বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪

লাউ কদু না স্ফীতাঙ্গ?- ২

লাউ কদু না স্ফীতাঙ্গ? (Calabash Gourd or Mamma?)
Calabash কদু বৃক্ষরমণী ১ .

লাউ
Gourd (গার্ড)/ ‘قرع نبات’ (ক্বারয়ানিবাত)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘স্ফীতাঙ্গ’ পরিবারের অন্যতম একটি ‘উপমানপরিভাষা’। এর মূলকসদস্য ‘স্ফীতাঙ্গ’, রূপকপরিভাষা ‘ডালিম’ এবং চারিত্রিকপরিভাষা ‘কমলা ও তুম্বী’ এবং ছদ্মনামপরিভাষা ‘বালিশ’। এ পরিভাষাটি রূপকসাহিত্যের ‘স্ফীতাঙ্গ’‘রজস্বলা’ এ দু’টি বৈক্তিকসদস্যেরই ব্যাপক পরিভাষারূপে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ জন্য বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিকমূলক উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।
লাউ (রূপ)বি অলাবু, কদু, তুম্বী, কুমড়াজাতীয় ফল, বাদ্যযন্ত্ররূপে ব্যবহৃত লাউয়ের খোল, gourd (গার্ড), ‘قرع نبات’ (ক্বারয়ানিবাত) (প্র) প্রাচীনকালে মৃত ঘোষণা হওয়ার পর স্নান করিয়ে চিতাশালে নিয়ে গিয়ে মুখাগ্নি করার পূর্বে জেগে উঠে স্বাভাবিক জীবন যাপন করার কারণে কুলচ্যুতা হতে হয়েছে এরূপ দুঃখিনী নারী (আবি)বি স্ফীতাঙ্গ, মাই, পয়োধার, বুকের দুগ্ধাধার, teat (টিট), dug (ডাগ), udder (উডার), সাদউ (.ﺜﺪﻯ), পালান (ফা.ﭙﺎﻻﻦ), বালিশ (ফা.ﺒﺎﻟﺵ) (আভা)বি কমলা, ডালিম, পাহাড়, বেলুন, শিং ও স্ফীতাঙ্গ (দেপ্র) এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘স্ফীতাঙ্গ’ পরিবারের ‘উপমানপরিভাষা’ ও রূপকসাহিত্যের একটি পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১.কুমড়াজাতীয় এক প্রকার ব্যঞ্জনকে লাউ বলা হয় ২.রূপকসাহিত্যে রমণীদের স্ফীতাঙ্গকে রূপকার্থে লাউ বলা হয় (ছনা)বি বালিশ (চরি)বি কমলা ও তুম্বী (উপ)বি লাউ (রূ)বি ডালিম (দেত)বি স্ফীতাঙ্গ।
লাউয়ের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(A highly important quotations of gourd)
“আমার মাটির গাছে লাউ ধইরাছে,
লাউ যে বড় সোহাগী,
লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী।।
বৈরাগীকে বল্লাম আমি, কুলের মুখে দিও না কালি,
ও তার মাথায় জটা হাতে লোটা, আবার কপালে তিলকের ফোঁটা,
আবার গাঁও গেরামে ঘোরে বেটা,
সাজিয়ে ব্রহ্মচারী।।
আঁচল দিয়া ঘিরে রাখলাম চোরে নেওয়ার ডরে,
আবার কেমন করে পড়ল সে লাউ বৈরাগীর নজরে,
আবার হরণ করে নিতে চায় সে,
বানাইতে তার ডুগডুগি।।
এই লাউয়েতে হয় না একতারা, ও মনরে হয় না দোতারা,
দুই তারের এক সুর ধরে সে বানায় একতারা,
সাধক ওয়াহেদ বলে লাউয়ের জন্য,
কতজন হয় ঘরত্যাগী।।”
________________________________
https://fbcdn-sphotos-h-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xpf1/v/t34.0-12/10568056_10202364354971921_901554796_n.jpg?oh=3faa8918e96311e9b3a987cc002996a5&oe=53D0FCAA&__gda__=1406205214_9951c44814a43800dc83b0b53425116c
(মরমীকবি শেখ ওয়াহিদুর রহমান) (১৯৩৯-২০১২ ইং)
এটি মরমী গীতিকার শেখ ওয়াহিদুর রহমানের নির্মিত উপরোক্ত বাণীর অনুকরণে নির্মিত অবশ্যই।
“আমার মাটির গাছে লাউ ধরেছে,
লাউ দেখতে বড় সোহাগী,
লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী (ও দরদী)।।
দিনে দিনে লাউ যে আমার শুধুই বড় হয়,
তাই দেখে পাড়ার লোকে কত কথা কয়,
লাউ গাছেতে কে দেয় নজর খুইলা ক আমায়,
লাথির চোটে ভাঙ্গব মাজা যাবে সে কোথায়,
আঁচল দিয়া ঢাইকা দে লাউ,
থাকিস না তুই অভাগী।
লাউয়ের মধু করল যাদু খাইতে ইচ্ছে হয়,
বল না কবে সুযোগ দিবি আরকি দেরি সয়,
সব পুরুষের একই স্বভাব মধু খাইতে চায়,
বামন হইয়া চাঁদের পানে শুধুই হাত বাড়ায়,
ও কেউ তাকালে তার চাম কাটিয়া,
আমি বানাইমু যে ডুগডুগি।।”
________________________________
লাউয়ের সংজ্ঞা (Definition of gourd)
কুমড়াজাতীয় এক প্রকার ব্যঞ্জনকে লাউ বলে।
লাউয়ের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of gourd)
রূপকসাহিত্যে রমণীদের স্ফীতাঙ্গকে লাউ বলে।
লাউয়ের প্রকারভেদ (Classification of gourd)
লাউ দুই প্রকার। যথা- ১.উপমান লাউ ও ২.উপমিত লাউ।
১. উপমান লাউ (Analogical gourd)
কুমড়াজাতীয় এক প্রকার ব্যঞ্জনকে উপমান লাউ বলে।
২. উপমিত লাউ (Compared gourd)
রূপকসাহিত্যে স্ফীতাঙ্গকে উপমিত লাউ বলে।
লাউয়ের পরিচয় (Identity of gourd)
এটি রূপকসাহিত্যের বৈক্তিকসদস্য সারণির ‘স্ফীতাঙ্গ’ পরিবারের অধীন একটি ‘উপমানপরিভাষা’ বিশেষ। সাধারণত কুমড়াজাতীয় এক প্রকার ব্যঞ্জনকে লাউ বলা হয় কিন্তু রূপকসাহিত্যে ‘স্ফীতাঙ্গ’‘রজস্বলা’ উভয়কে লাউ বলা হয়। এখানে কেবল স্ফীতাঙ্গকেই লাউ বলা হয়েছে। বয়স্কা রমণীদের স্ফীতাঙ্গ লাউয়ের মতো বলেই এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। এখানে লাউ উপমানপরিভাষা এবং স্ফীতাঙ্গ উপমেয়পরিভাষা। স্ফীতাঙ্গ অত্যন্ত লজ্জাস্কর মূলক বলেই এর এরূপ উপমান ও ছদ্মনাম সৃষ্টি করা হয়েছে। রূপকসাহিত্যে এভাবেই লজ্জাস্কর মূলকাদির রূপক ও উপমান পরিভাষা সৃষ্টি করা হয়।
অন্যদিকে বড় হাস্যকর বিষয় হলো, সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার শাস্ত্রীয় ও সাম্প্রদায়িক পণ্ডিত, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবেত্তা ও অনুবাদকরা রূপক সাহিত্যে ব্যবহৃত লাউ পরিভাষাটির দ্বারা কেবল কদু বা অলাবুকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। এর ফলে শাস্ত্রীয়দের লেখাদি পাঠ করেও মানুষ শাস্ত্রীয় মহাগ্রন্থাদির মূলশিক্ষা বা প্রকৃতশিক্ষা হতে চিরদিনের জন্য চির বঞ্চিত। শাস্ত্রীয় ও সাম্প্রদায়িকদের প্রধান ব্যর্থতা হলো তারা উপমিতি বিদ্যায় জানে না। উপমিতি বিদ্যায় উপমান ও উপমিত দু’টি পদ যে রয়েছে এ ব্যাপারে তারা আরো আজ্ঞ। রূপকসাহিত্যে উপমান পদের বর্ণনার দ্বারা যে উপমিত পদের আলোচনা করা হয় তাও তারা গ্রহণ করতে চাই না।
পরিশেষে বলা যায়- এখানে লাউ উপমানপদ এবং এর উপমিতপদ হলো স্ফীতাঙ্গ। রূপকসাহিত্যে স্ফীতাঙ্গকে উপমিতপদ ধরে উপমান বা ছদ্মনামরূপে একে ডালিম, কমলা ও বালিশ ইত্যাদি বলা হয়।
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
তথ্যসূত্রঃ আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)
লেখকঃ বলন কাঁইজি।
_________________________________

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন