন গোবিন্দ ও ‘.ﺍﺪﻢ’ (আদম) প্রমুখ। এছাড়া শুক্র দ্বারা রূপক সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে নারীচরিত্র নির্মাণ করা হয়- যেমন কালী ও (.ﺯﻟﻴﺠﺎ) (জুলেখা) প্রমুখ (দেপ্র) এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শুক্র’ পরিবারের ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’ ও রূপক সাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.পুরাণোক্ত শিবের স্ত্রীকে দুর্গা বলা হয় ২.রূপক সাহিত্যে পুরুষজাতির বীর্যকে রূপকার্থে দুর্গা বলা হয় (ছনা)বি আদিপিতা, আদিমানব, আদ্যাশক্তি, দৈত্য ও মা (চরি)বিস্ত্রী দুর্গা, নারাঙ্গী, বেহুলা, রতী, রাধা, সীতা ও সুন্দরী (উপ)বি অমির, আংগুর, ধেনু, নির্যাস, পদ্ম, পিতৃধন, রুটি ও স্বর্গীয়ফল (রূ)বি ধন (দেত)বি শুক্র {বাং.আদ্যা+ বাং.শক্তি}
দুর্গার ইংরেজি অনুবাদ Od (ওড)। ইংরেজি ভাষায় Od (ওড) এর তিনটি রূপ রয়েছে। যথা- OD, Od & od।
Random House Webster’s Dictionary
Od
or or ; (od) interj.
Archaic. a shortened form of ” God ”
American Heritage Dictionary
Od
Od or Odd (Ld) interj. Archaic. Used as a mild oath. [Alteration of God.]
দুর্গার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Od)
১. “নীর নূরে গুপ্তবারি, সাঁই রেখেছেন ঘিরে, ছিল নীরাকারে আদ্যনূর, অচিনমানুষ কয় যারে।” (পবিত্র লালন- ৬০৫/১)
২. “বিরজা ফল্গু গয়াধামে, ভক্তি দাও মার চরণকোনে, নিরীক্ষ রেখে নয়নে- বৃন্দাবন আর কৈলাশটিলে, মাকে রাখো আদ্যামূলে, মা জননী সাতরাজার সমান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫১)
৩. “লামুক্বামে আছেন নূরী, সে কথা অকৈতব ভারী, লালন কয় দ্বারের দারী, আদ্যামাতা সে।” (পবিত্র লালন- ৮৫৩/৪)
৪. “লাল রঙে রঙিনী যিনি, আদ্যাশক্তি মা প্রসবিনী, সিতারারূপ ধরে তখনি, লালন কয় আগম অনুসারে।” (পবিত্র লালন- ৬০৫/৪)
দুর্গার সংজ্ঞা (Definition of Od)
পুরাণোক্ত শিবের স্ত্রীকে দুর্গা বলে।
দুর্গার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of Od)
রূপক সাহিত্যে পুরুষজাতির বীর্যকে রূপকার্থে দুর্গা বলে।
দুর্গার পরিচয় (Identity of Od)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘শুক্র’ পরিবারের অধীন একটি ‘ছদ্মনাম পরিভাষা’ বিশেষ। পুরাণী দর্শনে এখন পর্যন্ত স্বর্গীয়া একজন কিন্নরীই আদ্যশক্তি (দুর্গা) বলে গণ্য হয়ে আসছেন। অধিকাংশ পুরাণীই জানেন না কী এ আদ্যাশক্তি (দুর্গার) বাস্তবমূলক? পুরাণী কিংবা কুরানী সবাই মূলক হারিয়ে কেবল রূপক, ব্যাপক ও উপমান সত্তাদির ভূতুড়ে অভিধা গ্রহণ করেই বর্তমানে শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক অঙ্গনে এত অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। উপদেশ আকারে বলা যায় যে শাস্ত্রীয় গ্রন্থের ভূতুড়ে সত্তাদি সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে আত্মতত্ত্বে ফিরে আসা সব মানুষের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।
শাস্ত্রীয় পুরাণী মনীষীগণ দুর্গার প্রকৃত অর্থ বা সঠিক অভিধা না জানার কারণে সারা বিশ্বের পুরাণীরা এ দেবীর পূজা করা ও বিসর্জন দেওয়ার মধ্যেই একে সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন। এর থেকে কল্যাণ গ্রহণ করা হয়নি তিলমাত্র। যাই হোক আমাদের আলোচ্য দুর্গার আত্মদর্শন বা আত্মতাত্ত্বিক সত্তা হচ্ছে পুরুষজাতির বীর্য বা শুক্র।
অন্যদিকে বড় আশ্চর্য হবার বিষয় হলো সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয়, সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা রূপক সাহিত্যে বর্ণিত ‘দুর্গা’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবল কল্পিত ও অজানা এক দেবীকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। তাই শাস্ত্রীয় ও সাম্প্রদায়িকরা চিরদিনের জন্য আধ্যাত্মিকজ্ঞান বা আত্মতত্ত্বের জ্ঞানে চির অন্ধ। আর এ জন্যই শাস্ত্রীয়দের থেকে সারা বিশ্বে যুগে যুগে এত শাস্ত্রীয় সন্ত্রাস ও শাস্ত্রীয় আগ্রাসন সংঘটিত হয়েছে। এমনকি বর্তমানকালেও শাস্ত্রীয়রাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শীর্ষে।
প্রতিমা বিশ্লেষণ (Embodiment analysis)
Durga

এবার আমাদের দুর্গা প্রতিমা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। ওপরের চিত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি; দুর্গা একটি সিংহের ওপরে আরোহণকৃত। তার ১০টি হাত। প্রতিটি হাতে ভিন্ন ভিন্ন মারণাস্ত্র। তিনি সিংহের পিষ্ঠে আরোহণ করে মহিষাসুরকে বধ করতে উদ্যত। এছাড়া প্রতিমা বিষারদরা একেক জনে একেক ভাবে প্রতিমা নির্মাণ করে থাকেন। তবে ওপরের চিত্রটির মধ্যে দুর্গা ও দুর্গপূজার প্রায় সব উপাদান রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। নিচে প্রতিমার অবয়বে রূপক ও ছদ্মনাম রূপে ব্যবহৃত উপাদানগুলোর মূলক উদ্ঘাটন করে দেখানো হলো।
ছদ্মনাম = মূলক
১ . শিব = শিশ্ন
২ . দুর্গা = বীর্য
৩ . স্বর্গ = দেহ
৪ . সিংহ = দেহ
৫ . দশহাত = দশইন্দ্র (১. চক্ষু, ২. কর্ণ, ৩. নাসিকা, ৪. জিহবা. ৫. ত্বক. ৬. বাক্, ৭. পাণি, ৮. পাদ, ৯. পায়ু ও ১০. উপস্থ)
৬ . অস্ত্র = ইন্দ্রাদির ভিন্ন ভিন্ন কার্য
৭ . মহিষাসুর = শিশ্ন
৮ . মহিষাসুর বধ = বীর্যপাত
ইন্দ্রাদির পরিচয় ও কাজ
(Identity and jobs of the Organs)
মানবদেহে ১০টি প্রধান ইন্দ্রিয় রয়েছে। তার মধ্যে ৪টি প্রধান। যথা- ১.চক্ষু ২.কর্ণ ৩.নাসিকা ও ৪.জিহবা। রূপক সাহিত্যে এদের প্রধান চার প্রতীতি বলা হয়। রূপক সাহিত্যে এদের রূপক নামও রয়েছে। যথা- ১.চক্ষুকে বলা হয় দ্রষ্টা, ২.কর্ণকে বলা হয় শ্রোত্র ৩.নাসিকাকে বাঁশি ও ৪.জিহবাকে বলা হয় বলন বা সুবোল। এগুলোকে আরবি ভাষায় মিকাইল, আযরাইল, ইসরাফিল ও জিব্রাইল বলা হয়। উল্লেখ্য রূপক সাহিত্যে সর্বদা ইন্দ্রিয়দের রূপক নাম ব্যবহার করা হয়। ইন্দ্রিয়দের রূপক নাম ব্যবহার করে রূপক সাহিত্য নির্মাণ করা হয় বলে সাধারণ পাঠক-শ্রোতাবৃন্দ এদের চিনতে ও জানতে ভুল করেন।
১. চক্ষু (Eye)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির মূলক-পরিবারের একটি অন্যতম ‘মূলকসদস্য’ এবং ‘চক্ষু’ পরিবার প্রধান বিশেষ। এর রূপক পরিভাষা ‘দ্রষ্টা’। এটি একটি ‘মূলক-প্রধান’ সত্তা।
চক্ষের কাজ (Jobs of Eyes)
১. চর্মচক্ষু দ্বারা স্থূল দ্রব্যাদি দর্শন করা যায়।
২. জ্ঞানচক্ষু দ্বারা অতি সহজে বৃত্তি ও ব্যবসা করা যায়।
৩. অন্তরচক্ষু দ্বারা কল্পনা, বিচার ও বিবেচনা করা যায়।
৪. দিব্যচক্ষু দ্বারা অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালের সর্ব প্রকার বিষয়াদি অনুধাবন করা যায়।
২. কর্ণ (Ear)
কর্ণ (রূপ)বি ১.কান, শ্রোত্র, শ্রাবক, শ্রবনেন্দ্রিয় ক্রি শ্রবণ করা, হৃদয়ঙ্গম করা, কথা বা শব্দ অনুধাবন করা ২.হাল, বৈঠা, মাঝি, কাণ্ডারী ৩.কোণ, কোনা, চতুর্ভূজের বিপরীত কোণা যুক্তকারী রেখা, (Ear) (এয়ার), ‘أُذْن’ (উযন)।
কর্ণের কাজ (Jobs of Ears)
১. কর্ণ দ্বারা জীবকুল শব্দাদির বোধ অনুধাবন করে থাকে।
২. কর্ণ দ্বারা জীবকুল সুরের ভালোমন্দ বিচার ও বিবেচনা করে থাকে।
৩. যেসব প্রাণীর চোখ নেই তারা কর্ণ দ্বারা শব্দ সংকেত ব্যবহার করে চলাফেরা করে থাকে।
৩. নাসিকা (Nose)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির মূলক-পরিবারের একটি অন্যতম ‘মূলকসদস্য’ এবং ‘নাসিকা’ পরিবার প্রধান বিশেষ। এর রূপক পরিভাষা ‘বাঁশি’, উপমান পরিভাষা ‘বীণ’ এবং ছদ্মনাম পরিভাষা ‘শিঙ্গা’। এটি একটি ‘রূপক-প্রধান’ সত্তা।
নাসিকার কাজ (Jobs of Nose)
১. নাসিকার সাহায্যে সুঘ্রাণ ও দুর্গন্ধ অনুভব করা যায়।
২. এর সাহায্যে শ্বাসগ্রহণ বর্জনের মাধ্যমে বাতাস হতে জীবনধারণের অম্লজান গ্রহণ করা যায়।
৩. এর সাহায্যে কোন কাজের শুভাশুভ ফলাফল অগ্রিম জানা যায়।
৪. এর সাহায্যে ইচ্ছা অনুযায়ী পুত্র ও কন্যা সন্তান উৎপাদন করা যায়।
৫. চন্দ্রশ্বাসের দ্বারা মানবদেহ হতে সুধারূপ জীবজল বা জীবাম্বু বা জীবোদক আহরণ করা যায়।
৬. সূর্যশ্বাসের দ্বারা মানবদেহ হতে মধুরূপ জীবজল বা জীবাম্বু বা জীবোদক আহরণ করা যায়।
৭. সূর্যশ্বাসের দ্বারা পুত্রসন্তান সৃষ্টি করা যায়।
৮. চন্দ্রশ্বাসের দ্বারা কন্যাসন্তান সৃষ্টি করা যায়।
৪. জিহবা (Tongue)
১. এর দ্বারা কথা বলা যায়।
২. এর দ্বারা অন্ন-পানীয় গলাদঃকরণ করা যায়।
৫. ত্বক (Derm)
১. এর দ্বারা স্পর্শজ্ঞানলাভ করা যায়।
২. এর দ্বারা শীতল-উষ্ণতা অনুভব করা যায়।
৬. বাক্ (Orator)
বাক্ (রূপ)বি বলন, কথা, ভাষণ, speak (স্পিক), ক্বওল (.ﻗﻮﻞ), Gabriel (গেবরিয়েল),‘ﺠﺑﺮﺍﺌﻴﻞ’ (জিব্রাইল), orator (ওরাটর)।
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘ইঙ্গিত’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘চারিত্রিক পরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘ইঙ্গিত’, রূপক পরিভাষা ‘প্রত্যাদেশ’, উপমান পরিভাষা ‘ঐশিবাণী, দীপন ও দৈববাণী’, অন্যান্য চারিত্রিক পরিভাষা ‘গীর্বাণ, গীষ্পতি ও সুবোল’ এবং ছদ্মনাম পরিভাষা ‘অবতার ও ঐশিদূত’
বাকের কাজ (Jobs of Orator)
১. বাক্ ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশ করা যায়।
২. এর সাহায্যে আদেশ নিষেধ ও উপদেশ করা যায়।
৭. পাণি (Hand)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘বলাই’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘উপমান পরিভাষা’। এর প্রকৃত মূলক ‘শিশ্ন’, রূপান্তরিতমূলক ‘বলাই’, রূপক পরিভাষা ‘বিম্বল’, অন্যান্য উপমান পরিভাষা ‘আঁচল, আঙ্গুল, খুঁটি, গাছ, চরণ, পদ, বৈঠা, রশি ও লাঠি’, চারিত্রিক পরিভাষা ‘অনস্থী, ইন্দ্র, কর্ণ, জগাই, জনক, দৈত্য ও শুক্রাচার্য’ এবং ছদ্মনাম পরিভাষা ‘কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, মরা ও শ্রীচরণ’
পাণির কাজ (Jobs of Hands)
১. পাণি দ্বারা স্থূল দ্রব্যাদি ধারণ করা যায়।
২. এর দ্বারা খাদ্য গ্রহণসহ দৈহিক ক্রিয়া কর্মাদি সম্পাদন করা যায়।
৮. পাদ (Footsie)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘বলাই’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘উপমান পরিভাষা’। এর প্রকৃতমূলক ‘শিশ্ন’, রূপান্তরিত মূলক ‘বলাই’, রূপক পরিভাষা ‘বিম্বল’, অন্যান্য উপমান পরিভাষা ‘আঁচল, আঙ্গুল, খুঁটি, গাছ, বৈঠা, লাঠি ও হাত’, চারিত্রিক পরিভাষা ‘অনস্থী, কর্ণ, জগাই, জনক, দৈত্য ও শুক্রাচার্য’ এবং ছদ্মনাম পরিভাষা ‘কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, মরা ও শ্রীচরণ’
পাদের কাজ (Jobs of Footsie)
১. পাদের সাহায্যে জীবকুল স্বাভাবিক চলাফেরাসহ আহারাদি সংগ্রহ কার্যাদি সম্পাদন করে থাকে।
২. এর সাহায্যে হাঁটা চলাসহ দৈহিক ক্রিয়া কর্মাদিও সম্প্রদান করা যায়।
৯. পায়ু (Anus)
১. এর দ্বারা রেচন কার্য করা হয়।
২. এর দ্বারা দেহের অসার বর্জ্য বের হয়।
১০. উপস্থ (Genitalia)
এটি রূপক সাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির রূপান্তরিতমূলক-পরিবারের অন্যতম একটি ‘মূলকসদস্য’। এর প্রকৃতমূলক ‘যোনি-শিশ্ন’। এর রূপক পরিভাষা ‘কণ্ডনি’, উপমান পরিভাষা ‘ঘানী’, চারিত্রিক পরিভাষা ‘জনিত্র’ এবং ছদ্মনাম পরিভাষা ‘দ্বাপর ও ভগবান’। এটি একটি ‘ছদ্মনাম-প্রধান’ সত্তা।
উপস্থের কাজ (Jobs of Genitalia)
১. উপস্থ জীবকুলকে মৈথুন প্রশান্তি ও বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
২. প্রজননতন্ত্রের অন্যতম দু’টি সদস্য কানাই ও বলাই। বিপরীতধর্মী নারী ও নরের নিকট অবস্থান করায় একাকী ভবঘুরে বা যাযাবর জীবন হতে প্রাণীকুলকে সঙ্গবদ্ধ ও সাংসারিক জীবনে আবদ্ধ হতে সাহায্য করে। আমরা শিশ্ন ও কবন্ধ অনুচ্ছেদে ভিন্নভিন্নভাবে এর আলোচনা করেছি।
অস্ত্রাদি (Weaponry)
১.কৃপাণ ২.গদা ৩.গাণ্ডিব ৪.বাণ ৫.শংখ ৬.ভূষণ্ডী ৭.চক্র ৮.বজ্র ৯.ত্রিশুল ও ১০.যষ্টি।
প্রতীক = মূলক
১. কৃপাণ = ভৃগু
২. গদা (Mace. মেইস) = শিশ্ন
৩. গাণ্ডিব = ভগ
৪. বাণ = শিশ্ন
৫. শংখ = নাসিকা
৬. ভূষণ্ডী = শিশ্ন
৭. চক্র = ভৃগু
৮. বজ্র = কামরস
৯. ত্রিশুল = ভৃগু
১০. যষ্টি = শিশ্ন
ওপরোক্ত রূপক বর্ণনা ও কল্পিত প্রতিমা প্রদর্শনের দ্বারা কামযজ্ঞে পুরুষজাতির বীর্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। যখন বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল না তখন এরূপ রূপকভাবেই সাধারণ মানুষকে আত্মতত্ত্ব শিক্ষা দেওয়া হতো। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে পুরাণীরা দুর্গাপূজাকে কেবল সাধারণ শাস্ত্রকর্ম বলেই মনে করে। তাই তারা প্রতি বছর শাস্ত্রীয় দুর্গাপূজা করে এবং প্রতিমা বিসর্জন দেয়। অন্যদিকে যবনরা একে অত্যন্ত মন্দ ও গর্হিত কাজ মনে করে এর মূর্তি ভাঙ্গাভাঙ্গি নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
একদল মূর্তি গড়ে-পূজা করে আর বিসর্জন দেয়; অন্যদল মূর্তি/ প্রতিমা ভাঙ্গে। উভয় দলই সমান। এদের গাধার সাথে তুলনা করা যায়। যেমন গাধা বোঝা বহন করে কিন্তু তার মধ্যে কী আছে জানে না। তেমন যারা মূর্তি গড়ে-পূজা করে আর বিসর্জন দেয়; তারাও জানে না রূপকার মনীষীরা এর দ্বারা মানুষকে কী শিক্ষা প্রদান করেছেন? তেমন যারা তাচ্ছিল্য ও ঘৃণাভরে মূর্তি/ প্রতিমা ভাঙচুর করে তারাও জানে না যে, মূর্তিপূজার মধ্যে কী কী মহানদর্শন ও মহান শিক্ষা লুকায়িত আছে?
আবার কোনো শিক্ষা নাইবা থাক। এটি তো একটি শাস্ত্রীয় সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি। নিজের শাস্ত্রীয় সংস্কৃতি নিজের কাছে যেমন প্রিয়। অন্যদের শাস্ত্রীয় সংস্কৃতি তেমন তাদের কাছে প্রিয়। মসজিদ ভাঙলে, আল্লাহ, রাসুল ও মালাকাদের গালি দিলে ও কুরান শরিফ পুড়ালে যেমন কুরানীদের চিত্তে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। তেমন মূর্তি/ প্রতিমা ভাঙলে, দেব-দেবীদের গালি দিলে, মন্দির/ মঠ/ পূজামণ্ডপ ভাঙলে, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর পুড়ালে পুরাণীদের চিত্তে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। এক কথায় প্রত্যেকের বাবা-মা, প্রেমিক-প্রেমিকা ও প্রিয়জন যেমন প্রত্যেকের কাছে প্রিয়। প্রত্যেকের শাস্ত্রীয় মতবাদ, শাস্ত্রীয় সংস্কৃতি ও শাস্ত্রীয় প্রতীতি তেমন প্রত্যেকের কাছে প্রিয়। তাই একে অন্যের শাস্ত্রীয় সংস্কার, সংস্কৃতি, গ্রন্থ-গ্রন্থিকা ও শাস্ত্রকর্ম নিয়ে কটাক্ষ, গালাগালি, ভাংচুর ও শত্রুতা করার কোন অবকাশ নেই। এ ব্যাপারে কুরানে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, “তোমাদের মতবাদ তোমাদের জন্য এবং আমাদের মতবাদ আমাদের জন্য।” “لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ” (লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়া দিন)। (Lakum deenukum waliya deen). “To you be your religion and to me my religion.” (কুরান, সুরা কাফিরুন- ৬)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন