বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪

৯৮/৪. সৃষ্টিকর্তা প্রসঙ্গঃ ‘নীর’

৯৮/৪. সৃষ্টিকর্তা প্রসঙ্গঃ ‘নীর’ (১৬ পর্বের ৪র্থ পর্ব) (আধ্যাত্মিকবিদ্যা, আত্মতত্ত্ব, আত্মদর্শন, দেহতত্ত্ব, পরম্পরাতত্ত্ব, দিব্যজ্ঞান, স্বরূপদর্শন, নরত্বারোপ ও বলনদর্শন টীকা)
৯৮/৪. সৃষ্টিকর্তা প্রসঙ্গঃ ‘নীর’ (১৬ পর্বের ৪র্থ পর্ব)
নীর
Aqua (এ্যাকোয়া)/ ‘أكوا’ (আকওয়া)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ব্যাপকপরিবারের অন্যতম একটি ‘উপমানপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘সৃষ্টিকর্তা’, রূপকপরিভাষা ‘কাঁই’, অন্যান্য উপমানপরিভাষা ‘ঘি, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য’, চারিত্রিকপরিভাষা ‘অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর’। এ পরিভাষাটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘কামরস’, ‘দুগ্ধ’, ‘মূত্র’, ‘রজ’ ‘শুক্র’, ‘পালনকর্তা’ ও ‘সৃষ্টিকর্তা’ এ ৭টি বৈক্তিক সদস্যেরই ব্যাপক পরিভাষারূপে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ জন্য বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিকমূলক উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।
নীর (রূপ)বি অম্বু, অশ্রু, উদক, জল, পয়, বর্ষণ, বারি, বৃষ্টি, বৃষ্টিপাত, সলিল, aqua (এ্যাকোয়া), ‘أكوا’ (আকওয়া) (আবি)বি ১.কাঁই, ব্র‏হ্মা, বিরিঞ্চি, কাজলা, কালা, কালু, কেলে, কালিয়া, কৃষ্ণ, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা, melanin (মিলেনিন), ‘ميلانين’ (মিলেনিন) ২.ঈশ্বর, অনন্ত, কালোঈশ্বর, প্রজাপতি, হিরণ্যগর্ভ, বিধাতা, বিবস্বান, স্বায়ম্ভু (ভাঅ)বি নির্মাতা, সৃষ্টিকর্তা, জগৎস্রষ্টা, পিতা, জনক, creator (ক্রিয়েটর), author (অথর), খালিক্ব (.ﺨﺎﻟﻖ) (আদৈ)বি আল্লাহ (.ﺍﻠﻠﻪ), ইসা (.ﻋﻴﺴﻰٰ), মসিহ (.ﻤﺴﻴﺢ), শাম (.ﺷﺄﻢ), শামস (.ﺸﻤﺲ), শিশ (.ﺸﻴﺶ) (ইদৈ)বি Lord (লর্ড), maker (মেকার), designer (ডিজাইনার) (ব্য্য) জল ব্যতীত কোন জীব সৃষ্টি হতে পারে না বলে জলকে সৃষ্টিকর্তা বলা হয় (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের ‘উপমানপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.সাধারণত তরল পানীয়কে জল বলা হয় ২.মানবদেহে প্রাপ্ত কালোবর্ণের অমৃতজলকে সৃষ্টিকর্তা বা রূপকার্থে জল বলা হয় (ছনা)বি আদি, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর (চরি)বিণ অসিত, কালা, কালু ও কৃষ্ণ (উপ)বি ঘি, নীর, পীযূষ, মধু, শস্য ও সূর্য (রূ)বি কাঁই (দেত)বি সৃষ্টিকর্তা।
নীরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of aqua)
১. “নীরে নিরঞ্জন আমার, আধলীলা করেন প্রচার, হলে আপন জন্মের বিচার, সব জানা যায়” (পবিত্র লালন- ৮৮৬/৩)
২. “বলব কী সে পড়শির কথা, তার হস্ত পদ স্কন্ধ মাথা, নাইরে, ক্ষণেক থাকে শূন্যের ওপর, আবার ক্ষণেক ভাসে নীরে” (পবিত্র লালন- ১২৯/৩)
____________________________
নীরের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি
(Some ordinary quotations of aqua)
১. “অনুরাগের চাষা হয়ে প্রেমের করো চাষ, তাতে শুকাবে ঘাস, জমিনেতে নীর ঝরবে কৃষি হবে, ফলবে যত সোনা” (পবিত্র লালন- ৪৪৪/২)
২. “অন্ধকারে রতীদানে, ছিল পতির রূপদর্পণে, হলো পতির সঙ্গে গতি, হলো নীরে নীরে পদ্মময়” (পবিত্র লালন- ৮৯৮/৩)
৩. “আছিল সাঁই নিরাকারে, ছিল কুদরতির জোরে, সংসার সৃজনের কালে ধরিল, নীরের আকার” (পবিত্র লালন- ২০৩/২)
৪. “আপ্ততত্ত্বে ফাজিল যারা, নিগূঢ়লীলা দেখছে তারা, নীরে নিরঞ্জন অকৈতবধন, লালন খুঁজে বেড়ায় বন জঙ্গলে” (পবিত্র লালন- ১৭৮/৪)
৫. “আবিম্ব উথলিয়ে নীর, পুরুষ-প্রকৃতি হয় কে কার, দোহার প্রেম শৃঙ্গার, প্রেম শৃঙ্গারে উভয় উভয়ের, শেষে লেনাদেনা হয়” (পবিত্র লালন- ৬৫১/৩)
৬. “আবিম্ব উথলিয়ে নীর, হতেছে সে নীরাকার, ডিম্বরূপ হয় গো তার, সৃষ্টির ছলে” (পবিত্র লালন- ৯২/৩)
৭. “একদিন সাঁই নীরাকারে, ভেসেছিল ডিম্বুভরে, ডিম্বু হতে আসমান জমিন, গঠলেন দয়াময়” (পবিত্র লালন- ৯৩৬/২)
৮. “একি অনন্তভাব হায় গো ধনী দেখালে এবার, ক্ষণেক পুরুষ ক্ষণেক নারী, ক্ষণেক হও নীরাকার” (পবিত্র লালন- ২০৩/১)
৯. “কিবারে কুদরতি খেলা, জলের মাঝে অগ্নিজ্বালা, খবর জানতে হয় নিরালা, নীরে ক্ষীরে আছে জ্যোতি” (পবিত্র লালন- ২২২/২)
১০. “কারণনদীর জলে একটা, যুগলমীন খেলছে নীরে, ঢেউয়ের ওপর ফুল ফুটেছে, তার ওপর চাঁদ ঝলক মারে” (পবিত্র লালন- ৯৩৬/১)
১১. “খেলছে মানুষ নীরে ক্ষীরে, আপনাপন ঘর খুঁজ মন আমার, কেন হাতড়ে বেড়াও কুলের ঘোরে” (পবিত্র লালন- ৩৮১/১)
১২. “গয়া কাশী বৃন্দাবনে- উদয় হয়রে কত নামে, যে যায় মক্কা মদিনে- নিতে তারই চরণধুলা, সপ্ততল পাতালে গিয়ে- লুকায় সেথা নীর হয়ে, বাতাসরূপে দ্বিদ্বারে- চালায় তার অবলীলা” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১১)
১৩. “গোলে হরি বললে কী হয়, নিগুঢ়তত্ত্ব নিরালা পায়, নীরে ক্ষীরে যুগলে রয়, (সাঁইয়ের) বারামখানা সেখানে” (পবিত্র লালন- ৭০২/৩)
১৪. “নিগূঢ়ে নিগমেতে সাঁই জলাকার স্বরূপ ধরি, নীরাকারে চলেফেরে বলিতে সে রূপ ডরি, সহস্রমাস হলে তাপন- নীরাকার হয় নিরঞ্জন, জলাকারে হয় বরিষণ- বানে ভাঁসে জন্মনালা” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪০)
১৫. “নীরনদী গভীরে ডুবা কঠিন হয়, ডুবলে কত আজব ফল দেখা যায়, সে নীরভা– পোরা ব্রহ্মা-, কা- বলতে নয়ন ঝরে” (পবিত্র লালন- ৩৮১/৩)
১৬. “নীর নূরে গুপ্তবারি, সাঁই রেখেছেন ঘিরে, ছিল নীরাকারে আদ্যনূর, অচিনমানুষ কয় যারে” (পবিত্র লালন- ৬০৫/১)
১৭. “নীরাকার জ্যোতিতে এ ধরণীতে আসে দিনমণি, ভবে তারা সদায় পায় দরশন যারা জ্ঞানী-গুণী, রাসুল হলো তত্ত্ববাহক- অধ্যাত্ম্যজ্ঞানের ধারক, আত্মা ইন্দ্র উদ্দীপক বহনকারক পানি” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৩)
১৮. “নীরাকার হলে নিরঞ্জন, করবে সে সাঁই ভোজনা, বিনয় করে বলে বলন, ভজ সাধুর চরণখানা” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৮)
১৯. “নীরাকারে দু’জন নূরী, ভাসছে সদায়, ঝরার ঘাটে যুগান্তরে হচ্ছে উদয়” (পবিত্র লালন- ৬০৬/১)
২০. “নীরাকারে ভাসছেরে এক ফুল, বিধি বিষ্ণু হর আদিপুরন্দর, সে ফুলের ঊল হয় মাতৃফুল” (পবিত্র লালন- ৬০৭/১)
২১. “নীরাকারে মর্ত্যে আসে যায়- রূপ ধরে আকারে লুকায়, কৃত্রিমগুরু আকার গায়- ত্রিম-লে তার খেলা, দেশ বেড়িয়ে রূপ ভাঁড়িয়ে- ধরা দেয় আকারে গিয়ে, প্রেমরশ্মি গলে দিয়ে- নিঠাঁইপুর মিলায় মেলা” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১১)
২২. “নীরাকারের ওপর, পয়দা করে নবির নূর, নূরের হুজরার ভিতর, নূর-নবির আসন রয়” (পবিত্র লালন- ৯৩৬/৩)
২৩. “নীরে নিরঞ্জন হলো, নূর ছিল কিরূপ, পাঁচপাঞ্জাতন কোন্ নূরে হলো” (পবিত্র লালন- ৬০৮/১)
২৪. “পাক-পাঞ্জাতন সঙ্গে করে, ভাসছেন আল্লাহ নীরাকারে, হাসান হোসাইন ফাত্বিমা আলি, কেউ কাউকে ছাড়া নয়” (পবিত্র লালন- ৬১৮/৩)
২৫. “প্রেমযমুনা চৌদ্দভুবন, তিনঘাটে রয় তিনজন, মাঝখানে স্বরূপ কিরণ, ভাঁসছে সে নীরাকারে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০০)
২৬. “বলন কাঁইজি হইল চেতন সাঁইগতি দেখিয়া, ধরতে তারে বায়ুঘরে সদায় রয় ফাঁদ পাতিয়া, প্রেমসুধা নীর হইয়া- চলেফেরে প্রেমনদ দিয়া, সহস্রবছরের তাপ লইয়া মেঘরূপে হয় বরিষণ” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯)
২৭. “ভাবেরমানুষ ভাবের খেলা, ভাবে বসে দেখ নিরালা, নীরেতে ক্ষীরেতে ভেলা, বয় জ্যোতি” (পবিত্র লালন- ৫৩৭/২)
২৮. “মি’রাজের কথা শুধাব কারে, আদমতন নীরাকার মিথ্যা কী করে” (পবিত্র লালন- ৭৯০/১)
২৯. “মেঘে যেমন সৌদামিনী, এ দেহে সাঁই বাস তেমনি, সকাল সাঁঝে ভাঁসেন তিনি, নীরাকারে বায়ু ধরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০৪)
৩০. “যদি ফুলের সন্ধিঘরে, বিন্দু পড়ে ঝরে, রসিক ভেয়ে কী হাতে পায় তারা, নীরে ক্ষীরে মিশায়- পড়ে দুুর্দশায়, না মিশালে সফল তারা” (পবিত্র লালন- ৭৮৮/২)
৩১. “যেদিন সাঁই নীরাকারে, ভেসেছিলেন ডিম্ব ভরে, কিরূপ থেকে তার মাঝারে, কিরূপে গণ্য হয়” (পবিত্র লালন- ২৮৬/২)
৩২. “লামে আলিফ রয় যেমন, মানুষে সাঁই আছে তেমন, নীরে ক্ষীরে তেমনই মিলন, বলতে নয়ন ঝরে” (পবিত্র লালন- ৫৭০/২)
৩৩. “শূন্যদেশে মেঘের উদয়, নীরদবিন্দু বরিষণ তায়, তাতে ফলছে ফল- রঙ বেরঙ হাল, আজব কুদরতি কল ভাবের ঘরে” (পবিত্র লালন- ৩৮১/২)
৩৪. “সদায় সে নিরঞ্জন নীরে ভাসে, যে জানে সে নীরের খবর, নীর ঘাটায় তারে খুঁজলে পায় অনায়াসে” (পবিত্র লালন- ৯০৯/১)
৩৫. “সাঁই নীরাকারে বুলি বলে, থেকে সাততল পাতালে, বলন কাঁইজি ভাবিয়া বলে, ঐ ঠিকানা বায়ুর ঘরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৭)
৩৬. “সামান্যে কে গো জানবে তারে, আজব মীনরূপে সাঁই খেলছে নীরে” (পবিত্র লালন- ৯৫০/১)
৩৭. “সাঁইয়ের নিগূঢ়লীলা বুঝতে পারে, এমন সাধ্য নাই, নীরাকারে হয় সাঁইয়ের স্বরূপ নির্ণয়” (পবিত্র লালন- ৯৩৬/১)
৩৮. “স্বরূপের নীরাকারা খিড়কি মারা, অজানা অচিনপুরে, আয়তন অবস্থান নাই আপনি ঘুরে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০৪)
নীরের ওপর একটি পূর্ণ লালন (A full Lalon on the aqua)
“সদায় সে নিরঞ্জন নীরে ভাসে,
যে জানে সে নীরের খবর,
নীর ঘাটায় তারে খুঁজলে,
পায় অনায়াসে।
বিনে মেঘে নীর বরিষণ,
করতে হয় তার অন্বেষণ,
জগৎ সৃজন ডিম্বের কারণ,
ভেসে অবিম্ব শুম্ভরসে।
যথা নীরের হয় উৎপত্তি,
সে আবেশে জন্মে শক্তি,
মিলন হয় যুগলরতী,
ভাসে তখন নীরাকারে এসে।
নীরে নিরঞ্জন অবতার,
নীরেতে করে সংহার,
সিরাজ সাঁইজি কয় বারবার,
দেখরে লালন আত্মতত্ত্বে বসে।” (পবিত্র লালন- ৯০৯)
নীরের সংজ্ঞা (Definition of aqua)
সাধারণত তরল পানীয়কে নীর বলে।
নীরের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of aqua)
মানবদেহে প্রাপ্ত কালোবর্ণের অমৃতজলকে সৃষ্টিকর্তা বা রূপকার্থে নীর বলে।
নীরের প্রকারভেদ (Classification of aqua)
নীর দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান নীর ও ২.উপমিত নীর।
১. উপমান নীর (Analogical aqua)
সাধারণত তরল পানীয়কে উপমান নীর বলে।
২. উপমিত নীর (Compared aqua)
মানবদেহে প্রাপ্ত কালোবর্ণের অমৃতজলকে সৃষ্টিকর্তা বা উপমিত নীর বলে।
নীরের পরিচয় (Identity of aqua)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘সৃষ্টিকর্তা’ পরিবারের অধীন একটি ‘উপমানপরিভাষা’ বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক গ্রন্থ-গ্রন্থিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় একেক প্রকার পরিভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না।
সাধারণত তরল পানীয়কে নীর বলা হয় কিন্তু রূপকসাহিত্যে দুগ্ধ, শুক্র, সুধা, মধু, কামরস, মূত্র ও রজকে নীর বলা হয়। তবে এখানে কেবল সৃষ্টিকর্তাকেই নীর বলা হয়েছে। সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক রূপকসাহিত্যে ব্যবহৃত নীর পরিভাষাটির দ্বারা উক্ত ৭টি সত্তাকেই বুঝানো হয়ে থাকে। তবে কেবল ব্যবহারের ক্ষেত্র অনুযায়ী অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এর অভিধা উদ্ঘাটন করা সব পাঠক-পাঠিকা ও অনুরাগীদের একান্ত প্রয়োজন।
সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় কিংবা সাম্প্রদায়িক এবং পারম্পরিক রূপকসাহিত্যে এ ‘নীর’ পরিভাষাটির অধিক অধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা গেলেও এটি কোথাও সাধারণ জল অর্থে ব্যবহার হওয়ার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না। আমরা সম্পূর্ণ লালন ও বলন অন্বেষণ করে দেখেছি কোথাও সাধারণ জলকে নীর বলা হয়নি। তাহলে এ হতে অনুমান করা যায় যে, বিশ্বের সর্ব সম্প্রদায়ের শাস্ত্রীয় গ্রন্থাদির মধ্যে ব্যবহৃত নীর পরিভাষাটির দ্বারা কোথাও সাধারণ জল বুঝানো হয়নি। অথচ বড় অবাক হবার বিষয় হলো, সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা রূপক সাহিত্যে ব্যবহৃত নীর পরিভাষাটির দ্বারা কেবল জল বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। এ জন্য শাস্ত্রীয়রা, সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা কখনই প্রকৃত আত্মদর্শন বা দিব্যজ্ঞানের সন্ধান পায় না। শাস্ত্রীয় পণ্ডিত ও বক্তারা নিজেরাও যেমন কানা, তাদের অনুসারিরাও তেমন কানা।
(সংক্ষিপ্ত)
সূত্রতথ্যঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন