এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ৪৪ নং ‘পবিত্রতা’ মূলকের অধীন ‘উপমানপরিভাষা’ ‘দিন’ এর অংশ বিশেষ। বলন কাঁইজির নির্মিত ‘আত্মতত্ত্ব ভেদ’ (৫ম খণ্ড) গ্রন্থে এর সবিস্তারে আলোচনা রয়েছে।
—————————————————————————————-
—————————————————————————————-
কাঁইয়ের সিংহাসন জলের ওপর থাকার রহস্য
(The mystery the throne of Lord stay on the water)
(The mystery the throne of Lord stay on the water)
শাস্ত্রীয় কুরানী পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও
অনুবাদকরা বলে থাকেন বিধাতা ছয়দিনে আকাশ-ভূমি সৃষ্টি করেছেন। আর তখন তার
সিংহাসনটি ছিল জলের ওপর। শাস্ত্রীয়রা স্বস্ব মনগড়া ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
পবিত্র কুরানের এ আয়াতটি উপস্থাপন করে থাকেন। “وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ
لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَلَئِنْ قُلْتَ إِنَّكُمْ
مَبْعُوثُونَ مِنْ بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ
هَذَا إِلَّا سِحْرٌ مُبِينٌ” “তিনিই যিনি আকাশ ও ভূমি ছয়দিনে সৃষ্টি
করেছেন। তখন তার সিংহাসন ছিল জলের ওপর। কার্যত তোমাদের
মধ্যে কে অত্যুত্তম এটা পরীক্ষা করার জন্য। যদি তুমি বল যে, “নিশ্চয় তোমরা
মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হবে। তবে অবশ্যই বলবে যারা ধর্মদ্রোহী, এটা স্পষ্ট
যাদু ভিন্ন কিছুই নহে।” (কুরআন- হুদ-৭)। “He it is Who has
created the sky and the earth in six days and then His throne was on the
water. That He might try you, which of you is the best in deeds. But if
you were to say to them: “You shall indeed be raised up after death,”
those who disbelieve would be sure to say, “This is nothing but obvious
magic.” (Quran, hûd- 7).
কাল্পনিকতত্ত্ব (Mythology)
পবিত্র কুরানের এ বাণিটিকে সামনে রেখে তারা বলেন যে, বিধি শনিবারে সৃষ্টিকার্য আরম্ভ করেছিলেন এবং বৃহস্পতিবারে তা শেষ করেছিলেন। প্রথম দুইদিনে আকাশ ও তন্মধ্যস্থ জ্যোতিষ্ক সৃষ্টি করেছেন, দ্বিতীয় দুইদিনে ভূমি ও তন্মধ্যস্থ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর শেষ দুইদিনে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যস্থিত বস্তু ও প্রাণী সৃষ্টি করেছেন। তারপর শুক্রবারে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেছেন। অর্থাৎ অবসর গ্রহণ করেছেন।
পবিত্র কুরানের এ বাণিটিকে সামনে রেখে তারা বলেন যে, বিধি শনিবারে সৃষ্টিকার্য আরম্ভ করেছিলেন এবং বৃহস্পতিবারে তা শেষ করেছিলেন। প্রথম দুইদিনে আকাশ ও তন্মধ্যস্থ জ্যোতিষ্ক সৃষ্টি করেছেন, দ্বিতীয় দুইদিনে ভূমি ও তন্মধ্যস্থ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর শেষ দুইদিনে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যস্থিত বস্তু ও প্রাণী সৃষ্টি করেছেন। তারপর শুক্রবারে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেছেন। অর্থাৎ অবসর গ্রহণ করেছেন।
এবার কথা হলো সূর্যই যখন সৃষ্টি করা হয়নি তখন দিন এলো কোথা হতে? আর আমাদের আবিষ্কৃত সাতদিনের বয়সইবা কত? যাই হোক এ ব্যাপারে ‘দিন’
পরিভাষাটির অনুকুলে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আমরা এখানে কাঁইয়ের
সিংহাসনটি তখন কিরূপে জলের ওপর ছিল সে আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে আশা
রাখছি।
কাঁইয়ের সিংহাসনটি জলের ওপর থাকা ব্যাপারে কেউ বলেছেন, এটি ছিল কুদরতের
জোরে, কেউ বলেছেন কাঁই যা ইচ্ছা করেন তাই করতে পারেন। যেমন- এরূপ কথা
মহাত্মা লালন সাঁইজিও বলেছেন- “ক্ষম অপরাধ ওহে দিননাথ, কেশে ধরে আমায় লাগাও
কিনারে, তুমি হেলায় যা করো, তাই করতে পারো, তোমা বিনে পাপী তারণ, কে করতে পারে।” (পবিত্র লালন- ৩৭২/১)। এগুলো সব অনুমান ও আবেগের কথা।
আকাশ-ভূমি সৃষ্টি করার সময় কাঁইয়ের সিংহাসনটি ছিল জলের ওপর। এটি স্বয়ং কুরানের উক্তি। “وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ” উচ্চারণঃ “ওয়া কানা আরশুহু আলাল মায়ি।” অর্থঃ
তখন তার সিংহাসন ছিল জলের ওপর। “Then His throne was on the water.” এবার
প্রশ্ন হলো, যখন আকাশ-ভূমি সৃষ্টি করার কাজ চলছে কিংবা এখনো সৃষ্টি করা
হয়নি তখন জলবা এলো কোথা হতে, সিংহাসনটিবা এলো কোথা হতে? জল রাখা হলোবা
কিসের ওপর এবং সিংহাসনটিবা পাতা হলো কিসের ওপর? তবে আকাশ-ভূমি সৃষ্টির
পূর্বেই কী জল ছিল? তবে তা কিসের ওপর ছিল? আর কাঁইয়ের আকৃতিইবা কিরূপ যে,
তিনি জলের ওপর সিংহাসন পেতে বসতে সক্ষম?
আত্মতত্ত্ব ভেদকে পদ্দোলিত করে, দেহতত্ত্বকে অস্বীকার করে, আত্মতদর্শনকে
জলাঞ্জলী দিয়ে বিশ্বের শাস্ত্রীয় কুরানী সব পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক ও
টৈকিক একত্র হয়ে শেষাসীম সময় প্রচেষ্টা করলেও আলোচ্য সমস্যার কোন সমাধান
করতে পারবে না। কারণ এটি আত্মতত্ত্বের বিষয়। সে জন্য এর সমাধানও করতে হবে
কেবল আত্মদর্শন দ্বারা। গণিত যেমন সমাজ দ্বারা সমাধান করা যায় না। তাদৃশ
আত্মদর্শনও প্রকৃতিদর্শন বা মনগড়া দর্শন দ্বারা সমাধান করা যায় না।
আত্মতত্ত্ব (Theology)
রূপকসাহিত্যে মানবদেহের নাভির ওপরের অংশকে আকাশ এবং নিচের অংশকে ভূমি বলা হয়। এছাড়া বৈকুণ্ঠকে আকাশ ও বৈতরণীকে ভূমি ধরা হয়। এছাড়া জরায়ুকে আসন, সিংহাসন বা সাগর বলা হয়। রজস্বলাদের পবিত্রতা পর্বের প্রথম ছয়প্রহর বা ২১ দিনে সাঁই জরায়ুরূপ সিংহাসনে পবিত্র মানবজলরূপ জলের ওপর আসন গ্রহণ করে থাকেন। অতঃপর কেউ সেখানে শুক্র নিক্ষেপ করলে সাঁই পবিত্র মানবজলরূপ জলের ওপর জরায়ুরূপ সিংহাসন পেতে মানবদেহের নাভির ওপররূপ আকাশ এবং নাভির নিচরূপ ভূমি নির্মাণ করে থাকেন। অর্থাৎ আলোচ্য ছয়প্রহরে সাঁই জরায়ুর মধ্যে মানবদেহ সৃষ্টি ও লালনপালন করে থাকেন। এ চিরন্তন বিষয়টিকে সাধারণ মানুষ থেকে আড়াল করার জন্য রূপক আকারে বলা হয়েছে, কাঁই/ সাঁই ছয়দিনে আকাশ-ভূমি সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেছেন। এবং তখন তার সিংহাসনটি ছিল জলের ওপর।
রূপকসাহিত্যে মানবদেহের নাভির ওপরের অংশকে আকাশ এবং নিচের অংশকে ভূমি বলা হয়। এছাড়া বৈকুণ্ঠকে আকাশ ও বৈতরণীকে ভূমি ধরা হয়। এছাড়া জরায়ুকে আসন, সিংহাসন বা সাগর বলা হয়। রজস্বলাদের পবিত্রতা পর্বের প্রথম ছয়প্রহর বা ২১ দিনে সাঁই জরায়ুরূপ সিংহাসনে পবিত্র মানবজলরূপ জলের ওপর আসন গ্রহণ করে থাকেন। অতঃপর কেউ সেখানে শুক্র নিক্ষেপ করলে সাঁই পবিত্র মানবজলরূপ জলের ওপর জরায়ুরূপ সিংহাসন পেতে মানবদেহের নাভির ওপররূপ আকাশ এবং নাভির নিচরূপ ভূমি নির্মাণ করে থাকেন। অর্থাৎ আলোচ্য ছয়প্রহরে সাঁই জরায়ুর মধ্যে মানবদেহ সৃষ্টি ও লালনপালন করে থাকেন। এ চিরন্তন বিষয়টিকে সাধারণ মানুষ থেকে আড়াল করার জন্য রূপক আকারে বলা হয়েছে, কাঁই/ সাঁই ছয়দিনে আকাশ-ভূমি সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেছেন। এবং তখন তার সিংহাসনটি ছিল জলের ওপর।
এখানে আগধড় বা নাভির ওপরের অংশকে বলা হয়েছে ‘আকাশ’, পাছধড় বা নাভির নিচের অংশকে বলা হয়েছে ‘ভূমি’, জরায়ুর মধ্যে সন্তান লালনপালনকারী মানবজলকে বলা হয়েছে ‘জল’, জরায়ুকে বলা হয়েছে ‘সিংহাসন’ এবং রজস্বলাদের পবিত্রকালের প্রথম ছয়প্রহরকে বলা হয়েছে ‘ছয়দিন’।
এবার চিরবাস্তব ও চিরন্তন আকাশ, ভূমি, জল, সিংহাসন ও ছয়দিন পাওয়া গেল।
এগুলো যেমন চিরবাস্তব তেমনই চিরন্তন। অন্যদিকে শাস্ত্রীয় কুরানী পণ্ডিত,
বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা যেসব মনগড়া ব্যাখ্যা ও
যুক্তি প্রদান করে থাকেন, তা একেবারে অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক, অগ্রহণযোগ্য ও
অকল্যাণকর। এবার বলতে চাই এতো কিছু বলা ও দেখানোর পরও সম্বিত উদয় হবে কী
শাস্ত্রীয়, সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকদের?
সাঁই/ কাঁই যে প্রতি মাসে আকাশ-ভূমি অর্থাৎ মানবদেহ নির্মাণ করার জন্য
সিংহাসন অর্থাৎ জরায়ুতে বসেন এ ব্যাপারে মরমী কবি রাজ্জাকের একটি বাণি
আলোকপাত করা যায়। “ঘাটে একবার আসি একবার যায়, যাইয়া দেখি শ্যাম ঘাটে নাই।”
দেহতাত্ত্বিক দার্শনিক ও মরমী কবি রাজ্জাকের উক্ত বাণিটিই স্মরণ করে দেয়
যে, শ্যাম-কালা/ সাঁই-প্রভু পুনঃপুন ঘাটে আসেন। ভক্তকুল, সাধক ও প্রেমিকদের
দর্শনদান করে থাকেন।
আলোচনার যবনিকায় উপনীত হয়ে বলা যায় যে, বিশ্বের সব রূপকসাহিত্য অর্থাৎ
শাস্ত্রীয় গ্রন্থ-গ্রন্থিকা কেবল আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্বভিত্তিক। সে জন্য
এসব গ্রন্থ-গ্রন্থিকার ব্যাখ্যা, টীকা, অনুবাদ ও অভিধানও করতে হবে কেবল
আত্মতত্ত্বমূলক বা আত্মদর্শনভিত্তিক। তবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ উক্ত
গ্রন্থাদি দ্বারা উপকৃত হবে। অন্যদিকে রূপক সাহিত্যাদির ব্যাখ্যা, টীকা,
অনুবাদ ও অভিধানাদি প্রকৃতিকেন্দ্রিক বা সৌরকেন্দ্রিক করা হলে, সমাজের
মানুষ তো উপকৃত হবেই না বরং উল্টো সমাজে আরো সৃষ্টি হবে শাস্ত্রীয় আতংবাদ,
উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসীবৃত্তি। সৃষ্টি হবে ধর্মব্যাবসা, পুণ্যব্যবসা ও
স্বর্গবাণিজ্য।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসূত্রঃ
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৫ম খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
তথ্যসূত্রঃ
আত্মতত্ত্ব ভেদ (৫ম খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন