লাউ কদু না যুবতী? (Calabash Gourd or Menstruous?)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘রজস্বলা’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘ছদ্মনামপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘রজস্বলা’, রূপকপরিভাষা ‘ধনী’ এবং উপমানপরিভাষা ‘সুশোভিতবৃক্ষ’। এ পরিভাষাটি রূপকসাহিত্যের ‘স্তন’ ও ‘রজস্বলা’
এ দু’টি বৈক্তিকসদস্যেরই ব্যাপক পরিভাষারূপে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ জন্য
বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিকমূলক উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।
লাউ (রূপ)বি অলাবু, কদু, তুম্বী, কুমড়াজাতীয় ফল, বাদ্যযন্ত্ররূপে ব্যবহৃত লাউয়ের খোল, Calabash (ক্যালাবাস), ‘كالاباش’ (কালাবাস) (প্র)
প্রাচীনকালে মৃত ঘোষণা হওয়ার পর স্নান করিয়ে চিতাশালে নিয়ে গিয়ে মুখাগ্নি
করার পূর্বে জেগে উঠে স্বাভাবিক জীবন যাপন করার কারণে কুলচ্যুতা হতে হয়েছে
এরূপ দুঃখিনী নারী (আবি)বিণ (আবি)বিণস্ত্রী যুবতী, তরণী, প্রাপ্তযৌবনা, girl (গার্ল), ফাতাত (আ.ﻔﺘﺎﺓ), শাব্বাত (আ.ﺷﺒﺔ) (আভা)বিণস্ত্রী আর্তবা, দৃষ্টরজা, পুষ্পিতা, রজস্বলা, রজস্বিনী (আপ)বি জোত (আ.ﺿﯾﻌﺔ), জারিয়া (আ.ﺟﺎﺮﻴﺔ) বিণ কিতাবি (আ.ﻜﺘﺎﺑﻰ), যিরাতি (আ.ﺯﺮﺍﻋﺗﯽ) (ইপ)বি menses (মিনসেস), marriageable (ম্যারিজেবল) (দেপ্র)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘রজস্বলা’ পরিবারের
‘ছদ্মনামপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি দৈবিকা বা প্রতীতি বিশেষ (সংজ্ঞা)
১.সাধারণত কুমড়াজাতীয় এক প্রকার ব্যঞ্জনকে লাউ বলা হয় ২.রূপকসাহিত্যে
রজস্বলাকে রূপকার্থে লাউ বলা হয় (ছনা)বি লাউ (উপ)বি সুশোভিতবৃক্ষ (রূ)বিণ ধনী (দেত)বিস্ত্রী রজস্বলা।
লাউয়ের ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of calabash)
“সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী,
লাউয়ের আগা খাইলাম,
ডোগা গো খাইলাম,
লাউ দি বানাইলাম ডুগডুগী (আমি)।।
লাউয়ের আগা খাইলাম,
ডোগা গো খাইলাম,
লাউ দি বানাইলাম ডুগডুগী (আমি)।।
লাউয়ের এত মধু,
জানে গো যাদু (এত মধু গো),
লাউ করলাম সঙ্গের সঙ্গী (হায়রে)।।
জানে গো যাদু (এত মধু গো),
লাউ করলাম সঙ্গের সঙ্গী (হায়রে)।।
আমি গয়া গেলাম,
কাশী গো গেলাম (গয়া গেলাম গো),
সঙ্গে নাই মোর বৈষ্ণবী (হায়রে)।।”
কাশী গো গেলাম (গয়া গেলাম গো),
সঙ্গে নাই মোর বৈষ্ণবী (হায়রে)।।”
লাউয়ের সংজ্ঞা (Definition of calabash)
সাধারণত কুমড়াজাতীয় এক প্রকার ব্যঞ্জনকে লাউ বলে।
সাধারণত কুমড়াজাতীয় এক প্রকার ব্যঞ্জনকে লাউ বলে।
লাউয়ের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of calabash)
রূপকসাহিত্যে রজস্বলা বা যুবতীকে লাউ বলে।
রূপকসাহিত্যে রজস্বলা বা যুবতীকে লাউ বলে।
লাউয়ের প্রকারভেদ (Classification of calabash)
লাউ দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান লাউ ও ২.উপমিত লাউ।
লাউ দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান লাউ ও ২.উপমিত লাউ।
১. উপমান লাউ (Analogical calabash)
কুমড়াজাতীয় এক প্রকার ব্যঞ্জনকে উপমান লাউ বলে।
২. উপমিত লাউ (Compared calabash)
রূপকসাহিত্যে রজস্বলা বা যুবতীকে উপমিত লাউ বলে।
কুমড়াজাতীয় এক প্রকার ব্যঞ্জনকে উপমান লাউ বলে।
২. উপমিত লাউ (Compared calabash)
রূপকসাহিত্যে রজস্বলা বা যুবতীকে উপমিত লাউ বলে।
লাউ লৌকিকা (Legendary of calabash)
রজস্বলা বা যুবতীকে লাউ বলার একটি লৌকিকা আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে। এরূপ ঘটনা সাধারণত কোথাও কোথাও পূর্বকালে ঘটত! তবে এসব ঘটনা যে আদিমযুগ কিংবা প্রাচীনযুগের তাতে কোন সন্দেহ নেই। বর্তমানে এরূপ নির্মম হিন্দু সংস্কার বিদ্যমান আছে বলে আমাদের জানা নেই। লৌকিকাটি হলো-
রজস্বলা বা যুবতীকে লাউ বলার একটি লৌকিকা আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে। এরূপ ঘটনা সাধারণত কোথাও কোথাও পূর্বকালে ঘটত! তবে এসব ঘটনা যে আদিমযুগ কিংবা প্রাচীনযুগের তাতে কোন সন্দেহ নেই। বর্তমানে এরূপ নির্মম হিন্দু সংস্কার বিদ্যমান আছে বলে আমাদের জানা নেই। লৌকিকাটি হলো-
“তুলসীতলায় স্নানাদি সেরে চিতাশালে নিয়ে গিয়ে মুখাগ্নি করার পূর্বে জেগে
উঠা হিন্দু মতবাদের মৃতনারীকে পূর্বকালে লাউ বলা হতো। অর্থাৎ প্রয়াতা
ঘোষণাকারিণী কোন হিন্দু রমণীর শব তুলসীতলায় নিয়ে গিয়ে যথা নিয়মে
স্নানাদিকার্য সমাপ্ত করার পর শ্মশানঘাটি নিয়ে গিয়ে মুখাগ্নি করার পূর্বে
প্রয়াতার সম্বিত ফিরে এলে কিংবা প্রয়াতা জেগে উঠলে তাকে প্রচলিত হিন্দুসমাজ
আর গ্রহণ করে না। কোন কোন আঞ্চলিক হিন্দুসমাজ তাঁকে সমাজচ্যুতা করে ছাড়ে। এ
সমাজচ্যুতা দুঃখিনী রমণীকে লাউ বলা হয়। তদ্রূপ প্রয়াত ঘোষণাকারী কোন
হিন্দুব্যক্তির শব তুলসীতলায় নিয়ে গিয়ে যথানিয়মে স্নানাদিকার্য সমাপ্ত করার
পর শ্মশানঘাটি নিয়ে গিয়ে মুখাগ্নি করার পূর্বে প্রয়াতব্যক্তির সম্বিত ফিরে
এলে কিংবা প্রয়াতব্যক্তি জেগে উঠলে তাকে প্রচলিত হিন্দুসমাজ আর গ্রহণ করে
না। কোন কোন আঞ্চলিক হিন্দুসমাজ তাঁকে সমাজচ্যুত করে ছাড়ে। এরূপ সমাজচ্যুত
ব্যক্তিকে কুলচ্যুত বলা হয়। এ সমাজচ্যুত হতভাগ্য ব্যক্তিকে অর্থ-সম্পদ
আত্মীয়-স্বজন সবকিছু বর্তমান থেকেও নিঃস্ব হয়ে পথে পথে ঘুরতে হয় আমরণ।
নিয়তির নির্মম পরিহাস এসব কুলচ্যুত ও লাউরা সমাজের পরগাছারূপে জীবনযাপন
করতে থাকে। কোন জাতি বা গোত্রই তাদের নিকট কন্যা বা ছেলে বিবাহ দিতে চান
না। অতঃপর একান্ত নিরূপায় হয়েই এক সময় কুলচ্যুত ও লাউরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ
হয়ে পড়ে। এরূপ দম্পতির দ্বারা যে বংশধারা প্রবর্তিত হয়, তাদের
বৈরাগী-বৈষ্ণবী বলা হয়।”
ওপরোক্ত সূত্র ধরেই রূপকসাহিত্যে যুবতীকে লাউ বলা হয়। এ হতেই “সাধের লাউ বানাইল মোরে বৈরাগী”
এরূপ লোকগীতির সৃষ্টি বলে অধিকাংশ লোকের বিশ্বাস। পূর্বকালে বঙ্গদেশের
হিন্দু সমাজে এ ধরণের কুসংস্কার থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে নিশ্চিত
করে বলা যায় যে, কোনো না কোনো সূত্র ধরেই এরূপ লোকগীতিক উদ্ভব।
এছাড়া লাউ সম্পর্কে আরো অনেক অজানা কিংবদন্তি আমাদের সমাজে প্রচলিত
রয়েছে। আমাদের আলোচ্য লাউ ব্যঞ্জনের জন্য ব্যবহৃত লাউ যে নয় তা বড় শক্ত
করেই বলা যায়। আশা করি পাঠককুল কিছুটা হলেও রূপকসাহিত্য নির্মাণের কৌশলাদি
অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। তদ্রূপ বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত শাস্ত্রীয় ও
পারম্পরিক রূপকসাহিত্যাদি নির্মাণের মৌলিক উপাদন যে আদৌ আমাদের মতো
রক্তমাংসে গড়া মানুষ নয়- এটা এখন সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়েছে।
লাউয়ের পরিচয় (Identity of calabash)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘রজস্বলা’ পরিবারের অধীন একটি ‘ছদ্মনামপরিভাষা’ বিশেষ। সাধারণত কুমড়াজাতীয় এক প্রকার ব্যঞ্জনকে লাউ বলা হয় কিন্তু রূপকসাহিত্যে ‘স্ফীতাঙ্গ’ ও ‘রজস্বলা’ উভয়কে লাউ বলা হয়। এখানে কেবল যুবতী বা রজস্বলাকেই লাউ বলা হয়েছে। স্মরণীয় যে, সহস্রাব্দের পর সহস্রাব্দ ধরে রূপকাররা ‘স্ফীতাঙ্গ’ ও ‘রজস্বলা’- এ দু’টি সত্তাকে ‘উপমিত লাউ’ ধরেই রূপকসাহিত্য নির্মাণ করে আসছেন। তবে ‘উপমান লাউ’ অবশ্যই ব্যঞ্জন। অথচ শাস্ত্রীয় পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা রূপক সাহিত্যাদির মধ্যে ব্যবহৃত ‘লাউ’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবল ব্যঞ্জনরূপ উপমান অর্থই গ্রহণ করে আসছেন। “এটি তাদের চিরন্তন অনীহার নিরন্তর ভুল।” এসব কারণেই শাস্ত্রীয়রা আত্মদর্শন জ্ঞানে চিরদিনের জন্য চিরান্ধ।
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘রজস্বলা’ পরিবারের অধীন একটি ‘ছদ্মনামপরিভাষা’ বিশেষ। সাধারণত কুমড়াজাতীয় এক প্রকার ব্যঞ্জনকে লাউ বলা হয় কিন্তু রূপকসাহিত্যে ‘স্ফীতাঙ্গ’ ও ‘রজস্বলা’ উভয়কে লাউ বলা হয়। এখানে কেবল যুবতী বা রজস্বলাকেই লাউ বলা হয়েছে। স্মরণীয় যে, সহস্রাব্দের পর সহস্রাব্দ ধরে রূপকাররা ‘স্ফীতাঙ্গ’ ও ‘রজস্বলা’- এ দু’টি সত্তাকে ‘উপমিত লাউ’ ধরেই রূপকসাহিত্য নির্মাণ করে আসছেন। তবে ‘উপমান লাউ’ অবশ্যই ব্যঞ্জন। অথচ শাস্ত্রীয় পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা রূপক সাহিত্যাদির মধ্যে ব্যবহৃত ‘লাউ’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবল ব্যঞ্জনরূপ উপমান অর্থই গ্রহণ করে আসছেন। “এটি তাদের চিরন্তন অনীহার নিরন্তর ভুল।” এসব কারণেই শাস্ত্রীয়রা আত্মদর্শন জ্ঞানে চিরদিনের জন্য চিরান্ধ।
অথচ হাস্যকর বিষয় হলো ছিন্নমূল এসব শাস্ত্রীয় ও সাম্প্রদায়িক পণ্ডিত,
বক্তা ও আলোচকরাই আবার আত্মতাত্ত্বিক ও মরমীদের বিভিন্ন অশ্রাব্য ভাষায়
গালাগালি করে বেড়ায়। কথায় বলে- “ঝাঁঝর হয়ে চালুনের ফুটা গণা।”
আলোচনার যবনিকায় এসে বলা যায় শাস্ত্রীয় ও সাম্প্রদায়িক পণ্ডিত, বক্তা,
বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা কেবল লাউই নয় বরং রূপকসাহিত্যের
শতমূলকের মধ্যে মাত্র ১০টি মূলকের সঠিক অভিধা জানে অবশিষ্ট ৯০টি মূলকের
প্রকৃত অভিধা জানে না। অর্থাৎ শাস্ত্রীয় বা সাম্প্রদায়িকরা শাস্ত্রীয়
জ্ঞানের ১০% জানে এবং ৯০% জানে না। তাই তাদের মধ্যে এতো বিভেদ-বৈষম্য ও
দলাদলি। তাই তাদের একই মতবাদের মধ্যে এতো উপদল, শাখাদল, অধিদল ও প্রতিদল।
রূপকসাহিত্যের ১০০টি মূলক নিচে তুলে ধরা হলো।
রূপকসাহিত্যের শতমূলক
(The hundred radical of Fabulous literature)
০১.অজ্ঞতা, ০২.অতীতকাহিনি, ০৩.অন্যায়, ০৪.অবিশ্বাসী, ০৫.অভিশাপ, ০৬.অর্ধদ্বার, ০৭.অশান্তি, ০৮.আগধড়, ০৯.আয়ু, ১০.আশীর্বাদ, ১১.আশ্রম, ১২.ইঙ্গিত, ১৩.উপমা, ১৪.উপস্থ, ১৫.উপহার, ১৬.উপাসক, ১৭.কানাই, ১৮.কাম, ১৯.কামরস, ২০.কিশোরী, ২১.কৈশোরকাল, ২২.গবেষণা, ২৩.গর্ভকাল, ২৪.চক্ষু, ২৫.চন্দ্রচেতনা, ২৬.চিন্তা, ২৭.জন্ম, ২৮.জরায়ু, ২৯.জীবনিশক্তি, ৩০.জ্ঞান, ৩১.ডান, ৩২.তীর্থযাত্রা, ৩৩.দুগ্ধ, ৩৪.দেহ, ৩৫.দৈবিকা, ৩৬.নর, ৩৭.নরদেহ, ৩৮.নারী, ৩৯.নারীদেহ, ৪০.নাসিকা, ৪১.ন্যায়, ৪২.পঞ্চবায়ু, ৪৩.পঞ্চরস, ৪৪.পবিত্রতা, ৪৫.পরকিনী, ৪৬.পরম্পরা, ৪৭.পাঁচশতবছর, ৪৮.পাছধড়, ৪৯.পালনকর্তা, ৫০.পুরুষ, ৫১.পুরুষত্ব, ৫২.প্রথমপ্রহর, ৫৩.প্রয়াণ, ৫৪.প্রসাদ, ৫৫.প্রেমিক, ৫৬.বন্ধু, ৫৭.বর্তমানজনম, ৫৮.বলাই, ৫৯.বসন,৬০.বাম, ৬১.বার্ধক্য, ৬২.বিদ্যুৎ, ৬৩.বিনয়, ৬৪.বিনোদন, ৬৫.বিশ্বাসী, ৬৬.বৃদ্ধা, ৬৭.বৈতরণী, ৬৮.ব্যর্থতা, ৬৯.ভগ, ৭১.ভৃগু, ৭০.ভালোবাসা, ৭২.মন, ৭৩.মনোযোগ, ৭৪.মানুষ, ৭৫.মুমূর্ষুতা, ৭৬.মুষ্ক, ৭৭.মূত্র, ৭৮.মূলমন্ত্র, ৭৯.মোটাশিরা, ৮০.যৌবন, ৮১.যৌবনকাল, ৮২.রজ, ৮৩.রজকাল, ৮৪.রজপট্টি, ৮৫.রজস্বলা, ৮৬.শত্রু, ৮৭.শান্তি, ৮৮.শুক্র, ৮৯.শুক্রধর, ৯০.শুক্রপাত, ৯১.শুক্রপাতকারী, ৯২.শেষপ্রহর, ৯৩.শ্বাস, ৯৪.সন্তান, ৯৫.সন্তানপালন, ৯৬.সপ্তকর্ম, ৯৭.সহস্রবছর, ৯৮.সৃষ্টিকর্তা, ৯৯.স্তন, ১০০.স্বভাব।
(The hundred radical of Fabulous literature)
০১.অজ্ঞতা, ০২.অতীতকাহিনি, ০৩.অন্যায়, ০৪.অবিশ্বাসী, ০৫.অভিশাপ, ০৬.অর্ধদ্বার, ০৭.অশান্তি, ০৮.আগধড়, ০৯.আয়ু, ১০.আশীর্বাদ, ১১.আশ্রম, ১২.ইঙ্গিত, ১৩.উপমা, ১৪.উপস্থ, ১৫.উপহার, ১৬.উপাসক, ১৭.কানাই, ১৮.কাম, ১৯.কামরস, ২০.কিশোরী, ২১.কৈশোরকাল, ২২.গবেষণা, ২৩.গর্ভকাল, ২৪.চক্ষু, ২৫.চন্দ্রচেতনা, ২৬.চিন্তা, ২৭.জন্ম, ২৮.জরায়ু, ২৯.জীবনিশক্তি, ৩০.জ্ঞান, ৩১.ডান, ৩২.তীর্থযাত্রা, ৩৩.দুগ্ধ, ৩৪.দেহ, ৩৫.দৈবিকা, ৩৬.নর, ৩৭.নরদেহ, ৩৮.নারী, ৩৯.নারীদেহ, ৪০.নাসিকা, ৪১.ন্যায়, ৪২.পঞ্চবায়ু, ৪৩.পঞ্চরস, ৪৪.পবিত্রতা, ৪৫.পরকিনী, ৪৬.পরম্পরা, ৪৭.পাঁচশতবছর, ৪৮.পাছধড়, ৪৯.পালনকর্তা, ৫০.পুরুষ, ৫১.পুরুষত্ব, ৫২.প্রথমপ্রহর, ৫৩.প্রয়াণ, ৫৪.প্রসাদ, ৫৫.প্রেমিক, ৫৬.বন্ধু, ৫৭.বর্তমানজনম, ৫৮.বলাই, ৫৯.বসন,৬০.বাম, ৬১.বার্ধক্য, ৬২.বিদ্যুৎ, ৬৩.বিনয়, ৬৪.বিনোদন, ৬৫.বিশ্বাসী, ৬৬.বৃদ্ধা, ৬৭.বৈতরণী, ৬৮.ব্যর্থতা, ৬৯.ভগ, ৭১.ভৃগু, ৭০.ভালোবাসা, ৭২.মন, ৭৩.মনোযোগ, ৭৪.মানুষ, ৭৫.মুমূর্ষুতা, ৭৬.মুষ্ক, ৭৭.মূত্র, ৭৮.মূলমন্ত্র, ৭৯.মোটাশিরা, ৮০.যৌবন, ৮১.যৌবনকাল, ৮২.রজ, ৮৩.রজকাল, ৮৪.রজপট্টি, ৮৫.রজস্বলা, ৮৬.শত্রু, ৮৭.শান্তি, ৮৮.শুক্র, ৮৯.শুক্রধর, ৯০.শুক্রপাত, ৯১.শুক্রপাতকারী, ৯২.শেষপ্রহর, ৯৩.শ্বাস, ৯৪.সন্তান, ৯৫.সন্তানপালন, ৯৬.সপ্তকর্ম, ৯৭.সহস্রবছর, ৯৮.সৃষ্টিকর্তা, ৯৯.স্তন, ১০০.স্বভাব।
এর মধ্যে মাত্র ১৪টি মূলকপ্রধান সদস্য। শাস্ত্রীয় বা পারম্পরিকদের পরিচিত ১৪টি মূলক নিচে তুলে ধরা হলো।
মূলকপ্রধান চৌদ্দমূলক (The radical main fourteen radical)
১/৫.অভিশাপ, ২/২০.কিশোরী, ৩/২৫.চক্ষু, ৪/২৭.চিন্তা, ৫/৩২.তীর্থযাত্রা, ৬/৪২.পঞ্চবায়ু, ৭/৪৩.পঞ্চরস, ৮/৪৬.পরম্পরা, ৯/৪৭.পাঁচশতবছর, ১০/৫০.পুরুষ, ১১/৫৬.বন্ধু, ১২/৭২.মন, ১৩/৮০.যৌবন ও ১৪/৯৭.সহস্রবছর।
১/৫.অভিশাপ, ২/২০.কিশোরী, ৩/২৫.চক্ষু, ৪/২৭.চিন্তা, ৫/৩২.তীর্থযাত্রা, ৬/৪২.পঞ্চবায়ু, ৭/৪৩.পঞ্চরস, ৮/৪৬.পরম্পরা, ৯/৪৭.পাঁচশতবছর, ১০/৫০.পুরুষ, ১১/৫৬.বন্ধু, ১২/৭২.মন, ১৩/৮০.যৌবন ও ১৪/৯৭.সহস্রবছর।
আর এ ১৪টি মূলকপ্রধান সদস্যের মধ্যে মাত্র ১০টি মূলকপ্রধান মূলকের সঠিক
অভিধা শাস্ত্রীয় পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা
প্রায় জানে। এর মধ্যে ১/৪২.পঞ্চবায়ু, ২/৪৩.পঞ্চরস, ৩/৪৬.পরম্পরা ও
৪/৯৭.সহস্রবছর- এ ৪টির সঠিক অভিধাও তারা কেউ দিতে পারেনি আজো। অবশিষ্ট ৮৬টি
এবং আরো ৪টি মোট ৯০টি মূলকের প্রকৃত অভিধা বা উপমিত অভিধা তারা কেউ জানে
না।
এবার দৃঢ়তার সাথে বলা যায় যে রূপকসাহিত্যের মাত্র ১০% জ্ঞানের ধারক-বাহক
হচ্ছে শাস্ত্রীয় পণ্ডিত, বক্তা ও বৈখ্যিকরা। কিন্তু ১০০% জ্ঞানের
ধারক-বাহক হচ্ছেন আত্মতত্ত্ববিদ, আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক ও মরমীগণ। এ
কারণেই শাস্ত্রীয়দের মধ্যে হতে উদ্ভব হয় দলাদলি, আতংবাদ, উগ্রবাদ, যুদ্ধ,
সংগ্রাম, বধ, বলি, হনন, হত্যা, বিদ্রোহী ও নরঘাতক। কিন্তু আত্মতাত্ত্বিকদের
মধ্যে হতে উদ্ভব হয় ভ্রাতৃত্ত্ববোধ, শান্তি-শৃংখলা, সুখীপরিবার, রূপকার,
বোদ্ধা ও জগদ্বিখ্যাত মহামানব।
পরিশেষে বলতে চাই রূপকসাহিত্যে ব্যবহৃত ‘লাউ’ পরিভাষাটির দ্বারা বিশ্বের কোন রূপকসাহিত্যে কোথাও কখনই ‘কদু বা অলাবু’
বুঝানো হয় না বরং এর দ্বারা সর্বদা যুবতী বা রজস্বলাকেই বুঝানো হয়ে থাকে। এ
জন্য প্রচলিত সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কার পরিহার করে নিজকে
জানা ও নিজকে চেনার জন্য আত্মদর্শন চর্চা ও অনুশীলন করা প্রত্যেক পাঠক
শ্রোতার একান্ত প্রয়োজন বলে আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক ও আত্মতাত্ত্বিক
বিজ্ঞানীদের অভিমত।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসূত্রঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি।
তথ্যসূত্রঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন